Login | Register

আল বিদায়া ওয়ান্নিহায়া - খন্ড ৯

পৃষ্ঠা ৩৯৭ ঠিক করুন


ভারী হয়ে যায় ৷ আপনি অমুকের কাছে লোক পাঠান, তার কাছে শামী চাদর এসেছে, তার
থেকে বাকীতে এক জোড়া চাদর ক্রয় করুন ৷ দুত লোকটির কাছে এসে বলল, রাসুলুল্লাহ্
সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামা আমাকে তোমার কাছে পাঠিয়েছেন, তুমি যেন বাকী মুল্যে
তার কাছে একজােড়া চাদর বিক্রি কর ৷ সে বলল, আমি বুঝতে তপােরছি, অ ল্লাহব কসম!
আসলে আল্লাহর নবীর উদ্দেশ্য হলো আমার চাদর দুটি হাত করা এবং তার মুল্য পরিশোধে
গড়িমসি করা ৷ সেই দুত আল্লাহ্র রাসুলের কাছে ফিরে তাকে বিষয়টি অবহিত করলেন ৷ তিনি
বলেন, যে মিথ্যা বলেছে ৷ সকলেই জানে সকলের চেয়ে আমি মহান আল্লাহ্কে বেশী ভয় করি
এবং সবঢিগ্ন আমানত আদায় করি ৷ এই দিনই নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্পাম্৷
বলেন,
নিজের কাছে যা নেই তা ঋণ করে নেওয়ার চেয়ে তালিযুক্ত কাপড় পরা তোমাদের জন্য
উত্তম ৷ মহান আল্লাহ্সর্বাধিক অবগত ৷

আল কাসিম ইবন মুহাম্মদ ইবন আবু বাকর সিদ্দীক (বা)১

একজন বিশিষ্ট ফকীহ্ ৷ সাহাবাহ্ ও অন্যদের থেকে তার বহু সং খ্যক রিওয়ায়াত বিদ্যমান ৷
তিনি পবিত্র মদীনায় শ্রেষ্ঠতম ব্যক্তি এবং সমকালীন লোকদের মাঝে সর্বাধিক জ্ঞানী ৷ তার
শৈশবে তার পিতা মিসরে শহীদ হন ৷ত তার খাল৷ তাকে লালন-পালন করেন ৷ তিনি বহু গুণ ও
কীর্তির অধিকারী ৷ এছাড়া আরেক জন হলেন, আবু রজা আল উতারিদী ৷

প্রসিদ্ধ করি আষ্যা প্রেমিক কুছায়য়ির২ৰু

কুছায়িয়র ইবন আবদুর রহমান ইবন আসওয়াদ ইবন আমির আবু সাখৃর আল খুযাঈ
আল হিজাঘী, যিনি ইবন আবুজুমুআহ্ নামে পরিচিত ৷ আর এই আয্যার নামে তার প্রসিদ্ধি
এবং পরিচিতির কারণ হলো, তার ব্যাপারে তার প্রেম কাব্য ৷ তার পরিচয় হলো যে, বানু
হাজির ইবন গিফারের সদস্য জামিল ইবন হাফসের কন্যা ৷ তার উপনাম উম্মু আমর ৷ তার নাম
কুছায়য়ির রাখার কারণ ৷ সে ছিল কদাকার ওবেটে ৷ আর উচ্চতা ছিল তিন বিঘত ৷ ইবন
খাল্লিকান বলেন, যে যখন হাটত তখন তার দেহাকৃতির ক্ষুদ্রতার কারণে মনে হতো যেন
কোন শিশু হাটছে ৷ সে যখন খলীফ৷ আবদুল মালিক ইবন মারওয়ানের দরবারে সাক্ষাতে
প্রবেশ করত, তখন তিনি তাকে বলতেন, তোমার মাথা নীচু কর ৷ দেখ, ছাদে যেন ধাক্কা না
লাগে ৷ তিনি তার সাথে হাসি-ঠাট্ট৷ করতেন ৷ আর সে আবদুল মালিকের দরবারে
আনুষ্ঠানিকভাবে আগমন করত ৷ একাধিকবার সে তার দরবারে আগমন করেছে ৷ এছাড়া যে
উমর ইবন আবদুল আযীযের দরবারেও আগমন করেছে ৷ তার কাব্য-প্রতিভা সম্পর্কে বলা হয়
ইসলামী যুগের কবিদের মাঝে সেই শ্রেষ্ঠ ৷ যদিওত ৷র মাঝে শী আ প্রবণতা ছিল ৷ কেউ কেউ
আবার তাকে পুনর্জন্মবাদে বিশ্বাসী বলে থাকে ৷ আর তার সম্পর্কে এই মত যদি সঠিক হয়,

তাহলে বলা হয় মুর্থত৷ ও নির্বুদ্ধিতার কারণে সো£ , ৷:ছু ঢু ,,পুং ; ৷ এ যেই
আকৃত্যিত ঢেয়েছেনত তিনি তোমাকে গঠন করেছেন এই আয়াত দ্বারা এ বিষয়ে প্রমাণ পেশ
১ সিয়ারু আ লামুনৃ নৃবালা ৫৫৩ ৷
২ সিয়ারু আলামুন নুবাল৷ ৫১৫ ২ ৷


পৃষ্ঠা ৩৯৮ ঠিক করুন

করত ৷ একদিন সে আবদুল মালিকের দরবারে প্রবেশের অনুমতি প্রার্থনা করল ৷ এরপর সে
যখন আবদুল মালিকের সাক্ষাতে প্রবেশ করল, তখন তিনি তাকে দেখে বললেন, তোমাকে
দেখার চেয়ে শোনাই ভাল ছিল১ ৷ তখন সে বলল-হে আমীরুল মু’মিনীন! দুই ক্ষুদ্রতম অঙ্গ
দ্বারাই মানুষের বিচার হওয়া উচিত ৷ হৃদয় ও জিহ্বা২ ৷ যদি সে কথা বলে, তাহলে সুস্পষ্ট ও
বিশুদ্ধ রুপে কথা বলে ৷ আর যদি লড়াই করে, তাহলে বীরত্বের সাথে লড়াই করে ৷ আমিই
ফ্লিক্ত পঙ্ক্তিসমুহের রচয়িতা :

, fl , , ণ্ , ষ্স্


আমি সকল বিষয় যাচাই করেছি আর বিষয়সমুহ আমাকে যাচইি করেছে এবং আমার
স্বতাব প্রকাশ করেছে ৷



আর লোকদের কাছে এ কথা গোপন নেই যে, আমি হলাম কঠোর প্রতিদ্বন্দী এবং তাদের
সম্পকে বিজ্ঞঅভিজ্ঞ ৷


শীর্ণকায় কোন ব্যক্তিকে দেখে তুমি তুচ্ছ করবে কিন্তু তারই পােশাকের আড়ালে রয়েছে
এক সাহসী সিংহ ৷


আর কোন পোফওয়ালা ওে তামাকে চমত্কৃত করবে ৷ এরপর যদি তুমি তাকে পরখ কর
তাহলে দেখবে এই গৌফওয়ালা তোমার ধারণাকে ক্তৃ৷ প্রমাণিত করেছে ৷


মাথার খুলিই পুরুষকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করে না ৷ আসলে তার সৌন্দর্য হলো দীন ও কল্যাণ ৷

বুগাছ পাখী আকার-আকৃতিতে বিশাল ৷ কিন্তু ঈগল ও বাজপাখী এত দীর্ঘকায় নায় ৷

মাথার ঘিলু ছাড়াই উট এত বিশাল, তাই এই বড় হওয়া তার কোন কাজে আসেনি ৷
,ছুওঠুষ্াদ্ভু ব্ট্টএ

তাই তাতে আরোহণ করা হয় অতঃপর তাকে লাঠি দিয়ে প্রহার করা হয়, কিন্তু তার কাছে

১ এখানে উল্লিখিত আরবী প্রবাদ বাক্যটি ব্যাখ্যা সাপেক্ষ, তাই ভাবানুবাদ করা হলো--অনুবাদক
২ অর্থাৎ মিঃ ভাবনার শক্তি ও বাককুশলতা ৷


পৃষ্ঠা ৩৯৯ ঠিক করুন

আবুল ফারাজ ইবন তিরার এই কাহিনীর অদ্ভুত অংশ ও তার কবিতা পঙ্ক্তিসমুহের
ব্যাপারে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন ৷ ঐতিহাসিকগণ বলেন, একবার আঘৃযা প্রেমিক কুছায়য়ির
খলীফা আবদুল মালিক ইবন মারওয়ানের সাক্ষাতে প্রবেশ করল এবং তার প্রশংসায় একটি
কাব্য গাথা আবৃত্তি করল ৷ তার একটি পঙ্ক্তি হলো ন্


ইবন আবুল আসের দেহে দুভেদ্য বর্ম রয়েছে, যাকে বুননকর্মী নিপুণ ও মযবুতভাবে
বুনেছেন ৷
তার এ কবিতা পঙ্ক্তি শুনে আবদুল মালিক তাকে বলল, তুমি ভেমনটি কেন বুনলে না
যেমনটি করি আ শা বলেছে কায়স ইবন মা দীকারিবকে-

” ’


যখন অস্ত্রসজ্জিত অগ্রবর্তী বাহিনী যুদ্ধের ময়দানে অগ্রসর হয়, ফলে তাদের আক্রমণের

ভয়ে আমাদের যােদ্ধারা শঙ্কিত হয় ৷

তখন তাদের বীর যোদ্ধাদের তরবারি দিয়ে আঘাত করার জন্য জুবৃবা পরিধান ছাড়াই
আমি অগ্রবর্তী হয়ে যাই ৷

তখন সে বলল, হে আযীরুল মু’মিনীন! সে তো তাকে নির্বোধ সাব্যস্ত করেছে আর আমি
আপনাকে বিচক্ষণ সাব্যস্ত করেছি ৷ একদিন সে খলীফা আবদুল মালিকের সাক্ষাতে প্রবেশ করে
দেখল, তিনি মুসআব ইবন প্গ্লুবায়রের বিরুদ্ধে অভিযানের প্রস্তুতি গ্রহণ করছেন ৷ খলীফা তাকে
বললেন, হে কুছায়য়ির ! এই মাত্র আমি তোমাকে তোমার কবিতার কারণে স্মরণ করেছি ৷ যদি
তুমি বলতে পার সেটা তোমার কোন কবিতা, তাহলে তুমি যা চাইবে আমি তোমাকে তাই
দিব ৷ তখন সে বলল, ইয়া আমীরাল মু’মিনীন! আমার মনে হচ্ছে, আপনি যখন ৰু,আতিকা
বিনৃত ইয়াযীদকে বিদায় জানিয়েছেন, তিনি আপনার বিচ্ছেদ স্মরণ করে কেদােছন ৷ তারপর
তার কান্ন৷ দোখ তার পরিচারিকারাও কেদেছে ৷ তখন আপনি আমার এই কবিতা স্মরণ
করেছেন, :


তিনি যখন যুদ্ধাভিযানের সংকল্প করেন, তখন মোতির হার সজ্জিতা সতী নারীও তাকে
তার সংকল্পচ্যুত করতে পারে না ৷


সে তাকে নিষেধ করল ৷ বিন্তু, যখন দেখল তার নিষেধা জ্ঞা৷ তাকে বিরত করল না, তখন
সে কাদল, আর তার কান্নায় তার পরিচারিকারাও কাদল ৷
তিনি বলেন, তুমিঠিক বলেছে৷ ৷ এখন বল, তুমি কী চাও ? সে বলল, আপনার বাছাই

করা উট থেকে এক হাজার উট ৷ তিনি বললেন, তোমাকে তা দেয়৷ হলো ৷ এরপর আবদুল
মালিক যখন ইরাকের উদ্দেশ্যে রওয়ানড়াগ্যেন্মঃস্থুন রািড্রুন্প্লুন একদিন তিনি কুছায়য়িরকে তার বিষয়ে

০ £০া৷া

পৃষ্ঠা ৪০০ ঠিক করুন

ভাবতে দেখলেন ৷ তখন তিনি নির্দেশ দিলেন, তাকে আমার কাছে নিয়ে আস ৷ তারপর তাকে
যখন আনা হলো, তিনি তাকে বললেন, ভেবে দেখ আমি যদি তুমি কী চিন্তা তা ৷বনা কবছিলে

তা বলে দিই, তাহলে কি তুমি আমার ব্যাপারে আমার সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে ? সে বলল হ্যা
তিনি বললেন, আল্লাহর কসম ? সে বলল, হ্যা, আল্লাহর কসম ৷ আবদুল মালিক তাকে
বললেন, তুমি মনে মনে ভাবছিলে এ ব্যক্তি আমার মতাদর্শী (শীআপন্থী) নয় ৷ আর সে এমন
এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করতে যাচ্ছে, যে আমার মতাদর্শী নয় ৷ এদের দুইজনের মধ্য
থেকে যদি কোন অজ্ঞাত তীর আমাকে হত্যা করে, তাহলে আমি দুনিয়া-আখিরাত দৃই-ই
হারাব ৷ সে বলল, হী৷ ! আমীরপ্স মুমিনীন! আপনি ঠিকই বলেছেন আপনি আপনার সিদ্ধান্ত
প্রদান করুন ৷ তিনি বললেন, আমার সিদ্ধান্ত হলো তোমাকে উত্তম বখৃশিশ দিয়ে তোমার
স্বজ্যা-পরিজনের কাছে ফেরত পাঠানো ৷ এরপর তিনি তাকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ প্রদান
করলেন এবং তাকে ফিরে যাওয়ার অনুমতি দিলেন ৷

বিনিষ্টি রাবী হাষ্মাদ কুছায়ির থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, উমর ইবন আবদুল আযীয
যখন খিলাফতের দায়িতু গ্রহণ করলেন, তখন আমি, আহওয়াস এবং নুসায়ব (এই তিনজন)
তার সাক্ষাতে গমন করলাম ৷ আর ইরুত তাপুর্বে৩ তিনি যখন মদীনায় গভর্নর ছিলেন, তখন আমরা তার সাহচার্য ও সঙ্গ লাভ করতাম ৷ আমাদের প্রত্যেকের ধারণা ছিল তিনি আমাদেরকে তার দরবারে সমাদুর করবেন ৷ একথা ভেবে গর্বিত চালে চলতে থাকলাম ৷ এরপর আমরা যখন খুনাসিরার নিকট পৌছলাম এবং আমাদের দৃষ্টিতেত তার চিহ্নসমুহ তে সে উঠল, তখন মাসলামাহ্ ইবন আবদুল মালিক আমাদের সাথে দেখা করেন এবং বলেন, তোমরা কী উদ্দেশ্যে আগমন করেছে৷ ? তোমরা কি জানতে পারনি যে তোমাদের খলীফা কবিতা ও কবিদের পসন্দ করেন না ? কুহুায়য়ির বলেন, একথায় আমরা আশাহভ ও বিযগ্ন হলাম ৷ মাসলামাহ আমাদেরকে তার কাছে অবস্থান করলে এবং আমাদের ব্যয়ভার বহন করেন এবং আমাদের বাহনসমুহকে গো খাদ্য সরবরাহ করেন ৷ এভাবে আমরা চার মাস তার কাছে অবস্থান করি ৷ কিন্তু এ দীর্ঘ সময়ের মাঝে তার পক্ষে আমাদের জন্য উমর ইবন আবদুল ,আযীযের সাক্ষাতের অনুমতি লাভ করা সম্ভব হলো না ৷ এরপর কোন এক জুমুআতে আমি তার নিকটে অবস্থান নিলাম যাতে তার খুতবাহ্ ভালভাবে শুনতে পারি এবং নামায শেষে তাকে সালাম করতে পারি ৷ এসময় আমি তাকে খুতবায় বলতে শুনলাম, প্রত্যেক সফরের জন্য পাথেয় অপরিহার্য ৷ কাজেই, তোমরা দুনিয়া থেকে আখিরাতের সফরের জন্য তাক্ওয়া বা থােদাভীতির পাথেয় অবলম্বন কর ৷ আর ঐ ব্যক্তির ন্যায় হয়ে যাও, যে ঐ শান্তি ও পুরস্কার প্রত্যক্ষ করেছে, যা মহান আল্লাহ তার জন্য প্রস্তুত করেছেন ৷ এ স্থলে তোমরা আগ্নহীও ভীত হয়ে ৷ তোমাদের কামনা-বাসনা যেন দীর্ঘ না হয় ৷ত তাহলে হৃদয়সমুহ কঠোর হয়ে যাবে এবং তোমরা তোমাদের শত্রুদের অনুগত হয়ে যাবে ৷ কেননা, আল্লাহর কসম, ঐ ব্যক্তির আশা-আকাক্ষে৷ বিস্তারে কী লাভ যে জানে না যে, হয়ত সকালের পর তার জীবনে পরবর্তী সন্ধ্য৷ আসবে না অথবা সন্ধ্যার পর তার জীবনে পরবর্তী সকাল আসবে না এবং এই দৃহয়ের মাঝে তার জন্য মৃত্যু ওত পেতে বসে আছে ৷ আশ্বস্ত হতে পারে সে, যে মহান আল্লাহর আমার ও কিয়ামত দিবসের ভয়াবহতা থেকে মুক্তির ব্যাপারে আস্থাবান হয়েছে ৷ আর যে ব্যক্তি দুনিয়ার

পৃষ্ঠা ৪০১ ঠিক করুন


(আঘাতের) একটি ক্ষতের চিকিৎসা করতে না করতে অন্য দিক থেকে আঘাতপ্রাপ্ত হয়, সে

কীভাবে আশ্বস্ত হতে পারে ৷ নিজেকে আমি যে বিষয় থেকে বিরত রাখি, সে বিষয়ে
তোমাদেরকে নির্দেশ দেওয়া থেকে আমি মহান আল্লাহ্র আশ্রয় গ্রহণ করছি ৷ তাহলে আমার
চুক্তি অলাভজনক প্রমাণিত হবে এবং ঐ দিন আমার নিঃস্বতা প্রকাশ পেয়ে যাবে, যেদিন ন্যায়
ও সত্য ছাড়া কোন কিছু দ্বারা উপকৃত হওয়া যাবে না ৷ এরপর তিনি এমনভাবে কাদলেন যে,
আমাদের মনে হলো এই কান্না তার জীবনাবসান ঘটাবে, আর উপস্থিত সকলের কান্না ও
চিৎকারে মসজিদ ও চারপাশ প্রকম্পিত হলো ৷ কুছায়য়ির বলেন, তখন আমি আমার সঙ্গীদ্বায়র
কাছে গিয়ে বললাম ৷ উমর ও তার পিতৃপুরুষদের সম্পর্কে আমরা যে সকল কবিতা রচনা
করেছি তা ছাড়া অন্য কিছু কবিতা রচনা কর ৷ কেননা, তিনি পাথিং ৷লাক নন, অপার্থিব
ব্যক্তি ৷ তিনি বলেন, এরপর কোন এক জুমুআর দিন মাসলামাহ্ আমাদ্রেয় সাক্ষাতের জন্য তার
অনুমতি গ্রহণ করলেন ৷ এরপর আমরা যখন তার সাক্ষাতে প্রবেশ করলাম, তখন আমি তাকে
সালাম করে বললাম, হে আমীরুল মু’মিনীন! অবস্থান দীঘায়িত হয়েছে ৷ , কিংহু তেমন কোন
উপকার লাভ হয়নি ৷ আর আরব প্রতিনিধি দল বলাবলি করছে যে, আপনি আমাদেরকে উপেক্ষা
করেছেন ৷ তিনি ৷ সাদকা তো কেবল নিঃস্ব
ও অতাবগ্রস্তদের জন্য’ (৯৪ ৬০) ৷ আর তোমরা যদি এদের অন্তভুক্ত হয়ে থাক, তাহলে আমি
তোমাদেরকে প্রদান করব ৷ আর যদি তা না হয়, তাহলে বায়তুল মালে তোমাদের কোন
প্রাপ্যাৎশ-ানই ৷ আমি বললাম, যে আমিরপ্স মু’মিনীন! আমি এক নিঃস্ব পথচারী ৷ তিনি বলেন,
তোমরা কি আবু সাঈদের কাছে অবস্থানরত (অর্থাৎ মাসলামাহ্ ইবন আবদুল মালিক) নও ?
আমরা বললাম, অবশ্যই ৷ তিনি বললেন, যে আবু সাঈদের কাছে রয়েছে তার আর কোন
বিনিময় ৷নই ৷ আমি বললাম, ৷হ আমীরুল মুমিনীন! আমাকে আবৃত্তির অনুমতি দিন ৷ তিনি
বললেন, ঠিক আছে ৷ তবে ভুমি শুধু সত্যই বলবে ৷ আমি তাকে যে কবিতা আবৃত্তি করে
গােনালাম তার একাৎশ০

খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণের পর আপনি হযরত আলীর প্রতি বিরুপ কোন মন্তব্য করেননি,
কোন নিদেষিকে ভীত সন্ত্রস্ত করেননি এবং কোন অপরাধীর ইঙ্গিত গ্রহণ করেননি ৷

ণ্ভ্রুট্রুপ্ এও ১

যে আপনার দ্বারস্থ হয়েছে তার সাথেই আপনি কথামত কাজ করেছেন ৷ ফলে সকল
মুসলমান আপনার প্রতি ৩প্রসন্ন হয়েছে ৷


, দুনিয়া তার পোশাক পরিধান করে তোমাকে হাত ও হাতের ক ৷কন দেখিয়ে তোমার দিকে
অগ্রসরমান ৷

০০ ৷৷া
হু

পৃষ্ঠা ৪০২ ঠিক করুন

০০ মা৪ না :

৪০২ আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া

মাঝে মাঝে যে নিম্প্রভ চোরা দৃষ্টি হানে এবং শিলাশুভ্র দীতে হাসে ৷
ট্রুকু৯ঠু;এে
কিন্তু আপনি এমন ৰিতৃষ্ণায়নি তাকে উপেক্ষা করলেন যেন সে আপনাকে বিষাক্ত পানীয়
পান করিয়েছে ৷

শ্ :

ণ্ৰুব্লুটু ৰু;টুট্রু৷ ৷াওড়ু
অথচ ইতোপুর্বে আপনি তার শক্ত আসে এবং ফেনিল সমুদ্রের ঢেউয়ে আটকে ছিলেন ৷

আজও আপনি প্রত্যেক চুড়ান্ত লক্ষে পৌছার

ণ্র্দুব্র; ষ্ব্র
কিভু এরপর যখন এমনিতেই আপনি বাদশাহীর অধিকারী হলেন, আর

শ্

যা নিঃশেষ হয়ে যাবে আপনি তা বর্জন করেছেন যদিও তা চিত্তাকর্ষক আর যা স্থায়ী তাকে
সুবিজ্ঞ রায় দ্বারা প্রাধান্য দিয়েছেন ৷
টুা;ঠু;
আপনি দুনিয়ারপার্থিব জীবনের ক্ষতি করেছেন এবং আপনার সামনে অকল্যাণের অন্ধকার
দিবস রয়েছে তার জন্য তৎপর হয়েছেন ৷
ব্লু১ ব্লাট্রু ৷১৷ ছুা৷হুট্রু
আপনি যখন খলীফা হলেন, তখন আপনার অধীনস্থ জানমালে স্বেচ্ছাচারিতা ৫খকে
আপনাকে বাধা দান কারী মহান আল্লাহ্ ছাড়া কেউ নেই ৷


াদ্বু“““শু
নিদ্রাদুরকারী এক চিন্তার উদয় হলো আপনার হৃদয়ে, যার কারণে আপনি মর্যাদার সােপান
যেয়ে সর্বোচ্চ স্তরে উন্নীত হলেন ৷


উদয়াচল ও অস্তাচলের মধ্যবর্তী গোটা পৃথিবীতে আরব-অনারব এমন কোন ণ্ঘাষকপ্রজা
নেই ৷


পৃষ্ঠা ৪০৩ ঠিক করুন


০ ¢

সে বলে, আমীরুল মু’মিনীন, আপনি আমার প্রতি অবিচার করেছেন আমার একটি দীনার
ও একটি দিরহাম আত্মসাৎ করেহ্নে৷ ৷
ণ্ক্রুপু১-১ ন্এণ্
অপরাধী নয় এমন কারও প্রতি তার হাত প্রসারিত হয়নি এবং অন্যায়ভাবে তার দ্বারা
সামান্য পরিমাণ বক্তপাত হয়নি ৷

এএে
মুসলমানগণ যদি পারত, তাহলে বিনা দ্বিধায় আপনার জন্য তাদের অর্ধেক অ ৷য়ুষ্কাল বণ্টন
করে দিত ৷

মোঃ গ্

আর তার দ্বারা আপনি ততদিন জীবিত থাকবেন, যত দিন কোন আরােহী তাল্ৰিয়া
পাঠকারী, মাকাম ও যামযাম তাওয়াফকারী আল্পাহ্র উদ্দেশ্যে হজ্জ করবে ৷

ণ্ক্রো

আপনার এই চুক্তি অত্যন্ত লাভজনক প্রমাণিত হয়েছে এবং আপনি বিরাট সৌভাগ্যের
অধিকারী হয়েছেন ৷

বর্ণনাকারী বলেন, তখন উমর ইবন আবদুল আযীয আমার দিকে তাকিয়ে বলেন, তুমি
তো কিয়ামত দিবসে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে ৷

এরপর আহওয়াস তার অনুমতি নিয়ে তাকে আরেকটি কবিতা আবৃত্তি করে ণ্শানায় ৷ তিনি
তাকে বলেন, তৃমি তো কিয়ামত দিবসে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে ৷ এরপর নুসায়ব তার
অনুমতি প্রার্থনা করে ৷ কিন্তু তিনি তাকে অনুমতি প্রদান করলেন না ৷ আর প্রত্যেককে(তিন
জনকে) দেড়শ’ দিরহাম প্রদানের নির্দেশ দিলেন এবং নুসায়বকে মারাজ দাবাকের দিকে
যুদ্ধাতি যানে পাঠালেন ৷ আর পরবর্তীকালে কুছায়য়ির ইয়াযীদ ইবন আবদুল মালিকের দরবারে
গমন করে তার প্রশংসায় কাব্য রচনা করলে তিনি তাকে সাতশ’ দীনার প্রদান করেন ৷ যুবায়র
ইবন বাক্কার বলেন, কুছায়য়ির ছিল ইতর শ্রেণীর শীআহপন্থী ৷ সে পুনর্জন্মবাদে বিশ্বাসী ছিল ৷
এমনকি সে এই আয়াত দ্বারা প্রমাণ পেশ করত ৷ মুসা ইবন উকবাহ্ বলেন, কোন এক রাত্রে
মুছায়য়ির ভীতিপ্রদ স্বপ্ন দেখল ৷ পরদিন সকালে সে যুবায়র পরিবারের প্রশং সার কাব্য রচনা
ৰু করল এবং আবদুল্লাহ্ ইবন যুবায়রের মৃত্যুস্মরণে শোকপাথা রচনা করল ৷ আর ইতোপুর্বে সে
তার ব্যাপারে মন্দ ধারণা পোষণ করত ৷

! শ্ ; ষ্ ; শ্ ; শ্ ! ; ন্ ;; শ্ ; ষ্ ’


পৃষ্ঠা ৪০৪ ঠিক করুন


শ্শ্শ্শ্শ্


আমরা নির্ভায় পথ হলাম আর যে বিপদাপদের আশঙ্কা কৱবে তাকে বিপদাপদ আক্রান্ত
করবে ৷


আসমার ছেলের সমালোচনা থেকে আমি নিঃসম্পর্ক ৷ আসমার ছেলের সমালোচনা থেকে
আমি তাওবা করছি মহান আল্লাহ্র কাছে ৷


যে এমন ব্যক্তি যাকে হত্যা করে তার মায়েদের শোকাতে করা অনুচিত ৷ আর আমাদের
মাঝে তার পিতৃপুরুষগণ হলো উত্তম স্বভাব মহানুভব ৷

মুসআব ইবন আবদুল্লাহ্ আয-যুবায়রী বলেন, (একবার) আইশা বিনৃত তালহা
কুছায়য়িরকে বলেন, আযযার প্রসঙ্গে তুমি যে সকল কবিতা আবৃত্তি করেছো, সে তো তার
অর্ধেক দেহ-সৌন্দর্যেরও অধিকারিণী নয় ৷ তুমি যদি তা আমার ও আমার ন্যায় নারীদের
প্রসঙ্গে বলতে, তাহলে তা মানাতো ৷ কেননা, তার চেয়ে গুণে সৌন্দর্যে ও আভিজাত্যে আমরা
গ্রেষ্ঠতর ৷ আর এই অইিশা ছিলেন গুণে-সৌন্দর্যে এবং আভিজাত্যে তার কালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ
নারী ৷ আর তিনি কুছায়য়িরকে তা বলেছিলেন তাকে যাচইি করার জন্য ৷ তখন সে আবৃত্তি
করল ৷৷

হে আয্যা হৃদয়কে বিসর্জন দিয়েছে অথবা প্রায় বিস্মৃত হয়েছে এবং অবস্থার পরিবর্তন না
হওয়া পর্যন্ত উপবাসের সিদ্ধান্ত নিয়েছে-

#


আয্যা প্রেমিক কিভাবে অনাহারে থাকতে চাইবে ৷

’ ন্ শ্

ধ্াঙ্৷ ৷;া৷
অন্য কোন প্ৰণয় নিবেদনকারিগী যখন আমাদের আবৃযার প্ৰণয় থেকে বিচ্যুত করতে চায়,
তখন আমি বলি হাজিরী আয্যাই সর্বাগ্নে ৷
আমি তাকে বলি, তুমি যদি আমার বন্ধন কামনা কর, তাহলে আমি কৃতজ্ঞর্চিত্তে তোমার
প্রতি সদাচারী হব ৷ তবে প্রণয়ের জন্য আমার ঐ হাজিবিয়্যা আযযইি শ্রেয়তর ৷

কুটনারা তাকে বলেছে, আমি তাকে ত্যাগ করেছি ৷ আর এভাবে তারা তাকে আমার প্রতি
অভিমানী করেছে ৷ তখন আইশা তাকে বলেন, তুমি দেখছি আমাকে প্রেমম্পেদ বানিয়ে ছাড়লে,


পৃষ্ঠা ৪০৫ ঠিক করুন


আমি তো তোমার প্রেমাম্পৃদ নই ৷ করি জামীল যেমনটি বলেছে, তুমি তেমন বলতে পারতে ৷
আল্লাহর কসম, সে তোমার চেয়ে বড় কবি ৷ দেখ সে বলছে

হে পরিহাসকারীর কথাচ্ছলে আন্তরিকভাবে আমাদের প্রণয়াকাভফীপ্রু

০ fl ,


সসঙ্কোচে আমি তাকে উত্তর দিলাম বুছয়ন৷ র ৷প্রতি আমার ভালবাসা তোমার মিলন থেকে
আমাকে বিরত ব্লেখেছে ৷

আমার হৃদয়ে যদি নখাগ্ন পরিমাণ স্থান শুন্য থাক৩ ,তাহলে আমি তোমার সাথে সম্পর্ক

গড়তাম ৷ কিৎবা তোমার কাছে আমার পত্র আসত ৷

এই পঙক্তি শুনে সে বলল, আল্লাহ্র কসম, আমি জ্যমীর্লের গ্রেষ্ঠতৃ অস্বীক৷ ৷র করছি না ৷
আমি তো তারই শিষ্য ৷ এছাড়া ইবনুল আনব৷ ৷রী কুছায়য়িরের একটি কবিতা আবৃত্তি করেছেন-

০ : × :

গ্রাট্র১

আমার পিতামাত৷ উৎসর্গিত হোক ঐ প্রেমাস্পদের তবে, শত্রুর৷ যার পিছু নিয়ে তার
মনােভাবের পরিবর্তন ঘটিয়েছে ৷

, শ্ :

আর আমার কাছে কতক নারী এসেছে আযযাৱ দোষ নিয়ে সৃষ্টিকর্তা তাদের গণ্ডদেশকে
তার পাদুকা বানিয়ে দিন ৷


আল্পাহ্ জানেন তাদের সকলের সাথে যদি তার ভাস্কর্যকে ও একত্রিত করা হতো তাহলে
আমি চিন্তা-ভাবনার পুর্বেই তার ভাস্কর্যবেইি গ্রহণ করতাম ৷


আর আযযা যদি পুর্বাহ্নের সুর্যের সাথে সৌন্দর্য নিয়ে বিবাদ করে কাযী মুওয়াফুফাকের
ষ্ঠাং যেত, তা ৷৩হলে তিনি তার অনুকুলেই ফ ৷য়সালাহ্ করতেন ৷

তার রচিত আরও কয়েকটি পঙক্তি হলো




আমাদের মাঝে বিদ্যমান দুরতৃ কোন সান্তুন৷ সৃষ্টি করেনি এবং দীর্ঘ মিলন কোন বিদ্বেষের

, শ্ধ্ শ্ষ্


পৃষ্ঠা ৪০৬ ঠিক করুন

কুটনাবা আমার প্রেমাসক্তিকে বৃদ্ধি করেছে আর নিষেধকারীদের আধিক্য আমার প্রেম
অবিচলত ড়াবৃদ্ধি করেছে ৷

অন্য স্থানে তার এই পঙক্তিদ্বয় উদ্ধৃত হয়েছে
৮া-৷চুষ্লোঃ ঞ এ্যা

আমি তাকে বললাম, হে আয্যা! সকল ৰিপদই এমন যে একদিন যদি প্রাণ তাতে ন্থিত
হয়, তখন তা সহজ হয়ে যায় ৷

আয্যা আমাদের যে মানহানি ঘটিয়েছে তা তার জন্য সহজ ও স্বাচ্ছন্দময় হোক ৷
এছাড়াও প্রজ্ঞাপুর্ণ কয়েকটি পঙক্তি রয়েছে

যে ব্যক্তি তার বন্ধু থেকে এবং বন্ধুর কিছু মন্দ স্বভাব থেকে চক্ষু বন্ধ করবে না, সে
বন্ধুহীনত ৷র আফসুস নিয়েই মারবে ৷


আর যে অন্যের প্রতিটি পদস্থালনের অনুসরণ করবে, সে তা পাবে ৷ কিন্তু কালের আবর্তে
তার কোন সঙ্গী থাকবে না ৷

ঐতিহাসিকগণ উল্লেখ করেছেন যে, (একবার) বানু হাজির ইবন আবদুল্লাহ্ ইবন গিফারের
এক সদস্য জাযীল ইবন হাফসের কন্যা উম্মু আমর আয্যাহ কোন এক যুলমের অভিযোগ নিয়ে
আবদুল মালিক ইবন মারওয়ানের দরবারে উপস্থিত হলো ৷ আবদুল মালিক তাকে বলেন, আমি
তোমার এ ব্যাপারে ফায়সালা করব না ৷ যতক্ষণ না তুমি কুছায়য়িরের কয়েকটি পঙ্ক্তি আমাকে
আবৃত্তি করে শোনাবে ৷ সে বলল, কুছায়য়িরের কোন কবিতা আমি মৃখস্থু করি না ৷ তবে আমি
লোকদেরকে তার সম্পর্কে বলতে শুনেছি যে, সে আমার ব্যাপারে এই পঙক্তিগুলি আবৃত্তি
করেছে :
আমার জানা সকল ঋণগ্নহীত৷ তার ঋণ আদায় করেছে আর আযযার প্রাপক উপেক্ষিত ৷

এই পঙক্তি শুনে আবদুল মালিক বলেন, এ প্রসঙ্গে আমি তোমাকে জিজ্ঞাসা করছি না ৷
তুমি আমাকে তার নিম্নোক্ত পঙক্তিমালা আবৃত্তি করে গােনাও


শ্ ; ষ্ ;


তার দাবী তাকে ছেড়ে আসার পর আমি বদলে গিয়েছি ৷ হে আযযাৰু কে আছে পৃথিবীতে
যে বদলায় না ৷

আমার দেহ বদলে গেছে ৷ কিন্তু তোমার ভালবাসা যেমন জ্জি তেমনি রয়ে গেছে ৷ কিন্তু
সম্পর্কে কেউ তোমাকে অবহিত করেনি ৷



Execution time: 0.02 render + 0.01 s transfer.