Login | Register

আল বিদায়া ওয়ান্নিহায়া - খন্ড ৯

পৃষ্ঠা ৩০২ ঠিক করুন


আবুয্ যাহিবিয়্যাহ্ হুদায়র ইবন কুরায়ব আল হিন্মাসী১

তিনি একজন বিশিষ্ট তাবিঈ ৷ তিনি আবু উমামা সুদা ইবন আজলান ও আবদুল্লাহ্ ইবন
বুসর হতে হাদীস শুনেছেন ৷ বলা হয়, তিনি সাহা ৷বী হযরত আবুদ দা ৷রদা’র সাক্ষাৎ পেয়েছেন ৷
তবে বিশুদ্ধ মত হলো হযরত আবুদ দারদা’ ও হুযায়ফাহ্ সুত্রেত তার বিওয়ায়াত মুরসাল ৷ তার
শহরের একদল রাবী তার থেকে হাদীস বিওয়ায়াত ৩করেছেন ৷ আর ইবন মুঈন ও অন্যান্য
হাদীস সমালোচকগণ তাকে নির্ত্যাযােগ্য আখ্যা দিয়েছেন ৷ শিহাব ইবন খিরাশ সুত্রে আবুয
যাহিবিয়্যাহ্ হতে কুতায়বাহ যে বিওয়ায়াত করেছেন-ত তাই তার সুত্রে বর্ণিত সবচেয়ে গরীব
(অদ্ভুত) বিওয়ায়াত ৷ তিনি বলেন, একবার আমি বায়তৃল মাক্দিসের সাখরাতে তন্দ্রচ্ছেন্ন
হলাম ইত্যবসরে মসজ্যিদরত ত্ত্বতাবধায়কগণ এসে আমাকে ভিতরে রেখে দরয৷ বন্ধ করে দিল ৷
এরপর ফোরশতাদের,তাসবীহ্ শুনে আমি জেগে উঠলাম এবং আতঙ্কে লাফ দিলাম ৷

আমি তখন দেখতে পেলাম ফেরেশতারা সাবিরদ্ধভাবে দণ্ডায়মান, এরপর আমি তাদের
সারিতে ঢুকে গেলাম ৷ আবু উবায়দাহ্ ও অন্যরা বলেন, ইনি একশ’ হিজরীতে ইনৃতিকাল
করেন ৷

আবুত্-ভুফায়ল আমির ইবন ওয়াছিলাহ২

ইবন আবদুল্পা হ ইবন আমব আল-লায়হী আল-কিনানী ৷ ইনি সাহাবী এবং সর্বসম্মতিত্রুমে
নবী সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামাকে দেখা মৃত্যুবরণকারী সর্বশেষ ব্যক্তি ৷ তিনি বলেন,
আমি নবী কবীম সা ল্লাল্লা হ্ আলায়হি ওয়া সাল্লামাকে তার বাকামাথা বিশিষ্ট লাঠি দিয়ে রুকনে
কা বা স্পর্শ করতে দেখেছি ৷ এছাড়া তিনি নবী পাকের দৈহিক বিবরণ উল্লেখ করেছেন এবং
হযরত আবু, বাকর, উমর, আলী, মুআয ও ইবন মাসউদ হতে হাদীস বিওয়ায়াত করেছেন ৷
আর তার থেকে হাদীস বিওয়ায়াত করেছেন যুহরী, কাতাদা, আমব ইবন দীনার, আবুঘৃযুবায়র
এবং তাব্রিঈদেরু একটি দল ৷

তিনি ছিলেন হযরত আলীর সমর্থক ও সহযোগী ৷ তার সাহচর্যে তিনি তার সকল যুদ্ধে
, অংশ্যাহণ করেন ৷ কিন্তু মুখতার ইবন আবু উবায়দের সাহচর্য অবলম্বনের কারণে কেউ কেউ
তার সমালোচনা করেছে ৷ বলা হয়ত তিনি তার ঝাণ্ডাবাহক ছিলেন ৷ বর্ণিত আছে, হযরত আলীর
শাহাদতের পর তিনি একবার হযরত মুআবিয়ার সাক্ষাতে প্রবেশ করলেন ৷ তখন মুআবিয়া
তাকে প্রশ্ন করলেন, আলীকে হারানাের পর-তৃমি কেমন দুঃখ পেয়েছে৷ ? তিনি বলেন, নিঃস্ব

১ আততারীথুস সগীর ৩০১, তারীখুল ইসলাম ৫১৯৪ , তারীখুল বুখারী ৯৮৩ তারীখুল ফাসাবী ২৪ ৪৮,
৩২০৩ , তাহযীবুত তাহযীব ২২১৮, তাহযীব ইবন আসাকির ৪৯৩,-৯৫, তাহযীবৃল কামাল ২৪১,
আল-জারহ ওয়াত তাদীল ৩২৯৫, হিলইয়াতৃল আওলিয়া ৬১ :০, খুলাসাতৃ তাহযীবুল কামাল ৯৭,
তাবাকাতৃল খলীফা ৩১১ ৷

২ আলইসাবা ৪১ ১৩, আল ইসতীআব ১৩৪৪, উসদুল গাবা ৩১ড্রু৫,,৬২৭৯, তারীখুল বুখারী ৬৪ ৪৬,
তারীখে বাগদাদ ১১৯৮, তাহযীবু ইবন আসাকির ৭২০৩, তাহষীবুল কামাল ৬৪ ৭, ১৬২৩, আলজারহ
ওয়াত তাদীল ৬৩২৮, জামহারাতৃ আনসাৰুল আরব ১৮৩, আলজামউ বায়না বিজালীস সইইিায়ান
১৩ ৭৮ , খাযানাভুল আদাব ৪৪ ১, ২৯১ , খুলাসাতৃ তাহ্যীবুল কামাল ১৫ ৭ , শাজারাতৃয্ যাহাব ১১ ১৮ ,
তাবাকাতৃ ইবন সাদ ৫৪৫৭, ৬৬৪ , তাবাকাতৃ খালীফাহ্ ১৭৬, ৮৪১, ২৫১৯, আল-ইবায় ১১১৮,
১৩৬, আল-ইকদুছ ছামীন ৫৮ ৭ , মিরআতৃল জিনান ১ ১২০ ৭ , আলমুসতাদরাক ৩৬১৮ ৷


পৃষ্ঠা ৩০৩ ঠিক করুন


বুদ্ধা ও অক্ষম বুদ্ধের শোক ৷ তিনি বলেন, তার প্রতি তোমার ভালবাসা কেমন ? উত্তরে আবু
তুফায়ল বলেন, যেমন ভালবাসা ছিল হযরত মুসা (আ) এর মায়ের তার প্রতি ৩৷ আর আমি
মহান আল্লাহ্র কাছেই অবহেলার অনুযােগ করছি ৷ বলা হয়, তিনি নবী কয়ীম সাল্লাল্লাহু
আলায়হি ওয়া সাল্লামকে অটি বছর পেয়েছেন এবং একশ’ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন ৷ কারও
মতে একশ’ সাত হিজরীতে ৷ সঠিক বিষয় মহান আল্লাহ জানেন ৷ তার ব্যাপারে মন্তব্য করে
ঐতিহাসিক মাসলামাহ্ ইবন হাজ্জা জ বলেন, সর্বমতে৩ তিনি সর্বশ্যেষ মৃত্যুমুখে পতিত সাহাবী ৷
আর তিনি ইনতিকাল করেন একশ’ হিজরীতে ৷

আবু উছমান আন নাহদী১

তার নাম আবদুর রহমান ইবন মুল আলবাসরী ৷ তিনি জাইিলিয়্যাতের যুগ পেয়েছিলেন
এবং জাহিলিয়্যাতে দু’বার হজ্জ করেন ৷ আর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের
সময়ে ইসলাম গ্রহণ করেন ৷ তবে তার দর্শন লাভ করেননি ৷ নবী পাকের হারাতে তার
নিয়োজিত যাকাত উসুলকারীদের কাছে তিনি তিন বছর যাকাত আদায় করেন ৷ হাদীস
শাস্ত্রবিদগণের পরিভাষায় এ ধরনের অর্থাৎ জাহিলিয়্যা ও ইসলামী যুগ উভয়ের সাক্ষী ব্যক্তিকে
মুখযারিম বলা হয় ৷ হযরত উমর ইবন খাত্তাব (না)-এর খিলাফতকালে তিনি পবিত্র মদীনায়
ইিজরত করেন ৷ তারপর তার থেকে এবং হযরত আলী ইবন মাসউদ ও আরও অনেক সাহারা
থেকে হাদীস শ্রবণ করেন ৷ এছাড়া তিনি দীর্ঘ বার বছর হযরত সালমান ফারিসীর (রা)
সাহচর্যে অবস্থান করেন ৷ এমনকি, তাকে দাফনও করেন ৷ তার থেকে একাধিক তাবিঈ ও
অন্যগণ হাদীস বিওয়ায়াত করেন ৷ তন্মধ্যে অন্যতম হলেন, আয়ুব্রব, হুমায়দ আত্তাবীল,
সুলায়মান ইবন তিররিখান আত ত ড়ায়মী ৷
আসিম আল আহ্ওয়াল বলেন, আমি তাকে (আবু উছমানকে) বলতে শুনেছি, আমি
জাহিলিয়্যাতে র প্রতিমা ইয়ানুসের সাক্ষাৎ পেয়েছি ৷ এটা ছিল সীসা নির্মিত প্রতিমা বিশেষ
মাঝে একটি হাওদাবিহীন নব উটের পিঠে বহন করা হত ৷ উটটি যখন তাকে নিয়ে কোন
উপত্যকায় পৌছে বসে যেত ৷ তখন তারা বলত , তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের জন্য এই
উপত্যকা মনোনীত করেছেন এবং এরপর তারা সেখানে অবস্থান করত ৷ আসিম বলেন,
একবার তাকে প্রশ্ন করা হলো, আপনি কি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামকে
পেয়েছেন ? তখন আমি তাকে বলতে শুনলাম, হীা, আমি তার সময়ে ইসলাম গ্রহণ করেছি
এবং তার (উসুলকারীদের) কাছে তিনবার যাকাত আদায় করেছি ৷ কিন্তু তার সাক্ষাৎ লাভ
করিনি ৷ আর পরবর্তীকালে আমি ইয়ারমুক, কাদিসিয়্যা, জালুলাহ্ ও নাহাওয়ানদের যুদ্ধে শরীক
হয়েছি ৷ আবু উছমান দিনে রোযা রাখতেন এবং রাত্রিকালে নামায পড়তেন ৷ আর এ দুটি
আমল তিনি নিরবচ্ছিন্নভাবে করতেন কখনও তরক করতেন না ৷ এত অধিক নামায পড়তেন
যে মাঝে মাঝে তিনি চেতনা হারাতেন ৷ তিনি সর্বমোট আটবার হজ্জ ও উমরাহ্ করেন ৷
সুলায়মান আততায়মী বলেন, আমার তো মনে হয় না তার কোন পাপ করার সুযোগ ছিল ৷
কেননা, তার দিন কাটত ব্লোযা রেখে আর রাত কাটত নামায পড়ে ৷ কেউ কেউ বলেন, আমি

১ আল-ইসাবা ৬৩৭৯, আল ইসভীআব ১৪৬১, উসদৃল গাবা ৩৩২৪, তারীখুল ইসলাম ৪৮২, তারীখে
বাগদাদ ১ :২০২, তাযকিরাতুল হুফ্ফায ১৬১ , তাহযীবুৎ তাহষীব ৬২৭ ৭ তাহযীবুল কামাল ৬৩২,
আলজারহু ওয়াতুর্তাদীল ২য় অংশ ২য় ভলিউম ৩৮৩, খুলাসাতু তাহযীবুত্তাহযীব ২৩৫, শাজারাতুয যাহাব
১১ ১৮, তাবাকাতু ইবন সাদ ৭৯৭ , তাবাকাতুল হুন্নাত, (সৃয়ুতী রচিত) ২৫, ২৬, তাবাকাতু খালীফা ৰু

১৬৭, আল ইবার ১১ ১৯, আলমাআরিফ ৪২৬, ১ম অংশ ২য় খণ্ড ৭৯ ৷



Execution time: 0.01 render + 0.00 s transfer.