Login | Register

আল বিদায়া ওয়ান্নিহায়া - খন্ড ৯

পৃষ্ঠা ৩৫৩ ঠিক করুন


সময় মাসলামাহ্ ইবন আবদুল মালিক শপথ করলেন, অবশ্যই তিনি মুহাল্লাব পরিবারের
নারী-শ্শিশ্যুৰুপক্স বিক্রি করবেন ৷ জনৈক আমীর তার কসম পুর্ণ করার জন্য তাদেরকে একলক্ষ
দিরহাম মুল্যে পরিদ করলেন ৷ তারপর সসমানে তাদেরকে আযাদ করে দিলেন ৷ পরবর্তীতে

মাসলামাহ্ সেই আমীর থেকে কোন মুল্য গ্রহণ করলেন না ৷ ইয়াযীদ ইবন মুহাল্লাবের মৃত্যুতে
কবিরা একাধিক শোকপাথা রচনা করেছে, যা ইবন জারীর উল্লেখ করেছেন ৷

ইরাক ও খােরসােনের গ্রশালকরুপে-মাসলামাহ্

মাসলমােহ্ ইবন আবর্দুল মালিক মুহাল্লাব গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে পরিচালিত যুদ্ধ থেকে অবসর
গ্রহণ করেন সে রআং তার ভাই খলীফা ইয়াষীদ ইবন আবদুল মালিক লিখিত ফরমান প্রেরণ
করে তাকে কুফা, বন্যা ও থােরাসান অঞ্চলের প্রশাসক নিয়োগ করলেন ৷ মাসলামাহ্ কুফা ও ,
বসরায় তার ন্থলবর্তী শুপগ্রশাসক নিয়োগ করলেন এবং তার জামাতা সাঈদ ইবন আবদুল
আযীয ইবন হা;রিহ হৰনুস হ্কোম ইবন আবুল আসকে থােরাসানে প্রেরণ করলেন যার উপাধি
ছিল খুষায়নাহ্’ ৷ তিনি সেখানে গমন করলেন এবং সেখানকার অধিবাসীদের অবিচলতা ও
বীরত্বে উদ্বুদ্ধ করলেন ৷ এছাড়া তিনি এ সময় মুহাল্লার পরিবারের নায়েবদের শাস্তি প্রদান
করলেন এবং তাদের থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ-সষ্পদ আদায় করলেন ৷ এ সময় তাদের কেউ
কেউ শাস্তির কঠোরতার কারণে মৃত্যুমুখে পতিত হয় ৷ ন্ ন্

তাঃ গরী১ ও মুসলমানদের মাঝে সংঘটিত একটি যুদ্ধ তাতারী সম্রাট খাকান কুররুসাল
নামক এক ব্যক্তির নেতৃত্বে মুসলমানদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য সুগদ্ অঞ্চলে এক ফৌজ
প্রেরণ করে ৷ এ সময় সে অগ্রসর হয়ে মুসলিম অধ্যুষিত কামরুল বাহিলী অবরোধ করে ৷
প্ তখন সমরকন্দের প্রশাসক উছমান ইবন আবদুল্লাহ ইবন মুতাররিফ চল্লিশ হাজার দিরহামের
বিনিময়ে তাদের সাথে সন্ধি করেন এবং সন্ধির সভ্যতার প্রমাণস্বরুপ সতেরজন নেতৃস্থানীয়
ব্যক্তিকে বন্ধকস্বরুপ তাদের হাতে তুলে দেন ৷ এরপর উছমান তাতারীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য
মুসলমানদের আহ্বান জানান ৷ তখন তার এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে চার সহস্র যোদ্ধা নিয়ে
মুসায়ান্ত্রার ইবন বিশর আৱরিয়াহী নামক এক ব্যক্তি তাতারীদের অভিমুখে অগ্রসর হন৷ কিছুদুর
পথ অতিক্রম করার পর তিনি তাদের উদ্দেশ্যে থুত্বা দেন এবং তাদেরকে লড়াইয়ে উদ্বুদ্ধ
করেন এবং তাদেরকে জানান তিনি শত্রু অভিমুখে যাচ্ছেন শাহার্দত লাভের উদ্দেশ্যে ৷ তার এ
কথা ৷শানার পর এক হাজারের অধিক যোদ্ধা ফিরে যায় ৷ এরপর প্রত্যেক মনযিলে তিনি
তাদের উদ্দেশ্যে থুত্বা দিতে থাকেন এবং তার সহযােদ্ধাদের অনেকে ফিরে যেতে থাকে ৷
এমন কি শেষ পর্যন্ত তার সাথে মাত্র সাতশ যোদ্ধা অবশিষ্ট থাকে ৷ তখন তিনি এদেরকে নিয়ে
অগ্রসর হন এবং “কাসরে বাহিনী অবরোধকারী তাতারীদের বিরুদ্ধে আক্রমণের জন্য
সুবিধামাফিক অবস্থান গ্রহণ করেন ৷ এদিকে সেখানে অবরুদ্ধ মুসলমানগণ এই সিদ্ধন্তে গ্রহণ
করেন যে, তারা শত্রুদের সামনে তাদের ন্তী-সন্তানদের হত্যা করবেন, তারপর সেখান থেকে
নেমে তাদের সর্বশেষজন শহীদ হওয়া পর্যন্ত লড়াই করে যাবেন ৷ মুসায়িব তাদেরকে সে দিনের
জন্য অবির্চল থাকতে বলেন, তারা তইি করে ৷ আর এদিকে মুসায়িব্রব প্রতীক্ষায় থাকেন ৷
অবশেষে যখন রাতের শেষ প্রহর ঘনিয়ে আসে, তখন তিনি ও তার সহযোদ্ধারা তাকবীরধ্বনি

১ এখানে আরবীতে তুর্কী শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে কিন্তু অনুবাদ তাতারী করা হলো ৷


পৃষ্ঠা ৩৫৪ ঠিক করুন

দেন ৷ এ সময় তারা তাদের সাংকেতিক শ্লোগান নির্ধারণ করেন ইয়া মুহাম্মাদ এরপর তারা
একযোগে তাতারীদের উপর তীব্র আক্রমণ করেন ৷ এ আক্রমণে তারা তাদের বহু যােদ্ধাকে
হত্যা করেন এবং বহুসংখ্যক বাহন পশু আহত করেন ৷ আর অতর্কিত আক্রমণের ধাক্কা
সামলে এবার তাতারীরাও তাদেরকে আক্রমণ করে এবং তাদের বিরুদ্ধে প্রচণ্ড লড়াই করে ৷ এ
অবস্থায় অধিকাৎশ মুসলমান যোদ্ধা পলায়ন করেন এবং মুসলিম সেনাপতি মুসায়িব্রবের অশ্ব
তার পশ্চাদদেশে আঘাতপ্রাপ্ত হয় ৷ তিনি এবং তার সঙ্গী বীরেরা পদাতিক যােদ্ধায় পরিণত হন
এবং এ অবস্থায়ও তারা শত্রুর বিরুদ্ধে অপ্রতিরােধ আক্রমণ চালিয়ে বলে আর এই মুষ্টিমেয়
যােদ্ধার দল মুসড়ায়িবেকে ঘিরে অবিচলভাবে শত্রুদের আক্রমণ প্রতিহত করতে থাকেন এবং
অবশেষে আল্লাহ্ তাদেরকে বিজয় দান করেন ৷ এ সময় মুশরিকরা দিগিদিক জ্ঞানশুন্য হয়ে
তাদের সামনে থেকে পলায়ন করে অথচ তাদের সংখ্যা ছিল বিপুল ৷ এ সময় মুসায়িক্তবের
যােষৰু ঘোষণা করে, তোমরা কোন শত্রুর পশ্চাদ্ধাবন করো না, তোমরা কাসরে বাহিনী এবং
তার অধিবাসীদের উদ্ধার কর ৷ তখন তারা তাদেরকে সফরের বাহন সরবরাহ করে এবং ঐ
সকল তাতারীদের সেনা ছাউনি, সকল অর্থ-সম্পদ ও মুল্যবান বস্তু অধিকার করে ৷ এরপর
তারা কাসরে বাহিলীতে’ অবরুদ্ধ মুসলমানদের সঙ্গে নিয়ে নিরাপদে ফিরে আসে ৷ পরদিন
যখন তাতারীরা ফিরে এসে সেখানে কোন জনমানবের চিহ্ন দেখল না, তখন তারা মনে মনে
ডাবল, গতকাল আমরা যাদের মুখোমুখি হয়েছিলাম তারা মানুষ ছিল না, তারা ছিল জিন ৷
ন্ আর এ বছর যে সকল প্রখ্যাত ও নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি ইনৃতিকাল করেন, তাদের অন্যতম হলেন :

যাহ্হাক ইবন মুযাহিম আল হিলালী১

ন্ তিনি আবুল কাসিম মতাতরে আবু মুহাম্মাদ আল খােরাসানী ৷ ইনি বলখ, সমরকন্দ ও
নিশাপুরে অবস্থান করতেন ৷ তিনি বিশিষ্ট তাবেঈ ৷ হযরত আনাস, ইবন উমর, আবু হুরড়ায়রা
এবং তাবিঈগণের এক দল থেকে হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন ৷ অবশ্য কারও কারও মতে
সাহাবীণণের কারও থেকে তিনি সরাসরি কোন হাদীস শুনেননি, এমনকি কনিষ্ঠতম সাহাবী
ইবন আব্বাস থেকেও না ৷ যদিও তার সম্পর্কে একথা বর্ণিত আছে যে, তিনি সাত বছর তার
সাহচর্যে ছিলেন ৷ যাহ্হাক ইবন মুযাহিম তাফসীর শাস্তের ইমাম ছিলেন ৷ ছাওরী বলেন,
তোমরা চার ব্যক্তি থেকে তাফসীর শিক্ষা কর ৷ মুজাহিদ, ইকরিমা, সাঈদ ইবন জুবায়র এবং
যাহ্হাক ইবন মুযাহিম ৷ ইমাম আহমাদ (র) বলেন, তিনি নির্ভরযেগ্যে, তবে ইমাম শু’বাহ্
ইবন আব্বাস থেকে তার হাদীস শোনার বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেছেন ৷ তিনি বলেন, আসলে
যাহ্হাক সাঈদ সুত্রে ইবন আব্বাস থেকে রিওয়ায়াত করেছেন ৷ ইবন সাঈদ আল কাত্তান
বলেন, তিনি দুর্বল ছিলেন ৷ তবে ইবন হিবৃবান তাকে নির্ত্যযােগ্য গণ্য করেছেন ৷ তিনি তার
সম্পর্কে বলেন, তিনি কোন সাহাবী থেকে সরাসরি কোন রিওয়ায়াত শ্রবণ করেননি ৷ আর যে
ব্যক্তি দাবী করে যে, তিনি ইবন আব্বাসের সাক্ষাৎ লাভ করেছেন যে বিভ্রান্তি ও ভুলের
১ তারীখুল ইসলাম ৪১২৫,তারীখুল বুখারী ৪৩৩২, তাহযীবুৎ তাহযীব ৪৪৫ও, তাহযীবুল কামাল পৃ৪
১৬৮, আলজ্যরহ ওয়াৎ তাদীল ১ম অংশ ২য় ভলিউম ৪২৮, খুলাসাতু তাহষীবুত তাহযীব ১৭৭,
শাজারাতুয্ ষাহাব ১১২৪ , তাবকাভু ইবন সা’দ ৬৩০০, ৭ও৬৯ তারকাতু খালীফা ২৯৫০,তবােকাতুল

মুফাসৃসিরীন, মিরআতৃল জিনান ১২১৩, আলমুপীনী ফী আয্যুআফা ১৩১২, আনৃনুজুম আয্যাহিরা



Execution time: 0.04 render + 0.00 s transfer.