Login | Register

নুয়াইম বিন হাম্মাদের: আল ফিতান

মিশর-শাম এলাকায় মতপার্থক্য সৃষ্টিকারী ঝান্ডার বর্ননা ও তাদের বিজয়

   

মিশর-শাম এলাকায় মতপার্থক্য সৃষ্টিকারী ঝান্ডার বর্ননা ও তাদের বিজয়

Double clicking on an arabic word shows its dictionary entry
হযরত আবু উমাইয়া আল কালবী রহঃ একজন প্রবীন শেখ থেকে বর্ননা করেন, যিনি জাহেলি পেয়েছিল এবং তার উভয় চোখের উপর থেকে ভ্রু খসে পড়েছে তিনি বলেন, যখন কালো ঝান্ডার অধিকারীদের মাঝে মতপার্থ্য সৃষ্টি হবে তখন তারা তিন দলে বিভক্ত হয়ে যাবে। একদল বনু ফাতেমার দিকে আহবান করবে, দ্বিতীয়দল বনুল আব্বাছের দিকে ডাকবে অন্যদল ডাকবে নিজেদেরর দিকে।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ৮৩৪ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٨٣٤
أبي أمية الكلبي عن شيخ أدرك الجاهلية [ و ] قد سقط حاجباه على عينيه قال
إذا
اختلف أهل الرايات السود
افترقوا ثلاث فرق
فرقة تدعوا لبني فاطمة
و
فرقة
تدعوا لبني العباس
وفرقة تدعوا لأنفسها
হযরত মুহাম্মদ ইবনুল হানাফিয়া রহঃ থেকে বর্নিত, তিনি বলেন, যখন তাদের মাঝে মতানৈক্য দেখা দিবে তখন শাম দেশে তিন ধরনের ঝান্ডা প্রকাশ পাবে। তার একটি হচ্ছে, আবকা জাতির ঝান্ডা।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ৮৩৫ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٨٣٥
الله عن مسلم بن الأخيل عن عبد الكريم أبي أمية
عن محمد بن الحنفية قال إذا
اختلفوا بينهم
رفع بالشام ثلاث رايات
راية الأبقع وراية الأصهب وراية السفياني
হযরত আবু জাফর রহঃ থেকে বর্নিত, তিনি বলেন, যখন তাদের বক্তব্যে মতপার্থক্য সৃষ্টি হবে এবং যুসশিফার আত্নপ্রকাশ হবে, তখন তোমাদের আর বেশিক্ষন অপেক্ষা করতে হবেনা এক পর্যায়ে মিশরে আবকাজাতির আবির্ভাব ঘটবে। তারা লোকজনকে হত্যা করতে করতে আরম পর্যন্ত পৌছিয়ে দিবে। অতঃপর মাশু গোত্র তাদের উপর হামলা করে বসবে এবং উভয়ের মধ্যে মারাত্নক একটা যুদ্ধ সংঘঠিত হবে। এরপর সুফিয়ানী মালউন প্রকাশ পাবে এবং উভয়ে জয়লাভ করবে। এর পূর্বে অবশ্যই কুফা নগরীতে প্রসিদ্ধ বারোটি ঝান্ডার প্রদর্শনী হবে। ইতোমধ্যে হোসাইন রাযিঃ এর বংশ ধরদের একদল কুফাতে আগমন করে মানুষকে তার পিতার দিকে আহবান করবে। এরপর সুফিয়ানী তার সৈন্যদেরকে সংবাদ সরবরাহ করবে।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ৮৩৬ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٨٣٦
عن أبي جعفر قال إذا اختلف كلمتهم و
طلع
القرن ذو الشفا
لم يلبثوا إلا يسيرا حتى يظهر
الأبقع
بمصر يقتلون الناس حتى يبلغوا
أرم ثم
يثور
المشوه
عليه فتكون بينهما ملحمة عظيمة ثم يظهر
السفياني
الملعون فيظهر
بهما جميعا ويرفع قبل ذلك ثنتي عشرة راية بالكوفة معروفة و
يقبل بالكوفة رجل من ولد
الحسين يدعوا إلى أبيه
ثم يبث السفياني جيوشه
হযরত সাঈদ ইবনে আসওয়াদ, যু করনাত থেকে হাদীস বর্ননা করেন, তিনি বলেন, লোকজন চারদলে বিভক্ত হয়ে যাবে। দুইজন হবে শাম দেশে। অন্য জন হবে হাকাম বংশ থেকে শুভ্র রংয়ের অধিকারী আসহাব নামক এক লোকল অন্য আরেক জন হচ্ছে, মুজার গোত্রের একটু খাটো প্রকৃতির, যে কঠিন স্বভাবের। তৃতীয় জন হচ্ছে, সুফিয়ানী আর চতুর্থজন হলো, মক্কা নগরীতে গিয়ে আশ্রয় গ্রহন কারী। মোট এ চারজন লোক চার দলের নেতৃত্ব দিবে।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ৮৩৭ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٨٣٧
ابن لهيعة عن أبي قبيل عن سعيد بن الأسود عن ذي قرنات قال
فتختلف الناس على
أربع نفر رجلان بالشام ورجل من آل الحكم أزرق أصهب ورجل من مضر قصير جبار والسفياني
و
العائذ بمكة
فذلك أربعة نفر
হযরত আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে আলী রহঃ থেকে বর্নিত, তিনি বলেন, শাম দেশে মোট চারজন লোককে হত্যা করা হবে। তাদের প্রত্যেকে খলীফার সন্তানদের অন্তর্ভূক্ত। একজন বনু মারওয়ান থেকে, আরেকজন আবু সুফিয়ানের বংশধর, এদিকে সুফিয়ানী মরওয়ানের উপর বিজয়ী হবে। এবং তাদেরকে হত্যা করবে। অতঃপর মরওয়ানের সন্তানরা তার পিছু নিয়ে তাকেও হত্যা করে ফেলবে। এরপর তারা বনু আব্বাছ মাশরিকের দিকে যেতে থাকবে এবং কূফা নগরীতে প্রবেশ করবে।
বর্ননাকারী আবু জাফর রহঃ বলেন, মারওয়ানের বংশের একজন সুফিয়ানীর সাথে বিবাদে জড়িয়ে পড়বে এবং তাকে সুফিয়ানী মারওয়ানীদের উপর জয়লাভ করবে এবং তাকে হত্যা করবে। এর প্রতিশোধ হিসেবে মারওয়ানের সন্তানরা তিনমাস পর্যন্ত যুদ্ধ বিগ্রহ চালিয়ে যাবে এবং মাশরিক বাসিদের সাথে কূফায় প্রবেশ করবে।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ৮৩৮ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٨٣٨
عن أبي
جعفر محمد بن علي قال يقتل أربعة نفر بالشام كلهم ولد خليفة رجل من بني مروان
ورجل
من آل أبي سفيان
قال فيظهر السفياني على المروانيين فيقتلهم ثم يتبع بني مروان
فيقتلهم
ثم يقبل على أهل المشرق وبني العباس حتى يدخل الكوفة
قال أبو جعفر
ينازع السفياني بدمشق أحد بني مروان فيظهر على المواني فيقتله ثم يقتل بني مروان
ثلاثة أشهر ثم يدخل على أهل المشرق حتى يدخل الكوفة
তিনি বলেন, আমাকে খালেদ ইবনে ইয়াযিদ ইবনে মোয়াবিয়ার জনৈক মওলা সংবাদ দিয়েছে যে, তিনি মারাত্নক এক রোগে আক্রান্ত হয়ে কূফা থেকে বের হবে এবং আরিক নামক স্থানের মাঝামাঝি জায়গায় মৃত্যু বরন করবে। মূলতঃ হঠাৎ কোনো সমস্যায় জড়িত হয়ে মারা যাবে।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ৮৩৯ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٨٣٩
مولى خالد بن يزيد بن معاوية
قال يخرج من الكوفة لمرض يصيبه
بها فيموت بين أرك
وتدمر من واهية تصيبه
হযরত কা’ব রহঃ থেকে বর্নিত, তিনি বলেন, তৎকালীন যুগের অন্ধকারাচ্ছন্নতায় নিমজ্জিত লোকজন খুনোখুনির জন্য একত্রিত হবে। এক পর্যায়ে তারা তাদের দুশমনদেরকে নিজের এবং দেশের বন্ধু মনে করবে। তাদের সবচেয়ে অনিষ্টতার মূল লোকটি এগিয়ে আসলে তারা তাকে চিনতে পারবেনা। সে একজন মধ্যবর্তী লোক এবং কোকড়ানো চুল ও কুটরাগত চোখ বিশিষ্ট। তার উভয় চোখ হবে ভ্রু শুন্য। যে যুগের শেষের দিকে তারা বিশৃঙ্খলা ও খুনোখুনি করার জন্য জমা হবে তখন সে মনসূরের দিকে দৃষ্টিপাত করলে, তৎক্ষনাৎ মনসূর মৃত্যু কোলে ঢলে পড়বে। তারা ঐ সময় বিভিন্ন শহরে বিক্ষিপ্ত হয়ে পড়বে। তাদের কাছে সংবাদটি পৌছার সাথে সাথে সকলে দৌড় দিয়ে এসে আব্দুল্লাহর হাতে বাইয়াত গ্রহন করবে। এবং সুফিয়ানী ফেরৎ যাবে এক পর্যায়ে পশ্চিমারা জমায়েত বে, এমন জমায়েত যা ইতিপূর্বে কখনো দেখা যায়নি। অতঃপর কূফা থেকে একদল সৈন্য বের হয়ে আসবে। অন্যদিকে বসরা থেকেও সৈন্য বের হবে। তখনই জ্বলে-পুড়ে এবং ড়ুবে গিয়ে সর্বসাধারন ধ্বংস হয়ে যাবে। এসময় কূফা নগরীতে বিভিন্ন ধরনের আঘাত আসতে থাকবে পশ্চিমাদের পক্ষ থেকে আরেকদল প্রকাশ পাবে, আর তখনই ঘটে যাবে ছোট খাট একটা বিপ্লব। ঐ সময় আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহর ধ্বংস হবে। অতঃপর সকলে হিমস নগরীতে হামলা করে বসবে এবং দিমাশকে আগুন দেয়া হবে। ফিলিস্তিন থেকে এক লোক বের হয়ে আসবে এবং যারা তার কাছে গিয়ে আশ্রয় গ্রহণ করবে বিজয়ী হবে। তার হাতেই মূলতঃ মাশরিক বাহিনী ধ্বংস হবে, তার রাজত্ব স্থায়ী থাকবে মহিলাদের পেটে গর্ভের সন্তান থাকার সময় পর্যন্ত। তার জন্য কূফার সৈন্য বাহিনী থেকে তিনটি দল এগিয়ে আসবে। এসময় কুরাইশ বংশের বিভিন্ন ঘর আক্রান্ত হবে এবং তাদের দিন যাপন করা কঠিন হয়ে পড়বে।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ৮৪০ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٨٤٠
عن
كعب قال يجتمع للسفاح ظلمة أهل ذلك الزمان حتى اذا كانوا حيث ينظرون الى عدوه وظنوا
أنهم موافقوا بلادهم أقبل رأس طاغيتهم لم يعرف قبل ذلك وهو رجل ربعة جعد الشعر غائر
العينين مشرف الحاجبين مصفار حتى اذا نظر الى المنصور في اخر تلك السنة الذي يجتمع
فيها ظلمة اهل ذلك الزمان للسفاح يموت المنصور وهم مفترقون في غير بلدة واحدة فإذا
إنتهى إليهم الخبر ضربوا حيث كانوا فيبايعون لعبد الله و
يرجع السفياني فيدعوا
بجماعة [ من ] أهل المغرب
فيجتمعون ما لم يجتمعوا لأحد قط لما سبق في علم الله
تعالى ثم يقطع بعثا من الكوفة فإن يكن البعث من البصرة فعند ذلك يهلك عامتهم من
الحرق والغرق ويكون حينئذ بالكوفة حسف وإن يكن البعث من قبل المغرب كانت الوقعة
الصغرى فويل عند ذلك لعبد الله من عبد الله [ ثم ] يثور بحمص ويوقد بدمشق ويخرج
بفلسطين رجل يظهر على من ناوأه على يديه هلاك أهل المشرق يملك حمل إمرأة تخرج له
ثلأثة جيوش الى كوفان يصيبون بها أبيات من قريش يستنقذون من يومهم
হযরত আলী রাযিঃ থেকে বর্নিত, তিনি বলেন, যখন কালো ঝান্ডা বাহীরা পরস্পর মতানৈক্যে লিপ্ত হবে তখন আরম জনপদের একাংশ ধ্বসে পড়বে এবং তার পশ্চিম পার্শ্বের মসজিদের এক সাইড ধ্বংস হয়ে যাবে। অতঃপর শাম দেশ থেকে তিন প্রকারের ঝান্ডা আত্নপ্রকাশ করবে। আসহাব, আরকা এবং সুফিয়ানীর ঝান্ডা। সুফিয়ানী বের হবে শাম দেশ থেকে, এক পর্যায়ে সুফিয়ানী সবদলের উপর জয়লাভ করবে।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ৮৪১ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٨٤١
الوليد ورشدين عن ابن لهيعة عن أبي قبيل عن أبي رومان
عن علي قال إذا إختلفت
أصحاب الرايات السود يخسف بقرية من قرى أرم ويسقط جانب مسجدها الغربي ثم تخرج
بالشام ثلاث رايات الأصهب والأبقع والسفياني فيخرج السفياني من الشام و
الأبقع من
مصر
فيظهر السفياني عليهم
হযরত যি করনাত থেকে বর্নিত, তিনি বলেন, লোকজন সফর মাসে বিভিন্ন ধরনের মতবিরোধে লিপ্ত হয়ে যাবে এবং চার জন লোকের উপর ভিত্তি করে বিক্ষিপ্তও হয়ে যাবে। একজন হবে মক্কাতে আশ্রয় গ্রহণকারী, অন্য দুইজন শাম দেশের বাসিন্দা। তার মধ্যে একজন সুফিয়ানী, অন্যজন হাকামের বংশধর, শুভ্র রংয়ের অধিকারী আসহার নামের। চতুর্থ হচ্ছেন, মিশরের বাসিন্দা প্রতাপশালী। এরা মোট চারজন।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ৮৪২ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٨٤٢
سعيد بن الأسود عن ذي قرنات قال
يختلف الناس في صفر ويفترق الناس على أربعة نفر
رجل بمكة العائذ ورجلين بالشام أحدهما السفياني والآخر من ولد الحكم أزرق أصهب ورجل
من أهل مصر جبار فذلك أربعة
হযরত ইবনে যুরাইর রহঃ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, লোকজন চারজন জালেমের ক্ষেত্রে মতপার্থক্য হয়ে যাবে। একজন হবে প্রতাপশালী, যে নিজের জন্য খেলাফতের বাইয়াত করাবে। লোকজনকে একশত একশত করে দান করতে থাকবে। অন্য দুইজন শাম দেশের বাসিন্দা তারাও মানুষকে এত বেশি দান করবে, যা ইতোমধ্যে কেউ করেনি। তাদের দুই জন থেকে সেই দিমাশকে বিজয়ী হবে, সে লোকই হবে শাম দেশের নেতৃত্ব দানকারী।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ৮৪৩ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٨٤٣
قال
يختلفون على أربعة نفر جبار يبايع لنفسه بيعة خلافة يعطي الناس مائة دينار
مائة دينار ورجلان بالشام يعطيان ما لم يعط أحد قبلهما فأيهما غلب على دمشق فله
الشام
তিনি বলেন, তিনজন লোক প্রকাশ পাবে, প্রত্যেকে রাজত্বের দাবি করবে। একজন আবকা দ্বিতীয়জন আসহাব, অন্য আরেকজন হচ্ছে আবু সুফিয়ানের পরিবার থেকে। যে সাথে কুকুর নিয়ে বের হবে এবং লোক জনকে বন্দি করে রাখবে।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ৮৪৪ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٨٤٤
عمار بن ياسر رضى الله عنه قال
فتخرج ثلاثة نفر كلهم يطلب الملك
رجل أبقع
و
رجل أصهب
ورجل من أهل بيت أبي سفيان
يخرج بكلب ويحصر الناس بدمشق
হযরত আলী রাযিঃ থেকে বর্নিত, তিনি এরশাদ করেন, শাম দেশে তিন ঝান্ডা বিশিষ্ট তিনজন লোক আত্নপ্রকাশ করবে, একজন আসহাব, দ্বিতীয়জন আবকা এবং তৃতীয়জন হবে, সুফিয়ানী। সুফিয়ানী বের হবে শাম দেশ থেকে, আবকা বের হবে মিশর থেকে। তবে সুফিয়ানী তাদের উপর জয়লাভ করবে।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ৮৪৫ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٨٤٥
أبي قبيل عن أبي رومان عن علي قال
تخرج بالشام ثلاث رايات الأصهب والأبقع
والسفياني يخرج السفياني من الشام والأبقع من مصر فيظهر السفياني عليهم
হযরত যি করনাত রহঃ থেকে বর্নিত, তিনি এরশাদ করেন লোকজন সফর মাসে বিভিন্ন মত বিরোধে জড়িয়ে যাবে এবং চারজন লোকের অনুসরন করার মাধ্যমে পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। একজন হচ্ছে, মক্কাতে আশ্রয় গ্রহনকারী, দুইজন শামের অধিবাসী, তাদের একজন হচ্ছে সুফিয়ানী, অন্য জন আসহাব নামের শুভ্র রংয়ের অধিকারী হাকামের বংশ ধরদের থেকে চতুর্থজন হচ্ছে, মিশরের এক প্রতাপশালী লোক। কিন্দার একলোক রাগান্বীত হয়ে শামের দিকে ছুটবে। অতঃপর মিশরের একটি বিশাল বাহিনী ধেয়ে আসবে এবং ঐ প্রতাপশালী লোককে হত্যা করবে আর মিশরকে শুকনো লাদির ন্যায় চূর্ণবিচূর্ণ করে ফেলবে। অতঃপর মক্কায় আশ্রয় নেয়া লোকটির প্রতি বাহিনী প্রেরন করবে।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ৮৪৬ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٨٤٦
يختلف
الناس في صفر ويفترقون على أربعة نفر رجل بمكة العائذ ورجلين بالشام أحدهما
السفياني والآخر من ولد الحكم أزرق أصهب ورجل من أهل مصر جبار فذلك أربعة
فيغضب رجل
من كنده
فيخرج إلى الذين بالشام فيأتي الجيش إلى مصر فيقتل ذلك الجبار ويفت مصر فت
البعرة
ثم يبعث إلى الذي بمكة
হযরত হোজাইফা ইবনুল ইয়ামান রাযিঃ থেকে বর্নিত, তিনি বলেন, যখন সুফিয়ানী মিশরে প্রবেশ করে সেখানে দীর্ঘ চারমাস পর্যন্ত অবস্থান করে লোকজনকে হত্যা করবে এবং সেখানের বাসিন্দাদেরকে বন্দি করবে, সেদিন অনেক ক্রদন্দনকারী মহিলারা তাদের সম্ভ্রমহানী হওয়ার কারনে কান্নাকাটি করবে, অনেকে তাদের সন্তান হারানোর বেদনায় রোনাজারী করতে থাকবে, অনেকে সম্মানিত হওয়ার পর সম্মানহানী হওয়ার কারনে ক্রন্দন করবে। আবার কেউ কেউ বিলাপ করতে থাকবে কবরে চলে যাওয়ার আগ্রহ নিয়ে।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ৮৪৭ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٨٤٧
عن حذيفة قال إ
ذا دخل السفياني أرض مصر
قام فيها أربعة أشهر يقتل ويسبي أهلها
فيومئذ
تقوم النائحات باكية تبكي على استحلال فروجها
وباكية تبكي على قتل أولادها
وباكية تبكي على ذلها بعد عزها وباكية تبكي شوقا إلى قبورها
আবু ওয়াহাব কালাঈ রহঃ থেকে বর্নিত, তিনি এরশাদ করেন, বর্বর জাতির ব্যাপারে আরব এবং লোকজনের মাঝে বিভিন্ন ধরনের মত পার্থক্য সৃষ্টি হবে ঐ সময় লোকজন চার ঝান্ডার আত্নপ্রকাশ হওয়া দেখবে। তখন বিজয় হবে কুজা বাসিদের জন্য। তাদের নেতৃত্বে থাকবে আবু সুফিয়ানের বংশধরদের একজন। বর্ননাকারী ওলীদ বলেন, অতঃপর সুফিয়ানী এগিয়ে আসবে এবং বনু হাসেম ও বাকি তিন ঝান্ডা বিশিষ্ট তাকে প্রতিরোধ কারীদের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হবে। সে একক ভাবে তাদের সকলের উপর জয়ী হবে এবং কূফার দিকে যেতে থাকবে আর বনু হাশেমকে ইরাকের দিকে বিতাড়িত করবে। অতঃপর কূফা থেকে ফিরে এসে শামের নিম্ন ভূমিতে মারা যাবে। আবু সুফিয়ানের সন্তানদের থেকে অন্য আরেকজন লোক খলিফা হওয়ার দাবি করবে এবং সকলের উপর তারই জয় হবে। সেলোক হচ্ছে সুফিয়ানী।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ৮৪৮ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٨٤٨
عن شيخ من خزاعة
عن أبي وهب الكلاعي قال يفترق الناس والعرب في بربر على أربع
رايات فتكون الغلبة لقضاعة وعليهم رجل من ولد أبي سفيان
قال الوليد ثم
يستقبل
السفياني فيقاتل بني هاشم
وكل من نازعه من الرايات الثلاث وغيرها فيظهر عليهم جميعا
ثم يسير إلى الكوفة ويخرج بني هاشم إلى العراق
ثم يرجع من الكوفة
فيموت
في أدنى
الشام و
يستخلف رجلا آخر من ولد أبي سفيان
تكون الغلبة له ويظهر على الناس وهو
السفياني
হযরত আবু জাফর রহঃ থেকে বর্নিত, তিনি বলেন, যখন আবকা নামক লোকটি বিশালদেহী কিছু লোককে সাথে নিয়ে জয়লাভ করবে তখন তাদের মধ্যে মারাত্নক এবং ভয়াবহ এক যুদ্ধ সংঘঠিত হবে। অতঃপর সুফিয়ানী মালউন আত্নপ্রকাশ করে তাদের উভয়ের সাথে যুদ্ধ করে উভয়ের উপর জয়লাভ করবে। অতঃপর মনসূর আল-ইয়ামানী সানা থেকে স্বসস্ত্র অবস্থায় তাদের উপর হামলা করবে। তার কঠোরতা অনেক বেশি হবে, যার কারনে মানুষকে জাহেলী যুগের ন্যায় নির্মমভাবে হত্যা করবে। সে এবং আখওস আর তার অধীনস্থরা পরস্পরের সাথে স্বাক্ষাৎ করবে কাপড়-চোপড় রক্তে রঞ্জিত অবস্থায়। তাদের মাঝে আবারো ভয়াবহ যুদ্ধ হবে। আখওসে সুফিয়ানী জয়লাভ করবে। এরপর রোম বাসিরাও জয়লাভ করে শাম দেশে যেতে থাকবে। এরপর সুফিয়ানী ও কিন্দার সুন্দর একটা স্থানে আত্নপ্রকাশ করবে। সে যখন সামা পাহাড়ে আরোহন করবে তখন এগিয়ে আসবে এবং ইরাকের দিকে যেতে থাকবে। অবশ্যই এর পূর্বে কূফা নগরীতে বারো প্রকারের প্রসিদ্ধ ঝান্ডা উত্তোলন করা হবে এবং কূফায় হযরত হাসান কিংবা হোসাইন রাযিঃ এর সন্তানদের একজনকে হত্যা করা হবে। যে লোকজনকে তার পিতার প্রতি দাওয়াত দিচ্ছিল। মাওয়ালীদের একজন প্রকাশ পাবে। যখন তার সার্বিক অবস্থা স্পষ্ট হয়ে যাবে এবং ব্যাপকহারে লোকজনকে হত্যা করা হবে তখন তাকে হত্যা করার জন্য সুফিয়ানী এগিয়ে আসবে এবং সে সফল হবে।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ৮৪৯ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٨٤٩
عن أبي جعفر قال إذا ظهر
الأبقع
مع قوم ذوي أجسام فتكون بينهم ملحمة عظيمة ثم يظهر
الأخوص السفياني الملعون
فيقاتلهما جميعا فيظهر عليهما جميعا ثم يسير إليهم
منصور اليماني من صنعاء
بجنوده
وله فورة شديدة يستقتل الناس قتل الجاهلية فيلتقي هو والأخوص وراياتهم صفر وثيابهم
ملونة فيكون بينهما قتال شديد ثم يظهر الأخوص السفياني عليه ثم يظهر الروم وخروج
إلى الشام ثم يظهر الأخوص ثم يظهر الكندي في شارة حسنة فإذا بلغ تل سما فأقبل ثم
يسير إلى العراق وترفع قبل ذلك ثنتا عشرة راية بالكوفة معروفة منسوبة ويقتل بالكوفة
رجل من ولد الحسن أو الحسين يدعو إلى أبيه ويظهر رجل من الموالي فإذا استبان أمره
وأسرف في القتل قتله السفياني
হযরত কা’ব রহঃ থেকে বর্নিত, তিনি বলেন, যখন রমাযান মাসে দুইবার ভূমিকম্প হবে তখন আহলে বায়তের তিনজন লোক আর্তচিৎকার করে উঠবে। তাদের একজন বড়ই দাপট প্রদর্শন করবে এবং অন্যজন সহনশীলতা ও ধৈর্য ধারর চেষ্টা করবে। তৃতীয়জন হত্যা করার জন্য এগিয়ে যাবে। তার নাম হবে আব্দুল্লাহ ফুরাত নদীর তীরে বিশাল এক জমায়েত অনুষ্ঠিত হবে প্রত্যেকে সম্পদ অর্জনের জন্য যুদ্ধে লিপ্ত হবে এবং যুদ্ধ করতে করতে প্রত্যেক নয়জনের সাতজনই মারা যাবে।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ৮৫০ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٨٥٠
عن كعب قال إذا كانت
رجفتان في شهر رمضان
انتدب لها ثلاثة نفر من أهل بيت واحد
أحدهم يطلبها بالجبروت والآخر يطلبها بالنسك والكسينة والوقار والثالث يطلبها
بالقتل واسمه عبد الله ويكون بناحية الفرات مجتمع عظيم يقتتلون على المال يقتل من
كل تسعة سبعة
ইবনে শিহাব যুহরী থেকে বর্নিত, তিনি এরশাদ করেন, যখন ফুরাত নদীর ব্রীজের পাদদেশে হলুদ এবং কালো পতাকাবাহী বাহিনী জমায়েত হবে তখন মাশরিক বাহিনী পৃষ্ঠপ্রদর্শন করে পরাজিত হবে। এক পর্যায়ে তারা ফিলিস্তিনে এসে পৌছবে ঐ সময় সুফিয়ানি মাশরিক বাসিদের উপর হামলা করবে। পশ্চিমারা জর্দনে এসে পৌছলে তাদের নেতা মারা যাবে এবং তারা তিন দলে বিভক্ত হয়ে যাবে। এক দল যেদিক থেকে এসেছিল সেদিক চলে যাবে, দ্বিতিয় দল হজ্বের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিবে, অন্যদল নিজেদের অবস্থানে অটল থাকবে এবং সুফিয়ানী তাদের উপরআক্রমন করবে ও তাদের পরাজিত করবে। তারা পরাজয় স্বীকার করে নিয়ে সুফিয়ানীর অনুগত হয়ে যাবে।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ৮৫১ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٨٥١
عن الزهري قال إذا التقى أصحاب
الرايات السود وأهل الرايات الصفر عند القنطرة كانت الدبرة على أهل المشرق فيهزمون
حتى يأتوا فلسطين فيخرج على أهل المشرق السفياني فإذا نزل أهل المغرب الأردن مات
صاحبهم وافترقوا ثلاث فرق فرقة ترجع من حيث جاءت وفرقة تحج وفرقة تثبت فيقاتلهم
السفياني فيهزمهم ويدخلون في طاعته
ইবনুল হানাফিয়া রহঃ থেকে বর্নিত, তিনি বলেন, সুফিয়ানী আবকাদের উপর জয়লাভ করে মিশরে প্রবেশ করলে মিশর বিরান ভূমিতে পরিনত হয়ে যাবে।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ৮৫২ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٨٥٢
عبد الكريم أبي أمية
عن ابن الحنفية قال إذا ظهر السفياني على الأبقع دخل مصر
فعند ذلك خراب مصر
আমর ইবনুল হারেস থেকে বর্নিত, বকর ইবনে সুওয়াদা তাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি আবু যামআ আব্দুল্লাহ ইবনে আমর এবং আবু যর গিফারী রাযিঃ থেকে বর্ননা করেন, তারা সকলে এরশাদ করেন, মিশর দেশ থেকে নিরাপত্তা অনেক আগে উঠে যাবে। বর্ননা কারী খারেজা বলেন, আমি আবু যর গিফারী রাযিঃ কে জিজ্ঞাসা করলাম, তখন কি মিশরে উপদেশ দানকারী কোনো ইমাম থাকবেনা? জবাবে তিনি বলেন, না, তখন সব ইমামের হত্যা আখেরী পর্যায়ে পৌছে যাবে।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ৮৫৩ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٨٥٣
أخبره أن أبا سالم الجيشاني أخبره عن أبي زمعة وعبد الله بن عمرو وأبي ذر رضى الله
عنهم قالوا ليخرجن من مصر الآمن قبل
قال خارجة قلت لأبي ذر فلا إمام جامع حين
يخرج قال لا بل تقطعت أقرانها
হযরত কা’ব রহঃ থেকে বর্নিত, নিঃসন্দেহে মিশর ভূখন্ডকে টুকরো করা হবে যেমন পশুর শুকনো লাদি একটা থেকে আরেকটা বিচ্ছিন্ন থাকে।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ৮৫৪ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٨٥٤
عن أبي الخير عن الصنابحي
عن كعب قال لتفتن مصر كما تفت البعرة
হযরত যি করনাত রহঃ থেকে বর্নিত, তিনি বলেন, যকন তুমি বনু উমাইয়ার জনৈক ল্যাংড়া লোককে মিশরে দেখতে পাবে তখন দ্রুত তুমি নিজের তাবু থেকে বের হয়ে যাও কেননা, তাকে তার ঘরের এক লোক হত্যা করবে। অতঃপর তাদের প্রতি শাম দেশ থেকে একটি বিশাল বাহিনী প্রেরন করা হবে। তখন কিন্দার এক লোক তার প্রতি তাবুর খূটি নিক্ষেপ করবে। তাদের অনুসরন করে প্রথম এবং দ্বিতীয় দল মারা যাবে এবং বলবে আমিই তোমাদের জন্য এক্ষেত্রে যথেষ্ট। তারা তখন বাহিনী সহকারে এগিয়ে আসবে এবং ঐ লোককে এবং তার অনুসারীকে হত্যা করবে। এক পর্যায়ে মিশর বাসিকে অবরুদ্ধ করে রাখবে এবং তাদের মাজন বাজারের দিকে নিয়ে যাবে।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ৮৫৫ ]
___________________________________
نعيم بن حماد - ٨٥٥
رشدين عن ابن لهيعة عن أبي زرعة عن صباح عن سعيد بن الأسود
عن ذي قرنات قال
إذا
رأيت رجلا أعرج من بني أمية على مصر
فاخرج من الفسطاط على رأس بريد فإنه يقتله رجل
من أهل بيته ثم يبعث إليهم أهل الشام جيشا
فيلقاهم رجل من كنده
بالعريش فيمت
بطاعتهم الأولى والآخرة ويقول أنا أكفيكم هذا الأمر فيقبل بالجيش فيقتل ذلك الرجل
ومن يتابعه حتى يسبي أهل مصر ويتبعونهم بسوق مازن
وأهل المشرق والسفياني والمروانيين في أرض الشام وخارج منها إلى العراق
ما يكون بين بني العباس

Execution time: 0.04 render + 0.00 s transfer.