Login | Register

আল বিদায়া ওয়ান্নিহায়া - খন্ড ৯

পৃষ্ঠা ১৪৪ ঠিক করুন


৯২ হিজরীর আগমন

এ বছরে মাসলামা ও তার ভাতিজা উমর ইবন আলওয়ালীদ রোমের শহরগুলোতে যুদ্ধ
করেন ৷ তারা বহু দুর্গ ও প্রচুর যুদ্ধলব্ধ সম্পদ অর্জন করেন ৷ রোমের অধিবাসীরা তাদের থেকে
পালিয়ে গিয়ে তাদের দেশের প্রত্যন্ত এলাকায় পৌছে ৷ মুসা ইবন নুসায়রেৱ আযাদকৃত
গোলাম, তারিক ইবন যিয়াদ ১২ হাজার সৈন্য নিয়ে আন্দুলুসের শহরগুলোতে যুদ্ধ করেন ৷
আন্দুলুন্সেৰু রাজা আযরীকুন তার বিরাট সেনাবাহিনী, মাথার মুকুট ও সিংহাসন নিয়ে ঘর থেকে
বের হয়ে পড়েন ৷ তারিক তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন ও তাকে পরাজিত করেন এবং তার সেনা
বাহিনীতে যে সব জিনিসপত্র ছিল তা যুদ্ধলব্ধ সম্পদ হিসেবে অর্জন করেন ৷ এগুলোর মধ্যে
প্রধান ছিল তার সিংহাসন ৷ তিনি আন্দুলুসের শহরগুলোকে পরিপুর্ণতাবে দখল করে নেন ৷

আয-যাহাবী বলেন, তারিক ইবন যিয়াদ তানজাহ এর আমীর ছিলেন ৷ আরত ৷ছিল
মরক্কোর সীমান্তে অবস্থিত ৷ তিনি তার প্রভু মুসা ইবন নুসায়রের নায়িব ছিলেন ৷ তার কাছে ’
সবুজ দ্বীপের গভার শত্রুর বিরুদ্ধে সাহায্য চেয়ে পত্র লিখেন ৷ তারিক আন্দুলুস দ্বীপে সাবতাত
প্রণালী দিয়ে প্রবেশ করেন ৷ ফ্রান্সবাসীরা নিজেদের মধ্যে গৃহযুদ্ধে সিং! থাকায় তারিক সুযোগ
পেয়ে গেলেন এবং আক্বাসেয় শহরগুলোতে পুরাপুরি মান্যাযাগ দিলেন ৷ তিনি কর্তোভা জয়
করেন এবং তার প্রশাসক আদরীনুককে হত্যা করেন ৷ আর তারিক, মুসা ইবন নুসায়রকে
বিজয়ের সং বাদ জ্ঞাপন করে পত্র লিখলেন ৷ তখন মুসা একক বিজয়ের জন্যে তারিকের হিংসা
করেন ৷ আল-ওয়ালীদের কাছে বিজয়ের সংবাদ প্রেরণ করেন ৷ কিন্তু বিজরক্কক নিজের বলে দাবী
করেন আর তারিকের কাছে পত্র লিখেন এবং তার অনুমতি ব্যতীত অগ্রসর হওয়ায় দােষাবরাপ
করেন ও সেখানে না পৌছা পর্যন্ত সেখানটা অতিক্রম করার জন্য নিষেধ করলেন ৷ তারপর
তিনি তার স্লেনাবাহিনী নিয়ে দ্রুত অগ্রসর হলেন এবং তার সাথে হাবীব ইবন উবায়দাহ্ আল-
ফিহরীকে নিয়ে আন্দুলুস প্রবেশ করেন৷ আন্দুলুসের শহরগুলোকে জয় করার জন্যে তিনি
সেখানে কয়েক বছর অবস্থান করেন ৷ বিভিন্ন শহর ও প্রচুর সম্পদ দখল করেন ৷ পুরুষদেরকে
হত্যা করেন, মহিলা ও শিশ্যুদরকে বন্দী করেন ৷ সীমাহীন, সংখ্যাহীন ও বিবরণহীন গনীমত
অর্জন করেন ৷ সেগুলোর মধ্যে ছিল মুক্তা, রুবী পাথর, স্বর্ণ-রৌপ্য, স্বর্ণ ও রৌপোৱ পাত্র,
আসবাবপত্র, অশ্বাদি, খচ্চর ইত্যাদির ন্যায় বহু জিনিসপত্র ৷ বিভিন্ন ও প্রচুর বড় বড় প্রদেশ ও
শহর জয় লাভ করেন ৷ মাসলামাহ ও তার ভাতিজা, উমর ইবন আল-ওয়ালীদ ণ্রামের
শহরগুলোর যে সব দুর্গ জয় করেছেন এগুলোর মধ্যে প্রসিদ্ধ ছিল সুসিনাহ দুর্গ ৷ তারা দৃইজনে
জয়লাভ করতে করতে কুসতানতানীয়ার উপসাগর পর্যন্ত পৌছে যান ৷

এ বছরেই কুতায়বা ইবন মুসলিম শুমান, কাশ ও নাসাফ জয় করেন ৷ ফারইয়ারের ;
বাসিন্দারা তার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তৃললে তিনি তাদেরকে পুড়িয়ে দেন এবং তার ভাই
আবদুর রহমানকে এসব শহরের বাদশাহ্ তারখুন কান ও সুগদের দিকে প্রেরণ করেন ৷ আবদুব্ ;
রহমান তার সাথে সন্ধি করেন এবং তাকে তারথুন খান’ প্রচুর সম্পদ প্রদান করেন ৷ তিনি
তখন তার ভাইয়ের কাছে বুখারায় আগমন করেন ৷ পরে মড়ারভের দিকে প্রত্যাবর্তন করেন ৷
তারবুন খান আবদুর রহমানের সাথে সন্ধি করেন ও তার থেকে বিদায় নেন ৷ সুগদের
বাসিন্দারা একত্রিত হন ও তারবুনীকে বলতে লাগলেন, তুমি অপমানের বোঝা উঠিয়ে নিরেছৰুছুর্চু
কর আদায় করছ আর তুমি হচ্ছ বৃদ্ধ ৷ তোমার মধ্যে আমাদের কোন প্রয়োজন নেই ৷ তারপরস্টু


পৃষ্ঠা ১৪৫ ঠিক করুন

তারা তাকে বরখাস্ত করে এবং তারঘুন খানের ভাই সুরাক খানকে তারা তাদের আমীর নিযুক্ত
করে ৷ তারপর তারা বিদ্রোহ করে ও চুক্তি তংগ করে ৷ তাদের পরবর্তী সংবাদ পরে বর্ণিত
হবে ৷

, এ বছরেই কুতায়বা সিজিস্তানে যুদ্ধ করেন ৷ উদ্দেশ্য হলো ভুর্ক আজমের বাদশাহ
রুতবীলকে পরাস্ত করা ৷ তখন তিনি রুতবীলের প্রথম রাজ্যে পৌছেন, তখন তার দুতগণ
কুতারবার কাছে পৌছে প্রচুর সম্পদ, ঘোড়া, গোলাম ও শাহী মহিলাদের বিনিময়ে সন্ধির
প্রস্তাব পেশ করে ৷ তখন তিনি রুতবীলের সাথে সন্ধি করেন ৷ এ বছরেই পবিত্র মদীনায় নইিব
উমর ইবন আবদুল আযীয লোকজনকে নিয়ে হজ্জ আদায় করেন ৷ এবছরে যে সব ব্যক্তিতু ,
ইনৃতিকাপ্স করেন ৷ তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন, আবু সাঈদ মালিক ইবন আওস ইবন আল
হাদছান আননাযরী আলমাদানী ৷ তার সাহাবী হওয়ার ব্যাপারে ঐতিহাসিকদের মাঝে

মতবিরোধ রয়েছে ৷ কেউ কেউ বলেন, তিনি জাহিলিয়াতের যুগে সাওয়ারীতে আরোহণ
করেছেন এবং হযরত আবু বাকর সিদ্দীক (রা)-কে দেখেছো ৷ মুহাম্মদ ইবনসাদ (র) বলেন,
তিনি রাসুলুল্লাহ্ (সা) ৫ক দেখেছেন ৷ তবে রাসুলুল্লাহ্ (না) হতে তিনি কোন হাদীস সংগ্রহ
করেন নাই ৷ ইবনু মুঈন, ইমাম বুখারী এবং আবু হাতিম এ অভিমতে র বিরোধিতা করেন ৷
ঐতিহাসিকগণ মনে করেন, তার সাহাবী হওয়ার ব্যাপারটি শুদ্ধ নয় ৷ তিনি এ বছরেই
ইনুতিকাস করেন ৷ আবার কেউ কেউ বলেন, পুর্ববর্তী বছর তিনি ইনৃতিকাল করেন ৷ মহান
আল্লাহ্ অধিক পরিজ্ঞাত ৷

ণ্ তুওনারস্ দাস্-মুপলী
তীর পুর্ণ নাম আবু আবদুল যুনইম ঈসা ইবন আবদুল্লাহ আল-মাদানী, বনু মাখযুমের
মিত্র ৷ তিনি তার পেশার ছিলেন দক্ষ ৷ তিনি ছিলেন অস্বাভাবিক লম্বা ও টেরাচক্ষু বিশিষ্ট ৷ তিনি
ছিলেন অপয়া ৷ কেননা, যেদিন রাসুলুল্পাহ্ (সা) ইনৃতিকাল করেন তিনি ঐদিন জন্মগ্রহণ
করেন ৷ যেদিন হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রা) ইনৃতিকাল করেন তিনি ঐদিন থেকে মাতৃদুগ্ধ
ছেড়েছিলেন ৷ যে দিন হযরত উমর (রা) শহীদ হন, তিনি ঐদিন বয়ােপ্রাপ্ত হন ৷ যেদিন হযরত
উছমান (রা) শহীদ হন তিনি সেদিন বিয়ে করেন ৷ যেদিন হযরত ইমাম হুসায়ন (রা) শাহাতে
বরণ করেন, সেদিন তার প্রথম সন্তান জন্ম নেয় ৷ কেউ কেউ বলেন, যেদিন হযরত আ ৷লী (রা)
শহীদ হন, সেদিন তার প্রথম সন্তান জন্ম নেয় ৷ উপরোক্ত বর্ণনাটি ইবন খাল্লিকান ও অন্যরা
পেশ করেন ৷ এ বছরেই তিনি ৮২ বছর বয়সে সাবীদে ইনৃতিকাল করেন যা পবিত্র মদীণ্ম্ ৷
থেকে ৩২ মাইল দুরে অবস্থিত ৷
আল-আখতাল ছিলেন একজন পুর্ণাৎগ করি ৷ কবিতায় তিনি তার সমকালীন কবিদের
, মধ্যে শ্রেষ্ঠ ছিলেন ৷

৯৩ হিজরীর প্রারশু

এ বছরেই মাসলামাহ্ ইবন আবদুল মালিক রোম সাম্রাজেব্রর বহু দুর্গ জয় করেন ৷

এগুলোর মধ্যে আল-হাদীদ, পাযালা, মনসা ইত্যাদি প্রসিদ্ধ ৷ এ বছরেই আল আব্বাস ইবন

, আল ওরনীিদ যুদ্ধ করেন ও সামসাভীয়৷ জয়লাভ করেন ৷ এ বছর মারওয়ান ইবন আল ওয়ালীদ

রোমে যুদ্ধ করেন ৷ এবং হানজারাহ পর্যন্ত পৌছেন ৷ এ বছরেই খাওয়ারিযম শাহ কুতায়বার

কাছে পত্র শিখে সন্ধির দিকে আহবান করেন এ শর্তের উপর যে, তিনি তার দেশের কয়েকটি
শহর তাকে প্রদান করবেন ৷ আর তাকে বহু সম্পদ ও গোলাম প্রদান করার অ গীক৷ ৷র করেনএ



Execution time: 0.01 render + 0.00 s transfer.