Login | Register

আল বিদায়া ওয়ান্নিহায়া - খন্ড ৯

পৃষ্ঠা ১৪৬ ঠিক করুন

শর্তের উপর যে, কুতায়বা তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে ও পরাস্ত করে তার ভাইকে তার
কাছে সোপর্দ করবেন ৷ কেননা, সে ইতোমধ্যে দেশে বিশৃৎখলা সৃষ্টি করেছে এবং জনগণের
প্রতি যুলুম ও নির্যাতন করেছে ৷ আর তার ভাইটির জঘন্য অভ্যাস ছিল, যখনই সে শুনত যে,
কারোর কাছে কোন একটি ভাল জিনিস আছে, সেখানে সে লোক প্রেরণ করত এবং তার
থেকে তা ছিনিয়ে নিত, ঐ বস্তুটি সম্পদ হোক কিত্বা মহিলা হোক কিৎবা ছোল-মেয়ে হোক
কিংবা চতুষ্পদ ত্তস্থে হোক কিংবা অন্য কিছু হোক ৷ কুতায়বা তার সাহায্য করার জহ্বন্য এগিয়ে
আসলেন এবং আল্লাহ তাআলা তাকে বিজয় দান করলেন ৷ তখন খাওয়ারিযম শাহ যেসব
জিনিসের শর্তে সন্ধি করেছিলেন তার সব কিছুই কুতায়বার কাছে সমর্পণ করেন ৷ কুতায়বাহ্
খাওয়ারিযম শাহের ভাইয়ের শহভৈর সৈন্য প্রেরণ করেন ৷ তারা শত্রুদের বহু লোককে হত্যা
করে, তার ভাইকে বন্দী করে যার সাথে ছিল চার হাজার প্রবীণ বন্দী এবং তাকে তার ভইিয়ের
কাছে সোপর্দ করে ৷ তুর্কী ও অন্যান্য দুশমনদেরকে ভীতসন্ত্রস্ত করার জন্যে কুতায়বা বন্দীদের
সম্পর্কে আদেশ দিলেন যে, তাদেরকে হত্যা করা হোক : তার সামনে দুই হাজার, ডানে দুই
হাজার, বামে দুই হাজার এবং পিছনের দিক দিয়ে দুই হাজারকে যেন হত্যা করা হয় ৷ আর
তইি করা হলো ৷

সমরকন্দ বিজয়

উপরোক্ত কার্যকলাপ থেকে কুতায়বা যখন অবসর গ্রহণ করেন, তখন তিনি তার দেশে
ফিরে যাওয়ার মনস্থু করেন ৷ তখন তাকে একজন আমীর বললেন, সুপদেৱ বাসিন্দারা
আপনাকে শুধু এ এক বছরের জন্যেই নিরাপত্তা দিয়েছে ৷ এখন যদি আপনি তাচদ্যা দিকে
অগ্রসর হতে চান এ অবস্থায় যে, তারা তা জানে না তাহলে এখনই সময়ং৷ আপনি যদি তা
করেন তাহলে চিরদিনের জন্য আপনি তা নিয়ে নিতে পারেন ৷ কুতায়বা তখন এ আমীরাক
বললেন, তুমি কি একথাটি কাউকে বলেছ ? সে বলল, না’ ৷ কুতায়বা বললেন, যদি একথাটি
কেউ তোমার থেকে শুনে থাকে, তাহলে আমি তোমাকে হত্যা করব ৷ তারপর কুতইিৰা তার
ভইি আবদুর রহমান, ইবন মুসলিমকে ২০ (বিশ) হাজার সৈন্য সহ সামনের দিকে প্রেরণ
করেন ৷ তার তাই তার পুর্বেই সমরকন্দ পৌছে ৷ অবশ্য কুতায়বা বাকী সৈন্যদ্যোকে নিয়ে তার
সাথে মিলিত হন ৷ ভুর্কীরা যখন তাদের দিকে মুসলমানদের আগমনের কথা শুনল, তখন তারা
তাদের সাহসী বাদশাহ্ ও আমীরদের সম্ভানদেরকে তাদের মধ্য থেকে নির্বাচন করলেন এবং
তাদেরকে আদেশ করলেন যেন তারা রাতের অন্ধকারে কুতায়বার দিকে অগ্রসর হন ৷ এবং
মুসলিম সৈন্যদের ছিন্নভিন্ন করে দেন ৷ তাদের এ দুরভিসন্ধির সংবাদ যখন কুতায়বার কাছে
পৌছে তখন তিনি তার ভাই সালিহ্কে ছয়শত সাহসী অশ্বারোহী সৈন্য সহকারে প্রেরণ করেন
এবং নির্দেশ দেন যে, “তাদেরকে রাস্তায় পাকড়াও কর ৷ ” তখন তারা অগ্রসর হলো এবং তারা
রাস্তার মধ্যে দাড়িয়ে গেল ৷ আর তারা নিজেদেরকে তিনটি ভাগে বিভক্ত করল ৷ তখন শত্রু
সৈন্যরা রাতের অন্ধকারে তাদেরকে অতিক্রম করতে যাচ্ছিল, তারা মুসলিম সৈন্যদের উপস্থিতি
সম্বন্ধে পুরাপুরি অজ্ঞ ছিল, তখনই মুসলিম সৈন্যরা তাদের উপর হামলা চালাল ও তাদেরকে
হত্যা করল ৷ মাত্র কিছু সংখ্যক তুর্কী সৈন্য বাকী রইল এবং তারা নিহত সৈন্যদের মাথা কেটে
নিল ও তাদের সাথে সোনা দিয়ে মােড়ানাে যে সব হাতিয়ার ছিল এবং আসবাবপত্র ছিল তারা
সবকিছু গনীমত হিসেবে লাভ করল ৷ তাদের কেউ কেউ তাদেরকে বলল, তোমরা জেনে
রেখো, এ জায়গায় তোমরা যাদেরকে হত্যা করেছ তারা সকলেই রাজপুত এবং হাতে গোনা
সাহসী একশত কিংবা এক হাজার অশ্বারোহী সৈন্য ৷ তখন কুতায়বা শত্রু সৈন্যদের থেকে প্রাপ্ত
সমুদয় স্বর্ণও অক্কুদ্বশস্ত্র গনীমত হিসেবে মুসলিম সেনাদেরকে অর্পণ করেন এবং সুগদের বড় শহর
সমরকন্দের নিকটবর্তী হলেন ৷ সেখানে পাথর নিক্ষেপণ যন্ত্র স্থাপন করেন এবং প্রস্তর নিক্ষেপ


পৃষ্ঠা ১৪৭ ঠিক করুন

শুরু করেন ৷ অন্যদিকে তিনি তাদের সাথে সৈন্য যুদ্ধ চালিয়ে যান ৷ তার সাথে জ্যি বুখাৱা ও
খারষিমের দোতাষীরাও ৷ মুসলিম সৈন্যরা সুগদের বাসিন্দাদের সাথে প্রচণ্ড যুদ্ধ করেন ৷ সুগদের
শাসক পাওরাক কুতায়বার কাছে দোভাষী প্রেরণ করেন এবং বলেন “তোমরা আমাদের ভাই
ও পরিবার সদস্যদের মাধ্যমে আমাংদর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছ ৷ সাহস থাকলে শুধু আরবরা
আমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কঃ ৷ ” একথা শুনে কুতায়বা রাগাষিত হলেন এবং সেনাবাহিনীর আরব
ও অনারবদেয়কে পার্থক্য করলেন ৷ আর আরব বাহাদুরদেরকে অগ্রসর হতে বললেন এবং
তাদেরকে সর্বোত্তম হাতিয়ার অর্পণ করেন৷ আর দুর্বলদের থেকে হাতিয়ার নিয়ে নিলেন ৷
বাহাদুরদেরকে শহরের উপর হামলা করতে বললেন ৷ তাই তারা পাথর নিক্ষেপক যন্ত্র দ্বারা
পাথর নিক্ষেপ করতে লাগলেন ৷ শহরে ক্ষতের সৃষ্টি হলো এবং তুর্কীদের গর্বের ফলে শহর
ধ্বংস হতে লাগল ৷ তাদের একজন রাজ প্রাসাদের ছাদে দাড়িয়ে কুতায়বাকে পালি দিতে
লাগল ৷ এমন সময় একজন মুসলিম তীরন্দায সৈন্য তার দিকে তীর নিক্ষেপ করে তার চোখ
নষ্ট করে দেয় এবং তীর তার গদনি ছিদ্র করে অপরদিকে বের হয়ে যায় ৷ তৎক্ষণাৎ সে মৃত্যুর
কোলে ঢলে পড়ে যায় ৷ তীর নিক্ষেপকারীকে কুতায়বা দশ হাজার মুদ্রা উপচৌকন প্রদান
করেন ৷ তারপর রাত নেমে এল যুদ্ধ বন্ধ রইল ৷ যখন ভোর হলো, তখন পাথর নিক্ষেপণ যন্ত্র
দ্বারা পাথর নিক্ষেপ শুরু হল ৷ শহর ঝাঝরা হয়ে গেল ৷ মুসলমানগণ রাজ-প্রাসাদের ছাদে
উঠলেন এবং শহ্রবড়াসীদের উপর তীর নিক্ষেপের মনস্থ করলেন ৷ তৃর্কীরা তখন কুতায়বাকে
বললেন, আজকের দিন তোমরা আমাদের থেকে বিরত থাক ৷ আগামীকাল আমরা তোমাদের
সাথে সন্ধি করব ৷ কুতায়বা তাদের থেকে বিরত রইলেন এবং পরদিন বাৎসরিক দুই হাজার
কোটি মুদ্রা আদায় সাপেক্ষে সন্ধি স্থাপন করলেন আর এ বছর ত্রিশ হাজাৱ গোলাম অর্থ্যণর
চুক্তি হল ৷ যাদের মধ্যে ছোট, বৃদ্ধ ও কোন প্রকার দোষ-ত্রুটি থাকবে না ৷

অন্য এক বনাির এক লাখ গোলামের কথা উল্লেখ রয়েছে ৷ আরো চুক্তি হল যে,
মুসলমানেরা দেব-দেৰীদের অলংকার ও অগ্নি উপাসনালয়ে অবস্থিত যাবতীয় আসবাব পত্র গ্রহণ
করবে ৷ মুসলমানদের জন্যে শহরকে সৈনিক শুন্য করতে হবে যাতে সেখানে তারা মসজিদ
নির্মাণ করতে পারে ও খুত্বা দেওয়ার জন্যে মিম্বারও তৈয়াৱ করতে পারে ৷ তারা পরদিন
নাস্তাগ্নহণ শেষে শহর থেকে বেরও হতে পারবে ৷ তারা এ শর্তণ্ডালার প্রতি উত্তর করল ৷ শহরে
একটি মসজিদ ও মিম্বার তৈরীর পর কুতায়বা যখন শহরে প্রবেশ করেন, তার সাথে চার
হাজার বীর সেনা সংগী ছিলেন ৷ তিনি মসজিদে সালাত আদায় করেন, খুত্বা দেন ও খাদ্য
গ্রহণ করেন ৷ তাদের মুর্তিগুলাে তার সামনে উপস্থিত করা হল এবং এগুলোকে ন্তুপ দেওয়া
হল ৷ একটি বিরাট গ্রসাদের রুপ ধারণ করল ৷ তারপর তিনি এগুলোকে পুড়িয়ে ফেলার নির্দেশ
দোা ৷ তারা তখন ক্রন্দন ও বিলাপ করতে লাগল ৷ অগ্নিপুজারী বলল, এগুলাের মধ্যে একটি
পুরানো দেবী আছে যে এটাকে পুড়াবে সে ধ্বংস হয়ে যাবে ৷ বাদশাহ পাওরকে এগিয়ে
আসবেন এবং এ কাজ করতে নিষেধ করলেন ৷ আর কুতায়বাকে বললেন, আমি আপনার
শুভাকাত্তফী ৷ আপনি এরুপ কাজ করবেন না ৷ কুতায়বা র্দাড়ালেন ও অগ্নিশিখা হাতে নিলেন
এবং বললেন, “আমার নিজের হাতে এটাকে পুড়াব ৷ তোমরা সকলে মিলে আমার বিরুদ্ধে
ষড়যন্ত্র ক্যা, ণ্তামাৰুদরাক বেশী সময় দেওয়া হবে না ৷ তারপর তিনি এটার কাছে গিয়ে
র্দাড়ালেন এবং আল্লাহ আকবার বললেন ও তার উপর অগ্নিশিখা ফেলে দিলেন ৷ তারপর তা
পুড়ে পেল ৷ তার থেকে যে স্বর্ণ পাওয়া গেল তার ওযন ছিল পঞ্চাশ হাজার মিসকাল ৷


পৃষ্ঠা ১৪৮ ঠিক করুন


বন্দিনীদের মধ্যে তিনি ইরানের শাহ ইয়াযদিগারদের বংশের একজন বাদী পেলেন ৷ তিনি
তাকে হাদিয়৷ স্বরুপ আল-ওয়ালীদের কাছে প্রেরণ করেন ৷ তার গর্ভে জন্ম নেয় ইয়াযীদ ইবন
আল ওয়ালীদ ৷৩ তারপর কুতায়বা সমরকন্দবাসীদের ডাকালন এবং তাদেরকে বললেন, আমি
আপনাদের সাথে যেরুপ সন্ধি করেছি তার থেকে বেশী কিছু চাই না ৷ তবে আমাদের পক্ষ
থেকে আপনাদের মাঝে শান্তি রক্ষার জন্যে একদল সৈন্য থাকবে, শহরের প্রশাসক গাওরাক
খান সেখান থেকে স্থানান্তর হন ৷ তখন কুতায়বা সুরায়ে নাজমের ৫০ ও ৫১ আয়াতদ্বয়

তিলাওয়াত করেন : প্রু৷ অর্থাৎ “আর এই যে,
তিনিই আদ সম্প্রদায়কে ধ্বংস করেছিলেন এবং ছামুদ সম্প্রদায়কেও কাউকেও তিনি বাকী

রাখেননি ৷” এরপর কুতায়বা সেখান থেকে মারভ শহরের দিকে প্রত্যাগমন করেন এবং
সমরকন্দে তার ভাই আবদুল্লাহ ইবন মুসলিমকে প্রতিনিধি নিযুক্ত করে যান ৷ আর তাকে
বলেন, সমরকন্দ শহরের দরজায় মাটি দ্বারা প্রচলিত মােহরকৃত হস্ত ব্যতীত মুশবিকদের
কাউকে তুমি প্রবেশ করার অনুমতি দেবে না ৷ তারপর তাকে মােহরের মাটির আর্দ্রতা শুকাবার
বেশী সময় পর্যন্ত অবস্থান করার অনুমতি দেবে না ৷ আর যদি মাটির আর্দ্রতাৰুশুকিয়ে যায় ও
তুমি তাকে সেখানে দণ্ডায়মান দেখতে পাও তাহলে তাকে সেখানে হত্যা করবে ৷ আর তাদের
মধ্যে যার সাথে তুমি কোন অস্ত্র বা ছুরি দেখতে পারে তাকে সেখানে হত্যা করবে ৷ যখন তুমি
শহরের দরযা বন্ধ করে দেবে এবং সেখানে কাউকে পাবে তাকেও হত্যা করার ৷ এ সম্পর্কে
কাব আল-আশকারী বলেন, আবার কেউ কেউ বলেন, এ কবিতাটি জুফী বংশের কোন এক
ব্যক্তির যা নিম্নরুপ :

“প্রতিদিন কুতায়বা লুটের মাল জমা করছে, সম্পদের সাথে আরো নতুন সম্পদ বৃদ্ধি করে
যাচ্ছে ৷ কোন কোন বাসিন্দাকে সে মুকুট পরিয়েছে ৷ দীর্ঘ প্রতীক্ষার ও ভয়াবহতার কারণে তার
কালো চুলের সিথি সাদা হয়ে গেছে ৷ বিভিন্ন ধরনের সেনাবাহিনী প্রবেশের মাধ্যমে সুগদকে
কুতায়ব৷ লাঞ্ছিত করেছে ৷ এমনকি সুগদকে বস্ত্রহীন অবস্থায় উপবিষ্ট করে হেড়েছে ৷ সন্তান তার
পিতাকে হারিয়ে কাদছে এবং পিতা তার সন্তানের জন্যে ভারাক্রান্ত হৃদয়ে র্কাদছে ৷ যখনই সে
কোন শহরে অবতরণ করছে কিত্বা কোন শহরে আগমন করছে সেই শহরের জীব-জন্তু ও
জানোয়ারকে গভীর গর্ভে নিপতিত করা হচ্ছে ৷

এ বছরেই মরক্কোর নাইব মুসা ইবন নুসায়র তার আযাদকৃত ক্রীতদাস তারিককে
আন্দুলুস থেকে বরখাস্ত করেন ৷ তিনি তাকে তালীতালাহ নামক শহরে প্রেরণ করেছিলেন ৷
তিনি এটাকে জয় করেন এবং সেখানে সুলায়মান ইবন দাউদ (আ)-এর দস্তরখান দেখতে
পান ৷ তার মধ্যে রয়েছে স্বর্ণ, মুক্ত৷ আরো কত কিছু ৷ তিনি এটাকে আল-ওয়ালীদ ইবন
আবদুল মালিকের কাছে প্রেরণ করেন ৷ যখন এ দস্তরখান তার কাছে পৌছে, তখন তিনি মারা প্
যান এবং তার ভাই সুলায়মান ইবন আবদুল মালিক আমীরুল মু’মিনীন মনোনীত হয়েছেন ৷ এ
দস্তরখান সম্বন্ধে পরে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে ৷ এটার মধ্যে এমন এমন জিনিস রয়েছে
যা মানুষকে অবাক করে দেয় ৷ এর চেয়ে চমৎকার দৃশ্য আর কােথায়ও দেখতে পাওয়া যায়

া৷ মুসা ইবন নুসায়র নিজ আযাদকৃত গোলাম তারিক ইবন যিয়াদের পরিবর্তে নিজের ছেলে

আবদুল আযীয ইবন মুসা ইবন নুসায়রকে আমীর নিযুক্ত করেন ৷

এ বছরেই মুসা ইবন নুসায়র মরক্কোর শহরগুলাে তে সৈন্য প্রেরণ করেন ৷ তারা আন্দুলুস
দ্বীপের বহু শহর জয় করে ৷ এগুলোর মধ্যে কর্তোডা ও তানজা অভ্যস্ত প্রসিদ্ধ ৷ তারপর মুসা
নিজেই আন্দুলুসের পশ্চিমপ্রাত্তে অগ্রসর হন এবং বাজাহ শহর ও শুভ্র শহরের ন্যায় অন্যান্য বড়


পৃষ্ঠা ১৪৯ ঠিক করুন


বড় শহর জয় করেন ৷ বহু গ্ৰাম-গঞ্জ ও প্রদেশ জয় করেন ৷ যে কোন শহরে তিনি আসতেন,

জয় করা ব্যতীত ক্ষান্ত হতেন না কিৎবা সেখানের বাসিন্দারা যতক্ষণ না তার সাথে সন্ধি করতে
রাযী হতেন ৷ তিনি পুর্ব, পশ্চিম ও উত্তর দিকে সৈন্য-সামন্ত ও সারিয়াহ্ প্রেরণ করের্ন ৷ তারা

মরক্কোর একটি একটি শহর ও প্রদেশ করে জয় করতে থাকে ৷ গনীমত হিসেবে সম্পদ লাভ

করতে থাকেন, ছেলেম্যেয় ও মহিলাদেরকে বন্দী করতে লাগলেন ৷ মুসা ইবন নুসায়র প্রচুর

পরিমাণ গনীমত, সম্পদ ও অগণিত উপচৌকন নিয়ে প্রত্যাবর্তন করেন ৷

এ বছরেই আফ্রিকাবাসীরা অত্যন্ত অভাব-অনটনে পতিত হয় ৷ মুসা ইবন নুসায়র
তাদেরকে নিয়ে পানির প্রার্থনার জা ন্য ঘর থেকে বের হয়ে পড়েন ৷ দ্বিপ্রহর পর্যন্ত তিনি
লোকজ্যাকে নিয়ে দৃআ করতে থাকেন ৷ যখন তিনি মিম্বার থেকে অবতরণ করতে ইচ্ছে করেন
তখন তাকে বলা হল, আমিরুল মু’মিনীনের জন্যে কি দুআ করবেন না ? তিনি বললেন, এ
জায়গায় আমিরুল মু’মিনীনের জন্যে দুআ করার ক্ষেত্র নয় ৷ যখন তিনি এ কথাটি বললেন,
মহান আল্লাহ্ তাদের উপর বৃষ্টি বর্ষণ করেন, প্রচুর বৃষ্টিপাত হলো ৷ তাদের অবস্থা চমৎকাররুপ
ধারণ করল ৷ তাদের দেশ-শস্য ণ্শ্যামলে ভরে উঠল ৷

, এ বছরেই উমর ইবন আবদুল আষীয, খুবায়ব ইবন আবদুল্লাহ্ ইবনুয খুবায়বকে
আল-ওয়া লীদের নির্দেশে পঞ্চাশটি বেত্রাঘাত করেন ৷ কঠিন ঠাণ্ডার দিনে তার মাথায় একশত
মশক ঠাণ্ডা পানি ঢালেন এবং ঐদিনই তাকে মসজিদের দরযায় দণ্ডায়মান করেন ৷ ফলে তিনি
মারা যান ৷ মহান আল্লাহ তাকে রহম করুন ৷ খুবায়বের মৃত্যুর পর উমর ইবন আবদুল আযীয
অত্যন্ত ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েন এবং কোন প্রকার নিরাপত্তা বোধ করছিলেন না ৷ যখন তাকে
আখিরাতের কোন বস্তু সম্পর্কে ওভসংবাদ দেওয়া হতো তখন তিনি বলতেন, এটা আমার জন্যে
কেমন করে হবে খুবায়ব তাে রাস্তায় ? অন্য এক বর্ণনায় আছে তিনি বলতেন এটা আমার
জন্যে হতো যদি খুবায়ব রাস্তায় না থাকত ৷ তারপর তিনি সম্ভানহারা মায়ের ন্যায় জোরে
জোরে চীৎকার করতেন ৷ যদি তার কোন প্রশংসা করা হতো, তখন তিনি বলা৩ ন, খুবাইব!
হায়রে খুবায়ব! যদি আমি তার থেকে পরিত্রাণ পেতাম, তাহলেই আমি ভাল থাকতাম ৷
খুবায়বকে ণ্বত্রাঘাত করার পর তিনি , পবিত্র মদীনাতে অবস্থান করেন ৷ তারপর তিনি
ভীত-সস্ত্রস্ত অবস্থায় কালাতিপাত করতে লাগলেন ৷ ইৰাদত ও কান্নাকাটিতে ব্যস্ত হয়ে
পড়লেন ৷ এটা ছিল তার জীবনের একটি বড় হেড়াচট কিভু এর মাধ্যমে তার বহু-কল্যাণ সাধিত
হয় ৷ যেমন ইৰাদত, কান্নাকাঢি, চিম্ভা-ভাবনা, ভয়ভীতি, দয়া ও ইহসান, ন্যায়পরায়ণতড়া,
সত্যবাদিতা, আনুগত্য ও গোলাম আযাদ ইত্যাদির ন্যায় গুণাবলী বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ৷

এ বছরে হাজ্জাজ ইবন ইউসুফের চাচাত ভাই মুহাম্মদ ইবন কাসিম হিন্দুস্তানের দেবেল ও
অন্যান্য নগর জয় করেন ৷ হাজ্জাজ তাকে হিন্দুস্তানে যুদ্ধ করার জন্য মনোনীত করেছিল ৷ তীর

বয়স ছিল তখন ১ ৭ বছর মাত্র ৷ তিনি সেনাবাহিনী নিয়ে অগ্রসর হলেন এবং বিরাট সেনাবাহিনী
নিয়ে হিন্দুস্তানের রাজা দাহিরের মুকাবিলা করেন ৷ তার সাথে জ্জি ২৭টি মনোনীত হাতী ৷
তাদের মধ্যে তুমুল যুদ্ধ হয় ৷ রজাে দাহিরের সৈন্যদেরকে মহান আল্লাহ পরাজিত করেন এবং
রাজা দাহির পলায়ন করেন ৷ যখন রাতের অন্ধকার নেমে আসল, রাজা অগ্রসর হলো এবং তার
সাথে ছিল বিরাট সেনাবাহিনী ৷ তাদের মধ্যে প্রচণ্ড যুদ্ধ হলো ৷ রাজা দাহির নিহত হলো ৷ তার
সাথে যারা ছিল তারা পরাজিত হলো ৷ মুসলমানেরা পরাজিত হিন্দুদের পিছু নিলেন এবং তারা
তাদেরকে হত্যা করলেন ৷ তারপর মুহাম্মদ ইবন কাসিম অগ্রসর হলেন এবং কাবরাজ শহর ও
তার আশপাশের ভুখণ্ড জয় করেন ৷ তিনি গনীমত হিসেবে প্রচুর সম্পদ এবং মুল্যবান ধাতু যথা


পৃষ্ঠা ১৫০ ঠিক করুন

মুক্তা ও স্বর্ণ ইত্যাদি নিয়ে তিনি প্রত্যাবর্তন করেন ৷ এভাবে বনু উমায়্যার মধ্যে জিহাদের প্রেরণা
উজ্জীবিত ছিল ৷ এছাড়া তাদের অন্য কোন পেশার দিকে মনোযোগও ছিল না ৷ পৃথিবীর প্রাচ্যে
ও প্রতীচ্যে, সাগরে ও নগরে ইসলামের আওয়ায সমুন্নত হলো; তারা কুফরী ও কাফিরদেরকে
পর্বুদন্থ করল ৷ মুশরিকদের অন্তর মুসলমানদের৩ ভয়ে প্রকম্পিত হয়ে উঠল ৷ মুসলমানগণ বিভিন্ন
এলাকার যেই দিকেই দৃষ্টি নিক্ষেপ করতেন তা জয়লাভ করে নিতেন ৷ জিহাদেরত সৈন্যদের
মধ্যে পুণ্যবান, আওলিয়া এবং প্রবীণ তাবিঈগণের উলামায়ে কিরাম অন্তর্ভুক্ত ছিলেন ৷
প্রত্যেকটি সৈন্যদলেই এ ধরনের একটি বড় জামাআত যাকত, মহান আল্লাহ তাদের ওসীলায়
ইসলামের বিজয় দান করেন ৷

কুতায়বা ইবন মুসলিম তুর্কী শহরগুলোতে বিজয়ের ধ্বনি সমুন্নত রাখেন ৷ তিনি শত্রু
সেনাদ্দেরকে হত্যা করছিলেন, বন্দী করছিলেন এবং তাদের থেকে প্রচুর গনীমতের মাল অর্জ্যা
করছিলেন ৷ তিনি শহরের পর শহর জয় করছিলেন এমনকি চীনের সীমান্ত পর্যন্ত তিনি পৌছে
যান ণ্৷ সেখানকার বাদশাহর কাছে তিনি দুত পাঠান ৷ এতে ভীতসস্ত্রস্ত হয়ে বাদশাহ তার কাছে
উপচৌকন হিসেবে প্রচুর সম্পদ প্রেরণ করেন এবং অত্যন্ত ক্ষমতা ও প্রচুর সৈন্য থাকা সাত্ত্বও
সদাচরণের খাতিরে তিনি দুত পাঠান ৷ এভাবে আশেপাশের বাদশাহগণ তার প্ৰতি ভীত হয়ে
কর আদায় করতে লাগলেন ৷ যদি হাজ্জাজ বেচে থাকত, তাহলে চীনের শহরগুলো হতে সৈন্য
প্রত্যাহার করা হত না এবং চীনের বাদশাহর সাথে মুসলমানদের সৌজন্য সাক্ষাত হতো ৷ কিন্তু
হাজ্জাজ য খন মারা যায়, তখন মুসলিম সৈন্যরা প্রত্যাবর্তন করেন ৷

তারপর কুতায়বা নিহত হন ৷ সম্ভবত কোন মুসলমানই তাকে হত্যা করে ৷ অন্যদিকে
মাসলামাহ ইবন আবদুল মালিক ইবন মারওয়ান, আমীরুল মু ’মিনীন আল-ওয়ালীব্বদ্যা ছেলে ও
তার অন্য তাই রোমের শহরগুলোতে বিজয়ের পতাকা সমুন্নত ব্লেখেছিল ৷ তারা সিরিয়ার
সৈন্যদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছিল এবং তারা কুস্তানতীনয়া পৌছে যায় ৷ মাসলামাহ সেখানে একটি
জামে মসজিদ তৈরী করেন, যেখানে মহান আল্লাহর ইবাদত করা হয় ৷ ফ্রান্সের বাসিন্দাদের
অন্তর মুসলমানদের প্রতি ভীত-প্সস্ত্রস্ত হয়ে উঠে ৷ অন্যদিকে হাজ্জাজের ভাতিজ৷ মুহাম্মদ ইবন
কাসিম হিন্দুস্তানে যুদ্ধ করছিল এবং বিভিন্ন শহর জয় করছিল ৷

মুসা ইবন নুসায়র মরক্কোর শহরাঃলোতে যুদ্ধ করছিল বিভিন্ন শহর জয়লাভ করছিল, এবং
মিসরীয় শহরগুলােস্থতও জয় অব্যাহত ছিল ৷

এ এলাকাগুলোর বাসিন্দাগণ ইসলামের সুশীতল ছায়ায় প্রবেশ করে এবং দেব-দেবীর পুজা
প্রত্যাহার করে ৷ এর পুর্বে সাহাবায়ে কিরাম হযরত উমর (না) ও হযরত উছমান (রা)-এর
যুগে এসব এলাকায় কিছু শহর জয় করে প্রবেশাধিকার অর্জন করেন ৷ তইি পরে মুসলমানগণ
বিরাট এলাকা যেমন সিরিয়া, মিসর, ইরাক, ইয়ামান ও তুর্কীয় প্রধান শহরগুলো জয় করেন ৷
তারা মাওরাউনৃনাহার’ ও মরক্কোর প্রধান শহরগুলো পর্যন্ত পৌছে যান ৷ রাসুপুল্লাহ্ (সা)-এর
হিজরতের পর থেকে প্রথম শতাব্দীতে বনু উমায়্যার খিলাফতের সমাপ্তি পর্যন্ত মুসলমানদের
মধ্যে জিহাদের চেতনা বিদ্যমান থাকে ৷ আবার বনু আব্বান্সের খিলাফতকালে যেমন খলীফা
মানসুর ও তার আওলাদ, খলীফা হারুনুর রশীদ ও তার আওলাদেৱ মধ্যে জিহাদের চেতনা
বিরাজমান ছিল ৷ মাহমুদ সুবুক্তগীন ও তার সন্তান, তা,দ্যো যুগে হিন্দুস্তানের বহু শহর জয়
করেন ৷ বনু উমায়্যা থােক যারা মরক্কোতে পালিয়ে গিয়েজ্যি ৷ তারা ফ্রান্সের ভুমিতে জিহাদের
চেতনা প্রতিষ্ঠিত করেছিল ৷ তারপর যখন এ সব এলাকায় জিহাদের চেতনা স্তিমিত হয়ে গেল ৷
ঐ সব এলাকা শত্রুদের দখলে চলে গেল এবং মুসলমানরা দুর্বল হয়ে পড়ল ৷ তারপর যখন


পৃষ্ঠা ১৫১ ঠিক করুন

ফাতিমী কর্তৃতু মিসর ও সিরিয়ার বিভিন্ন শহরে প্রতিষ্ঠিত হয়,: মুসলমানদের শক্তি হ্রাস পায়,
সাহায্যকারী কমে যায়, ফ্রান্সবাসীরা সিরিয়ার শহরগুলাে দখল করে নেয় ৷ এমনকি তারা

ৰায়ভুল মুকাদ্দাস দখল করে নেয় ৷ আল্লাহ তাআলা বনু আয়ুবকে নুরুদ্দীনের মাধ্যমে

প্রতিষ্ঠিত করেন ৷ তারা শত্রুদের থেকে তা ফেরত নেন এবং তাদেরকে সেখান থেকে বিতাড়িত

করেন ৷ মহান আল্লাহ্র জন্যেই সমস্ত প্রশংসা ৷ এসব বিষয়ে বিস্তারিত বর্ণনা যথাস্থানে করা

হবো

এ বছরেই আল-ওয়ালীদ উমর ইবন আবদুল আযীযকে মদীনায় আমীরের পদ থেকে
বরখাস্ত করেন ৷ তার কারণ ছিল নিম্নরুপ : উমর ইবন আবদুল আযীয আল-ওয়ালীদের কাছে
পত্র লিখে ইরাকের বাসিন্দাদের প্রতি হাজ্জাজের অত্যাচার ও অবিচার সম্পর্কে অবগত করেন ৷
এ পত্র সম্বন্ধে হাজ্জাজ অবগত হয়ে আল-ওয়ালীদের কাছে পত্র লিখেন ও বলেন : নিশ্চয়ই
উমর পবিত্র মক্কা ও মদীনায় শাসন সম্পর্কে অত্যন্ত দুর্বল ৷ তাই পবিত্র মক্কা ও মদীনায়
শক্তিশালী শাসক প্রেরণ করুন যিনি খৃব সুসংহতভাবে হারামায়নের শাসনকার্য পরিচালনা
করবেন ৷ অলে-ওয়ালীদ পবিত্র মদীনায় উছমান ইবন হায়্যান এবং পবিত্র মক্কায় খালিদ ইবন
আবদুল্লাহ্অচ্যে-কাসরীকে শাসক নিযুক্ত করেন ৷ মোটকথা, হাজ্জাজ তাকে যে পরামর্শ দিলেন
তিনি তা করলেন ৷ উমর ইবন আবদুল আযীয শাওয়াল মাসে পবিত্র মদীনা থেকে বের হয়ে
যান এবং সাবীদায় অবতরণ করেন ৷ উছমান ইবন হায়্যান এ বছরেই শাওয়ালের দুদিন বাকী
থাকতে পবিত্র মদীনায় আগমন করেন ৷ এ বছরেই আবদুল; আযীয ইবন আল-ওয়ালীদ ইবন
আবদ্যুর্শ মালিক ণ্লাকজ্যাকে নিয়ে হজ্জ আদায় করেন ৷ এ বছরে যেসব ব্যক্তি ইনৃতিকাল করেন
তাদের মধ্যে একজন হলেন : আনাস ইবন মালিক (রা) ৷ তার পুর্ণ নাম আবু হামযা আনড়াস
ইবন মালিক ইবন আন নযর ইবন যামযাম ইবন যায়দ ইবন হারাম ইবন জুনদুব ইবন আমির
ইবন পানম ইবন আদী ইবন নাজ্জার আল-আনসারী আন-নাজ্জারী ৷ কেউ কেউ বলেন, তার
কুনিয়ত ছিল আবু সড়ামাকাহ ৷ তিনি রাসুলুল্পাহ্ (না)-এর খাদিম ও সাথী ৷ তার মায়ের নাম
উম্মে হারাম মুলায়কাহ বিনতে মিলহান ইবন খালিদ ইবন যায়দ ইবন হারাম ৷ আবু তালহা,
যায়দ ইবন সাহল আল-আনসারীর ত্রী ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) হতে তিনি বহু হাদীস বর্ণনা করেন
এবং গুরুত্বপুর্ণ শাস্ত্রসমুহের সংবাদ দেন ৷ তিনি আবু বকর সিদ্দীক (রা) , উমর (রা) , উছমান
(রা), ইবন মাসউদ (রা) ও অন্যদের থেকে হাদীস বর্ণনা করেন ৷ তড়াবিঈদের অনেকেই তার
থেকে হাদীস বর্ণনা করেন ৷

আনাস (রা) বলেন, “যখন রাসুলুল্লাহ্ (সা) মদীনায় আগমন করেন, তখন আমার বয়স
ছিল ১০ বছর ৷ তিনি যখন ইনৃতিকাল করেন তখন আমার বয়স ২০ বছর ৷ মুহাম্মদ ইবন
আবদুল্লাহ্ আলু আনসারী আপন পিতার মাধ্যমে সামাসাহ (বা) হতে বর্ণনা করেন ৷ তিনি
বলেন, হযরত আনাস (রা)-কে জিজ্ঞাসা করা হলো, আপনি কি বদর যুদ্ধে উপস্থিত ছিলেন ?
তিনি বলেন, তোমার মাতা তোমার জন্যে ক্রন্দন করুক, আমি বদর যুদ্ধ থেকে কেমন করে
অনুপস্থিত থাকতে প ড়ারি ? আল-আনসারী বলেন, তিনি রাসুলুল্লাহ্ (সা)-এর খিদমত করা
অবস্থায় বদরের যুদ্ধে উপস্থিত ছিলেন ৷ আল্লামা ইবন কাহীর (র) বলেন, “উস্তাদআল-হাফিয
আবুল হাজ্জাজ আল মাদানী বলেন : মহান আল্লাহর পথে জিহাদক্যরিগর্ণের গুণ-গরিমা ও
ক্রিয়াকর্য সম্পর্কিত বিবরণ দানকারীদের কেউ এ ব্যাপারে কিছু উল্লেখ করেননি ৷ এটা স্পষ্ট যে,
তিনি এর পরের যুদ্ধগুলোতে উপস্থিত ছিলেন ৷ মহান আল্লাহ অধিক পরিজ্ঞাত ৷


পৃষ্ঠা ১৫২ ঠিক করুন


এটা প্রমাণিত যে, তার মাতা তাকে নিয়ে অন্য এক বর্ণনায় তার চাচা, মায়ের স্বামী আবু
তাল;হা (বা) রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর কাছে উপস্থিত হন এবং বলেন, হে আল্লাহর রাসুল ! এর নাম
আনাস, বুদ্ধিমান, আপনার খিদমত করবে ৷ তিনি তাকে এ কাজের জন্য দান করেন ৷
রাসুলুল্লাহ্ (যা) তাকে গ্রহণ করেন ৷ তার যা তার জন্যে দু আ করতে রাসুলুল্লাহ্ (সা) কে
অনুরোধ করেন ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) দু আ করলেন গ্রষ্৷ , ষ্টুএটুপ্রু ৰু৷ ৷ ঢ় ,£ ৷ স্পোা৷ ৷
ধ্ন্! ৷ হে আল্পাহ্! তার সম্পদ বৃদ্ধি করুন তার আওলাদ বৃদ্ধি করুন এবংজ জান্নাতে তাকে

দাখিল করুন ৷

হযরত আনাস (বা) হতে বর্ণিত রয়েছে ৷ তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ্ (সা) আমাকে একটি
খেজুর গাছ দান করেছিলেন ৷ তার থেকে আমি ফল সংগ্রহ করতাম ৷ হযরত আবু বকর (রা)
এরপরে হযরত উমর (রা) তাকে বাহরায়ন প্রদেশের আমীর নিযুক্ত করেছিলেন এবং উত্তম
সেবার জন্যে তাকে তারা ধন্যবাদ দিয়েছিলেন ৷ রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর ইনৃতিকালের পর তিনি
বসরায় বসবাস করেন ৷ সেখানে তার চারটি বাড়ী জ্যি ! হাজ্জাজ তাকে কষ্ট দিয়েছিল ৷ আর
এটা ঘটেছিল ইব ন আশআছের সমস্যার সময় ৷ হাজ্জাজ ধারণা করেছিল, এ ব্যাপারে আনাস
(রা)-এর হাত রয়েছে এবং এ ব্যাপারে তিনি ফাতওয়া প্রদান করেছেন ৷ ’হাজ্জাজ তার গর্দানে
ষোহর £মরেছিল ৷ এটা ছিল হাজ্জাজের ধৃষ্টতা ৷ আনাস (বা) খলীফা আবদুল মালিকের কাছে
অভিযোগ দায়ের করেছিলেন ৷ এ ব্যাপারে পুর্বে বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়েছে ৷ হাজ্জাজের কাছে
আবদুল মালিক কঠোর ভাষায় পত্র লিখেছিলেন ৷ ফলে হাজ্জাজ ডীত হয়েছিল এবং আনাস
(রা)-এর সাথে সন্ধি করেছিল ৷ খলীফা আল-ওয়ালীদ ইবন আবদুল মালিকের আমলে হযরত
ন্নড়াস (বা) প্রতিনিধি দলের প্রধান হিসেবে তার দরবারে এসেছিলেন ৷ কেউ কেউ বলেন, ৯২
হিজরীতে এ ঘটনা ঘটেছিল ৷ তিনি দামেস্কের জামে মসজিদ তৈরী করছিলেন ৷ মাকহ্ন৷ (র)
বলেন, আমি দামেস্কের মসজিদে হযরত আনাস (রা)-কে হাটতে দেখেছি ৷ তিনি বলেন, আমি
তার কাছে গেলাম এবং জানাযার সালাতের পর উয়ু সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম ৷ তিনি বললেন,
এরপর কোন উয়ু করতে হবে না ৷ আল-আওযায়ী (র) বলেন : ইসমাঈল ইবন আবদুল্লাহ ইবন
আবুল মুহাজির আমাকে হাদীস বর্ণনা করেছেন ৷ তিনি বলেন, একবার আল ওয়ালীদের কাছে
আনাস (বা) আগমন করেন ৷ তাকে আল-ওয়ালীদ বলেন, কিয়ামত সম্পর্কে তুমি রাসুলুল্লাহ্
(সা)-কে কিছু বলতে শুনেছ ? তিনি বললেন “আমি রাসুলুল্লাহ্ (না)-কে বলতে শুনেছি, তিনি
বলতেন, তোমরা ও কিয়ামতের মাঝে এ দুই আঙ্গুলেৱ মত ফারাক ৷” আবদুর রাজ্জাক ইবন
উমর, ইসমাঈল হতে বর্ণনা করেন ৷ তিনি বলেন : আনাস (বা) ৯২ হিজরীতে
আল ওয়ালীদের দরবারে এসেছিলেন ৷ হযরত আনাস (মা) ও তা উল্লেখ করেছিলেন ৷ ইমাম
আয-যুহরী (র) বলেন, “আমি দামেস্কে হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) এর কাছে উপস্থিত
ছিলাম ৷ তিনি কাদছিলেন ৷ আমি বললাম, আপনি কেন র্কাদছেন ? তিনি বললেন, “রাসুলুল্লাহ্
(সা)ও তার সাহাবীগণ যে রুপ সালাত (সময়মত) আদায় করতেন সেই সালাতের সাথে
তোমাদের এ সালাতের কোন মিল আমি পাই না ৷ দেরীতে সালাত আদায় করার অভ্যাস
তোমরা গড়ে তুলেছ ৷ অন্য এক বর্ণনায় আছে, তিনি বলেহ্নেৰ, রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর যামানার
সালাত বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে অর্থাৎ বনু উমাইয়ার খলীফারা সম্ভাব্য শেষ সময় পর্যও সালাতকে
বিলম্ব করে আদায় করতেন ৷ হযরত উমর ইবন আবদুল আযীয (ব) ব্যতীত তারা সকলেই সব

সময় বিলম্বে সালাত আদায় করতেন ৷


পৃষ্ঠা ১৫৩ ঠিক করুন

, আব্দ ইবন হুমায়দ (র) আবদুর রায্যাক হতে, এবং তিনি জাফরহ্রহ্রইবন সুলায়মান ও
সাবিতের মাধ্যমে হযরত আনাস (বা) হতে বর্ণনা করেন ৷ তিনি বলেন, আমার মাতা আমাকে
নিয়ে রাসুলুল্লাহ্ (সা) এর কাছে আগমন করেন ৷ আমি তখন হ্নিা৷ম সবেমাত্র একজন বালক ৷
তিনি বলেন, হে আল্লাহর রাসুল (সা)! আনাস আপনার একজন নগণ্য খাদিম ৷ তার জৰুন্য

আপনি যেহেরবানী করে দু আ করুন ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) বললেন, ’এ , ছু£ ,ন্দ্বু ৷ ন্ট্রু,ট্র ৷
াএ ৷ এশু৷ ৷ , “হে আল্লাহ তার মাল ও আওলাদ বৃদ্ধি করুন এবং তাকে জান্নাতে দাখিল

করুন ৷” বনািকারী বলেন, আমি দেখলাম, তার গাছে বছরে দুইবার ফল দেয়, আমি
তিনবারের আশা করতে লাগলাম ৷ অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে হযরত আনাস (রা) বলেন,
আল্লাহ্র শপথ ৷ আমার সম্পদ অনেক ৷ এমনকি আমার খেজুর গাছ ও আত্গুর গাছ বছরে
দুইবার ফল প্রদান করে ৷ আমার সন্তান ও সন্তানকে তারা প্রায় একশতের ন্যায় গণনা
করেছে ৷ অন্য এক বর্ণনায় আছে, তিনি বলেন, আমার ঔরসের সন্তান একশত ছয়জন ৷ এ
হাদীসটির বর্ণনায় বহু প্রক্রিয়া বিদ্যমান ৷ আর বাক্যগুলোও খুব ছড়ানাে ওছিট্যানা ৷ অন্য এক
বর্ণনায় হযরত আনাস (রা) বলেন, আমার মেয়ে আমিনা সংবাদ পরিবেশন করেছে ৷হুয,
হাজ্জাজের আগমন পর্যন্ত আমার ঔরশে যেসব সন্তান দাফন করা হয়েছে তাদের সংখ্যা একশত
বিশ ৷ আল-হাফিয ইবন আসাকির হযরত আনাস (রা) এর জীবনীতে এ হাদীসটি বিভিন্ন

প্ৰক্রিয়ায় ও সনদে বর্ণনা করেছেন ৷ আল্লামা ইবন কাহীর (র) বলেন, হৃ১ ;এ ৷ র্টু)১াছু
ওঠুট্রু পু এ ৷ ); ৷ , নামক কিভাবে আমি এটার কিছু অংশ তুলে ধরেছি ৷

একদিন ছাৰিত (র) হযরত আনাস (রা) কে বলেন, তোমার হাত কি কখনো রাসুলুল্লাহ্
(সা) এর হাতের তালুতে স্পর্শ করেছিল ? তিনি বললেন, “হ্যা ৷ তিনি বললেন, তােমার
হাতটি আমার কাছে দাও, তাহলে আমি এটাকে চুম্বন করব ৷ মুহাম্মদ ইবন সাদ, মুসলিম ইবন
ইবৃরাহীমের মাধ্যমে আল-মুহুান্ন৷ ইবন সাঈদ আয-যিরা হতে বর্ণনা করেন ৷ তিনি বলেন,
আমি আনাস ইবন মালিককে বলতে শুনেছি, তিনি বলতেন, এমন কোন রাত ছিল না, যে
রাতে আমি আমার হাবীব রাসুলুল্লাহ্ (না)-কে দেখি নইি ৷ এ কথার পর তিনি ক্রন্দন করতে
লাগলেন ৷ মুহাম্মদ ইবন সাদ, আবু নুআয়ম ও ইউনুসইবন আবু ইসহাকের মাধ্যমে
আল-মিনহাল ইবন আমর হতে বর্ণনা করেন ৷ তিনি বলেন : হযরত আনাস (বা) ছিলেন
রাসুৰুলুল্পাহ্ (না)-এর জুতা ও উবুর পাত্র বহ্নকারী ৷ আবু দাউদ (র) বলেন : আল-হাকাম ইবন
আতিয়াহ, ছাবিতের মাধ্যমে হযরত আনাস (রা) হতে বর্ণনা করেন ৷ তিনি বলেন, “আমি
আশা করছি যে, যখন আমি কিয়ামতের দিন রাসুলুল্পাহ্ (না)-এর সাথে সাক্ষাত করব, তখন
আমি তাকে বলব, “হে আল্পাহ্র রাসুল আমি আপনার নগণ্য খাদিম” ৷
ইমাম আহমদ (র) বলেন, ইউনুস হযরত আনাস (বা) হতে বর্ণনা করেন ৷ তিনি
বলেন, একদিন আমি রাসুলুল্পাহ্ (না)-কে কিয়ামতের দিন আমার জন্যে সুপারিশ করার
অনুরোধ জ্ঞাপন করলাম, তিনি বললেন, আমি তোমার জন্যে সুপারিশ করব ৷ আমি বললাম,
“হে আল্লাহর রাসুল (সা) ! কিয়ামতের কিং আমি আপনাকে কোথায় খোজ করব ? রাসুলুল্লাহ্
(সা) বলেন, যখন তুমি খোজ করার ইচ্ছে করবে, তখন তুমি আমাকে সিরাত বা পুলসিরাতের
নিকট খোজ করবে ৷ আমি বললাম, যদি সেখানে আমি আপনার সাক্ষাত না পাই, তাহলে
মোঃ আমি আপনাকে খোজ করব ? তিনি বললেন তুমি আমাকে মীযানের (র্দাড়িপাল্লা)
কাছে খোজ করবে ৷ আমি বললাম, যদি আপনাকে আমি মীযানের কাছে না পাই ? তিনি


পৃষ্ঠা ১৫৪ ঠিক করুন


বললেন, তাহলে আমি হাওযের কাছে অর্থাৎ হাওয়ে কাওছারের নিকট থাকর ৷ কিয়ামতের দিন
এ তিনটি জায়গার যে কোন একটিতে আমি থাকতে ভুলব না ৷” ইমাম তিরমিযী (র) ও
অন্যগণ হারব ইবন মায়নুন থেকে এ হাদীস বর্ণনা করেন ৷ ইমাম তিরমিযী (র) বলেন, এ
’হাদীস হাসান বা উত্তম এবং গারীব বা কোন এক পর্যায়ে বর্ণনাকারীর সংখ্যা মাত্র একজ্যা ৷
বর্ণনার এই ধারা ব্যতীত অন্য কোন ধারায় হাদীস প্রসিদ্ধ নয় ৷

আল্লামা শুবা, ছাবিত (র) হতে বর্ণনা করেন ৷ তিনি বলেন, হযরত আবু হুরায়রা (বা)
বলেছেন, “আমি কারোর সালাত, রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর সালাতের সাথে ইবন উম্মে সুলায়ম
অর্থাৎ আনাস ইবন মালিকের সালাতের চেয়ে অধিক সামঞ্জস্যপুর্ণ দেখতে পইিনি ৷ ’

ইবন সীরীন (র) বলেন : হযরত আনাস (রা) ছিলেন মুকীম ও ভ্রমণ অবস্থায় সালাতের
ব্যাপারে উৎকৃষ্ট ব্যক্তি ৷ তিনি বলেন, আনাস (রা) বলেছেন : আমার থেকে সালাত শিখে নাও ৷
কেননা, আমি রাসুলুল্লাহ্ (না) হতে সালাত শিখেছি ৷ আর রাসুলুল্লাহ্ (সা) শিখেছেন আল্পাহ্
তাআলা হত্বে ৷ বর্তমানে আমার চেয়ে অধিক বিশ্বন্থ আর তুমি কাউকে পাবে না ৷ মু’তামার
ইবন সুলায়মান, তার পিতা হতে বর্ণনা করেন ৷ তিনি বলেন, আমি আনাস (রা)-ণ্ক বলতে
শুনেছি ৷ তিনি বলেন, “আমি ব্যতীত দুই কিবলার দিকে সালাত অদােয়কারী বর্তমানে আর
কেউ দুনিয়াতে বাকী নেই ৷ “মুহাম্মদ ইবন সাদ বলেন, “আফফান আমাকে আবু জানার নামী
এক ওস্তাদ থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন ৷ তিনি বলেন, আমি আল-হরীিরীকে বলতে শুনেছি,
তিনি বলেন, “একদিন আনাস (রা)-ণ্ক “যাতে ইরক” নামক জায়গা থেকে হাজ্জর জন্য
ইহ্রাম বাধতে দেখেছি ৷ কিন্তু, হালাল হওয়া পর্যন্ত তাকে মহান আল্লাহর যিকির ব্যতীত কোন
কথা বলতে শুনি নাই ৷ তিনি আমাকে বললেন, “হে ভাতিজা ! এভাবে ইহ্রাম বীধতে হয় ৷ ”

সালিহ্ ইবন ইব্রাহীম ইবন আবদুর রহমান ইবন আওফ বলেন, এক জুযুআর দিন হযরত
আনাস (রা) আমাদের কাছে গমন করেন ৷ আর আমরা রাসুলুল্লাহ্ (সা)-এর কোন এক ত্রীর
ঘরে কথা বলছিলাম ৷ তিনি তখন আমাদেরকে বললেন, থামুন’ ৷ তারপর সালাত কায়েম করা
হলো ৷ তিনি বললেন, আমি ভয় করছি যে, থাযুন কথার দ্বারা আমি তো আমার জুমুআর
সালাত বাতিল করে দেইনি ৷

ইবন আবুদ্ দুনিয়া বলেন, বাশার ইবন মুসা আল খাফাফ, জা ফর ইবন সৃলায়মানের
মাধ্যমে ছাবিত হতে বর্ণনা করেন ৷ তিনি বলেন৪ আমি হযরত আনাস (রা) এর সাথে
ছিলাম ৷ তখন নিরাপত্তা মহিলা কর্মী এসে বলল, ণ্হ আবু হামযা ! পৃথিবী তৃষ্ণান্থ হয়ে পড়েছে ৷
বর্ণনাকারী বলেন, হযরত আনাস (রা) এ কথা শুনে উঠে পড়লেন, উয়ু করলেন এবং মাঠের
দিকে বেরিয়ে পড়লেন ৷ তিনি দুই রাকাআত সালাত আদায় করলেন ৷ তারপর দুঅ৷ করলেন ৷
আকাশে মেঘ ভারী হতে দেখলাম ৷ তারপর প্রচুর বৃষ্টি হলো এবৎ আমাদের মনে হতে লাগল,
সব কিছু যেন বৃষ্টির পানিতে ভরে গেছে ৷ যখন বৃষ্টি থামল, তখন হযরত আনাস (রা) তার
পরিবারের একজনকে প্রেরণ করেন এবং বলেন, দেখত বৃষ্টি আকাশের কতদুর পর্যন্ত গড়িয়েছে
? তিনি দেখলেন এবং বললেন, পৃথিবীর সামান্য অংশে বৃষ্টিপাত হয়েছে ৷

ইমাম আহমদ (র) বলেন : মুআয ইবন আগুনের মাধ্যমে মুহাম্মদ (র) হতে বর্ণনা
করেন ৷ তিনি বলেন, আনাস (রা) যখন রাসুলুল্লাহ্ (না) হতে ণ্কান হাদীস বর্ণনা করতেন,
তখন ভীতসস্ত্রস্ত হয়ে যেতেন এবৎ হাদীস বর্ণনার শেষে বলতেন <র্দুপু ৷ ,া, , হ্া ৷ট্রুৰু , ৷
ণ্;াণ্ অর্থাৎ কিৎব৷ যেরুপ রাসুলুল্লাহ্ (সা) বলেছেন ৷


পৃষ্ঠা ১৫৫ ঠিক করুন


আল-আনসারী, ইবন আওফের মাধ্যমে মুহা ষ্মদ (র) হতে বর্ণনা করেন ৷ তিনি বলেন,
একদিন কোন এক আমীর আনাস (রা)-এর কাছে গনীমতের কিছু সম্পদ প্রেরণ করেন ৷ তখন
তিনি বললেন, এটা কি খুমুসের অন্তর্ভুক্ত ৷ প্রেরিত ব্যক্তি বললেন, না’ তখন তিনি তা গ্রহণ
করলেন না ৷ ৰু
আন-নযর ইবন শাদ্দাদ তার পিতা হতে বর্ণনা করেন ৷ তিনি বলেন, একবার হযরত
আনাস (রা) পীড়িত হয়ে পড়লেন ৷ তখন তাকে বলা হলো, আপনার জন্যে কি আমরা একজন
চিকিৎসক ডেকে আনব না ? তিনি বললেন, চিকিৎসকই তাে আমাকে পীড়িত করেছেন ৷
হাম্বল ইবন ইসহাক বলেন : আবু আবদুল্পাহ্ আর-রম্ফাশী, জাফর ইবন সুলায়মানের
মাধ্যমে আলী ইবন ইয়াযীদ হতে বর্ণনা করেন ৷ তিনি বলেন আমি হাজ্জাজের সাথে একবার
রাজপ্রাসাদে ছিলাম ৷ সে বেশ কিছুদিন ধরে ইবনুল আশআছের সম্পর্কে জনগৰ্ণর অভিযোগ
শ্রবণ করছিলেন ৷ তারপর আনাস ইবন মালিক (বা) আগমন করলেন ৷ তখন হাজ্জাজ বলল,
“হে খাবীস! বিভ্রাস্তি সৃষ্টিকারী, একবার আলীর পক্ষ অবলম্বন, আরেকবার আবদুল্পাহ্
, ইবনুয-যুবায়রের পক্ষ অবলম্বন, আরেকবার ইবনুল আশআছের পক্ষ অবলম্বন ৷ ঐ সভার শপথ,
যার হাতে হাজ্জাজের প্রাণ, আমি ভোমাকে উচ্ছেদ করব যেমনভাবে গাছের আঠ৷ জমাবার
জন্যে আঠা উচ্ছেদ করে সংগ্রহ করা হয় ৷ আমি তোমার শরীরের চামড়া এমনভাবে উঠিয়ে
ণ্নব যেমনভাবে গুই সাপের চামড়া উণ্ঠানাে হয় ৷ বণ্নািকারী বলেন : হযরত আনাস (রা)
বলছিলেন, হে আমীর ! এর থেকে আমি মুক্ত ৷ হাজ্জাজ বলল, আমাকে সাহায্য করা থেকে
ভুমি দুরে থাক ৷ আল্লাহ্ তোমাকে বধির করুন ৷ বর্ণনাকারী বলেন, হযরত আনাস (রা) ইন্না
লিল্লাহে ওয়া ইন্ন৷ ইলাহি রাজিউন’ পড়লেন ৷ হাজ্জাজ অন্য কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ল ৷ হযরত
আনাস (রা) বের হয়ে পড়লেন ৷ আমরা তার পিছনে পিছনে প্রশস্ত জায়গায় বের হয়ে
আসলাম ৷ তখন তিনি বললেন, যদি আমার সন্তানদের কথা চিন্তায় না আসত, অন্য বর্ণনায়
আছে, যদি আমার ছোট ছোট সন্তানদের কথা চিন্তায় না আসত এবং তাদের উপর তার
অত্যাচারের কথা ধারণার না আসত তাহলে আমি কিভাবে নিহত হব তার কোন চিন্তাই আমি
করতাম না ৷ আর আমি এখানে তার সাথে এমনভাবে কথা বল৩ যে সে যেন কোনদিন এরপর
আমাকে হালকা মনে না করতে পারে ৷

আবু বকর ইবন আইয়াশ উল্লেখ করেন যে, একদিন আনাস (রা) খলীফ৷ আবদুল
মালিকের কাছে হাজ্জাজের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেশ করে বলেন, আল্লাহ্র শপথ, যদি ইয়াহ্রদী
ও থ্রিন্টানরা কাউকে তাদের নবীর খিদমত করতে দেখত তারা নিশ্চয়ই তার সম্মান করত ৷
আর আমি দশ বছর যাবত রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর খিদমত করেছি ৷ আবদুল মালিক হাজ্জাজের
কাছে কঠোর ভাষায় পত্র লিখলেন এবং পত্রের শেষে লিখলেন, আমার এ পত্রটি তোমার কাছে
পৌছার পর তুমি আবু হামযার নিকট গমন করবে, তাকে সন্তুষ্ট করবে এবং তার হাত-পা চুম্বন
করবে ৷ অন্যথায় আমার তরফ থেকে তোমার কাছে এমন শান্তি পৌছবে যার তুমি যোগ্য ৷
আবদুল মালিকের কঠোর ভাষার পত্র যখন হাজ্জাজের কাছে পৌছা, তখন সে ক্ষমা প্রার্থনার
জন্যে তার কাছে যাবার মনন্থ করল ৷ কিন্তু, যে ব্যক্তি পত্রটি নিয়ে এসেছিল, সে তাকে আনাস
(রা)-এর নিকট না যেতে ইঙ্গিত করল এবং হযরত আনাস (রা)-কে হাজ্জাজেয় কাছে সন্ধি
করার জন্যে যেতে ইঙ্গিত করল ৷ যে ব্যক্তি পত্রটি বহন করেছিল তার নাম ছিল ইসমাঈল ইবন
’ আবদৃল্পাহ্ ইবন আবুল মুহাজির ৷ সে ছিল হাজ্জাজের বন্ধু ৷ তারপর হাজ্জাজের কাছে হযরত
আনাস (রা) আগমন করলেন ৷ তখন হাজ্জাজ বসা থেকে উঠে হযরত আনাস (রা) এর সাথে



Execution time: 0.02 render + 0.01 s transfer.