Login | Register

আল বিদায়া ওয়ান্নিহায়া - খন্ড ৯

পৃষ্ঠা ১৩৩ ঠিক করুন


আবদুল্লাহ ইবন ৰুসৱ ইবন আবু ৰুসৱ আস-মাযানী (র) ,

তিনি তার পিতার ন্যায় একজন সম্মানিত সাহাবী ছিলেন ৷ হিমৃসে বসবাস করতেন ৷ এক
জামাআত তাবিঈ তার থেকে হাদীস বর্ণনা করেন ৷ আল্লামা আল ওয়াকিদী বলেনঃ ংতিনি এ
বছরে ৯৪ বছর বয়সে ইনৃতিকাল করেন ৷ কেউ কেউ বলেন, তিনি সিরিয়ার সর্বশেষ সাহাবী
হিসেবে ইনৃতিকাল করেন ৷ হাদীসে বর্ণিত রয়েছে যে, তিনি এক শতাব্দী জীবিত থাকবেন ৷
তইি তিনি একশত বছর জীবিত ছিলেন ৷

আবদুল্লাহ ইবন আবু আওফা (বা)

তার পুর্ণ নাম ছিল আবদ্বস্লাহ্ ইবন আবু আওফা আলকাম৷ ইবন খালিদ ইবন আল-হারিছ
আলখুযাঈ ও পরে আল-আসলামী ৷ তিনি একজন সম্মানী সাহাবী ছিলেন ৷ তিনি ছিলেন কুফায়
জীবিত সর্বশেষ সাহাবী ৷ আল্লামা ইমাম বুখারীর অভিমত অনুযায়ী তার মৃত্যু হয়েছিল ৮৯
,কিশৃহ্বা ৮৮ হিজরীতে ৷ আল্পামা ওয়াকিদী ও একাধিক ব্যক্তির মতে তিনি ৮৬ হিজরীতে
ইনৃতিকাল করেন ৷ তিনি শতবহ্ব অতিক্রম করেন ৷ আর কেউ কেউ বলেন, একশত বছরের
নিকটবর্তী হয়েছিলেন ৷

হিশাম ইবন ইসমাঙ্গস্

তার পুর্ণ নাম হিশাম ইবন ইসমাঈল ইবন হিশাম ইবন আল-ওয়ালীদ আল-মাখবুমী
আল-মাদানী ৷ তিনি আবদুল মালিক ইবন মারওয়ানের শ্বশুর ফুলের আত্মীয় ও পবিত্র মদীনায়
নাইব ছিলেন ৷ তিনিই সাঈদ ইবনুল মুসাব্যিব (র)-কে প্রহার করেছিলেন ৷ তারপর তিনি
দামেশৃকে আগমন করেন এবং সেখানে ইনৃতিকাল করেন ৷ তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি
দামেশৃক্যে৷ জামে মসজিদে কুরআন শিক্ষার প্রচলন শুরু করেন ৷

উমায়ৱ ইবন হাকীম

তিনি হলেন : উমায়র ইবন হাকীম আল-আনাসী আশ-শামী ৷ তার বর্ণিত একটি হাদীস
রয়েছে ৷ তিনি এবং আবল আবইয়ায ইবন ঘুহায়রীয ব্যতীত অন্য কেউ সিরিয়ার হাজ্জাজের
দোষ-ত্রুটি ধরতে পারেনি ৷ তিনি এ বছরেই রোম শহর তাওয়ানার যুদ্ধে নিহত হন ৷

৮৯ হিজরীয় আগমন

এ বছরেই মাসলামা ইবন আবদুল মালিক ও তার চাচাতাে ভাই আল-আব্বাস রোমের
শহরগুলােতে যুদ্ধ করেন ৷ বহু লোককে হতাহত করেন এবং বহু দুর্গ জয়লাভ করেন ৷ এগুলোর
মধ্যে সুরিয়া, উমুরিয়া, হারকিলা ও কামুদিয়া দুর্গ প্রসিদ্ধ ৷ তারা প্রচুর যুদ্ধলব্ধ সম্পদ লাভ
করেন ও সেনাবাহিনীর একটি বিরাট দলকে বন্দী করেন ৷ এ বছরেই কুতায়ব৷ ইবন মুসলিম
আস-সুগদের শহরসমুহ, নসফ ও কাশ শহরে যুদ্ধ করেন ৷ সেখানে তার সাথে বহু তৃকীরাি
মুকাবিলা করে ৷ তিনি তাদের উপর জয়লাভ করেন ও তাদের অলেককে হত্যা করেন ৷ তারপর
তিনি বুখারার দিকে প্রত্যাগমন করেন ৷ সেখানেও বহু তুর্কী সৈন্য তার সাথে মুকাবিলা করে ৷
তিনি দৃই দিন দুই রাতে খিরকান নামক এক জায়গায় তাদেরকে পরাস্ত করেন ও তাদেরকে
হত্যা করেন ৷ এ সম্পর্কে নাহার ইবন তাও সুআহ করি বলেন ং

“তাদের জন্যে খিরকান নামক স্থানে মৃত্যু রাত্রি যাপন করে আর খিরকানে আমার রাত্রও

হ্নিধ্ দীর্ঘস্থায়ী” ৷


পৃষ্ঠা ১৩৪ ঠিক করুন


তারপর বুখারার থাযা নামক স্থানে অবস্থিত ওয়ারদানের প্রতি কুতায়বাহ রওয়ানা হন ৷
ওয়ারদানের সাথে তুমুল যুদ্ধ হয় ৷ কিন্তু কুতায়বা জয়লাভ করতে পারেননি ৷ তাই তিনি
মারভের দিকে প্রত্যাবর্তন করেন ৷ হাজ্জাজের পত্র নিয়ে ডাক-হরকরা তার কাছে পৌছল ৷ পরে
তিনি তাকে ইসলামের দুশমন থেকে পালানাের জন্যে তিরস্কার করলেন ৷ তার কাছে লিখলেন
তিনি যেন হাজ্জাজের কাছে বুখারা শহরের নকশা প্রেরণ করেন ৷ তিনি তার কাছে নকশা প্রেরণ
করেন ৷ তখন হাজ্জাজ তাকে লিখল তিনি যেন তথায় ফেরত যান, গুনাহ থেকে আল্লাহর কাছে
তাওবা করেন এবং অমুক অমুক জায়গা দিয়ে সেখানে আক্রমণ করেন ৷ ধোকাবাযী না করেন
ও রন্তোঘাট নষ্ট না করেন ৷

এ বছরেই আল-ওয়ালীদ ইবন আবদুল মালিক, খালিদ ইবন আবদুল্লাহ আল-কাসরীকে
পবিত্র মক্কার আমীর নিযুক্ত করেন ৷ তখন তিনি আল-ওয়ালীদের হুকুমে তাওয়া গিরিপথ ও
আল-হাজুন গিরিপথের মধ্যে একটি কুয়া খনন করেন ৷ এ কুয়ায় মিঠা ও পবিত্র পানি আসতে
লাগল এবং জনগণও তার পানি পান করতে লাগল ৷

আল্লামা আল-ওয়াকিদী (র) বর্ণনা করেন ৷ তিনি বলেন, বনু মাখযুমের আযাদকৃত
গোলাম নাফি হতে উমর ইবন সালিহ্ বর্ণনা করেন ৷ তিনি বলেন, আমি খালিদ ইবন
আবদুল্লাহ আল-কাসরী হতে শুনেছি ৷ তিনি জনগণকে খুত্বাহ্ দেওয়ার সময় পবিত্র মক্কার
মিম্বরে দাড়িয়ে বলেন : হে মানবমওলী ! কে বড় ? এক ব্যক্তি জনগণের খলীফা আর অন্যজন
হলেন তাদের কাছে প্রেরিত রাসুল ৷ আল্লাহর শপথ, তোমরা কেন খলীফার গ্রেষ্ঠতৃ বুঝতেছ না ?
তবে হযরত ইবরাহীম খালীলুল্লাহ্ পানি চেয়েছিলেন ৷ তাকে লবণাক্ত পানি দান করা হয়েছিল ৷

আর খলীফা পানি চেয়েছিলেন তাকে মিঠ৷ পানি দান করা হয়েছিল ৷ অর্থাৎ তিনি তাওয়া
গিরিপথ ও আল-হাজুন গিরিপথে কুয়া খনন করেছিলেন এবং তা দিয়ে পানি বহন
করতেছিলেন ৷ আর যমযমের পাশে নির্মিত একটি চামড়ার হাউসে সংরক্ষিত রাখতেছিলেন
যাতে যমযমের উপর খননকৃত কুয়ার শ্রেষ্ঠতু প্রমাণিত হয় ৷ বর্ণনাকারী বলেন, পরে এ কুয়াটি
শ্ন্ষ্ট হয়ে যায় ও তার পানি শুকিয়ে যায় ৷ আজ পর্যন্ত তার সঠিক স্থান আর খুজে পাওয়া যায়নি ৷
উপরোক্ত বর্ণনাটির সনদ গয়ীব বা দুর্বল ৷ আর যদি এরুপ ঘটনা-ও কথা শুদ্ধ হয়ে থাকে,
তাহলে এটা কুফরীর শামিল ৷ আল্লামা ইবন কাসীর (র) বলেন : অহ্মোর অভিমত হল খালিদ
ইবন আবদুল্লাহ হতে এরুপ কোন কথা শুদ্ধরুপে বর্ণিত হয়নি ৷ আর যদি শুদ্ধ হয় তাহলে সে
আল্লাহর দুশমন ৷ হাজ্জাজ ইবন ইউসুফ থেকেও এরুপ বর্ণনা রয়েছে বলে কেউ কেউ মনে
করেন ৷ হাজ্জাজ ইবন ইউসুফ নাকি খলীফাকে মহান আল্লাহ্র প্রেরিত রাসুল হতে (শ্রষ্ঠ মনে
করত ৷ উপরোক্ত কথাগুলোর উচ্চারণকারী কুফরীর শিকার হয়ে ৷

এ বছরেই কুতায়বা ইবন মুসলিম আবার তৃর্কীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন ৷ এমনকি আবার
,বায়জান এলাকায় বাবুল আবওয়াব পর্যন্ত তিনি পৌছে যান সেখানে তিনি অনেকগুলো দুর্গও
শহর জয়লাভ করে ৷ এ বছরেই উমর ইবন আবদুল আযীয জনগণকে নিয়ে হজ্জ্বব্রত পালন
করেন ৷ ওস্তাদ আযযাহাবী (র) বলেন, এবছরেই সাকলিয়া ও মিউরাকা কেউ কেউ বলেন,
মীরকা বিজয় হয় ৷ এ দুটো দ্বীপ সাগরে অবস্থিত ৷ আন্দালুস শহরের থাদরা ও সাকলিয়া দ্বীপের
অম্ভগ্তি ৷ এবছরেই মুসা ইবন নুসায়র তার ছেলেকে ফ্রান্সের শহর আল-নড়াকরীসে প্রেরণ
করেন ৷ তিনি সেখানে অনেকগুলো শহর জয় করেন ৷ এবছরে যেসব ব্যক্তিত্ব মৃত্যুবরণ করেছেন
তাদের মধ্যে একজন হলেন আবদুল্লাহ ইবন ছালাবা ইবন সুআয়র ৷ তিনি একজন দোষযুক্ত
তাবিঈ ও কবি ছিলেন ৷ কেউ কেউ বলেন, তিনি রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর সাক্ষাত পেয়েছেন এবং
রাসুলুল্লাহ্ (না) তার মাথা মাসেহ করেছেন ৷ আল্লামা যুহবী (বা তার থেকে বংশপরম্পরার
জ্ঞান অর্জন করতেন ৷


পৃষ্ঠা ১৩৫ ঠিক করুন


৯০ হিজরীর আগমন

এ বছরেই মাসলামা ইবন আবদুল মালিক এবং আল আব্বাস ইবন আল ওয়ালীদ রোমের
শহরগুলোতে যুদ্ধ করেন ৷ দুইজনে মিলে রোমের বহু দুর্গ জয় করেন, বহু লোককে হত্যা
করেন, প্রচুর গনীমত অর্জন করেন এবৎ বহু লোককে বন্দী করেন ৷

এ বছরেই রােমীয়রা নাবিক খালিদ ইবন কায়সানকে বন্দী করে এবং৩ তারা তাকে নিয়ে
তাদের বাদশাহর কাছে পৌছে ৷ তখন রোমের বাদশাহ তাকে আল ওয়ালীদ ইবন আবদুল
মালিকের কাছে হাদিয়া স্বরুপ প্রেরণ করেন ৷

এ বছরেই আল-ওয়ালীদ তার ভাই আবদুল্লাহ্ ইবন আবদুল মালিককে মিসরের আমীরের
পদ হতে বরখাস্ত করেন এবৎ কুৰ্বাহ ইবন শুরায়ককে সেখানের আমীর নিযুক্ত করেন ৷

এ বছরেই মুহাম্মদ ইবন আল-কাসিম সিন্ধুর রাজা দাহিৱ ইবন সাসসাহকে হত্যা করেন ৷
আর এই মুহাম্মদ ইবন আল-কাসিম হাজ্জাজের তরফ থেকে সেনাপ্রধান নিযুক্ত হয়েছিলেন ৷

এ বছরেই কুতায়বা ইবন মুসলিম বুথারা শহর জয়লাভ করেন এবং তুর্কীয় সকল
দৃশমনদেরকে পরাজিত করেন ৷ তাদের মধ্যে বহু ঘটনা ঘটেছে যার বর্ণনা অত্যন্ত ণ্ডুদীর্ঘ ৷ ইবন
জারীর তা বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন ৷

এ বছরেই বুখারা বিজয়ের পর সুগদের বাদশাহ তারখুন কুতায়বার কাছে প্রতিবছর প্রচুর
সম্পদ প্রদানের শর্তে সন্ধি করার আবেদন জানায় ৷ এ আবেদনে কুতায়বা সাড়া দেন এবং এ
ব্যাপারে তার থেকে সন্ধি গ্রহণ করেন ৷ প্

এ বছরেই ওয়ারদান খামার জন্যে তুর্কীদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করেন ৷ চর্তৃদিক থেকে
তারা তার সাহায্যে আগমন করেন ৷ এটাকে কুতায়বা গ্রহণ করার পর ওয়ারদানই এখন
ৰুখারার কর্ণধার ৷ ওয়ারদান খাযাহ্র পক্ষে সংগ্রাম করে এবং মুসলমানদের বিরুদ্ধে হামলা
করে ৷ আর তাদেরকে চুর্ণ-বিচুর্ণ করতে চায় ৷ তারপর মুসলমানের৷ ওয়ারদানও তার সাথীদের
উপর হামলা করে এবং তাদের সাথে প্রচণ্ড যুদ্ধ হয় ৷ কুতায়বা সুগদের বাদশার সাথে সন্ধি
করেন ৷ আর অন্য দিকে বুখারা ও তার দুর্গগুলো জয়লাভ করেন ৷ কুতায়বা৩ তার সৈন্যদল নিয়ে
নিজ শহরে প্রত্যাবর্তন করেন ৷ হাজ্জাজ তাকে এ ব্যাপারে অনুমতি প্রদান করেন ৷ যখন তিনি
তার নিজ শহরে প্রত্যাবর্তন করেন ৷ তখন তার কাছে সংবাদ পৌছে যে, সুগদের বাদশাহ্ তুর্কী
বাদশাহদের বলেছেন যে, আরবরা চোর, যদি তাদেরকে কিছু দান কর এটা নিয়ে এরা চলে
যাবে ৷ আর কুতায়বাহ্ও এরুপভাবে রাজ্য বিস্তা ৷রের আশা পোষণ করে ৷ যদি তারা তাকে কিছু
দান করে তা নিয়ে নিয়ে এবং তাদের থেকে প্রত্যাবর্তন করবে ৷ কুতায়বা বাদশাহও নয় এবং
রাজতুও দাবী করবে না ৷ যখন এ কথা কুতায়বার কাছে পৌছল, তখন সে তাদের কাছে
প্রত্যাবর্তন করল ৷ তুর্কী বাদশাহ্ নাইযাক মাওরাউন নাহার’-এর অন্যান্য বাদশাহ্ যেমন
তালেকানের বাদশার কাছে পত্র লিখে জানাল ৷ তিনিও কুতইিবার সাথে সন্ধি করেছিলেন ৷ তার
ও কুতায়বার মধ্যে যে সন্ধি ছিল যে তা ভৎগ করল এবৎ তার বিরুদ্ধে সকল বাদশার কাছে
সাহায্য প্রার্থনা করল ৷ তার সাহায্যে বহু বাদশা এগিয়ে আসল ৷ যারা কুতায়বার সাথে সন্ধি
করেছিল তারা সকলে সন্ধি ভৎগ করল এবং কুতায়বার বিরুদ্ধে তারা সৎঘবদ্ধ হল ৷ তারা
রাবীউল আউয়াল মাসে হামলা করার প্রস্তুতি নিতে লাগল ৷ একে অন্যের সাথে যোগাযোগ
স্থাপন করে একথার উপর ওয়াদা অঙ্গীকার করতে লাগল যে, আগামী বছরের বসম্ভকালেশ্তারা



Execution time: 0.02 render + 0.00 s transfer.