Login | Register

আল-আদাবুল মুফরাদ: সালাম বিনিময়

Double clicking on an arabic word shows its dictionary entry
আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রাঃ) বলেন, তোমরা মদ্যপায়ীকে সালাম দিও না। (বুখারী)
[ আল-আদাবুল মুফরাদ - ১০২৭ ]
حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي مَرْيَمَ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا بَكْرُ بْنُ مُضَرَ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللهِ بْنُ زَحْرٍ، عَنْ حِبَّانَ بْنِ أَبِي جَبَلَةَ، عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ قَالَ‏:‏ لاَ تُسَلِّمُوا عَلَى شُرَّابِ الْخَمْرِ‏.‏
হাসান (র) বলেন, তোমার ও পাপাসক্ত ব্যক্তির মধ্যে সম্মানের কোন সম্পর্ক থাকবে না।
[ আল-আদাবুল মুফরাদ - ১০২৮ ]
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَحْبُوبٍ، وَمُعَلَّى، وَعَارِمٌ، قَالُوا‏:‏ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنِ الْحَسَنِ قَالَ‏:‏ لَيْسَ بَيْنَكَ وَبَيْنَ الْفَاسِقِ حُرْمَةٌ‏.‏
আবু জুরাইক (র) থেকে বর্ণিত। তিনি আলী ইবনে আবদুল্লাহ (র) সম্পর্কে শুনেছেন যে, তিনি দাবা/পাশা খেলা অপছন্দ করতেন এবং বলতেন, যারা এই খেলায় অভ্যস্ত তোমরা তাদেরকে সালাম দিও না। কেননা তা জুয়ার অন্তর্ভুক্ত।
[ আল-আদাবুল মুফরাদ - ১০২৯ ]
حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْمُنْذِرِ قَالَ‏:‏ حَدَّثَنِي مَعْنُ بْنُ عِيسَى قَالَ‏:‏ حَدَّثَنِي أَبُو رُزَيْقٍ، أَنَّهُ سَمِعَ عَلِيَّ بْنَ عَبْدِ اللهِ يَكْرَهُ الأَسْبِرَنْجَ وَيَقُولُ‏:‏ لاَ تُسَلِّمُوا عَلَى مَنْ لَعِبَ بِهَا، وَهِيَ مِنَ الْمَيْسِرِ‏.‏
আলী ইবনে আবু তালিব (রাঃ) বলেন, নবী (সাঃ) এক সম্প্রদায়ের নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন। তাদের মধ্যে খালূক প্রসাধনী মাখা এক ব্যক্তিও ছিল। তিনি তাদের দিকে তাকিয়ে তাদের সালাম দিলেন, কিন্তু ঐ ব্যক্তিকে উপেক্ষা করলেন। সে বললো, আপনি যে আমাকে উপেক্ষা করলেন? তিনি বলেনঃ তার দুই চোখের মাঝখানে জ্বলন্ত কয়লা রয়েছে।
[ আল-আদাবুল মুফরাদ - ১০৩০ ]
حَدَّثَنَا زَكَرِيَّا بْنُ يَحْيَى قَالَ‏:‏ حَدَّثَنِي الْقَاسِمُ بْنُ الْحَكَمِ الْعُرَنِيُّ، قَالَ‏:‏ أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ عُبَيْدٍ الطَّائِيُّ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ رَبِيعَةَ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ‏:‏ مَرَّ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَلَى قَوْمٍ فِيهِمْ رَجُلٌ مُتَخَلِّقٌ بِخَلُوقٍ، فَنَظَرَ إِلَيْهِمْ وَسَلَّمَ عَلَيْهِمْ، وَأَعْرَضَ عَنِ الرَّجُلِ، فَقَالَ الرَّجُلُ‏:‏ أَعْرَضْتَ عَنِّي‏؟‏ قَالَ‏:‏ بَيْنَ عَيْنَيْهِ جَمْرَةٌ‏.‏
আমর ইবনে শুআইব (র) থেকে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও তার দাদার সূত্রে বর্ণিত। এক ব্যক্তি সোনার আংটি পরে নবী (সাঃ) এর নিকট আসলো। নবী (সাঃ) তাকে অবজ্ঞা করলেন। সে তাঁর অবজ্ঞা অনুভব করতে পেরে চলে গিয়ে ঐ আংটি ফেলে দিলো এবং একটি লোহার আংটি পরিধান করলো, অতঃপর নবী (সাঃ)-এর নিকট এলো। তিনি বলেনঃ এটা মন্দ, এটা দোযখবাসীদের অলংকার। সে ফিরে গেলো এবং তাও ফেলে দিয়ে একটি রূপার আংটি পরিধান করলো। নবী (সাঃ) এবার তার সম্পর্কে কোন মন্তব্য করেননি। (তাহাবী)
[ আল-আদাবুল মুফরাদ - ১০৩১ ]
حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ قَالَ‏:‏ حَدَّثَنِي سُلَيْمَانُ، عَنِ ابْنِ عَجْلاَنَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ بْنِ وَائِلٍ السَّهْمِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّ رَجُلاً أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَفِي يَدِهِ خَاتَمٌ مِنْ ذَهَبٍ، فَأَعْرَضَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَنْهُ، فَلَمَّا رَأَى الرَّجُلُ كَرَاهِيَتَهُ ذَهَبَ فَأَلْقَى الْخَاتَمَ، وَأَخَذَ خَاتَمًا مِنْ حَدِيدٍ فَلَبِسَهُ، وَأَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ‏:‏ هَذَا شَرٌّ، هَذَا حِلْيَةُ أَهْلِ النَّارِ، فَرَجَعَ فَطَرَحَهُ، وَلَبِسَ خَاتَمًا مِنْ وَرِقٍ، فَسَكَتَ عَنْهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم‏.‏
আবু সাঈদ (রাঃ) বলেন, বাহরাইন থেকে এক ব্যক্তি নবী (সাঃ) এর নিকট এলো। সে তাকে সালাম দিলো কিন্তু জবাব তিনি দেননি। তার হাতে ছিল সোনার আংটি এবং তার পরনে ছিল একটি রেশমী জুব্বা। লোকটি বিষন্ন মনে ফিরে গিয়ে ঘটনাটি তার স্ত্রীকে জানালো। তার স্ত্রী বললো, হয়তো তোমার এই জুব্বা ও সোনার আংটির কারণে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এরূপ করে থাকবেন। সে এই দু'টি ফেলে দিয়ে পুনরায় ফিরে এসে তাঁকে সালাম দিলো। তিনি তার সালামের জবাব দিলেন। সে বললো, কিছুক্ষণ আগে আমি আপনার নিকট এসেছিলাম। তখন আপনি আমাকে উপেক্ষা করেছেন। তিনি বললেঃ তখন তোমার হাতে দোযখের জ্বলন্ত অঙ্গার ছিল। সে বললো, তাহলে তো আমি অনেক অঙ্গারই সঞ্চয় করেছি। তিনি বলেনঃ তুমি তো তাই নিয়ে এসেছিলে। কারো কাছে হাররা প্রান্তরের পাথরের চেয়ে অধিক পরিমাণ সম্পদ থাকলেও তা তো পার্থিব জীবনের সম্পদই। সে বললো, তাহলে আমি কিসের আংটি বানাবো? তিনি বলেনঃ রূপা, পিতল বা লোহা দ্বারা। (নাসাঈ, আহমাদ)
[ আল-আদাবুল মুফরাদ - ১০৩২ ]
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ صَالِحٍ قَالَ‏:‏ حَدَّثَنِي اللَّيْثُ، عَنْ عَمْرٍو هُوَ ابْنُ الْحَارِثِ، عَنْ بَكْرِ بْنِ سَوَادَةَ، عَنْ أَبِي النَّجِيبِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ قَالَ‏:‏ أَقْبَلَ رَجُلٌ مِنَ الْبَحْرَيْنِ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَسَلَّمَ عَلَيْهِ، فَلَمْ يَرُدَّ، وَفِي يَدِهِ خَاتَمٌ مِنْ ذَهَبٍ، وَعَلَيْهِ جُبَّةُ حَرِيرٍ، فَانْطَلَقَ الرَّجُلُ مَحْزُونًا، فَشَكَا إِلَى امْرَأَتِهِ، فَقَالَتْ‏:‏ لَعَلَّ بِرَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَجِبَّتَكَ وَخَاتَمَكَ، فَأَلْقِهِمَا ثُمَّ عُدْ، فَفَعَلَ، فَرَدَّ السَّلاَمَ، فَقَالَ‏:‏ جِئْتُكَ آنِفًا فَأَعْرَضْتَ عَنِّي‏؟‏ قَالَ‏:‏ كَانَ فِي يَدِكَ جَمْرٌ مِنْ نَارٍ، فَقَالَ‏:‏ لَقَدْ جِئْتُ إِذًا بِجَمْرٍ كَثِيرٍ، قَالَ‏:‏ إِنَّ مَا جِئْتَ بِهِ لَيْسَ بِأَجْزَأَ عَنَّا مِنْ حِجَارَةِ الْحَرَّةِ، وَلَكِنَّهُ مَتَاعُ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا، قَالَ‏:‏ فَبِمَاذَا أَتَخَتَّمُ بِهِ‏؟‏ قَالَ‏:‏ بِحَلْقَةٍ مِنْ وَرِقٍ، أَوْ صُفْرٍ، أَوْ حَدِيدٍ‏.‏
ইবনে শিহাব (র) থেকে বর্ণিত। উমার ইবনে আবদুল আযীয (র) আবু বাকর ইবনে সুলায়মান ইবনে আবু হাসমাকে জিজ্ঞেস করেন, কেনো আবু বাকর (রাঃ) পত্রের শিরোনামে লিখতেনঃ আবু বাকর, রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর খলীফার পক্ষ থেকে। অতঃপর উমার (রাঃ) লিখতেন, উমার ইবনুল খাত্তাব, আবু বাকরের খলীফার (প্রতিনিধির) পক্ষ থেকে। সর্বপ্রথম কে 'আমীরুল মুমিনীন' শব্দটি লেখার প্রচলন করেন? তিনি বলেন, আমার পিতামহী শিফা (রাঃ) আমাকে বলেছেন, তিনি প্রথম যুগের মুহাজির মহিলাদের একজন এবং উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) বাজারে গেলে তার সাথে অবশ্যই সাক্ষাত করতেন। উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) ইরাকের শাসনকর্তাকে লিখে পাঠান, আমার নিকট দুইজন বিজ্ঞ ও সম্ভ্রান্ত লোক পাঠাও যাদেরকে আমি ইরাক ও তার অধিবাসীদের সম্পর্কে কিছু জিজ্ঞাসা করবো। ইরাকের শাসনকর্তা লবীদ ইবনে রবীয়া এবং আদী ইবনে হাতেম (রাঃ)-কে তার নিকট পাঠান। তারা মদীনায় পৌছে তাদের বাহনদ্বয় মসজিদের চত্বরে বাঁধেন।

অতঃপর তারা মসজিদে প্রবেশ করে আমর ইবনুল আস (রাঃ)-এর সাক্ষাত পান। তারা তাকে বলেন, হে আমর! 'আমীরুল মুমিনীন' উমার (রাঃ)-এর সাথে আমাদের সাক্ষাতের অনুমতি নিয়ে দিন। আমর (রাঃ) উমার (রাঃ)-এর কাছে দ্রুত ছুটে গেলেন এবং বলেন, আসসালামু আলাইকুম ইয়া আমীরুল মুমিনীন। উমার (রাঃ) তাকে বলেন, হে আসের পুত্র! এই পদবী তুমি কোথায় পেলে? তুমি যা বলেছে তা প্রত্যাহার করো। তিনি বলেন, হাঁ, লবীদ ইবনে রবীয়া এবং আদী ইবনে হাতেম (রাঃ) এসেছেন। তারা আমাকে বলেছেন, আমীরুল মুমিনীনের নিকট থেকে আমাদের জন্য সাক্ষাতের অনুমতি এনে দিন। আমি বললাম, আল্লাহর শপথ! তোমরা দু'জনে তার যথার্থ নামকরণ করেছো। নিশ্চয় তিনি আমীর এবং আমরা মুমিন। সেদিন থেকে তা লেখার প্রচলন হয়। (ইসতীআব)
[ আল-আদাবুল মুফরাদ - ১০৩৩ ]
حَدَّثَنَا عَبْدُ الْغَفَّارِ بْنُ دَاوُدَ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ عَبْدِ الْعَزِيزِ سَأَلَ أَبَا بَكْرِ بْنَ سُلَيْمَانَ بْنِ أَبِي حَثْمَةَ‏:‏ لِمَ كَانَ أَبُو بَكْرٍ يَكْتُبُ‏:‏ مِنْ أَبِي بَكْرٍ خَلِيفَةِ رَسُولِ اللهِ، ثُمَّ كَانَ عُمَرُ يَكْتُبُ بَعْدَهُ‏:‏ مِنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ خَلِيفَةِ أَبِي بَكْرٍ، مَنْ أَوَّلُ مَنْ كَتَبَ‏:‏ أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ‏؟‏ فَقَالَ‏:‏ حَدَّثَتْنِي جَدَّتِي الشِّفَاءُ، وَكَانَتْ مِنَ الْمُهَاجِرَاتِ الأُوَلِ، وَكَانَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ إِذَا هُوَ دَخَلَ السُّوقَ دَخَلَ عَلَيْهَا، قَالَتْ‏:‏ كَتَبَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ إِلَى عَامِلِ الْعِرَاقَيْنِ‏:‏ أَنِ ابْعَثْ إِلَيَّ بِرَجُلَيْنِ جَلْدَيْنِ نَبِيلَيْنِ، أَسْأَلُهُمَا عَنِ الْعِرَاقِ وَأَهْلِهِ، فَبَعَثَ إِلَيْهِ صَاحِبُ الْعِرَاقَيْنِ بِلَبِيدِ بْنِ رَبِيعَةَ، وَعَدِيِّ بْنِ حَاتِمٍ، فَقَدِمَا الْمَدِينَةَ فَأَنَاخَا رَاحِلَتَيْهِمَا بِفِنَاءِ الْمَسْجِدِ، ثُمَّ دَخَلاَ الْمَسْجِدَ فَوَجَدَا عَمْرَو بْنَ الْعَاصِ، فَقَالاَ لَهُ‏:‏ يَا عَمْرُو، اسْتَأْذِنْ لَنَا عَلَى أَمِيرِ الْمُؤْمِنِينَ عُمَرَ، فَوَثَبَ عَمْرٌو فَدَخَلَ عَلَى عُمَرَ فَقَالَ‏:‏ السَّلاَمُ عَلَيْكَ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ، فَقَالَ لَهُ عُمَرُ‏:‏ مَا بَدَا لَكَ فِي هَذَا الِاسْمِ يَا ابْنَ الْعَاصِ‏؟‏ لَتَخْرُجَنَّ مِمَّا قُلْتَ، قَالَ‏:‏ نَعَمْ، قَدِمَ لَبِيدُ بْنُ رَبِيعَةَ، وَعَدِيُّ بْنُ حَاتِمٍ، فَقَالاَ لِي‏:‏ اسْتَأْذِنْ لَنَا عَلَى أَمِيرِ الْمُؤْمِنِينَ، فَقُلْتُ‏:‏ أَنْتُمَا وَاللَّهِ أَصَبْتُمَا اسْمَهُ، وَإِنَّهُ الأَمِيرُ، وَنَحْنُ الْمُؤْمِنُونَ‏.‏ فَجَرَى الْكِتَابُ مِنْ ذَلِكَ الْيَوْمِ‏.
উবায়দুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ (র) বলেন, মুআবিয়া (রাঃ) যখন খলীফারূপে প্রথমবার হজ্জ করতে আসেন তখন উসমান ইবনে হুনাইফ আনসারী (রাঃ) তার নিকট আসেন এবং বলেন আসসালামু আলাইকুম আয়্যুহাল আমীর ওয়া রহমাতুল্লাহ (হে আমীর! আপনাকে সালাম ও আল্লাহর রহমাত বর্ষিত হোক)। সিরিয়াবাসীদের তা অপছন্দ হলো। তারা বললো, কে এই মোনাফিক যে আমীরুল মুমিনীনের প্রতি অভিবাদনটাকে খাটো করেছে? তখন উসমান (রাঃ) তার হাঁটুতে ভর দিয়ে বসে বলেন, হে আমীরুল মুমিনীন। এরা এমন একটি ব্যাপারকে অপছন্দ করছে যা তাদের চাইতে আপনি অধিক জ্ঞাত। আল্লাহর শপথ! আমি আবু বাকর, উমার ও উসমান (রাঃ)-কে এভাবে অভিবাদন করেছি। তাদের কেউই তা অপছন্দ করেননি। মুআবিয়া (রাঃ) সিরিয়াবাসীদের মধ্যে যে ব্যক্তি এ কথা বলেছে তাকে বলেন, ওহে! চুপ করো। তিনি যা বলেছেন ব্যাপার অনেকটা তাই। কিন্তু সিরিয়াবাসীরা গোলযোগ ঘটে যাবার পর বলে, আমাদের খলীফার প্রতি অভিবাদনকে সংক্ষিপ্ত করবো না। হে মদীনাবাসীগণ! আমি তোমাদের স্মরণ করিয়ে দিতে চাই যে, তোমরা যাকাত আদায়কারীদেরকেও 'আমীর' বলে সম্বোধন করে থাকো। (মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক)
[ আল-আদাবুল মুফরাদ - ১০৩৪ ]
حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ، قَالَ‏:‏ أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ قَالَ‏:‏ أَخْبَرَنِي عُبَيْدُ اللهِ بْنُ عَبْدِ اللهِ قَالَ‏:‏ قَدِمَ مُعَاوِيَةُ حَاجًّا حَجَّتَهُ الأُولَى وَهُوَ خَلِيفَةٌ، فَدَخَلَ عَلَيْهِ عُثْمَانُ بْنُ حُنَيْفٍ الأَنْصَارِيُّ فَقَالَ‏:‏ السَّلاَمُ عَلَيْكَ أَيُّهَا الأَمِيرُ وَرَحْمَةُ اللهِ، فَأَنْكَرَهَا أَهْلُ الشَّامِ وَقَالُوا‏:‏ مَنْ هَذَا الْمُنَافِقُ الَّذِي يُقَصِّرُ بِتَحِيَّةِ أَمِيرِ الْمُؤْمِنِينَ‏؟‏ فَبَرَكَ عُثْمَانُ عَلَى رُكْبَتِهِ ثُمَّ قَالَ‏:‏ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ، إِنَّ هَؤُلاَءِ أَنْكَرُوا عَلَيَّ أَمْرًا أَنْتَ أَعْلَمُ بِهِ مِنْهُمْ، فَوَاللَّهِ لَقَدْ حَيَّيْتُ بِهَا أَبَا بَكْرٍ وَعُمَرَ وَعُثْمَانَ، فَمَا أَنْكَرَهُ مِنْهُمْ أَحَدٌ، فَقَالَ مُعَاوِيَةُ لِمَنْ تَكَلَّمَ مِنْ أَهْلِ الشَّامِ‏:‏ عَلَى رِسْلِكُمْ، فَإِنَّهُ قَدْ كَانَ بَعْضُ مَا يَقُولُ، وَلَكِنَّ أَهْلَ الشَّامِ قَدْ حَدَثَتْ هَذِهِ الْفِتَنُ، قَالُوا‏:‏ لاَ تُقَصَّرُ عِنْدَنَا تَحِيَّةُ خَلِيفَتِنَا، فَإِنِّي إِخَالُكُمْ يَا أَهْلَ الْمَدِينَةِ تَقُولُونَ لِعَامِلِ الصَّدَقَةِ‏:‏ أَيُّهَا الأمِيرُ‏.‏
জাবের (রাঃ) বলেন, আমি হাজ্জাজের নিকট গিয়েছি কিন্তু তাকে সালাম দেইনি। (হাকিম)
[ আল-আদাবুল মুফরাদ - ১০৩৫ ]
حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ، عَنْ جَابِرٍ قَالَ‏:‏ دَخَلْتُ عَلَى الْحَجَّاجِ فَمَا سَلَّمْتُ عَلَيْهِ‏.‏
তামীম ইবনে হাযলাম (র) বলেন, কুফাতে সর্বপ্রথম কাকে আমীর সম্বোধন করে সালাম দেয়া হয়েছিল তা আমার অবশ্যই স্মরণ আছে। মুগীরা ইবনে শোবা (রাঃ) কুফার রাহবা ফটক দিয়ে বের হলে কিনদার এক ব্যক্তি তার নিকট আসেন। লোকের ধারণা যে, তিনি ছিলেন আবু কুররা আল-কিন্দী। তিনি তাকে সালাম দিয়ে বলেন, আসসালামু আলাইকা আয়্যুহাল আমীর ওয়া রহমাতুল্লাহ আসসালামু আলাইকুম। মুগীরা (রাঃ) তা অপছন্দ করেন এবং বলেন, আসসালামু আলাইকুম আয়্যুহাল আমীরু ওয়া রহমাতুল্লাহ আসসালামু আলাইকুম, এটা কি? আমি তাদেরই একজন কিনা? সিমাক (র) বলেন, অতঃপর মুগীরা (রাঃ) এই আমীর উপাধি গ্রহণ করেন।
[ আল-আদাবুল মুফরাদ - ১০৩৬ ]
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ مُغِيرَةَ، عَنْ سِمَاكِ بْنِ سَلَمَةَ الضَّبِّيِّ، عَنْ تَمِيمِ بْنِ حَذْلَمٍ قَالَ‏:‏ إِنِّي لَأَذْكُرُ أَوَّلَ مَنْ سَلَّمَ عَلَيْهِ بِالإِمْرَةِ بِالْكُوفَةِ، خَرَجَ الْمُغِيرَةُ بْنُ شُعْبَةَ مِنْ بَابِ الرَّحَبَةِ، فَفَجَأَهُ رَجُلٌ مِنْ كِنْدَةَ، زَعَمُوا أَنَّهُ‏:‏ أَبُو قُرَّةَ الْكِنْدِيُّ، فَسَلَّمَ عَلَيْهِ، فَقَالَ‏:‏ السَّلاَمُ عَلَيْكَ أَيُّهَا الأَمِيرُ وَرَحْمَةُ اللهِ، السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ، فَكَرِهَهُ، فَقَالَ‏:‏ السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ أَيُّهَا الأَمِيرُ وَرَحْمَةُ اللهِ، السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ، هَلْ أَنَا إِلاَّ مِنْهُمْ، أَمْ لاَ‏؟‏ قَالَ سِمَاكٌ‏:‏ ثُمَّ أَقَرَّ بِهَا بَعْدُ‏.‏
হিময়ারের এক শাখার সদস্য যিয়াদ ইবনে উবায়েদ আর-রুয়াইনী (র) বলেন, আমরা রুয়াইফে (রাঃ)-এর নিকট উপস্থিত হলাম। তিনি তখন আনতাবুলসের আমীর (শাসক)। এক ব্যক্তি এসে তাকে সালাম দিয়ে বললো, আসসালামু আলাল আমীর। আবদা (র) এর বর্ণনায় আছে, সে বললো, আসসালামু আলাইকা আয়্যুহাল আমীর। রুয়াইফে (রাঃ) তাকে বলেন, তুমি যদি আমাকেই সালাম দিতে তবে অবশ্যই আমি তোমার সালামের জবাব দিতাম। তুমি তো মিসরের শাসক মাসলামা ইবনে মুখাল্লিদকে সালাম দিয়েছো। তুমি তার নিকট যাও, তিনিই তোমার সালামের জবাব দিবেন। রাবী যিয়াদ (র) বলেন, আমরা তার ওখানে গেলে এবং তিনি মজলিসে উপস্থিত থাকলে আসসালামু আলাইকুম বলতাম।
[ আল-আদাবুল মুফরাদ - ১০৩৭ ]
حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ، قَالَ‏:‏ أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللهِ، قَالَ‏:‏ أَخْبَرَنَا حَيْوَةُ بْنُ شُرَيْحٍ قَالَ‏:‏ حَدَّثَنِي زِيَادُ بْنُ عُبَيْدٍ، بَطْنٌ مِنْ حِمْيَرٍ، قَالَ‏:‏ دَخَلْنَا عَلَى رُوَيْفِعٍ، وَكَانَ أَمِيرًا عَلَى أَنْطَابُلُسَ، فَجَاءَ رَجُلٌ فَسَلَّمَ عَلَيْهِ، وَنَحْنُ عِنْدَهُ، فَقَالَ‏:‏ السَّلاَمُ عَلَيْكَ أَيُّهَا الأَمِيرُ، فَقَالَ لَهُ رُوَيْفِعٌ‏:‏ لَوْ سَلَّمْتَ عَلَيْنَا لَرَدَدْنَا عَلَيْكَ السَّلاَمَ، وَلَكِنْ إِنَّمَا سَلَّمْتَ عَلَى مَسْلَمَةَ بْنِ مَخْلَدٍ، وَكَانَ مَسْلَمَةُ عَلَى مِصْرَ، اذْهَبْ إِلَيْهِ فَلْيَرُدَّ عَلَيْكَ السَّلاَمَ‏.‏
মিকদাদ ইবনুল আসওয়াদ (রাঃ) বলেন, নবী (সাঃ) রাতের বেলা এসে এমনভাবে সালাম দিতেন যে, ঘুমন্ত লোক জাগ্রত হতো নাসাঈ, অথচ জাগ্রত লোক তা শুনতে পেতো। (মুসলিম, তিরমিযী, আবু দাউদ)
[ আল-আদাবুল মুফরাদ - ১০৩৮ ]
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ الْمُغِيرَةِ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا ثَابِتٌ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنِ الْمِقْدَادِ بْنِ الأَسْوَدِ قَالَ‏:‏ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَجِيءُ مِنَ اللَّيْلِ، فَيُسَلِّمُ تَسْلِيمًا لاَ يُوقِظُ نَائِمًا، وَيُسْمِعُ الْيَقْظَانَ‏.‏
শাবী (র) থেকে বর্ণিত। উমার (রাঃ) আদী ইবনে হাতেম তাঈ (রাঃ) কে বলেন, সুনাম সহকারে আল্লাহ তোমায় দীর্ঘজীবি করুন।
[ আল-আদাবুল মুফরাদ - ১০৩৯ ]
حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَبَّاسٍ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، أَنَّ عُمَرَ قَالَ لِعَدِيِّ بْنِ حَاتِمٍ‏:‏ حَيَّاكَ اللَّهُ مِنْ مَعْرِفَةٍ‏.‏
আয়েশা (রাঃ) বলেন, ফাতেমা (রাঃ) পদব্রজে আসলেন। আর তার হাঁটার ভংগি ছিল নবী (সাঃ)-এর হাঁটার অনুরূপ। নবী (সাঃ) বলেনঃ মারহাবা (স্বাগতম), কন্যা আমার, অতঃপর তাকে নিজের ডান অথবা বামপাশে বসান। (বুখারী, মুসলিম)
[ আল-আদাবুল মুফরাদ - ১০৪০ ]
حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا زَكَرِيَّا، عَنْ فِرَاسٍ، عَنْ عَامِرٍ، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ‏:‏ أَقْبَلَتْ فَاطِمَةُ تَمْشِي كَأَنَّ مِشْيَتَهَا مَشْيُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ‏:‏ مَرْحَبًا بِابْنَتِي، ثُمَّ أَجْلَسَهَا عَنْ يَمِينِهِ، أَوْ عَنْ شِمَالِهِ‏.‏
আলী (র) বলেন, আম্মার (রাঃ) নবী (সাঃ)-এর সাক্ষাতের অনুমতি প্রার্থনা করেন। তিনি তার কণ্ঠস্বর চিনতে পেরে বলেনঃ এই পাক-পবিত্র ব্যক্তিকে স্বাগতম। (তিরমিযী, ইবনে মাজাহ, বুখারীর তারীখ)
[ আল-আদাবুল মুফরাদ - ১০৪১ ]
حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ هَانِئِ بْنِ هَانِئٍ، عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ‏:‏ اسْتَأْذَنَ عَمَّارٌ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، فَعَرَفَ صَوْتَهُ، فَقَالَ‏:‏ مَرْحَبًا بِالطَّيِّبِ الْمُطَيَّبِ‏.‏
আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাঃ) বলেন, একদা আমরা মক্কা ও মদীনার মধ্যবর্তী এক স্থানে একটি গাছের ছায়ায় নবী (সাঃ)-এর নিকট বসা ছিলাম। তখন এক কর্কশ ও কঠোর প্রকৃতির বেদুইন এসে বললো, আসসালামু আলাইকুম। লোকজন বললো, ওয়া আলাইকুম।
[ আল-আদাবুল মুফরাদ - ১০৪২ ]
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سُلَيْمَانَ قَالَ‏:‏ حَدَّثَنِي ابْنُ وَهْبٍ قَالَ‏:‏ أَخْبَرَنِي حَيْوَةُ، عَنْ عُقْبَةَ بْنِ مُسْلِمٍ، عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ‏:‏ بَيْنَمَا نَحْنُ جُلُوسٌ عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي ظِلِّ شَجَرَةٍ بَيْنَ مَكَّةَ وَالْمَدِينَةِ، إِذْ جَاءَ أَعْرَابِيٌّ مِنَ أَجْلَفِ النَّاسِ وَأَشَدِّهِمْ فَقَالَ‏:‏ السَّلامُ عَلَيْكُمْ، فَقَالُوا‏:‏ وَعَلَيْكُمُ‏.‏
আবু হামযা (র) বলেন, ইবনে আব্বাস (রাঃ) কে সালাম দেয়া হলে তার জবাবে আমি তাকে 'ওয়া আলাইকা ওয়া রহমাতুল্লাহ' বলতে শুনেছি।
[ আল-আদাবুল মুফরাদ - ১০৪৩ ]
حَدَّثَنَا حَامِدُ بْنُ عُمَرَ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ أَبِي جَمْرَةَ، سَمِعْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ إِذَا سُلِّمَ عَلَيْهِ يَقُولُ‏:‏ وَعَلَيْكَ، وَرَحْمَةُ اللهِ‏.‏
কাইলা (রাঃ) বলেন, এক ব্যক্তি বললো, আসসালামু আলাইকা ইয়া রাসূলাল্লাহ। তিনি বলেনঃ ওয়া আলাইকাস সালামু ওয়া রহমাতুল্লাহ। (ইবনে মানদা)
[ আল-আদাবুল মুফরাদ - ১০৪৪ ]
قَالَ أَبُو عَبْدِ اللهِ‏:‏ وَقَالَتْ قَيْلَةُ‏:‏ قَالَ رَجُلٌ‏:‏ السَّلاَمُ عَلَيْكَ يَا رَسُولَ اللهِ، قَالَ‏:‏ وَعَلَيْكَ السَّلاَمُ وَرَحْمَةُ اللهِ‏.‏
আবু যার (রাঃ) বলেন, আমি নবী (সাঃ) এর নিকট আসলাম। তখন তিনি সবেমাত্র নামায পড়ে অবসর হয়েছেন। আমিই প্রথম ব্যক্তি যে তাকে ইসলামী রীতিতে সালাম দিয়েছে। তিনি বলেনঃ ওয়া আলাইকা ওয়া রহমাতুল্লাহ। তুমি কোন গোত্রের লোক? আমি বললাম, গিফার গোত্রের। (মুসলিম)
[ আল-আদাবুল মুফরাদ - ১০৪৫ ]
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ الْمُغِيرَةِ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ هِلاَلٍ، عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ الصَّامِتِ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ قَالَ‏:‏ أَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم حِينَ فَرَغَ مِنْ صَلاَتِهِ، فَكُنْتُ أَوَّلَ مَنْ حَيَّاهُ بِتَحِيَّةِ الإِسْلاَمِ، فَقَالَ‏:‏ وَعَلَيْكَ، وَرَحْمَةُ اللهِ، مِمَّنْ أَنْتَ‏؟‏ قُلْتُ‏:‏ مِنْ غِفَارٍ‏.‏
আয়েশা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বললেনঃ হে আয়েশা! ইনি জিবরীল (আঃ) তোমাকে সালাম দিয়েছেন। তিনি বলেন, আমি বললাম, ওয়া আলাইহিস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। আমি যা দেখতে পাই না আপনি তা দেখতে পান। আয়েশা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-কে একথা বলেন। (বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ)
[ আল-আদাবুল মুফরাদ - ১০৪৬ ]
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ قَالَ‏:‏ حَدَّثَنِي اللَّيْثُ قَالَ‏:‏ حَدَّثَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ أَنَّهُ قَالَ‏:‏ قَالَ أَبُو سَلَمَةَ، أَنَّ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ‏:‏ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم‏:‏ يَا عَائِشُ، هَذَا جِبْرِيلُ، وَهُوَ يَقْرَأُ عَلَيْكِ السَّلاَمَ، قَالَتْ‏:‏ فَقُلْتُ‏:‏ وَعَلَيْهِ السَّلاَمُ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُهُ، تَرَى مَا لاَ أَرَى‏.‏ تُرِيدُ بِذَلِكَ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم‏.‏
মুয়াবিয়া ইবনে কুররা (র) বলেন, আমার পিতা আমাকে বললেন, হে বৎস! কোন ব্যক্তি তোমাকে অতিক্রমকালে তোমাকে আসসালামু আলাইকুম বললে তুমি শুধু 'ওয়া আলাইকা' (এবং তোমার উপরও) বলো না। কেননা তাতে কেবল তাকেই সালাম দিচ্ছে, অথচ সে একা নয়। বরং তুমি বলবে, আসসালামু আলাইকুম।
[ আল-আদাবুল মুফরাদ - ১০৪৭ ]
حَدَّثَنَا مَطَرٌ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا رَوْحُ بْنُ عُبَادَةَ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا بِسْطَامٌ قَالَ‏:‏ سَمِعْتُ مُعَاوِيَةَ بْنَ قُرَّةَ قَالَ‏:‏ قَالَ لِي أَبِي‏:‏ يَا بُنَيَّ، إِذَا مَرَّ بِكَ الرَّجُلُ فَقَالَ‏:‏ السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ، فَلاَ تَقُلْ‏:‏ وَعَلَيْكَ، كَأَنَّكَ تَخُصُّهُ بِذَلِكَ وَحْدَهُ، فَإِنَّهُ لَيْسَ وَحْدَهُ، وَلَكِنْ قُلِ‏:‏ السَّلامُ عَلَيْكُمْ‏.‏
আবদুল্লাহ ইবনুস সামিত (র) বলেন, আমি আবু যার (রাঃ) কে বললাম, আমি উম্মুল হাকামের পুত্র আবদুর রহমানের নিকট দিয়ে যেতে তাকে সালাম দিলাম, কিন্তু তিনি আমাকে কোন উত্তরই দেননি। তিনি বলেন, হে ভাইপো! তাতে তোমার কিছু যায় আসে না। তার চেয়েও উত্তম ব্যক্তি অর্থাৎ ডান পাশের ফেরেশতা তোমার সালামের উত্তর দিয়েছেন।
[ আল-আদাবুল মুফরাদ - ১০৪৮ ]
حَدَّثَنَا عَيَّاشُ بْنُ الْوَلِيدِ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا سَعِيدٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ هِلاَلٍ، عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ الصَّامِتِ قَالَ‏:‏ قُلْتُ لأَبِي ذَرٍّ‏:‏ مَرَرْتُ بِعَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أُمِّ الْحَكَمِ فَسَلَّمْتُ، فَمَا رَدَّ عَلَيَّ شَيْئًا‏؟‏ فَقَالَ‏:‏ يَا ابْنَ أَخِي، مَا يَكُونُ عَلَيْكَ مِنْ ذَلِكَ‏؟‏ رَدَّ عَلَيْكَ مَنْ هُوَ خَيْرٌ مِنْهُ، مَلَكٌ عَنْ يَمِينِهِ‏.‏
আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন, সালাম হলো আল্লাহর নামসমূহের মধ্যকার একটি নাম। তিনি তা পৃথিবীতে রেখেছেন। অতএব তোমরা পরস্পরের মধ্যে তার ব্যাপক প্রসার করো। কোন ব্যক্তি কোন লোকসমষ্টিকে সালাম দিলে এবং তারা তার জবাব দিলে তাদের চেয়ে তার একটি মর্যাদা বেশী হয়। কেননা সে তাদের আস-সালামকে (শান্তিদাতাকে) স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। যদি তারা তার সালামের উত্তর নাও দেয় তবে এমন একজন তার উত্তর দেন যিনি তার বা তাদের চেয়ে অধিক উত্তম ও পবিত্র। (বাযযার, তাবারানী, ইবনে আবু শায়বাহ)
[ আল-আদাবুল মুফরাদ - ১০৪৯ ]
حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ حَفْصٍ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا أَبِي، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ وَهْبٍ، عَنْ عَبْدِ اللهِ قَالَ‏:‏ إِنَّ السَّلاَمَ اسْمٌ مِنْ أَسْمَاءِ اللهِ، وَضَعَهُ اللَّهُ فِي الأَرْضِ، فَأَفْشُوهُ بَيْنَكُمْ، إِنَّ الرَّجُلَ إِذَا سَلَّمَ عَلَى الْقَوْمِ فَرَدُّوا عَلَيْهِ كَانَتْ لَهُ عَلَيْهِمْ فَضْلُ دَرَجَةٍ، لأَنَّهُ ذَكَّرَهُمُ السَّلاَمَ، وَإِنْ لَمْ يُرَدَّ عَلَيْهِ رَدَّ عَلَيْهِ مَنْ هُوَ خَيْرٌ مِنْهُ وَأَطْيَبُ‏.‏
হাসান (র) বলেন, সালাম দেয়া হলো নফল (ঐচ্ছিক)। কিন্তু তার উত্তর দেয়া ফরয (বাধ্যতামূলক)।
[ আল-আদাবুল মুফরাদ - ১০৫০ ]
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ هِشَامٍ، عَنِ الْحَسَنِ قَالَ‏:‏ التَّسْلِيمُ تَطَوَّعٌ، وَالرَّدُّ فَرِيضَةٌ‏.‏
আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রাঃ) বলেন, যে ব্যক্তি শপথ করে মিথ্যা বলে সে সবচেয়ে বড়ো মিথ্যাবাদী। যে ব্যক্তি সালাম দিতে কার্পণ্য করে সে মারাত্মক কৃপণ। যে ব্যক্তি নামায চুরি করে সে বড়ো চোর।
[ আল-আদাবুল মুফরাদ - ১০৫১ ]
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا فُضَيْلُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ قَالَ‏:‏ حَدَّثَنِي عُبَيْدُ اللهِ بْنُ سَلْمَانَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ قَالَ‏:‏ الْكَذُوبُ مَنْ كَذَبَ عَلَى يَمِينِهِ، وَالْبَخِيلُ مَنْ بَخِلَ بِالسَّلاَمِ، وَالسَّرُوقُ مَنْ سَرَقَ الصَّلاةَ‏.‏
আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, যে ব্যক্তি সালাম দিতে কার্পণ্য করে, সে সবচাইতে বড়ো কৃপণ। যে ব্যক্তি দোয়া করার ব্যাপারে অক্ষম, সে সবচেয়ে বড়ো অক্ষম।
[ আল-আদাবুল মুফরাদ - ১০৫২ ]
حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبَانَ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ، عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ‏:‏ أَبْخَلُ النَّاسِ الَّذِي يَبْخَلُ بِالسَّلاَمِ، وَإِنَّ أَعْجَزَ النَّاسِ مَنْ عَجَزَ بِالدُّعَاءِ‏.‏
আনাস ইবনে মালেক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বালকদের নিকট দিয়ে যেতে তাদেরকে সালাম দেন এবং বলেন, নবী (সাঃ) তাদের সাথে তাই করতেন। (বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, তিরমিযী)
[ আল-আদাবুল মুফরাদ - ১০৫৩ ]
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْجَعْدِ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ سَيَّارٍ، عَنْ ثَابِتٍ الْبُنَانِيِّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّهُ مَرَّ عَلَى صِبْيَانٍ فَسَلَّمَ عَلَيْهِمْ، وَقَالَ‏:‏ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَفْعَلُهُ بِهِمْ‏.‏
আনবাসা (র) বলেন, আমি ইবনে উমার (রাঃ) কে মক্তবের বালকদের সালাম দিতে দেখেছি।
[ আল-আদাবুল মুফরাদ - ১০৫৪ ]
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، عَنْ عَنْبَسَةَ قَالَ‏:‏ رَأَيْتُ ابْنَ عُمَرَ يُسَلِّمُ عَلَى الصِّبْيَانِ فِي الْكُتَّابِ‏.‏
উম্মু হানী (রাঃ) বলেন, আমি নবী (সাঃ)-এর নিকট গেলাম। তিনি তখন গোসল করছিলেন। আমি তাঁকে সালাম দিলে তিনি জিজ্ঞেস করেনঃ কে এই মহিলা ? আমি বললাম, উম্মু হানী। তিনি বলেনঃ মারহাবা-স্বাগতম। (বুখারী, মুসলিম)
[ আল-আদাবুল মুফরাদ - ১০৫৫ ]
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ يُوسُفَ، قَالَ‏:‏ أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ أَبِي النَّضْرِ، أَنَّ أَبَا مُرَّةَ مَوْلَى أُمِّ هَانِئِ ابْنَةِ أَبِي طَالِبٍ أَخْبَرَهُ، أَنَّهُ سَمِعَ أُمَّ هَانِئٍ تَقُولُ‏:‏ ذَهَبْتُ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ يَغْتَسِلُ، فَسَلَّمْتُ عَلَيْهِ، فَقَالَ‏:‏ مَنْ هَذِهِ‏؟‏ قُلْتُ‏:‏ أُمُّ هَانِئٍ، قَالَ‏:‏ مَرْحَبًا‏.‏
মুবারক (র) বলেন, আমি হাসান বসরী (র) কে বলতে শুনেছিঃ নারীরা পুরুষদেরকে সালাম দিতেন ।
[ আল-আদাবুল মুফরাদ - ১০৫৬ ]
حَدَّثَنَا مُوسَى، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا مُبَارَكٌ قَالَ‏:‏ سَمِعْتُ الْحَسَنَ يَقُولُ‏:‏ كُنَّ النِّسَاءُ يُسَلِّمْنَ عَلَى الرِّجَالِ‏.‏
আসমা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (সাঃ) মসজিদের ভিতর দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন একদল মহিলা তথায় বসা ছিলেন। তিনি হাতের ইশারায় তাদেরকে সালাম দেয়ার পর বলেনঃ তোমরা নিয়ামতপ্রাপ্তদের অকৃতজ্ঞতা থেকে সাবধান হও, তোমরা নিয়ামতপ্রাপ্তদের অকৃতজ্ঞতা থেকে সাবধান হও। তাদের একজন বলেন, হে আল্লাহর নবী। আমরা আল্লাহর কাছে তার দেয়া নিয়ামতরাজির প্রতি অকৃতজ্ঞ হওয়া থেকে আশ্রয় চাই। তিনি বলেনঃ হাঁ, তোমাদের কোন নারীর স্বামীর বিরহ-যন্ত্রনা দীর্ঘায়িত হলে সে অত্যন্ত অসন্তুষ্ট হয়ে বলে, আল্লাহর শপথ! আমি কখনো সামান্য সময়ের জন্যও তার থেকে কোন ভালো ব্যবহার পাইনি। এটাই হলো আল্লাহর দেয়া নিয়ামতের প্রতি অকৃতজ্ঞতা এবং এটাই হলো নিয়ামতপ্রাপ্তদের অকৃতজ্ঞতা। (আবু দাউদ, তিরমিযী, আহমাদ হাঃ ২৮১৪১)
[ আল-আদাবুল মুফরাদ - ১০৫৭ ]
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْحَمِيدِ بْنُ بَهْرَامَ، عَنْ شَهْرٍ قَالَ‏:‏ سَمِعْتُ أَسْمَاءَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم مَرَّ فِي الْمَسْجِدِ، وَعُصْبَةٌ مِنَ النِّسَاءِ قُعُودٌ، قَالَ بِيَدِهِ إِلَيْهِنَّ بِالسَّلاَمِ، فَقَالَ‏:‏ إِيَّاكُنَّ وَكُفْرَانَ الْمُنْعِمِينَ، إِيَّاكُنَّ وَكُفْرَانَ الْمُنْعِمِينَ، قَالَتْ إِحْدَاهُنَّ‏:‏ نَعُوذُ بِاللَّهِ، يَا نَبِيَّ اللهِ، مِنْ كُفْرَانِ نِعَمِ اللهِ، قَالَ‏:‏ بَلَى إِنَّ إِحْدَاكُنَّ تَطُولُ أَيْمَتُهَا، ثُمَّ تَغْضَبُ الْغَضْبَةَ فَتَقُولُ‏:‏ وَاللَّهِ مَا رَأَيْتُ مِنْهُ سَاعَةً خَيْرًا قَطُّ، فَذَلِكَ كُفْرَانُ نِعَمِ اللهِ، وَذَلِكَ كُفْرَانُ نِعَمِ الْمُنْعِمِينَ‏.‏
আসমা বিনতে ইয়াযীদ আল-আনসারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (সাঃ) আমাকে অতিক্রম করলেন। আমি তখন আমাদের মহিলাদের সাথে বসা ছিলাম। তিনি আমাদেরকে সালাম দেয়ার পর বলেনঃ নিয়ামতপ্রাপ্তদের অকৃতজ্ঞতা থেকে সাবধান হও। নারীদের মধ্যে আমি তার নিকট প্রশ্ন করতে খুবই নির্ভীক ছিলাম। অতএব আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! নিআমতপ্রাপ্তদের অকৃজ্ঞতা কি? তিনি বলেনঃ হয়তো তোমাদের কারো পিতা-মাতার ঘরে অবিবাহিত অবস্থায় দীর্ঘকাল অতিবাহিত হয়। অতঃপর আল্লাহ তাকে স্বামী দান করেন এবং তার ঔরসে তাকে সন্তানাদি দান করেন। তারপরও সে খুব অসন্তুষ্ট হয়ে অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে এবং বলে, আমি তোমার নিকট কখনো ভালো ব্যবহার পেলাম না (আহমাদ হাঃ ২৮১১৩) ।
[ আল-আদাবুল মুফরাদ - ১০৫৮ ]
حَدَّثَنَا مَخْلَدٌ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا مُبَشِّرُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، عَنِ ابْنِ أَبِي غَنِيَّةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ مُهَاجِرٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَسْمَاءَ ابْنَةِ يَزِيدَ الأَنْصَارِيَّةِ، مَرَّ بِيَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَأَنَا فِي جِوَارِ أَتْرَابٍ لِي، فَسَلَّمَ عَلَيْنَا وَقَالَ‏:‏ إِيَّاكُنَّ وَكُفْرَ الْمُنْعِمِينَ، وَكُنْتُ مِنْ أَجْرَئِهِنَّ عَلَى مَسْأَلَتِهِ، فَقُلْتُ‏:‏ يَا رَسُولَ اللهِ، وَمَا كُفْرُ الْمُنْعِمِينَ‏؟‏ قَالَ‏:‏ لَعَلَّ إِحْدَاكُنَّ تَطُولُ أَيْمَتُهَا مِنْ أَبَوَيْهَا، ثُمَّ يَرْزُقُهَا اللَّهُ زَوْجًا، وَيَرْزُقُهَا مِنْهُ وَلَدًا، فَتَغْضَبُ الْغَضْبَةَ فَتَكْفُرُ فَتَقُولُ‏:‏ مَا رَأَيْتُ مِنْكَ خَيْرًا قَطُّ‏.‏
তারিক ইবনে শিহাব (র) বলেন, আমরা আবদুল্লাহ (রাঃ)-র নিকট বসা ছিলাম। এমতাবস্থায় তার সংবাদ বাহক এসে বললো যে, নামাযের জামাআত শুরু হয়ে গেছে। অতএব তিনিও উঠলেন এবং আমরাও তার সাথে উঠে মসজিদে প্রবেশ করলাম। তিনি লোকদেরকে মসজিদে সম্মুখভাগে রুকু অবস্থায় দেখলেন। তিনি তাকবীর (তাহরীমা) বলে রুকূ করলেন। আমরাও সামনে অগ্রসর হয়ে তার অনুরূপ করলাম। এক ব্যক্তি দ্রুতবেগে যেতে যেতে বললো, হে আবদুর রহমানের পিতা! আসসালামু আলাইকুম। তিনি বলেন, আল্লাহ তাআলা সত্য বলেছেন এবং তার রাসূল (সাঃ) পূর্ণরূপে পৌছে দিয়েছেন। আমরা নামায শেষ করলে তিনি ফিরে গিয়ে তার অন্দরমহলে চলে গেলেন এবং আমরা তার (ফিরে আসার) অপেক্ষায় স্বস্থানে বসে থাকলাম। শেষে তিনি বের হয়ে এলেন। আমাদের কতক কতককে বললো, তোমাদের কে তাঁকে জিজ্ঞেস করবে? তারিক (র) বলেন, আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করবো। অতএব তিনি জিজ্ঞেস করলে আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন, মহানবী (সাঃ) বলেছেনঃ কিয়ামতের নিকটবর্তী কালে লোক বিশেষকে নির্দিষ্ট করে সালাম দেয়ার প্রচলন হবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে, ফলে স্বামীর ব্যবসায়ে স্ত্রীও সহযোগিতা করবে। রক্ত সম্পৰ্কীয় আত্মীয়তা ছিন্ন করা হবে। জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রসার ঘটবে, মিথ্যা সাক্ষ্যদানের প্রচলন হবে এবং সত্য সাক্ষ্য গোপন করা হবে। (আহমদঃ ৩৮৭০)
[ আল-আদাবুল মুফরাদ - ১০৫৯ ]
حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، عَنْ بَشِيرِ بْنِ سَلْمَانَ، عَنْ سَيَّارٍ أَبِي الْحَكَمِ، عَنْ طَارِقٍ قَالَ‏:‏ كُنَّا عِنْدَ عَبْدِ اللهِ جُلُوسًا، فَجَاءَ آذِنُهُ فَقَالَ‏:‏ قَدْ قَامَتِ الصَّلاَةُ، فَقَامَ وَقُمْنَا مَعَهُ، فَدَخَلْنَا الْمَسْجِدَ، فَرَأَى النَّاسَ رُكُوعًا فِي مُقَدَّمِ الْمَسْجِدِ، فَكَبَّرَ وَرَكَعَ، وَمَشَيْنَا وَفَعَلْنَا مِثْلَ مَا فَعَلَ، فَمَرَّ رَجُلٌ مُسْرِعٌ فَقَالَ‏:‏ عَلَيْكُمُ السَّلاَمُ يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ، فَقَالَ‏:‏ صَدَقَ اللَّهُ، وَبَلَّغَ رَسُولُهُ، فَلَمَّا صَلَّيْنَا رَجَعَ، فَوَلَجَ عَلَى أَهْلِهِ، وَجَلَسْنَا فِي مَكَانِنَا نَنْتَظِرُهُ حَتَّى يَخْرُجَ، فَقَالَ بَعْضُنَا لِبَعْضٍ‏:‏ أَيُّكُمْ يَسْأَلُهُ‏؟‏ قَالَ طَارِقٌ‏:‏ أَنَا أَسْأَلُهُ، فَسَأَلَهُ، فَقَالَ‏:‏ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ‏:‏ بَيْنَ يَدَيِ السَّاعَةِ‏:‏ تَسْلِيمُ الْخَاصَّةِ، وَفُشُوُّ التِّجَارَةِ حَتَّى تُعِينَ الْمَرْأَةُ زَوْجَهَا عَلَى التِّجَارَةِ، وَقَطْعُ الأَرْحَامِ، وَفُشُوُّ الْقَلَمِ، وَظُهُورُ الشَّهَادَةِ بِالزُّورِ، وَكِتْمَانُ شَهَادَةِ الْحَقِّ‏.‏
আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলো, কোন ইসলাম উত্তম? তিনি বলেনঃ তোমার পরিচিত ও অপরিচিতজনকে তোমার আহার করানো এবং সালাম দেয়া। (বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ)
[ আল-আদাবুল মুফরাদ - ১০৬০ ]
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ صَالِحٍ قَالَ‏:‏ حَدَّثَنِي اللَّيْثُ قَالَ‏:‏ حَدَّثَنِي يَزِيدُ بْنُ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ أَبِي الْخَيْرِ، عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو، أَنَّ رَجُلاً سَأَلَ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم‏:‏ أَيُّ الإِسْلاَمِ خَيْرٌ‏؟‏ قَالَ‏:‏ تُطْعِمُ الطَّعَامَ، وَتَقْرَأُ السَّلاَمَ عَلَى مَنْ عَرَفْتَ وَمَنْ لَمْ تَعْرِفْ‏.‏

Execution time: 0.06 render + 0.00 s transfer.