Login | Register

আল-আদাবুল মুফরাদ: নাম রাখা এবং কদর্য নাম পরিবর্তন

Double clicking on an arabic word shows its dictionary entry
আবু ওয়াহব আল-জুশামী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি ছিলেন সাহাবী। নবী (সাঃ) বলেনঃ তোমরা নবীগণের নামানুসারে নাম রাখো। নামসমূহের মধ্যে আল্লাহর নিকট প্রিয়তর হচ্ছে আবদুল্লাহ ও আবদুর রহমান। যথার্থ নাম হচ্ছে হারিস (চাষী) ও হাম্মাম (দাতা) এবং সবচেয়ে নিকৃষ্ট নাম হচ্ছে হারব ও মুররা। -(নাসাঈ, আবু দাউদ, আহমাদ)
[ আল-আদাবুল মুফরাদ - ৮২১ ]
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا أَحْمَدُ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ‏:‏ أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُهَاجِرٍ قَالَ‏:‏ حَدَّثَنِي عَقِيلُ بْنُ شَبِيبٍ، عَنْ أَبِي وَهْبٍ، وَكَانَتْ لَهُ صُحْبَةٌ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ‏:‏ تَسَمَّوْا بِأَسْمَاءِ الأَنْبِيَاءِ، وَأَحَبُّ الأسْمَاءِ إِلَى اللهِ عَزَّ وَجَلَّ‏:‏ عَبْدُ اللهِ، وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ، وَأَصْدَقُهَا‏:‏ حَارِثٌ، وَهَمَّامٌ، وَأَقْبَحُهَا‏:‏ حَرْبٌ، وَمُرَّةُ‏.‏
জাবের (রাঃ) বলেন, আমাদের মধ্যকার এক ব্যক্তির একটি পুত্র সন্তান ভূমিষ্ঠ হলো। সে তার নাম রাখলো কাসেম। আমরা বললাম, আমরা তোমাকে আবুল কাসেম (কাসেমের পিতা) ডাকনাম দিয়ে গৌরবান্বিত করবো না। নবী (সাঃ)-কে অবহিত করা হলে তিনি বলেনঃ তোমার ছেলের নাম রাখো আবদুর রহমান। (বুখারী, মুসলিম)
[ আল-আদাবুল মুফরাদ - ৮২২ ]
حَدَّثَنَا صَدَقَةُ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُنْكَدِرِ، عَنْ جَابِرٍ قَالَ‏:‏ وُلِدَ لِرَجُلٍ مِنَّا غُلاَمٌ فَسَمَّاهُ‏:‏ الْقَاسِمَ، فَقُلْنَا‏:‏ لاَ نُكَنِّيكَ أَبَا الْقَاسِمِ وَلاَ كَرَامَةَ، فَأُخْبِرَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ‏:‏ سَمِّ ابْنَكَ عَبْدَ الرَّحْمَنِ‏.‏
সাহল (রাঃ) বলেন, মুনযির ইবনে আবু উসাইদ জন্মগ্রহণ করলে তাকে নবী (সাঃ)-এর খেদমতে আনা হলো। তিনি তাকে তার উরুর উপর রাখলেন। আর আবু উসাইদ (রাঃ) তাঁর পাশে উপবিষ্ট ছিলেন। নবী (সাঃ) তার সামনের কোন একটি জিনিসে মনোযোগী হয়ে রইলেন। তখন আবু উসাইদ (রাঃ) তার পুত্রকে নবী (সাঃ)-এর উরু থেকে তুলে নিতে বললে তাকে তুলে নেয়া হলো। উক্ত বিষয়ের প্রতি মনোযোগ শেষ হলে নবী (সাঃ) জিজ্ঞেস করলেনঃ বাচ্চাটি কোথায়? আবু উসাইদ (রাঃ) বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি তাকে বাড়ী পাঠিয়ে দিয়েছি। নবী (সাঃ) জিজ্ঞেস করলেনঃ তার নাম কি? তিনি বলেন, অমুক। নবী (সাঃ) বলেনঃ না, বরং তার নাম মুনযির। ঐ দিন থেকে তার নাম হলো মুনযির। -(বুখারী, মুসলিম, ইবনে মাজাহ)
[ আল-আদাবুল মুফরাদ - ৮২৩ ]
حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي مَرْيَمَ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا أَبُو غَسَّانَ قَالَ‏:‏ حَدَّثَنِي أَبُو حَازِمٍ، عَنْ سَهْلٍ قَالَ‏:‏ أُتِيَ بِالْمُنْذِرِ بْنِ أَبِي أُسَيْدٍ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم حِينَ وُلِدَ، فَوَضَعَهُ عَلَى فَخِذِهِ، وَأَبُو أُسَيْدٍ جَالِسٌ، فَلَهَى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِشَيْءٍ بَيْنَ يَدَيْهِ، وَأَمَرَ أَبُو أُسَيْدٍ بِابْنِهِ فَاحْتُمِلَ مِنْ فَخِذِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، فَاسْتَفَاقَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ‏:‏ أَيْنَ الصَّبِيُّ‏؟‏ فَقَالَ أَبُو أُسَيْدٍ‏:‏ قَلَبْنَاهُ يَا رَسُولَ اللهِ، قَالَ‏:‏ مَا اسْمُهُ‏؟‏ قَالَ‏:‏ فُلاَنٌ، قَالَ‏:‏ لاَ، لَكِنِ اسْمُهُ الْمُنْذِرُ، فَسَمَّاهُ يَوْمَئِذٍ الْمُنْذِرَ‏.‏
আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ যে লোকের নাম মালিকুল আমলাক (রাজাধিরাজ) রাখা হয়েছে, আল্লাহর কাছে সেটি সর্বনিকৃষ্ট নাম। (বুখারী, মুসলিম, দারিমী, তিরমিযী)
[ আল-আদাবুল মুফরাদ - ৮২৪ ]
حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا شُعَيْبُ بْنُ أَبِي حَمْزَةَ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا أَبُو الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ‏:‏ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم‏:‏ أَخْنَى الأسْمَاءِ عِنْدَ اللهِ رَجُلٌ تَسَمَّى مَلِكَ الأمْلاكِ‏.‏
তলক ইবনে হাবীব (র) বলেন, আমি শাফাআতের বিষয়টিকে কঠোরভাবে অস্বীকার করতাম। আমি জাবের (রাঃ) কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, হে তুলায়ক! আমি নবী (সাঃ)-কে বলতে শুনেছিঃ একদল লোক দোযখে যাওয়ার পর (শাফাআতধন্য হয়ে) সেখান থেকে বের হয়ে আসবে। তুমি যা পড়ো আমরাও তাই পড়ি। (বুখারী, মুসলিম, মুসনাদ আহমাদ)
[ আল-আদাবুল মুফরাদ - ৮২৫ ]
حَدَّثَنَا مُوسَى، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا الْقَاسِمُ بْنُ الْفَضْلِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُهَلَّبِ، عَنْ طَلْقِ بْنِ حَبِيبٍ قَالَ‏:‏ كُنْتُ أَشَدَّ النَّاسِ تَكْذِيبًا بِالشَّفَاعَةِ، فَسَأَلْتُ جَابِرًا، فَقَالَ‏:‏ يَا طُلَيْقُ، سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ‏:‏ يَخْرُجُونَ مِنَ النَّارِ بَعْدَ دُخُولٍ، وَنَحْنُ نَقْرَأُ الَّذِي تَقْرَأُ‏.‏
হানবাল ইবনে হিয়াম (র) বলেন, নবী (সাঃ) কোন ব্যক্তিকে তার নামসমূহের মধ্যে তাঁর নিকট অপেক্ষাকৃত প্রিয় নামে বা উপনামে ডাকতেই পছন্দ করতেন। (তাহযীবুল কামাল)
[ আল-আদাবুল মুফরাদ - ৮২৬ ]
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ الْمُقَدَّمِيُّ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُثْمَانَ الْقُرَشِيُّ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا ذَيَّالُ بْنُ عُبَيْدِ بْنِ حَنْظَلَةَ قَالَ‏:‏ حَدَّثَنِي جَدِّي حَنْظَلَةُ بْنُ حِذْيَمَ قَالَ‏:‏ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يُعْجِبُهُ أَنْ يُدْعَى الرَّجُلُ بِأَحَبِّ أَسْمَائِهِ إِلَيْهِ، وَأَحَبِّ كُنَاهُ‏.‏
ইবনে উমার (রাঃ) বলেন, নবী (সাঃ) 'আসিয়া' (পপিষ্ঠা) নাম পরিবর্তন করেন এবং বলেনঃ তুমি জামীলা (সুন্দরী)। (মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী, মুসনাদ আবু আওয়ানা, ইবনে হিব্বান)
[ আল-আদাবুল মুফরাদ - ৮২৭ ]
حَدَّثَنَا صَدَقَةُ بْنُ الْفَضْلِ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الْقَطَّانُ، عَنْ عُبَيْدِ اللهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ النَّبِيَّ غَيْرَ اسْمَ عَاصِيَةَ وَقَالَ‏:‏ أَنْتِ جَمِيلَةُ‏.‏
মুহাম্মাদ ইবনে আমর ইবনে আতা (র) থেকে বর্ণিত। তিনি যয়নব বিনতে আবু সালামার নিকট প্রবেশ করলেন। যয়নব তাকে তার সংগী বোনটির নাম জিজ্ঞেস করেন। তিনি বলেন, আমি বললাম, তার নাম বাররা (পুণ্যবতী)। তিনি বলেন, তার নাম পরিবর্তন করো। কেননা নবী (সাঃ) যয়নব বিনতে জাহশকে বিবাহ করেন এবং তার নাম ছিল বাররা। তিনি তা পরিবর্তন করে তার নাম রাখেন যয়নব। বিবাহ করার পর তিনি তার ঘরে গেলেন। তখন আমার নাম ছিল বাররা। তিনি উম্মু সালামা (রাঃ) কে আমাকে এই নামে ডাকতে শুনলেন। তখন তিনি বলেনঃ তোমরা নিজেদেরকে পবিত্রতায় আখ্যায়িত করো না। কেননা কে পুণ্যবতী আর কে পাপিষ্ঠা তা আল্লাহই অধিক জ্ঞাত। তুমি তার নাম রাখো যয়নব। তিনি বলেন, সে যয়নবই। আমি তাকে বললাম, আমার নাম? তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) যে নামে পরিবর্তন করেছেন সেই নাম রেখে দাও। অতএব তিনি তার নাম রাখলেন যয়নব। (মুসলিম, দারিমী, মুসনাদ আবু আওয়ানা, আহমাদ, ইবনে হিব্বান)
[ আল-আদাবুল মুফরাদ - ৮২৮ ]
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللهِ، وَسَعِيدُ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالاَ‏:‏ حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ قَالَ‏:‏ حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ عَطَاءٍ، أَنَّهُ دَخَلَ عَلَى زَيْنَبَ بِنْتِ أَبِي سَلَمَةَ، فَسَأَلَتْهُ عَنِ اسْمِ أُخْتٍ لَهُ عِنْدَهُ‏؟‏ قَالَ‏:‏ فَقُلْتُ‏:‏ اسْمُهَا بَرَّةُ، قَالَتْ‏:‏ غَيِّرِ اسْمَهَا، فَإِنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم نَكَحَ زَيْنَبَ بِنْتَ جَحْشٍ وَاسْمُهَا بَرَّةُ، فَغَيَّرَ اسْمَهَا إِلَى زَيْنَبَ، وَدَخَلَ عَلَى أُمِّ سَلَمَةَ حِينَ تَزَوَّجَهَا، وَاسْمِي بَرَّةُ، فَسَمِعَهَا تَدْعُونِي‏:‏ بَرَّةَ، فَقَالَ‏:‏ لاَ تُزَكُّوا أَنْفُسَكُمْ، فَإِنَّ اللَّهَ هُوَ أَعْلَمُ بِالْبَرَّةِ مِنْكُنَّ وَالْفَاجِرَةِ، سَمِّيهَا زَيْنَبَ، فَقَالَتْ‏:‏ فَهِيَ زَيْنَبُ، فَقُلْتُ لَهَا‏:‏ سَمِّي، فَقَالَتْ‏:‏ غَيِّرْهُ إِلَى مَا غَيَّرَ إِلَيْهِ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم، فَسَمِّهَا زَيْنَبَ‏.‏
সাঈদ আল-মাখযূমী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তাঁর পূর্বনাম ছিল সারম (কর্তনকার, ছিন্নকারী)। নবী (সাঃ) তার নাম রাখেন সাঈদ (ভাগ্যবান)। (অধস্তন রাবী আবদুর রহমান (র) বলেন) আমি উসমান (রাঃ) কে মসজিদে হেলান দিয়ে বসা অবস্থায় দেখেছি। (হাকিম)
[ আল-আদাবুল মুফরাদ - ৮২৯ ]
حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْمُنْذِرِ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ حُبَابٍ قَالَ‏:‏ حَدَّثَنِي عُمَرُ بْنُ عُثْمَانَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَعِيدٍ الْمَخْزُومِيُّ، حَدَّثَنِي جَدِّي، عَنْ أَبِيهِ، وَكَانَ اسْمُهُ الصَّرْمَ، فَسَمَّاهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم سَعِيدًا، قَالَ‏:‏ رَأَيْتُ عُثْمَانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ مُتَّكِئًا فِي الْمَسْجِدِ‏.‏
আলী (রাঃ) বলেন, হাসান ভূমিষ্ঠ হলে আমি তার নাম রাখলাম হারব (যুদ্ধ)। নবী (সাঃ) এসে বলেনঃ আমার নাতি আমাকে দেখাও, তোমরা তার কি নাম রেখেছে? আমরা বললাম, হারব। তিনি বলেনঃ বরং তার নাম হাসান। পরে হুসাইন ভূমিষ্ঠ হলে আমি তার নাম রাখলাম হারব। নবী (সাঃ) এসে বলেনঃ আমার নাতি আমাকে দেখাও, তোমরা তার কি নাম রেখেছো? আমরা বললাম, হারব। তিনি বলেনঃ বরং তার নাম হুসাইন। অতঃপর তৃতীয় সন্তান ভূমিষ্ঠ হলে আমি তার নামও রাখলাম হারব। অতঃপর নবী (সাঃ) এসে বলেনঃ আমার নাতি আমাকে দেখাও, তোমারা তার কি নাম রেখেছে? আমরা বললাম, হারব। তিনি বলেনঃ বরং তার নাম মুহসিন। অতঃপর তিনি বলেনঃ আমি হারূন (আঃ)-এর সন্তান শিবর, শুবায়র ও মুশাব্বির-এর নাম অনুসারে এদের নাম রাখলাম। (ইসতীআব, আহমাদ, হাকিম)
[ আল-আদাবুল মুফরাদ - ৮৩০ ]
حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، عَنْ إِسْرَائِيلَ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ هَانِئِ بْنِ هَانِئٍ، عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ‏:‏ لَمَّا وُلِدَ الْحَسَنُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ سَمَّيْتُهُ‏:‏ حَرْبًا، فَجَاءَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ‏:‏ أَرُونِي ابْنِي، مَا سَمَّيْتُمُوهُ‏؟‏ قُلْنَا‏:‏ حَرْبًا، قَالَ‏:‏ بَلْ هُوَ حَسَنٌ‏.‏ فَلَمَّا وُلِدَ الْحُسَيْنُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ سَمَّيْتُهُ حَرْبًا، فَجَاءَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ‏:‏ أَرُونِي ابْنِي، مَا سَمَّيْتُمُوهُ‏؟‏ قُلْنَا‏:‏ حَرْبًا، قَالَ‏:‏ بَلْ هُوَ حُسَيْنٌ‏.‏ فَلَمَّا وُلِدَ الثَّالِثُ سَمَّيْتُهُ‏:‏ حَرْبًا، فَجَاءَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ‏:‏ أَرُونِي ابْنِي، مَا سَمَّيْتُمُوهُ‏؟‏ قُلْنَا‏:‏ حَرْبًا، قَالَ‏:‏ بَلْ هُوَ مُحْسِنٌ، ثُمَّ قَالَ‏:‏ إِنِّي سَمَّيْتُهُمْ بِأَسْمَاءِ وَلَدِ هَارُونَ‏:‏ شِبْرٌ، وَشَبِيرٌ، وَمُشَبِّرٌ‏.‏
রায়েতা বিনতে মুসলিম (র) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (সাঃ) এর সাথে হুনায়ন যুদ্ধে শরীক ছিলাম। তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করেনঃ তোমার নাম কি? আমি বললাম, গুরাব (কাক)। তিনি বলেনঃ না, বরং তোমার নাম মুসলিম। (আবু দাউদ, তারীখুল কাবীর)
[ আল-আদাবুল মুফরাদ - ৮৩১ ]
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سِنَانٍ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ الْحَارِثِ بْنِ أَبْزَى قَالَ‏:‏ حَدَّثَتْنِي أُمِّي رَائِطَةُ بِنْتُ مُسْلِمٍ، عَنْ أَبِيهَا قَالَ‏:‏ شَهِدْتُ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم حُنَيْنًا، فَقَالَ لِي‏:‏ مَا اسْمُكَ‏؟‏ قُلْتُ‏:‏ غُرَابٌ، قَالَ‏:‏ لا، بَلِ اسْمُكَ مُسْلِمٌ‏.‏
আয়েশা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর সামনে শিহাব নামক এক ব্যক্তির প্রসঙ্গ উঠলো। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেনঃ বরং তুমি হিশাম (দানশীল)। (আবু দাউদ)
[ আল-আদাবুল মুফরাদ - ৮৩২ ]
حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ مَرْزُوقٍ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا عِمْرَانُ الْقَطَّانُ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ زُرَارَةَ بْنِ أَوْفَى، عَنْ سَعْدِ بْنِ هِشَامٍ، عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا، ذُكِرَ عِنْدَ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم رَجُلٌ يُقَالُ لَهُ‏:‏ شِهَابٌ، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم‏:‏ بَلْ أَنْتَ هِشَامٌ‏.‏
আবদুল্লাহ ইবনে মুতী (র) বলেন, আমি মুতী (রাঃ) কে বলতে শুনেছি, আমি মক্কা বিজয়ের দিন রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-কে বলতে শুনেছিঃ আজকের পর থেকে কিয়ামত পর্যন্ত কোন কুরাইশ বংশীয় লোককে (চাঁদমারির) লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে হত্যা করা যাবে না। কুরাইশের 'আস' নামীয়দের মধ্যে মুতী ছাড়া আর কেউ ইসলাম গ্রহণ করেনি। তার নামও ছিল আস (অবাধ্য)। নবী (সাঃ) তার নাম রাখেন মুতী (বাধ্য)। (মুসলিম, দারিমী, তাহাবী)
[ আল-আদাবুল মুফরাদ - ৮৩৩ ]
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ زَكَرِيَّا قَالَ‏:‏ حَدَّثَنِي عَامِرٌ، عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مُطِيعٍ قَالَ‏:‏ سَمِعْتُ مُطِيعًا يَقُولُ‏:‏ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ، يَوْمَ فَتْحِ مَكَّةَ‏:‏ لاَ يُقْتَلُ قُرَشِيٌّ صَبْرًا بَعْدَ الْيَوْمِ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ، فَلَمْ يُدْرِكِ الإِسْلاَمَ أَحَدٌ مِنْ عُصَاةِ قُرَيْشٍ غَيْرُ مُطِيعٍ، كَانَ اسْمُهُ الْعَاصَ فَسَمَّاهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مُطِيعًا‏.‏
আয়েশা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আমাকে বললেনঃ হে আইশ! ইনি হচ্ছেন জিবরীল (আঃ)। তিনি তোমাকে সালাম বলেছেন। তিনি বলেন, তার প্রতিও সালাম এবং আল্লাহর রহমাত বর্ষিত হোক। আয়েশা (রাঃ) বলেন, তিনি দেখতে পান যা আমি দেখি না। (বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ)
[ আল-আদাবুল মুফরাদ - ৮৩৪ ]
حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ قَالَ‏:‏ حَدَّثَنِي أَبُو سَلَمَةَ، أَنَّ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ‏:‏ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم‏:‏ يَا عَائِشُ، هَذَا جِبْرِيلُ يَقْرَأُ عَلَيْكِ السَّلاَمَ، قَالَتْ‏:‏ وَعَلَيْهِ السَّلاَمُ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُهُ، قَالَتْ‏:‏ وَهُوَ يَرَى مَا لا أَرَى‏.‏
উম্মে কুলসুম বিনতে ছুমামা (র) থেকে বর্ণিত। তিনি হজ্জ উপলক্ষে (বসরা থেকে মদীনা) আসেন। তার ভাই মুখারিক ইবনে ছুমামা (র) বলেন, আপনি আয়েশা (রাঃ) এর নিকট উপস্থিত হয়ে তাকে উসমান ইবনে আফফান (রাঃ) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করুন। কেননা বহু লোক তার সম্পর্কে আমাদের কাছে নানা কথা বলে। উম্মে কুলসুম (র) বলেন, আমি তার নিকট উপস্থিত হয়ে বললাম, আপনার কোন এক সন্তান আপনাকে সালাম জানিয়েছে এবং উসমান ইবনে আফফান (রাঃ) সম্পর্কে আপনাকে জিজ্ঞেস করেছে। তিনি বলেন, ওয়া আলাইহিস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ (তার উপর শান্তি এবং আল্লাহর রহমাত বর্ষিত হোক)। তিনি বলেন, শোনো! আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমি উসমান (রাঃ) এবং আল্লাহর নবী (সাঃ)-কে এই ঘরের মধ্যেই এই গরমের রাতে একত্রে দেখেছি। জিবরীল (আঃ) তখন নবী (সাঃ)-এর উপর ওহী নাযিল করেন। পরে নবী (সাঃ) উসমান (রাঃ)-এর হাতে অথবা কাঁধের উপর চপেটাঘাত করে বলেনঃ লিখে নাও হে উসম! আল্লাহ তাআলা কারো প্রতি সদয় না হলে তার নবীর পক্ষ থেকে এমন মর্যাদা তাকে দেন না। সুতরাং যে উসমান (রাঃ) কে গালি দেয় তার প্রতি আল্লাহর গযব। (আহমাদ)
[ আল-আদাবুল মুফরাদ - ৮৩৫ ]
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُقْبَةَ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْيَشْكُرِيُّ الْبَصْرِيُّ قَالَ‏:‏ حَدَّثَتْنِي جَدَّتِي أُمُّ كُلْثُومٍ بِنْتُ ثُمَامَةَ، أَنَّهَا قَدِمَتْ حَاجَّةً، فَإِنَّ أَخَاهَا الْمُخَارِقَ بْنَ ثُمَامَةَ قَالَ‏:‏ ادْخُلِي عَلَى عَائِشَةَ، وَسَلِيهَا عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ، فَإِنَّ النَّاسَ قَدْ أَكْثَرُوا فِيهِ عِنْدَنَا، قَالَتْ‏:‏ فَدَخَلْتُ عَلَيْهَا فَقُلْتُ‏:‏ بَعْضُ بَنِيكِ يُقْرِئُكِ السَّلاَمَ، وَيَسْأَلُكِ عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ، قَالَتْ‏:‏ وَعَلَيْهِ السَّلاَمُ وَرَحْمَةُ اللهِ، قَالَتْ‏:‏ أَمَّا أَنَا فَأَشْهَدُ عَلَى أَنِّي رَأَيْتُ عُثْمَانَ فِي هَذَا الْبَيْتِ فِي لَيْلَةٍ قَائِظَةٍ، وَنَبِيُّ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَجِبْرِيلُ يُوحِي إِلَيْهِ، وَالنَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَضْرِبُ كَفَّ، أَوْ كَتِفَ، ابْنِ عَفَّانَ بِيَدِهِ‏:‏ اكْتُبْ، عُثْمُ، فَمَا كَانَ اللَّهُ يُنْزِلُ تِلْكَ الْمَنْزِلَةَ مِنْ نَبِيِّهِ صلى الله عليه وسلم إِلاَّ رَجُلاً عَلَيْهِ كَرِيمًا، فَمَنْ سَبَّ ابْنَ عَفَّانَ فَعَلَيْهِ لَعْنَةُ اللهِ‏.‏
বশীর ইবনে নাহীক (রাঃ) বলেন, আমি নবী (সাঃ)-এর নিকট নীত হলে তিনি জিজ্ঞেস করেনঃ তোমার নাম কি? তিনি বলেন, জাহম। তিনি বলেনঃ বরং তোমার নাম বশীর। একদা আমি নবী (সাঃ)-এর সাথে যাচ্ছিলাম। তিনি বলেনঃ হে খাসাসিয়ার পুত্ৰ! তোমার কি হলো যে, তুমি আল্লাহর কাজে দোষ খুঁজে বেড়াও? আর সেজন্যই তুমি কি আল্লাহর রাসূলের পিছনে লেগেছো? আমি বললাম, আপনার জন্য আমার পিতা-মাতা কোরবান হোক। আমি আল্লাহর কাজে দোষ খুঁজি না। আমি সর্বপ্রকার কল্যাণ লাভ করেছি। অতঃপর তিনি মুশরিকদের কবরস্থানে পৌঁছে বলেনঃ এরা প্রভূত কল্যাণ হারিয়েছে। অতঃপর তিনি মুসলমানদের কবরস্থানে পৌঁছে বলেনঃ এরা প্রভূত কল্যাণ লাভ করেছে। এই সময় চপ্পল পরিহিত এক ব্যক্তি কবরস্থানের উপর দিয়ে যাচ্ছিলো। রাসূলুল্লাহ। (সাঃ) বলেনঃ হে চপ্পল পরিহিত! তোমার চপ্পলজোড়া খুলে ফেলে দাও। অতএব সে তার চপ্পলজোড়া খুলে ফেলে দিলো। (আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, আহমাদ হাঃ ৭৮০ নং-ও দ্র.)
[ আল-আদাবুল মুফরাদ - ৮৩৬ ]
حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا الأَسْوَدُ بْنُ شَيْبَانَ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ سُمَيْرٍ قَالَ‏:‏ حَدَّثَنِي بَشِيرُ بْنُ نَهِيكٍ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا بَشِيرٌ قَالَ‏:‏ أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ‏:‏ مَا اسْمُكَ‏؟‏ قَالَ‏:‏ زَحْمٌ، قَالَ‏:‏ بَلْ أَنْتَ بَشِيرٌ، فَبَيْنَمَا أَنَا أُمَاشِي النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ‏:‏ يَا ابْنَ الْخَصَاصِيَةِ، مَا أَصْبَحْتَ تَنْقِمُ عَلَى اللهِ‏؟‏ أَصْبَحْتَ تُمَاشِي رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم، قُلْتُ‏:‏ بِأَبِي وَأُمِّي، مَا أَنْقِمُ عَلَى اللهِ شَيْئًا، كُلَّ خَيْرٍ قَدْ أَصَبْتُ‏.‏ فَأَتَى عَلَى قُبُورِ الْمُشْرِكِينَ فَقَالَ‏:‏ لَقَدْ سَبَقَ هَؤُلاَءِ خَيْرًا كَثِيرًا، ثُمَّ أَتَى عَلَى قُبُورِ الْمُسْلِمِينَ فَقَالَ‏:‏ لَقَدْ أَدْرَكَ هَؤُلاَءِ خَيْرًا كَثِيرًا، فَإِذَا رَجُلٌ عَلَيْهِ سِبْتِيَّتَانِ يَمْشِي بَيْنَ الْقُبُورِ، فَقَالَ‏:‏ يَا صَاحِبَ السِّبْتِيَّتَيْنِ، أَلْقِ سِبْتِيَّتَكَ، فَخَلَعَ نَعْلَيْهِ‏.‏
বশীর ইবনুল খাসাসিয়া (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তার নাম ছিল যাহম। নবী (সাঃ) তার নাম রাখেন বশীর ।
[ আল-আদাবুল মুফরাদ - ৮৩৭ ]
حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللهِ بْنُ إِيَادٍ، عَنْ أَبِيهِ قَالَ‏:‏ سَمِعْتُ لَيْلَى امْرَأَةَ بَشِيرٍ تُحَدِّثُ، عَنْ بَشِيرِ ابْنِ الْخَصَاصِيَةِ، وَكَانَ اسْمُهُ زَحْمًا، فَسَمَّاهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بَشِيرًا‏.‏
ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। উম্মুল মুমিনীন জুয়াইরিয়া (রাঃ)-এর নাম ছিল বাররা। নবী (সাঃ) তার নাম রাখেন জুয়াইরিয়া। (মুসলিম, আবু দাউদ, আহমাদ, আবু আওয়ানা, ইবনে হিব্বান)
[ আল-আদাবুল মুফরাদ - ৮৩৮ ]
حَدَّثَنَا قَبِيصَةُ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ مَوْلَى آلِ طَلْحَةَ، عَنْ كُرَيْبٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ اسْمَ جُوَيْرِيَةَ كَانَ بَرَّةَ، فَسَمَّاهَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم جُوَيْرِيَةَ‏.‏
আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, মায়মূনা (রাঃ) এর নাম ছিল বাররা। নবী (সাঃ) তার নাম রাখেন মায়মূনা।
[ আল-আদাবুল মুফরাদ - ৮৩৯ ]
حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ مَرْزُوقٍ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ أَبِي مَيْمُونَةَ، عَنْ أَبِي رَافِعٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ‏:‏ كَانَ اسْمُ مَيْمُونَةَ بَرَّةَ، فَسَمَّاهَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مَيْمُونَةَ‏.‏
জাবের (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (সাঃ) বলেনঃ আমি যদি জীবিত থাকি তবে ইনশাআল্লাহ আমার উম্মাতকে নিষেধ করবো যে, তাদের কেউ যেন বরকত, নাফে, আফলাহ ইত্যাদি নাম না রাখে। রাবী বলেন, তিনি রাফে নামের কথাও বলেছেন কিনা তা আমার স্মরণ নাই। হয় তো বলা হবে, এখানে বরকত আছে কি? জবাবে বলা হবে, না, এখানে নাই। নবী (সাঃ) ইন্তিকাল করেন, কিন্তু এসব নাম রাখতে নিষেধ করেননি। (আবু দাউদ)
[ আল-আদাবুল মুফরাদ - ৮৪০ ]
حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ حَفْصٍ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا أَبِي، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا أَبُو سُفْيَانَ، عَنْ جَابِرٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ‏:‏ إِنْ عِشْتُ نَهَيْتُ أُمَّتِي، إِنْ شَاءَ اللَّهُ، أَنْ يُسَمِّي أَحَدُهُمْ بَرَكَةَ، وَنَافِعًا، وَأَفْلَحَ، وَلاَ أَدْرِي قَالَ‏:‏ رَافِعًا أَمْ لاَ‏؟‏، يُقَالُ‏:‏ هَا هُنَا بَرَكَةُ‏؟‏ فَيُقَالُ‏:‏ لَيْسَ هَا هُنَا، فَقُبِضَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَلَمْ يَنْهَ عَنْ ذَلِكَ‏.‏
জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন, নবী (সাঃ) ইয়ালা, বরকত, নাফে, ইয়াসার, আফলাহ প্রভৃতি নাম রাখতে নিষেধ করতে চেয়েছিলেন। পরে তিনি এ ব্যাপারে নীরব থাকেন এবং আর কিছু বলেননি। (মুসলিম, আবু দাউদ)
[ আল-আদাবুল মুফরাদ - ৮৪১ ]
حَدَّثَنَا الْمَكِّيُّ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، سَمِعَ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللهِ يَقُولُ‏:‏ أَرَادَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَنْ يَنْهَى أَنْ يُسَمَّى بِيَعْلَى، وَبِبَرَكَةَ، وَنَافِعٍ، وَيَسَارٍ، وَأَفْلَحَ، وَنَحْوَ ذَلِكَ، ثُمَّ سَكَتَ بَعْدُ عَنْهَا، فَلَمْ يَقُلْ شَيْئًا‏.‏
উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) বলেন, নবী (সাঃ) যখন তাঁর স্ত্রীদের থেকে বিচ্ছিন্নভাবে ছিলেন তখন আমি রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর গোলাম রাবাহ-এর নিকট উপস্থিত হলাম। আমি ডাক দিয়ে বললাম, হে রাবাহ! রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর নিকট থেকে আমার প্রবেশানুমতি প্রার্থনা করো। (বুখারী, মুসলিম)
[ আল-আদাবুল মুফরাদ - ৮৪২ ]
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ يُونُسَ بْنِ الْقَاسِمِ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا عِكْرِمَةُ، عَنْ سِمَاكٍ أَبِي زُمَيْلٍ قَالَ‏:‏ حَدَّثَنِي عَبْدُ اللهِ بْنُ عَبَّاسٍ قَالَ‏:‏ حَدَّثَنِي عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ‏:‏ لَمَّا اعْتَزَلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم نِسَاءَهُ، فَإِذَا أَنَا بِرَبَاحٍ غُلاَمِ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم، فَنَادَيْتُ‏:‏ يَا رَبَاحُ، اسْتَأْذِنْ لِي عَلَى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم‏.‏
আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (সাঃ) বলেনঃ তোমরা আমার নামানুসারে নাম রাখতে পারো, কিন্তু আমার উপনামে নাম রেখো না। কেননা আমিই আবুল কাসিম। (বুখারী, মুসলিম)
[ আল-আদাবুল মুফরাদ - ৮৪৩ ]
حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا دَاوُدُ بْنُ قَيْسٍ قَالَ‏:‏ حَدَّثَنِي مُوسَى بْنُ يَسَارٍ‏:‏ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ‏:‏ تَسَمُّوا بِاسْمِي، وَلاَ تُكَنُّوا بِكُنْيَتِي، فَإِنِّي أَنَا أَبُو الْقَاسِمِ‏.‏
আনাস ইবনে মালক (রাঃ) বলেন, নবী (সাঃ) বাজারে ছিলেন। এক ব্যক্তি ডাক দিলো, হে আবুল কাসেম! নবী (সাঃ) তার দিকে তাকালে সে বললো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি ঐ ব্যক্তিকে ডেকেছি। তখন নবী (সাঃ) বলেনঃ তোমরা আমার নামে নাম রাখতে পারো, কিন্তু আমার ডাকনামে নাম রেখো না। (বুখারী, মুসলিম, তাহাবী)
[ আল-আদাবুল মুফরাদ - ৮৪৪ ]
حَدَّثَنَا آدَمُ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ حُمَيْدٍ الطَّوِيلِ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ‏:‏ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فِي السُّوقِ، فَقَالَ رَجُلٌ‏:‏ يَا أَبَا الْقَاسِمِ، فَالْتَفَتَ إِلَيْهِ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ‏:‏ يَا رَسُولَ اللهِ، إِنَّمَا دَعَوْتُ هَذَا، فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم‏:‏ سَمُّوا بِاسْمِي، وَلاَ تُكَنُّوا بِكُنْيَتِي‏.‏
ইউসুফ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রাঃ) বলেন, নবী (সাঃ) আমার নাম রাখেন ইউসুফ। তিনি আমাকে তাঁর কোলে বসান এবং আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দেন। (আহমাদ, শামাইল তিরমিযী)
[ আল-আদাবুল মুফরাদ - ৮৪৫ ]
حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي الْهَيْثَمِ الْقَطَّانُ قَالَ‏:‏ حَدَّثَنِي يُوسُفُ بْنُ عَبْدِ اللهِ بْنِ سَلاَّمٍ قَالَ‏:‏ سَمَّانِي النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يُوسُفَ، وَأَقْعَدَنِي عَلَى حِجْرِهِ وَمَسَحَ عَلَى رَأْسِي‏.‏
জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন, আমাদের আনসারদের এক ব্যক্তির একটি পুত্র সন্তান ভূমিষ্ঠ হলো। সে তার নাম রাখতে চাইলো মুহাম্মাদ। আমি তাকে কাঁধে তুলে নিলাম এবং তাকে নিয়ে নবী (সাঃ)-এর নিকট এলাম। তিনি বলেনঃ তোমরা আমার নামে নাম রাখতে পারো, তবে আমার ডাকনামে নাম রেখে না। কেননা আমাকে কাসেম (বিতরণকারী) বানানো হয়েছে। আমি তোমাদের মধ্যে বন্টন করি। (বুখারী, মুসলিম)
[ আল-আদাবুল মুফরাদ - ৮৪৬ ]
حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ سُلَيْمَانَ، وَمَنْصُورٍ، وَفُلاَنٍ، سَمِعُوا سَالِمَ بْنَ أَبِي الْجَعْدِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ، قَالَ‏:‏ وُلِدَ لِرَجُلٍ مِنَّا مِنَ الأَنْصَارِ غُلاَمٌ، وَأَرَادَ أَنْ يُسَمِّيَهُ مُحَمَّدًا، قَالَ شُعْبَةُ فِي حَدِيثِ مَنْصُورٍ‏:‏ إِنَّ الأَنْصَارِيَّ قَالَ‏:‏ حَمَلْتُهُ عَلَى عُنُقِي، فَأَتَيْتُ بِهِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، وَفِي حَدِيثِ سُلَيْمَانَ‏:‏ وُلِدَ لَهُ غُلاَمٌ فَأَرَادُوا أَنْ يُسَمِّيَهُ مُحَمَّدًا، قَالَ‏:‏ تَسَمُّوا بِاسْمِي، وَلاَ تُكَنُّوا بِكُنْيَتِي، فَإِنِّي إِنَّمَا جُعِلْتُ قَاسِمًا، أَقْسِمُ بَيْنَكُمْ‏.‏ وَقَالَ حُصَيْنٌ‏:‏ بُعِثْتُ قَاسِمًا أَقْسِمُ بَيْنَكُمْ‏.‏
আবু মূসা (রাঃ) বলেন, আমার একটি পুত্র সন্তান ভূমিষ্ঠ হলো। আমি তাকে নিয়ে নবী (সাঃ)-এর নিকট এলাম। তিনি তার নাম রাখেন ইবরাহীম। তিনি খেজুর চিবিয়ে শিশুর মুখে দেন এবং তার জন্য বরকতের দোয়া করেন। অতঃপর তাকে আমার কোলে ফিরিয়ে দেন। সে ছিলো আবু মূসা (রাঃ)-এর বড়ো ছেলে। (বুখারী, মুসলিম)
[ আল-আদাবুল মুফরাদ - ৮৪৭ ]
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ بُرَيْدَ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أَبِي مُوسَى قَالَ‏:‏ وُلِدَ لِي غُلاَمٌ، فَأَتَيْتُ بِهِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، فَسَمَّاهُ إِبْرَاهِيمَ، فَحَنَّكَهُ بِتَمْرَةٍ، وَدَعَا لَهُ بِالْبَرَكَةِ، وَدَفَعَهُ إِلَيَّ وَكَانَ أَكْبَرَ وَلَدِ أَبِي مُوسَى‏.‏
সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব (র) থেকে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও দাদার সূত্র বর্ণিত। তিনি নবী (সাঃ)-এর নিকট এলেন। তিনি জিজ্ঞেস করেনঃ তোমার নাম কি? তিনি বলেন, হুযন (দুঃখ)। তিনি বলেনঃ তুমি সাহল (সহজ)। তিনি বলেন, আমার পিতা আমার যে নাম রেখেছেন তা আমি পরির্বতন করবো না। ইবনুল মুসাইয়্যাব (র) বলেন, ফলে সে অনবরত আমাদের মধ্যে চিন্তাযুক্ত থাকতো।
[ আল-আদাবুল মুফরাদ - ৮৪৮ ]
حَدَّثَنَا عَلِيٌّ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، قَالَ‏:‏ أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّهُ أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ‏:‏ مَا اسْمُكَ‏؟‏ قَالَ‏:‏ حَزْنٌ، قَالَ‏:‏ أَنْتَ سَهْلٌ، قَالَ‏:‏ لاَ أُغَيِّرُ اسْمًا سَمَّانِيهِ أَبِي‏.‏ قَالَ ابْنُ الْمُسَيِّبِ‏:‏ فَمَا زَالَتِ الْحُزُونَةُ فِينَا بَعْدُ‏.‏
আবদুল হামীদ ইবনে জুবাইর ইবনে শায়বা (র) বলেন, আমি সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব (র)-এর পাশে বসা ছিলাম। তিনি আমাকে বর্ণনা করলেন যে, তার দাদা হুযন (রাঃ) নবী (সাঃ)-এর নিকট গেলেন। তিনি জিজ্ঞেস করেন, তোমার নাম কি? তিনি বলেন, আমার নাম হুযন। তিনি বলেনঃ বরং তোমার নাম সাহল। তিনি বলেন, আমার পিতা আমার যে নাম রেখেছেন তা আমি পরিবর্তন করবো না। ইবনুল মুসাইয়্যাব (র) বলেন, সেই অবধি আমাদের পরিবারে দুঃখ লেগেই আছে। (বুখারী, মুসলিম, দারিমী)
[ আল-আদাবুল মুফরাদ - ৮৪৯ ]
حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى , قَالَ : حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ يُوسُفَ ، أَنَّ ابْنَ جُرَيْجٍ أَخْبَرَهُ , قَالَ : أَخْبَرَنِي عَبْدُ الْحَمِيدِ بْنُ جُبَيْرِ بْنِ شَيْبَةَ , قَالَ : جَلَسْتُ إِلَى سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ فَحَدَّثَنِي أَنَّ جَدَّهُ حَزْنًا قَدِمَ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، فَقَالَ : " مَا اسْمُكَ ؟ " ، قَالَ : اسْمِي حَزْنٌ ، قَالَ : " بَلْ أَنْتَ سَهْلٌ " ، قَالَ : مَا أَنَا بِمُغَيِّرٍ اسْمًا سَمَّانِيهِ أَبِي ، قَالَ ابْنُ الْمُسَيِّبِ : فَمَا زَالَتْ فِينَا الْحُزُونَةُ
জাবের (রাঃ) বলেন, আমাদের মধ্যকার এক ব্যক্তির একটি পুত্র সন্তান জন্মগ্রহণ করে। সে তার নাম রাখে কাসেম। আনসারগণ বলেন, আমরা তোমাকে না আবুল কাসেম নামে ডাকবো আর না তোমার চোখ জুড়াবো। সে নবী (সাঃ)-এর নিকট এসে আনসারগণ যা বলেছে তা তাঁকে জানায়। নবী (সাঃ) বলেনঃ আনসারগণ উত্তম কাজই করেছে। তোমরা আমার নামে নাম রাখো, কিন্তু আমার ডাকনামে নাম রেখো না। আমিই হলাম কাসেম (বন্টনকারী)। (বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ)
[ আল-আদাবুল মুফরাদ - ৮৫০ ]
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ، عَنْ جَابِرٍ قَالَ‏:‏ وُلِدَ لِرَجُلٍ مِنَّا غُلاَمٌ فَسَمَّاهُ الْقَاسِمَ، فَقَالَتِ الأَنْصَارُ‏:‏ لاَ نُكَنِّيكَ أَبَا الْقَاسِمِ، وَلاَ نُنْعِمُكَ عَيْنًا، فَأَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ لَهُ‏:‏ مَا قَالَتِ الأَنْصَارُ، فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم‏:‏ أَحْسَنَتِ الأَنْصَارُ، تَسَمُّوا بِاسْمِي، وَلاَ تَكْتَنُوا بِكُنْيَتِي، فَإِنَّمَا أَنَا قَاسِمٌ‏.‏
ইবনুল হানাফিয়া (র) বলেন, আলী (রাঃ) এর জন্য (একটি ব্যাপারে) অনুমোদন ছিল। তিনি বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনার পরে আমার কোন সন্তান জন্মগ্রহণ করলে আমি কি আপনার নামে তার নাম এবং আপনার ডাকনামে তার ডাকনাম রাখতে পারবো? তিনি বলেনঃ হাঁ। (আবু দাউদ, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ, তাহাবী, হাকিম, আহমাদ)
[ আল-আদাবুল মুফরাদ - ৮৫১ ]
حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا فِطْرٌ، عَنْ مُنْذِرٍ قَالَ‏:‏ سَمِعْتُ ابْنَ الْحَنَفِيَّةِ يَقُولُ‏:‏ كَانَتْ رُخْصَةً لِعَلِيٍّ، قَالَ‏:‏ يَا رَسُولَ اللهِ، إِنْ وُلِدَ لِي بَعْدَكَ أُسَمِّيهِ بِاسْمِكَ، وَأُكَنِّيهِ بِكُنْيَتِكَ‏؟‏ قَالَ‏:‏ نَعَمْ‏.‏
আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আমাদেরকে তাঁর নাম ও ডাকনাম একত্রে রাখতে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেছেনঃ আমি হলাম আবুল কাসেম আল্লাহ আমাকে দান করেন এবং আমি বিতরণ করি। (তিরমিযী, ইবনে হিব্বান, মুসনাদ আবু ইয়ালা)
[ আল-আদাবুল মুফরাদ - ৮৫২ ]
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ يُوسُفَ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ قَالَ‏:‏ حَدَّثَنِي ابْنُ عَجْلاَنَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ‏:‏ نَهَى رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ نَجْمَعَ بَيْنَ اسْمِهِ وَكُنْيَتِهِ، وَقَالَ‏:‏ أَنَا أَبُو الْقَاسِمِ، وَاللَّهُ يُعْطِي، وَأَنَا أَقْسِمُ‏.‏
আনাস (রাঃ) বলেন, নবী (সাঃ) বাজারে ছিলেন। এক ব্যক্তি ডেকে বললো, হে আবুল কাসেম । নবী (সাঃ) তার দিকে দৃষ্টিপাত করলে সে বললো, আমি এই ব্যক্তিকে ডেকেছি। তখন নবী (সাঃ) বলেনঃ তোমরা আমার নামে নাম রাখো, কিন্তু আমার ডাকনামে ডাকনাম রেখো না। (বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ)
[ আল-আদাবুল মুফরাদ - ৮৫৩ ]
حَدَّثَنَا أَبُو عُمَرَ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ حُمَيْدٍ، عَنْ أَنَسٍ قَالَ‏:‏ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فِي السُّوقِ، فَقَالَ رَجُلٌ‏:‏ يَا أَبَا الْقَاسِمِ، فَالْتَفَتَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ‏:‏ دَعَوْتُ هَذَا، فَقَالَ‏:‏ سَمُّوا بِاسْمِي، وَلاَ تُكَنُّوا بِكُنْيَتِي‏.‏
উসামা ইবনে যায়েদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। বাসূলুল্লাহ (সাঃ) এক মজলিসে গিয়ে উপনীত হলেন। সেখানে (মুনাফিক নেতা) আবদুল্লাহ ইবনে উবাই ইবনে সালূলও উপস্থিত ছিল। এটা আবদুল্লাহ ইবনে উবাইর ইসলাম গ্রহণের পূর্বেকার ঘটনা। তখন সে বললো, তুমি আমাদের মজলিসে আমাদের কষ্ট দিও না। অতঃপর নবী (সাঃ) সাদ ইবনে উবাদা (রাঃ) এর নিকট গিয়ে বলেনঃ হে সাদ! তুমি কি শোনো নাই, আবু হুবাব কি বলে? এখানে আবু হুবাব (সাপের পিতা বা রানী) দ্বারা তিনি আবদুল্লাহ ইবনে উবাইকে বুঝিয়েছেন। (বুখারী, মুসলিম, মুসনাদ আহমাদ)
[ আল-আদাবুল মুফরাদ - ৮৫৪ ]
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ صَالِحٍ قَالَ‏:‏ حَدَّثَنِي اللَّيْثُ قَالَ‏:‏ حَدَّثَنِي عَقِيلٌ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، أَنَّ أُسَامَةَ بْنَ زَيْدٍ أَخْبَرَهُ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم بَلَغَ مَجْلِسًا فِيهِ عَبْدُ اللهِ بْنُ أُبَيِّ بْنُ سَلُولٍ، وَذَلِكَ قَبْلَ أَنْ يُسْلِمَ عَبْدُ اللهِ بْنُ أُبَيٍّ، فَقَالَ‏:‏ لاَ تُؤْذِينَا فِي مَجْلِسِنَا، فَدَخَلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَلَى سَعْدِ بْنِ عُبَادَةَ فَقَالَ‏:‏ أَيْ سَعْدُ، أَلاَ تَسْمَعُ مَا يَقُولُ أَبُو حُبَابٍ‏؟‏، يُرِيدُ عَبْدَ اللهِ بْنَ أُبَيٍّ ابْنَ سَلُولٍ‏.‏
আনাস (রাঃ) বলেন, নবী (সাঃ) আমাদের এখানে আসতেন। আবু উমাইর ডাকনামে আমার একটি ছোট ভাই ছিল। তার একটি বুলবুলি ছিল। সে তা নিয়ে খেলা করতো। সেটি মারা গেলো। নবী (সাঃ) আমাদের এখানে এসে তাকে দুঃখ ভারাক্রান্ত দেখলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ তার কি হয়েছে? তাঁকে বলা হলো, তার বুলবুলিটি মারা গেছে। তিনি (কৌতুক করে) বলেনঃ ওহে আবু উমাইর! কি করলো তোমার নুগায়ের। (বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ)
[ আল-আদাবুল মুফরাদ - ৮৫৫ ]
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ قَالَ‏:‏ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَدْخُلُ عَلَيْنَا، وَلِي أَخٌ صَغِيرٌ يُكَنَّى‏:‏ أَبَا عُمَيْرٍ، وَكَانَ لَهُ نُغَرٌ يَلْعَبُ بِهِ فَمَاتَ، فَدَخَلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَرَآهُ حَزِينًا، فَقَالَ‏:‏ مَا شَأْنُهُ‏؟‏ قِيلَ لَهُ‏:‏ مَاتَ نُغَرُهُ، فَقَالَ‏:‏ يَا أَبَا عُمَيْرٍ، مَا فَعَلَ النُّغَيْرُ‏؟‏‏.‏
ইবরাহীম (র) থেকে বর্ণিত। আবদুল্লাহ (রাঃ) আলকামা (র) এর ডাকনাম রাখেন 'আবু শিবল'। অথচ তখনও তার কোন সন্তান জন্মগ্রহণ করেনি।
[ আল-আদাবুল মুফরাদ - ৮৫৬ ]
حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ مُغِيرَةَ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، أَنَّ عَبْدَ اللهِ كَنَّى عَلْقَمَةَ‏:‏ أَبَا شِبْلٍ، وَلَمْ يُولَدْ لَهُ‏.‏
আলকামা (র) বলেন, আমার কোন সন্তান ভূমিষ্ঠ না হতেই আবদুল্লাহ (রাঃ) আমার ডাকনাম রাখেন।
[ আল-আদাবুল মুফরাদ - ৮৫৭ ]
حَدَّثَنَا عَارِمٌ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ الأَعْمَشُ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ قَالَ‏:‏ كَنَّانِي عَبْدُ اللهِ قَبْلَ أَنْ يُولَدَ لِي‏.‏
আয়েশা (রাঃ) বলেন, আমি নবী (সাঃ)-এর নিকট এসে বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ। আপনি। আপনার স্ত্রীগণের ডাকনাম রেখেছেন। অতএব আমারও একটি ডাকনাম রাখুন। তিনি বলেনঃ তুমি তোমার বোনপুত আবদুল্লাহর নামে ডাকনাম গ্রহণ করো। (আবু দাউদ)
[ আল-আদাবুল মুফরাদ - ৮৫৮ ]
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلامٍ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ عَبَّادِ بْنِ حَمْزَةَ، عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ‏:‏ أَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقُلْتُ‏:‏ يَا رَسُولَ اللهِ، كَنَّيْتَ نِسَاءَكَ، فَاكْنِنِي، فَقَالَ‏:‏ تَكَنِّي بِابْنِ أُخْتِكِ عَبْدِ اللهِ‏.‏
আয়েশা (রাঃ) বলেন, হে আল্লাহর নবী! আপনি কি আমার ডাকনাম রাখবেন না? তিনি বলেনঃ তুমি তোমার পুত্রের অর্থাৎ যুবাইরের পুত্র আবদুল্লাহর নামে ডাকনাম গ্রহণ করো। অতএব তাকে আবদুল্লাহর মা নামে ডাকা হতো। (আবু দাউদ)
[ আল-আদাবুল মুফরাদ - ৮৫৯ ]
حَدَّثَنَا مُوسَى، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنْ عَبَّادِ بْنِ حَمْزَةَ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ الزُّبَيْرِ، أَنَّ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ‏:‏ يَا نَبِيَّ اللهِ، أَلاَ تُكَنِّينِي‏؟‏ فَقَالَ‏:‏ اكْتَنِي بِابْنِكِ، يَعْنِي‏:‏ عَبْدَ اللهِ بْنَ الزُّبَيْرِ، فَكَانَتْ تُكَنَّى‏:‏ أُمَّ عَبْدِ اللهِ‏.‏
সাহল ইবনে সাদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আলী (রাঃ) এর নিকট তার নামগুলোর মধ্যে 'আবু তুরাব' নামটি ছিল সর্বাধিক প্রিয় এবং তাকে এই নামে ডাকা হলে তিনি বিশেষভাবে আনন্দিত হতেন। আবু তুরাব ডাকনাম তাকে নবী (সাঃ)-ই দিয়েছেন। এক দিন তিনি ফাতেমা (রাঃ)-এর উপর রাগ করে বাড়ি থেকে বের হয়ে এসে মসজিদে গিয়ে তার দেয়াল ঘেঁষে শুয়ে পড়লেন। তাঁকে খুঁজতে খুঁজতে নবী (সাঃ) সেখানে আসলে এক লোক বলে যে, তিনি দেয়াল ঘেঁষে শুয়ে আছেন। নবী (সাঃ) তার কাছে যান। আলী (রাঃ)-এর পিঠে ধূলাবালি লেগে ছিল। নবী (সাঃ) তার পিঠের ধূলাবালি ঝাড়তে ঝাড়তে বলেনঃ হে আবু তুরাব! উঠে বসো। (বুখারী, মুসলিম)
[ আল-আদাবুল মুফরাদ - ৮৬০ ]
حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ بِلاَلٍ قَالَ‏:‏ حَدَّثَنِي أَبُو حَازِمٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ، إِنْ كَانَتْ أَحَبَّ أَسْمَاءِ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ إِلَيْهِ لَأَبُو تُرَابٍ، وَإِنْ كَانَ لَيَفْرَحُ أَنْ يُدْعَى بِهَا، وَمَا سَمَّاهُ أَبَا تُرَابٍ إِلاَّ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم، غَاضَبَ يَوْمًا فَاطِمَةَ، فَخَرَجَ فَاضْطَجَعَ إِلَى الْجِدَارِ إِلَى الْمَسْجِدِ، وَجَاءَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَتْبَعُهُ، فَقَالَ‏:‏ هُوَ ذَا مُضْطَجِعٌ فِي الْجِدَارِ، فَجَاءَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَقَدِ امْتَلَأَ ظَهْرُهُ تُرَابًا، فَجَعَلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَمْسَحُ التُّرَابَ عَنْ ظَهْرِهِ وَيَقُولُ‏:‏ اجْلِسْ أَبَا تُرَابٍ‏.‏

Execution time: 0.21 render + 0.05 s transfer.