Login | Register

Pending

   

নবী করীম (সাঃ)-এর ইন্তেকাল হতে কিয়ামত পর্যন্ত সংঘটিতব্য ফিতনা ও তার সংখ্যা সম্পর্কে অভিহিত করণ

Double clicking on an arabic word shows its dictionary entry
হযরত আবু সাঈদ খুদরী রাঃ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন একদা রাসূল সাঃ আমাদের নিয়ে একটু বেলা থাকতেই আসরের নামায আদায় করেন। অতঃপর সূর্য অস্ত ভাষণ দিলেন। উক্ত ভাষণে কিয়ামত পর্যন্ত যা কিছু ঘটবে তার সমস্ত কিছুই বর্ণনা করেন। তাঁর সেই ভাষণটি যারা ভুলে যাওয়ার তারা ভুলে গিয়েছে।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ১ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ١
حدثنا نعيم بن حماد
المروزي حدثنا عبد الله بن المبارك عن معمر عن علي بن زيد عن أبي نضرة عن أبي سعيد
الخدري وابن عيينة عن علي بن زيد عن أبي نضرة
عن أبي سعيد الخدري رضى الله عنه
قال صلى بنا رسول الله صلى الله عليه وسلم صلاة العصر بنهار ثم خطب إلى أن غابت
الشمس فلم يدع شيئا هو كائن إلى يوم القيامة إلا حدثنا به حفظه من حفظه ونسيه من
نسيه
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রাঃ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেছেন, আল্লাহ তায়ালা আমার সম্মুখে দুনিয়াকে উঁচু করে ধরলেন। অতঃপর দুনিয়াকে এবং তাতে কিয়ামত পর্যন্ত সংঘটিতব্য বিষয়গুলো দেখছিলাম যেমন আমার দুই হাতের তালুগুলো দেখছি এটা হলো আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট বিষয়, যা তিনি প্রকাশ করেছিলেন তার পূর্ববর্তি নবীগনকে।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ২ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٢
حدثنا الحكم بن نافع عن سعيد بن سنان حدثنا أبو الزاهرية عن كثير بن
مرة أبي شجرة
عن ابن عمر رضى الله عنهما قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم
إن الله رفع لي الدنيا فأنا أنظر إليها وإلى ما هو كائن فيها إلى يوم القيامة كما
أنظر إلى كفي هذه جليان من الله جلاه لنبيه كما جلا للنبيين قبله
হযরত হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান রাঃ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, কিয়ামত পর্যন্ত সংঘটিতব্য সমস্ত ফিতনা সম্পর্কে আমি সবচেয়ে বেশী অবগত। রাসূল সাঃ আমার নিকট সেই ফিতনা সম্পর্কে অনেক গোপন বিষয় আলোচনা করেছেন যা আমাকে ছাড়া অন্য কারো কাছে বর্ণনা করেন্নি। কিন্তু একদিন রাসূল সাঃ এক মজলিসে আগমণ করলেন। এরপর ছোট বড় বহু ফিতনা সম্পর্কে আলোচনা করলেন। উল্লেখ্য ঐ মজলিসে যারা উপস্থিত ছিল আমি ছাড়া প্রত্যেকেই দুনিয়া থেকে চলে গেছেন।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ৩ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٣
حديثا
عبد الله بن وهب عن ابن لهيعة عن عقيل عن ابن شهاب عن أبي إدريس الخولاني
عن
حذيفة بن اليمان رضى الله عنه قال أنا أعلم الناس بكل فتنة هي كائنة إلى يوم
القيامة وما بي أن يكون رسول الله صلى الله عليه وسلم أسر إلي في ذلك شيئا لم يحدث
به غيري ولكن رسول الله صلى الله عليه وسلم حدث مجلسا أتاهم فبه عن الفتن التي تكون
منها صغار ومنها كبار فذهب أولئك
الرهط كلهم غيري
হযরত হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান রাঃ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেছেন, ঘোর অন্ধকার রাত্রির টুকরোর মত ফিতনা একের পর এক আসতেই থাকবে। তা তোমাদের কাছে গরুর চেহারার ন্যায় একই রকম মনে হবে। লোকেরা জানবেনা যে কোন টা কি কারণে হচ্ছে।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ৪ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٤
حدثنا بقية بن الوليد
وأبو المغيرة عن صفوان بن عمرو قال حدثني السفر بن نسير الأزدي
عن حذيفة بن
اليمان رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم تكون فتن كقطع الليل
المظلم يتبع بعضها بعضا تأتيكم مشتبهة كوجوه البقر لا يدرون أيها من أي
হযরত হুযাইফা বা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন। এই ফিতনা গরুর ন্যায়। তাতে বহু মানুষ ধ্বংশ হবে। তবে যারা পূর্বেই এ সম্পর্কে অবগতি লাভ করবে তারা ধ্বংশ হবে না।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ৫ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٥
حدثنا عيسى بن يونس حدثنا الأوزاعي عن حسان بن عطية عن أبي إدريس الخولاني
عن
حذيفة بن اليمان قال هذه فتن قد أظلت كجباه البقر يهلك فيها أكثر الناس إلا من كان
يعرفها قبل ذلك
বিশিষ্ট সাহাবী হযরত আবু হুরায়রা রাযিঃ থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাঃ এরশাদ করেন, কিয়ামতের পূর্বে যখন যুগ পরস্পর নিকটে এসে যাবে তোমাদের কাছে কালো, বুড়ো ধরনের একটি উট এসে বসবে ফিতনার রূপ ধারণ করে। যেন মনে হবে সেটা অন্ধকারে ছেয়ে যাওয়া রাত্রের একটি টুকরা।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ৬ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٦
حدثنا رشدين بن سعد عن ابن لهيعة قال حدثني سلمان بن عامر
عن أبي عثمان الأصبحي
عن أبي هريرة رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله
عليه وسلم إذا تقارب الزمان أناخ بكم الشرف الجون فتن كقطع الليل المظلم
র্কুয ইবনে আল্কামা খুযায়ী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাঃ এর কাছে এক লোক জানতে চাইল ইসলামের কি কোনো শেষ রয়েছে? জবাবে রাসূলুল্লাহ সাঃ বললেন হ্যাঁ, আরব বা অনারব যে কোনো এলাকার কারো ঘরের সদস্যদের প্রতি আল্লাহ তাআলা কল্যাণ কামনা করলে তাদেরকে তিনি ইসলামের অন্তর্ভুক্ত করেন।
জিজ্ঞাসা করা হল, এরপর কি হবে? রাসূলুল্লাহ সাঃ বললেন, এরপর পাহাড় তুল্য ফিৎনা প্রকাশ পাবে। অতঃপর ঐ লোক বলল, আল্লাহর কসম! ইনশাআল্লাহ! ইয়া রাসূলুল্লাহ! এটা কখনো হতে পারেনা। রাসূলুল্লাহ সাঃ বললেন, কসম সে সত্ত্বার যার হাতে আমার রূহ, অবশ্যই হবে। এরপর উক্ত ফিৎনা চলাকালীন তোমরা আশ্রয় নিবে ফনাতুলা কালো বিষাক্ত সাপের। যেখানে তোমরা একে অপরের সাথে মারামারি, হানাহানিতে লিপ্ত হবে। বিশিষ্ট মুহাদ্দিস ইবনে শিহাব যুহরী রহঃ বলেন, কালো বিষাক্ত যখন কাউকে দংশন করে তখন দংশিত স্থানে মুখের লালা জাতীয় কিছু বিষ লাগিয়ে দেয়ার পর মাথা উঠিয়ে লেজের উপর দাড়িয়ে যাবার চেষ্টা করে।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ৭ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٧
حدثنا سفيان بن عيينة عن الزهري عن عروة بن الزبير عن كرز بن علقمة الخزاعي قال
قال رجل لرسول الله صلى الله عليه وسلم هل للإسلام من منتهى
قال نعم أيما
أهل بيت من العرب أو العجم أراد الله بهم خيرا أدخل عليهم الإسلام
قال ثم مه
قال ثم تكون فتن كأنها الظلل
فقال الرجل كلا والله إن شاء الله يا رسول
الله
فقال الله رسول بلى والذي نفسي بيده ثم لتعوذن فيها أساود صبا يضرب بعضكم
رقاب بعض
قال الزهري الأسود الحية إذا نهشت نزت ثم ترفع رأسها ثم تنصب
ভিন্ন সুত্রে উপরের হাদিস বর্নিত হয়েছে।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ৮ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٨
حدثنا الوليد بن مسلم عن الأوزاعي عن عبد الواحد بن قيس عن عروة بن الزبير عن كرز
بن علقمة عن النبي صلى الله عليه وسلم نحو ذلك
ফেৎনাকালীন আত্মরক্ষা করা মোস্তাহাব
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ৯ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٩
حدثنا ابن المبارك عن معر عن
الزهري عن عروة بن الزبير عن كرز بن علقمة بمثل حديث سفيان إلا أنه قال قال أعرابي
يا رسول الله
হযরত আবু মুসা আশআরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন, কিয়ামত আসার পূর্বে ‘হারজ’ সংঘটিত হবে। লোকেরা জিজ্ঞাসা করলো হারজ কী? তিনি বললেন হত্যা এবং মিথ্যা লোকেরা জিজ্ঞাসা করলো হে আল্লাহর রাসূল! এখন কাফেররা যে ভাবে নিহত হচ্ছে তার চেয়ে বেশী হত্যা সংঘটিত হবে? রাসূল সাঃ বললেন তোমাদের মাধ্যমে কাফেররা নিহত হবেনা বরং মানুষ তার প্রতিবেশী, আপন ভাই ও চাচাতো ভাইকে হত্যা করবে।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ১০ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ١٠
حدثنا عبد الوهاب بن عبد المجيد الثقفي حدثنا يونس
بن عبيد عن الحسن
عن أبي موسى الأشعري رضى الله عنه قال قال رسول الله
صلى الله عليه وسلم إن بين يدي الساعة لهرجا
قالوا وما الهرج
قال القتل
والكذب
قالوا يا رسول الله قتل أكثر مما يقتل الأن من الكفار
قال إنه ليس
بقتلكم للكفار ولكن يقتل الرجل جاره وأخاه وابن عمه
হযরত উসাইদ ইবনে মুতাশাসি ইবনে মুয়াবিয়া (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবু মুসা (রাঃ) কে বলতে শুনেছি যে, কিয়ামত আসার পূর্বে মুসলমানদের মধ্য হতে ফিতনা ও হত্যা সংঘটিত হবে। এমনকি মানুষ তার দাদা,চাচাতো ভাই, পিতা ও আপন ভাইকে হত্যা করবে। আল্লাহর শপথ! আমি আশংকা করছি যে, না জানি আমি এবং তোমরা তাতে জড়িত হয়ে যাই।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ১১ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ١١
حدثنا ابن المبارك
أخبرنا المبارك بن فضالة عن الحسن عن أسيد بن المتشمس بن معاوية قال
سمعت أبا
موسى يقول ليكونن من أهل الإسلام بين يدي الساعة الهرج والقتل حتى يقتل الرجل جده
وابن عمه وأباه وأخاه وأيم الله لقد خشيت أن تدركني وإياكم
হযরত আবু মুসা আশআরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নিশ্চয় তোমাদের সম্মুখে ঘোর অন্ধকার রাত্রির একাংশের ন্যায় ফিতনা সংঘটিত হতে থাকবে,তাতে কোন ব্যক্তি সকালে মুমিন ও বিকালে কাফের এবং বিকালে মুমিন ও সকালে কাফেরে পরিণত হতে থাকবে।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ১২ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ١٢
حدثنا جرير بن
عبد الحميد عن عاصم الأحول قال حدثني شيخ
عن أبي موسى الأشعري رضى الله عنه قال
إن بعدكم فتنا كقطع الليل المظلم يصبح الرجل فيها مؤمنا ويمسي كافرا ويمسي مؤمنا
ويصبح كافرا
হযরত মুজাহিদ (রঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম (সাঃ) বলেছেন, অন্ধকার রাত্রির টুকরোর মত ফিতনা দেখা দিবে। সে সময় সকালে একজন মুমিন হলে বিকালে কাফের হয়ে যাবে। বিকালে মুমিন হলে সকালে কাফের হয়ে যাবে। তাদের মধ্যে কেউ পার্থিব সামান্য সামগ্রির বিনিময়ে তার দ্বীন বিক্রি করে বসবে।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ১৩ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ١٣
حدثنا جرير بن عبد الحميد عن ليث بن أبي سليم عن مجاهد
قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم بين يدي الساعة فتن كقطع الليل المظلم يمسي
الرجل فيها مؤمنا ويصبح كافرا ويصبح مؤمنا ويمسي كافرا يبيع أحدهم دينه بعرض من
الدنيا قليل
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এই ফিতনা ঘোর অন্ধকার রাত্রির একাংশের ন্যায় ছায়া ফেলবে। যখনই কোন এক প্রকার ফিতনা চলে যাবে, তখনই আরেক প্রকার ফিতনা প্রকাশ পাবে। তাতে কোন ব্যক্তি সকালে মুমিন হলে বিকালে কাফের হয়ে যাবে, এবং বিকালে মুমিন হলে সকালে কাফের হয়ে যাবে। আর তখন লোকেরা পার্থিব সামান্য সামগ্রির বিনিময়ে তাদের দ্বীনকে বিক্রি করে দিবে।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ১৪ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ١٤
حدثنا إبراهيم بن محمد الفراري عن الأوزاعي عن يحيى ابن أبي
كثير
عن عبد الله بن بن مسعود رضى الله عنه قال هذه فتن قد أظلت كقطع الليل
المظلم كلما ذهب منها رسل بدا رسل آخر يصبح الرجل فيها مؤمنا ويمسي كافرا ويمسي
مؤمنا ويصبح كافرا يبيع فيها أقوام دينهم بعرض من الدنيا قليل
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রাযিঃ থেকে বর্ণিত,তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাঃ এরশাদ করেছেন, নিশ্চয় ফিৎনা আল্লাহর শহরগুলোতে এমনভাবে ঘুমন্ত অবস্থায় থাকবে তার লাগামকে সাড়ানো হবে। কারো জন্য তাকে জাগ্রত করা জায়েয হবেনা। ধ্বংস ঐসব ব্যক্তির জন্য যারা তার লাগাম ধরে টানাটানি করবে।
আবুয্ জাহিরিয়্যাহ বলেন, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রাযিঃ বলেন, নিঃসন্দেহে তোমরা এ জগতে নানান ধরনের বালা-মসিবত এবং ফিৎনা-ফাসাদই দেখতে পাবে। ধীরে ধীরে মানুষের যাবতীয় অবস্থা কঠিনই হতে থাকবে।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ১৫ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ١٥
قال أبو
الزاهرية وحدثنا جبير بن نفير
عن ابن عمر رضى الله عنهما قال قال رسول الله صلى
الله عليه وسلم إن الفتنة راتعة في بلاد الله تطأ في خطامها لا يحل لأحد أن يوقظها
ويل لمن أخذ بخطامها
قال أبو الزاهرية وقال عبد الله بن عمرو إنكم لن تروا من
الدنيا إلا بلاء وفتنة ولن تزداد الأمور إلا شدة
রাসুলুল্লাহ সাঃ এর রহস্য সম্বন্ধে অবগত সাহাবী হযরত হুজাইফা ইবনুল ইয়ামান রাযিঃ এরশাদ করেন, ফিৎনার সাথে সংশ্লিষ্ট লোক থেকে প্রায় তিনশতজন পর্যন্ত এমন রয়েছে, আমি ইচ্ছা করলে তাদের নাম, তাদের পিতা এবং গ্রামের নাম পর্যন্ত বলতে পারবো। যারা কিয়ামত পর্যন্ত। তার সবকিছুই রাসূলুল্লাহ সাঃ আমাকে জানিয়ে গিয়েছেন।
উপস্থিত লোকজন জিজ্ঞাসা করলো, সরাসরি কি তাদেরকে দেখানো হয়েছে? উত্তরে তিনি বললেন, তাদের আকৃতি দেখানো হয়েছে। যাদেরকে ওলামায়ে কেরাম এবং ফুকাহায়ে এজাম চিনতে পারবেন। হযরত হুজাইফা ইবনুল ইয়ামান রাযিঃ বলেন, তোমরা রাসূলুল্লাহ সাঃ এর কাছে কল্যাণ সম্বন্ধে জানতে চাও, কিন্তু আমি জানতে চেষ্টা করি অকল্যাণ বা খারাপী সম্বন্ধে আর তোমরা তাঁর কাছে জানতে চাও ঘটে যাওয়া বিষয় সম্বন্ধে, আমি জানতে চাই ভবিষ্যতে যা হবে সে সম্বন্ধে।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ১৬ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ١٦
حدثنا عبد الخالق بن يزيد
الدمشقي عن أبيه عن مكحول
عن حذيفة بن اليمان رضى الله عنه قال ما من صاحب فتنة
يبلغون ثلثمائة إنسان إلا ولو شئت أن أسميه باسمه واسم أبيه ومسكنه إلى يوم القيامة
كل ذلك مما علمنيه رسول الله صلى الله عليه وسلم
قالوا بأعيانها
قال أو
أشباهها يعرفها الفقهاء أو قال العلماء إنكم كنتم تسألون رسول الله صلى الله عليه
وسلم عن الخير وأسأله عن الشر وتسألونه عما كان وأسأله عما يكون
হযরত হুজাইফা রাযিঃ এরশাদ করেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাঃ কে বলতে শুনেছি, আমার ওম্মতের মধ্যে এমন তিনশত লোক প্রকাশ পাবে যাদের সাথে তিনশত পতাকা থাকবে, যদ্বারা তাদের পরিচয় শনাক্ত করা যাবে। বংশীয়ভাবে এরা খুবই পরিচিত হবে। তারা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের কথা প্রকাশ করলেও যুদ্ধ করবে সুন্নাতের বিপরীত পথভ্রষ্টার উপর।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ১৭ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ١٧
حدثنا عبد
القدوس عن عفير بن معدان قال حدثنا قتادة قال
قال حذيفة سمعت رسول الله صلى
الله عليه وسلم يقول ليخرجن من أمتي ثلثمائة رجل معهم ثلثمائة راية يعرفون وتعرف
قبائلهم يبتغون وجه الله يقتلون على الضلالة
বিশিষ্ট সাহাবী হযরত হুজাইফা ইবনুল এমান রাযিঃ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, যাবতীয় ফিৎনা ফাসাদ আমি যা জানি, সেগুলো যদি তোমাদেরকে বয়ান করি তাহলে তোমরা আমার সাথে বিনিদ্র অবস্থায় থাকতে পারবে না।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ১৮ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ١٨
حدثنا عبد القدوس عن سعيد بن
سنان عن أبي الزاهرية
عن حذيفة بن اليمان قال لو حدثتكم بكل ما أعلم ما رقبتم
بي الليل
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস রাযিঃ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, তোমাদের ওপর ফিৎনা-ফাসাদ, অব্যাহত থাকবে এবং মোয়ামালা ধীরে ধীরে আরো কঠিন আকার ধারন করবে। যখন কোনো রাষ্ট্রপ্রধান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষে দেশ পরিচালনা করে না এবং রাষ্ট্রনায়কগণ আল্লাহ তাআলার এবাদত করেনা তখন তোমরা আল্লাহ তাআলা অসন্তুষ্ট হওয়াকে খুবই ভয় কর। কেননা, আল্লাহ তাআলা অসন্তুষ্ট হওয়া মানুষের অসন্তুষ্ট হওয়া থেকে মারাত্মক।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ১৯ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ١٩
قال أبو الزاهرية وقال عبد الله بن عمرو لا تزالوا في بلاء وفتنة
ولا يزداد الأمر إلا شدة فإذا لم يلي الوالي للله ولم يؤدي المولى عليه طاعة الله
فأوشكوا بكره الله فإن كره الله اشد من كره الناس
আবু ইদরীস হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি, আবু সালেহ এবং আবু মুসলিম একসাথে ছিলাম। তারা দুইজনের একজন অপরকে বলল, তোমরা কি কোনো বিষয়ের ভয় করছ? তারা বলল, আমরা মানুষের লোভ সম্বন্ধে শংকিত। অতঃপর আমি বললাম, এমন লোভ একমাত্র আখেরী যামানার মানুষের মাঝে প্রকাশ পাবে।
উত্তরে তার বলল, তুমি ঠিকই বলেছ, কেউ লোভবিহীন কখনো ছিনতাই ডাকাতী করতে পারেনা এবং মানুষ সবচেয়ে বেশি ছিনতাই ইত্যাদির সম্মুখিন হবে একমাত্র ইসলামের ক্ষেত্রে। নিঃসন্দেহে যাবতীয় ফিৎনা ফাসাদ ইসলামের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠবে এবং উক্ত ফিৎনা আখেরী যামানাতেই ব্যাপক আকার ধারন করবে।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ২০ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٢٠
حدثنا عبد الوهاب الثقفي
عن أيوب السختياني عن أبي قلابة
عن أبي إدريس قال كنت أنا وأبو صالح وأبو مسلم
فقال أحدهما
لصاحبه هل تخافون من شيء
قالوا نخاف الطلب قال فقلت إن
الطلب لا يدرك إلا أخريات الناس
قالوا صدقت إنه لم يكن نهب قط إلا كان له طلب
وإن الناس لم يصيبوا نهبا قط أعظم من الإسلام وإن الفتنة تطلبه وإنها لا تدرك إلا
أخريات الناس
কায়েস ইবনে আবু হোসেন থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সাঃ) বলেছেন, বৃষ্টির ন্যায় পৃথিবীতে ফিতনা বিস্তার লাভ করবে।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ২১ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٢١
حدثنا هشيم حدثنا ابن أبي خالد عن قيس بن أبي حازم
قال
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ترسل على الأرض الفتن إرسال القطر
হযরত ওবাইদুল্লাহ ইবনে আবু জাফর রহঃ বলেন, যখন আল্লাহ তাআলা হযরত মুসা আঃ এর কাছে উম্মাতে মুহাম্মাদিয়া মর্যাদা সম্বন্ধে আলোচনা করলেন তখন হযরত মুসা আঃ উম্মাতে মুহাম্মাদিয়ার অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য আবেদন করলেন। তার আবেদনের প্রেক্ষিতে আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেন, হে মুসা! উক্ত ওম্মতের মাঝে আখেরী যুগে অনেক ধরনের বালা মসিবত প্রকাশ পাবে। একথা শুনে হযরত মুসা আঃ বললেন, হে আল্লাহ! এধরনের বালা মসিবতকালীন কে ধৈর্য্য ধারন করতে পারবে? জবাবে আল্লাহ তাআলা বললেন, ঐ মুহূর্তে যারা ধৈর্য্য ধারন করে ঈমানের উপর অটল থাকবে তাদের জন্য বিভিন্ন ধরনের বালা মসিবত সহজ হয়ে যাবে।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ২২ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٢٢
حدثنا
الوليد بن مسلم وابن وهب عن ابن لهيعة عن عبيد الله بن أبي جعفر قال
لما قص
الله تعالى على موسى عليه السلام شأن هذه الأمة تمنى أن يكون رجلا منهم فقال الله
يا موسى إنه يصيب آخرها بلاء وشدة قال أحدهما من الفتن فقال موسى يا رب ومن يصبر
على هذا قال الله إني أعطيتهم من الصبر والإيمان ما يهون عليهم البلاء
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল’আস থেকে বর্ণিত; তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, অচিরেই আমার উম্মতের মধ্যে এমন ফিতনা আসবে যে, তাতে মানুষ তার পিতা ও ভাই থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। এমনকি মানুষ তার বিপদের ব্যাপারে অপমান বোধ করবে, যেমন ব্যভিচারীনি মহিলা তার ব্যভিচারের অপমান বোধ করে।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ২৩ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٢٣
حدثنا رشدين بن سعد عن ابن لهيعة عن أبي قبيل
عن عبد الله بن عمرو بن العاص رضى
الله عنهما قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ستكون فتن في أمتي حتى يفارق
الرجل فيها أباه وأخاه حتى يعير الرجل ببلائه كما تعير الزانية بزناها
আবু তামীম জায়শানী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, অবিরাম বৃষ্টির ন্যায় তোমাদের নিকট ফিতনা প্রবলভাবে বর্ষন হতে থাকবে।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ২৪ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٢٤
حدثنا ابن وهب عن ابن لهيعة أن ابن هبيرة السبئي حدثه قال
سمعت أبا تميم
الجيشاني يقول أتتكم الفتن ديما كديم المطر
হযরত উসামা ইবনে যায়েদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা নবী করীম (সাঃ) একটি দুর্গের উপর আরোহন করে (লোকদেরকে) বললেন, আমি যা দেখছি তোমরাও কি তা দেখছ? নিশ্চয় আমি দেখছি যে, তোমাদের গৃহের ফাঁকে ফাঁকে বৃষ্টির ন্যায় ফিতনা পতিত হচ্ছে।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ২৫ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٢٥
حدثنا ابن عيينة عن الزهري عن
عروة
عن أسامة بن زيد رضى الله عنه قال أشرف النبي صلى الله عليه وسلم أطم فقال
هل ترون ما أرى إني لأرى مواقع الفتن خلال بيوتكم كمواقع القطر
মিশর-শাম এলাকায় মতপার্থক্য সৃষ্টিকারী ঝান্ডার বর্ননা ও তাদের বিজয়
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ২৬ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٢٦
حدثنا محمد
بن عبد الله التيهرتي حدثنا ابن أنعم عن مكحول عن أبي ثعلبة عن أبي إدريس
عن
حذيفة بن اليمان رضى الله عنه قال ما أنا إلى طريق من طرقكم بأهدى مني بكل فتنة هي
كائنة وبناعقها وقائدها إلى يوم القيامة
হযরত হুজাইফা রাযিঃ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর কসম শহরের রাস্তাগুলো থেকে এমন কোনো রাস্তা কিংবা গ্রামের গলিসমূহ থেকে এমন কোনো গলি নেই যার সম্বন্ধে আমি জানিনা যে, হযরত ওসমান রাযিঃ কে শহীদ করার পর যাবতীয় ফিৎনা ফাসাদ প্রকাশ পাবে। অর্থাৎ, সবকিছু আমার কাছে পূর্ব থেকে জানা আছে।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ২৭ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٢٧
حدثنا أبو معاوية عن حجاج الصواف
عن حميد بن هلال العدوي عن يعلى بن الوليد عن جندب الخير
عن حذيفة بن اليمان
قال والله ما أنا بالطريق إلى قرية من القرى ولا إلى مصر من الأمصار بأعلم مني بما
يكون من بعد عثمان بن عفان
হযরত আবু সালেম জায়শানী রহঃ বলেন, আমি হযরত আলী রাযিঃ কে কূফাতে বলতে শুনেছি, কিয়ামতের পূর্বে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী এমন তিনশত লোক প্রকাশ পাবে আমি ইচ্ছা করলে তাদেরকে পরিচালনাকারী এবং উৎসাহদাতাদের নাম ঠিকানা সবকিছু বলে দিতে পারব।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ২৮ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٢٨
حدثنا ابن وهب حدثني حرملة بن عمران عن سعيد بن
سالم عن أبي سالم الجيشاني قال
سمعت عليا رضى الله عنه يقول بالكوفة ما من
ثلثمائة تخرج إلا ولو شئت سميت سائقها وناعقها إلى يوم القيامة
হুযাইফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, লোকেরা রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর নিকট কল্যাণ সম্পর্কে প্রশ্ন করত। আর আমি ক্ষতিকর বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতাম এই ভয়ে যেন আমি তাতে লিপ্ত না হই। হযরত হুযায়ফা (রাঃ) বলেন, আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমরা এক সময় মুর্খতা ও মন্দের মধ্যে নিমজ্জিত ছিলাম অতঃপর আল্লাহ তা’আলা আমাদেরকে এই কল্যাণ (অর্থাৎ দ্বীন ইসলাম) দান করেন। তবে কি কল্যাণের পর পুনরায় অকল্যাণ (ফিতনা-ফাসাদ) আসবে? রাসূল (সাঃ) বললেন হ্যাঁ, আসবে। আমি পুনরায় জিজ্ঞাসা করলাম সেই অকল্যাণের পরে কি আবার কল্যাণ আসবে? তিনি বললেন, হ্যাঁ আসবে। তবে তা হবে ধোঁয়াযুক্ত। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, সেই ধোঁয়া কি প্রকৃতির? তিনি বললেন, লোকেরা আমার সুন্নত বর্জন করে অন্য তরিকা গ্রহণ করবে এবং আমার পথ ছেড়ে লোকদেরকে অন্য পথে পরিচালিত করবে। তখন তুমি তাদের মধ্যে ভাল কাজও দেখতে পাবে এবং দেখতে পাবে মন্দ কাজও। আমি আবার জিজ্ঞাসা করলাম, সেই কল্যাণের পরও কি অকল্যাণ আসবে? তিনি বললেন হ্যাঁ, দোজখের দ্বারে দাঁড়িয়ে কতিপয় আহ্বানকারী লোকদেরকে সেই দিকে আহ্বান করবে। যারা তাদের আহ্বানে সাড়া দেবে তাদেরকে তারা জাহান্নামে নিক্ষেপ করে ছাড়বে। আমি বললাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমাকে তাদের পরিচয় জানিয়ে দিন। তিনি বললেন, তারা আমাদের মতোই মানুষ হবে এবং আমাদের ভাষায় কথা বলবে।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ২৯ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٢٩
حدثنا
الوليد عن ابن جابر عن بسر بن عبيد الله الحضرمي عن أبي إدريس الخولاني قال
سمعت حذيفة بن اليمان يقول كان الناس يسألون رسول الله صلى الله عليه وسلم عن
الخير وكنت أسأله عن الشر مخافة أن يدركني
فقلت يا رسول الله إنا كنا أهل
جاهلية وشر فقد جاء الله بهذا الخير فهل بعد هذا الخير من شر
قال نعم
قال
فقلت فهل بعد ذلك الشر من خير
قال نعم
قال قلت فهل بعد ذلك الشر من خير
قال نعم وفيه دخن
قلت وما دخنه
قال قوم يستنون بغير سنتي ويهتدون بغير
هدي تعرف منهم وتنكر
قلت فهل بعد ذلك الخير من شر
قال نعم دعاة إلى أبواب
جهنم من أجابهم إليها قذفوه فيها
قال قلت صفهم لي يا رسول الله
قال هم من
جلدتنا ويتكلمون بألسينتنا
হযরত হাসসান ইবনে আতিয়্যাহ হযরত হুযায়ফা (রাঃ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেন, (অর্থাৎ ২৯ নং হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন)।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ৩০ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٣٠
حدثنا الوليد واخبرنا الأوزاعي عن حسان بن
عطية عن حذيفة مثل ذلك
হযরত হুযায়ফা ইবনুল ইয়ামান (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার সঙ্গির কল্যাণ সম্পর্কে শিক্ষা করতে। আর আমি অকল্যাণ বিষয় সম্পর্কে শিক্ষা করতাম তার মধ্যে পতিত হওয়ার ভয়ে। (বর্ণনাকারী ঈসা বলেন) অর্থাৎ ফিতনার মধ্যে পতিত হওয়ার ভয়ে।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ৩১ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٣١
حدثنا عيسى بن يونس عن إسماعيل بن أبي خالد عن قيس
بن أبي حازم
عن حذيفة بن اليمان قال كان أصحابي يتعلمون الخير وأنا أتعلم الشر
مخافة أن أقع فيه قال عيسى يعني من الفتن
হযরত হুযায়ফা ইবনুল ইয়ামানে (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা এক সময় মুর্খতা ও মন্দের মধ্যে নিমজ্জিত ছিলাম। অতঃপর আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে এই কল্যাণ (অর্থাৎ দ্বীন-ইসলাম) দান করেন। তবেকি এই কল্যাণের পর পুনরায় অকল্যান আসবে? তিনি বললেন, হ্যাঁ, আসবে। তবে তা হবে ধোঁয়াযুক্ত। ঐ সমস্ত লোকেরা আমাদের মতই মানুষ হবে এবং আমাদের ভাষাই কথা বলবে। তুমি তাদের মধ্যে ভালো কাজও দেখতে পাবে এবং মন্দ কাজও দেখতে পাবে। জাহান্নামের দ্বারে দাঁড়িয়ে কতিপয় আহ্বানকারী লোকদেরকে সেই দিকে আহ্বান করবে। যে ব্যক্তি তাদের অনুসরণ করবে, তাকে তারা জাহান্নামে প্রবিষ্ট করে ছাড়বে।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ৩২ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٣٢
حدثنا عثمان بن كثير بن دينار عن
محمد بن مهاجر عن يونس بن ميسرة بن حلبس الجبلاني
عن حذيفة بن اليمان قال قلت
يا رسول الله إنا كنا في جاهلية وشر فجاء الله بهذا الخير فهل
بعد هذا الخير من شر
قال نعم وفيه دخن قوم من جلدتنا يتكلمون بألسينتنا تعرف وتنكر دعاة على أبواب
جهنم من أطاعهم أقحموه فيها
হযরত হুযায়ফা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সাঃ) থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেন (অর্থাৎ ৩২ নং হাদীসের অনুরূপ)।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ৩৩ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٣٣
حدثنا محمد بن شابور عن النعمان بن المنذر عن
مكحول عن حذيفة عن النبي صلى الله عليه وسلم نحو ذلك
হযরত হুযায়ফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, লোকেরা রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর নিকট কল্যাণ সম্পর্কে প্রশ্ন করত। আর আমি ক্ষতিকর বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতাম এই ভয়ে যেন আমি তাতে লিপ্ত না হই। একদিন আমি রাসূল (সাঃ) এর নিকট বসা ছিলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে যেই কল্যাণ দান করেছেন সেই কল্যাণে পর কি পুনরায় অকল্যাণ দান করেছেন। সেই কল্যাণের পর কি পুনরায় অকল্যাণ আসবে? যা পূর্বেও ছিল। তিনি বললেন হ্যাঁ, আসবে। আমি পুনরায় জিজ্ঞাসা করলাম তারপর কি হবে? রাসূল (সাঃ) বললেন, ধোকার উপর সন্ধি চুক্তি হবে। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, সন্ধিচুক্তির পর কি হবে? তিনি বললেন,কতিপয় আহ্বানকারী গোমরাহীর দিকে আহ্বান করবে। যদি তুমি তখন আল্লাহর কোন খলীফা (শাসক) এর সাক্ষাৎ পাও তাহলে অবশ্যই তার আনুগত্য করবে।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ৩৪ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٣٤
حدثنا ضمرة بن ربيعة
عن ابن شوذب عن أبي التياح عن خالد بن سبيع
عن حذيفة قال كان الناس يسألون
رسول الله صلى الله عليه وسلم عن الخير وكنت أسأله عن الشر مخافة أن أدركه فبينا
أنا عند رسول الله صلى الله عليه وسلم ذات يوم قلت يا رسول الله هل بعد هذا الخير
الذي أتانا الله به من شر كما كان قبله شر
قال نعم
قلت ثم ماذا
قال
هدنة على دخن
قلت فما بعد الهدنة
قال دعاة إلى الضلالة فإن لقيت لله يومئذ
خليفة فالزمه
হযরত হুজায়ফা ইবনুল ইয়ামান রাযিঃ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাঃ এরশাদ করেছেন। আমার ওম্মত ধ্বংস হবেনা, যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের মধ্যে তামায়ুয, তামায়ুল ও মাআমূ প্রকাশ না পাবে।
হুজাইয়া রাযিঃ বলেন, আমি বললাম, ইয়ারাসূলুল্লাহ আমার আব্বা, আম্মা আপনার জন্য কুরবান হউক তামায়ুম কি জিনিস? রাসুলুল্লাহ সাঃ বললেন, তামায়ুম হচ্ছে আমাবিয়্যাত বা স্বজনপ্রীতি যা আমার পরে মানুষের মাঝে ইসলামের ক্ষেত্রে প্রকাশ পাবে।
অতঃপর জিজ্ঞাস করলাম, তামায়ুল কি জিনিস? জবাবে রাসূলুল্লাহ সাঃ বললেন, এক গোত্র অন্য গোত্রে প্রতি হামলা করবে এবং অত্যাচারের মাধ্যমে একে অপরের উপর আক্রমণ করাকে বৈধ মনে করবে।
এরপর জানতে চাইলাম ইয়া রাসূলুল্লাহ! মাআমূ কি জিনিস? রাসূলুল্লাহ সাঃ জবাব দিলেন, এক শহরবাসী অন্য শহরবাসীর সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হবে, যার কারণে তারা একে অপরের বিরোধীতায় মেতে উঠবে। এটা বুঝাতে গিয়ে রাসূলুল্লাহ সাঃ এক হাতের আঙ্গুল অন্য হাতে প্রবেশ করালেন। তিনি আরো বললেন, এ অবস্থা তখনই হবে যখন ব্যাপকভাবে রাষ্ট্রীয়ভাবে বিশৃংঙ্খলা দেখা দিবে এবং বিশেষ কিছু লোকের অবস্থা তুলনামূলক ভালো থাকবে। সুসংবাদ ঐ ব্যক্তির জন্য যাকে আল্লাহ তাআলা খাছ ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করে এসলাহ দান করেছেন।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ৩৫ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٣٥
حدثنا عثمان بن كثير والحكم بن نافع عن سعيد بن سنان عن أبي الزاهرية عن
كثير بن مرة عن ابن عمر
عن حذيفة بن اليمان رضى الله عنهم قال قال رسول الله
صلى الله عليه وسلم لن تفنى أمتي حتى يظهر فيهم التمايز والتمايل والمعامع
قال
حذيفة فقلت بأبي أنت وأمي يا رسول الله وما التمايز
قال عصبية يحدثها الناس
بعدي في الإسلام
قلت فما التمايل
قال يميل القبيل على القبيل فيستحل حرمتها
ظلما
قال قلت وما المعامع
قال مسير الأمصار بعضها إلى بعض فتختلف
أعناقها في الحرب هكذا وشبك رسول الله صلى الله عليه وسلم بين أصابعه وذلك إذا فسدت
العامة يعني الولاة وصلحت الخاصة طوبي لامريء أصلح الله خاصته
হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, বনী ইসরাঈলদের মধ্যে এমন কোন বিষয় ছিলনা যা তোমাদের মধ্যে সংঘটিত হবেনা।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ৩৬ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٣٦
حدثنا جرير
بن عبد الحميد عن أشعث عن جعفر عن سعيد
عن ابن عباس رضى الله عنهما قال لم يكن
في بني إسرائيل شيء إلا وهو فيكم كائن
হযরত আবুল আলিয়া রহঃ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন তাসতুর নামক এলাকা বিজয় হয়,তখন আমরা হরমুজের স্টোর রুমে একটা জিনিষ পেলাম, দেখলাম, খাটিয়ার উপর রাখা একটি লাশের মাথার পার্শ্বে একটা লিখিত কিছু রেখে দেয়া আছে। ধারনা করা হয় এটা হযরত দানিয়াল আঃ এর লাশ।
অতঃপর আমরা সেটাকে আমীরুল মু’মিনীন হযরত ওমর রাযিঃ এর কাছে পাঠিয়ে দিলাম। হযরত আবুল আলিয়া বলেন, আরবদের থেকে আমিই সেটাকে সর্বপ্রথম পাঠ করি। পরবর্তীতে লিখিত কাগজগুলোকে কা’ব এর নিকট পাঠানো হলো তিনি সেগুলো আরবী ভাষায় অনুবাদকালে, দেখা গেল; হযরত দানিয়াল আঃ এর সাথে থাকা কাগজের মধ্যে যাবতীয় সব ফিৎনার বর্ণনা স্পষ্টভাবে রয়েছে।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ৩৭ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٣٧
حدثنا محمد بن يزيد عن أبي خلدة
عن أبي العالية قال لما فتحت تستر وجدنا في بيت مال الهرمزان مصحفا عند رأس ميت
على سرير وقال هو دانيال فيما يحسب قال فحملناه إلى عمر فأنا أول العرب قرأته فأرسل
إلى كعب فنسخه بالعربية فيه ما هو كائن يعني من الفتن
বিশিষ্ট সাহাবী হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযিঃ হতে বর্ণিত, তিনি নিম্নের আয়াত সম্বন্ধে বলেন, এখনো পর্যন্ত উক্ত আয়াতের মর্ম প্রকাশ পায়নি। আয়াতটি হচ্ছে, -----------------------------------------
--------------------------------------------- অর্থাৎ, হে মুমিনগন! তোমরা নিজেদের চিন্তা কর। তোমরা যখন সৎপথে রয়েছে, তখন কেউ পথভ্রান্ত হলে তাতে তোমাদের কোনো ক্ষতি নেই। (সূরা মায়েদাহ-১০৫)
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযিঃ বলেন, আল্লাহ তাআলা সর্ব বিষয়কে সামনে রেখে কুরআন শরীফ নাযিল করেছেন। তার মধ্যে এমন কতক বিষয় রয়েছে, যা কুরআন অবতির্ণ হওয়ার পূর্বেই প্রকাশ পেয়েছে, আবার কতক আয়াত এমন রয়েছে যার ব্যাখ্যা রাসূলুল্লাহ সাঃ এর যুগে প্রকাশ পেয়েছে। কিছু আয়াত এমন আছে, যার সামান্য ব্যাখ্যা রাসূলুল্লাহ সাঃ দুনিয়া থেকে বিদায় নেয়ার পর সংঘটিত হয়েছে। কিছু আয়াত এমন আছে, যার ব্যাখ্যা পরবর্তী যুগে প্রকাশ পাবে। আবার কিছু আয়াতের ব্যাখ্যা ফুটে উঠবে হিসাব-নিকাশের দিন। সেগুলো হচ্ছে, ঐ সব আয়াত যার মধ্যে হিসাব-নিকাশ, জান্নাত-জাহান্নাম সম্বন্ধে লেখা রয়েছে।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ৩৮ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٣٨
حدثنا إسحاق بن
سليمان الرازي عن أبي جعفر عن الربيع ابن أنس عن أبي العالية
عن عبد الله بن
مسعود رضى الله عنه في قوله تعالى ياأيها الذين آمنوا عليكم أنفسكم لا يضركم من ضل
إذا اهتديتم قال لم يجبي تأويل هذه بعد ثم قال عبد الله إن الله أنزل القرآن حيث
أنزله فمنه أي قد مضى تأويلهن قبل أن ينزل ومنه آي وقع تأويلهن على عهد النبي صلى
الله عليه وسلم ومنه آي وقع تأويلهن بعد النبي صلى الله عليه وسلم بقليل ومنه آي
يقع تأويلهن بعد اليوم ومنه آي يقع تأويلهن يوم الحساب وذلك ما ذكر من الحساب
والجنة والنار
ওমাইর ইবনে হানী রহঃ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন আমাদেরকে বর্ণনা করেছেন এমন কতক শাইখ যারা সিফফীন যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন। তারা বলেন, আমরা যূদী পাহাড়ে এসে হঠাৎ করে আবু হুরাইরা রাযিঃ এর সাক্ষাৎ হলো। আমরা তাকে একহাত অন্যহাতের উপর রেখে পিছনে ধরে রাখা অবস্থায় পেলাম। পাহাড়ের সাথে ঠেশ দিয়ে বসে আল্লাহ তাআলার যিকিররত থাকতে দেখলাম। আমরা তাকে সালাম দিলে তিনি সালামের উত্তর দিলেন। আমরা তাঁকে বললাম,এ ফিৎনা সম্বন্ধে আমাদেরকে কিছু অবগত করুন। অতঃপর তিনি বললেন, নিশ্চয় তোমরা উক্ত ফিৎনার ক্ষেত্রে তোমরা তোমাদের শত্র“র বিরুদ্ধে সাহায্যপ্রাপ্ত হবে। এরপর তিনি বলেন, বিভিন্ন ধরনের ফিৎনা প্রকাশ পাবে, যা মূলতঃ মধুর মধ্যে পানির ন্যায়। তেমনিভাবে তোমাদেরকে ধ্বংস করে দেয়াহবে, অথচ তোমরা নগন্য এবং লজ্জিত হবে।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ৩৯ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٣٩
حدثنا الوليد بن مسلم عن ابن جابر وابن ثوبان وعثمان بن
أبي العاتكة عن عمير بن هاني قال
حدثنا شيوخ لنا شهدوا صفين قالوا أتينا جبل
الجودي فإذا نحن بأبي هريرة فوافيناه قابضا بيديه أحديهما بالأخرى خلف ظهره متكئا
على الجبل يذكر الله تعالى فسلمنا عليه فرد السلام
فقلنا أخبرنا عن هذه الفتنة
فقال إنكم تنصرون فيها على عدوكم ثم قال تكون فتنة ما هذه عندها إلا كالماء في
العسل تترككم وأنتم قليل نادمون
হযরত সামুরা ইবনে জুনদুব রাযিঃ বলেন, কিয়ামত সংঘঠিত হবেনা, যতক্ষণ পর্যন্ত তোমরা বড় বড় কিছু বিষয় স্বচক্ষ্যে দেখবেনা এবং তোমরা সেগুলো নিজেদের মধ্যেও আলোচনা করার সাহস পাবে না।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ৪০ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٤٠
حدثنا عبد القدوس عن عفير بن معدان قال
حدثنا قتادة عن الحسن
عن سمرة بن جندب رضى الله عنه قال لا تقوم الساعة حتى
تروا أمورا عظاما لم تكونوا ترونها تكون ولا تحدثون بها أنفسكم

Execution time: 0.52 render + 0.01 s transfer.