Login | Register

আল-আদাবুল মুফরাদ: সালাম বিনিময়

Double clicking on an arabic word shows its dictionary entry
আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (সাঃ) বলেনঃ আল্লাহ তাআলা আদম (আঃ) কে সৃষ্টি করলেন। তাঁর উচ্চতা ছিল ষাট হাত। আল্লাহ তাআলা তাঁকে বলেন, যাও, উপবিষ্ট ঐ ফেরেশতার দলকে সালাম দাও এবং তারা তোমার সালামের কি জবাব দেয় তা মনোযোগ সহকারে শোনো। কেননা এটাই হবে তোমার ও তোমার সন্তানদের সালাম (সম্ভাষণ)। আদম (আঃ) গিয়ে বলেন, আসসালামু আলাইকুম (আপনাদের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক)। ফেরেশতাগণ জবাব দিলেন, আসসালামু আলাইকা ওয়া রহমাতুল্লাহ (আপনার উপরও শান্তি ও আল্লাহর রহমাত বর্ষিত হোক)। ফেরেশতাগণ 'ওয়া রহমাতুল্লাহি' বাড়িয়ে বলেন। যে ব্যক্তি বেহেশতে যাবে সেই হবে আদম (আঃ) এর আকৃতি বিশিষ্ট। তখন থেকে বর্তমান কাল পর্যন্ত মানুষের দেহাবয়ব (উচ্চতাবারানী) ক্রমাগত হ্রাস পেয়ে আসছে। (বুখারী, মুসলিম)
[ আল-আদাবুল মুফরাদ - ৯৮৭ ]
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، قَالَ‏:‏ أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ هَمَّامٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ‏:‏ خَلَقَ اللَّهُ آدَمَ صلى الله عليه وسلم عَلَى صُورَتِهِ، وَطُولُهُ سِتُّونَ ذِرَاعًا، ثُمَّ قَالَ‏:‏ اذْهَبْ، فَسَلِّمْ عَلَى أُولَئِكَ، نَفَرٌ مِنَ الْمَلاَئِكَةِ جُلُوسٌ، فَاسْتَمِعْ مَا يُحَيُّونَكَ بِهِ فَإِنَّهَا تَحِيَّتُكَ وَتَحِيَّةُ ذُرِّيَّتِكَ، فَقَالَ‏:‏ السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ، فَقَالُوا‏:‏ السَّلاَمُ عَلَيْكَ وَرَحْمَةُ اللهِ، فَزَادُوهُ‏:‏ وَرَحْمَةُ اللهِ، فَكُلُّ مَنْ يَدْخُلُ الْجَنَّةَ عَلَى صُورَتِهِ، فَلَمْ يَزَلْ يَنْقُصُ الْخَلْقُ حَتَّى الآنَ‏.‏
বারাআ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (সাঃ) বলেনঃ তোমরা সালামের বহুল প্রসার করো, তাহলে শান্তি ও নিরাপত্তা লাভ করবে (মুসনাদ আহমাদ, ইবনে হিব্বান)।
[ আল-আদাবুল মুফরাদ - ৯৮৮ ]
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ، عَنْ قِنَانَ بْنِ عَبْدِ اللهِ النَّهْمِيِّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْسَجَةَ، عَنِ الْبَرَاءِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ‏:‏ أَفْشُوا السَّلامَ تَسْلَمُوا‏.‏
আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (সাঃ) বলেনঃ তোমরা ঈমানদার না হওয়া পর্যন্ত বেহেশতে প্রবেশ করতে পারবে না। তোমরা পরস্পরকে মহব্বত না করা পর্যন্ত ঈমানদার হতে পারবে না। আমি কি তোমাদের এমন জিনিস জ্ঞাত করবো না, যাতে তোমাদের পরস্পরের মধ্যে মহব্বত সৃষ্টি হয়? সাহাবাগণ বলেন, নিশ্চয় ইয়া রাসূলাল্লাহ! তিনি বলেনঃ তোমাদের মধ্যে সালামের বহুল প্রসার ঘটাও। (মুসলিম)
[ আল-আদাবুল মুফরাদ - ৯৮৯ ]
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدِ اللهِ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي حَازِمٍ، وَالْقَعْنَبِيُّ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ، عَنِ الْعَلاَءِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ‏:‏ لاَ تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ حَتَّى تُؤْمِنُوا، وَلاَ تُؤْمِنُوا حَتَّى تَحَابُّوا، أَلاَ أَدُلُّكُمْ عَلَى مَا تَحَابُّونَ بِهِ‏؟‏ قَالُوا‏:‏ بَلَى، يَا رَسُولَ اللهِ، قَالَ‏:‏ أَفْشُوا السَّلامَ بَيْنَكُمْ‏.‏
আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ তোমরা দয়াময় রহমানের ইবাদত করো, মানুষকে আহার করাও এবং সালামের বহুল প্রচলন করো, তাহলে জান্নাতসমূহে প্রবেশ করতে পারবে। (তিরমিযী, ইবনে মাজাহ, দারিমী, আহমাদ, ইবনে হিব্বান)
[ আল-আদাবুল মুফরাদ - ৯৯০ ]
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلاَمٍ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلِ بْنِ غَزْوَانَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ‏:‏ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم‏:‏ اعْبُدُوا الرَّحْمَنَ، وَأَطْعِمُوا الطَّعَامَ، وَأَفْشُوا السَّلاَمَ، تَدْخُلُوا الْجِنَانَ‏.‏
বশীর ইবনে ইয়াসার (র) বলেন, ইবনে উমার (রাঃ) কে তার আগে কেউ সালাম দিতে পারতো না। (আবু আওয়ানা, ইবনে হিব্বান)
[ আল-আদাবুল মুফরাদ - ৯৯১ ]
حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ عُبَيْدٍ، عَنْ بُشَيْرِ بْنِ يَسَارٍ قَالَ‏:‏ مَا كَانَ أَحَدٌ يَبْدَأُ، أَوْ يَبْدُرُ، ابْنَ عُمَرَ بِالسَّلامِ‏.‏
জাবের (রাঃ) বলেন, আরোহী ব্যক্তি পদব্রজে গমনকারীকে সালাম দিবে এবং পদব্রজে গমনকারী বসা ব্যক্তিকে সালাম দিবে। আর দুই পথচারীর মধ্যে যে প্রথম সালাম দিবে সে অধিক উত্তম।
[ আল-আদাবুল মুফরাদ - ৯৯২ ]
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلاَمٍ، قَالَ‏:‏ أَخْبَرَنَا مَخْلَدُ بْنُ يَزِيدَ، قَالَ‏:‏ أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ قَالَ‏:‏ أَخْبَرَنِي أَبُو الزُّبَيْرِ، أَنَّهُ سَمِعَ جَابِرًا يَقُولُ‏:‏ يُسَلِّمُ الرَّاكِبُ عَلَى الْمَاشِي، وَالْمَاشِي عَلَى الْقَاعِدِ، وَالْمَاشِيَانِ أَيُّهُمَا يَبْدَأُ بِالسَّلامِ فَهُوَ أَفْضَلُ‏.‏
নাফে (র) থেকে বর্ণিত। ইবনে উমার (র) তাকে অবহিত করেন যে, মুযায়না গোত্রের আল-আগারর (রাঃ) নবী (সাঃ)-এর সাহাবী ছিলেন। আমর ইবনে আওফ গোত্রের এক ব্যক্তির নিকট তার কয়েক ওয়াসাক খেজুর পাওনা ছিল। তিনি এজন্য বেশ কয়েক বার তাকে তাগাদাও দেন। তিনি বলেন, আমি নবী (সাঃ)-এর নিকট গেলে তিনি আমার সাথে আবু বাকর সিদ্দীক (রাঃ)-কে পাঠান। তিনি বলেন, (পথিমধ্যে যার সাথেই) আমাদের সাক্ষাত হয়েছে তারাই আগে আমাদের সালাম দিয়েছে। আবু বাকর (রাঃ) বলেন, তুমি কি লক্ষ্য করছে না যে, লোকজন তোমাকে আগে সালাম দিচ্ছে এবং তাদের সওয়াব হচ্ছে? তুমি আগে তাদেরকে সালাম দাও, তোমার সওয়াব হবে। ইবনে উমার (রাঃ) এটাকে নিজের ঘটনা বলেছেন। (তাবারানী)
[ আল-আদাবুল মুফরাদ - ৯৯৩ ]
حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ قَالَ‏:‏ حَدَّثَنِي أَخِي، عَنْ سُلَيْمَانَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ أَبِي عَتِيقٍ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ ابْنَ عُمَرَ أَخْبَرَهُ، أَنَّ الأَغَرَّ، وَهُوَ رَجُلٌ مِنْ مُزَيْنَةَ، وَكَانَتْ لَهُ صُحْبَةٌ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، كَانَتْ لَهُ أَوْسُقٌ مِنْ تَمْرٍ عَلَى رَجُلٍ مِنْ بَنِي عَمْرِو بْنِ عَوْفٍ، اخْتَلَفَ إِلَيْهِ مِرَارًا، قَالَ‏:‏ فَجِئْتُ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، فَأَرْسَلَ مَعِي أَبَا بَكْرٍ الصِّدِّيقَ، قَالَ‏:‏ فَكُلُّ مَنْ لَقِينَا سَلَّمُوا عَلَيْنَا، فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ‏:‏ أَلاَ تَرَى النَّاسَ يَبْدَأُونَكَ بِالسَّلاَمِ فَيَكُونُ لَهُمُ الأَجْرُ‏؟‏ ابْدَأْهُمْ بِالسَّلاَمِ يَكُنْ لَكَ الأَجْرُ يُحَدِّثُ هَذَا ابْنُ عُمَرَ عَنْ نَفْسِهِ‏.‏
আবু আইউব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেনঃ কোন মুসলমানের জন্য তার অপর মুসলমান ভাইয়ের সাথে তিন দিনের বেশী সম্পর্ক ছিন্ন করে থাকা হালাল নয়। অবস্থা এই দাঁড়ায় যে, তাদের দু'জনের সাক্ষাত হলে একজন এদিকে এবং অপরজন ঐদিকে মুখ ঘুরিয়ে নেয়। তাদের মধ্যে উত্তম সেই ব্যক্তি যে আগে সালাম দেয়। (বুখারী, মুসলিম, দারিমী, তিরমিযী)
[ আল-আদাবুল মুফরাদ - ৯৯৪ ]
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ يُوسُفَ، وَالْقَعْنَبِيُّ، قَالاَ‏:‏ أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ أَبِي أَيُّوبَ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ‏:‏ لاَ يَحِلُّ لِامْرِئٍ مُسْلِمٍ أَنْ يَهْجُرَ أَخَاهُ فَوْقَ ثَلاَثٍ، فَيَلْتَقِيَانِ فَيُعْرِضُ هَذَا وَيُعْرِضُ هَذَا، وَخَيْرُهُمَا الَّذِي يَبْدَأُ بِالسَّلامِ‏.‏
আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি নবী (সাঃ)-এর নিকট দিয়ে যাচ্ছিল। তিনি তখন এক মজলিসে ছিলেন। সে বললো, আসসালামু আলাইকুম। নবী (সাঃ) বলেনঃ দশটি নেকী। অতঃপর অপর এক ব্যক্তি ঐ পথে যেতে বললো, আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। নবী (সাঃ) বলেনঃ বিশ নেকী। আরেক ব্যক্তি সেখান দিয়ে যেতে বললো, আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ ওয়া বারাকাতুহ। নবী (সাঃ) বলেনঃ তিরিশ নেকী। অতঃপর এক ব্যক্তি মজলিস থেকে উঠে চলে গেলো, কিন্তু সালাম দিলো না। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেনঃ হয়তো তোমাদের সাথী (সালামের মর্যাদা) বিস্তৃত হয়েছে। তোমাদের কেউ মজলিসে এসে পৌছলে যেন সালাম দেয়। তারপর মজলিসে বসার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলে সে বসবে। আবার সে যখন চলে যাবে তখনও যেন সালাম দেয়। কেননা পরের সালাম পূর্বের সালামের চেয়ে কম মর্যাদাপূর্ণ নয়। (তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনে হিব্বান, আহমাদ, আবু দাউদ)
[ আল-আদাবুল মুফরাদ - ৯৯৫ ]
حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ عَبْدِ اللهِ قَالَ‏:‏ حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ يَعْقُوبَ بْنِ زَيْدٍ التَّيْمِيِّ، عَنْ سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَجُلاً مَرَّ عَلَى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ فِي مَجْلِسٍ فَقَالَ‏:‏ السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ، فَقَالَ‏:‏ عَشْرُ حَسَنَاتٍ، فَمَرَّ رَجُلٌ آخَرُ فَقَالَ‏:‏ السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللهِ، فَقَالَ‏:‏ عِشْرُونَ حَسَنَةً، فَمَرَّ رَجُلٌ آخَرُ فَقَالَ‏:‏ السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُهُ، فَقَالَ‏:‏ ثَلاَثُونَ حَسَنَةً، فَقَامَ رَجُلٌ مِنَ الْمَجْلِسِ وَلَمْ يُسَلِّمْ، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم‏:‏ مَا أَوْشَكَ مَا نَسِيَ صَاحِبُكُمْ، إِذَا جَاءَ أَحَدُكُمُ الْمَجْلِسَ فَلْيُسَلِّمْ، فَإِنْ بَدَا لَهُ أَنْ يَجْلِسَ فَلْيَجْلِسْ، وَإِذَا قَامَ فَلْيُسَلِّمْ، مَا الأُولَى بِأَحَقَّ مِنَ الآخِرَةِ‏.‏
উমার (রাঃ) বলেন, আমি বাহনের পেছন দিকে আবু বাকর (রাঃ) এর সফরসংগী ছিলাম। তিনি যে কোন জনসমষ্টিকে অতিক্রম করেন তাদেরকে আসসালামু আলাইকুম বলেন। তারা বললো, ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। আর তিনি আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ বললে তারা বলে, আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। আবু বাকর (রাঃ) বলেন, লোকজন আজ আমাদের চেয়ে অনেক বেশী সওয়াবের অধিকারী হলো।
[ আল-আদাবুল মুফরাদ - ৯৯৬ ]
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ مَيْسَرَةَ، عَنْ زَيْدِ بْنِ وَهْبٍ، عَنْ عُمَرَ قَالَ‏:‏ كُنْتُ رَدِيفَ أَبِي بَكْرٍ، فَيَمُرُّ عَلَى الْقَوْمِ فَيَقُولُ‏:‏ السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ، فَيَقُولُونَ‏:‏ السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللهِ، وَيَقُولُ‏:‏ السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللهِ، فَيَقُولُونَ‏:‏ السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُهُ، فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ‏:‏ فَضَلَنَا النَّاسُ الْيَوْمَ بِزِيَادَةٍ كَثِيرَةٍ‏.‏
আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (সাঃ) বলেনঃ ইহুদীরা তোমাদের কোন ব্যাপারে এতো বেশী ঈর্ষান্বিত নয় যতোটা তারা তোমাদের সালাম ও আমীনের ব্যাপারে ঈর্ষান্বিত। (ইবনে মাজাহ হাঃ ৮৫৬)
[ আল-আদাবুল মুফরাদ - ৯৯৭ ]
حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ، قَالَ‏:‏ أَخْبَرَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، عَنْ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ‏:‏ مَا حَسَدَكُمُ الْيَهُودُ عَلَى شَيْءٍ مَا حَسَدُوكُمْ عَلَى السَّلامِ وَالتَّأْمِينِ‏.‏
আনাস (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ সালাম হলো আল্লাহ তাআলার নামসমূহের একটি। তিনি দুনিয়াবাসীদের জন্য তা দান করেছেন। অতএব তোমরা নিজেদের মধ্যে সালামের বহুল প্রচলন করো। (তাবারানী, বাযযার)
[ আল-আদাবুল মুফরাদ - ৯৯৮ ]
حَدَّثَنَا شِهَابٌ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ حُمَيْدٍ، عَنْ أَنَسٍ قَالَ‏:‏ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم‏:‏ إِنَّ السَّلامَ اسْمٌ مِنْ أَسْمَاءِ اللهِ تَعَالَى، وَضَعَهُ اللَّهُ فِي الأَرْضِ، فَأَفْشُوا السَّلامَ بَيْنَكُمْ‏.‏
ইবনে মাসউদ (রাঃ) বলেন, লোকজন নবী (সাঃ) এর পেছনে নামায পড়ছিলো। এক ব্যক্তি বললো, আসসালামু আলাল্লাহ (আল্লাহর প্রতি সালাম)। নবী (সাঃ) নামায শেষে জিজ্ঞেস করেনঃ আসসালামু আলাল্লাহ কে বলেছে? নিশ্চয় আল্লাহ হলেন সালাম (শান্তিদাতাবারানী)। বরং তোমরা বলো, 'আত্তাহিয়্যাতু লিল্লাহি....... আবদুহু ওয়া রাসূলুল্লাহু'। 'সমস্ত সম্মান, ইবাদত, উপাসনা এবং পবিত্রতা আল্লাহর জন্য। হে নবী! আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক, আল্লাহর রহমাত এবং প্রাচুর্যও। আমাদের উপর এবং আল্লাহর নেক বান্দাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নাই। আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি, মুহাম্মাদ তার বান্দাহ ও রাসূল'। রাবী বলেন, সাহাবীগণ তা এতো গুরুত্ব সহকারে শিক্ষা করতেন, যেমন তোমাদের কেউ কুরআনের সূরা শিক্ষা করে। (বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ)
[ আল-আদাবুল মুফরাদ - ৯৯৯ ]
حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا مُحِلٌّ قَالَ‏:‏ سَمِعْتُ شَقِيقَ بْنَ سَلَمَةَ أَبَا وَائِلٍ يَذْكُرُ، عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ قَالَ‏:‏ كَانُوا يُصَلُّونَ خَلْفَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ الْقَائِلُ‏:‏ السَّلاَمُ عَلَى اللهِ، فَلَمَّا قَضَى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم صَلاَتَهُ قَالَ‏:‏ مَنِ الْقَائِلُ‏:‏ السَّلاَمُ عَلَى اللهِ‏؟‏ إِنَّ اللَّهَ هُوَ السَّلاَمُ، وَلَكِنْ قُولُوا‏:‏ التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ، السَّلاَمُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُهُ، السَّلاَمُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللهِ الصَّالِحِينَ، أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ قَالَ‏:‏ وَقَدْ كَانُوا يَتَعَلَّمُونَهَا كَمَا يَتَعَلَّمُ أَحَدُكُمُ السُّورَةَ مِنَ الْقُرْآنِ‏.‏
আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (সাঃ) বলেনঃ এক মুসলমানের উপর অপর মুসলমানের পাঁচটি কর্তব্য রয়েছে। জিজ্ঞেস করা হলো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তা কি কি? তিনি বলেনঃ (১) তুমি তার সাথে সাক্ষাত করলে তাকে সালাম দিবে। (২) সে তোমাকে দাওয়াত দিলে তুমি তার দাওয়াত কবুল করবে। (৩) সে তোমার কাছে পরামর্শ বা উপদেশ চাইলে তুমি তাকে সৎ পরামর্শ বা সদুপদেশ দিবে। (৪) সে হাঁচি দিয়ে আলহামদু লিল্লাহ বললে তুমি তার হাঁচির জবাব দিবে। (৫) সে মারা গেলে তুমি তার সংগী হবে (জানাযা পড়বে ও দাফন করবে)। (বুখারী, মুসলিম)
[ আল-আদাবুল মুফরাদ - ১০০০ ]
حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا مَالِكٌ، عَنِ الْعَلاَءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ‏:‏ حَقُّ الْمُسْلِمِ عَلَى الْمُسْلِمِ سِتٌّ، قِيلَ‏:‏ وَمَا هِيَ‏؟‏ قَالَ‏:‏ إِذَا لَقِيتُهُ فَسَلِّمْ عَلَيْهِ، وَإِذَا دَعَاكَ فَأَجِبْهُ، وَإِذَا اسْتَنْصَحَكَ فَانْصَحْ لَهُ، وَإِذَا عَطَسَ فَحَمِدَ اللَّهَ فَشَمِّتْهُ، وَإِذَا مَرِضَ فَعُدْهُ، وَإِذَا مَاتَ فَاصْحَبْهُ‏.‏
আবদুর রহমান ইবনে শিবল (রাঃ) বলেন, আমি নবী (সাঃ)-কে বলতে শুনেছিঃ আরোহী যেন পদচারীকে সালাম দেয়। পদচারী যেন উপবিষ্ট ব্যক্তিকে সালাম দেয়, অল্প সংখ্যক যেন বেশি সংখ্যককে সালাম দেয়। যে ব্যক্তি সালামের জবাব দিলো তার সওয়াব তাদের জন্য আর যে ব্যক্তি সালামের জবাব দিলো না তার জন্য কিছুই নাই। (আহমাদ)
[ আল-আদাবুল মুফরাদ - ১০০১ ]
حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ الرَّبِيعِ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ يَحْيَى، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ سَلاَّمٍ، عَنْ جَدِّهِ أَبِي سَلاَّمٍ، عَنْ أَبِي رَاشِدٍ الْحُبْرَانِيِّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ شِبْلٍ قَالَ‏:‏ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ‏:‏ لِيُسَلِّمِ الرَّاكِبُ عَلَى الرَّاجِلِ، وَلْيُسَلِّمِ الرَّاجِلُ عَلَى الْقَاعِدِ، وَلْيُسَلِّمِ الأَقَلُّ عَلَى الأَكْثَرِ، فَمَنْ أَجَابَ السَّلاَمَ فَهُوَ لَهُ، وَمَنْ لَمْ يُجِبْ فَلا شَيْءَ لَهُ‏.‏
আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেনঃ আরোহী পদচারীকে সালাম দিবে, পদচারী উপবিষ্ট ব্যক্তিকে সালাম দিবে এবং কম সংখ্যক বেশী সংখ্যককে সালাম দিবে। (বুখারী, মুসলিম)
[ আল-আদাবুল মুফরাদ - ১০০২ ]
حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ، قَالَ‏:‏ أَخْبَرَنَا رَوْحُ بْنُ عُبَادَةَ قَالَ‏:‏ أَخْبَرَنِي ابْنُ جُرَيْجٍ قَالَ‏:‏ أَخْبَرَنِي زِيَادٌ، أَنَّ ثَابِتًا أَخْبَرَهُ، وَهُوَ مَوْلَى عَبْدِ الرَّحْمَنِ، يَرْوِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ‏:‏ يُسَلِّمُ الرَّاكِبُ عَلَى الْمَاشِي، وَالْمَاشِي عَلَى الْقَاعِدِ، وَالْقَلِيلُ عَلَى الْكَثِيرِ‏.‏
জাবের (রাঃ) বলেন, দুইজন পদচারী একত্র হলে তাদের মধ্যে যে আগে সালাম দেয় সে অধিক উত্তম ।
[ আল-আদাবুল মুফরাদ - ১০০৩ ]
قَالَ ابْنُ جُرَيْجٍ‏:‏ فَأَخْبَرَنِي أَبُو الزُّبَيْرِ، أَنَّهُ سَمِعَ جَابِرًا يَقُولُ‏:‏ الْمَاشِيَانِ إِذَا اجْتَمَعَا فَأَيُّهُمَا بَدَأَ بِالسَّلاَمِ فَهُوَ أَفْضَلُ‏.‏
আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেনঃ আরোহী পদচারীকে সালাম দিবে, পদচারী উপবিষ্ট ব্যক্তিকে সালাম দিবে এবং কম সংখ্যক বেশী সংখ্যককে সালাম দিবে। (বুখারী, মুসলিম)
[ আল-আদাবুল মুফরাদ - ১০০৪ ]
حَدَّثَنَا نُعَيْمُ بْنُ حَمَّادٍ، قَالَ‏:‏ أَخْبَرَنَا ابْنُ الْمُبَارَكِ، قَالَ‏:‏ أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ هَمَّامٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ‏:‏ يُسَلِّمُ الرَّاكِبُ عَلَى الْمَاشِي، وَالْمَاشِي عَلَى الْقَاعِدِ، وَالْقَلِيلُ عَلَى الْكَثِيرِ‏.‏
ফাদালা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (সাঃ) বলেনঃ অশ্বারোহী উপবিষ্ট ব্যক্তিকে সালাম দিবে এবং কম সংখ্যক বেশী সংখ্যককে সালাম দিবে। (তিরমিযী, নাসাঈ, দারিমী, ইবনে হিব্বান)
[ আল-আদাবুল মুফরাদ - ১০০৫ ]
حَدَّثَنَا أَصْبَغُ قَالَ‏:‏ أَخْبَرَنِي ابْنُ وَهْبٍ قَالَ‏:‏ أَخْبَرَنِي ابْنُ هَانِئٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مَالِكٍ، عَنْ فَضَالَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ‏:‏ يُسَلِّمُ الْفَارِسُ عَلَى الْقَاعِدِ، وَالْقَلِيلُ عَلَى الْكَثِيرِ‏.‏
হুসাইন (র) থেকে বর্ণিত। এক অশ্বারোহীর সাথে শাবী (র) এর সাক্ষাত হলে তিনি তাকে প্রথমে সালাম দেন। আমি বললাম, আপনি তাকে প্রথমে সালাম দিলেন? তিনি বলেন, আমি শুরায়হ (রাঃ) কে পদব্ৰজে যেতে প্রথমে সালাম দিতে দেখেছি।
[ আল-আদাবুল মুফরাদ - ১০০৬ ]
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، قَالَ‏:‏ أَخْبَرَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ كَثِيرٍ، عَنْ حُصَيْنٍ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، أَنَّهُ لَقِيَ فَارِسًا فَبَدَأَهُ بِالسَّلاَمِ، فَقُلْتُ‏:‏ تَبْدَأُهُ بِالسَّلاَمِ‏؟‏ قَالَ‏:‏ رَأَيْتُ شُرَيْحًا مَاشِيًا يَبْدَأُ بِالسَّلامِ‏.‏
ফাদালা ইবনে উবায়েদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (সাঃ) বলেনঃ আরোহী পদচারীকে পদচারী উপবিষ্টকে এবং কম সংখ্যক বেশী সংখ্যককে সালাম দিবে। (তিরমিযী, নাসাঈ, আহমাদ, দারিমী, ইবনে হিব্বান)
[ আল-আদাবুল মুফরাদ - ১০০৭ ]
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ يَزِيدَ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا حَيْوَةُ قَالَ‏:‏ أَخْبَرَنِي حُمَيْدٌ أَبُو هَانِئٍ، أَنَّ أَبَا عَلِيٍّ الْجَنْبِيَّ حَدَّثَهُ، عَنْ فَضَالَةَ بْنِ عُبَيْدٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ‏:‏ يُسَلِّمُ الرَّاكِبُ عَلَى الْمَاشِي، وَالْمَاشِي عَلَى الْقَاعِدِ، وَالْقَلِيلُ عَلَى الْكَثِيرِ‏.‏
ফাদালা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেনঃ অশ্বরোহী পদচারীকে, পদচারী দণ্ডায়মান ব্যক্তিকে এবং কম সংখ্যক বেশী সংখ্যককে সালাম দিবে। (ইবনে হিব্বান)
[ আল-আদাবুল মুফরাদ - ১০০৮ ]
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللهِ، قَالَ‏:‏ أَخْبَرَنَا حَيْوَةُ بْنُ شُرَيْحٍ قَالَ‏:‏ أَخْبَرَنِي أَبُو هَانِئٍ الْخَوْلاَنِيُّ، عَنْ أَبِي عَلِيٍّ الْجَنْبِيِّ، عَنْ فَضَالَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ‏:‏ يُسَلِّمُ الْفَارِسُ عَلَى الْمَاشِي، وَالْمَاشِي عَلَى الْقَائِمِ، وَالْقَلِيلُ عَلَى الْكَثِيرِ‏.‏
আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ আরোহী পদচারীকে, পদচারী উপবিষ্ট ব্যক্তিকে এবং কম সংখ্যক বেশী সংখ্যককে সালাম দিবে। (বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী, আহমাদ, আবু আওয়ানা)
[ আল-আদাবুল মুফরাদ - ১০০৯ ]
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلاَمٍ، قَالَ‏:‏ أَخْبَرَنَا مَخْلَدٌ، قَالَ‏:‏ أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ قَالَ‏:‏ أَخْبَرَنِي زِيَادٌ، أَنَّهُ سَمِعَ ثَابِتًا مَوْلَى ابْنِ زَيْدٍ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ يَقُولُ‏:‏ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم‏:‏ يُسَلِّمُ الرَّاكِبُ عَلَى الْمَاشِي، وَالْمَاشِي عَلَى الْقَاعِدِ، وَالْقَلِيلُ عَلَى الْكَثِيرِ‏.‏
আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ ছোট বড়োকে, পদচারী উপবিষ্টকে এবং কম সংখ্যক বেশী সংখ্যককে সালাম দিবে। (তিরমিযী)
[ আল-আদাবুল মুফরাদ - ১০১০ ]
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي عَمْرٍو قَالَ‏:‏ حَدَّثَنِي أَبِي قَالَ‏:‏ حَدَّثَنِي إِبْرَاهِيمُ، عَنْ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ، عَنْ صَفْوَانَ بْنِ سُلَيْمٍ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ‏:‏ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم‏:‏ يُسَلِّمُ الصَّغِيرُ عَلَى الْكَبِيرِ، وَالْمَاشِي عَلَى الْقَاعِدِ، وَالْقَلِيلُ عَلَى الْكَثِيرِ‏.‏
আবু যিনাদ (র) বলেন, যায়েদ ইবনে সাবিত (রাঃ) এর পুত্র খারিজা (র) যায়েদ (রাঃ) এর পত্রে সালাম লিখতেনঃ 'আপনার প্রতি সালাম, হে আমীরুল মুমিনীন এবং আল্লাহর রহমাত, বরকত, তাঁর ক্ষমা ও সর্বোৎকৃষ্ট করুণারাশি বর্ষিত হোক'।
[ আল-আদাবুল মুফরাদ - ১০১১ ]
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلاَمٍ، قَالَ‏:‏ أَخْبَرَنَا مَخْلَدٌ، قَالَ‏:‏ أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ قَالَ‏:‏ أَخْبَرَنِي زِيَادٌ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ قَالَ‏:‏ كَانَ خَارِجَةُ يَكْتُبُ عَلَى كِتَابِ زَيْدٍ إِذَا سَلَّمَ، قَالَ‏:‏ السَّلاَمُ عَلَيْكَ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُهُ وَمَغْفِرَتُهُ، وَطَيِّبُ صَلَوَاتِهِ‏.‏
হাইয়্যায ইবনে বিসাম আবু কুররা আল-খুরাসানী (র) বলেন, আমি দেখেছি যে, আনাস (রাঃ) আমাদের নিকট দিয়ে অতিক্রমকালে তার হাত দ্বারা ইঙ্গিত করে আমাদের সালাম দিতেন। তাতে শ্বেতরোগের দাগ ছিল। আমি হাসান (র)-কে দেখেছি যে, তিনি হলুদ রঙ্গের খেজাব ব্যবহার করতেন এবং তার মাথায় থাকতো কালো পাগড়ী। আসমা (রাঃ) বলেন, নবী (সাঃ) তার হাতের ইশারায় নারীদের সালাম দেন। (দারিমী, আহমাদ, আবু আওয়ানা)
[ আল-আদাবুল মুফরাদ - ১০১২ ]
حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ الْحَكَمِ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا هَيَّاجُ بْنُ بَسَّامٍ أَبُو قُرَّةَ الْخُرَاسَانِيُّ، رَأَيْتُهُ بِالْبَصْرَةِ، قَالَ‏:‏ رَأَيْتُ أَنَسًا يَمُرُّ عَلَيْنَا فَيُومِئُ بِيَدِهِ إِلَيْنَا فَيُسَلِّمُ، وَكَانَ بِهِ وَضَحٌ، وَرَأَيْتُ الْحَسَنَ يَخْضُبُ بِالصُّفْرَةِ، وَعَلَيْهِ عِمَامَةٌ سَوْدَاءُ، وَقَالَتْ أَسْمَاءُ‏:‏ أَلْوَى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِيَدِهِ إِلَى النِّسَاءِ بِالسَّلامِ‏.‏
সাদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রাঃ) ও কাসিম ইবনে মুহাম্মাদ (র) এর সাথে সফরে রওয়ানা হন। তারা সারিফ নামক স্থানে উপনীত হলে আবদুল্লাহ ইবনুয যুবাইর (রাঃ) সেই পথে যাচ্ছিলেন। তিনি তাদেরকে ইঙ্গিতে সালাম দেন এবং তারা দু'জনে তার জবাবও দেন।
[ আল-আদাবুল মুফরাদ - ১০১৩ ]
حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْمُنْذِرِ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَعْنٍ قَالَ‏:‏ حَدَّثَنِي مُوسَى بْنُ سَعْدٍ، عَنْ أَبِيهِ سَعْدٍ، أَنَّهُ خَرَجَ مَعَ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ، وَمَعَ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ، حَتَّى إِذَا نَزَلاَ سَرِفًا مَرَّ عَبْدُ اللهِ بْنُ الزُّبَيْرِ فَأَشَارَ إِلَيْهِمْ بِالسَّلاَمِ، فَرَدَّا عَلَيْهِ‏.‏
আতা ইবনে আবু রাবাহ (র) বলেন, সাহাবীগণ হাতের ইশারায় সালামের আদান-প্রদান অপছন্দ করতেন।
[ আল-আদাবুল মুফরাদ - ১০১৪ ]
حَدَّثَنَا خَلادٌ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا مِسْعَرٌ، عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ مَرْثَدٍ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ أَبِي رَبَاحٍ قَالَ‏:‏ كَانُوا يَكْرَهُونَ التَّسْلِيمَ بِالْيَدِ، أَوْ قَالَ‏:‏ كَانَ يَكْرَهُ التَّسْلِيمَ بِالْيَدِ‏.‏
সাবিত ইবনে উবাইদ (র) বলেন, আমি এক মজলিসে আসলাম। সেখানে আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রাঃ)-ও ছিলেন। তিনি বলেন, তুমি সালাম দিলে তা (প্রতিপক্ষের) কর্ণগোচর করো। কেননা তা আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি বরকতপূর্ণ ও পবিত্র বাক্য।
[ আল-আদাবুল মুফরাদ - ১০১৫ ]
حَدَّثَنَا خَلاَّدُ بْنُ يَحْيَى، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا مِسْعَرٌ، عَنْ ثَابِتِ بْنِ عُبَيْدٍ قَالَ‏:‏ أَتَيْتُ مَجْلِسًا فِيهِ عَبْدُ اللهِ بْنُ عُمَرَ، فَقَالَ‏:‏ إِذَا سَلَّمْتَ فَأَسْمِعْ، فَإِنَّهَا تَحِيَّةٌ مِنْ عِنْدِ اللهِ مُبَارَكَةً طَيْبَةً‏.‏
তুফাইল ইবনে উবাই ইবনে কাব (র) থেকে বর্ণিত। তিনি আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রাঃ)-এর নিকট যাতায়াত করতেন এবং তার সাথে বাজারে যেতেন। রাবী বলেন, আমরা বাজারে যাওয়ার পথে আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রাঃ)-র সাথে সর্বসাধারণ, দোকানদার, ফকীর-মিসকীন বা অন্য যে কোন লোকের সাক্ষাত হতো তিনি তাকে সালাম দিতেন। তুফাইল (র) বলেন, একদিন আমি আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রাঃ)-র নিকট আসলাম। তিনি আমাকে নিয়ে বাজারে যেতে চাইলেন। আমি বললাম, আপনি বাজারে গিয়ে কি করবেন? না আপনি কেনাকাটা করেন, না কোন পণ্য সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন, না দরদাম করেন, আর না বাজারের কোন মজলিসে বসেন। বরং আমাদের নিয়ে এখানেই বসুন, কিছু আলাপ-আলোচনা করি। আবদুল্লাহ (রাঃ) আমাকে বলেন, হে ভুরিওয়ালা (তার পেট মোটা ছিল)। আমরা তো বাজারে যাই যাকে সামনে পাই তাকে সালাম দেয়ার জন্য। (মুয়াত্তা মালিক, তাবাকাত ইবনে সাদ)
[ আল-আদাবুল মুফরাদ - ১০১৬ ]
حَدَّثَنَا حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ , قَالَ : حَدَّثَنِي مَالِكٌ ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ ، أَنَّ الطُّفَيْلَ بْنَ أُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ أَخْبَرَهُ ، أَنَّهُ كَانَ يَأْتِي عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ , فَيَغْدُو مَعَهُ إِلَى السُّوقِ ، قَالَ : فَإِذَا غَدَوْنَا إِلَى السُّوقِ لَمْ يَمُرَّ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ عَلَى سَقَّاطٍ ، وَلا صَاحِبِ بَيْعَةٍ ، وَلا مِسْكِينٍ ، وَلا أَحَدٍ إِلا يُسَلِّمُ عَلَيْهِ ، قَالَ الطُّفَيْلُ : فَجِئْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ يَوْمًا ، فَاسْتَتْبَعَنِي إِلَى السُّوقِ ، فَقُلْتُ : مَا تَصْنَعُ بِالسُّوقِ وَأَنْتَ لا تَقِفُ عَلَى الْبَيْعِ ، وَلا تَسْأَلُ عَنِ السِّلَعِ ، وَلا تَسُومُ بِهَا ، وَلا تَجْلِسُ فِي مَجَالِسِ السُّوقِ ؟ فَاجْلِسْ بِنَا هَاهُنَا نَتَحَدَّثُ ، فَقَالَ لِي عَبْدُ اللَّهِ : " يَا أَبَا بَطْنٍ ، وَكَانَ الطُّفَيْلُ ذَا بَطْنٍ ، إِنَّمَا نَغْدُو مِنْ أَجْلِ السَّلامِ ، نُسَلِّمُ عَلَى مَنْ لَقِيَنَا
আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ তোমাদের কোন ব্যক্তি মজলিসে গিয়ে পৌঁছলে সে যেন সালাম দেয়। সে ফিরে যেতেও সালাম দিবে। কেননা, পরের সালাম আগের সালাম থেকে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। (তিরমিযী, নাসাঈ, তাবারানী, তাহাবী, আহমাদ, হাকিম, ইবনে হিব্বান)
[ আল-আদাবুল মুফরাদ - ১০১৭ ]
حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ، عَنِ ابْنِ عَجْلاَنَ، عَنْ سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ‏:‏ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم‏:‏ إِذَا جَاءَ أَحَدُكُمُ الْمَجْلِسَ فَلْيُسَلِّمْ، فَإِنْ رَجَعَ فَلْيُسَلِّمْ، فَإِنَّ الأُخْرَى لَيْسَتْ بِأَحَقَّ مِنَ الأولَى‏.‏
আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (সাঃ) বলেনঃ কোন ব্যক্তি মজলিসে এসে পৌছে যেন সালাম দেয়। সে মজলিসে বসার পর মজলিস শেষ হওয়ার পূর্বে উঠে যাওয়ার প্রয়োজন বোধ করলে যেন পুনরায় সালাম দেয়। কেননা আগের সালাম কোন অংশেই শেষের সালামের চেয়ে অধিক গুরুত্বপূর্ণ নয়। (আবু দাউদ, নাসাঈ, তাহাবী)
[ আল-আদাবুল মুফরাদ - ১০১৮ ]
حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ بِلاَلٍ قَالَ‏:‏ حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَجْلاَنَ قَالَ‏:‏ أَخْبَرَنِي سَعِيدٌ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ‏:‏ إِذَا جَاءَ الرَّجُلُ الْمَجْلِسَ فَلْيُسَلِّمْ، فَإِنْ جَلَسَ ثُمَّ بَدَا لَهُ أَنْ يَقُومَ قَبْلَ أَنْ يَتَفَرَّقَ الْمَجْلِسُ فَلْيُسَلِّمْ، فَإِنَّ الأُولَى لَيْسَتْ بِأَحَقَّ مِنَ الأخْرَى‏.‏
মুয়াবিয়া ইবনে কুররা (র) বলেন, আমার পিতা আমাকে বললেন, হে বৎস! তুমি যদি কোন মজলিসে তার কল্যাণ লাভের আশায় অংশগ্রহণ করো, অতঃপর কোন প্রয়োজনে তোমাকে সেখান থেকে তাড়াতাড়ি উঠে যেতে হয় তবে তুমি বলবে, সালামুন আলাইকুম! তাহলে সেই মজলিসে অংশগ্রহণকারীগণ তাতে যে কল্যাণ লাভ করবে, তুমিও তাতে শরীক থাকবে। আর যারা কোন মজলিসে অংশগ্রহণের পর আল্লাহকে স্মরণ না করে মজলিস ভঙ্গ করে উঠে যায়, তারা যেন একটি মৃত গাধা (খেতে একত্র হওয়ার পর) উঠে গেলো। (তাবারানী)
[ আল-আদাবুল মুফরাদ - ১০১৯ ]
حَدَّثَنَا مَطَرُ بْنُ الْفَضْلِ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا رَوْحُ بْنُ عُبَادَةَ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا بِسْطَامٌ قَالَ‏:‏ سَمِعْتُ مُعَاوِيَةَ بْنَ قُرَّةَ قَالَ‏:‏ قَالَ لِي أَبِي‏:‏ يَا بُنَيَّ، إِنْ كُنْتَ فِي مَجْلِسٍ تَرْجُو خَيْرَهُ، فَعَجِلَتْ بِكَ حَاجَةٌ فَقُلْ‏:‏ سَلاَمٌ عَلَيْكُمْ، فَإِنَّكَ تَشْرَكُهُمْ فِيمَا أَصَابُوا فِي ذَلِكَ الْمَجْلِسِ، وَمَا مِنْ قَوْمٍ يَجْلِسُونَ مَجْلِسًا فَيَتَفَرَّقُونَ عَنْهُ لَمْ يُذْكَرِ اللَّهُ، إِلاَّ كَأَنَّمَا تَفَرَّقُوا عَنْ جِيفَةِ حِمَارٍ‏.‏
আবু মরিয়ম (র) থেকে বর্ণিত। আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, কোন ব্যক্তি তার অপর ভাইয়ের সাথে সাক্ষাত করলে সে যেন তাকে সালাম দেয়। যদি তাদের মধ্যে কোন গাছ বা প্রাচীর অন্তরায় হয়, অতঃপর পুনরায় তাদের সাক্ষাত হয়, তখনও যেন তাকে সালাম দেয়। (আবু দাউদ)
[ আল-আদাবুল মুফরাদ - ১০২০ ]
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ صَالِحٍ قَالَ‏:‏ حَدَّثَنِي مُعَاوِيَةُ، عَنْ أَبِي مَرْيَمَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّهُ سَمِعَهُ يَقُولُ‏:‏ مَنْ لَقِيَ أَخَاهُ فَلْيُسَلِّمْ عَلَيْهِ، فَإِنْ حَالَتْ بَيْنَهُمَا شَجَرَةٌ أَوْ حَائِطٌ، ثُمَّ لَقِيَهُ فَلْيُسَلِّمْ عَلَيْهِ‏.‏
আনাস ইবনে মালেক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (সাঃ) এর সাহাবাগণ একত্র থাকা অবস্থায় তাদের সামনে কোন গাছ প্রতিবন্ধক হওয়ায় তাদের কতক তার ডান পাশ দিয়ে এবং কতক বাম পাশ দিয়ে যেতে তাদের পুনরায় সাক্ষাত হতেই পরস্পর সালাম করতেন। (তাবারানী)
[ আল-আদাবুল মুফরাদ - ১০২১ ]
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا الضَّحَّاكُ بْنُ نِبْرَاسٍ أَبُو الْحَسَنِ، عَنْ ثَابِتٍ الْبُنَانِيِّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ أَصْحَابَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم كَانُوا يَكُونُونَ مُجْتَمِعِينَ فَتَسْتَقْبِلُهُمُ الشَّجَرَةُ، فَتَنْطَلِقُ طَائِفَةٌ مِنْهُمْ عَنْ يَمِينِهَا وَطَائِفَةٌ عَنْ شِمَالِهَا، فَإِذَا الْتَقَوْا سَلَّمَ بَعْضُهُمْ عَلَى بَعْضٍ‏.‏
সাবিত আল-বুনানী (র) বলেন, আনাস (রাঃ) সকালবেলা বন্ধু-বান্ধবের সাথে মোসাফাহা (করমর্দন) করার জন্য তার হাতে সুগন্ধি তৈল মাখতেন।
[ আল-আদাবুল মুফরাদ - ১০২২ ]
حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللهِ بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ خِدَاشٍ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ وَهْبٍ الْمِصْرِيُّ، عَنْ قُرَيْشٍ الْبَصْرِيِّ هُوَ ابْنُ حَيَّانَ، عَنْ ثَابِتٍ الْبُنَانِيِّ، أَنَّ أَنَسًا كَانَ إِذَا أَصْبَحَ ادَّهَنَ يَدَهُ بِدُهْنٍ طَيِّبٍ لِمُصَافَحَةِ إِخْوَانِهِ‏.‏
আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি বললো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! কোন ইসলাম সর্বোত্তম? তিনি বলেনঃ তুমি আহার করাবে এবং সালাম দিবে পরিচিত-অপরিচিত সকলকে। (বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, আবু আওয়ানা, ইবনে হিব্বান)
[ আল-আদাবুল মুফরাদ - ১০২৩ ]
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ أَبِي الْخَيْرِ، عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو، أَنَّ رَجُلاً قَالَ‏:‏ يَا رَسُولَ اللهِ، أَيُّ الإِسْلاَمِ خَيْرٌ‏؟‏ قَالَ‏:‏ تُطْعِمُ الطَّعَامَ، وَتُقْرِئُ السَّلاَمَ عَلَى مَنْ عَرَفْتَ وَمَنْ لَمْ تَعْرِفْ‏.‏
আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বাড়ির আঙ্গিনায় এবং উঁচু স্থানসমূহের ঢালে বসতে নিষেধ করলেন। মুসলমানগণ বলেন, তা তো আমাদের সাধ্যাতীত। তিনি বলেনঃ যদি তাই হয় তবে তোমরা তার দাবি পূরণ করো। তারা বলেন, রাস্তার দাবি কি? তিনি বলেনঃ দৃষ্টিশক্তি সংযত রাখা, পথিককে পথ বলে দেয়া, হাঁচিদাতা আলহামদু লিল্লাহ বললে তার জবাব দেয়া এবং সালামের উত্তর দেয়া। (আবু দাউদ)
[ আল-আদাবুল মুফরাদ - ১০২৪ ]
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنِ الأَفْنِيَةِ وَالصُّعُدَاتِ أَنْ يُجْلَسَ فِيهَا، فَقَالَ الْمُسْلِمُونَ‏:‏ لاَ نَسْتَطِيعُهُ، لاَ نُطِيقُهُ، قَالَ‏:‏ أَمَّا لاَ، فَأَعْطُوا حَقَّهَا، قَالُوا‏:‏ وَمَا حَقُّهَا‏؟‏ قَالَ‏:‏ غَضُّ الْبَصَرِ، وَإِرْشَادُ ابْنِ السَّبِيلِ، وَتَشْمِيتُ الْعَاطِسِ إِذَا حَمِدَ اللَّهَ، وَرَدُّ التَّحِيَّةِ‏.‏
আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, যে ব্যক্তি সালাম দিতে কার্পণ্য করে সে সর্বাপেক্ষা নিকৃষ্ট কৃপণ এবং যে ব্যক্তি সালামের উত্তর দেয় না সে প্রতারক। যদি তোমার ও তোমার অপর ভাইয়ের মাঝখানে কোন গাছ প্রতিবন্ধক হয় তবে যথাসাধ্য তুমিই তাকে আগে সালাম দিতে তৎপর হবে। সে যেন তোমার আগে তোমাকে সালাম দিতে না পারে।
[ আল-আদাবুল মুফরাদ - ১০২৫ ]
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا كِنَانَةُ مَوْلَى صَفِيَّةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ‏:‏ أَبْخَلُ النَّاسِ مَنْ بَخِلَ بِالسَّلاَمِ، وَالْمَغْبُونُ مَنْ لَمْ يَرُدَّهُ، وَإِنْ حَالَتْ بَيْنَكَ وَبَيْنَ أَخِيكَ شَجَرَةٌ، فَإِنِ اسْتَطَعْتَ أَنْ تَبْدَأَهُ بِالسَّلامِ لا يَبْدَأُكَ فَافْعَلْ‏.‏
আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রাঃ)-র মুক্তদাস সালেম (র) বলেন, কেউ ইবনে উমার (রাঃ) কে সালাম দিলে তিনি বর্ধিত শব্দযোগে তার উত্তর দিতেন। আমি তার নিকট আসলাম এবং তিনি তখন বসা ছিলেন। আমি বললাম, আসসালামু আলাইকুম। তিনি উত্তর দেন, আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। আমি পুনরায় তার নিকট এসে বললাম, আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। তিনি উত্তর দেন, আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। আমি পুনরায় তার নিকট এসে বললাম, আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। তিনি এবার জবাব দিলেন, আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু ওয়া তাইয়্যিবু সালাওয়াতিহি।
[ আল-আদাবুল মুফরাদ - ১০২৬ ]
حَدَّثَنَا عِمْرَانُ بْنُ مَيْسَرَةَ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ، عَنْ حُسَيْنٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ سَالِمٍ مَوْلَى عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ‏:‏ وَكَانَ ابْنُ عَمْرٍو إِذَا سُلِّمَ عَلَيْهِ فَرَدَّ زَادَ، فَأَتَيْتُهُ وَهُوَ جَالِسٌ فَقُلْتُ‏:‏ السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ، فَقَالَ‏:‏ السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللهِ، ثُمَّ أَتَيْتُهُ مَرَّةً أُخْرَى فَقُلْتُ‏:‏ السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللهِ، قَالَ‏:‏ السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُهُ، ثُمَّ أَتَيْتُهُ مَرَّةً أُخْرَى فَقُلْتُ‏:‏ السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُهُ، فَقَالَ‏:‏ السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُهُ، وَطَيِّبُ صَلَوَاتِهِ‏.‏

Execution time: 0.16 render + 0.02 s transfer.