Login | Register

আল বিদায়া ওয়ান্নিহায়া - খন্ড ৯

পৃষ্ঠা ১৬৪ ঠিক করুন


ইবন খাল্লিকান বলেন : সাঈদ ইবন জুবায়র ইবন হিশাম আল-আসাদী একজ্যা বিদ্বান
তাবিঈ, কুফাবাসী ও বনু ওয়ালিবার মিত্র ছিলেন ৷ তার শরীরের রং ছিল কালো ৷ তিনি
ফাতওয়া লিখতেন না ৷ কািহু ইবন আব্বাস (রা) যখন অন্ধ হয়ে গেলেন, তখন তিনি ফাতওয়া
লিখতে লাপলেন ৷ এতে ইবন আব্বাস (রা) রাপাৰিত হলেন ৷ তারপর ইবন খাল্লিকান তার
হত্যাকাণ্ডের ঘটনা পুর্ববৎ উল্লেখ করেন ৷ তিনি আরো উল্লেখ করেন, সাঈদের হত্যাকাণ্ডটি
শা রান মাসে সংঘ ঘটিত হয়েছিল ৷ আর হাজ্জাজ তার পরে রমাযান সালে মারা যান ৷ কেউ কেউ
বলেন, ছয় মাস পরে মারা যান ৷ ইমাম আহমদ (র) হতে বর্ণিত রয়েছে, তিনি বলেন, সাঈদ
ইবন জুবায়র যখন শহীদ হন, তখন মহান আল্লাহর যমীনে তার জ্ঞানের মুখাপেক্ষী ছিলেন
সকলে ৷ কথিত আছে যে, তার পরে হাজ্জাজ আর কারো উপর বুলুম করতে পারেনি ৷ ইবন
জারীর (র) বলেন, এ বছরকে ফকীহগণের বহ্ব বলে অভিহিত করা হয় ৷ কেননা, এ বছরেই
পবিত্র মদীনায় সাধারণ ফকীহগণ ইনৃতিকাল করেন ৷ এ বছরের প্রথম দিকে আলী ইবন আল-
হুসায়ন ইবন যায়নুল আবিদীন ইন্তিকাল করেন ৷ তারপর উরওরাহ ইবন আয-যুবায়র
ইনৃতিকাল করেন ৷ তারপর সাঈদ ইবনুল মুসাব্যিব ৷ এরপর আবু বাক্য আবদুর রহমান,
ইবনুল হারিছ ইবন হিশাম ৷ পবিত্র মক্কাবাসিগণের মধ্য হতে সাঈদ ইবন জুবায়র শহীদ হন ৷
এসব মনীষীর জীবনী আত তাকমীল নামক কিভাবে উল্লেখ করা হয়েছে ৷
ইবন জারীর (র) বলেন, এ বছরেই আল ওয়ালীদ ইবন আবদুল মালিক সিরিয়ার
সুলায়মান ইবন সুরাদাকে কাষী নিযুক্ত করেন ৷ এ বছরেই আল-আব্বাস ইবন আল ওয়ালীদ
লোকজনকে নিয়ে হজ্জ আদায় করেন ৷ কেউ কেউ বলেন, মাসলামাহ ইবন আবদুল মালিক
লোকজ্যাকে নিয়ে হজ্জ আদায় করেন ৷ পবিত্র মক্কার নায়েব ছিলেন খালিদ আল-কাছরী ৷ পবিত্র
মদীনার নাইব ছিলেন উছমান ইবন হায়্যান, পুর্ণ পুর্বাঞ্চলের নায়েব ছিলেন আল-হাজ্জাজ ইবন
ইউসুফ আর খুরাসানের আমীর ছিলেন কুতায়বা ইবন মুসলিম ৷ হলোঃ পক্ষ থেকে কুফার
নায়েব ছিলেন যিয়াদ ইবন জারীর, তথাকার কাষী ছিলেন আবু বাকৱ ইবন আবু মুসা ৷ আর
হাজ্জাজের পক্ষ থেকে বসরার নায়েব ছিলেন আ,ল-জাযাহ ইবন আবদুল্লাহ আল-হাকামী ৷
তথাকার কাষী ছিলেন আবদুল্লাহ ইবন আযীনাহ্ ৷ র্মহান আল্লাহ অধিক পরিজ্ঞাত ৷

যেসব ব্যক্তিত্ব এ বছর ইনতিকাল করেন

সাঈদ ইবন জুবায়র

তার পুর্ণ নাম আবু মুহাম্মদ সাঈদ ইবন জুবায়র আল আসাদী আলওয়ালিবী আল-কুফী
আল-মাকী ৷ কেউ কেউ বলেন, তার কুনিয়ত আবু আবদুল্লাহ ৷ তিনি আবল্লোহ্ ইবন আব্বাস
(রা) এর প্রবীণ সাথীদের অন্যতম ৷ তিনি তাফসীর, ফিকাহ ও অন্যান্য শাস্থের ইমাম্গণের
অন্যতম ছিলেন ৷ তিনি অধিক শুন্াৰু আমল করতেন ৷ মহান আল্লাহ তার প্রতি ৩রহম করুন ৷
তিনি সাহাবায়ে কিরামের অনেককে দেখেছেন এবং বিরাট একটি দল থেকে হাদীস বর্ণনা
করেছেন ৷ আর তার থােক তারিঈগণেব অনেকেই হাদীস বর্ণনা কারন ৷ কথিত আছে যে,
তিনি মাগরিব ও ইশম্মে সালাতের মধ্যবর্তী সালাতে পুর্ণ কুরআন খতম করতেন ৷ তিনি ক৷ বা
শরীফে বসতেন এবং সেখানে কুরআন খতম করতেন ৷ অনেক সময় তিনি কা “বা শরীফের
ভিতরে এক :fl$<fiflfi: কুরআন খতম করতেন ৷ তার থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি কা বা
শরীফে একরাতে সালাতে আড়ইিবার কুরআন খতম করতেন ৷


পৃষ্ঠা ১৬৫ ঠিক করুন

সুফিয়ান আছ-সাওরী আমর ইবন মায়মুনের মাধ্যমে তার পিতা হতে বর্ণনা করেন ৷
তিনি বলেন, সাঈদ ইবন জুবায়র ইনৃতিকাল করেন ৷ আর মহান আল্লাহ্র যমীনে এমন কোন
ব্যক্তি ছিলেন না যিনি তার জ্ঞানের মুখাপেক্ষী ছিলেন না ৷ তিনি ঐসব লোকের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন
যারা ইবনুল আশআছের সাথে হাজ্জাজের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছিলেন ৷ যখন হাজ্জাজ
সফলকাম হয়, তখন সাঈদ ইস্পাহানে পালিয়ে যান ৷ তারপর তিনি প্রতি বছর পবিত্র মক্কায়
দুই বার গমন করেন ৷ একবার উমরার জন্য, অন্য একবার হাজ্জর জন্য ৷ কোন কোন সময়
তিনি কুফায় প্ররেশষ্করাতন এবং সেখানে হাদীস বর্ণনা করতেন ৷ তিনি খুরাসানে কোন হাদীস
বর্ণনা করতেন না ৷ কেননা, সেখানে কোন ব্যক্তি জ্ঞান সম্বন্ধে তাকে কোন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা
করতেন না ৷ তিনি বলতেন, আমাকে যে বন্তুটি চিস্তিত করে তুলছে তা হলো আমার জ্ঞান ৷
আমি চাই মানুষ আমার নিকট থেকে জ্ঞান আহরণ করুক ৷ তিনি হাজ্জাজ থেকে লুকিয়ে
জীবনের প্রায় বারটি বছর অতিবাহিত করেন ৷ তারপর তাকে খালিদ আল্-কাছরী পবিত্র মক্কা
হতে হাজ্জাজের কাছে প্রেরণ করেন ৷ এরপর তাদের মধ্যে যে কখোপকথন্ হয় তা পুর্বে বর্ণনা
করাহয়েছে ৷ ন্ ন্শ্ ন্ ন্ ন্
আবু নুয়ায়ম আল-হুল্ইয়াহ্ নামক, তার কিভাবে বলেন, আবু হামিদ ইবন জিবিল্লাহ্
সালিম ইবন আবু হাফসা হতে বর্ণনা করেন ৷ তিনি বলেন, সাঈদ ইবন জুবায়রকে যখন
হাজ্জাজের কাছে আনয়ন করা হলো, তখন হাজ্জাজ তাকে ঠাট্টা-বিদ্ধপ করে বলে, তুমি সাঈদ
ইবন জুবায়র না হয়ে তুমি আশন্শ্া৷কী ইবন কুসায়র ৷ ” তিনি বললেন, না আমি সাঈদ ইবন
জুবায়র ৷ হাজ্জাজ বলল, তোমাকে আমি অবশ্যই হত্যা করব ৷ সাঈদ বলেন, তাহলে আমি
তখন সাঈদ বা সৌভাগ্যবান হবো ৷ যেমন আমার মাতা আমার নাম ব্লেখেছিলেন ৷ হাজ্জাজ
বলল, তৃমি দৃর্ভাগা এবং তোমার মাও দৃর্ভাগা ৷ সাঈদ বলেন, এটা সিদ্ধান্ত দেওয়ার ক্ষমতা
তোমার যেই ৷ তারপর সে বলল, তোমরা তার গর্দান কর্তন কর ৷ তখন সাঈদ বলেন, আমাকে
দুই রাকআত সালাত আদায় করার সময় দাও ৷ হাজ্জাজ বলল, তাকে ন্বৃণ্টানদের কিবলার দিকে

ঘুরিয়ে দাও ৷ তিনি বললেন, ণ্এ৷ ৷ র্দুৰুট্রু ন্ছুট্র ৷ টুপু খু; ট্রুপ্ অর্থাৎ মহান আল্লাহ বলেন, তুমি
যেদিকে মুখ ফিরাবে সেদিকেই মহান আল্লাহ বিরাজমান ৷ সুরায়ে বাকারা আয়াত ও ১১৫ ৷

হাজ্জাজ বলল, আমি তোমার থেকে আশ্রয় চাই, যেমন আশ্রয় চেয়েছিল মারইয়াম ৷ তিনি
বললেন, “মারইয়াম কিসের আশ্রয় চেয়েছিল ? হাজ্জাজ বলল, হযরত মারইয়াম বলেছিলেন,

অর্থাৎ “মারইয়াম বললেন ও ৷

তুমি যদি মহান আল্লাহ্কে ভয় কর, তবে আমি তােমা হতে দয়াময়ের শরণ নিচ্ছি’ সুরায়ে
মারইয়াম ও আয়াত ১৮ ৷

সুফিয়ান বলেন ও এরপরে সে মাত্র একজনকে হত্যা করতে পেয়েছিল ৷ অন্য এক বর্ণনায়
আছে সে তাকে বলেফ্লি “আমি তোমার এ দৃনিয়াকে উস্কে দেওয়া জাহান্নামে পরিণত করব ৷
তিনি বললেন ও আমি যদি এটা তোমার হাতে আছে বলে জানতাম, তাহলে তোমাকে ইলাহ
মনে করতাম ৷ অন্য এক বর্ণনায় আছে, যখন সে তার হত্যার সংকল্প করল, তখন বলল ও

তাকে খ্রিস্টানদের কিবলার দিতে ঘুরিয়ে দাও ৷ তখন তিনি বললেন ও ন্পুট্র :fi;’: দু
ব্লুএে ৷ হ্ট্রু ট্রু অর্থাং তুমি যেদিকে মুখ ফিরাবে সেদিকেই মহান আল্পাহ্ বিরাজমান ৷ সুরায়ে
বাকারা আয়াত নং ১ ১ ৫ ৷ সে বলল ও মাটিতে ফেলে দিয়ে তাকে তুমি সজােরে আঘাত কর ৷

তিনি বললেন ও অর্থাং
“মৃত্তিকা হতে তােমাদেরকে সৃষ্টি করেছি, এটাতেই তােমাদেরকে ফিরিয়ে দিন এবং এটা হতে


পৃষ্ঠা ১৬৬ ঠিক করুন

পুনর্বার ণ্র্চুতাযাদেরকে বের করব ৷” তখন সে বলল, “তাকে যবহ কর ৷” সাঈদ বললেন :

১ শ্ ব্লু শ্

ৰু৷ ণ্,ষ্এ ৷ অর্থাং হে আল্লাহ আমার পরে কারোর উপর তুমি তাকে
শক্তি দিও না ৷

তার হত্যাকাণ্ড সম্বন্ধে অনেক দুর্বল হাদীস রয়েছে তার অধিকাংশ শগুলাে অশুদ্ধ ৷ এরপর
হাজ্জাজকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে এবং তার শা ৷ন্তিকে তুরাম্বিত করা হয়েছে ৷ এরপর সে অল্প
কিছুদিন বেচে ছিল ৷ মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ তাকে পাকড়াও করেন ৷ কেউ কেউ বলেন, যে
তারপর ১৫ দিন জীবিত ছিল ৷ আবার কেউ কেউ বলেন, ৪০ দিন জীবিত ল্পি ৷ আবার কেউ
কেউ বলেন, ছয় মাস জীবিত ছিল ৷ মহান আল্লাহ অধিক পবিজ্ঞা ৷৩ ৷
সাঈদ ইবন জুবায়র (র) শহীদ হন ৷ কিন্তু তার বয়স সম্পর্কে ঐতিহাসিকগণ মতবিরোধ
করেন ৷ কেউ কেউ বলেন তার বয়স ছিল ৪৯ বছর ৷ আবার কেউ কেউ বলেন, তার বয়স ছিল
৫৭ বছর ৷ আবুল কাসিম আল-লালকাঈ বলেন, তার শাহাদতের ঘটনা জ্জি ৯৫ হিজরীতে ৷
আর ইবন জারীর (র) উল্লেখ করেন যে, তার শহীদ হওয়ার ঘটনা ছিল এবছর অর্থাৎ ৯৪
হিজরী ৷ মহান আল্লাহ আইাক পরিজ্ঞাত ৷ ’
আল্লামা ইবন কাহীর (র) বলেন, সাঈদ ইবন জুবায়রের কিছু কথা আমি এখানে পেশ
, করছি ৷ তিনি বলতেন, উত্তম ভয় হলো মহান আল্লাহ্কে তুমি এমনভাবেও ভয় করবে, যে ভয়
তোমার ও তোমার গুনাহের মধ্যে অত্তরায় সৃষ্টি করে এবং তোমাকে মহান আল্লাহর ইবাদতে
উৎসাহিত করে ৷ আর এই ভয়ই হলো কল্যাণকর ৷ মহান আল্লাহর যিকিং হলো মহান আল্লাহর
ইবাদত ৷ যে মহান আল্লাহর ইবাদত করল যে তার যিকির করল ; আর যে তার ইবাদত করল
না, সে তার যিকিরও করল না যদিও সে বেশী বেশী করে তাসৰীহ ও কুরআন তিলাওয়াত
করে ৷ একদিন তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো কোন ব্যক্তি সবচেয়ে বেশী ইবাদতগুযার ? তিনি
জবাবে বলেন, যে ব্যক্তি গুনাহ হতে বিরত থাকে ৷ যখনই কোন ব্যক্তি তার গুনাহ স্মরণ করে
সে তখন তার আমলকে নপণ্য মনে করে ৷ হাজ্জাজ তাকে বলেছিল, তোমার জন্য দুর্ভাগ্য,
তখন তিনি বলেছিলেন, দুর্ভাগ্য ঐ ব্যক্তির জন্য যে জান্নাত হতে দুরে থাকে এবং জাহান্নামে
প্রবেশ করে ৷ সে বলল, তার গর্দান কর্তন কর ৷ তখন তিনি বললেন, নিশ্চয়ই আমি সাক্ষ্য
দিচ্ছি আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ (সা) আল্লাহর রাসুল ৷ হে আল্লাহ ! আমি
তোমার কাছে কিয়ামতের দিন জাহান্নাম থেকে পবিত্রাণ চাই ৷ হে হাজ্জাজ ! মহান আল্লাহর
দরবারে আমি তোমার প্রতিদ্বম্বী হব ৷ তারপর সে তাকে গর্দান দিয়ে যবাহ করল ৷ এ সংবাদ
হাসানের (রা) কাছে পৌছার পর তিনি বলেন, হে আল্লাহ হে পরাক্রমশালীদের চুর্ণশ্
বিচুর্ণকারী! হাজ্জাজকে তুমি চুর্ণ ৰিচুর্ণ করে দাও ৷ এরপর হাজ্জাজ মাত্র তিন দিন জীবিত
ছিল ৷ তার পেটে কিড়া জন্ম নেয় ৷ দুর্গান্ধর সৃষ্টি হয় এবং এভাবে সে মৃত্যুমুখে পতিত হয় ৷
হাজ্জাজ যখন সাঈদের হত্যার হুকুম দেয়, তখন সাঈদ হাসি দেয় ৷ হাজ্জাজ বলল, তুমি হাসছ
কেন ? সাঈদ বললেনং “আমার প্ৰতি তোমার হিৎসা এবং তোমার প্ৰতি ৩আল্লাহ্র ধৈর্য দেখে
হাস্ছি ৷” বাংলায় ইসলামিক বই ডাউনালাড করতে তিজিট করুণঃ ইসলামি বই ডট ওয়ার্ডপ্রেস ডট

সাঈদ ইৰ্নুল মৃসাব্যিব
তার পুর্ণ নাম , আবু মুহাম্মদ সাঈদ ইবনুল মুসারািব ইবন হাযান ইবন আবু ওয়াহব ইবন
আইন ইবন ইমরান ইবন মাখবুম আল-কারশী আল-মুদনিফ ৷ সাধারণত তিনি তাবিঈগণের



Execution time: 0.02 render + 0.00 s transfer.