Login | Register

আল বিদায়া ওয়ান্নিহায়া - খন্ড ৯

পৃষ্ঠা ২০১ ঠিক করুন


হয় সিয়াম পালন করবে ৷, লোকটি বলল, যদি তুমি আমার আগামী দিনের জীবিত থাকার
নিশ্চয়তা দিতে পার, তাহলে আগামী দিন আমি সিয়াম পালন করব , ৷ হাজ্জাজ বলল, এটাতে
আমার কোন ক্ষমতা নেই ৷ বৃদ্ধটি বলল, তাহলে তুমি আমাকে কেমন করে ভবিষ্যত কাজের
পরিবর্তে যার ক্ষমতা তুমি রাখ না ব্র্তমানের কাজটি করার জন্যে আমাকে অনুরোধ করছ ?
হাজ্জাজ বলল, আমার খাদ্য নিঃসন্দেহে পবিত্র খাদ্য ও মজাদার ৷ বৃদ্ধটি বলল, তবে তুমি
কিৎবা বাবুর্চি এটাকে পবিত্র ও মজাদার করনি ৷ হ্যা, যদি কেউ এটা খেয়ে শাস্তি পায়, তখনি
এটা হবে মজদােৱ ৷ ৰু ণ্

পব্লিম্মেদ

৭৫ ইিজরীতে হাজ্জাজ কেমন করে অতর্কিতে কুফা শহরে প্রবেশ করে, খুত্বা প্রদান করে
এবং মানুষকে ভীতি প্রদর্শন করে তা পুর্বে বর্ণনা করা হয়েছে ৷ জনগণ তাকে অত্যন্ত ভয় করতে
লাগল আর সে তদুকুক্ষণিকভ্যবে উমায়র ইবন যাবীকে হত্যা করে এবং কুমায়্ল ইবন
যিয়াদকেও বন্দী অবস্থায় হত্যা করে ৷ তারপর ইবনুল আশআছের হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয় ৷ যা
পুর্বে বর্ণনা করা হয়েছে ৷ তারপর তার সাথে যেসব সরদার, আমীর, গোলাম ও কারী ছিলেন
তাদেরকে সে হত্যা করে ৷ আর সর্বশেষ হত্যা করে সাঈদ ইবন ত্ত;বােয়রকে (রা) ৷

আল-কায়ী আল-মাঅ্াফী যাকারিয়্যা বলেন, আমাদেরকে আহমদ ইবন মুহাম্মদ ইবন
সাদ আল-কালবী আসিম হতে হার্দী স বর্ণনা করেন ৷ তিনি বলেন, জামাজিম আশ্রমের
ঘটনার পর হাজ্জার্জইরাকবাসীদের সম্বোধন করে এবং সে বলে, হে ইরাকের বাসিন্দারা!
শয়তান তােমাদেরকে প্রভাবিত করেছে, সে তোমাদের মাংস, রক্ত, কান ও (চাপের মধ্যে
বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে ৷ তারপর সে কানের ভিতর, মগয, দীর্ঘ দেহৰুওগ্র আত্মা পর্যন্ত পৌছেছে ৷
এরপর শস্য-শ্যামল ভুমিতে অবতরণ করে সেখানে ক্ষণস্থায়ী বাসা নির্মাণ করে ৷ ডিম পাড়ে,
বাচ্চা দেয় বাচ্চা ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে ও চলাফেরা করতে থাকে ৷ তারপর সে
তােমাদেরকে প্রতারণা ও অবাধ্যতা দিয়ে পরিপুর্ণ করে এবং বিরোধিতার জ্ঞান দান করে ৷
তোমরা তাকে অনুকরণীয়, পথ প্রদশ্কি এবং অনুষ্ৰুণীয় নেতা মেনে নিয়েছ ৷ আর তাকে
সুরক্ষিত পরামর্শদাতা হিসেবে গ্রহণ করেছ ৷ এখন তােমাৰদরাক অভিজ্ঞতা কেমন করে উপকার
দিবে কিৎবা কোন দিক নির্দেশনায় তােমাদ্যোকে কোন ফায়দা দিবে ? তোমরা কি আহওয়াযে
আমার সাথী ছিলে না ? যেখানে তোমরা প্রতারণার ইচ্ছে করেছিলে, বিশ্বাসঘাতকতার মনস্থ
করেছিলে, কুফরী করার জন্যে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলে এবং ধারণা করেছিলে যে , আল্লাহ্ তাআলা
তোমাদের ধর্মকে অপ,দস্থ করবেন এবং ণ্তামাদের খিলাফতকে পর্বুদস্ত করবেন ৷ আল্লাহর
শ্াভুঘখ, অ্যাম্ ঢেমোঃদ্বৱষ্এছি দৃষ্টি স্নিক্ষপ্ করাইল্যাং আর তোমরা“ চুণি চুণি সরে পড়হিংল
এবং শীঘ্র,শীঘ্র পরাজয় বরণ করহ্যিল ৷ ইয়াণ্ডমুয যাবিয়াহকে স্মরণ কর, আর, ইয়াওমুয
যাবিয়াহ্ কি তোমরা বিষ্ ষ্র্দুজান ? তা ছিল তােমাদের কাপুরুষতা, পরস্পর বিরোধ, ঝগড়া,
অপদস্থতা, আকুস্নাহ্র অ্সতুষ্টি এবং তোমাদের অত্তরের ভীতি ৷ তোমরা ছিলে দুরবর্তী বাসস্থান
থেকে পলায়নকারী ন্উটের ন্যায় ৷ তোমাদের মধ্যে এক ভইি অন্য ভাইয়ের কোন ঘোজ-খবরাদি
নিত না ৷ আর ণ্কান বৃদ্ধ তার সন্তানের জন্য দয়া অ্নুভব করত না ৷ যপন তোমাদের উপর
হাতিয়ার প্রয়োগ করা হয়েছিল, তীর নিক্ষেপ করা হয়েছিল ৷ স্মরণ কর, জামাজিম আশ্রমের
দিনের কথা ৷ জামাজিম্ আশ্রমের দিন কী ? তা কি তোমরা জান ? যেদিন যুদ্ধ-বিগ্নহ সংঘটিত
হয়েহিঃা, এমন আঘাত এসেছিল যা মস্তককে তার জায়গা থেকে পৃথক করে ৰু দেয় এবং বন্ধুকে
বন্ধু থেকে ভুলিয়ে দেয় ৷ , হে ইরাকের ,,বাসিন্দাগণ ! পাপের কার্যে মত্ত অ কৃতজ্ঞগণ ! অপমানিত্ত ও


পৃষ্ঠা ২০২ ঠিক করুন


বিশ্বাসঘাতকগণ৷ ঝপড়াঝাটিতে লিপ্ত ফ্যাসাদিগণ! যদি আমি তোমাদেরকে সীমান্ত পাহারায়
প্রেরণ করি , তাহলে তোমরা কর্তব্যকাজ সম্পাদন না করে ফিরে আসবে ও খিয়ানত করবে ৷
যদি তোমাদেরকে নিরাপত্তা দেওয়া হয় তোমরা গুজব রটাবে ৷ আর যদি তোমরা ভয় পা ও
নিফাক করবে ৷ মোট কথা,৫ তামরা কোন নিআম৩ কেই স্মরণ করছ না এবং কোন ইহ্সানের
কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছ না ৷ তোমাদেরকে কোন ওয়াদা ভঙ্গকারী তৃচ্ছ মনে করেনি ৷ কোন
পথভ্রাম্ভ তোমাদেরকে ভ্রান্ত পথে ডাকেনি ৷ তোমাদেরকে কোন পাপী রক্ষা করতে চায়নি ৷
তোমাদেরকে কোন যালিম সাহায্য করতে চায়নি এবং তােমাদেরৰ্ক কোন সাহায্যকারী সাহায্য
করতে চায়নি; বরং তোমরা তার আহ্বানে সাড়া দিয়েছ ৷ তার আওয়াষে প্রতি উত্তর করেছ ৷
তার দিকে একাকী কিৎব৷ দলবদ্ধভাবে আরােহী রুপ কিৎব৷ পদব্রজেধাবিত হয়েছ ৷ হে ইরাকের
বাসিন্দারা! কোন হৈচৈকারী হৈচৈ করে নাই কিংবা কোন কা,কা, রব উচ্চারণকারী কা, কা,
করে নাই ৷ কোন পাথেয় সৎগ্রহকারী পাথেয় সংগ্রহ করে নইি ৷ কোন চিৎকারকারী চিৎকার
করে নাই, বরৎ৫ তোমরা তার অনুসারী ও সাহায্যকারীতে পরিণত হয়েছে ৷ হে ইরাকের
বাসিন্দারা কোন উপদেশ কি তোমাদের উপকারে আসেনি ? বিভিন্ন ঘটনাবলী কি তোমাদের
মধ্যে অনুশোচনার উদ্রেক করেনি ? আল্লাহ্ কিণ্ ৩ামাদেরকে শক্ত হাতে পাকড়াও করেনি ?
আল্লাহ্ কি তার তলোয়ারের ধার এবং মর্যন্তুদ শাস্তির স্বাদ তােমাৰুদ্দা আম্বাদন করাননি ?

তারপর সে সিরিয়াবাসীদের দিকে লক্ষ্য করল ও বলল, “হে সিরিয়াবাসীরা! আমি
তোমাদের জন্যে উট পাখীর ন্যায় দরদী, যে তার বাচ্চাদেরাক অনিষ্ট থেকে রক্ষা করে, তাদের
থেকে আবর্জন৷ দুর করে ৷ তাদের থেকে আক্রমণ প্রতিহত করে, বৃষ্টি থেকে তাদেরকে রক্ষা
করে, ওই সাপ থেকে তাদেরকে হিফ৷ ৷যত করে এবং মশা-মাছি থেকে তাদেরকে পাহারা দেয় ৷
৫হ্ সিরিয়াবাসীরা ৷ তোমরাই ঘুদ্ধাস্ত্র, শিলাবৃষ্টি এবং তোমরা পাড়যুক্ত চাদর, সুরক্ষিত চামড়া,
তোমরা বন্ধু-বান্ধব, সাহায্যকারী, ছায়াদার বৃক্ষ, উপরে পরিহিত কোট, তোমাদের দ্বারা শহর,
জনপদ ও গোত্র বিবর্ণ হয়ে যায় ৷ তোমাদের দ্বারাই শত্রুদের দলের উপর তীর নিক্ষেপ করা হয়
এবং যারা অবাধ্য ও পৃষ্ঠ প্রদর্শনকারী তারা তোমাদের দ্বারা পরাজিত হয় ৷

ইবন আবুদ-দুনিয়া বলেন, আমাকে মুহাম্মদ ইবনুল হুসায়ন উবায়দুল্লাহ্ ইবন মুহাম্মদ
আত তামীমী হতে হাদীস বর্ণনা করেন ৷ তিনি বলেন, আমি কুরায়শদের এক বৃদ্ধ থেকে
শুনেছি যাকে আবু বাকর আততামীমী বলা হয় ৷ তিনি বলেন, “হাজ্জাজ তার খুতবাতে বলত,
(এবং সে ছিল বয়স্ক) নিশ্চয়ই অ ৷ল্লাহ্ ত৷ আলা হযরত আদম (আ) ও তার বৎশধরদের মাটি
দ্বারা তৈরী করেন ৷ তারপর তাদেরকে ভুপৃষ্ঠের উপর চলাফের৷ করতে দেন, তারা পৃথিবীর
ফল-মুল ভক্ষণ করে এবং পৃথিবীর নদী-নালা ও জলাশয়ের পান পান করে ৷ মই ও তাদের
চলাচল দ্বারা ভুপৃষ্ঠের উচু-সিচু দুরীভুত করে ৷ তারপর আল্লাহ তা জানা ভুপৃষ্ঠকে তাদের দ্বারা
আবাদ করেন এবং মৃত্যুর পর তাদেরকে সে ভুমিতে ফেরত প্রেরণ করেন ৷ ভুমি তাদের মাংস

ভক্ষণ করে, যেমন তারা ভুমির ফলমুল ভক্ষণ করেছিল ৷ ভুমি তাদের রক্ত পান করে, যেমন

তারা ভুমির নদী-নালা ও খাল-বিলের পানি পান করেছিল ৷ ভুমি ৷দেরকেত টুকরো টুকরো করে
তার পেটে ঢুকিয়ে নেয় এবং তাদের হাড়ের জোড়াগুলাে পৃথক পৃথক করে ফেলে ৷ যেমন তারা
পৃথিবীটাকে মই ও তাদের চলাচল দ্বারা অসমতল থাকলে সমতল করে নিয়েছে ৷”

একাধিক বর্ণনাকারী হাজ্জাজ থেকে বর্ণনা করে যে, সে তার থুতবায় উপদেশ আকারে
বলত, তোমাদের সামনে উপস্থিত প্রত্যেক লোকের সাথে এমন এক লোক বা সত্তা প্রতিনিধিত্ব
করে, যে তার নাফসকে স্তব্ধ করেছে, ,,ভুছেঃ,ন্নুলোঃরৰুৰু,রশি দ্বার৷ তাকে বেধেছে এবং এ রশি

পৃষ্ঠা ২০৩ ঠিক করুন


সহকারে আল্লাহর ইবাদতের দিকে নিজেকে পরিচালিত করছে ৷ আর এ রশি দ্বারা তাকে
আল্পাহ্ গুনাহ্ হতে বিরত ব্লেখেছে ৷ আল্পাহ্ এমন ব্যক্তির উপর রহম করুন, যে তার নাফসকে
পরিত্যাগ করেছে ৷ এমন ব্যক্তির উপর বহন করুন, যে তার নাফসকে দোষারোপ করেছে ৷
এমন ব্যক্তির উপর বহন করুন, যে তার নাফসকে দুশনন হিসেবে গ্রহণ করেছে ৷ এমন ব্যক্তির
উপর বহন করুন, যে তার হিসাব অন্যের কাছে যাওয়ার পুর্বে নিজেই তার হিসাব যাচাই
করেছে ৷ এমন ব্যক্তির উপর রহম করুন, যে তার মীযান বা পাল্লার প্রাত লক্ষ্য করেছে ৷ এমন
ব্যক্তির উপর রহম করুন, যে তার হিসাবের প্রতি লক্ষ্য করেছে ৷ এমন ব্যক্তির উপর রহম
করুন, যে তার কার্যত্রুনকে ওযন করেছে ৷ এমন ব্যক্তির উপর আল্লাহ রহম করুন, যে
আপামীকাল কুরআন শরীফের কোথায় তিলাওয়াত করবে তা চিন্তা করে রাখে ৷ আর
আপামীকাল (ভবিষ্যতে) তার পাল্লায় কি দেখবে তা চিন্তা করে ৷ সে তার অম্ভারর কাছে ধনক
প্রদানকারী ও তার ইচ্ছার কাছে হুকুমদাত৷ আল্লাহ্কে উপস্থিত পায় ৷ আল্লাহ্ এমন ব্যক্তির
উপর রহম করুন, যে তার কার্যকলাপের লাগান শক্ত করে ধরেছে ৷ যেমন, কেউ তার নিজের
উটের লাগান শক্ত করে ধরে ৷ যদি এ লাগান তাকে আল্পাহ্র আনুগত্যের দিকে পরিচালনা
করে, তাহলে সে তার অনুসরণ করে ৷ আর যদি এ লাগান তাকে আল্লাহ্র গুনাহের দিকে
প্ররােচিত করে, তাহলে সে তার থেকে বিরত থাকে ৷ আল্লাহ্ এমন ব্যক্তির উপর রহম করুন,
যিনি তার কার্যকলাপে আল্পাহ্ থেকে নিজেকে বেধে নিয়েছে ৷ আল্লাহ্ এমন ব্যক্তির উপর রহম
করুন, যে প্রাধান্য লাভ করেছে কিৎবা প্রাধান্য লাভ করার চেষ্টা করছে ৷ আর গুনাহ্ ও
প্রতারণার কার্যকলাপের সাথে হিংসা পোষণ করছে ৷ যা কিছু আল্লাহ্রই কাছে আছে তার
প্রতিই তার কামনা বাসনা নিবেদিত ও নিয়োজিত ৷ অ ৷ল্লাহ্ এমন ব্যক্তিকে বহন করুন, আল্লাহ্
এমন ব্যক্তিকে রহম করুন, বলতে বলতে যে অঝোর নয়নে র্কাদতে লাগল ৷

আল-মাদাইনী (র) আওয়ানা ইবনুল হাকাম থেকে বর্ণনা করেন ৷ তিনি বলেন,
আশৃ-শাবী বলেছেন, “আমি হাজ্জাজকে এমন এমন কথা বলতে শুনেছি, যে কথা তার আগে
কাউকে বলতে শুনেনি ৷ সে বলত আম্ম৷ বাদ অর্থাৎ আল্লাহ্র হানদ ও রাসুলের লাভের পর
সমাচার এই যে, নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তাআলা দুনিয়ার উপর ধ্বংসকে লিপিবদ্ধ করেছেন এবং
আখিরাতের উপর স্থায়িতুকে লিপিবদ্ধ করেছেন কাজেই যার উপর স্থায়িতুকে লিপিবদ্ধ করেছেন
তার কোন ধ্বংস নেই ৷ আর যার উপর ধ্বংনকে লিপিবদ্ধ করেছেন তার কোন স্থায়িতু নেই ৷

তাই তে ৷নাদেরকে বর্তমান দুনিয়া যেন ভবিষ্যতের আমিরাত সম্পর্কে প্রভাবিত না করে ৷ আর

দুনিয়াবাসীরা যেন দুনিয়ার ক্ষণস্থুায়িতু দ্বারা আখিরাতের দীর্ঘ স্থায়িতু কামনা-বাসনড়াকে স্তব্ধ
করে না দের ৷

আল-নাদাইনী আবু আবদুল্লাহ আছ-ছাকাফী হতে বর্ণনা করেন ৷ তিনি তার চাচা থেকে
বর্ণনা করেন ৷ তিনি বলেন : একদিন আমি হাসান বসরী (র) কে বলতে শুনেছি ৷ তিনি বলেন,
একটি বাক্য আমাকে প্রচণ্ড আঘাত হেন্যেছ যা আমি হাজ্জাজ থেকে শুনেছি ৷ সে এসব
উপলক্ষে কথাটি বলেছিল, “যদি কোন ব্যক্তির জীবনের একটি মুহুর্ত অন্য কাজে ব্যবহৃত হয়,
যার জন্যে তাকে সৃষ্টি করা হয়েছিল, তাহলে কিয়ামত পর্যন্ত তার এ কাজের জন্যে আফসােস
প্রলন্বিত হওয়া উচিত ৷”

কাযী শুরায়ক আবদুল মালিক ইবন উমায়র হতে বর্ণনা করেন ৷ তিনি বলেন, একদিন
হাজ্জাজ বলেন৪ যদি কেউ কোন কাজ সম্পাদনের জন্য কোন মুসীব্য তর ৷শকার হয়ে থাকে,
তাহলে তাকে আমি তার মুসীবতের গভীরতা অনুযায়ী পুরস্কার প্রদান করে থাকি ৷ তখন এক
ব্যক্তি দণ্ডায়মান হলো এবং বলল, আপনি আমাকে প্লুরস্কার প্রদান করুন ৷ কেননা, আমি


পৃষ্ঠা ২০৪ ঠিক করুন

, নিঃসন্দেহে ইমাম হুসায়নকে হত্যা করেছি ৷ হাজ্জাজ বলল, “তুমি তাকে কেমন করে হত্যা
করেছ ?” ন্ সে বলল, আমি তার দিকে তীর নিক্ষেপ করে তাকে ভীরবিদ্ধ করেছি এবং
তলোয়ার দ্বারা তার মাথা কর্তন করেছি ৷ আর তাকে হত্যা করার ক্ষেত্রে আমি আর কাউকে
অংশীদার কবিনি ৷ তখন সে বলল, আল্লাহর শপথ, ভুমি এবং সে এক জায়গায় একত্রিত হতে
পারে৷ না ৷ এ কথা বলে সে তাকে কিইে প্রদান করল না ৷

আল-হায়ছাম ইবন আদী বলেন, একদিন এক ব্যক্তি হাজ্জাজের কচছে আগমন করে বলল,

আমার ভইি ইবনুল আশআছের সাথে সংগ্রামে যোগ দিয়েছিল ৷ সে আমার নামও তালিকাভুক্ত
করেছিল ৷ তুমি আমার ভাতা বন্ধ করে দিয়েছ এবং আমার ঘর ধ্বংস করে দিয়েছ ৷ হাজ্জাজ
বলল, তুমি কি একজন কবির কথা শুন নইি ৷ কবি বলেছিল, “যে ব্যক্তি তোমাকে অন্যায়ভাবে
দোষারোপ করেছে, সে যেন তোমার উপর অনুগ্রহ করেছে ৷ কেননা, অনেক সময় খুজলী রোগে
আক্রান্ত উটের পােয়াল সুস্থ উটের রুগ্ন হওয়ার কারণ হয়ে পড়ে ৷ আর বহু লোক পাকড়াও হয়,
তার নিকটবর্তী ব্যক্তির অন্যায়ের দরুন ৷ আর যে অপরাধী গুনাহ্গার সে নাজাত পেয়ে যায় ৷
সোকটি বলল, আমি ণ্তাআল্লাহ্কেঅন্যরুপ বলতে শ্যুনছি ৷ আল্লাহর কথা তোমার এ কবির
কথার চেয়ে বেশী সত্য ৷ হাজ্জাজ বলল, আল্লাহ্ কি বলেছেন? সােকটি বলল, সুরায়ে ইউসুফের
৭৮ ণ্ ও ৭৯নং আয়াতে আল্লাহ বলেন :

াপুৰুাপুন্ধ্র
৷ টু,;ষ্

ট্রু-,,ণ্;া৷াপু ৷ ; ৷

অর্থাৎ “তারা বলল, হে আযীয তার পিতা জীবিত রয়েছেন ৷ তিনি অতিশয় বৃদ্ধ ৷ কাজেই
তার স্থলে আপনি আমাদের একজনকে রাখুন ৷ আমরা তাে আপনাকে দেখছি মহানুভব
ব্যক্তিদের একজন ৷ সে বলল, যার নিকট আমরা আমাদের মাল পেয়েছি তাকে ছাড়া অন্যকে
রাখার অপরাধ হতে আল্লাহর শরণ নিচ্ছি ৷ এরুপ করলে আমরা অবশ্যই সীমালংঘনকারী
হব ৷” হাজ্জাজ তখন বলল, হে যুবক ৷ তার নাম তালিকাভুক্ত কর, তার ছেলের নামও
তালিকাভুক্ত কর এবং যথারীতি ভাতা প্রদান কর ৷ আর একজন আহবায়ককে ঘোষণা কজ্জ,
নির্দেশ দাও যে, আল্লাহ সত্য বলেছেন এবং কবি মিথ্যা বলেছে ৷ আল-হায়ছাম ইবন
আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (বা) হতে বর্ণনা করেন ৷ তিনি বলেন, একদিন আবদুল মালিক
হাজ্জাজের কাছে একটি পত্র লিখেন এবৎ৩ তাকে আদেশ দেন যে, আসলাম ইবন আবদুল
বিকরীর মাথা আমার কাছে প্রেরণ কর ৷ যখন তার কাছে এ পত্র পৌছল, হাজ্জাজ তখন
লোকটিকে নিকটে ডাকল ৷ তখন সে হাজ্জাজকে বলল, “হে আমীর! আপনি তো উপস্থিত বা

অবগত আর আমী রপ্স যু মিনীন অনুপস্থিত, অনবগত ৷ আর আল্লাহ তা জানা সুৱায়ে হুজুরাতের
৬নৎ আয়াতে বলেনং ন্

০ ’ : ষ্

র্দুপ্ৰুপ্রুছু

,
অর্থাৎ “হে যু মিনগণ! মনি কোন পাপাচারী তোমাদের নিকট কোন বার্তা আনয়ন করে,
তোমরা তা পরীক্ষা করে দেখরে ৷ যাতে অজ্ঞতাবশত তোমরা কোন সম্প্রদায়কে ক্ষতিগ্রস্ত না


পৃষ্ঠা ২০৫ ঠিক করুন

কর এবং পরে তোমাদের কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত না হও ৷ তার কাছে যে সংবাদটি পৌছেছে
তা অসত্য ৷ আর আমি ২৪ জন মহিলার অভিভাবকতৃ করি, তাদের জীবিকা অর্জন করার মত
কোন লোক নইি ৷ আর তারা আপনার দরযায় দণ্ডায়মান ৷ তাদেরকে উপস্থিত করানোর জন্য
আদেশ দিল ৷ যখন তারা উপস্থিত হলে৷ তাদের মধ্যে একজন বলল, আমি তার খালা, অন্য
একজন বলল, আমি তার ফুফু, অন্য একজন বলল, আমি তার বোন, অন্য একজন বলল,
আমি তার শ্রী, আবার অন্য একজন বলল, আমি তার মেয়ে ৷ এমন সময় আট বছরের অধিক
ও দশ বছরের কম বয়সী একটি বালিকা সামর্নে এগিয়ে ৰুআসল ৷ হাজ্জাজ তাকে বলল, তুমি
কে ? বালিকা বলল, আমি তার মেয়ে ৷ তারপর যে বলল, আল্পাহ্ আমীরের মঙ্গল করুন,
আমি তার সামনে হাযির ৷ এ কথা বলে যে কিছু কবিতা পাঠ করল , যা নিম্নে প্রদত্ত হলো : হে
হাজ্জাজ, আপনি তার মেয়েদের ও ফুফুদের মান-মর্যাদা লক্ষ্য করেননি ? তারা সকলে সারা
রাত্রি তার জন্যে ব্লোদন করছে ৷ হে হাজ্জাজ, যদি আপনি তাকে হত্যা করেন, তাহলে আপনি
কি চিন্তা করে দেখেছেন যে, আপনি তার হত্যার মাধ্যমে কতজনকে হত্যা করেছেন ৷ তারা
হলেন ২৪ জন, হে হাজ্জাজ কে তার পরিবর্তে আমাদের দেখাশুন৷ করবে ? কাজেই তাকে
আপনি ছেড়ে দিন ৷ আর যদি আপনি আমাদের উপর অন্যায় করেন, তাহলে আমাদের গৃহাদি
বসিয়ে যমীন বরাবর করে দিন ৷ হে হাজ্জাজা হয়তো আমার পিতাকে ছেড়ে দিয়ে আপনি
আমাদের উপর একটি নিআমত দান করুন, অন্যথায় আমাদের সকলকে একত্রে মেরে ফেলুন ৷
বর্ণনাকারী বলেন, এরপর হাজ্জাজ ক্রব্দন করল এবং বলল, আল্লাহর শপথ, আমি তোমাদের
উপর কোন প্রকার বিপদ আপতিত করব না এবং তোমাদের উপর কোন প্রকার যুলুমও করব
না যাতে তোমরা একেবারেই নিঃশেষ হয়ে যাও ৷ হাজ্জাজ আবদুল মালিকের কাছে পত্র লিখে
উল্লিখিত ব্যক্তিটির উক্তি এবং তার কন্যার উক্তি সম্বন্ধে আবদুল মালিককে অবগত করল ৷
তখন আবদুল মালিক হাজ্জাজের কাছে পত্র লিখে আদেশ দিলেন যেন ণ্লাকটিকে ছেড়ে দেওয়া
হয় এবং তার সাথে তাল আচরণ করা হয় ৷ বালিকার প্রতি দয়া করা হয় এবং সব সময় তার
ঘোজখবৱ নেওয়া হয় ৷ কথিত আছে, একদিন হাজ্জাজ খুতৃবা দিল এবং জনগণকে বলল, হে
মানবমণ্ডলী! জেনে ব্লেখো, আল্লাহর নিষিদ্ধ বস্তুসমুহ হর্তে বিরত;থাকার ক্ষেত্রে ধৈর্যধারণ
ৰু আল্লাহ্র্ আমার সহ্য করার ধৈর্যধারণ থেকে অনেক সহজ ৷ তখন এক ব্যক্তি উঠে র্দাড়াল এবং
হাজ্জাজকে লক্ষ্য করে বলল, “দুর্ভাগ্য তোমার হে হাজ্জাজ ! কত নির্লজ্জ চেহারা ণ্তামার ! এবং
কত কম হুতামার লজ্জা ৷ যা করার তুমি কর, আর এ ধরনের উচ্চৰাক্য তুমি উচ্চারণ কর ৷
তোমার সদ্ব্যবহারের চেষ্টা নিম্ফল ও ব্যর্থ ৷ হাজ্জাজ তার দেহরক্ষীকে বলল, “তাকে ধরে
ব্লেখো ৷” য়খন হাজ্জাজ খুত্ৰা শেষ করল, তখন ঐ লোকটিকে বলল, কেন তুমি আমার উপর
এত ধৃষ্টত৷ দেখালে ? উত্তরে লোকটি বলল : দুর্ভাগ্য তোমার হে হাজ্জাজা তুমি আল্লাহ্র প্রতি
ধৃষ্টতা দেখাচ্ছ, আমি তো ৫তামার প্রতি ধৃষ্টত৷ দেখাচ্ছি না ৷ তুমি এমন কোন ব্যক্তি যে,
াতামার প্রতি আমি ধৃষ্টত৷ দেখাতে পারব না ? অথচ তুমি সারা জাহানের প্রতিপালক আল্লাহ
তা আলায় প্রতি ধৃষ্টতা দেখাচ্ছ ৷ হাজ্জাজ তখন বলল, তাকে শৃৎখলমুক্ত করে দাও ৷ তারপর
তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় ৷ ,

আল-মাদাইনী বলেনং ইবনুল আশআছেৱ দুইজন সাথীকে কয়েদী হিসেবে একদিন
হাজ্জাজের সামনে আনয়ন করা হলো ৷ হাজ্জাজ তাদেরকে হত্যার হুকুম দিল ৷ তখন তাদের
মধ্যে একজন বলল, তোমার প্রতি আমার একটি অনুগ্রহ রয়েছে ৷ হাজ্জাজ বলল, সেটা কি ?
দােকটি বলল, একদিন ইবনুল আশআছ তোমার মাতা সম্বন্ধে উল্লেখ করে ৷ তখন আমি তার


পৃষ্ঠা ২০৬ ঠিক করুন


বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করি ৷ হাজ্জাজ বলল, এ ঘটনার ব্যাপারে৫ আমার কি কোন সাক্ষী আছে ? সে
বলল, “হ্যা, আমার এ সাথীটি ৷ হাজ্জাজ তখন তাকে জিজ্ঞাসা করল ৷ ণ্লাকটির সাথী বলল,
হ্যা ৷ হাজ্জাজ বলল, ইবনুল আশআছ যা করেছে তা তুমি করলে না কেন ? সে বলল, তোমার
প্রতি প্রতিহিংসা আমাকে বিরত ব্লেখেছিল ৷ হাজ্জাজ বলল, কে আছ তোমরা এ ব্যক্তিটিকে তার
সতব্রুবাদিতার জন্যে ছেড়ে দাও আর অপরজনকে তার কাজের জন্যে ছেড়ে দাও ৷ হাজ্জাজের
সাথীরা দৃইজনবেইি ছেড়ে দেয় ৷

মুহাম্মদ ইবন যিয়াদ ইবনুল আরাবী থেকে উল্লেখ করেন ৷ তিনি বলেন, বনু হুনায়ফার এক
ব্যক্তি ইয়ামামা অঞ্চলে একজন বীরপুরুষ ছিলেন ৷৩ তার নাম ছিল জাহদার ইবন মালিক ৷
হাজ্জাজ সে দেশের নায়েবের কাছে এক ব্যক্তিকে প্রেরণ করে ঐ বীর পুরুযটিকে গ্রেফতার
করতে না পারার তাকে তিরস্কার করে ৷ কাজেই নায়েব বীর পুরুষটিকে তীব্রতাবে খোজ করতে
লাগল ৷ কিছুদিন পর সে তাকে বন্দী করল ৷ পরে তাকে হাজ্জ জ্জাজের কাছে প্রেরণ করল ৷ তখন
হাজ্জাজ তাকে বলল, তুমি যা করছিলে, কেন ৷৩ তুমি এরুপ করছিলে ? বীর পুরুষটি বলল,
আমাকে এ কাজ করার জন্য যে বস্তুটি প্ররোচিত করেছিল তা হলো অন্তরের দুঃসাহ্স,
শাসনকর্তার অত্যাচার এবং হাল যামানার কুকুর বা লোভ-লালসা ৷ যদি আমীর আমাকে
পরীক্ষা করেন, তাহলে তিনি আমাকে তার সৎসাহায্যকারী ও অশ্বারোহী সৈন্যদের মধ্যে
আমাকে সুক্ষ্ম ধীশক্তিসস্পন্ন ব্যক্তিদের অন্যতম পাবেন ৷ আর আমাকে তার সৎসাহসী প্রজাবর্গের
মধ্যে অন্যতম পাবেন ৷ আমি যে কোন সময় কোন অশ্বারোহীর সাথে মুকাবিলা করেছি তাকে
পরাস্ত করেছি ৷ হাজ্জাজ তখন তাকে বলল, আমরা তোমাকে একটি কুয়ার কাছে ফেলে দোবা
যেখানে থাকবে একটি হিংস্র সিংহ ৷ যদি সেই হিংস্র সিংহটি ণ্তামাকে হত্যা করতে পারে,
তোমার পরিবার-পরিজনের ভরণপােষণ আমরা বহন করব ৷ আর যদি তুমি তাকে হত্যা করতে
পার আমরা তোমাকে ছেড়ে দেবো ৷” তারপর হাজ্জ্বাজ তাকে কারাগারে বন্দী করে রাখল ৷
তার ডান হাতটি তার গর্দানের সাথে শিকল দিয়ে বাধা ছিল ৷ অন্যদিকে হাজ্জাজ কাসকার
নামক স্থানের নায়েবের কাছে পত্র লিখে নির্দেশ দিল, যেন একটি বড় হিংস্র ও ক্ষতিকারক
সিংহকে প্রেরণ করে ৷ জাহদার তার বন্দীশালায় কিছু কবিত ৷ পাঠ করে সে তার শ্রী উষ্মে আমর
সুলায়মারপ্রতি দুঃখ প্রকাশ করছে ৷ সে বলছিল, “রাত কি আমাকে এবং উষ্মে আমরকে
একত্রিত হওয়ার সুযোগ দিবে না ? এটা নিয়ে হয়তো তুমি চিন্তা করছ এবং আমাকে নিকটে
পাওয়ার কামনা করছ! হী৷ (রাত সে সুযোগ দিবে) তুমি নতুন র্চাদকে দেখবে, যেমন আমি
তাকে দেখছি ৷ চীদ যখন আকাশের উপরিভাগে উঠতে থাকবে, তখন রাত সমাপ্ত হয়ে দিন
প্রকাশ পাবে ৷ যখন তোমরা নজদের খেজুর বাগান অতিক্রম করে ইয়ামামার উপত্যকায়
পৌছবে, তখন হয়তো আমার মৃত্যুর সংবাদ শুনবে ৷ জাহদারকে তোমরা শুভ কামনা কর ৷
কেননা, ইয়ামানী ধারাল তলোয়ারের উপর বাপাইয়া পড়ার জন্য তাকে বাধ্য করা হয়েছে ৷”
হাজ্জাজের কাছে যখন সিংহটি পৌছল, তখন তাকে তিনদিন অনাহারে রাখার জন্য নির্দেশ
দেওয়া হলো ৷ তারপর তাকে একটি বাগানে ছেড়ে দেওয়া হলো এবং জাহদারকে শৃত্খলাবস্থায়
তার ডান হাতকে গর্দানের সাথে বেধে রাখা হলো ৷ আর তার বাম হাতে একটি তলােয়া স্কুা
দেওয়া হলো ৷ সিংহ আর জাহদারের মধ্যে লড়াই ৰ্বাধিয়ে দেওয়া হলো ৷ হাজ্জাজ ও তার
সাথীরা একটি গ্যালাবীতে বসে দৃশ্য উপভোগ করতে লাগল ৷ জাহদার সিংহটির দিকে অগ্রসর
হলো এবং সে বলছিল, “দুটি সিংহ খুব সংকীর্ণ জায়গার মধ্যে মুকাবিলা করছে ৷ দুটোই
সমুন্নত নাকের অধিকারী ৷ তারা অত্যন্ত কঠিন ও বীরত্পুর্ণ সংঘর্ষে লিপ্ত ৷ যদি আল্পাহ্ তাআলা


পৃষ্ঠা ২০৭ ঠিক করুন

সন্দেহের পর্দা খুলে দেন , তাহলে বিজয়ী হবে তুরস্কের যথাযোপ্য আবাসের অধিকারী ৷ সিংহটি
যখন জাহদারের দিকে তাকাল, তখনপ্রকটভাবে গর্জন করতে লাগল, ৫হলে-দুলে চলতে লাগল
এবং তার দিকে অগ্রসর হতে লাগল ৷ যখন সে এক তীর পরিমাণ জায়গায় পৌছল, তখন
সিংহটি জাহদারের উপর প্রচণ্ডভাবে বাপিয়ে পড়ল ৷ জাহদার তলোয়ার দিয়ে তার মুকাবিলা
করল এবং তাকে প্রচণ্ড আঘাত করল ৷ তলোয়ারের মাথা তার আলজিভকে ছিদ্র করে ৫ফলল ৷
প্রচণ্ড বাতাসে উপড়িয়ে ফেলা তাবুর ন্যায় সিংহটি প্রচণ্ড আঘাত ৫খয়ে মাটিতে মৃত্যুর কোলে
লুটিয়ে পড়ল ৷ সিংহের প্রচণ্ড থাবার জন্যে এবং শিকলের প্রবল ঘর্ষণে জাহদারও ক্লান্ত হয়ে
নিচে পড়ে গেল ৷ তখন হুহ্জ্জাজ় ও তার সাথীরা আল্লাহ আকবর ধ্বনি দিল ৷ আর জাহদার
বলতে লাগলেন, “হে সুন্দর! তুমি যদি অন্ধকার ও ধুলিময় তয়াবহতার দিনে আমার দুরবস্থা
দেখতে ৷ এগিয়ে এসো এমন এক সিংহের জন্যে যে শৃত্খলাবস্থায় ও হাত প৷ বন্দী অবস্থায়
রয়েছে, যাতে তার কংকনসমুহ তার বের হয়ে পড়ার ক্ষেত্রে আর প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি না করে ৷
সিংহের থাবাগুলো রুক্ষ হয়ে গেছে, তার দীতগুলাে যেন কুড়ালের ঝাঝর৷ মুখ কিং×বা র্কাচের
শলাকার ধারের ন্যায় ৷ সিংহটি দুই চক্ষু নিয়ে উপরের দিকে তা ৷কাচ্ছে ৷ত তুমি ৫দখরে দুই চক্ষুর
মধ্যে বাতাসমিশ্রিত ধুলাবালি যেন বাতির শিখার ন্যায় ঝলমল করছে ৷ মনে হয় যেন তার
উপর তালিওয়ালা জামা ৫সলা করে দেওয়া হয়েছে অথবা মোটা ৫রশমী কাপড়ের টুকরোগুলো
তার উপর সংযুক্ত করা হয়েছে ৷ নিশ্চয়ই তুমি জানতে ত৫পরেছ যে, আমি মর্যাদাবান সংরক্ষণের
অধিকারী ও মহিমাঘিত সম্প্রদায়ের বংশধরতুক্ত ৷”
তারপর হাজ্জাজ তাকে ইখতিয়ার দিল যদি সে চায় তাহলে সে হাজ্জাজের কাছে থাকতে
পারে ৷ আর যদি সে চায় তাহলে নিজের দেশে বা শহরে চলে যেতে পারে ৷ সে হাজ্জাজের
কাছে থাকাট ই পসন্দ করল ৷ হাজ্জাজত তাকে উত্তম পুরস্কার দিল ও সম্পদ দান করল ৷ তবে
হাজ্জাজ একদিন হযরত ইমাম হুসায়ন (রা) কে রাসুলুল্লাহ্ (সা) এর বং ×শধরের মধ্যে গণ্য
করতে অস্বীকার করল ৷ কেননা, তিনি হলেন রাসুলুল্লাহ্ (সা)-এৱ কন্যার সন্তান ৷ ইয়াহ্ইয়া
ইবন ইয়াসার হাজ্জাজকে বলল, তুমি মিথ্যা বলছ ৷ হাজ্জাজ বলল, তুমি যা বলছ তার সপক্ষে
আল্লাহ্র কিতাব থেকে দলীল পেশ করতে হবে অথবা আমি তোমার গর্দান ৫মরে দেব ৷ এ
প্রসঙ্গে আল্লাহ্ তাআলা সুরায়ে আনআমের ৮৪ ও ৮৫নং আয়াতদ্বয়ে বলেন ং



০ ’




৷ ; অপুটু ন্;স্ পু,ট্রু;ঠু ; ৷ছু,হ্র১;
অর্থাৎ এবং তাকে দান করেছিলাম ইসহাক, ইয়াকুব ও তাদের প্রত্যেককে সৎপথে
পরিচালিত করেছিলাম ৷ পুর্বে হযরত নুহ (আ)-৫ক সৎপথে পরিচালিত করেছিলাম এবং তার
ৎশধর দাউদ (আ), সুলায়মান (আ), আয়ুব (আ), ইউসুফ (আ), মুসা (আ) ও হারুন
(আ)-৫কও আর এভাবেই সৎকর্মপরায়ণদেরকে পুরস্কৃত করি এবং যাকারিয়া (আ) , ইযাহ্ইয়৷
(আ), ঈসা (আ) ও ইল্ইয়াস (আ)-৫কও সৎপথে পরিচালিত করেছিলাম ৷ তারা সকলে
স্বজনদের অন্তর্ভুক্ত ৷ কাজেই, ঈসা (আ) ইব্রাহীম (আ)-এর বংশধরের অন্তর্ভুক্ত ৷ তিনি তার
মাতা মারইয়ামের অন্তর্ভুক্ত ৷ ইমাম আল-হুসায়ন (রা) রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর কন্যার সন্তান ৷
হাজ্জাজ তখন বলল, তুমি সত্যি রলেছ ৷ এরপর সে তাকে খুরাসানে নির্বাসন দিল ৷


পৃষ্ঠা ২০৮ ঠিক করুন

হাজ্জাজ উত্তম ভাষাজ্ঞান ও উচ্চতর ভাষা জ্ঞানে জ্ঞানী হওয়া সত্বেও কুরআন শরীফের
অক্ষরসমুহে ভুল করত ৷ ইয়াহ্ইয়৷ ইবন ইয়া মার তা অপসন্দ করতেন ৷ তন্মধ্যে একটি ভুল
হলো, যে সব সময় ইন্না ম কসুবাহকে ইন্না মাফ্তৃহায়ে পরিবর্তন করত ৷ আর ইন্না
মাফভুহাহুক ইন্ন৷ মাকসীরাহ্-এ পরিবর্তন করত এবং সে পড়ত ণ্ব্লু ,ান্ ৷ ;,া £ষ্টু, ৷ টুাট্রু


৷ পড়ত ৷ আল-আসমাঈ
ও অন্যরা বলেন, একদিন আবদুল মালিক হাজ্জাহুত্তরে কাছে একটি পত্র লিখলেন ৷ পরে তিনি

তাকে আমল, আল-ইয়াওম ও গাদ অর্থাৎ গতকাল, অদ্য ও আগামীকাল সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা
করেন ৷ হাজ্জাজ দুতকে বলল, খুয়ায়লিদ ইবন ইয়াযীদ ইবনমুআবিয়া কি তার কাছে উপস্থিত
আছে ? দুত বলল, হয় ৷ তখন হাজ্জাজ আবদুল মালিকের কাছে লিখল ও আমৃসৃ অর্থ মৃত্যু,
,আল-ইয়াওম অর্থ আমল এবং গাদান অর্থ আশা-আকাংখ৷ ৷ ইবন দারীদ, আবু হাতিম আস
সিজিস্তানীর মাধ্যমে আবু উবায়দ মামার ইবন আল-ষুছান্না হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন,
হা জ্জাজ যখন ইবনুল আশআছকে হত্যা করে, তখন তার কাছে ইরাকের প্রশংসা করা হয় এবং,
সে ইরাকের লোকজনকে বেশী বেশী ভাতা প্রদান করে “৷ তখন আবদুল মালিক তার কাছে পত্র
লিখলেন এবং বললেন, মহান আল্লাহর গ্রুংাৎসার পর সমাচার এই যে, আমীরুল মু’মিনীনের
কাছে সংবাদ পৌছেছে যে, তুমি আজকাল একদিনে যা খরচ বন্মছ আমীরুল মুমিনীন তা
সাতদিনেও খরচ করেন না এবং তুমি এক সপ্তাহে যা খরচ করছ আমীরুল মু’যিনীন তা এক
মাসেও খরচ করেন না ৷ তারপর তিনি নীচের কবিতাটি আবৃত্তি করলেন, “সব ব্যাপড়াহুরই
তোমার উচিত মহান আল্লাহ্কে ভয় করা ৷ হে উরায়্দুঃা৷হ! তুমি মহান আল্লাহ্হুক ভয় কর ও
তার কাছে কাকুতি-মিনতি কর ৷ মুসলমানদের কর ও যুদ্ধলন্ধু সম্পদের পুরাপুরি হিসাব গ্রহণ
কর এবং তাদের জন্য একটি দুর্গ হিসাবে কাজ কর যা তাদেরকে আশ্রয় দেবে এবং তাদের
অধিকার সংরক্ষণ হবে ৷ হাজ্জাজ তখন আবদুল মালিকের কাছে পত্রেব জওয়ার লিখল, যা
নিম্নরুপং
আমার আযুর শপথ ৷ আপনার দুত আমার ক ছে আপনার পত্র নিয়ে পৌছেছে ৷ পত্রটি
কয়েক পৃষ্ঠা কাগজে লিখিত হয়েছে ৷ তারপর ছাপানো হয়েছে, যথাযথভাবে এটাকে ভাজ করা
হয়েছে ৷ যে পত্রের মধ্যে আমার জন্য রয়েছে নরম কথা ও শক্ত কথ৷ ৷ আমি তার থােক
নসীহত গ্রহণ করেছি ৷ আর নসীহত,বুদ্ধিমানের উপকারে আসে ৷ আমার সামনে অনেক সমস্যা
এসেছিল, এগুলোকে আমি সমাধান করছি কিংবা কোন সময় যেগুলোকে সাধ্যের বাইরে মনে
করেছি তাই এগুলো হতে আমি বিরত থাকছি ৷ যদি তাদের উপর আপনার শান্তি আপনি
আরোপ করেন তাহলে আমার তরফ থেকে তাদের জন্যে কোন উপকার সাধিত হবার লহুক্ষ্য
আমি এ ব্যাপারে (কানআগ্রহী হই না ৷ এ ব্যাপারে জনগণ খুশী থাকুক কিহ্বা এটাকে
অসন্তুষ্টির কারণ মনে করুক, তাতে কিছু আসেযায় না: ৷ আপনার সন্তুষ্টিই আমার একমাত্র
লক্ষ্য ৷ তাদের মধ্যে কারো আমি প্রশংসা করি কিং×বা কষ্ট দেই, এমনকি পালি দেই, তাতেও
কিছুআসে-যায় না ৷ ণ্এমন কতগুলো শহর আমি অতিক্রম করেছিযেগুহুলাহুতশক্রতার ও
বিরোধিতাৱ আগুন দাউ দাউ করে জ্বলছিল ৷ আপনি জানেন, তার মধ্য থেকে কিছু আমি সহ্য
করেছি আর বাকীগুলাে নিয়ে ধন্তাধস্তি করছি এমনকি মৃত্যুর কাছাকাছি হয়ে পড়েছি ৷ বিদ্রোহীরা
কত গুজব রটিয়েছে, সেগুলো আমি শুনেছি ৷ বিন্দু, আমি আত ত্কিত হ্ইনি ৷ আমা র পরিবর্তে
যদি অন্য কেউ প্রশাসক হতো, তাহলে সে ভয়ে ওষ্ঠাগত হতো ৷ বিদ্বোহীর৷ যখন তাদের কোন
একজ্যা সধ্থা মীর মাধ্যমে দেশে অরাজকতা সৃষ্টির ব্যর্থ প্রচেষ্টা চালিহুয়ছিল, তখন তাদের জন্য
আমি শুধু আফসোস করেছিলাম, তবে তাদের প্রতি সন্তুষ্ট খাকারও তান করিনি ৷ তাদের


পৃষ্ঠা ২০৯ ঠিক করুন

সরদারগণ যদি আমার প্রতিরক্ষার চেষ্টা না করত, তাহলে আমার শরীরের প্রতিটি অঙ্গই
নেকড়ে হিসেবে কাজ করত ও অনিষ্ট-সাধন করার জন্যে আমি হাত বাড়াতাম ৷ বর্ণনাকারী
বলেন : তখন আবদুল মালিক হাজ্জাজের কাছে পত্র লিখলেন এবং বললেন, তোমার পসন্দমত
কাজ করে যাও ৷ আছ-ছাওরী মুহাম্মদ ইবনু মুসতাওরিদ আল-জামহী থেকে বর্ণনা করেন ৷
তিনি বলেন, একদিন হাজ্জাজের কাছে একটি চােরকে আনা হলো ৷ হাজ্জাজ তাকে বলল,
“যদি তুমি অন্যায় কাজটি না করতে, তাহলে তোমাকে বিচারকের কাছেও আনা হতো না এবং
তিনিও তোমার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলাে হতে একটি অঙ্গকে অকেজাে বলে ঘোষণা করতেন না ৷”
ণ্লাকটি বলল, “যখন সম্পদ কমে যায়, তখন প্রাণটিও সাহায্যকারীর দিকে ধাবিত হয় ৷”
হাজ্জাজ বলল, সত্যি বলেছ, আল্লাহর শপথ ! যদি এমন কোন গ্রহণযোগ্য উত্তম অজুহাত পাওয়া
যেত যার মাধ্যমে এ দণ্ডবিধিকে বাতিল করা যায়, তাহলে আমি তার জন্য সুযোগ হাতছাড়া
করতাম না ৷ হে যুবক ! তলোয়াৱ ধারাল আর তলোয়াৱ চালনাকারী লেড়াকও নিজের কর্তব্য
কাজ সম্পাদন করতে প্রস্তুত ৷ তারপর সে তার হাত কেটে দিল ৷ আবু বাকর ইবন মুজাহিদ
মুহাম্মদ ইবনুল জাহমের মাধ্যমে আল ফারা থেকে বর্ণনা করেন ৷ তিনি বলেন, হাজ্জাজ
একদিন আল ওয়ালীদ ইবন আবদুল মালিকের সাথে নাশৃতা গ্রহণ করেন ৷ যখন তাদের
দুইজনের নাশৃতা খাওয়া শেষ হলো ৷ তখন আল ওয়ালীদ (খলীফা) হাজ্জাজকে শরাব পান
করতে আহ্বান করল ৷ হাজ্জাজ বলল, হে আমীরুল মু মিনীন, আপনি যা হলোল মনে করেন,
তাই আমি হলোল মনে করি ৷ তবে আমি এ শরাব হতে ইরাকবাসীদের ও আমার
কার্যপরিষদের সদস্যদেরকে নিষেধ করি ৷ আর আমি সৎ বান্দার কথার বিরোধিতা করাকে
অপসন্দ করি ৷ আল্লাহ্ তাআলা সুরায়ে হ্রদের ৮৮নং আয়াতে ইরশাদ করেন :
ব্লুট্রুছু ন্হ্র ঢু;া

অর্থাৎ আমি তােমাদেরকে যা নিষেধ করি আমি তা নিজে করতে ইচ্ছে করি না ৷

উমর ইবন শিবাহ তার উন্তাদদের থেকে বর্ণনা করে বলেন, একদিন আবদুল মালিক
সম্পদ ব্যয়ে ও রক্তপাতে অতিরিক্ত করার জন্যে তিরস্কার করে হাজ্জাজের কাছে পত্র লিখেন ও
বলেন, সমস্ত সম্পদ মহান আল্লাহ্র মালিকানাধীন আর আমরা তার পাহারাদার মাত্র ৷ কারোর
অধিকার থেকে বঞ্চিত করা কিৎবা কাউকে অনর্থক দান করা একই কথা ৷ আর তিনি পত্রের
নিচেরাংশে নিম্নের কয়েকটি লাইন লিখে দেন ও যে সব কাজ করা আমি খারাপ মনে করি
সেগুলো যদি তুমি প্রত্যাখ্যান না কর, যে বস্তুকে আমি পসন্দ করি তা কার্যে পরিণত করে তুমি
আমার সন্তুষ্টি যদি চাও, তোমার যত লোক মহান আল্লাহ্র প্রতি ধাবিত হয়ে কোন কাজ
করতে যদি ভয় কর, তাহলে তুমি ঐ ব্যক্তির ন্যায় কাজ করলে যে দুধ দোহন করে তা নষ্ট
করে দেয় ৷ কাজেই তুমি যদি আমার থেকে কোন বিচ্ছিন্ন আকারের অলসতা লক্ষ্য কর,
তাহলে জেনে ব্লেখো, এটার উদাহরণ হলো, অনেক সময় পানি পানকারীর গলায় কোন সময়
পানি আটকিয়ে যায় ৷ আর যদি তুমি আমার থেকে কোন প্রকার মুর্থের ন্যায় আক্রমণ দেখ,
তাহলে মনে রাখবে এ ধরনের সব কাজেরই কর্তা আমি ৷ কাজেই, আমার থেকে যা কিছু
সংঘটিত হয় তার তুমি পুনরাবৃত্তি করো না ৷ যদি করে থাক, তবে এখন তা বন্ধ করে দাও ৷
সেই কাজের প্রতিক্রিয়া ভুমি একদিন জানতে পারবে ৷ হাজ্জাজ যখন এ পত্রটি পড়ল তখন

পত্রোত্তরে বলল, আল্লাহর প্রুণং সার পর সমাচার এই যে, আমার কাছে তা মীরুল মু ’মিনীনের
একটি পত্র পৌছেছে ৷ যেই পত্রে সম্পদ ব্যয়ে ও রক্তপাতে আমার অতিরিক্ত করার অভিযোগ

€০া৷া

পৃষ্ঠা ২১০ ঠিক করুন


আনা হয়েছে ৷ আল্লাহর শপথ ! আমি কোন অপরাধীর শাস্তি প্রদানে মাত্রাতিরিক্ত করিনি এবং
অনুগতদের অধিকারও ক্ষুগ্ন করিনি ৷ আমি যা করছি আমীরুল মু’মিনীন যদি তা সীমা লংঘন
মনে করেন তাহলে তিনি যেন আমার জন্যে একটি সীমা নির্ধারণ করে দেন ৷ আমি সেই সীমা
পর্যন্ত পৌছব এবং তা অতিক্রম করব না ৷ হাজ্জাজ পত্রের নিচেরাংশে নিম্ন বর্ণিত কয়েক লাইন
কবিতা সংযোজন করে ৷ যদি আমি তোমার সন্তুষ্টি অম্বেষণ না করি এবং তোমাকে কষ্ট দেওয়া
থেকে বিরত থাকি, তাহলে আমার সেই দিনের তারকাগুলো অস্ত যাবে না (অর্থাৎ আমি শান্তি
পাব না) ৷ তোমার ব্যাপারে হাজ্জাজ যদি কোন ভুল করে ফেলে, তাহলে সকাল বেলাই তার
মধ্যে যে ভুলের প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় ৷ কোন নম্রতা প্রদর্শনকারীর সাথে যদি তুমি সন্ধি কর,
তাহলে আমিও তার সাথে সন্ধি করি ৷ আর যদি তুমি তার সাথে সন্ধি না কর, তাহলে আমি
তার বিরুদ্ধে যুদ্ধে নিয়োজিত ৷ যদি আমি কোন মোহরবান লোকের নসীহত শুনার জন্যে তার
নিকটবর্তী না হই ৷ আর তার শত্রুরা আমাকে বা পরামর্শ দেয় সে অনুযায়ী কাজ করি, তাহলে
কে আছে বর্তমানে আমাকে রক্ষা করবে ? আর ভবিষ্যতে আমার সামনে যেসব বিপদ-আপদ
আসবে তা কেটে যাওয়ার আশা করবে ৷ বিস্ময়কর ঘটনাবলীর আধার হলো মহাকাল ৷

ইমাম শাফিঈ (র) হতে বর্ণিত ৷ তিনি বলেন, একদিন আল-ওয়ালীদ ইবন আবদুল
মালিক পায় ইবন রাবীআকে বলেন, সে যেন হাজ্জাজকে হাজ্জাজ ও আল-ওয়ালীদের মধ্যে যে
সম্পর্ক, তা নিয়ে জিজ্ঞাসা করে, সে কি দুনিয়ার কোন উল্লেখযোগ্য সম্পদ পেয়েছে বলে মনে
করে ? কাজেই তাকে তিনি তার আদেশ মুতাবিক জিজ্ঞাসা করেন ৷ হাজ্জাজ তখন বলল,
আল্লাহর শপথ, আমার কর্তৃপক্ষের আনুগত্যের ব্যাপারে আমাকে পরীক্ষা করার বদলে লেবানন
অথবা সাইবেরিয়ার সমপরিমাণশ্ স্বর্ণ যদি আমার হাতে আসে যা আমি আল্লাহর রাস্তায় খরচ
করব তা আমার কাছে অধিক প্রিয় নয় ৷ আল্লাহ অধিক পরিজ্ঞাত ৷

পরািচ্ছদ

যে সব হিতসাধনকারী কথাবার্তা এবং দৃসােহসিক পদক্ষেপ তার থেকে
বর্ণিত রয়েছে

ইমাম আবু দাউদ (র) বলেন, মুহাম্মদ ইবনুল আলা আবু বাকরের মাধ্যমে আসিম হতে
বর্ণান করেন ৷ তিনি বলেন, একদিন আমি হাজ্জাজকে মিম্বরের উপর বলতে শুনেছি ৷ সে বলে,
যতদুর সম্ভব আল্লাহ্কে ভয় কর ৷ এর মধ্যে কোন দ্বিধাদ্বন্দু নেই ৷ শুন এবং আমীরম্স মু’মিনীন
আবদুল মালিকের আনুগত্য কর ৷ এর মধ্যে কোন দ্বিধা-দ্বন্দু নেই ৷ আল্লাহর শপথ, যদি আমি
লোকজনকে মসজিদের এ দরযা দিয়ে বের হতে হুকুম করি, আর তারা অন্য দরযা দিয়ে বের
হলো, তাহলে তাদের রক্ত ও মান আমার জন্যে হালাল হয়ে গেল ৷ আল্লাহর শপথ! যদি আমি
মুযার গোত্রের বিরুদ্ধে রাবীআ গোত্রকে পাকড়াও করি, তাহলে এটাও আমার জন্যে আল্লাহর
তরফ থেকে হালাল হয়ে যাবে ৷ আবদে হুযায়লের কোন ওযর আমার কাছে গ্রহণীয় নয় ৷
কেননা, তার কাছে মওজুদ কুরআনটি আল্লাহর তরফ থেকে এসেছে বলে যে মনে করে ৷
আল্লাহর শপথ, এটা আরবদের রচিত কবিতাসমুহের অংশ বিশেষ ৷ আল্লাহ তাআলা তার
নবীর উপর এটা অবতীর্ণ করেননি ৷ এ দ্বিপ্রহরের তীব্র গরমের অজুহাত আমার কাছে গ্রহণীয়
নয় ৷ এরুপ মতবাদের অনুসারীরা মনে করেন তাদের একজনকে পাথর দ্বারা নিক্ষেপ করা হবে,
তখন সে আমাকে বলবে, যদি পাথর পতিত হয় তাহলে কোন একটি বড় ঘটনা ঘটবে ৷



Execution time: 0.05 render + 0.01 s transfer.