Login | Register

নুয়াইম বিন হাম্মাদের: আল ফিতান

   

মানুষের মধ্যে বালা মসিবত অধিকহারে দেখা গেলে মৃত্যু কামনা করার ব্যাপারে শিথিলতা প্রসঙ্গে

Double clicking on an arabic word shows its dictionary entry
হযরত যায়েদ ইবনে ওয়াহাব রাযি থেকে বর্ণিত, তিনি হযরত আব্দুল্লাহ রাযি কে বলতে শুনেছেন, নিঃসন্দেহে ফিতনা ধীরে ধীরে একের পর এক আসতে থাকবে। উক্ত ফিতনার সময় যারা মারা যেতে চায় তারা যেন মৃত্যু গ্রহণ করে নেয়।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ১৬১ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ١٦١
حدثنا ابن مهدي عن سفيان عن الأعمش عن زيد بن وهب
سمع عبد
الله أن الفتنة وقفات وبعثات فمن استطاع أن يموت في وقفاتها فليفعل
হযরত যায়েদ ইববে ওয়াহাব বিশিষ্ট সাহাবী হযরত হোজাইফা ইবনুল ইয়ামান রাযি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি এরশাদ করেন ঃ ফিতনার স্থিতিশীলতা হচ্ছে, যখন তরবারিকে খাপবদ্ধ করা হয় আর ফিতনার তীব্রতা হচ্ছে, যখন তরবারিকে খাপমুক্ত করে নাঁঙ্গা করা হবে।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ১৬২ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ١٦٢
قال
سفيان وأخبرنا الحارث بن حصيرة عن زيد بن وهب عن حذيفة قال وقفاتها إذا غمد السيف
وبعثاتها إذا سل السيف
বিশিষ্ট সাহাবী হযরত হোযাইফা রাযি হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ফিতনার জন্য কিছুটা স্থিতিশীলতা ও কিছুটা তীব্রতা রয়েছে। এ ধরনের তীব্র ফিতনার সময় কেউ মৃত্যুবরণ করতে চাইলে যেন মৃত্যুকে গ্রহণ করে।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ১৬৩ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ١٦٣
حدثنا ابن مبارك عن زائدة عن الأعمش عن زيد بن وهب
عن حذيفة قال للفتنة وقفات وبعثات فمن استطاع منكم أن يموت في وقفاتها فليفعل
হযরত আবু উসমান রহঃ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযি এর সাথে বসা ছিলাম হঠাৎ তার উপর চড়–ই পাখির মল এসে পড়লে তিনি যেগুলোকে তার আঙ্গুল উঠিয়ে নিয়ে বললেন, আমার কাছে আমার পরিবার-পরিজন ও সন্তান-সন্তুতি মৃত্যুবরণ করা এর থেকেও অনেক সহজ। এরপর বর্ণনাকারী বললেন,আল্লাহর কসম! তাঁর একথার দ্বারা কি উদ্দেশ্য আমরা বুঝতে পারলামনা।এক পর্যায়ে বিভিন্ন ধরনের ফিতনা আসতে থাকল। অতঃপর আমরা বললাম, এটা সেই ফিতনা তাদের উপর পতিত হতে থাকে।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ১৬৪ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ١٦٤
حدثنا أبو خالد الأحمر سليمان بن حيان الكوفي عن عاصم الأحول عن أبي
عثمان قال
كنا عند عبد الله بن مسعود جلوسا إذ وقع عليه خرؤ عصفور فقال ها
بأصبعه ثم قال لموت ولدي وأهلي أهون علي من هذا
قال فوالله ما درينا ما أراد
بذلك حتى وقعت الفتن فقلنا هذا حدر عليهم
হযরত আবুল আহওয়াছ রহঃ বলেন, একদা আমরা বিশিষ্ট সাহাবী হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযি এর ঘরে গিয়ে দেখি তার সন্তানদেরকে নিয়ে তিনি বসে আছেন। তার ছেলেগুলো দেখতে উজ্জ্বল দিনারের ন্যায় সুন্দর। তাদের সৌন্দর্য দেখে আমরা খুবই আশ্চর্য হতে থাকলাম। অতঃপর হযরত আব্দুল্লাহ আমাদেরকে বললেন, মনে হয় তোমরা এদের কারণে আমার উপর ইর্ষান্বীত হয়েছ, জবাবে আমরা বললাম, আল্লাহর কসম! নিঃসন্দেহে এমন ছেলেদের ক্ষেত্রে প্রত্যেক মুসলমান পুরুষ ইর্ষা করবে। আমাদের কথা শুনে তিনি তার ছোট্ট ঘরটির ছাদের দিকে মাথা উঠালেন। এদিকে ঘরের জীর্ণ ছাদে কিছু পাখি বাসা বেঁধেছে এবং উক্ত বাসায় ডিমও দিয়েছে। অতঃ তিনি বললেন, কসম যে সত্ত্বার যার হাতে আমার জীবন! আমার এ সন্তানদের কবরে মাটি দেয়া আমার নিকট অনেক-অনেক পছন্দনীয় এদের উপর ঐ হিংস্র পাখির বাসাগুলো পতিত হয়ে তাদের ডিম ভেঙ্গেঁ যাওয়া থেকে। উক্ত হাদীসের বর্ণনকারী হযরত ইবনুল মোবারক বলেন, এটা মূলতঃ তাদের উপর আসন্ন ফিতনার ভয়ে বলেছেন।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ১৬৫ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ١٦٥
حدثنا ابن مبارك عن المبارك بن
فضالة عن الحسن سمعه يقول أخبرني أبو الأحوص قال
دخلنا على ابن مسعود وعنده
بنون له غلمان كأنهم الدنانير حسنا فجعلنا نتعجب من حسنهم فقال عبد الله كأنكم
تغبطونني بهم
قلنا والله إن مثل هؤلاء غبط بهم الرجل المسلم فرفع رأسه إلى سقف
بيت له قصير وقد عشش فيه الخطاف وباض فيه فقال والذي نفسي بيده لأن أكون قد نفضت
يدي عن تراب قبورهم أحب إلي من أن يخر عش هذا الخطاف فينكسر بيضه
قال ابن مبارك
خوفا عليهم من الفتن
হযরত হোজাইফা ইবনুল ইয়ামান রাযি বলেন, হে আবুততোফাইল! তোমার কি অবস্থা হবে, যখন আমাদের উপর বিভিন্ন ধরণের ফিতনা আসতে থাকবে। তখন সর্বোত্তম মানুষ হবে প্রত্যেক ধনী লোক যারা তাদের ধনাঢ্যতা গোপন রাখবে।
অতঃপর আবুত্ তোফাইল রহঃ বলেন, তখন কি অবস্থা হবে, নিশ্চয় সেটা আমাদের প্রতি এমন দার করা যদ্বারা মানুষ নিম্নস্তরে পতিত হবে এবং নিক্ষিপ্ত হবে অনেক গভীরে।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ১৬৬ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ١٦٦
حدثنا عبد الوهاب عن يحيى بن سعيد أن أبا الزبير
اخبره أن أبا الطفيل حدثه أن
حذيفة بن اليمان قال كيف أنت وفتنة أفضل الناس
فيها كل غني خفي
فقال ابن الطفيل كيف وإنما هو عطاء أحدنا يطرح به كل مطرح
ويرمي به كل مرمى
فقال حذيفة كن إذا كابن مخاض لا حلوبة فيحلب ولا ركوبة فيركب
হযরত নোমান ইবনে মোকাররিনি রহঃ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন,রাসুলুল্লাহ যা, এরশাদ করেছেন, ফিতনা এবং যুদ্ধবিগ্রহকালীন যারা এবাদতের ওপর অটল থাকবে তারা আমার প্রতি হিজরত করার প্রতিদান প্রাপ্ত হবে।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ১৬৭ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ١٦٧
حدثنا أبو بكر بن عياش عن أبان قال سمعت أبا إياس معاوية بن قرة يذكر
عن النعمان بن مقرن رضي الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم العبادة
في الهرج والفتنة كالهجرة إلي
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রাযি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহ তাআলার কাছে অতি পছন্দনীয় বস্তু হচ্ছে ‘আল গুরাবা’। অর্থাৎ গরীব-মিসকীনগণ। তার কাছে গুরাবা কারা জানতে চাইলে জবাবে তিনি বললেন, যারা তাদের দ্বীনসহকারে এদিক সেদিক পলায়ন ও আত্মগোপন করতে থাকবে, এক পর্যায়ে হযরত ঈসা ইবনে মারইয়ম আঃ এর সাথে মিলিত হবে।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ১৬৮ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ١٦٨
حدثنا ابن مبارك عن محمد بن مسلم قال سمعت
عثمان بن أوس يحدث عن سليم بن هرمز
عن عبد الله بن عمرو رضي الله عنهما قال أحب
شيء إلى الله تعالى الغرباء
قيل أي شيء
الغرباء
قال ا
لذين يفرون بدينهم
يجمعون إلى عيسى بن مريم عليه السلام
ما يذكر من ندامة القوم من أصحاب
النبي صلى الله عليه وسلم وغيرهم في الفتنة وبعد انقضائها وما تقدم إليهم فيها
হযরত কিনানা রাযি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রবীয়ার অধীন থাকাকালীন একদা হয়রত যুবাইর রাযি ও তার কিছু আসহাব কে সাথে নিয়ে আমাদের কাছে আসলেন। এদিকে আমদের গোত্রপতিগণ আলী রাযি এর সাথে মিলিত হলেন, এবং আমরা সকলে একত্রিত হয়ে পরামর্শ করছিলাম। আমাদের কেউ কেউ বলল, হয়তবা আমরা এর সাথে গিয়ে থাকলে আমাদের সরদারগণ আলীর সাথে থাকবে। তখন আমরা তাদের সাথে কিভাবে মোকাবেলা করব! আমরা আবার বললাম, আমরা মোকাবেলার জন্য বের হলে উভয় দল যখন একে অপরের সামনা সামনি হবে তখন আমরা তাদের সাথে মিলিত হয়ে যাব। আবার আমাদের কেউ কেউ পরামর্শ দিল, এ ব্যাপারে আমরা নিশ্চিত হতে পারছিনা। তাহলে এমন হতে পারে যে, আমরা তাদের কাছে অনুমতি প্রার্থনা করব, অনুমতি মিললে আমরা নিরাপদে পৌঁছে যেতে পারব। না হয় আমরা আমাদের সিদ্ধান্তে অটল থাকব। এক পর্যায়ে আমাদের দলবল সহকারে হযরত যোবাইর রাযি, এর কাছে এসে বললাম, আমাদের মুসলমানগণ কাদের সাথে থাকবে। জবাবে তিনি বললেন, কেন! তাদের মাওলার সাথে থাকব। তার কথা শুনে আমরা বললাম, আমাদের মওলাগণ হযরত আলীর সাথে রয়েছেন। বর্ণনাকারী বলেন, এটা শুনে তার অবস্থা এমন হল যেন আমরা তার মুখে পাথর নিক্ষেপ করলাম। এরপর বেশ কিছুক্ষন চুপ থেকে বললেন, আমরা এটাকেই ভয় করে আসছিলাম।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ১৬৯ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ١٦٩
حدثنا ابن المبارك عن عبد الله بن شوذب قال سمعت مالك بن دينار عن أبي
محمد
عن أبي كنانة قال قدم علينا الزبير وأصحابه ونحن مملكون لربيعة فلحق
سادتنا بعلي فاجتمعنا وقلنا عسى أن يخرجنا هؤلاء ويجيء سادتنا مع علي وكيف نقاتلهم
ثم قلنا نخرج فإذا التقيا لحقنا بهم ثم قال بعضنا لا نأمن ألا نطيق ذلك ولكن
نستأذنهم فإن أذنوا لنا انطلقنا آمنين وإلا كنا على رأينا فأتينا الزبير بن العوام
بجماعتنا
فقلنا له مع من تكون العبيد قال مع مواليهم قلنا فإن موالينا مع علي
قال وكأنما ألقمناه حجرا فمكثنا ساعة
ثم قال لقد حذرنا هذا
হযরত আবু সালেহ থেকে বর্ণিত, যখন হযরত আলী রাযি কিছু বাহাদুর পুরুষের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করলেন, তখন বললেন, এ ধরনের ঘটনা সংঘটিত হওয়ার বিশ বৎসর পূর্বে মৃত্যুবরণ করাটাই আমার নিকট অতি পছন্দনীয় ছিল।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ১৭০ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ١٧٠
حدثنا
أبو معاوية عن الأعمش عن أبي صالح
أن عليا رضي الله عنه قال حين أخذت السيوف
مأخذها من الرجال لوددت أني مت قبل هذا بعشرين سنة
হযরত হাসান থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, হযরত আলী রা. ধারণা করেন, তিনি যে আমল করেছেন কোন আমলই করেননি। এবং আম্মার রা. ধারণা করেন তিনি যে আমল করেছেন কেমন যেন কোন আমলই করেননি। অনুরূপ ত্বলহা রা.ও ভয় করেন তিনি যে আমল করেছেন কেমন যেন কোন আমলই করেননি। এবং যুবায়ের রা. ও তদ্রুপ ধারণা করেন তিনি যে আমল করেছেন কেমন যেন কোন আমলই করেননি। তারা সকলে এমন এক জাতির নিকট আবতরণ করলেন যাদের গ্রন্থসমূহ সুসজ্জিত, আখেরাতবাসী। তখন তারা এদের মাঝে যুদ্ধ বাধিয়ে দিলেন।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ১৭১ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ١٧١
حدثنا ابن المبارك عن
ابن شوذب عن أبي التياح
عن الحسن قال لود علي أنه لم يعمل ما عمل ولود عمار أنه
لم يعمل ما عمل ولود طلحة أنه لم يعمل ما عمل ولود الزبير أنه لم يعمل ما عمل هبطوا
على قوم متوشحي مصاحفهم أهل آخره فسيفوا بينهم
হযরত ঈসা ইবনে উমর থেকে বর্ণিত তিনি বলেন আমি এক বৃদ্ধ ব্যক্তি কে আমর ইবনে র্মুরার নিকট হাদীস বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেন আব্দুল্লাহ আমর বলেন আমি তাঁকে ব্যতিত আর কারো নিকট এই বিষয়ে বার বার বলতে দেখিনি, আমি এই আয়াত পড়তেছিলাম “ নিশ্চয় আপনি মৃত্যবরণ করবেন এবং তারা ও মৃত্যবরণ করবে অতপর কিয়ামত দিবসে তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের নিকট ঝগড়া করবে। (যুমার:৩১) আর আমার ধারণা ছিল, এটা আহলে কিতাবদের সম্পর্কে, এক পর্যায়ে আমাদের কতিপয় লোক কতিপয় লোকদের চেহারায় তরবারী দ্বারা আঘাত আনল তখন আমাদের বুঝতে আর বাকি রইল না যে এটা আমাদের মধ্যে হবে।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ১৭২ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ١٧٢
حدثنا ابن المبارك عن
عيسى بن عمر قال سمعت شيخا يحدث عمرو بن مرة قال
قال عبد الله بن عمر ولم أره
أحال على أحد دونه كنت أقرأ هذه الآية إنك ميت وإنهم ميتون ثم إنكم يوم القيامة عند
ربكم تختصمون وكنت أرى أنها في أهل الكتاب حتى كبح بعضنا وجوه بعض بالسيوف فعرفنا
أنها فينا
হযরত হাসান থেকে বর্ণিত, তিনি আল্লাহ বাণী বলেন “ এবং সেই বিপর্যয়কে ভয় কর, যা বিশেষভাবে তোমাদের মধ্যে যারা জুলুম করে কেবল তাদেরকেই আক্রান্ত করবে না।” বলেন আল্লাহর শপথ, নিশ্চয়ই জাতি জানে যখন এই আয়াত অবতীর্ণ হয়, আর তা হল, এই ফিৎনার সাথে একদল লোক রুক্ষভাষা ব্যবহার করবে।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ১৭৩ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ١٧٣
حدثنا ابن المبارك عن يزيد بن إبراهيم
عن الحسن في قوله
تعالى واتقوا فتنة لا تصيبن الذين ظلموا منكم خاصة قال والله لقد علم أقوام حين
نزلت أنه يشخص لها فوج
হযরত কয়েস বিন উবাদ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি হযরত আলী রা. কে বললাম, এ বিষয়ে রসূলুল্লাহ সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়াসল্লাম কি আপনাকে কোন প্রতিশ্রুতি দিয়েছেনে? তখন তিনি বলেন, এ ব্যাপারে রসূলুল্লাহ সা. আমাকে এমন কোন প্রতিশ্রুতি দেননি যা মানুষের সাথে করেননি। তবে মানুষ হযরত উসমান রা. এর উপর আক্রমন করে শহিদ করে ফেলেন। তাই তাদের এ কর্ম খুবই খারাপ এবং আমার কর্মও খারাপ। তখন আমি দেখলাম এ ব্যাপারে আমি বেশী হকদার, তাই আমি তার উপর লাফিয়ে পড়লাম। সুতরাং আল্লাহ তায়ালাই এ ব্যাপারে সর্বজ্ঞ যে আমরা ভুল করেছি না সঠিক করেছি।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ১৭৪ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ١٧٤
حدثنا ابن المبارك عن معمر عن علي بن زيد بن جدعان
عن الحسن
عن قيس بن عباد قال قلت لعلي رضي الله عنه أعهد إليك رسول الله صلى
الله عليه وسلم في هذا الأمر شيئا
فقال ما عهد إلي في ذلك عهدا لم يعهده إلى
الناس ولكن الناس وثبوا على عثمان رضي الله عنه فقتلوه فكانوا فيه أسوأ صنيعا وأسوأ
فعلا مني فرأيت أني أحق بها فوثبت عليها فالله أعلم أخطأنا أو أصبنا
আলী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন রসূলুল্লাহ সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়াসল্লাম নেতৃত্বের ব্যাপারে আমাদের কোন সিদ্ধান্ত দেননি যার উপর আমরা আমল করব। এ বিষয়টি আমি নিজে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সুতরাং যদি তা সঠিক হয় তাহলে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে। আর যদি তা ভুল প্রমানিত হয় তাহলে এর দায়িত্ব আমাদের উপর বর্তাবে।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ১৭৫ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ١٧٥
حدثنا عبد الرزاق عن سفيان عن الأسود بن قيس عن رجل
عن علي رضي الله عنه قال ما
عهد إلينا في الإمارة عهدا نأخذ به إنما هو شيء رأيته فإن يك صوابا فمن الله وإن يك
خطأ فمن قبل أنفسنا
আবু হাশেম আল কাসেম বিন কাসির থেকে বর্ণিত আমাদেরকে কয়েস খারেফি বর্ণনা করেন যে, তিনি হযরত আলী রা. কে বলতে শুনেছে তিনি বলেন, আমাদেরকে হযরত আবু বকর রা. ্ও হযরত উমর রা. এর পরবর্তীতে এক ফিৎনা গ্রাস করেছে। আর তা উহা যা আল্লাহ তাআলা চেয়েছেন।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ১৭৬ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ١٧٦
حدثنا ابن المبارك عن سفيان عن أبي هاشم القاسم بن
كثير حدثنا قيس الخارفي
سمع عليا يقول أصابتنا فتنة بعد أبي بكر وعمر رضى الله
عنهما فهو ما شاء الله
মুহাম্মাদ বিন উবাইদুল্লাহ বর্ণনা করেন, আমি আবুদ্দুহাকে হাসান ইবনে আলী রা. থেকে আলোচনা করতে শুনেছি, তিনি সুলাইমান ইবনে সুরাদকে বলেন আমি আলী রা. কে দেখেছি যখন যুদ্ধ তীব্রবেগে লেগে গেল তখন তিনি আমার নিকট আশ্রয় নিয়ে বললেন, হে হাসান! হায় আফসোস যদি এর বিশ বৎসর পূর্বে আমি ইন্তেকাল করতাম।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ১৭৭ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ١٧٧
حدثنا ابن المبارك عن شعبة حدثنا محمد بن عبيد
الله الثقفي قال سمعت أبا الضحى يذكر عن الحسن بن علي أنه قال لسليمان بن صرد
لقد رأيت عليا حين اشتد القتال وهو يلوذ بي ويقول يا حسن لوددت أني مت قبل هذا
بعشرين سنة
হযরত তামীম ইবনে সালামা রা. বলেন, আমাকে সুলাইমান ইবনে সুরাদ আল খুযায়ী বলেন আমাকে হাসান ইবনে আলী রা. বলেন আমি আলী রা. কে দেখলাম যখন পুরুষের মাঝে তরবারী উঠে পড়ল তখন তিনি আমার নিকট সাহায্য চেয়ে বললেন হে হাসান! হায় আফসোস আমি যদি এই দিনের বিশ বৎসর পূর্বে ইন্তেকাল করতাম।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ১৭৮ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ١٧٨
حدثنا ابن المبارك عن عيسى بن عمر قال حدثني حوط بن يزيد قال
حدثني نمير بن سلمة قال حدثني سليمان بن صرد الخزاعي قال
قال لي حسن بن علي رضى
الله عنهما لقد رأيت عليا حين أخذت السيوف مأخذها من الرجال يتغوث بي يغوثا ويقول
يا حسن ليتني مت قبل هذا اليوم بعشرين سنة
হযরত সুলাইমান ইবনে সুরাদ থেকে বর্ণিত তিনি হযরত হাসান ইবনে আলী রা. থেকে বর্ননা করে বলেন, আমীরুল মুনিীনন এক বিষয়ে ইচ্ছা পোষণ করেছেন। তখন ঐ বিষয়টি পর্যায়ক্রমে আসতে লাগল। তখন তিনি আর কোন উপায় খুজে পেলেন না।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ১৭৯ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ١٧٩
حدثنا ابن المبارك عن جرير بن حازم قال حدثني محمد بن عبد الله بن أبي
يعقوب الضبي عن عمه عن سليمان بن صرد
عن حسن بن علي قال أراد أمير المؤمنين علي
أمرا فتتابعت الأمور فلم يجد منزعا
হযরত সুলাইমান ইবনে সুরাদ থেকে বর্ণিত তিনি হযরত হাসান ইবনে আলী রা. থেকে বর্ননা করেন, হযরত হাসান বলেন, আমি হযরত আলী রা. কে বলতে শুনেছি তিনি বলেন, তখন তিনি তরবারীর প্রতি দৃষ্টি দিলেন যখন মানুষকে পাকড়াও করে ফেলেছে। হে হাসান এগুলো সবই আমাদের মাঝে ঘটছে। হায় আফসোস! যদি আমি বিশ অথবা চল্লিশ বৎসর পূর্বে ইন্তেকাল করতাম।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ১৮০ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ١٨٠
حدثنا محمد بن يزيد عن العوام بن حوشب
عن رجل حدثه عن سليمان بن صرد عن حسن بن علي
سمع عليا رضى الله عنه يقول حين
نظر إلى السيوف قد أخذت القوم يا حسن أكل هذا فينا ليتني مت فبل هذا بعشرين أو
أربعين سنة
হযরত মাসরুক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন হযরত উসমান রা. এর ব্যাপারে মানুষ যুদ্ধে লিপ্ত হল। তখন আমি হযরত আয়েশা রা. এর নিকট এসে তাকে বললাম, আপনি আপনার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা থেকে বেচেঁ থাকুন। তখন তিনি বললেন, হে বৎস তুমি খারাপ কথা বলছ। আমার নিকট আসমান থেকে আল্লাহর আযাব ব্যতীত অন্য কোন জিনিস যমীনে পতিত হওয়া কোন মুসলমানের রক্তপাতের সাহায্য করার থেকে উত্তম। আর এটা এ কারণে যে, আমি এক স্বপ্ন দেখি, আমি কেমন যেন একটি ছোট টিলার উপর আছি এবং আমার পাশে ছাগল আর বড় বড় গরুর পাল রয়েছে। তখন লোকেরা সেগুলি কুরবানী করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ল এমনকি আমি গরুর আওয়াজ শুনতে পেলাম। হযরত আয়েশা বলেন, তখন আমি সেই ছোট টিলা থেকে অবতরন করতে লাগলাম। তখন আমার এই মর্মে খারাপ লাগল যে, রক্তের উপর দিয়ে অতিক্রম করব ফলে তা থেকে আমার কিছু লেগে যাবে এবং এটাও আমি অপছন্দ করলাম যে আমি আমার কাপড় উত্তোলন করলে শরীরের যে অংশ প্রকাশ পেলে আমি অপছন্দ করি তা খুলে যাবে। ইতিমধ্যে আমার নিকট দুইজন লোক অথবা দুটি বলদ এসে আমাকে নিয়ে ঐ রক্ত অতিক্রম করল। হুসাইন বলেন, আমাদেরকে আবু জামীলা বর্ণনা করেন, জামাল যুদ্ধের দিনে আমি যখন তাকে (আয়েশা) তার উট আক্রমন করতে দেখলাম তখন তার নিকট আম্মার ও মুহাম্মাদ ইবনে আবু বকর এসে তার জিন কেটে দিলেন। অতপর তাকে তার হাওযাযে উঠিয়ে আবু খলাফের ঘরে প্রবেশ করলেন। তখন আমি সেদিন এক বিপদগ্রস্থ ব্যক্তির উপর ঘরবাসীর ক্রন্দনের আওয়াজ শুনলাম। আয়েশা বললেন, এরা কারা? লোকেরা বলল এরা তাদের সাথীদের উপর ক্রন্দন করছে। তিনি বলেন আমাকে বের কর আমাকে বের কর।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ১৮১ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ١٨١
حدثنا هشيم عن حصين عن أبي وائل
عن مسروق قال لما نشب
الناس في أمر عثمان رضى الله عنه أتيت عائشة رضى الله عنها فقلت لها إياك أن
يستنزلوك عن رأيك
فقالت بئس ما قلت يا بني لأن أقع من السماء إلى الأرض إلى غير
عذاب الله أحب إلي من أن أعين على دم رجل مسلم وذلك أني رأيت رؤيا رأيتني كأني على
ظرب وحولي غنم أو بقر ربوض فوقع فيها رجال ينحرونها حتى ما أسمع لشيء منها خوار
قالت فذهبت أنزل من الظرب فكرهت أن أمر على الدماء فيصيبني منها شيء وكرهت أن أرفع
ثيابي فيبدوا مني ما لا أحب فبينا أنا كذلك إذ أتاني رجلان أو ثوران واحتملاني حتى
جازا بي تلك الدماء
قال حصين فحدثنا أبو جميلة قال رأيت يوم الجمل حيث عقر بها
بعيرها أتاها عمار ومحمد بن أبي بكر فقطعا الرحل ثم احتملاها في
هودجها حتى
أدخلاها دار أبي خلف فسمعت بكاء أهل الدار على رجل أصيب يومئذ
قالت ما هؤلاء
قالوا يبكون على صاحبهم
قالت أخرجوني أخرجوني
হযরত শা’বী আয়েশা রা. থেকে বর্ণনা করেন। হযরত আয়েশা রা. স্বপ্নে দেখলেন কেমন জানি আমি একটি ছোট টিলার উপর আছি এবং তার পাশে ছাগল ও বড় বড় গরুর পাল রয়েছে। তখন এক লোক তার ব্যাপারে ব্যস্ত হয়ে পড়ল। অতপর হযরত আয়েশা রা. হযরত আবু বকর রা. এর নিকট এ ঘটনা বর্ণনা করলেন। তখন হযরত আবু বকর রা. বলেন, যদি তোমার সপ্ন সত্য হয়ে থাকে তাহলে তোমাকে কেন্দ্র করে এক দল মানুষ হত্যা করা হবে।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ১৮২ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ١٨٢
حدثنا هشيم عن
مجالد عن الشعبي
عن عائشة رضى الله عنها أنها رأت كأنها على ظرب وحولها غنم
وبقر ربوض فوقع فيها رجل فقصت ذلك على أبي بكر رضى الله عنه
فقال لئن صدقت
رؤياك ليقتلن حولك فئة من الناس
আওয়াম ইবনে হাওশাব থেকে বর্ণিত তিনি বলেন আমার গোত্রের জামী নামক এক ব্যক্তি আমার নিকট বর্ণনা করেন, আমি আমার মায়ের সাথে আয়েশা রা.এর নিকট প্রবেশ করলাম। তখন তাঁকে আমার মা বললেন, জামাল যুদ্ধের দিন আপনার সফর কেমন ছিল? তিনি উত্তর দেন, এটা তকদীরের ফয়সালা ছিল।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ১৮৩ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ١٨٣
حدثنا هشيم عن العوام بن حوشب قال حدثني
رجل من قومي يقال له جميع قال
دخلت مع أمي على عائشة رضى الله عنها فقالت لها
أمي ما كان مسيرك يوم الجمل
قالت كان قدرا
হযরত আবু সাঈদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত, তাঁকে হযরত আলী রা., ত্বলহা রা. এবং যুবায়ের রা. সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হল। তখন তিনি উত্তর দিলেন তারা এমন এক জাতি যাদের জন্য এক অতীত ইতিহাস রচিত হয়েছে এবং তাদেরকে এক ফিৎনায় আগ্রাসন করেছে। সুতরাং তাদের বিষয় আল্লাহ তায়ালার নিকট অর্পণ কর।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ১৮৪ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ١٨٤
حدثنا غسان بن مضر عن سعيد
بن يزيد عن أبي نضرة
عن أبي سعيد الخدري أنه سئل عن علي وطلحة والزبير فقال أبو
سعيد أقوام سبقت لهم سوابق وأصابتهم فتنة فردوا أمرهم إلى الله
হযরত ইয়াযিদ ইবনে আবু হাবীব থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, আমার সাহাবীদের থেকে সংঘটিত হবে। অর্থাৎ তাদের মধ্যেই ফিৎনা সংঘটিত হবে। আল্লাহ তায়ালা তাদের অগ্রগামীদেকে ক্ষমা করে দিবেন। যদি কোন জাতি পরবর্তীতে তাদের অনুসরন করে, তাহলে আল্লাহ তায়ালা তাদেরক জাহান্নামে ধরাশয়ী করবেন।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ১৮৫ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ١٨٥
حدثنا ابن
المبارك عن ابن لهيعة
عن يزيد بن أبي حبيب قال قال رسول الله صلى الله عليه
وسلم يكون من أصحابي يعني الفتنة التي كانت بينهم يغفرها الله لهم لسابقتهم إن
اقتدى بهم قوم من بعدهم أكبهم الله في نار جهنم
কয়েস ইবনে সাআদ খারেফী থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি হযরত আলী রা. কে এই মিম্বারের উপর বলতে শুনেছি, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অগ্রগামী হয়েছেন আর হযরত আবু বকর রা. নামায পড়েছেন আর হযরত উমর রা. তৃতীয় পর্যায়ে এসেছেন। অতপর আমাদেরকে এমন এক ফিৎনায় পদদলিত করেছে যা আল্লাহর ইচ্ছায় ছিল।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ১৮৬ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ١٨٦
حدثنا ابن إدريس عن
ليث عن القاسم أبي هاشم عن سعيد بن قيس الخارفي قال
سمعت عليا رضى الله عنه
يقول على هذا المنبر سبق رسول الله صلى الله عليه وسلم وصلى أبو بكر وثلث عمر ثم
خبطتنا فتنة فما شاء الله
হযরত মুহাম্মাদ ইবনে হাতিব থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, হযরত আলী রা. কে বলা হল, নিশ্চয়ই তারা আমাদের নিকট হযরত উসমান রা. সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবে তখন আমরা কী উত্তর দিব? তখন তিনি বলেন, তোমরা বল, তিনি তো ঐ সমস্ত লোকদের অন্তর্ভুক্ত যাদের ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালা বলেন, “ যারা ঈমান রাখে ও সৎকর্মে রত থাকে এবং (আগামীতে যেসব জিনিস নিষেধ করা হয় তা থেকে) বেঁচে থাকে ও ঈমানে প্রতিষ্ঠিত থাকে আর তারপরও তাকওয়া ও ইহসান অবলম্বন করে। আল্লাহ ইহসান অবলম্বনকারীদেরকে ভালবাসেন।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ১৮৭ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ١٨٧
حدثناا محمد بن يزيد عن العوام بن حوشب عن محمد
بن حاطب قال
قيل لعلي رضى الله عنه إنهم سيسألونا عن عثمان فما نقول
قال
قولوا كان من الذين آمنوا وعملوا الصالحات ثم اتقوا وآمنوا ثم اتقوا وأحسنوا والله
يحب المحسنين
হযরত আয়েশা রা. রসূলুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন এবং আওয়াম ইব্রাহীম তাইমী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি রসূলুল্লাহ সা. থেকে বর্ণনা করেন। রসূলুল্লাহ সা. এরশাদ করেন, তিনি তার স্ত্রীদেরকে বলেন, তোমাদের মধ্যে থেকে কাউকে দেখে হাওআবের কুকুর (অধিক পানি বিশিষ্ট প্রশস্তময় জায়গার কুকুর) ঘেউ ঘেউ করবে। যখন আয়েশা অতিক্রম করল তখন কুকুর ঘেউ ঘেউ করল। তখন আয়েশা এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন, তখন তাকে বলা হল, এটা হাওআবের পানি। তখন আয়েশা রা. বলেন, আমার প্রবল ধারণা, আমি প্রত্যাবর্তন করব। তখন তাকে বলা হল হে উম্মুল মুমিনীন, নিশ্চয় আপনি মানুষের মাঝে সংশোধন করবেন।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ১৮৮ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ١٨٨
حدثنا يزيد بن هارون عن أبي خالد عن قيس بن أبي حازم
عن
عائشة رضى الله عنها عن النبي صلى الله عليه وسلم
والعوام عن إبراهيم التيمي عن
النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال لأزواجه أيتكن التي تنبحها كلاب الحوأب فلما مرت
عائشة نبحت الكلاب فسألت عنه
فقيل لها هذا ماء الحوأب
قالت ما أظنني
إلا راجعة
قيل لها يا أم المؤمنين إنما تصلحين بين الناس
হযরত মা’মর ইবনে তাউস থেকে বর্ণিত, তাউস তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন আর তার পিতা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম. থেকে বর্ণনা করেন, হুযুর সা. তার স্ত্রীদের কে বলেন, তোমাদের মধ্যে সে কে? যাকে দেখে অমুক জায়গার পানির কুকুর ঘেউ ঘেউ করবে। হে হুমায়রা (লাল রমনী) তুমি সতর্ক থাক অর্থাৎ আয়েশা রা.।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ১৮৯ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ١٨٩
حدثنا عبد
الرزاق عن معمر عن ابن طاوس
عن أبيه أن رسول أن رسول الله صلى الله عليه وسلم
قال لنسائه أيتكن التي تنبحها كلاب ماء كذا وكذا إياك يا حميراء يعني عائشة
হযরত আবু হুযাইল থেকে বর্ণিত, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ এবং হুযাইফা রা. বসে ছিলেন। এমতাবস্থায় এক রমনীকে উটের উপরে রেখে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, যিনি নতুন জিনিষ উদ্ভাবন করেছে। তখন তাদের একজন তার সাথীকে বলল, নিশ্চয় ইনিই তিনি, তখন অপরজন বলল, না নিশ্চয় তার চারপাশের্^ দীপ্তি রয়েছে। আর তারা তার দ্বারা আয়েশা রা. কে উদ্দেশ্য নিলেন।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ১৯০ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ١٩٠
حدثنا عبد الرزاق عن ابن عيينة عن عمار الدهني عن أبي الهذيل
أن ابن مسعود
وحذيفة كانا جالسين ومر بامرأة على جمل قد أحدثت حدثا
فقال أحدهما لصاحبه لهي
هي
فقال الآخر لا إن حول تلك بارقة يعنون عائشة رضى الله عنها
হযরত হাসান থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, কয়েস বিন উবা রা. হযরত আলি রা. কে বলেন আপনার এই সিদ্ধান্ত কি আপনাকে হুযুর সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম দিয়েছেন না আপনার নিজের সিদ্ধান্ত? তখন হযরত আলি রা. কয়েসকে বলেন এর দ্বারা আপনি কি বুঝাতে চেয়েছেন? তখন তিনি বলেন, আমাদের ধর্ম আমাদের ধর্ম (সম্পর্কে) সতর্ক থাকা চাই, তখন হযরত আলী রা. বলেন, এই সিদ্ধান্ত আমারই সিদ্ধান্ত যা আমি বুঝেছি।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ১৯১ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ١٩١
حدثنا
ابن عيينة عن يونس عن الحسن قال
قال قيس بن عباد لعلي أمرك هذا شيء عهدة إليك
رسول الله صلى الله عليه وسلم أم رأي رأيته
فقال علي ما يريد إلى هذا
فقال
ديننا ديننا
فقال ما هو إلا رأي رأيته
আবুত তুফাইল থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি হুযাইফা ইবনে ইয়ামান রা. কে বলতে শুনেছি তিনি বলেন, আমি যদি তোমাদেরকে বলি যে, তোমাদের মাতা তোমাদের সাথে যুদ্ধ করবে। তাহলে তোমরা আমাকে সত্যায়ন করবে? তখন লোকেরা বলল, এটাও কি ঘটবে? তিনি বলেন, এটা সত্য।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ১৯২ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ١٩٢
حدثنا عبد الرزاق عن معمر
عن وهب بن عبد الله عن أبي الطفيل
سمع حذيفة بن اليمان يقول لو حدثتكم أن أمكم
تغزوكم أتصدقوني
قالوا أو حق ذلك
قال حق
যুবায়ের ইবনুল আওয়াম রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন এই আয়াত অবতীর্ণ হয় “ তোমরা ঐ ফিৎনাকে ভয় কর যেই ফিৎনা বিশেষ ভাবে তাদের কে পাকড়াও করবেনা যারা অত্যাচার করে না। অথচ আমরা তখন প্রচুর লোক। তখন আমরা আশ্চার্য হতে লাগলাম, এই ভেবে যে, এই ফিৎনা টি কী? এবং আমরা বলতাম সেই ফিৎনা কি? যা আমাদের নিকট এসে পৌছবে, এক পর্যায়ে তা আমরা দেখলাম।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ১৯৩ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ١٩٣
حدثنا ابن مهدي عن جرير
بن حازم سمع الحسن يحدث
عن الزبير بن العوام رضى الله عنه قال نزلت هذه الآية
واتقوا فتنة لا تصيبن الذين ظلموا منكم خاصة ونحن يومئذ متوافرون فجعلنا نعجب ما
هذه الفتنة ونقول أي فتنة تصيبنا ما هذه حتى رأيناها
হযরত মুহাম্মাদ বিন সিরীন থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, হযরত আলী রা. বলেন যে আমি আশাবাদী যে, আমি এবং হযরত উসমান রা. ঐ লোকদের অন্তর্ভূক্ত যাদের ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালা ঘোষনা করেছেন। “আমি তাদের অন্তর থেকে হিংসা-বিদ্বেষ বের করে দিয়েছি ফলে তারা ভাই ভাই হয়ে উচু আসনে মুখামুখি হয়ে বসেন। (হিযর:৪৭)
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ১৯৪ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ١٩٤
حدثنا عبد الوهاب عن
أيوب عن محمد بن سيرين قال
قال علي رضى الله عنه إني لأرجو أن أكون أنا وعثمان
ممن قال الله تعالى ونزعنا ما في صدورهم من غل إخوانا على سرر متقابلين
হযরত মুররা ইবনে কা’আব রা. থেকে বর্ণিন তিনি বলেন, আমি রসুল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এক ফিৎনার কথা আলোচনা করতে শুনেছি, তো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফিৎনার বিষয় বিষদভাবে আলোচনার মাধ্যমে আমাদের নিকটবর্তী করে ফেললেন। এমন সময় হযরত উসমান রা. অতিক্রম করলেন। তখন হুযুর সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন এই ব্যক্তি সেদিন হকের উপর থাকবে। বর্ণনাকারী বলেন, তখন আমি হযরত উসমান রা. এর নিকট দাঁড়িয়ে গেলাম এবং তার দুই বাহু ধরে হুযুর সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট নিয়ে গেলাম। আর তার মাথা খুলে দিলাম, কেননা তিনি কাপড় দ্বারা মাথা ঢেকে রেখেছিলেন। তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল ইনি? রাসূল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন ইনিই। তখন দেখা গেল তিনি উসমান ইবনে আফ্ফান রা.। এবং খালেদ বলেন কাব ইবনে র্মুরা এবং আবুল আসআস সনআনির কথা উল্লেখ করেননি।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ১৯৫ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ١٩٥
حدثنا عبد الوهاب عن أيوب وخالد جميعا عن أبي قلابة عن أبي الأشعث الصنعاني
عن
مرة بن كعب رضى الله عنه قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم ذكر فتنة فقربها
فمر عثمان بن عفان فقال هذا يومئذ على الهدى فقمت إليه فأخذت بعضديه وأقبلت بوجهه
على رسول الله صلى ععليه وسلم وحسرت عن رأسه وكان متقنعا في ثوب
فقلت يا
رسول الله هذا
قال هذا فإذا هو عثمان بن عفان
وقال خالد كعب بن مرة ولم
يذكر أبا الأشعث الصنعاني
হযরত শাকীক রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি সাহল ইবনে হুনাইফ রা. কে সিফ্ফীন যুদ্ধের সময় বলতে শুনেছি। তিনি বলেন, হে মানুষ! তোমরা নিজেদের সিদ্ধান্তকে অপবাদ দিচ্ছ। আল্লাহর শপথ, আবু জান্দালের দিবস আমাার নিজের ব্যাপারে ধারণা করলাম যদি আমি সক্ষম হতাম যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বিষয়কে প্রতিহত করার তাহলে অবশ্যই করতাম। আল্লাহর শপথ, আমরা যখনই কোন বিষয়ের কারণে নিজেদের কাধের উপর তরবারী উত্তোলন করি, তখন আল্লাহ তায়ালা আমাদের জ্ঞাত বিষয়কে অধিক সহজতর করে দেন তোমাদের এই বিষয় ব্যতিত। বর্ণনাকারী আ’মাশ বলেন শকীকের অবস্থা এমন ছিল যখন তাকে প্রশ্ন করা হত আপনি কি সিফফীন যুদ্ধে উপস্থিত ছিলেন? তিনি উত্তর দেন হ্যাঁ/ আর তা নিকৃষ্টতম সিফ্ফীন।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ১৯৬ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ١٩٦
حدثنا أبو معاوية عن الأعمش عن شقيق قال
سمعت سهل بن حنيف يقول بصفين أيها الناس اتهموا رأيكم فوالله لقد رأيتني يوم
أبي جندل ولو أستطيع أن أرد أمر رسول الله صلى الله عليه وسلم لرددته والله ما
وضعنا سيوفنا على عواتقنا إلى أمر قط إلا أسهل بنا إلى أمر نعرفه إلا أمركم هذا
قال الأعمش وكان شقيق إذا قيل له أشهدت صفين
قال نعم وبئست الصفون
হযরত আসওয়াদ বিন কয়েস থেকে বর্ণিত তিনি এক ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি হযরত আলী রা. থেকে, হযরত আলী রা. জামাল যুদ্ধের দিন বলেন, নিশ্চয় রসূল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট নেতৃত্বের ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত দেননি তবে এই বিষয়টি আমরা নিজেরা বুঝে নিয়েছি। সুতরাং যদি তা সঠিক হয়ে থাকে তবে আল্লাহর পক্ষ থেকে। আর যদি কোন ভুল হয় তাহলে তা আমাদের উপরে বর্তাবে। অতপর হযরত আবু বকর রা. খলিফা নিযুক্ত হলেন এবং তিনি ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করলেন। অতপর হযরত উমর রা. খলিফা নিযুক্ত হলেন এবং তিনিও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করলেন। এমনকি দ্বীনকে সম্মুখে নিয়ে গেলেন। অতপর অনেক জাতি দুন্য়িা অন্বেষন করতে লাগল। আল্লাহ তায়ালা যাদেরকে চান তাদেরকে ক্ষমা করেন। আর যাদেরকে মনে চান শাস্তি দেন।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ১৯৭ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ١٩٧
حدثنا عبد الرزاق عن سفيان عن الأسود بن قيس عن رجل
عن علي رضى الله عنه أنه
قال يوم الجمل إن رسول الله صلى الله عليه وسلم لم يعهد إلينا عهد نأخذ به في
الإمارة ولكن شيء رأيناه من قبل أنفسنا فإن يك صوابا فمن الله وإن يك خطأ فمن قبل
أنفسنا ثم استخلف أبو بكر فأقاام واستقام ثم اسخلف عمر فأقام واستقام حتى ضرب الدين
بجرانه ثم إن أقواما طلبوا الدنيا يعفوا عمن يشاء ويعذب من يشاء
হযরত আবু ওয়েল থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি আম্মার রা. কে এই মিম্বারের উপর বলতে শুনেছি, নিশ্চয়ই আয়েশা ছিদ্দিকা রা. দুনিয়া ও আখিরাতে উভয় জায়গায় তোমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রী তবে তিনি হলেন পরীক্ষা যা তোমাদের থেকে নেওয়া হয়েছে।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ১৯৮ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ١٩٨
حدثنا
ابن أبي غنية عن أبيه عن الحكم عن أبي وائل قال
سمعت عمارا على هذا المنبر يقول
إن عائشة لزوجة نبيكم صلى الله عليه وسلم في الدنيا والأخرة ولكنه بلاء ابتليتم
হযরত আবু ওয়েল থেকে বর্ণিত তিনি বলেন সাহল ইবনে হুনাইফ সিফ্ফীন যুদ্ধের সময় বলেন, হে মানুষ, তোমরা নিজেদেরকে অপবাদ দিচ্ছ। আমরা হুদায়বিয়ার সময় রসূলুল্লাহ সা. এর সাথে ছিলাম। যদি আমরা সেদিন যুদ্ধ করা সমীচীন মনে করতাম তাহলে ঐ সন্ধি অবস্থায় অবশ্্যই আমরা যুদ্ধ করতাম যা রসূল সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং মুশরিকদের মাঝে ছিল।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ১৯৯ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ١٩٩
حدثنا ابن نمير عن عبد العزيز بن سياه قال حدثنا حبيب بن أبي ثابت عن
أبي وائل قال
قام سهل بن حنيف بصفين فقال يا أيها الناس اتهموا أنفسكم لقد كنا
مع رسول الله صلى الله عليه وسلم يوم الحديبية ولو نرى قتالا لقاتلنا في الصلح الذي
كان بين رسول الله صلى الله عليه وسلم وبين المشركين
হযরত হুযাইফা ইবনে ইয়ামান রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন হাউযের নিকট বিভিন্ন জাতি আমার কাছে উপস্থিত হবে। যাদেরকে আমিও চিনব এবং তারাও আমাকে চিনবে, তবে আমি ব্যতিত তারা সবাই কাঁপতে থাকবে, তখন আমি আরজ করলাম হে আমার প্রতিপালক এরা আমার সাহাবা, এরা আমার সাহাবা, তখন আল্লাহ তায়ালা বলবেন, নিশ্চয়ই আপনি জানেন না, আপনার অবর্তমানে তারা কি নতুন জিনিস উদ্ভাবন করেছে।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ২০০ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٢٠٠
حدثنا ابن فضيل عن
حصين بن عبد الرحمن عن شقيق بن سلمة
عن حذيفة بن اليمان رضى الله عنه قال قال
رسول الله صلى الله عليه وسلم ليردن علي الحوض أقوام حتى إذا عرفتهم وعرفوني
اختلجوا دوني فأقول يا رب أصحابي أصحابي فيقول إنك لا تدري ما أحدثوا بعدك

Execution time: 0.13 render + 0.01 s transfer.