Login | Register

আল বিদায়া ওয়ান্নিহায়া - খন্ড ৯

পৃষ্ঠা ২২৮ ঠিক করুন
ণ্ন্প্মা৪মা$

এ বছরে যে সব ব্যক্তিত্ব ইন্তিকাল্ করেছিলেন তাদের বিবরণ

ইব্রাহীম ইবন ইয়াযীদ আন-নাখৃঈ

তিনি বলতেন, যখন আমরা কোন জানাযায় হাযির হতাম অথবা কোন মৃত ব্যক্তি সম্পর্কে
খবর শুনতাম কিছু দিন যাবত আমাদের মধ্যে এ নিয়ে আলোচনা হতো ৷ কেননা, আমরা
জানতাম তার উপর এমন একটি পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে যার দরুন সে জান্নাতে যাবে অথবা
জাহান্নামে যাবে ৷

তিনি আরো বলতেন, তােমরদ্দে আমাদের মৃত ব্যক্তিদের শুধু দুনিয়া সম্বন্ধে পর্যালোচনা
করছ ৷ তিনি আরো বলতেন পরিদর্শন ব্যতীত সিদ্ধান্ত ঠিক হয় না এবং সিদ্ধান্ত ব্যতীতও
পরিদর্শন হয় না ৷ তিনি আরো বলতেন, যখন তুমি কোন ব্যক্তিকে সালাতের প্রথম তাকবীরকে ,
তুচ্ছ করতে দেখবে, তখন তার উন্নতি থেকে তোমার আশা পরিত্যাগ করতে হবে ৷

তিনি আরো বলতেন, আমি অনেক সময় ত্রুটিপুর্ণ বস্তু দেখি এবং তা পরিহার করি এ
ভয়ে যে, এ ত্রুটির দ্বারা হয়ত আমাকে পরীক্ষা করা হচ্ছে ৷ তার মৃত্যুর সময় তিনি খুব
র্কাদছিলেন ৷ তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো আপনি কেন কাদছেন ? তিনি বললেন, আমি
আষ্রাঈলের অপেক্ষা করছি ৷ আমার জানা নেই তিনি কি আমার কাছে জান্নাতের কিৎবা
জাহান্ন৷ মের সব বাদ নিয়ে আসবেন ৷

আল-হাসান ইবন মুহাম্মদ ইবন আল-হানাফিয়্যা

তার কুনিয়াত আবু মুহাম্মদ ৷ তিনি তার ভাইদের মধ্যে ছিলেন অগ্রগামী ৷ তিনি ছিলেন
একজন বড় আলিম ও ফকীহ ৷ ইমামগণের মতবিরোধ ও ফিকাহ শাস্ত্র সম্বন্ধে তিনি ছিলেন
অত্যন্ত পারদর্শী ৷

আয়ুদ্রব আস-সুখতিয়ানী ও অন্যগণ বলেন, “তিনি প্রথম ব্যক্তি যিনি ইরজা সম্বন্ধে কথা
বলেন ৷ এ সম্বন্ধে তিনি একটি ছোট কিতাব লিখেন ও পরে এ ব্যাপারে লজ্জিত হন ৷ অন্যরা
বলেন, তিনি হযরত উছমান (বা) , হযরত আলী (রা), হযরত তালহা (বা) ও হযরত
আয-যুবায়র (রা) সম্বন্ধে মৌনতা অবলম্বন করতেন ৷ তাদের প্রশংসাও করতেন না এবং দৃর্নামও
করতেন না ৷ যখন তার পিতা মুহাম্মদ ইবনুল হানাফিয়্যার কাছে এ সংবাদ পৌছে, তখন তিনি
তাকে প্রহার করেন এবং আহত করেন ৷ আর বলেন, ”তোমার দুভাগ্য, তুমি তােমার-দাদাকে
ভালবাস্ না ৷”

আবু উবায়দ বলেন, তিনি ৯৫ হিজরীতে ইনৃতিকাল করেন ৷ খলীফ৷ বলেন, “তিনি উমর

ইবন আবদুল আযীযের যুগে ইনৃতিকাল করেন ৷ মহান আল্লাহ্ অধিক পরিজ্ঞাত ৷

হুমায়দ ইবন আবদুর রহমান ইবন আওফ আয-যুহরী

তার মায়ের নাম ছিল উম্মে কুলছুম বিনৃত উকবা ইবন আবু মুঈত ৷ তিনি মায়ের দিক
দিয়ে হযরত উছমান ইবন আফ্ফান (না)-এর ভগ্নি ৷ হুমায়দ একজন বড় আলিম ও প্ ফকীহ ৷
তার বর্ণিত বহু রিওয়ায়াত রয়েছে ৷

মুতার্রাফ ইবন আবদুল্লাহ ইবন আশ-শিখৃধীর

তার জীবনী পুর্বে বর্ণনা করা হয়েছে ৷ মুতাররাফ ও অন্যদের জীবনী আত্তাকমীল’ নামক
কিভাবে বর্ণিত রয়েছে ৷ আর এ বছরেই ওয়াসিত শহরে হাজ্জাজ মারা যায় ৷ তার বিস্তারিত


পৃষ্ঠা ২২৯ ঠিক করুন

বর্ণনা উপরে উপস্থাপন করা হয়েছে ৷ আলী ইবনুল মাদাইনী ও একদল ইতিহাসবিদের মতে এ
বছরেই সাঈদ ইবন জুবায়র-এর শাহাদত সংঘটিত হয় ৷ আর প্রসিদ্ধ হলো যে, ৯৪ হিজরীতে
সাঈদের শাহাদত সংঘটিত হয় ৷ এ তথ্য ইবন জড়ারীর ও অন্যরাও পেশ করেছেন ৷ মহান
আল্লাহ্ অধিক পরিজ্ঞাত ৷ শ্

৯৬ হিজরীর প্রারম্ভ

এ বছরেই কুতায়বা ইবন মুসলিম (র) চীন ভুখণ্ডের কাশগর জয় করেন এবং চীনের
সম্রাটের কাছে দুত প্রেরণ করেন ৷ এ দুতগণের মাধ্যমে সম্রাটকে ভীতি প্রদর্শন করেন এবং
আল্লাহ্র শপথ করে তিনি অঙ্গীকার করেন যে, তার শহর দখল করা ব্যতীত তিনি ঘরে ফেরত
যাবেন না ৷ তিনি সম্রাটের বিভিন্ন রজ্যে এবং তাদের গণ্যমান্য ব্যক্তিদেরকে খতম করে দিবেন ৷
কিৎবা তাদের থেকে কর আদায় করবেন কিৎবা তারা ইসলামে প্রবেশ করবে ৷ তারপর
দুতগণ সম্রাটের দরবারে প্রবেশ করেন ৷ সম্রাট একটি বিরাট শহরে অবস্থান করেন ৷ কথিত
আছে যে, এ শহরের ৯০টি দরযা রয়েছে এবং তা চতুর্দিকে দেওয়াল-ঘেরা ৷ এ শহরটিকে
ন্ন্ বলা হতো খান বালিক ৷ এটা বড় বড় শহরের অন্যতম ৷ মাঠঘাট, আয়তন ও সহায়-সম্পদ
হিসেবে এ শহরটি ছিল একটি অত্যন্ত বড় শহর ৷ এমনকি বলা হয়ে থাকে যে, ভারত সুপ্রশস্ত
হওয়া সত্বেও চীন দেশের কাছে এটাকে একটি তিলকের ন্যায় দেখায় ৷ চীনের অধিবাসীরা
তাদের ধন-সম্পাদর প্রাচুর্যের কারণে কারোর দেশে ভ্রমণের প্রয়োজন মনে করে না ৷ অথচ
অন্যরা তাদের দেশে ভ্রমণের প্রয়োজন মনে করে ৷ তাদের রয়েছে অজস্র সম্পদ ও বিস্তীর্ণ
এলাকা ৷ আশেপাশের সমস্ত দেশগুলো চীনের কাছে তার সৈন্য সামন্তের ক্ষমতা প্রচুর থাকার
কারণে কর আদায় করে থাকে ৷ বস্তুত যখন দুতগণ চীনের সম্রাটের কাছে প্রবেশ করেন, তখন
তারা এটাকে একটি বিরাট সুরক্ষিত দেশ হিসেবে পান, যার রয়েছে অসংখ্য নদীনালা,
বাজারঘটি ও সৌন্দর্যের বাহার ৷ তারা তার কাছে এমন একটি সুরক্ষিত ও বিরাট দুর্গে প্রবেশ
করেন যা একটি বড় শহরের সমতুল্য ৷ চীনের সম্রটি তাদেরকে বললেন, তোমরা কে ? আর
তারা ছিলেন কুতায়বার পক্ষ থেকে হুবায়রার নেতৃত্বে তিনশত জন রাজদুত ৷ সম্রাট তার
দোভ্যষীকে বলেন, তাদেরকে জিজ্ঞাসা কর যে, তোমরা কে বা করো এবং তোমরা কি চাও ?
তখন তারা প্রতি উত্তরে বললেন, আমরা আমাদের সেনাপতি কুতায়বা ইবন মুসলিমের প্রেরিত
দুত ৷ তিনি আপনাকে ইসলামের পাবে আহ্বান করেছেন ৷ যদি আপনি তার ডাকে সাড়া না
দেন ও ইসলাম গ্রহণ না করেন, তাহলে আপনাকে নির্ধারিত হারে কর দিতে হবে ৷ আর যদি
কর না দেন, তাহলে আপনার সাথে আমাদের যুদ্ধ বাধবে ৷ এ কথা শুনে সম্রাট ক্রোধান্বিত
হলেন এবং তাদেরকে একটি ঘরে নিয়ে যাওয়ার জন্য আদেশ করলেন ৷ যখন ভোর হলো তখন
তিনি তাদেরকে ডাকলেন এবং তাদেরকে দোভাষীর মাধ্যমে বললেন, দেখি তোমরা কেমন
করে তোমাদের মাবুদের ইবাদত কর ৷ মুসলমানগণ তাদের নিয়মানুযায়ী ফজবের সালাত
আদায় করলেন ৷ যখন তারা রুকু-সিজদা করেন সম্রাট তাদেরকে নিয়ে উপহাস করলেন এবং
বললেন, ণ্তামাদের ঘরে তোমরা কি ধরনের পোশাক পরিধান করে থাক ? তখন তারা তাদের

পেশাগত পোশাক পরিধান করলেন ৷ সম্রাট তাদেরকে সেখান থেকে নিজ নিজ বাসস্থানে চলে
যেতে নির্দেশ দিলেন ৷ এর পরদিন তিনি তাদের কাছে লোক প্রেরণ করে বললেন, তোমরা
তোমাদের আমীরের কাছে কি পােশাকে প্রবেশ কর তখন তারা ছাপানো কাপড় পরিধান
করলেন, মাথায় পাগড়ী বীধলেন, রেশমী চাদর পরিধান করলেন এবং সম্রাটের কাছে প্রবেশ
করলেন ৷ সম্রটি তাদেরকে বললেন, তোমরা ফেরত যাও তখন তারা ফেরত গেলেন ৷ সম্রটি



Execution time: 0.02 render + 0.00 s transfer.