Login | Register

নুয়াইম বিন হাম্মাদের: আল ফিতান

   

নবী করীম (সাঃ)-এর ইন্তেকাল হতে কিয়ামত পর্যন্ত সংঘটিতব্য ফিতনা ও তার সংখ্যা সম্পর্কে অভিহিত করণ

Double clicking on an arabic word shows its dictionary entry
হযরত সালমা ইবনে নুকাইল রাযিঃ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন আমি রাসূলুল্লাহ সাঃ কে বলতে শুনেছি, তোমরা আমার পর এমন কিছু সময় অবস্থান করবে, যার মধ্যে তোমরা একে অপরের শত্র“তে পরিণত হবে এবং অতিসত্ত্বর তোমরা কিছু সন্যের উপর হামলা করবে, যারা এক দল অন্য দলের উপর হামশে পড়বে। কিয়ামতের পূর্বে ব্যাপক হত্যা প্রকাশ পাবে এবং এর পর কিছু বৎসর এমনভাবে অতিবাহিত হবে যেন সেগুলো ভুমিকম্পের বৎসর।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ৪১ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٤١
حدثنا عبد
القدوس عن أرطاة بن المنذر عن ضمرة بن حبيب
عن سلمة بن نفيل رضى الله عنه قال
سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول إنكم تلبثون بعدي حتى تقولوا متى وستأتون
أفنادا يفني بعضكم بعضا وبين يدي الساعة موتان شديد وبعده سنوات الزلازل
হযরত মাকহুল (রঃ) থেকে বর্ণিত, আল্লাহতায়ালর বাণী ---------------------------------- অর্থাৎ “তোমরা এক সিঁড়ি থেকে আরেক সিঁড়িতে আরোহন করবে।” (সূরা ইনশিক্বাক্বঃ ১৯) (বর্ণনাকারী এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেনঃ) প্রত্যেক বিশ বছরের মধ্যে তোমরা যে অবস্থাতে ছিলে, সেটা ছাড়া অন্য অবস্থাতে থাকবে। (অর্থাৎ প্রতি বিশ বছর পর পর তোমাদের অবস্থা পরিবর্তন হতে থাকবে।)
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ৪২ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٤٢
حدثنا الوليد بن مسلم عن ابن جابر
عن مكحول في قوله تعالى لتركبن طبقا عن طبق
قال في كل عشرين سنة تكونون في حال غير الحال التي كنتم عليها
হযরত সা’য়াদ ইবনে আবী ওয়াক্কাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত,তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এই আয়াত তিলাওয়াত করলেন, তথা -------------------------------------------------------------------------- অর্থাৎ “হে নবী আপনি বলে দিন ঃ তিনিই (আল্লাহ) শক্তিমান যে, তোমাদের উপর কোন শাস্তি উপর দিক থেকে অথবা তোমাদের পদতল থেকে প্রেরণ করবেন।” (সূরাঃ আন’আমঃ ৬৫)। অতঃপর রাসূল (সাঃ) বলেছেন, জেনে রেখ! নিশ্চয় তা সংঘটিত হবে। (বর্ণনাকারী বলেন) এর পর তার আর কোন ব্যাখ্যা করেননি।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ৪৩ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٤٣
حدثنا
بقية بن الوليد وعبد القدوس عن أبي بكر بن أبي مريم عن راشد بن سعد
عن سعد بن
أبي وقاص رضى الله عنه قال تلا رسول الله صلى الله عليه وسلم هذه الآية قل هو
القادر على ان يبعث عليكم عذابا من فوقكم أو من تحت أرجلكم فقال رسول الله صلى الله
عليه وسلم أما إنها كائنة ولم يأتي تأويلها بعد
বিশিষ্ট সাহাবী হযরত মুআম ইবনে জাবাল রাযিঃ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নিঃ সন্দেহে তোমরা দুনিয়াতে ফিৎনা ফাসাদ এবং বালা-মসিবতই দেখতে পাবে। ধীরে ধীরে মোয়ামালা কঠিন থেকে কঠিনতর হতে থাকবে। যেসব বালা মসিবতগুলো তোমাদের কাছে ভয়াবহ এবং মারাত্মক মনে হবে কিন্তু তোমাদের পরবর্তীদের কাছে খুবই সহজলভ্য মনে হবে, যেহেতু তারা এর থেকে আরো কঠিন বিপদ আপদের সম্মুখিন হবে।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ৪৪ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٤٤
حدثنا بقية بن الوليد
والحكم بن نافع وعبد القدوس عن صفوان بن عمرو قال حدثني عمرو بن قيس عن عاصم بن
حبيب السكوني
عن معاذ بن جبل رضى الله عنه قال أما إنكم لن تروا من الدنيا إلا
بلاء وفتنة ولن يزداد الأمر إلا شدة ولن تروا أمرا يهولكم أو يشتد عليكم إلا حقره
بعده ما هو أشد منه
মির ইবনে হুবাইশ রহঃ থেকে বর্ণিত, তিনি হযরত আলী রাযিঃ কে বলতে শুনেছেন, তোমরা আমার কাছে জানতেচাও, আল্লাহর কসম! কিয়ামতের পূর্বে প্রকাশ পাওয়া শত শত দল যারা যুদ্ধে লিপ্ত হবে তাদের সম্বন্ধে আমার কাছে জানতে চাওয়া হলে,আমি তাদের সেনাপ্রধান, পরিচালনাকারী এবং আহবানকারী সকলের নাম বলে দিতে পারব। তোমাদের এবং কিয়ামতের মাঝখানে যা কিছু সংঘটিত হবে সবকিছু পরিস্কারভাবে বলতে পারব।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ৪৫ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٤٥
حدثنا أبو هارون الكوفي عن عمرو بن قيس الملائي عن
المنهال بن عمرو عن زر بن حبيش
سمع عليا رضى الله عنه يقول سلوني فوالله لا
تسألوني عن فئة خرجت تقاتل مائة أو تهدي مائة إلا أنباتكم بسائقها وقائدها وناعقها
ما بينكم وبين قيام الساعة
হযরত মুয়াবিয়া ইবনে আবু সুফিয়ান (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, জেনে রাখ! দুনিয়াতে বিপদ ও ফিতনা ছাড়া কোন কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ৪৬ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٤٦
حدثنا محمد بن شابور عن ابن جابر عن أبي عبد رب
الدمشقي قال
سمعت معاوية ابن أبي سفيان يقول قال رسول الله صلى الله عليه وسلم
ألا أنه لم يبقى من الدنيا إلا بلاء وفتنة
হযরত যুবায়ের ইবনে আদী আনাস ইবনে মালেক (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেন যে, আগামীতে তোমাদের উপর যে বছর আসবে তা অতীত অপেক্ষা আরো মন্দ হবে। একথাগুলো আমি তোমাদের নবী (সাঃ) হতে শুনেছি।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ৪৭ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٤٧
حدثنا ابن المبارك ووكيع عن
سفيان عن الزبير بن عدي
سمع أنس بن مالك رضى الله عنه يقول لا يأتي عليكم عام
إلا هو شر من أخر سمعته من نبيكم صلى الله عليه وسلم
হযরত আবুল জিল্দ জিলান থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নিশ্চয় মুসলমানরা বিপদে আপতিত হবে পর মানুষ তাদের চতুর্দিকে ঘোরাঘুরি করতে থাকবে। ফলে মুসলমান কষ্টের কারণে ইহুদী ও খৃষ্টান হয়ে প্রত্যাবর্তন করবে।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ৪৮ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٤٨
حدثنا مرحوم العطار
عن أبي عمران الجوني
عن أبي الجلد جيلان قال ليصيبن أهل الإسلام البلاء والناس
حولهم يرتعون حتى أن المسلم ليرجع يهوديا أو نصرانيا من الجهد
হযরত হুযায়ফা (রাঃ) ও হযরত আবু মুসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তারা উভয়ে রাসূল (সাঃ) কে বলতে শুনেছেন, যে, কিয়ামতের পূর্বে এমন দিন আসবে যে তাতে মুর্খতা অবতীর্ণ হতে থাকবে এবং ‘হারজ’ বেড়ে যাবে। লোকেরা প্রশ্ন করলো ইয়া রাসূলাল্লাহ ‘হারজ’ কী? তিনি বললেন হত্যা।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ৪৯ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٤٩
حدثنا وكيع
وأبو معاوية عن الأعمش عن أبي وائل
عن حذيفة وأبي موسى رضى الله عنهما سمعا
رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول إن بين يدي الساعة لأياما ينزل فيها الجهل ويكثر
فيها الهرج
قالوا وما الهرج يا رسول الله
قال القتل
إلا أن أبا معاوية
لم يذكر حذيفة
বিশিষ্ট তাবেঈ হযরত আ’নাশ রহঃ থেকে বর্ণিত, তার কাছে যিনি বর্ণনা করেছে তার কাছ থেকে তিনি নকল করেছেন, তিনি বলেন, তোমাদের কাছে যখনই এমন কোনো বালা মসিবত প্রকাশ পায়,যার কারণে তোমরা চিল্লাচিল্লি করবে, কিন্তু পিছনে এমন আরো বালা-মসিবত অপেক্ষা করছে যা এর থেকেও মারাত্মক। যে বালা মসিবত তোমাদেরকে পূর্বের মসিবতকে ভুলিয়ে দিবে।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ৫০ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٥٠
حدثنا ابن مهدي عن سفيان عن الأعمش
عمن حدثه قال لا
يأتيكم أمر تضجون منه إلا أردفكم آخر يشغلكم عنه
হযরত আবু ওয়ায়েল হযরত আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, যখন ফিতনা তোমাদেরকে জড়াবে তখন তোমাদের কি অবস্থা হবে? তাতে বড়রা অতিবৃদ্ধ হয়ে যাবে এবং ছোটরা বড় হতে থাকবে। মানুষ তাকে সুন্নত হিসাবে গ্রহণ করবে। যখন তা থেকে কোন কিছু ছেড়ে দিবে,তখন বলা হবে তুমি সুন্নতকে ছেড়ে দিয়েছ। কেউ প্রশ্ন করল হে আবু আব্দুর রহমান, তা কখন হবে? তিনি বললেন যখন তোমাদের মধ্যে অজ্ঞব্যক্তিরা ব্যাপকতা লাভ করবে,আর আলেমগণ কমে যাবে। কারী ও নেতা বৃদ্ধি পেতে থাকবে আমানতদার ব্যক্তি কমে যাবে। আখেরাতের আমলের মাধ্যমে দুনিয়া অন্বেষণ করবে।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ৫১ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٥١
حدثنا جرير بن عبد الحميد
عن يزيد بن أبي زياد عن
إبراهيم بن علقمة عن عبد الله وعيسى بن يونس عن
الأعمش عن أبي وائل
عن عبد الله قال كيف بكم إذا ألبستكم فتنة يهرم فيها الكبير
ويربوا فيها الصغير يتخذها الناس سنة إذا ترك منها شيء قيل تركت السنة
قيل يا
أبا عبد الرحمن ومتى ذلك
قال إذا كثرت جهالكم وقلت علماؤكم وكثرت قراؤكم
وأمراؤكم وقلت أمناؤكم والتمست الدنيا بعمل الآخرة
হযরত হুযায়ফা ইবনুল ইয়ামান (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,তোমাদের মাঝে এবং তোমাদের উপর অকল্যান নিপতিত হওয়ার মাঝে একমাত্র দুরত্ব হলো ওমর (রাঃ) এর মৃত্যু। (অর্থাৎ ওমর (রাঃ) এর মৃত্যুর পর থেকেই অকল্যাণ তথা ফিতনা আসতে থাকবে।)
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ৫২ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٥٢
حدثنا أبو معاوية عن
الأعمش عن أبي وائل
عن حذيفة بن اليمان رضى الله عنه قال ما بينكم وبين أن يرسل
عليكم الشر فراسخ إلا موت عمر رضى الله عنه
হযরত হুযায়ফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তোমাদের মাঝে এবং অকল্যাণের মাঝে একমাত্র দূরত্ব হলো একজন ব্যক্তি। তিনি যখন মৃত্যুবরণ করবেন তখন তোমাদের উপর অকল্যাণকে ঢেলে দেওয়া হবে।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ৫৩ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٥٣
حدثنا محمد بن جعفر عن شعبة عن
عمرو بن مرة سمع أبا وائل يحدث
عن حذيفة قال ما بينكم وبين الشر إلا رجل ولو قد
مات صب عليكم الشر فراسخ
হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আউফ রাযিঃ এর এক গোলাম বলেন, আমি একদিন হযরত আবু হুরায়রা রাযিঃ কে দেখলাম, যে অবস্থায় তিনি কতক বাচ্চাকে একথা বলতে শুনেছেন, “পরবর্তীতে অবস্থা খুবই ভয়াবহ হবে”। একথা শুনার সাথে সাথে হযরত আবু হুরায়রা রাযিঃ বলে উঠলেন,কসম যে সত্ত্বার যার হাতে আমার প্রাণ, কিয়ামতের দিন পর্যন্ত আরো অনেক কঠিন ভয়াবহ অবস্থার সম্মুখিন হতে হবে।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ৫৪ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٥٤
حدثنا عبد الرزاق عن أبيه عن ميناء مولى عبد
الرحمن بن عوف قال
رأيت أبا هريرة رضي الله عنه وسمع صبيانا يقولون الآخر شر
فقال أبو هريرة إي نفسي بيده إلى يوم القيامة
হযরত হুজায়ফা রাযিঃ হতে বর্ণিত, তিনি একদিন আমেরকে বললেন, হে আমের! তুমি যা অবলোকন করছ যেগুলো যেন তোমাকে ধোকায় ফেলে না দেয়, হতে পারে এগুলো খুব দ্রুত তাদেরকে তাদের দ্বীন থেকে বের করে আনবে। যেমন,এক মহিলা অন্য মহিলার সামনে তার লজ্জাস্থানকে প্রকাশ করে থাকে।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ৫৫ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٥٥
حدثنا ابن أبي غنية عن
أبيه عن جبلة بن سحيم عن عامر ابن مطر
عن حذيفة بن اليمان أنه قال يا عامر لا
يغرنك ما ترى فإن هؤلاء يوشكون أن يتفرجوا عن دينهم كما تنفرج المرأة عن المرأة
قبلها
হযরত আবু হুরায়রা রাযিঃ হতে বর্ণিত,তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ সাঃ এরশাদ করেছেন, সর্বপ্রথম পারস্যবাসীরা ধ্বংস হবে। তাদের ধ্বংসের পরপর আরবের অধিবাসীগণ ধ্বংস হতে থাকবে।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ৫৬ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٥٦
حدثنا ابن إدريس عن أبيه عن جده
عن أبى هريرة رضى الله عنه قال
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم أول الناس هلاكا فارس ثم العرب على أثرهم
হযরত উবাই ইবনে কা’ব (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম (সাঃ) এর যুগে আমরা একদিকে মনোযোগি ছিলাম, অতঃপর যখন রাসূল (সাঃ) ইন্তেকাল করলেন তখন আমরা এদিক সেদিক মনোযোগ দিতে লাগলাম।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ৫৭ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٥٧
حدثنا حسين بن حسن عن ابن عون عن الحسن
عن أبى بن كعب رضى الله عنه قال كان
وجهنا على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم واحدا فلما توفي رسول الله صلى الله
عليه وسلم توجهنا هاهنا وهاهنا
মুহাম্মদ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আবিযি’ব রহঃ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন আমি হযরত আব্দুল্লাহ ইবনুয যুবায়ের রাযিঃ কে বলতে শুনেছি, আমার রাষ্ট্র পরিচালনা সম্বন্ধে হযরত কা’ব যেসব মসিবতের কথা বলেছেন আমি আমার জিম্মাদারী পালন করতে গিয়ে সবকিছুর সম্মুখিন হয়েছি।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ৫৮ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٥٨
حدثنا عبد العزيز بن أبان وأبو أسامة عن
عبد الله بن الوليد المزنى عن محمد بن عبد الرحمن بن أبى ذئب قال
سمعت ابن
الزبير يقول ما حدثنى كعب بشيء أصيبه فى سلطاني إلا وقد رأيت
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে রাযিঃ হতে বিশিষ্ট তাবেঈ হযরত মুজাহিদ রহঃ বর্ণনা করেন। একদিন হযরত ইবনে ওমর রাযিঃ আবু কুবাইদের উপর কিছু সূউচ্চ বাড়ি দেখতে পেয়ে বললেন, হে মুজাহিদ! যখন তুমি মক্কার ঘর বাড়িকে তার আশ্বপাশ্বের বাড়ি ঘর থেকে উঁচু দেখতে পাবে এবং তার অলি-গলিতে পানি প্রবাহিত হতে দেখবে তখন তুমি অবশ্যই এগুলো থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করবে।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ৫৯ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٥٩
حدثنا جرير
بن عبد الحميد عن يزيد بن أبى زياد عن مجاهد
عن ابن عمر رضى الله عنهما أنه رأى
بنيانا على أبى قبيس فقال يا مجاهد إذا رأيت بيوت مكة قد ظهرت على أخاشبها وجرى
الماء فى طرقها فخذ حذرك
হযরত আবু ওয়ায়েল (রঃ) বলেন, আমি হুযায়ফা (রাঃ) কে বলতে শুনেছি একদা আমরা হযরত ওমর (রাঃ) এর বসা ছিলাম। তখন তিনি বললেন, তোমাদের মধ্যে কোন ব্যক্তির রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর ফিতনা সম্পর্কীয় বাণী স্মরণ আছে? হযরত হুযায়ফা (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, আমার স্মরণ আছে তিনি যে ভাবে বলেছেন, হযরত ওমর (রাঃ) বললেন, এ ব্যাপারে তুমি সৎসাহসী সুতরাং তা পেশ কর। আমি বললাম মানুষ ফিতনায় পড়বে তার পরিবার-পরিজনের ব্যাপারে, মালসম্পদের ব্যাপারে, তার নিজের সন্তানসন্ততি ও পাড়া প্রতিবেশীর ব্যাপারে। তবে নামাজ, সদকা এবং ভাল কাজের আদেশ ও মন্দ কাজের নিষেধ তা মিটিয়ে দেবে। হযরত ওমর (রাঃ) বললেন, আমি এ ফিতনা সম্পর্কে জানতে চাইনি, বরং যে ফিতনা সমুদ্রের তরঙ্গমালার মত উত্থিত হবে এবং তোলপাড় করে ফেলবে, সে ফিতনা সম্পর্কে জানতে চেয়েছি। হযরত হুযায়ফা (রাঃ) বলেন, তখন আমি বললাম,হে আমীরুল মু’মিনীন! আপনি ভয় করবেন না, (তা তো আপনাকে পাবেনা।) কেননা সেই ফিতনা ও আপনার মধ্যে একটি আবদ্ধ দরজা রয়েছে। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, আচ্ছা সেই দরজাটি কি ভেঙ্গে দেওয়া হবে, না খোলা হবে? হযরত হুযায়ফা (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, খোলা হবে না; বরং ভেঙ্গে দেওয়া হবে। তখন হযরত ওমর (রাঃ) বলেন, তাহলে তা আর কখনো বন্ধ করা হবেনা। আমি বললাম হ্যাঁ। রাবী বলেন, তখন আমরা হযরত হুযায়ফা (রাঃ কে জিজ্ঞাসা করলাম আচ্ছা হযরত ওমর (রাঃ) কি জানতেন দরজাটি কে? উত্তরে তিনি বললেন, হ্যাঁ, তিনি এমন নিশ্চিতভাবে জানতেন যেমন আগামীকালের পূর্বে রাত্রির আগমন সুনিশ্চিত। আমি তাঁকে (ওমর (রাঃ)কে) এমন একটি হাদীস বর্ণনা করেছে,যা কোন গোলক ধাঁধা নয়। রাবী শাক্বীক্ব বলেন, আমরাতো এ ব্যাপারে হযরত হুযায়ফা (রাঃ)কে জিজ্ঞাসা করতে ভয় পাচ্ছিলাম তাই হযরত মাসরূক্বকে বললে তিনি হযরত হুযায়ফাকে জিজ্ঞাসা করলেন, দরজাটি কে? উত্তরে তিনি বললেন, দরজাটি হলেন ‘ওমর’ নিজেই।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ৬০ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٦٠
حدثنا عيسى بن يونس وابن عيينة يزيد بعضهم
على بعض وأبو معاوية عن الأعمش عن أبى وائل قال
سمعت حذيفة بن اليمان رضى الله
عنه يقول كنا عند عمر رضى الله عنه فقال أيكم يحفظ قول رسول الله صلى الله عليه
وسلم فى الفتنة
فقلت أنا أحفظه كما قاله
قال إنك لجري فهات
فقلت فتنة
الرجل في أهله وماله وولده وجاره تكفرها الصلاة والصدقة والأمر بالمعروف والنهى عن
المنكر
فقال ليس عن هذا أسألك ولكن عن التي تموج كموج البحر
فقلت لا تخف يا
أمير المؤمنين فإن بينك وبينها بابا مغلقا
قال فيكسر الباب أو يفتح
قال قلت
بل يكسر
فقال عمر إذا لا يغلق أبدا
قلت أجل
قال قلنا فهل يعلم عمر من
الباب
قال نعم كما يعلم أن دون غد ليلة وذلك أني حدثته حديثا ليس بالأغاليط
قال شقيق فهبنا أن نسأله من الباب فأمرنا مسروقا فسأله فقال الباب عمر
হযরত কা’ব (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নিশ্চয় মানুষের উপর এমন যুগ আসবে যে, মুমিন ব্যক্তি তার ঈমানের ব্যাপারে অপমানবোধ করবে। যেমন আজকাল পাপিষ্ট তার পাপের ব্যাপারে অপমান বোধ করে। এমনকি যে কোন ব্যক্তিকে বলা হবে যে, তুমি মুমিন, ফকীহ। (ফিক্হশাস্ত্রবিদ)
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ৬১ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٦١
حدثنا بقية بن الوليد عن صفوان عن شريح بن عبيد
عن كعب قال ليأتين على
الناس زمان يعير المؤمن بإيمانه كما يعير اليوم الفاجر بفجوره حتى يقال للرجل إنك
مؤمن فقيه
হযরত আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন মিথ্যা প্রকাশ পাবে তখন হত্যা বেশী হতে থাকবে।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ৬২ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٦٢
حدثنا ابن عيينه عن جامع عن أبى وائل
عن عبد الله قال إذا
فشا الكذب كثر الهرج
হযরত আয্রা ইবনে কাইছ থেকে বর্ণিতঃ একদিন হযরত খাশেদ ইবনে ওলীদ রাযিঃ শামের মধ্যে খুতবা দেয়া অবস্থায় এক লোক দাড়িয়ে বলল, নিঃ সন্দেহে ফিৎনা প্রকাশ পেয়ে গেল। একথা শুনে হযরত খালেদ বিন ওলীদ রাযিঃ বললেন, হযরত ওযর রাযিঃ যত দিন জীবিত থাকবেন ততদিন নয়। সেটা তখনই হবে যখন মানুষ বিভিন্ন প্রকার বালা মসিবতে লিপ্ত হয়ে পড়বে। যে বালা-মসিবত থেকে বাঁচার জন্য মানুষে বিভিন্ন এলাকায় আশ্রয় নিতে চেষ্টা করবে কিন্তু যে রকম কোনো আশ্রয়স্থল তারা পাবে না। মূলতঃ তখনই ফিৎনাসমূহ প্রকাশ পেতে থাকবে।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ৬৩ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٦٣
حدثنا أبو معاوية عن الأعمش عن أبى وائل عن عزرة بن
قيس قال
قام رجل إلى خالد بن الوليد رضى الله عنه بالشام وهو يخطب فقال إن
الفتن قد ظهرت
فقال خالد أما وابن الخطاب حي فلا إنما ذاك إذا كان الناس بذي
بلاء وذي بلاء وجعل الرجل يتذكر الأرض ليس بها مثل الذى يفر إليها منه فلا يجده
فعند ذلك تظهر الفتن
হযরত আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নিশ্চয় রাত্রি সমূহ, দিন সমূহ, মাস সমূহ এবং যুগ সমূহ এর অকল্যাণ কিয়ামতের বেশী নিকটবর্তি।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ৬৪ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٦٤
حدثنا نوح بن أبي مريم عن ابن أبي ليلى عن حبيب بن
أبي ثابت عن يحيى بن وثاب عن علقمة والأسود
عن عبد الله قال إن شر الليالي
والأيام والشهور والأزمة أقربها إلى الساعة
হযরত হুজাইফা ইবনুল এমান রাযিঃ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন হযরত ওমর রাযিঃ এর কাছে আসলে তিনি আমাদেরকে নিয়ে কথাবার্তা বলতে গিয়ে বললেন, তোমাদেরকে নিয়ে কথাবার্তা বলতে গিয়ে বললেন, তোমাদের মাঝে এমন কে আছ, যে লোক ফিৎনা সম্বন্ধে রাসূলুল্লাহ সাঃ এর বাণীর হেফাজতকারী। তারা সকলে বললেন, এ সম্বন্ধে তো আমরা সকলেই শুনেছি, এক পর্যায়ে হযরত ওমর রাযিঃ বললেন, হয়তো বা তোমরা তোমাদের ব্যক্তিগত এবং পরিবার গত ফিৎনার কথা বলছো। তারা সকলে বললো, হ্যাঁ আমরা সকলে এরকম ধারনা করেছি। তাদের কথা শুনে হযরত ওমর রাযিঃ বললেন, আমার উদ্দেশ্য কিন্তু সেটা নয়, সেটা তো নামায-রোযা দ্বারা মাফ হয়ে যাবে। বরং এমন ফিৎনা সম্বন্ধে আমি জিজ্ঞাসা করতে চাচ্ছি, যা,সমুদ্রের যত বিশাল বিশাল আকারের ঢেউ তুলবে। হযরত ওমর রাযিঃ এর কথা শুনে উপস্থিত সকলে চুপ হয়ে যায়। আমি ভাবলাম তিনি আমারই মনোযোগ আকৃষ্ট করতে চাচ্ছেন। ফলে আমি বলে উঠলাম, হে আমীরুল মুমিনীন! আমি বলতে পারব। আমার কথা শুনে তিনি বললেন অবশ্যই, তোমার পিতা আল্লাহর জন্য কুরবান হোক।
আমি বললাম, হে আমীরুল মুমিনীন! উক্ত ফিৎনার বিপরীত একটা শক্তভাবে বন্ধ দরজা রয়েছে যে দরজা খোলা হবে না হয় ভাঙ্গা হবে। হযরত ওমর রাযিঃ বললেন তোমার ধ্বংস হোক যে দরজা ভাঙ্গ হবে?
আমি বললাম, হ্যাঁ! ভাঙ্গ হবে, আমার কথাশুনে তিনি বললেন, যদি যে দরজা ভাঙ্গা হয়, হয়তো সেটা আর বন্ধ করা সম্ভব হবেনা। অতঃপর আমি বললাম, হ্যাঁ যেটা ভেঙ্গে ফেলা হবে এবং যে দরজা হচ্ছেন, একজন মহান ব্যক্তি, হয়ত তাকে হত্যা করা হবে, না হয় তিনি স্বাভাবিকভাবে মৃত্যুবরণ করবেন। এটা এমন হাদীস যার মধ্যে সন্দেহের লেশমাত্র নেই।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ৬৫ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٦٥
حدثنا مروان بن معاوية عن
أبي مالك الأشجعي حدثنا ربعي بن حراش
عن حذيفة رضى الله عنه أنه لما قدم من عند
عمر رضى الله عنه جلس يحدثنا فقال إن أمير المؤمنين لما جلست إليه قال للقوم
أيكم يحفظ قول رسول الله صلى الله عليه وسلم في الفتن قالوا سمعنا
قال
لعلكم تعنون فتنة الرجل في نفسه وأهله
قالوا نعم قال لست عن ذاك أسأل تلك
يكفرها الصلاة والصدقة ولكن قوله في الفتن التي تموج موج البحر
قال فاسكت القوم
فعلمت أنه إياي يريد فقلت يا أمير المؤمنين أنا
قال لله أبوك
قلت يا أمير
المؤمنين إن دون ذلك بابا مغلقا يوشك أن يكسر أو يفتح
فقال عمر أكسرا لا أبالك
قلت كسرا قال فلعله إن كسر أن يعاد فيغلق
قال قلت كسرا وإن ذلك الباب رجل
يوشك أن يقتل أو يموت حديث ليس بالأغاليط
বিশিষ্ট সাহাবী হযরত নু’মান ইবনে বশির রাযিঃ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাঃ এরশাদ করেছেন, কিয়ামতের পূর্বে এমন কিছু ফিৎনা প্রকাশ পাবে, যেন যেগুলো অন্ধকার রাতের একটা টুকরা। সকাল বেলা যে লোক মুসলমান থাকবে বিকালে যে কাফের হয়ে যাবে। একদিন সন্ধ্যার সময় যে মুসলমান থাকবে, পরের সকালে সে কাফের হয়ে যাবে। মানুষ তাদের চরিত্রকে দুনিয়ার সামান্য ও নগন্য বস্তুর বিনিময়ে বিক্রি করে দিবে। উক্ত হাদীসের বর্ণনাকারীদের একজন হযরত হাসান বসরী রহঃ বলেন, আল্লাহর কসম, যিনি ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই, নিঃসন্দেহে আমি তাদেরকে এমন সূরতে দেখেছি, যেন তাদের মধ্যে কোনো বোধশক্তি নেই, তারা যেন জ্ঞান-বুদ্ধিবিহীন কিছু শরীর। তাদেরকে দেখলে মনে হয় আগুনের বিছানা এবং লোভি মাছি। সকার করে দুই দেরহাম দ্বারা, সন্ধ্যা করে দুই দেরহামের মাধ্যমে। তারা নিজেদের দ্বীনকে বিক্রি করে দিবে, সামান্য একটা ছাগলের টাকার বিনিময়ে।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ৬৬ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٦٦
حدثنا ابن مبارك عن المبارك بن
فضاله عن الحسن
عن النعمان بن بشير رضي الله عنه قال قال رسول الله صلى
الله عليه وسلم إن بين يدي الساعة فتنا كأنها قطع الليل المظلم يصبح الرجل فيها
مؤمنا ويمسي كافرا ويمسي مؤمنا ويصبح كافرا يبيع قوم فيها خلاقهم بعرض من الدنيا
يسير أو بعرض من الدنيا
قال الحسن فوالله الذي لا إله إلا هو لقد رأيتهم صورا
ولا عقول وأجساما ولا أحلام فراش نار وذبان طمع يغدون بدرهمين ويروحون بدرهمين يبيع
أحدهم دينه بثمن عنز
হযরত আবু ওয়ায়েল শাকীক বলেন, হুযায়ফা (রাঃ) বলেছেন, একদা হযরত ওমর (রাঃ) রাসূল (সাঃ) এর সাহাবীদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমাদের মধ্যে কোন ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর ফিতনা সম্পর্কীয় বাণী শুনেছ? হযরত হুযায়ফা (রাঃ) বলেন,আমি বললাম, আমি রাসূল (সাঃ) কে বলতে শুনেছি যে, মানুষ ফিতনায় পড়বে তার পরিবার-পরিজনের ব্যাপারে, মাল সম্পদের ব্যাপারে এবং তার পাড়া-প্রতিবেশীর ব্যাপারে। তবে রোজা, নামাজ ও সদকা তা মিটিয়ে দেবে। হযরত ওমর (রাঃ) বলেন, আমি এ ফিতনা সম্পর্কে জানতে চাইনি, বরং যে ফিতনা সমুদ্রে তরঙ্গমালার মতো উত্থিত হবে এবং তোলপাড় করে ফেলবে, আর তা একের পর এক আসতে থাকবে, সে ফিতনা সম্পর্কে রাসূল (সাঃ) এর বাণী জানতে চেয়েছি। হযরত হুযাইফা (রাঃ) বলেন, তখন আমি বললাম হে আমীরুল মুমিনীন! উক্ত ফিতনা সম্পর্কে আপনি ভয় করবেন না! (তা আপনাকে পাবেনা) কেননা সেই ফিতনা ও আপনার মধ্যে একটি আবদ্ধ দরজা রয়েছে। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, আচ্ছা সেই দরজাটি কেমন হবে? তা কি ভেঙ্গে দেওয়া হবে, না খোলা হবে? হুযায়ফা (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, খোলা হবে না; বরং ভেঙ্গে দেওয়া হবে। অতঃপর কিয়ামত পর্যন্ত তা আর কখনো বন্ধ করা হবে না।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ৬৭ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٦٧
حدثنا هشيم عن سيار عن أبي وائل شقيق بن سلمة
عن
حذيفة أن عمر رضى الله عنه قال لأصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم أيكم سمع قول
رسول الله صلى الله عليه وسلم فى الفتنة
فقال حذيفة فقلت أنا سمعته يقول فتنة
الرجل في أهله وماله وجاره يكفر ذلك الصوم والصلاة والصدقة
فقال عمر ليس هذا
أريد ولكن قوله في الفتنة التي تموج كموج البحر يتبع بعضها بعضا
قال قلت فلا
تخفها يا أمير المؤمنين فإن بينك وبينها بابا مغلقا
فقال كيف بالباب أيفتح أو
يكسر
قال بل يكسر ثم لا يغلق إلى يوم القيامة
বিশিষ্ট সাহাবী হযরত আবু মুসা আশআরী রাযিঃ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ সাঃ এরশাদ করেছেন, নিশ্চয়, কিয়ামতের পূর্বে হারজ বা গণহত্যা হবে। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ! হারজ কী? রাসূলুল্লাহ যাঃ বললেন, ব্যাপক হত্যা। আমরা সহসা জিজ্ঞাসা করলাম, হে আল্লাহর রাসূলুল্লাহ! বর্তমানে যেমন হত্য চলছে তার থেকেও বেশি হবে! জবাবে তিনি বললেন, মুসলমানদের অবস্থা তখনকার যুগে বর্তমানের চেয়ে আরো উন্নত হবে।
এক পর্যায়ে রাসূলুল্লাহ সাঃ বললেন, তোমাদেরকে কাফেররা হত্যা করবেনা, বরং তোমরা নিজেরাই একে অপরকে হত্যা করবে। এমন কি মানুষ তার আপন ভাই, চাচাত ভাই এবং প্রতিবেশিকে হত্যা করবে। রাসূলুল্লাহ সাঃ এর মুখ থেকে একথা শুনার সাথে সাথে উপস্থি সকলে এমনভাবে আশ্চর্য্যন্বিত হয়ে পড়ল, যার ফলে অনেক সময় স্পষ্ট বস্তুও আমাদের দৃষ্টিগোচর হতোনা।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ৬৮ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٦٨
حدثنا هشيم عن يونس عن
الحسن قال
أخبرنا أسيد بن المتشمش عن أبي موسى الأشعري رضى الله عنه
قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم إن بين يدي الساعة لهرجا
قلت وما
الهرج
قال القتل
قلنا أكثر ممن يقتل اليوم
قال والمسلمون في فروجهم
يومئذ
قال ليس بقتلكم الكفار ولكن يقتل بعضكم بعضا حتى يقتل الرجل أخاه وابن
عمه وجاره قال فأبلس القوم حتى ما يبدي رجل منا عن واضحة
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন ফিতনা তোমাদেরকে জড়াবে তখন তোমাদের কি অবস্থা হবে? তাতে বড়রা আরো বৃদ্ধ হবে এবং ছোটরা বড় হয়ে থাকবে। মানুষ তাকে দ্বীন হিসেবে গ্রহণ করবে। যখন তাতে কোন কিছু পরিবর্তিত হবে তখন লোকেরা বলবে এটা দ্বীন পরিপন্থি। কেউ জিজ্ঞাসা করলো তা কখন ঘটবে? তখন তিনি বললেন, যখন তোমাদের মধ্যে নেতারা আধিক্যতা লাভ করবে আর আমানতদার ব্যক্তি কমে যাবে। বক্তাবৃন্দ আধিক্যতা লাভ করবে আর দ্বীনের বিজ্ঞ আলেমগন (ফকীহ) কমে যাবে। তার দ্বীন ব্যতিত অন্য কিছু (বদদ্বীন) শিক্ষা করবে এবং তারা আখেরাতের আমলের বিনিময়ে দুনিয়া অন্বেষণ করবে।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ৬৯ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٦٩
حدثنا هشيم عن
أبي بلج عن عمرو بن ميمون
عن عبد الله بن مسعود رضى الله عنه قال كيف بكم إذا
لبستكم فتنة يهرم فيها الكبير ويربوا فيها الصغير ويتخذها الناس دينا فإذا غيرت
قالوا هذا منكر قيل ومتى ذاك إذا كثرت أمرؤكم وقلت أمناؤكم وكثرت خطباؤكم وقلت
فقهاؤكم وتفقه لغير الدين والتمست الدنيا بعمل الآخرة
আবু কুবাইল রাযিঃ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি মাসলামা ইবনে মাখলাদ আল আনসারীকে বলতে শুনেছি, তিনি সামুদ্রিক সৈন্য প্রেরণের ক্ষেত্রে কিছুটা বৃদ্ধি করেছিলেন, যার কারণে তার অন্য সৈন্যরা অসন্তুষ্ট হয়েছিল। তিনি তাদের এ অবস্থা দেখে মিম্বরে দাড়িয়ে বললেন, হে মিশরবাসী! তোমরা আমাকে ভর্ৎসনা করোনা। আল্লাহর কসম নিঃসন্দেহে আমি বৃদ্ধি করেছি তোমাদের সৈন্য সংখ্যায় এবং তোমাদের রসদপত্রের মধ্যে অনেক বৃদ্ধি করেছি আর আমি তোমাদের শত্র“দের বিরুদ্ধে তোমাদেরকে শক্তিশালী করেছি। একথা জেনে রেখ, নিশ্চয় আমি তোমাদের পরবর্তীদের থেকে অনেক-অনেক উত্তম। কেননা ধীরে ধীরে মানুষের মাঝে ফিৎনা বৃদ্ধি পাবে।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ৭০ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٧٠
حدثنا ضمام عن أبي
قبيل قال
سمعت مسلمة بن مخلد الأنصاري وكان زاد في بعث البحر فكره الجند ذلك
وهو على المنبر فقال يا أهل مصر ما تنقمون مني فوالله لقد زدت في عددكم وكثرت في
مددكم وقويتكم على عدوكم اعلموا أني خير ممن يأتي بعدي والآخر فالآخر شر
বিশিষ্ট সাহাবী হযরত হুজাইফা ইবনুল ইয়ামান রাযিঃ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন আমি রাসূলুল্লাহ সাঃ কে বলতে শুনেছি, কিয়ামত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত তোমরা তোমাদের ইমামকে হত্যা করবেনা এবং তোমরা অযথা তোমাদের তলোয়ার পরিচালনা করবেনা। এপৃথিবীর মালিক বনে যাবে নিকৃষ্টতম লোকজন।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ৭১ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٧١
حدثنا عبد العزيز بن محمد عن عمرو بن أبي عمرو عن عبد الله بن عبد الرحمن
الأنصاري
عن حذيفة بن اليمان رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه
وسلم لا تقوم الساعة حتى تقتلوا إمامكم وتجتلدوا بأسيافكم ويرث دنياكم شراركم
تسمية الفتن التي هي كائنة وعددها من وفاة رسول الله صلى الله عليه وسلم
إلى قيام الساعة
হযরত আওফ ইবনে মালেক আশজারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল (সাঃ) আমাকে বললেন, হে আওফা কিয়ামতের পূর্বের ছয়টি নির্দেশনকে তুমি গণনা করে রাখ। (১) আমার ওফাত। (হযরত আওফ বলেন) একথা আমাকে কাদিয়ে দিল। তখন রাসূল (সাঃ) আমাকে চুপ করিয়ে দিলেন। অতঃপর রাসূল (সাঃ) বললেন বলো এক, (২) বায়তুল মুকাদ্দস বিজয়,(রাসূল (সাঃ) বললেন বলো দুই। (৩) ব্যাপক মহামারী যা আমার উম্মতের মধ্যে বকরির মাড়কের ন্যায় দেখা দিবে। (রাসূল (সাঃ) বললেন) বলো তিন। (৪) আমার উম্মতের মধ্যে ফিতনা সংঘটিত হবে এবং বিরাট আকার ধারন করবে। (রাসূল সাঃ বললেন) বলো চার। (৫) তোমাদের মধ্যে ধন সম্পদের এত প্রাচুর্য হবে যে, কোন ব্যক্তিকে একশত দিনার (স্বর্ণমুদ্রা) প্রদান করলেও সে (এটাকে নগন্য মনে করে) অসন্তুষ্টি প্রকাশ করবে। (রাসূল সাঃ বললেন) বলো পাঁচ। (৬) বনুল আসফার (রোমবা) দের সাথে তোমাদের একটি সন্ধিচুক্তি হবে। অতঃপর তারা তোমাদের নিকট গিয়ে তোমাদেরকে হত্যা করবে এবং মুসলমানরা তখন এমন ভূমিতে থাকবে যাকে মদীনার নিম্নাঞ্চল বলা হয় এবং তাকে দামেস্ক (নগরী) ও বলা হয় (যা সিরিয়ার রাজধানী)।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ৭২ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٧٢
حدثنا بقية بن الوليد والحكم بن نافع وأبو المغيرة عن
صفوان بن عمرو عن عبد الرحمن بن جبير بن نفير الحضرمي عن أبيه
عن عوف بن مالك
الأشجعي رضى الله عنه قال قال لي رسول الله صلى الله عليه وسلم اعدد يا عوف ستا بين
يدي الساعة أولهن موتي فاستبكيت حتى جعل رسول الله صلى الله عليه وسلم يسكتني
ثم قال قل إحدى والثانية فتح بيت المقدس قل اثنتين والثالثة موتان يكون في أمتي
كقعاص الغنم قل ثلاثا والرابعة فتنة تكون في أمتي قال وعظمها قل أربعا والخامسة
يفيض المال فيكم حتى يعطى الرجل المائة الدينار فيتسخطها قل خمسا والسادسة هدنة
تكون بينكم وبين بني الأصفر ثم يسيرون إليكم فيقاتلونكم والمسلمون يومئذ في أرض
يقال لها الغوطة في مدينة يقال لها دمشق
হযরত আউফ ইবনে মালেক রাযিঃ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাঃ আমাকে সম্মোধন করে বলেছেন হে আউফ! তুমি কিয়ামতের ছয়টা আলামত চিহ্নিত করে রেখো, তার মধ্যে সর্বপ্রথম তোমাদের নবীর মৃত্যুবরণ করা। এটা হচ্ছে একটা, আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে, বায়তুল মোকাদ্দাসের জয়লাভ করা, তৃতীয় হচ্ছে, ছাগলের মাড়কের ন্যায় ব্যাপক মহামারী দেখা দিবে। চতূর্থ হচ্ছে, তোমাদের মাঝে এমন ব্যাপক ফিৎনা দেখা দিবে যার সাথে আরবের প্রতিটি ঘর জড়িয়ে যাবে। পঞ্চম হচ্ছে, তোমাদের আর বলিল ----- তথা রোমবাসীদের মাঝে চুক্তি হওয়া। অতঃপর তারা তোমাদের বিরুদ্ধে নয় মাসের গর্ভবতী মহিলাদের ন্যায় ভারি অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে জমায়েত হবে।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ৭৩ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٧٣
حدثنا محمد بن شابور عن النعمان
بن المنذر عن مكحول
عن عوف بن مالك قال قال لي رسول الله صلى الله عليه وسلم ست
بين يدي الساعة أولهن موت نبيكم صلى الله عليه وسلم قل إحدى والثانية فتح بيت
المقدس والثالثة موت يقع فيكم كقعاص الغنم والرابعة فتنة بينكم لا يبقى بيت من
العرب إلا دخلته والخامسة هدنة بينكم وبين بني الأصفر فيجتمعون لكم عدد حمل المرأة
تسعة أشهر
হযরত আওফ ইবনে মালেক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম সাঃ আমাকে কিয়ামতে পূর্বের ছয়টি নিদর্শনের কথা বলেছেন। (১) তোমাদের নবীর ওফাত। (২) বায়তুল মুকাদ্দাস বিজয়। (৩) বকরির মাড়কের ন্যায় ব্যাপক মহামারী। (৪) তোমাদের মাঝে এবং বনুল আসফার (রোমকদের) মাঝে সন্ধি-চুক্তি হবে। (৫) মদীনাতে কুফরীর সূচনা (৬) এবং মানুষ অসন্তুষ্টি প্রকাশ করে (নগন্য মনে করে) একশত দিনার (স্বর্ণমুদ্রা) ফিরিয়ে দিবে।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ৭৪ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٧٤
حدثنا ابن عيينة عن صفوان بن سليم عمن حدثه
عن عوف بن مالك قال قال
رسول الله صلى الله عليه وسلم ست قبل الساعة أولهن وفاة نبيكم وفتح بيت المقدس وموت
كقعاص الغنم وهدنة تكون بينكم وبين بني الأصفر وافتتاح مدينة الكفر ورد الرجل مائة
دينار سخطة
হযরত আওফ ইবনে মালেক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাঃ আমাকে কিয়ামতের পূর্বের ছয়টি নিদর্শনের কথা বলেছেন। ১. আমার ওফাত। ২. অতঃপর বায়তুল মুকাদ্দাস বিজয়। ৩. আশ্রয় স্থল হবে, যেখানে আমার উম্মত শাম থেকে অবতরণ করবে। ৪. তোমাদের মধ্যে এমন ফিতনা সংঘটিত হবে যে, আরবে এমন কোন ঘর অবশিষ্ট থাকবেনা যে ঘরে ফিতনা প্রবেশ করবেনা (অর্থাৎ প্রতিটি ঘরেই তা প্রবেশ করবে। ৫. অতঃপর তোমাদের সাথে রোমকদের সন্ধি-চুক্তি হবে।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ৭৫ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٧٥
حدثنا ابن وهب عن معاوية بن صالح عن ضمرة بن حبيب عن عوف بن
مالك
ومعاوية عن العلاء بن الحارث عن مكحول
عن عوف بن مالك قال قال لي رسول
الله صلى الله عليه وسلم ست بين يدي الساعة أولهن وفاتي ثم فتح بيت المقدس ثم منزل
تنزله أمتي من الشام ثم فتنة تقع فيكم لا يبقى بيت عربي إلا دخلته ثم تصالحكم الروم
হযরত হুয়ান ইবনে আমর রাযিঃ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, তুয়ানার যুদ্ধে আমরা রোম ভুখন্ডে প্রবেশ করে একটি উঁচু টিলাতে অবস্থান করি। এক পর্যায়ে আমি আমার সাথীদের বাহন থেকে একটি বাহনের মাথা উঁচু করে ধরি। আর আমার সাথীরা তাদের বাহনের জন্য দানা-পানির ব্যবস্থা করতে যায়। এমন অবস্থায় হঠাৎ শুনলাম কেউ যেন বলছে “আস্সালামু আলাইকা ওয়ারাহমাতুল্লাহ” সালামের আওয়াজ শুনে দেখলাম সাদা কাপড় পরিহিত এক লোক। আমি সালামের জবাব দিলে তিনি বললেন, তুমি কি আহমদের উম্মতের অর্ন্তভুক্ত আমি হ্যাঁ সূচক উত্তর দিলে তিনি বললেন, তোমাদের ধৈর্য্যধারন করতে হবে। কেননা এ উম্মত মুলতঃ উম্মতে মারহুমা হতে গণ্য। আল্লাহ তাআলা তাদের উপর পাঁচ ধরনের ফিৎনা রেখেছেন এবং পাঁচ ওয়াক্ত নামায ফরজ করেছেন।
অতঃপর আমি বললাম, সেগুলোর নাম উল্লেখ করুন। তিনি বললেন, পাঁচটির একটি হচ্ছে, তাদের নবীর মৃত্যুবরণ করা, যাকে কিতাবুল্লাহর ভাষায় বাগ্তাহ্ বা হঠাৎ বলা হয়েছে। অতঃপর হযরত ওসমান রাযিঃ এর শাহাদাত বরণ করা। যেটা কিতাবুল্লাহ ‘যক্ষ্মা’ --- বা বধির ফিৎনা হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। এরপর হচ্ছে, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর রাযিঃ এর ফিৎনা যা কিতাবুল্লাহর ভাষায় আল আমইমা বা অন্ধফিৎনা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। তারপর হলো, ইবনুল আসআছ এর ফিৎনা। যাকে কিতাবুল্লাহতে আল বুতাইরা বা বেজোড় ফিৎনা হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। অতঃপর এ বলে চলে যেতে লাগল, “ছালাম বাকি রইল, ছালাম বাকি রইল”। সে কীভাবে চলে গেল আমি কিন্তু জানতে পারলামনা।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ৭৬ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٧٦
حدثنا محمد بن سلمة الحراني حدثنا محمد بن إسحاق عن حزن بن عبد عمرو قال
دخلنا أرض الروم فى غزوة الطوانة فنزلنا مرجا فأخذت أنا برؤس دواب أصحابي فطولت لها
فانطلق أصحابي يتعلفون فبينا أنا كذلك إذ سمعت السلام عليك ورحمة الله فالتفت فإذا
أنا برجل عليه ثياب بياض
فقلت السلام عليك ورحمة الله فقال أمن أمة أحمد
قلت نعم
قال فاصبروا فإن هذه الأمة أمة مرحومة كتب الله عليها خمس فتن
وخمس صلوات
قال قلت سمهن لي
قال أمسك إحداهن موت نبيهم واسمها في كتاب الله
تعالى بغتة ثم قتل عثمان واسمها في كتاب الله الصماء ثم فتنة ابن الزبير واسمها في
كتاب الله العمياء ثم فتنة ابن الأشعث واسمها في كتاب الله البتيراء ثم تولى وهو
يقول وبقيت الصيلم وبقيت الصيلم فلم أدر كيف ذهب
হযরত আলী ইবনে আবু তালেব রায়িঃ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহ তাআলা এ উম্মতের জন্য পাঁচটি ফিৎনা নির্ধরন করেছেন। প্রথমে ব্যাপক ফিৎনা হবে এরপর হবে খাস ফিৎনা। অতঃপর আবারো ব্যাপক ফিৎনা দেখা দিবে। তারপর আসবে খাছ ফিৎনা। তারপর এমন কালো অন্ধাকারাচ্ছন্ন ফিৎনা প্রকাশ যদ্বারা মানুষ চতুষ্পদ জন্তুর ন্যায় হয়ে যাবে। অতঃপর কিছু চুক্তি হবে এবং লোকজনকে পথভ্রষ্টার দিকে আহ্বানকারী প্রকাশ পাবে। যদি তখন আল্লাহ তাআলার দ্বীনের উপর অটল থাকার মত কোনো খলীফা বাকি থাকে তাহলে তোমরা তার আনুগত্য কর।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ৭৭ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٧٧
حدثنا أبو أسامة حدثنا
الأعمش حدثنا منذر الثوري عن عاصم بن ضمرة
عن علي بن أبي طالب رضى الله عنه قال
جعل الله في هذه الأمة خمس فتن فتنة عامة ثم فتنة خاصة ثم فتنة عامة ثم فتنة خاصة
ثم الفتنة السوداء المظلمة التي يصير الناس كالبهائم ثم هدنة ثم دعاة إلى الضلالة
فإن بقي لله يومئذ خليفة فالزمه
হযরত আলী রাযিঃ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এ উম্মতের জন্য পাঁচ প্রকার ফিৎনা নির্ধারন করা হয়েছে, যার মধ্যে একটি হচ্ছে, সর্বদা অন্ধ,বধির হিসেবে থাকার ফিৎনা।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ৭৮ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٧٨
حدثنا أبو ثور وعبد الرزاق عن معمر عن
طارق عن منذر الثوري عن عاصم بن ضمرة
عن علي رضى الله عنه قال جعلت في هذه
الأمة خمس فتن فذكر نحوه إلا أنه قال العمياء الصماء المطبقة
হযরত হুযায়ফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ফিতনা সংঘটিত হবে, অতঃপর জামাত ও তাওবা হবে। অতঃপর জামাত ও তাওবা হবে। (এর পর চতুর্থবার উল্লেখ করলেন) অতঃপর তাওবাও হবেনা এবং জামাতও হবেনা।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ৭৯ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٧٩
حدثنا يحيى
بن اليمان حدثنا سفيان الثوري عن أشعث بن أبي الشعثاء عن أشياخ لبني عبس
عن
حذيفة قال تكون فتنة ثم تكون جماعة وتوبة ثم جماعة وتوبة حتى ذكر الرابعة ثم لا
تكون توبة ولا جماعة
হযরত যেলা – রহঃ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি হযরত হুজায়ফা ইবনুল ইয়ামান রাযিঃ কে বলতে শুনেছি, ইসলামের মধ্যে চার প্রকারের ফিৎনা প্রকাশ পাবে। যাদের থেকে চতুর্থ প্রকারের ফিৎনা গিয়ে বহুরূপি দাজ্জালের নিকট আত্মসমর্পণ করবে। তখন সবদিকে অন্ধকারে ছেঁয়ে যাবে।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ৮০ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٨٠
حدثنا ابن عيينة وأبو أسامة عن مجالد عن عامر عن
صلة قال
سمعت حذيفة بن اليمان يقول في الإسلام أربع فتن تسلمهم الرابعة إلى
الدجال الرقطاء والمظلمة وهنه وهنه

Execution time: 0.13 render + 0.01 s transfer.