Login | Register

আল বিদায়া ওয়ান্নিহায়া - খন্ড ৯

পৃষ্ঠা ১৪৫ ঠিক করুন

তারা তাকে বরখাস্ত করে এবং তারঘুন খানের ভাই সুরাক খানকে তারা তাদের আমীর নিযুক্ত
করে ৷ তারপর তারা বিদ্রোহ করে ও চুক্তি তংগ করে ৷ তাদের পরবর্তী সংবাদ পরে বর্ণিত
হবে ৷

, এ বছরেই কুতায়বা সিজিস্তানে যুদ্ধ করেন ৷ উদ্দেশ্য হলো ভুর্ক আজমের বাদশাহ
রুতবীলকে পরাস্ত করা ৷ তখন তিনি রুতবীলের প্রথম রাজ্যে পৌছেন, তখন তার দুতগণ
কুতারবার কাছে পৌছে প্রচুর সম্পদ, ঘোড়া, গোলাম ও শাহী মহিলাদের বিনিময়ে সন্ধির
প্রস্তাব পেশ করে ৷ তখন তিনি রুতবীলের সাথে সন্ধি করেন ৷ এ বছরেই পবিত্র মদীনায় নইিব
উমর ইবন আবদুল আযীয লোকজনকে নিয়ে হজ্জ আদায় করেন ৷ এবছরে যে সব ব্যক্তিতু ,
ইনৃতিকাপ্স করেন ৷ তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন, আবু সাঈদ মালিক ইবন আওস ইবন আল
হাদছান আননাযরী আলমাদানী ৷ তার সাহাবী হওয়ার ব্যাপারে ঐতিহাসিকদের মাঝে

মতবিরোধ রয়েছে ৷ কেউ কেউ বলেন, তিনি জাহিলিয়াতের যুগে সাওয়ারীতে আরোহণ
করেছেন এবং হযরত আবু বাকর সিদ্দীক (রা)-কে দেখেছো ৷ মুহাম্মদ ইবনসাদ (র) বলেন,
তিনি রাসুলুল্লাহ্ (সা) ৫ক দেখেছেন ৷ তবে রাসুলুল্লাহ্ (না) হতে তিনি কোন হাদীস সংগ্রহ
করেন নাই ৷ ইবনু মুঈন, ইমাম বুখারী এবং আবু হাতিম এ অভিমতে র বিরোধিতা করেন ৷
ঐতিহাসিকগণ মনে করেন, তার সাহাবী হওয়ার ব্যাপারটি শুদ্ধ নয় ৷ তিনি এ বছরেই
ইনুতিকাস করেন ৷ আবার কেউ কেউ বলেন, পুর্ববর্তী বছর তিনি ইনৃতিকাল করেন ৷ মহান
আল্লাহ্ অধিক পরিজ্ঞাত ৷

ণ্ তুওনারস্ দাস্-মুপলী
তীর পুর্ণ নাম আবু আবদুল যুনইম ঈসা ইবন আবদুল্লাহ আল-মাদানী, বনু মাখযুমের
মিত্র ৷ তিনি তার পেশার ছিলেন দক্ষ ৷ তিনি ছিলেন অস্বাভাবিক লম্বা ও টেরাচক্ষু বিশিষ্ট ৷ তিনি
ছিলেন অপয়া ৷ কেননা, যেদিন রাসুলুল্পাহ্ (সা) ইনৃতিকাল করেন তিনি ঐদিন জন্মগ্রহণ
করেন ৷ যেদিন হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রা) ইনৃতিকাল করেন তিনি ঐদিন থেকে মাতৃদুগ্ধ
ছেড়েছিলেন ৷ যে দিন হযরত উমর (রা) শহীদ হন, তিনি ঐদিন বয়ােপ্রাপ্ত হন ৷ যেদিন হযরত
উছমান (রা) শহীদ হন তিনি সেদিন বিয়ে করেন ৷ যেদিন হযরত ইমাম হুসায়ন (রা) শাহাতে
বরণ করেন, সেদিন তার প্রথম সন্তান জন্ম নেয় ৷ কেউ কেউ বলেন, যেদিন হযরত আ ৷লী (রা)
শহীদ হন, সেদিন তার প্রথম সন্তান জন্ম নেয় ৷ উপরোক্ত বর্ণনাটি ইবন খাল্লিকান ও অন্যরা
পেশ করেন ৷ এ বছরেই তিনি ৮২ বছর বয়সে সাবীদে ইনৃতিকাল করেন যা পবিত্র মদীণ্ম্ ৷
থেকে ৩২ মাইল দুরে অবস্থিত ৷
আল-আখতাল ছিলেন একজন পুর্ণাৎগ করি ৷ কবিতায় তিনি তার সমকালীন কবিদের
, মধ্যে শ্রেষ্ঠ ছিলেন ৷

৯৩ হিজরীর প্রারশু

এ বছরেই মাসলামাহ্ ইবন আবদুল মালিক রোম সাম্রাজেব্রর বহু দুর্গ জয় করেন ৷

এগুলোর মধ্যে আল-হাদীদ, পাযালা, মনসা ইত্যাদি প্রসিদ্ধ ৷ এ বছরেই আল আব্বাস ইবন

, আল ওরনীিদ যুদ্ধ করেন ও সামসাভীয়৷ জয়লাভ করেন ৷ এ বছর মারওয়ান ইবন আল ওয়ালীদ

রোমে যুদ্ধ করেন ৷ এবং হানজারাহ পর্যন্ত পৌছেন ৷ এ বছরেই খাওয়ারিযম শাহ কুতায়বার

কাছে পত্র শিখে সন্ধির দিকে আহবান করেন এ শর্তের উপর যে, তিনি তার দেশের কয়েকটি
শহর তাকে প্রদান করবেন ৷ আর তাকে বহু সম্পদ ও গোলাম প্রদান করার অ গীক৷ ৷র করেনএ


পৃষ্ঠা ১৪৬ ঠিক করুন

শর্তের উপর যে, কুতায়বা তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে ও পরাস্ত করে তার ভাইকে তার
কাছে সোপর্দ করবেন ৷ কেননা, সে ইতোমধ্যে দেশে বিশৃৎখলা সৃষ্টি করেছে এবং জনগণের
প্রতি যুলুম ও নির্যাতন করেছে ৷ আর তার ভাইটির জঘন্য অভ্যাস ছিল, যখনই সে শুনত যে,
কারোর কাছে কোন একটি ভাল জিনিস আছে, সেখানে সে লোক প্রেরণ করত এবং তার
থেকে তা ছিনিয়ে নিত, ঐ বস্তুটি সম্পদ হোক কিত্বা মহিলা হোক কিৎবা ছোল-মেয়ে হোক
কিংবা চতুষ্পদ ত্তস্থে হোক কিংবা অন্য কিছু হোক ৷ কুতায়বা তার সাহায্য করার জহ্বন্য এগিয়ে
আসলেন এবং আল্লাহ তাআলা তাকে বিজয় দান করলেন ৷ তখন খাওয়ারিযম শাহ যেসব
জিনিসের শর্তে সন্ধি করেছিলেন তার সব কিছুই কুতায়বার কাছে সমর্পণ করেন ৷ কুতায়বাহ্
খাওয়ারিযম শাহের ভাইয়ের শহভৈর সৈন্য প্রেরণ করেন ৷ তারা শত্রুদের বহু লোককে হত্যা
করে, তার ভাইকে বন্দী করে যার সাথে ছিল চার হাজার প্রবীণ বন্দী এবং তাকে তার ভইিয়ের
কাছে সোপর্দ করে ৷ তুর্কী ও অন্যান্য দুশমনদেরকে ভীতসন্ত্রস্ত করার জন্যে কুতায়বা বন্দীদের
সম্পর্কে আদেশ দিলেন যে, তাদেরকে হত্যা করা হোক : তার সামনে দুই হাজার, ডানে দুই
হাজার, বামে দুই হাজার এবং পিছনের দিক দিয়ে দুই হাজারকে যেন হত্যা করা হয় ৷ আর
তইি করা হলো ৷

সমরকন্দ বিজয়

উপরোক্ত কার্যকলাপ থেকে কুতায়বা যখন অবসর গ্রহণ করেন, তখন তিনি তার দেশে
ফিরে যাওয়ার মনস্থু করেন ৷ তখন তাকে একজন আমীর বললেন, সুপদেৱ বাসিন্দারা
আপনাকে শুধু এ এক বছরের জন্যেই নিরাপত্তা দিয়েছে ৷ এখন যদি আপনি তাচদ্যা দিকে
অগ্রসর হতে চান এ অবস্থায় যে, তারা তা জানে না তাহলে এখনই সময়ং৷ আপনি যদি তা
করেন তাহলে চিরদিনের জন্য আপনি তা নিয়ে নিতে পারেন ৷ কুতায়বা তখন এ আমীরাক
বললেন, তুমি কি একথাটি কাউকে বলেছ ? সে বলল, না’ ৷ কুতায়বা বললেন, যদি একথাটি
কেউ তোমার থেকে শুনে থাকে, তাহলে আমি তোমাকে হত্যা করব ৷ তারপর কুতইিৰা তার
ভইি আবদুর রহমান, ইবন মুসলিমকে ২০ (বিশ) হাজার সৈন্য সহ সামনের দিকে প্রেরণ
করেন ৷ তার তাই তার পুর্বেই সমরকন্দ পৌছে ৷ অবশ্য কুতায়বা বাকী সৈন্যদ্যোকে নিয়ে তার
সাথে মিলিত হন ৷ ভুর্কীরা যখন তাদের দিকে মুসলমানদের আগমনের কথা শুনল, তখন তারা
তাদের সাহসী বাদশাহ্ ও আমীরদের সম্ভানদেরকে তাদের মধ্য থেকে নির্বাচন করলেন এবং
তাদেরকে আদেশ করলেন যেন তারা রাতের অন্ধকারে কুতায়বার দিকে অগ্রসর হন ৷ এবং
মুসলিম সৈন্যদের ছিন্নভিন্ন করে দেন ৷ তাদের এ দুরভিসন্ধির সংবাদ যখন কুতায়বার কাছে
পৌছে তখন তিনি তার ভাই সালিহ্কে ছয়শত সাহসী অশ্বারোহী সৈন্য সহকারে প্রেরণ করেন
এবং নির্দেশ দেন যে, “তাদেরকে রাস্তায় পাকড়াও কর ৷ ” তখন তারা অগ্রসর হলো এবং তারা
রাস্তার মধ্যে দাড়িয়ে গেল ৷ আর তারা নিজেদেরকে তিনটি ভাগে বিভক্ত করল ৷ তখন শত্রু
সৈন্যরা রাতের অন্ধকারে তাদেরকে অতিক্রম করতে যাচ্ছিল, তারা মুসলিম সৈন্যদের উপস্থিতি
সম্বন্ধে পুরাপুরি অজ্ঞ ছিল, তখনই মুসলিম সৈন্যরা তাদের উপর হামলা চালাল ও তাদেরকে
হত্যা করল ৷ মাত্র কিছু সংখ্যক তুর্কী সৈন্য বাকী রইল এবং তারা নিহত সৈন্যদের মাথা কেটে
নিল ও তাদের সাথে সোনা দিয়ে মােড়ানাে যে সব হাতিয়ার ছিল এবং আসবাবপত্র ছিল তারা
সবকিছু গনীমত হিসেবে লাভ করল ৷ তাদের কেউ কেউ তাদেরকে বলল, তোমরা জেনে
রেখো, এ জায়গায় তোমরা যাদেরকে হত্যা করেছ তারা সকলেই রাজপুত এবং হাতে গোনা
সাহসী একশত কিংবা এক হাজার অশ্বারোহী সৈন্য ৷ তখন কুতায়বা শত্রু সৈন্যদের থেকে প্রাপ্ত
সমুদয় স্বর্ণও অক্কুদ্বশস্ত্র গনীমত হিসেবে মুসলিম সেনাদেরকে অর্পণ করেন এবং সুগদের বড় শহর
সমরকন্দের নিকটবর্তী হলেন ৷ সেখানে পাথর নিক্ষেপণ যন্ত্র স্থাপন করেন এবং প্রস্তর নিক্ষেপ



Execution time: 0.02 render + 0.00 s transfer.