Login | Register

নুয়াইম বিন হাম্মাদের: আল ফিতান

ফেৎনাকালীন আত্মরক্ষা করা মোস্তাহাব

   

ফেৎনাকালীন আত্মরক্ষা করা মোস্তাহাব

Double clicking on an arabic word shows its dictionary entry
প্রখ্যাত সাহাবী হযরত আব্দুল্লাহ ইব্নে মাসউদ রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সা. কে বলতে শুনেছি, ফেৎনকালীন ঘুমন্ত ব্যক্তি স্বাভাবিক শুয়ে থাকা ব্যক্তি থেকে উত্তম। শুয়ে থাকা ব্যক্তি বসা অবস্থায় থাকা লোক থেকে উত্তম। বসে থাকা লোক দাড়ানো অবস্থায় থাকা লোক থেকে ভালো, দাড়িয়ে থাকা লোক চলমান লোক থেকে উত্তম, স্বাভাবিক চলাচলকারী ব্যক্তি বাহনে আরোহনকারীর চাইতে উত্তম। বাহনে আরোহনকারী দ্রুত গতিতে ফেৎনার দিকে ধাবমান ব্যক্তি হতে উত্তম। ফেৎনা চলাকালীন খুন হওয়া সকলে জাহান্নামের আগুনে জ্বলতে থাকবে। বর্ণনাকারী বলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ! (সা.) সে অবস্থা কবে হবে? জবাবে আল্লাহ্র রাসূল বলেন, যেটা মারাত্মক যুদ্ধ চলাকালীন হবে। আমি জানতে চাইলাম কখন সেটা হবে?” জবাবে রাসূলুল্লাহ সা. বললেন, সেটা তখনই হবে, যখন কোনো মানুষ তার পাশে বসে থাকা লোক দ্বারা আক্রান্ত হওয়া থেকে শঙ্কা মুক্ত হতে পারবেনা। বর্ণনাকারী বলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমি যদি সে যুগ প্রাপ্ত হই তাহলে আমার প্রতি আপনার কি নির্দেশনা রয়েছে। জবাবে রাসূলুল্লাহ সা. বললেন, তখন তুমি নিজেকে এবং তোমার হাতকে নিয়ন্ত্রণ করো এবং নিজের ঘরে দাখেল হয়ে যাও। অতঃপর আমি বললাম, ইয়া রাসুলুল্লাহ! (সা.) সেই ফেৎনা যদি আমার ঘরের অন্দরেও প্রবেশ করে যায় তাহলে আমার করনীয় কি হবে? জবাবে রাসূলুল্লাহ সা. বললেন, তাহলে তুমি তোমার ঘরের ভিতরে ঢুকে যাবে। তার কথা শুনে আমি বললাম, যদি সে ফেৎনা আমার ঘরের ভিতরেও প্রবেশ করে তাহলে আমার কি করা উচিৎ? এর পর রাসূলুল্লাহ সা. বলেন, যদি এমন হয় তাহলে তুমি তোমার মসজিদে প্রবেশ করতঃ তোমার হাত গুটিয়ে রাখ, এবং মৃত্যু মুখে পতিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত ‘রব্বি আল্লাহ’ জপতে থাক।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ৩৪২ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٣٤٢
حدثنا ابن المبارك عن معمر عن إسحاق بن راشد عن عمرو بن
وابصة الأسدي عن أبيه
عن عبد الله بن مسعود رضى الله عنه قال سمعت رسول الله
صلى الله عليه وسلم يقول تكون فتنة النائم فيها خير من المضطجع والمضطجع فيها خير
من القاعد والقاعد فيها خير من القائم والقائم خير من الماشي والماشي فيها خير من
الراكب والراكب خير من المجري قتلاها كلها في النار
قال قلت يا رسول الله ومتى
ذلك
قال أيام الهرج
قال قلت ومتى أيام الهرج
قال حين لا يأمن الرجل
جليسه
قال قلت فبم تأمرني إن أدركت ذلك قال
اكفف نفسك ويدك وادخل دارك
قال قلت يا رسول الله أرأيت إن دخل علي داري
قال فادخل بيتك
قال
قلت إن دخل علي بيتي
قال فادخل مسجدك ثم اصنع هكذا ثم قبض بيمينه على الكوع
وقل
ربي الله حتى تقتل على ذلك
বিশিষ্ট সাহাবী হযরত হোজায়ফা ইবনুল ইয়ামান রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি এরশাদ করেন, তোমরা নিজেদেরকে ফেৎনা থেকে বাচিয়ে রাখ। আল্লাহ্্র কসম! যদি কেউ ফেৎনার সম্মুখিন হয় তাহলে সেটা তাকে ¯্রােতের ন্যায় ভাসিয়ে নিয়ে যাবে। উক্ত ফেৎনা খুবই সুন্দরভাবে এগিয়ে আসলেও সবকিছু নিঃশেষ করে ফিরে যাবে। তোমরা কেউ এ ধরনের ফেৎনার সম্মুখিন হলে তোমাদের ঘরের ভিতরেই অবস্থান করতে থাকবে, তোমাদের তালোয়ারের তীক্ষ্মতাকে নষ্ট করে ফেলবে এবং ধনুকের ছিলা কেটে টুকরো টুকরো করবে।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ৩৪৩ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٣٤٣
حدثنا عبد الرزاق عن معمر عن أبي إسحاق عن
عمارة ابن عبد سمع
حذيفة بن اليمان رضى الله عنه يقول إياكم والفتن لا يشخص لها
أحد فوالله ما شخص لها أحد إلا نسفته كما ينسف السيل إنها تشتبه مقبلة حتى يقول
الجاهل هذا يشبه وتبين مدبرة فإذا رأيتموها فاجثموا في بيوتكم وكسروا سيوفكم وقطعوا
أوتاركم
প্রখ্যাত সাহাবী হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. এরশাদ করেন, অতি নিকটবর্তী হওয়া ফেৎনার অনিষ্টতাকালীন আরবদের ধ্বংস অনিবার্য। নিজের হাতকে কন্ট্রোলকারী লোকই মূলতঃ সফলকাম।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ৩৪৪ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٣٤٤
حدثنا حفص بن غياث عن الأعمش عن أبي صالح
عن أبي هريرة رضى
الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ويل للعرب من شر قد اقترب قد أفلح
من كف يده
হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নিঃসন্দেহে আমি এমন এক ফেৎনা সম্বন্ধে জানি, যার পূর্বের নিদর্শনগুলো অতিসত্ত্বর প্রকাশ পেতে আরম্ভ করেছে। যার সাথে থাকবে উত্যক্তকারী দল, যেমন খোরগোশকে উত্যক্ত করে গর্ত থেকে বের করে আনা হয়, তেমনিভাবে লোকজনকে ফেৎনার প্রতি ধাবিত করা হবে। আবার আমি উক্ত ফেৎনা থেকে মুক্তির উপায়ও জানি। উপস্থিত লোকজন জিজ্ঞাসা করেন, মুক্তির উপায় কি হতে পারে? জবাবে হযরত আবু হুরায়রা রাযি. বলেন, আমার হাতকে কন্ট্রোল করে রাখব, এক পর্যায়ে আমাকে এসে হত্যাকারীরা হত্যা করবে।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ৩৪৫ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٣٤٥
حدثنا عبد الرزاق عن معمر عن يحيى بن أبي كثير
عن أبي
هريرة قال إني لأعلم فتنة يوشك أن تكون التي قبلها معها كنفجة أرنب وإني لأعلم
المخرج منها
قالوا وما المخرج منها
قال أن أمسك يدي حتى يجيء من يقتلني
হযরত হোজায়ফা ইবনুল ইয়ামান রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মুসলমানদের দুই দল থেকে কারো পরিচয় পেশ করার ক্ষেত্রে আমার কোনো ভয় সংকোচ নেই। তাদের উভয়দল থেকে যারা খুন হবে তাদের প্রত্যেকে জাহেলী যুগের ন্যায় মৃত্যুবরণ করবে।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ৩৪৬ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٣٤٦
حدثنا عيسى بن يونس عن ابن أبي خالد عن زيد بن وهب
عن حذيفة بن
اليمان قال فئتان من المسلمين ما أبالي في أيتهما عرفتك قتلاهما قتلى جاهلية
হযরত আব্দুল্লাহ ইব্নে ওমর রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. এরশাদ করেন, নিঃসন্দেহে ফেৎনা খুবই সজ্জিত অবস্থায় এগিয়ে আসলে ফিরে যাবে কিন্তু ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে , বাহ্যিকভাবে ফেৎনা তীব্র আকার ধারন করলে সেটাকে বিস্তৃত করোনা, আর সেই ফেৎনা প্রশস্থ হতে চেষ্টা করলে প্রশস্থ হতে দিয়ো না। উক্ত ফেৎনা আল্লাহর জমিনে উর্বরতা বৃদ্ধি পেলেও তার লাগাম মাড়ানো হবে। আল্লাহ্ তাআলার অনুমতি ছাড়া কারো পক্ষে সেটাকে জাগ্রত করা হালাল হবেনা। যে লোক উক্ত ফেৎনার লাগাম ধারন করবে তার ধ্বংস অনিবার্য।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ৩৪৭ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٣٤٧
حدثنا بقية بن الوليد والحكم بن نافع عن سعيد بن سنان قال حدثني أبو
الزاهرية عن جبير بن نفير
عن ابن عمر رضى الله عنهما قال قال رسول الله صلى
الله عليه وسلم إن الفتنة إذا أقبلت شبهت وإذا أدبرت أسفرت وإن الفتنة تلقح بالنجوى
وتنتج بالشكوى فلا تثيروا الفتنة إذا حميت ولا تعرضوا لها إذا عرضت إن الفتنة راتعة
في بلاد الله تطأ في خطامها لا يحل لأحد من البرية أن يوقظها حتى يأذن الله تعالى
لها الويل لمن أخذ بخطامها ثم الويل له
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নিঃসন্দেহে ফেৎনা খুবই সাজ সজ্জা ও আনন্দিত অবস্থায় আত্মপ্রকাশ করবে, তবে সেটা ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে ফেরৎ যাবে।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ৩৪৮ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٣٤٨
حدثنا وكيع عن سفيان عن الأعمش عن
زيد بن وهب
عن عبد الله قال إن الفتنة إذا أقبلت شبهت وإذا أدبرت أسفرت
হযরত হোজায়ফা ইবনুল ইয়ামান রাযি. থেকেও পূর্বের হাদীসের ন্যায় বর্ণিত, তবে সেখানে একথাও রয়েছে যে, হযরত হোজায়ফা রাযি. কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে যে, উল্লিখিত ফেৎনা কখন প্রকাশ করবে। জবাবে তিনি বললেন, উক্ত ফেৎনা উম্মোক্ত তরবারির আকারে পেশ আসলেও ফিরে যাবে কিন্তু খাঁচাবদ্ধ তলোয়ারের ন্যায়।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ৩৪৯ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٣٤٩
قال سفيان واخبرنا الحارث بن حصيرة عن زيد بن وهب
عن حذيفة بن اليمان مثل ذلك
وزاد فيه قال قيل لحذيفة ما إقبالها قال سل السيف قيل فما إدبارها قال غمد السف
প্রখ্যাত সাহাবী হযরত হুজায়ফা ইবনুল ইয়ামন রাযি. থেকে বর্ণিত, তাকে একজন লোক জিজ্ঞাসা করেন যে, যখন নামায আদায়কারীগণ পরস্পরের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হবে তখন আমাদের জন্য আপনার দিক নির্দেশনা কি হতে পারে। জবাবে তিনি বললেন, তখন তুমি তোমার ঘরের ভিতরে প্রবেশ করে ঘরের দরজা তালাবদ্ধ করে রাখবে। কেউ এগিয়ে আসলে তাকে হাত দ্বারা নিষেধ করে দিবে। আর যদি কেউ আক্রমণ করতে চায় তাহলে তাকে বলবে, তুমি আমার গুনাহ এবং তোমার গুনাহ সহকারে ফিরে যাবে।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ৩৫০ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٣٥٠
حدثنا ابن عيينة عن منصور عن ربعي
عن حذيفة أن رجلا قال له كيف
تأمرني إذا اقتتل المصلون قال تدخل بيتك ثم تغلق عليك بابك فمن جاءك فقل هكذا فقال
سفيان بيدة فاكتتف وقل بؤبإثمى وإثمك
হযরত আব্দুল্লাহ ইব্নে ওমর রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. এরশাদ করেন, তোমরা যাবতীয় ফেৎনা থেকে মুক্ত থাকার চেষ্টা করবে, কেননা ফেৎনাকালীন বিষয়গুলো নিয়ে আলাপ-আলোচনা করা তলোয়ার নিয়ে যুদ্ধে জড়িয়ে যাওয়ার মত।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ৩৫১ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٣٥١
حدثنا محمد بن عبد الرحمن بن الحارث
عن محمد بن عبد الرحمن بن البيلماني عن أبيه
عن ابن عمر رضى الله عنهما قال قال
رسول الله صلى الله عليه وسلم إياكم والفتن فإن للسان فيها مثل وقع السيف
হযরত হুজায়ফা ইবনুল ইয়ামান রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. এরশাদ করেন, ফেৎনা মূলতঃ তিন প্রকারের লোককে গ্রাস করে নিবে। এক প্রকার হচ্ছে দ্রুতগামি বুদ্ধিমান, যিনি উচ্চতায় পৌছার নিয়ত করলেই তাকে তলোয়ার দ্বারা নিম্নমুখী করে নিবে। দ্বিতীয়তঃ খতীব সাহেবের মাধ্যমে, যার প্রতি যাবতীয় বিষয়ের দাবি করা হবে। তৃতীয়তঃ শরীফ লোক। অতঃপর প্রতিভাবান বুদ্ধিমান লোককে মারাত্মকভাবে আছড়ে ফেলা হবে এবং খতীব ও শরীফলোক তাদের উভয়জনকে উৎসাহিত করা হবে। এক পর্যায়ে তাদের আশ্বপাশ্ব প্লাবিত হয়ে যাবে।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ৩৫২ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٣٥٢
حدثنا أبو معاوية عن الأعمش عن زيد بن وهب
عن حذيفة قال وكلت الفتنة بثلاث
بالجاد النحرير الذي لا يريد أن يرتفع له منها شيء إلا قمعه بالسيف وبالخطيب الذي
يدعوا إليه الأمور وبالشريف المذكور فأما الجاد النحرير فتصرعه وأما هذان الخطيب
والشريف فتحثهما حتى تبلوا ما عندهما
বিশিষ্ট সাহাবী হযরত হোজাইফা ইবনুল ইয়ামান রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি এরশাদ করেন, দুনিয়ার যাবতীয় বিষয়ে যুদ্ধকারী দুইদল থেকে তোমরা বেঁচে থাক, কেননা, তারা উভয় দল ধীরে ধীরে জাহান্নামের দিকে ধাবিত হতে থাকবে।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ৩৫৩ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٣٥٣
حدثنا محمد بن عبد الله التيهرتي
حدثنا ابن أنعم عن مكحول عن أبي ثعلبة أو أبي إدريس الخولاني
عن حذيفة بن
اليمان رضى الله عنه قال اتقوا فرقتين تقتتلان على الدنيا فإنهما تجران إلى النار
جرا
হযরত হুজায়ফা ইবনুল ইয়ামান রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সা. কে জিজ্ঞাসা করলাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমি যদি উক্ত ফেৎনার সম্মুখিন হই, তাহলে আপনার পক্ষ আমার জন্য কি নির্দেশনা রয়েছে? জবাবে রাসূলুল্লাহ সা. বললেন, তখন তুমি মুসলমানদের জামাআত এবং তাদের ইমামকে আকড়িয়ে ধরো, একথা শুনে আমি জানতে চাইলাম, যদি তাদের ইমাম এবং জামাআত না থাকে তাহলে কি করবো, জবাবে রাসূলুল্লাহ সা. বললেন, ঐসব দলকে পুরোপুরি বর্জন করো, যদিও সেটা গাছের শিকড় কামড়ে ধরার মাধ্যমে হোক। এমন পরিস্থিতেতে মৃত্যু এসে গেলেও সেটা ছাড়া যাবে না।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ৩৫৪ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٣٥٤
حدثنا الوليد بن مسلم عن أبي جابر عن بسر بن عبد الله
الحضرمي عن أبي إدريس الخولاني قال
سمعت حذيفة بن اليمان يقول قلت يا
رسول الله ما تأمرني إن أدركت ذلك يعني الفتن
قال تلزم جماعة المسلمين وإمامهم
قال قلت فإن لم يكن لهم إمام ولا جماعة
قال فاعتزل تلك الفرق كلها ولو أن
تعظ بأصل شجرة حتى يدركك الموت وأنت على ذلك
হযরত হুজায়ফা ইবনুল ইয়ামান রাযি. থেকে পূর্বের ন্যায় বর্ণিত।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ৩৫৫ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٣٥٥
حدثنا الوليد قال قال
الأوزاعي وأخبرنا بن عطية
عن حذيفة بن اليمان عن النبي صلى الله عليه وسلم مثل
ذلك
বিশিষ্ট সাহাবী হযরত হুজায়ফা ইবনুল ইয়ামান রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি এরশাদ করেন, একদিন রাসূলুল্লাহ সা. জাহান্নামের দরজায় দাড়িয়ে আহবানকারীদের সম্বন্ধে আলোচনা করেন, তিনি বলেন, যারা তাদের আহবানে সাড়া দিবেন তাদেরকে সেখানে নিক্ষেপ করা হবে। একথা শুনে আমি বললাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ। এমন অবস্থা থেকে মুক্তির উপায় কি হতে পারে? রাসূলুল্লাহ সা. বলেন, তাহলে তুমি মুসলমানদের জামাআত এবং ইমামকে আকড়িয়ে ধরবে। এ কথা শুনে আমি বললাম, ইয়া রাসুলুল্লাহ (সা.), যদি তাদের ইমাম আর জামাআত না থাকে তাহলে কি করতে হবে। জবাবে তিনি বললেন, এমন হলে তাদের প্রত্যেক দলকে ত্যাগ করতে থাকবে। এমন অবস্থায় তোমার মৃত্যু এসে গেলেও তুমি গাছের শিকড় কামড়ে ধরে থাকবে।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ৩৫৬ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٣٥٦
حدثنا عثمان بن كثير بن دينار عن محمد بن مهاجر أخي عمرو بن مهاجر عن
يونس بن ميسرة الجبلاني
عن حذيفة بن اليمان قال ذكر رسول الله صلى الله عليه
وسلم دعاة على أبواب جهنم من أطاعهم قحموه فيها
قال قلت يا رسول الله فكيف
النجاة منها
قال تلزم الجماعة وإمام الجماعة
قال قلت فإن لم تكن جماعة ولا
إمام جماعة
قال فاهرب من تلك الفرق كلها ولو يدركك الموت وأنت عاظ بساق
شجرة
হযরত হুজায়ফা ইবনুল ইয়ামান রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বললাম ইয়া রাসুলুল্লাহ (সা.)! উক্ত ফেৎনা থেকে পরিত্রাণের উপায় কি হতে পারে? এবং তিনি পথ ভ্রষ্টদের আহবানের কথাও বলেন, জবাবে তিনি বলেন, সেদিন যদি পৃথিবীতে কোনো খলীফা আল্লাহর পক্ষ থেকে এসে থাকে তাহলে তাকে আকড়িয়ে ধরো। যদিও সে তোমার পিঠে আঘাত করে এবং তোমার সম্পদ ছিনিয়ে নেয়। না হয় ফেৎনার স্থান থেকে পলায়ন করে মৃত্যু পর্যন্ত গাছের শিকড় কামড়িয়ে ধরে থাকো।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ৩৫৭ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٣٥٧
حدثنا ضمرة عن ابن شوذب عن أبي التياح عن خالد ابن سبيع
عن حذيفة بن
اليمان قال قلت يا رسول الله فما العصمة من ذلك وذكر دعاة الضلالة
فقال إن لقيت
لله يومئذ خليفة في الأرض فالزمه [ و ] إن ضرب ظهرك وأخذ مالك وإلا فاهرب في الأرض
حتى ياتيك الموت وأنت عاظ على أصل شجرة
বিন্তে আহবান আল-গিফারী রহ. থেকে বর্ণিত, একদিন হযরত আলী ইব্নে আবী তালেব রাযি. আহবানের কাছে এসে বললেন, আমার অনুসরণ করতে তোমাকে কে নিষেধ করেছে, জবাবে তিনি বলেন, আমাকে আমার খলীল এবং আপনার চাচাতো ভাই ওসিয়্যত করেছেন, অতি সত্ত্বর ফেৎনা, দলাদলি এবং এখতেলাফ আত্ম প্রকাশ করবে। এমন অবস্থা চলতে থাকলে তুমি তোমার তলোয়ারকে ভেঙ্গে ফেলো, তোমার ঘরের অন্দরে প্রবেশ করবে এবং বাঁশের তৈরি একটি তলোয়ার আবিস্কার করো।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ৩৫৮ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٣٥٨
حدثنا عبد الصمد بن عبد الوارث عن
حماد بن سلمة حدثنا أبو عمرو القسملي عن بنت أهبان الغفاري
أن عليا رضى الله
عنه أتى أهبان فقال ما يمنعك أن تتبعنا فقال أوصاني خليلي وابن عمك أنه سيكون فتنة
وفرقة واختلاف فإذا كان ذلك فاكسر سيفك واقعد في بيتك واتخذ سيفا من خشب
হযরত আবু জনাব রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি এরশাদ করেন, আমি হযরত তালহা রাযি. কে বলতে শুনেছি, তীব্র এক যুদ্ধে আমাকে শরীক হতে হয়েছে, যেখানে আমি কোনো তীরও নিক্ষেপ করিনি আবার কাউকে তলোয়ার দ্বারা আঘাতও করিনি। আমার যদি উভয় হাত কব্জি পর্যন্ত কাটা হতো এবং আমি শরিক না হতে পারতাম তাহলে কতই না ভালো হতো।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ৩৫৯ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٣٥٩
حدثنا ابن عيينة عن أبي جناب قال
سمعت طلحة يقول شهدت الجماجم فما طعنت برمح
ولا ضربت بسيف ولوددت أنهما قطعتا من هاهنا يعني يديه ولم أكن شهدته
হযরত মুজাহিদ রহ. থেকে বর্ণিত, আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেন, জালেম সম্প্রদায়ের জন্য আমাদেরকে ফেৎনার কারণ বানাবেন না। আরো বলেন, তাদেরকে আমাদের বিরুদ্ধে চাপিয়ে দিবেন না, এক পর্যায়ে তারা আমাদেরকে মারাত্মক ফেৎনার সম্মুখিন করবে, যার কারণে আমরা ফেৎনায় জড়িয়ে যাব।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ৩৬০ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٣٦٠
حدثنا ابن عيينة ابن عن أبي نجيح
عن مجاهد قوله تعالى لا تجعلنا فتنة للقوم
الظالمين [ يونس85 ] قال لا تسلطهم علينا حتى يفتنونا فيفتتنوا بنا
হযরত আবু কিলাবা রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন ইবনুল আসআছ এর ফেৎনা ব্যাপক আকার ধারন করেছে, আমরা উক্ত মজলিসে উপস্থিত ছিলাম এবং আমাদের সাথে ছিলেন মুসলিম ইব্নে ইয়াছার। অতঃপরন তিনি বলেন, যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহ তাআলার জন্য, যিনি আমাকে এই ফেৎনা থেকে মুক্তি প্রদান করেছেন। আল্লাহর কসম! উক্ত যুদ্ধে আমি একটি তীরও নিক্ষেপ করিনি, কাউকে বর্শা দ্বারা আঘাতও করিনি এবং তলোয়ার দ্বারা কোনো ব্যক্তিকে আক্রমনও করিনি। বর্ণনাকারী আবু কিলাবা রহ. বলেন, অতঃপর আমি তাকে বললাম হে মুসলিম! তোমার প্রতি কোনো মুর্খের দৃষ্টি সম্বন্ধে কি বলবে? জবাবে তিনি বললেন, আল্লাহর কসম! মুসলিম এমন কোনো পদক্ষেপ নেয়না যেখানে হক দেখা হয়নি। এই কারণে হত্যা করা কিংবা হত্যা হওয়া। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর তিনি কেঁদে উঠলেন, কসম সে সত্ত্বার, যার হাতে আমার প্রাণ! এক পর্যায়ে আমি আশা করি যে, এ সম্বন্ধে আমার কিছু যেন বলতে না হয়।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ৩৬১ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٣٦١
حدثنا محمد بن ثور عن معمر عن أيوب
عن أبي قلابة قال لما أنجلت فتنة ابن الأشعت
كنا في مجلس ومعنا مسلم بن يسار فقال مسلم الحمد لله الذي أنجاني من هذه الفتنة
فوالله ما رميت فيها بسهم ولا طعنت فيها برمح ولا ضربت فيها بسيف قال أبو قلابة
فقلت له فما ظنك يا مسلم بجاهل نظر إليك فقال والله ما قام مسلم هذا المقام إلا وهو
يراه عليه حقا فقتل أو قتل قال فبكى والذي نفسي بيده حتى تمنيت أن لا أكون قلت له
شيئا
হযরত যুনদুব ইব্নে আব্দুল্লাহ আল-বাজালী রহ. থেকে বর্ণিত, নিঃসন্দেহে আহলে শামের এক লোক সিফফিনের যুদ্ধে হযরত আলী রাযি. এর একজনের উপর হামলা করেন। এক পর্যায়ে তার উপর চেপে বসে যবেহ করে দিতে চায়। তিনি বলেন, আমি আমার ধনুকের রশি দ্বারা তাকে বেঁধে ফেলার চেষ্টা করি, যেন তার উপর জয়ী হতে পারি। এক পর্যায়ে আমি তাকে কাবু করে ফেললাম। বর্তমানে উক্ত ঘটনাটি আমরা স্মরণ হওয়ার সাথে সাথে আমার গলা ধরে আসে।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ৩৬২ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٣٦٢
حدثنا ابن المبارك عن حماد بن سلمة عن علي بن زيد عن الحسن
عن
جندب بن عبد الله البجلي رضى الله عنه أن رجلا من أهل الشام حمل على رجل من أصحاب
علي يوم صفين فنزل إليه ليذبحه قال فشددت أنا برمحي نحوه لأجهضه عنه فأجهضته عنه
فما أذكرها إلا أخذت بحلقي
প্রখ্যাত সাহাবী হযরত হোযায়ফা ইবনুল ইয়ামান রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি এরশাদ করেন, হে আমের! যাকে তুমি দেখো, সে যেন তোমাকে ধোকায় ফেলে না দেয়। কেননা এরা একদিন তাদের দ্বীন থেকে এমনভাবে বের হয়ে আসবে যেমন মহিলাদের পেট থেকে বাচ্চা বের হয়ে আসে। যখন তুমি এমন অবস্থা দেখতে পাবে তখন বর্তমানের অবস্থায় ফিরে যাওয়া ভালো হবে।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ৩৬৩ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٣٦٣
حدثنا يحيى بن أبي غنية عن أبيه عن جبلة بن
سحيم عن عامر بن مطر
عن حذيفة أنه قال يا عامر لا يغرنك من ترى فإن هؤلاء
يوشكوا أن ينفرجوا عن دينهم كما تنفرج المرأة عن قبلها فإذا فعلوا ذلك فعليك بما
أنت عليه اليوم
ইব্নে তাউয তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সা. আবু যরকে এরশাদ করেন, হে আবুযর! তোমাকে তো দেখতে তায়েফ বা রাশি বিদ্যায় পারদর্শি মনে হয়। তারা যখন তোমাকে মদীনা থেকে বের করে দিবে তখন তোমার কি অবস্থা হবে। জবাবে আবু যর বললেন, তখন আমি মকাদ্দাস স্থানে চলে আসব। তারা যদি সেখান থেকেও বের করে দেয় তাহলে কি করবে জবাবে আবু যর বললেন তাহলে আমি আবার মদীনায় ফিরে আসব। রাসূলুল্লাহ সা. এরশাদ করেন, তারা যদি তোমাকে সেখান থেকেও বের করে দেয়। জবাবে আবু যর রাযি. বলেন, তখন আমি আমার তলোয়ার বের করে মারা না যাওয়া পর্যন্ত দুশমনের উপর আক্রমণ করতে থাকবো। একথা শুনার পর রাসূলুল্লাহ সা. বললেন, না তুমি এটা করতে যেওনা, বরং তখন যে আমীর থাকবে সে নিগ্রো গোলাম কালো হলেও তার কথা শুনে যাবে। বর্ণনকারী বলেন, আবু যর গিফারী রাযি. রাবাযা নামক স্থানে পৌছলে সেখানে হযরত ওসমান রাযি. এর কালো একজন গোলাম কে দেখতে পায়, এবং নামাযের একামত হওয়ার পর সকলে নামাযের অপেক্ষায় আছেন। তারা আবু যর রাযি. কে দেখে নামাযের ইমামতি করতে বললে তিনি জবাব দিলেন, না আমি ইমাম হবোনা, কেননা আমাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে যেন আমি কথা মেনে চলি, যদিও সে কালো নিগ্রো গোলাম হোক। অতঃপর উক্ত গোলাম এগিয়ে গিয়ে নামায সম্পন্ন করলেন।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ৩৬৪ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٣٦٤
حدثنا عبد الرزاق عن معمر عن ابن طاوس
عن أبيه أن
رسول الله صلى الله عليه وسلم قال لأبي ذر أراك يا أبا ذر لقائفا كيف بك يا ابا ذر
إذا أخرجوك من المدينة
قال آتي الأرض المقدسة
قال فكيف إن أخرجوك منها
قال ارجع إلى المدينة
قال فإن أخرجوك منها
قال آخذ بسيفي فأضرب به حتى
أقتل
قال لا ولكن إسمع واطع ولو لعبد أسود
قال فلما أتى الربذة وجد بها
غلاما أسود لعثمان فأقيمت الصلاة
فقال يا أبا ذر تقدم
فقال إني أمرت أن
أسمع وأطيع ولو لعبد أسود
قال فتقدم العبد فصلى
হযরত কা’ব রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি এরশাদ করেন, আরবদের বর্তমান পরিস্থিতি রাসূলুল্লাহ সা. এর ওফাতের পর মাত্র পঁচিশ বৎসর পর্যন্ত স্থায়ী হবে। অতঃপর এমন ফেৎনা দেখা দিবে যা যুদ্ধ বিগ্রহ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়বে। এমন অবস্থা শুরু হলে তুমি নিজেকে এবং নিজের অস্ত্র হাত নিয়ন্ত্রণ করো। যেন তোমার কাছে শত্রু মিত্র পরিস্কার হয়ে যায়। এরপর লোকজন পিলারের টাই দাড়িয়ে থাকবে। অতঃপর মারাত্মক ফেৎনার সৃষ্টি হবে। আমি এ কথাটি কিতাবুল্লাহর মধ্যে পেয়েছি। এমন অন্ধকারাচ্ছন্ন প্রকাশ যার কারণে কিছুই বুঝা যাবে না যা বড়দেরকেও গ্রাস করে নিবে। তখন তুমি তোমার অস্ত্র-হাতিয়ার ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ করে রাখবে এবং সে এলাকা থেকে ভালোভাবে পলায়ন করবে। পলায়ন করতে গিয়ে যদি প্রবেশ করার মত বিচ্ছুর গর্ত পাও তাহলে সেখানে প্রবেশ করবে।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ৩৬৫ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٣٦٥
حدثنا ضمرة عن ابن
شوذب عن أبي التياح عن أبيه عن أبي العوام
عن كعب قال رحا العرب بعد خمس وعشرين
بعد وفاة نبيها صلى الله عليه وسلم ثم تنشأ فتنة فيها قتل وقتال فأمسك عليك فيها
يدك وسلاحك ثم تكون أخرى بعد الإطمأنينة فأمسك عليك فيها يدك وسلاحك فإني أجدها في
كتاب الله المظلمة تلوي بكل ذي كبر
হযরত কা’ব রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি এরশাদ করেন, রাসূলুল্লাহ সা. এর ওফাতের পর মাত্র পঁচিশ বৎসর পর্যন্ত আরবদের প্রভাব বাকি থাকবে। অতঃপর ফেৎনার আগুন জ্বলতে থাকবে। যার মধ্যে হত্যাসহ সবধরনের বিশৃঙ্খলা দেখা দিবে। এহেন মুহূর্ত এসেপড়লে তুমি তোমার হাত ও হাতিয়ারকে নিয়ন্ত্রণ করবে। এরপর অল্প সময়ের জন্য ফেৎনার প্রভাব বন্ধ হওয়ার পর আবারো নতুনরূপে ফেৎনা চলতে থাকবে। তখনো তুমি নিজের অস্ত্র ও হাতকে কন্ট্রোল করবে। যেহেতু উক্ত ফেৎনার ঘটনা আমি কিতাবুল্লাহ তে প্রাপ্ত হয়েছি। যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, ফেৎনা এমন অন্ধকারচ্ছন্ন হবে যা প্রত্যেক বড় লোককে গ্রাস করবে। তাই কেউ মুক্তি পেতে পারবে না।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ৩৬৬ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٣٦٦
حدثنا أبو عمر الصفار عن التياح عن
أبي العوام
عن كعب قال تدور رحا العرب بعد وفاة نبيها بعد خمس وعشرين سنة ثم
تفشوا فتنة يكون فيها قتل وقتال فأمسك عليك فيها نفسك وسلاحك حتى تنجلي لا لك ولا
عليك ثم يستوي الناس كالدوامة ثم تنشأ فتنة إني لأجدها في كتاب الله المنزل المظلمة
لا تنجلي حتى تلوي بكل ذي كبر فامسك عليك فيها نفسك وسلاحك واهرب منها أشد الهرب
وإن لم تجد إلا حجر عقرب تدخل فيه فادخل فيه
হযরত ইয়াহইয়া ইব্নে আবু আমর আস্্ সিবয়ানী রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হযরত আবু হুরায়রা রাযি. বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. এরশাদ করেছেন এবং তিনি চতুর্থ নং ফেৎনার কথা আলোচনা করতে গিয়ে বলেন, উক্ত ফেৎনা থেকে কেউ মুক্তি পাবে না, তবে কেবলমাত্র ঐ লোকের মুক্তির ব্যাপারে আশা করা যায়, যে উত্তাল সমুদ্রে ডুবন্ত ব্যক্তির দোয়ার ন্যায় মুক্তির জন্য দোয়া করবে। যে সময় সর্বোত্তম ব্যক্তি হবে ঐ লোক যিনি গোপনে তাকওয়ার উপর অটল থাকে, প্রকাশ্যে তাকে কেউ চিনতে পারেনা এবং কোনো মজলিস থেকে উঠে গেলে তার অনুপস্থিতি অনুভব করা হয়না। ফেৎনাকালীন নিকৃষ্টতম ব্যক্তি হচ্ছে, তীব্রভাবে বক্তব্য প্রদানকারী খতীব কিংবা নির্দিষ্ট কোনো স্থানে যাতায়াতকারী সওয়ারী।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ৩৬৭ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٣٦٧
حدثنا ضمرة عن يحيى بن
أبي عمرو السيباني قال
قال أبو هريرة رضى الله عنه قال رسول الله صلى الله عليه
وسلم وذكر الفتنة الرابعة لا ينجو من شرها إلا من دعا كدعاء الغرق أسعد أهلها كل
تقي خفي إذا ظهر لم يعرف وأن جلس لم يفتقد وأشقى أهلها كل خطيب مسقع أو راكب موضع
হযরত আবু ওবাইদ ইবনে আবু জাফর রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. এরশাদ করেন, পৃথিবীতে ফেৎনা চলতে থাকলে তার থেকে কেউ মুক্তি পাবে না তবে ঐ লোক মুক্তি পেতে পারে যে তার সম্পদ দ্বারা আক্রান্ত হবেনা, আর কেউ যদি তার সম্পদ দ্বারা আক্রান্ত হয়, তবে সেটা হবে কাউকে হত্যা করার মত।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ৩৬৮ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٣٦٨
حدثنا معافى بن عمران عن ابن لهيعة
عن عبيد الله بن أبي جعفر قال قال
رسول الله صلى الله عليه وسلم تكون فتنة لا ينجو منها إلا من لم يصب من مالها ومن
أصاب من مالها كمن أصاب من دمها
বিশিষ্ট সাহাবী হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. এরশাদ করেন, ফেৎনাকালীন সর্বোত্তম ব্যক্তি হচ্ছে ঐ লোক, যে নিজেকে সর্বদা গোপন করে রাখেন, তিনি জনসমক্ষে আসলে কেউ তাকে চিনতে পারেনা, কোথাও কোনো মজলিসে বসার পর ওঠে গেলে তার অনুপস্থিতি বুঝা যায় না এবং কেউ তাকে তালাশও করেনা।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ৩৬৯ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٣٦٩
حدثنا يحيى بن سعيد العطار عن ضرار بن
عمرو عن إسحاق بن عبد الله بن أبي فروة عمن حدثه
عن أبي هريرة رضى الله عنه قال
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم أسعد الناس فيها كل خفي إن ظهر لم يعرف وإن جلس
لم يفتقد
হযরত আরতাত ইবনে মুনযির রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে, রাসূলুল্লাহ সা. এরশাদ করেন, চতুর্থ ফেৎনাকালীন লোকজন দ্রুত ভাবে ফেৎনার প্রতি ধাবিত হতে থাকবে। সে সময় খাটি মুমিন হবে ঐ ব্যক্তি যে নিজের ঘরের ভিতর অবস্থান গ্রহণ করবে, আর কাফের হয়ে যাবে ঐ লোক যে তার তলোয়ারকে খাপযুক্ত করবে এবং তার ভাই ও তার প্রতিবেশিকে হত্যা করবে।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ৩৭০ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٣٧٠
حدثنا الحكم بن نافع عن جراح
عن أرطاة بن المنذر قال بلغني
أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال في الفتنة الرابعة تصيرون فيها إلى الكفر
فالمؤمن يومئذ من يجلس في بيته والكافر من سل سيفه وأهراق دم أخيه ودم جاره
বিশিষ্ট সাহাবী হযরত ওকবা ইব্নে আমের রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সা. কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার সাথে কাউকে শরীক না করে এবং অবৈধ ভাবে কাউকে হত্যা না করে মৃত্যুবরন করে সে জান্নাতের যে দরজা দিয়ে ইচ্ছে প্রবেশ করতে পারবে।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ৩৭১ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٣٧١
حدثنا ابن المبارك عن ابن أبي خالد عن عبد الرحمن بن عائذ
عن
عقبة بن عامر رضى الله عنه قال سمعت رسول الله صلى الله علسه وسلم يقول من مات ولم
يشرك بالله شيئا ولم يتند من الدماء الحرام بشيء دخل من أي أبواب الجنة شاء
প্রখ্যাত সাহাবী হযরত আবু মুসা আশ্আরী রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ঐ লোক থেকে মারাত্মক কোনো লোকের সাথে শত্রু হিসেবে আমার সাথে কিয়ামতের দিন স্বাক্ষাৎ হবে না যে লোক এমনভাবে আসবে, তার রগ থেকে রক্ত প্রবাহিত থাকবে এবং আমাকে ইনসাফের দাড়ি পাল্লার সামনে আটকে দিয়ে বলতে থাকবে, হে আল্লাহ! আপনার বান্দাকে জিজ্ঞাসা করেন, যে আমাকে কেন হত্যা করেছে, তার কথা শুনে আমি বলবো, হে আল্লাহ! এই লোক মিথ্যা বলছে, তবে আমি একথা বলার সাহস রাখবোনা যে ঐ লোক তখন কাফের ছিল। যেহেতু আমি এভাবে বললে হয়তো আল্লাহ তাআলা বলবেন, তুমি কি আমার বান্দা সম্বন্ধে আমার চেয়ে বেশি জানো।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ৩৭২ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٣٧٢
حدثنا ابن المبارك عن هشام عن الحسن قال
قال أبو موسى الأشعري رضى الله عنه
ما خصم أبغض إلى لقاء يوم القيامة من رجل يجيء تشخب أو داجه دما يحبسني عند ميزان
القسط فيقول يا رب سل عبدك بم قتلني فأقول كذب فلا أستطيع أن أقول كان كافرا فيقول
أنت أعلم بعبدي مني
হযরত জুনদুব ইব্নে আব্দুল্লাহ রাযি-হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, কিয়ামতের দিন তোমাদের থেকে একজন লোক আল্লাহ তা’আলার সাথে সাক্ষাৎ করবে, তার হাতে থাকবে আরেকজন লোকের রক্ত। যে লোক “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” বলবে। যেহেতু যে লোক ফজরের নামায আদায় করবে সে আল্লাহ্র জিম্মাদারীতে থাকবে। কাউকে আল্লাহ তা’আলা জাহান্নামে নিক্ষেপ করার ইচ্ছা করলে তাকে উপুড় করে নিক্ষেপ করেন। যখন সেখানে পূর্বের-পরের সবাইকে জমা করবেন।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ৩৭৩ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٣٧٣
حدثنا ابن المبارك عن سليمان بن المغيرة عن حميد بن
هلال
عن جندب بن عبد الله قال لا يلقين أحد منكم الله يوم القيامة بملء كف من
دم رجل يقول لا إله إلا الله فإنه من صلى الصبح فهو في ذمة الله فلا يخفرن الله أحد
منكم في حافره فيكبه الله تعالى إذا جمع الأولين والآخرين [ أي ] في جهنم
হযরত মুহাম্মদ ইবনে সীরিন রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন আশতাব আলী রাযি. এর সাথে স্বাক্ষাৎ করতে চাইলে প্রথমে তাকে বাধা দেয়া হলেও পরে অনুমতি দেয়া হয়। যেখানে পৌঁছে তিনি তালহার এক ছেলেকে দেখতে পায়। তিনি বললেন, আমার মনে হয় আপনি এর কারণে প্রথমে আমাকে প্রবেশ করতে দেননি। জবাবে তিনি বললেন হ্যাঁ, আমি বললাম, যদি সেই ওসমানের ছেলে হয় তাহলেও কি বাঁধা দিবেন? জবাবে তিনি বললেন হ্যাঁ। তার কথা শুনে আমি বললাম, আমার একান্ত ইচ্ছা, আমি এবং ওসমান ঐসব ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত হবো; যাদের ব্যাপারে আল্লাহতাআলা এরশাদ করেছেন ঃ......... ।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ৩৭৪ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٣٧٤
حدثنا عبد الوهاب عن أيوب
عن محمد أن الأشتر [ أنه ] استأذن على
علي فحججبه ثم أذن له فإذا عنده ابن لطلحة قال أراك حجبتني من أجل هذا قال أجل قال
ولو كان ابن عثمان حجبتني له قال أجل قال إني لأرجو أن أكون أنا وعثمان ممن قال
الله تعالى ونزعنا ما في صدورهم من غل إخوانا على سرر متقابلين [ الحجر 47
]
হযরত যুনদুব ইবনে আব্দুল্লাহ আল-বাজালী রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তোমাদের প্রত্যেকে আল্লাহকে ভয় করা উচিৎ এবং তার ও জান্নাতের মাঝে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করে। বিশেষ করে জান্নাতের দরজা পর্যন্ত দেখার পর। কোনো মুসলমানকে হত্যা করার পর তার রক্ত হাতের মুষ্টিতে ধারন করে।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ৩৭৫ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٣٧٥
حدثنا ابن المبارك عن عوف عن أبي المنهال قال حدثني صفوان بن عمرو
عن
جندب بن عبد الله البجلي قال ليتقي الله أحدكم ولا يحولن بينه وبين الجنة بعدما
ينظر إلى أبوابها ملء كف من دم مسلم أهراقه
বকর ইব্নে আব্দুল্লাহ আল-মুযনী রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. এর সাহাবাদের একজন আমাদেরকে বর্ণনা করেছেন, তাকে বলতে শুনেছি, জান্নাতের দরজার প্রতি দৃষ্টিপাত করার পর কোনো মুসলমানকে হত্যা করার মাধ্যমে তার মাঝে এবং জান্নাতের মাঝে যেন অন্তরায় সৃষ্টি না হয়ে যায়।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ৩৭৬ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٣٧٦
حدثنا ابن المبارك عن هشام بن
حسان قال
حدثني بكر بن عبد الله المزني قال شيعنا رجلا من أصحاب النبي صلى الله
عليه وسلم فسمعته يقول لا يحولن بين أحدكم وبين الجنة بعدما ينظر إلى أبوابها ملء
كف من دم مسلم أهراقه
হযরত ইউনুস ইব্নে যুবায়ের রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি জুনদুব ইব্নে আব্দুল্লাহ রাযি. কে বলতে শুনেছি, যখন বালা-মসিবত অবতীর্ন হতে থাকবে তখন তুমি তোমার সম্পদের দিকে এগিয়ে যাও, তোমার দ্বীনের দিকে নয়। কেননা, যে লোকের দ্বীন নষ্ট হয়ে যাবে তার সবকিছুই যেন ধূলিস্যাৎ হয়ে যাবে। এবং যার ঈমান ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে তাকেই যেন প্রকৃত পক্ষে ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, যেনে রাখো, জাহান্নামের পর কোনো ধনাঢ্যতা বাকি থাকবেনা এবং জান্নাতের পরবর্তী সময়ে আর গরীব বাকি থাকবেনা। নিঃসন্দেহে জাহান্নাম তার বন্দীকে মুক্তি দিতে পারবেনা এবং তার ফকীরকে অমুখাপেক্ষীও করতে পারবে না।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ৩৭৭ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٣٧٧
حدثنا ابن المبارك عن شعبة عن قتادة عن يونس بن
جبير قال
سمعت جندب بن عبد الله يقول إن نزل بلاء فقدم مالك دون دينك فإن
المخروب من خرب دينه وإن المسلوب من سلب دينه واعلم أنه لا غنى بعد النار ولا فقر
بعد الجنة إن النار لا يفك أسيرها ولا يستغنى فقيرها
হযরত মুহাম্মদ ইব্নে আলী রহ. থেকে বর্ণিত তিনি হযরত আলী ইব্নে আবু তালেব রাযি. কে বলতে শুনেছেন, তিনি বলেন, হে আল্লাহ! ওসমান ইবনে আফফানের হত্যকারীদেরকে আপনি উপুড় করে আজকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করুন।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ৩৭৮ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٣٧٨
حدثنا ابن
المبارك عن عمر بن سعيد بن أبي حسين القرشي عن محمد بن عبد الله بن عياض عن يزيد بن
طلحة بن ركانة سمع محمد بن علي
سمع عليا رضى الله عنه يقول اللهم اكبب اليوم
قتلة عثمان لمناخرهم
হযরত আবু বারযাহ আল-আসলামী রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নিশ্চয় বর্তমানে যিনি শাম দেশে রয়েছেন, অর্থাৎ মারওয়ান, আল্লাহর কসম! যে একমাত্র দুনিয়াতে যুদ্ধে করবে, তেমনিভাবে যিনি মক্কাতে রয়েছে অর্থাৎ, ইবনে যুবাইর রাযি. আল্লাহর কসম! তিনি যুদ্ধ করলে একমাত্র দুনিয়াতে যুদ্ধ করবেন। যাদেরকে তোমরা কারী বলে আহবান করবে তারা যুদ্ধ করলে দুনিয়াতেই যুদ্ধ করবে। এই হাদীস বর্ণনা করলে তার ছেলে তাকে বলেন, এমন পরিস্থিতির সম্মুখিন হলে আমাদের করনীয় কি হবে? জবাবে তিনি বলেন, তখন সর্বোত্তম লোক হবে ঐ দল। যারা অভাবী হবে এবং তাদের হাত হবে মানুষের সম্পদ থেকে মুক্ত এবং তাদের যাবতীয় সবকিছু খুবই হালকা প্রকৃতির হবে; তারা কাউকে হত্যাকারী হবে না।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ৩৭৯ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٣٧٩
حدثنا ابن المبارك عن عوف عن أبي المنهال
عن أبي
برزة الأسلمي قال إن ذاك الذي بالشام يعني مروان والله إن يقاتل إلا على الدنيا وإن
ذاك الذي بمكة يعني ابن الزبير والله إن يقاتل إلا على الدنيا وإن الذين تدعونهم
قراءكم والله إن يقاتلوا إلا على الدنيا فقال له ابن له فما تأمرنا إذا قال لا أرى
خير الناس إلا عصابة ملبدة وقال بيده خماص البطون من أموال الناس خفاف الظهور من
دمائهم
উম্মুল মুমিনীন হযরত উম্মে সালমা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সা. কে বলতে শুনেছি, কিছুদিনের মধ্যে তোমাদের উপর এমন কতক ইমাম নিযুক্ত হবে যাদের কার্যক্রম তোমরা পছন্দ করলেও অনেক কিছু অপছন্দ করবে। যারা তাদের কার্যক্রমের বিরোধীতা করবে মুক্তি পাবে, যারা অপছন্দ করবে তারা নিরাপদে থাকবে। তবে যারা রাজী থাকবে এবং অনুসরণ করবে তাদের জন্য রয়েছে বিপরীত সিদ্ধান্ত। একথা শুনার পর তারা বলল, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমরা কি তাদেরকে হত্যা করবোনা কিংবা তাদের সাথে মোকাবেলা করবো না? জবাবে রাসূলুল্লাহ সা. বলেন, না যতদিন পর্যন্ত তারা নামায আদায় করবেন ততদিন পর্যন্ত তাদের সাথে মোকাবেলা করা যাবে না।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ৩৮০ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٣٨٠
حدثنا ابن المبارك عن هشام عن الحسن عن ضبة بن محصن
عن أم
سلمة رضى الله عنها قالت قال رسول الله صلى الله عليه وسلم يقوم عليكم أئمة تعرفون
عنهم وتنكرون فمن أنكر فقد نجا ومن كره فقد سلم ولكن من رضى وتابع
قيل يا
رسول
الله أفلا نقتلهم أو نقاتلهم
قال أما ما صلوا الصلاة فلا
হযরত হাসান রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. কে বলা হলো, ইয়া রাসূলুল্লাহ তাদেরকে কি আমরা হত্যা করবোনা? জবাবে রাসূলুল্লাহ সা. বলেন, না, তারা যতদিন নামায আদায় করবে তাদের সাথে মোকাবেলা করা যাবেনা।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ৩৮১ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٣٨١
حدثنا معتمر
بن سليمان عن أبيه عن الحسن قال قيل يا رسول الله أفلا نقاتلهم
قال أما ما
أقاموا الصلاة فلا

Execution time: 0.06 render + 0.01 s transfer.