Login | Register

আল বিদায়া ওয়ান্নিহায়া - খন্ড ৯

পৃষ্ঠা ১৬১ ঠিক করুন


তা পালন করার জন্য সে আমাকে আদেশ করত ৷ আর যে বস্তুটি আমাকে মহান আল্লাহ থেকে
দুরে সরিয়ে দেরে তা থেকে সে আমাকে নিষেধ করত ৷ আমাকে সে আবদুল্লাহ্ ইবনইবাদ
আতশ্তামীমীর অনুসরণ করতে কখনও আহ্বান করেনি এবং এ ব্যাপারে আমাকে আদেশও
করেনি ৷ সে আমাকে হুকুম দিত যে, কোথায় আমি আমার মাথায় ওড়ন৷ রাখব এ কথা বলে
যে নিজের কপালে হাত রাখল ৷ তিনি এক জামাআত সাহাবী থেকে হাদীস বর্ণনা করেন ৷ তার
অধিকাংশ ংহাদীসই আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রা) ও আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রা) হতে বর্ণিত ৷

৯৪ হিজরীর আগমন

এ বছরেই আল-আব্বাস ইবন আল-ওয়ালীদ রোম ভুখণ্ডে যুদ্ধ করেন ৷ কেউ কেউ বলেন,
তিনি ইনতাকীয়া জয় করেন ৷ তার ভাই আবদুল আযীয ইবন আল ওয়ালীদও যুদ্ধ করেন এবং
জয় করতে করতে গাযালাহ পর্বত পৌছে যান ৷ অন্যদিকে আল ওয়ালীদ ইবন হিশাম আল
মুআয়ভী বুরজুলু-হামাম ভুখণ্ড পর্যন্ত পৌছেন ৷ ইয়াযীদ ইবন আবু কাবশাহ সিরিয়া ভুখণ্ড পর্যন্ত
পৌছেন ৷ এ বছরেই লিবিয়ার রাজফাহ বিজয় হয় ৷ এ বছরেই মাসলামাহ ইবন আবদুল মালিক
রোম ভুখণ্ডের সান্দারাহ জয় করেন ৷ আর এ বছরেই আল্লাহ তা আলা আল-ওয়ালীদ ইবন
আবদুল মালিকের আমলে তার আওলাদ ও আত্মীয়-স্বজ্যা এবং আমীরদের মাধ্যমে ইসলামে
অনেক বড় বড় বিজয় দান করেন ৷ এমনকি ইসলামী জিহাদ হযরত উমর ইবনুল খাত্তাবের
যুগের নমুনা ধারণ করেছিল ৷

এ বছরেই মুহাম্মদ ইবন আল-কাসিম ছাকাফী হিন্ভােনেৱ ভুখণ্ড জয় করেন এবং অসীম ও
অবর্ণনীয় সম্পদ গনীমত হিসেবে অর্জন করেন ৷ হিন্দুস্তান বিজয় সম্পর্কে হাদীস এসেছে যা
আল-হাফিয ইবন আসাকির ও অন্যান্যগণ বর্ণনা করেছেন ৷ ৰু

এ বছরেই কুতায়ৰা ইবন মুসলিম আশ-শাশ ও ফারগানাতে যুদ্ধ করে ফারগানাহ-এর
দুটো শহর খৃজান্দাহ ও কাশানপৌছেন ৷ আর এটা সম্ভব হয়েছিল সুগদ ও সমরকন্দ বিজয়
থেকে অবসর গ্রহণ বলার পর ৷ তারপর তিনি এসব শহরে বিজয় অব্যাহত রেখে কাবুল পর্যন্ত
পৌছেন ৷ এরপর কাবুলকে অবরোধ করেন ও জয় করেন ৷ তুর্কী মুশরিকরা বিরাট বিরাট দলে
তার মুকাবিলা করে ৷ কুতায়বা খুজান্দাহর কাছে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন ও কয়েকবার
তাদেরকে পরাস্ত করেন এবং পরে সকলকাম হন, শত্রুদের থেকে শহর ছিনিয়ে নেন তাদের
অনেককে হত্যা করেন আনককে বন্দী করেন ও প্রচুর সম্পদ গনীমত হিসেবে অর্জন করেন ৷
ইবন জারীর (র) বলেনল্প চীনের নিবল্টবতী এলাকা খুজ্যন্দাহে অনুষ্ঠিত যুদ্ধের বর্ণনা দিতে
গিয়ে সাহবান ওয়াইল নিম্নবর্ণিত কবিতাগুলো আবৃত্তি করেন

হে আমার সাথী ! অশ্বারোহীদেরাক ধারালে৷ তীর সহকারে তীর ণ্কাষমুক্ত করার জন্যে
খুজান্দাহ প্রেরণ কর ৷ যখন শত্রুদল পরাজিত হবে, তখন কি আমি তাদেরকে একত্রিত করব ও
যুদ্ধে উপস্থাপন করব, না সীমালৎয়নকারীর মাথায় সজােরে প্ৰহার করব ও যোদ্ধাদের জন্যে
অপেক্ষা করব ৷ তুমি তো বনু কায়সের সকলকে প্রচুর গনীমতের সৃসৎ বাদ দিচ্ছ, আমি
কায়সকে মজলিসে ইষ্যত প্রদান করেছি ৷ যেমন তোমার পিতা অতীত দিনগুলােতে ইয্যত
দিয়েছিল ৷ তোমাদের সম্মান ও মর্যাদা পরিপুর্ণতায় পৌছেছে ৷ তোমাদের মান-মর্ষাদা পাহাড়ের
চুভৃায় প্রেমালাপ করছে ৷ পরাজিতদের মধ্যে প্রতিটি ক্ষেত্রে হে বিজিত তোমার ন্যায়পরায়ণতা
প্রকাশ পাছে’ ৷


গ্

পৃষ্ঠা ১৬২ ঠিক করুন

বর্তমান যুদ্ধে এরুপে ইবন জারীর (র) সাহবান ওয়ইিলেয় এ কবিতাগুলো উল্লেখ
করেছেন ৷ ইবনুল জাওযী তার ক ব্যে উল্লেখ করেছেন যে, সাহবা ন ওয়াইল পঞ্চাশ ইিজরীর পর
যুআবিয়া ইবন আবু সুফিয়াংনর খিলাফত আমলে মৃত্যুমুখে পতিত হন ৷ মহান আল্লাহ অধিক
পরিজ্ঞাত ৷

সাঈদ ইবন জুবায়র (র) এর হত্যাকাণ্ড

ইবন জারীর (র) বলেন৪ এ বছরেই হাজ্জাজ ইবন ইউসুফ, সাঈদ ইবন জুবায়য় (র) কে
হত্যা করে ৷ তার কারণ ছিল নিম্নরুপং : তৃকীরি বাদশাহ্ রুতবীলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য
হাজ্জাজ ইবনুল আশ-আছেয় সাথে সাঈদকে সেনাবাহিনীর ব্যয়ের পরিচালক নিযুক্ত করে
যুদ্ধক্ষেত্রে প্রেরণ করেছিল ৷ ইবনুল আশআছ যখন হাজ্জাজকে প্রত্যাখ্যান করে সাঈদ ইবন
জুবায়য়ও তাকে প্রত্যাখ্যান করে ৷ হাজ্জাজ যখন ইবনুল আশআছ ও তার সাথীদের বিরুদ্ধে
জয়লাভ করে তখন সাঈদ ইবন জুবায়র ইস্পাহানে আত্মগোপন করেন ৷ হাজ্জাজ ইস্পাহানের
নায়েবেয় কাছে পত্র লিখল যেন সাঈদ ইবন জুবায়রকে তার কাছে প্রেরণ করা হয় ৷ সাঈদ যখন
এ কথা শুনলেন, তখন তিনি সেখান থেকে পালিয়ে যান ৷ তবে৩ তিনি প্রতি ৩বছর হজ্জ ও উমর!
পালন করতেন ৷ তারপর তিনি পবিত্র মক্কায় আশ্রয় নেন ৷ খালিদ ইবন আবদুল্লাহ আলকাছরী
আমীর হওয়া পর্যন্ত সাঈদ সেখানে অবস্থান করেন ৷ জনৈক ব্যক্তি সাঈদকে সেখান থেকে
পলায়ন করার জন্যে পরামর্শ দিলেন ৷ সাঈদ তখন বললেন, আল্লাহ্র শপথ, আমি পলায়ন
করার ব্যাপারে মহান আল্লাহর কাছে লজ্জাবােধ করছি ৷ তার তাকদীয় থেকে পলায়ন করার
জায়গা কি কােথায়ও আছে ? উমর ইবন আবদুল আযীষের পরিবর্তে উছমান ইবন হায়্যান
পবিত্র মদীনায় আমীর ন্ নিযুক্ত হলো ৷ ইরাকের ইবনুল আশআছের সঙ্গী যায়৷ পবিত্র মদীনায়
ছিল তাদেরকে শিকলবন্দ করে হাজ্জাজের কাছে প্রেরণ করা হলো ৷ সাঈদ সম্বন্ধে খালিদ ইবন
আল-ওয়ালীদ আল-কাছরী অবগত হন ৷ এরপর সে পবিত্র মক্কা থেকে সাঈদ ইবন জুবায়র,
আত৷ ইবন আবু রাবাহ, মুজা হিদ ইবন জবর, আমর ইবন দীনার এবং তালক ইবন হাবীবকে
প্রেরণ করে ৷ কথিত আছে যে, হাজ্জাজ আল-ওয়ালীদেয় কাছে সংবাদ প্রেরণ করল যে , পবিত্র
মক্কায় কিছু বিদ্রোহী লোক রয়েছে এ জন্য খালিদ এগুলোকে হাজ্জাজের কাছে প্রেরণ করল ৷
তারপর সে আতা ও আমর ইবন, দীনারকে ক্ষমা করে দেয় ৷ কেননা, তারা ছিলেন পবিত্র
মক্কাবাসী ৷ বাকী তিনজনকে প্রেরণ করা হলো ৷ তবে তালক হাজ্জাজের কাছে পৌছার পুর্বে
রাস্তায় ইনৃতিকাল করেন ৷ যুজাহিদকে কারাগারে বন্দী রাখা হয় ৷ তিনি হাজ্জাজের মৃত্যু পর্যন্ত
কারাগারে ছিলেন ৷ সাঈদ ইবন জুবায়রকে যখন হাজ্জাজের সামনে দাড় করানো হয়, তখন সে
তাকে রক্ষা : হে সাঈদ আমি কি তোমাকে আমার জানামতে অংশীদার করিনি ? আমি কি
তোমাকে আমীর নিযুক্ত করিনি ? আমি কি তোমাকে এটা করিনি ? আমি কি তে ৷মাকে ঐটা
করিনি ? প্রতিটি ক্ষেত্রে সাঈদ বলেন, হ্যা ৷ তার কাছে যায়৷ উপস্থিত ছিল তারা মনে করল
হয়ত তাকে সে ছেড়ে দিয়ে ৷ এরপর সে তাকে বলল, তাহলে তুমি আমার বিরুদ্ধে সংগ্রাম
করলে কেন ? আমীরলে মুমিনীনের বায়আত প্রত্যাখ্যান করলে কেন ? সাঈদ বললেন,
কেননা, ইবনুল আশআছ একথার উপর আমার থেকে বায়আত নিয়েছিল এবং আমার উপর
আস্থা স্থাপন করেছিল ৷ এ কথায় হাজ্জাজ অত্যন্ত ক্রোধান্বিত হলো ও ফুলে গেল ৷ এমনকি তার
চাদর তার র্কাধ থেকে নীচে পড়ে গেল এবং তাকে বলল : দ্বর্তাগ্য তোমার, আমি কি পবিত্র
মক্কায় আসিনি ? এরপর তুমি ইবনুয় যুবায়রেয় বিরুদ্ধে যুদ্ধ কয়নি ? পবিত্র মক্কাবাসীর থেকে
বায়আত গ্রহণ কয়নি ? আযীরুল মুমিনীন আবদুল মালিকের জন্যে তুমি বায়আত গ্রহণ



Execution time: 0.02 render + 0.00 s transfer.