Login | Register

আল বিদায়া ওয়ান্নিহায়া - খন্ড ৯

পৃষ্ঠা ১২৯ ঠিক করুন

স্বর্ণ ও রুপার পাত্র ও স্বর্ণের মুর্তি যুদ্ধলব্ধ সম্পদ হিসেবে লাভ করে ৷ এগুলোর মধ্যে একটি
ছিল সাবাক নামী একটি মুর্তি তার থেকে এক লাখ পঞ্চাশ হাজার দীনার মুলামান স্বর্ণ পাওয়া
গিয়েছিল ৷ রাম্বীয় কােষাপারে মুসলমানগণ প্রচুর সম্পদ, বহুসংখ্যক বিভিন্ন রকমের অস্ত্রশস্ত্র
পেয়েছিল ৷ তারা প্রচুর পরিমাণ বন্দীও পেয়েছিল ৷ কুতায়ব৷ যুদ্ধলব্ধ সম্পদ, সেনা সদস্যদেৱকে
প্রদান করার জন্যে হাজ্জাজের কাছে পত্র লিখলেন ৷ হাজ্জাজ তাকে অনুমতি দিলেন ৷ ফলে,
মুসলমানগণ সম্পদশালী হলেন ৷ শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার শক্তি অর্জন করলেন ৷ তাদের
প্রত্যেকের কাছে প্রচুর সম্পদ জমা হয় ৷ তারা বিভিন্ন রকম প্রচুর পরিমাণ অস্ত্র ও ;ঘাড়ায়
অধিকারী হন ৷ এভাবে তারা সীমাহীন শক্তির অধিকারী হন ৷ মহান আল্লাহর জন্যে সমস্ত
প্রশং না ও কৃতজ্ঞতা

এ বছরেই পবিত্র মদীনায় নাইব উমর ইবন আবদুল আযীয (র) জনগণকে নিয়ে হজ্জব্রত
পালন করেন ৷ ভাষায় তার কাযী ছিলেন আবু বকর ইবন মুহাম্মদ ইবন আসর ইবন হাযাম ৷
ইরাক ও সমস্ত পুর্বাঞ্চল ছিল হাজ্জাজের অধীনে ৷ বসরার নায়িব ছিলেন আল জার্বাহ ইবন
আবদুল্লাহ আল হাকামী ৷ তথায় কাযী ছিলেন আবদুল্লাহ ইবন উয়ায়নাহ ৷ কুফায় যুদ্ধের
পরিচালনায় ছিলেন ষিয়াদ ইবন জায়ীর ইবন আবদুল্লাহ আল-বাজালী ৷ তপায় কাষী ছিলেন
আবু বকর ইবন আবু মুসা আল-আশআরী ৷ খুরাসান ও তার বিভিন্ন অংশের নাইব ছিলেন
কুতায়ব৷ ইবন মুসলিম ৷ এ বছরে যে সব ব্যক্তিত্ব ইনৃতিকাল করেন তাদের মধ্যে নিম্নবর্ণিত
ব্যক্তিবর্গ সুপ্রসিদ্ধ :

উতবা ইবন আবদ্ আল্-সুলার্মী (বা)

তিনি একজন সম্মানী সাহাবী ৷ হিমসে তিনি বসবাস করেন ৷ বর্ণিত রয়েছে যে, বনু
কুরায়যার যুদ্ধে তিনি অংশগ্রহণ করেছিলেন ৷ আল-ইরবায (বা) হতে বর্ণিত ৷ তিনি বলভেন,
তিনি ছিলেন আমার চেয়ে উত্তম ৷ আমার এক বছর পুর্বে তিনি মুসলমান হয়েছিলেন ৷ আল্লামা
ওয়াকিদী ও অন্যরা বলেন, তিনি এ বছরেই ইন্তিকাল করেন ৷ অন্যরা বলেন, ৯০ হিজরীর
পর তিনি ইনৃতিকাল করেন ৷ মহান আল্লাহ অধিক পরিজ্ঞাত ৷

আবু সাঈদ ইবনুল আরাবী বলেন, উতবা ইবন আবদ্ আসৃসুলামী আহলে সুফ্ফার
অন্তর্ভুক্ত ছিলেন ৷ বাকীয়াহ, বুজায়র, ইবন সা দ এবং তিনি, খালিদ ইবন মিদানের মাধ্যমে
উতবা ইবন আবদৃ আসৃ-সুলামী হতে বর্ণনা করেন ৷ তিনি বলেন রাসুলুল্লাহ্ (সা) বলেছেন, যদি
কোন ব্যজ্যিক তার জন্মদিন থেকে মৃত্যুদিন পর্যন্ত কিৎবা বৃদ্ধ বয়স পর্যন্ত মহান আল্লাহর
সন্তুষ্টির মাঝে টেনে হেচড়ে নেওয়া হয়, ত ৷হলেও কিয়ামতের দিন তাকে কিছুটা লাঞ্ছিত হতে
হবে ৷

ইসমাঈল ইবন অইিয়াশ (র) উতবা ইবন আবদুস সালামী (বা) হতে বর্ণনা করেন ৷ তিনি
বলেন : আমি রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর কাছে বস্ত্রহীনতার অভিযোগ উত্থাপন করলাম ৷ তখন তিনি
আমাকে দুটি বস্তার কাপড় প্রদান করলেন ৷ এখন তুমি আমাকে দেখছ আমি সাহাবায়ে

কিরামকে কাপড় পরিধান করাচ্ছি ৷

আল-মিকদাম ইবন মাদীকারব (বা)

তিনি একজন সম্মানী সাহাবী ছিলেন ৷ তিনিও হিম্সে বসবাস করেন ৷ তার বর্ণিত
অনেকগুলো হাদীস রয়েছে ৷ একাধিক তাবিঈ তার থেকে হাদীস বর্ণনা করেন ৷ মুহাম্মদ ইবন
সা দ আল-ফাল্লাস এবং আবু উবায়দাহ বলেন তিনি এ বছরে ইনৃতিকাল করেন ৷ অন্যান্যরা
বলেন : ৯০ হিজরীর পর তিনি ইনৃতিকাল করেন ৷ মহান আল্লাহ অধিক পরিজ্ঞাত ৷

১ ৭

পৃষ্ঠা ১৩০ ঠিক করুন

আবুউমামাতুল ৰাহিলী প্

তার নাম স্বাদা ইবন আজলান ৷ তিনি হিমৃসে বসবাস করেন ৷ তিনি তলকীনে মায়িক্লত
অর্থাৎ দাফনেয় পর মৃত ব্যক্তিকে কালিমা ইত্যাদি স্মরণ করিয়ে দেওয়ার হাদীসটির বর্ণনাকারী ৷
আত-তাবৃরানী এ হাদীসটিন্আদ-দুআ অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন ৷ আল-ওয়াফীয়াত নামক
কিতাবেও এর বর্ণনা এসেছে ৷

কাবীসা ইবন যুওয়ায়ব (রা) ,

তিনি হলেন, আবু সুফিয়ান আল-খাযায়ী আল-মড়াদানী ৷ তিনি পবিত্র মক্কা বিজয়ের বছর
জন্মগ্রহণ করেন এবং তার জন্যে দুআ করার নিমিত্তে তাকে রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর কাছে আনয়ন
করা হয় ৷ তিনি সাহাবায়ে কিরামের একটি বিরাট দল হতে হাদীস বর্ণনা করেন ৷ হড়ার্বাৱ দিন
তার চোখ নষ্ট হয়ে যায় ৷ তিনি পবিত্র মদীনায় ফকীহদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন ৷ খলীফা আবদুল
মালিকের কাছে তার একটি বিশেষ মর্যাদা ছিল এবং অনুমতি ব্যতীত তিনি তার কাছে প্রবেশ
করতেন ৷ দেশের বিভিন্ন শহর হতে পত্র এলে তিনি এগুলো পাঠ বহ্বতেন ৷ তারপর আবদুল
মালিকের দরবারে প্রবেশ করতেন এবং বিভিন্ন শহরে কি ঘটেছে সে সম্বন্ধে আবদুল মালিককে
সংবাদ পরিবেশন করতেন ৷ তিনি তার গোপন তথ্যের সংরক্ষণকারী ৷ দামেশৃক্যে৷ বাবুল বারীদে
তার একটি বাড়ী ছিল ৷ তিনি দামেশৃকে ইনতিকাল করেন ৷

উরওয়া ইবনুস মুগীরা ইবন শু’ৰাহ্

কুফায় তাকে হাজ্জাজের আমীর নিযুক্ত করা হয় ৷ তিনি ছিলেন ড্ড, বুদ্ধিমান এবং
জনগণের কাছে অনুকরণীয় ও অনুসরণীয় ৷ তিনি ছিলেন টেরা চক্ষুবিশিষ্ট ৷ তিনি কুফায়
ইনতিকাল করেন ৷ তিনি মারজ্ঞে৷ কাযী ছিলেন ৷ তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি কুরআনুল কারীমের
অক্ষরে নুকতার প্রবর্তন করেন ৷ তিনি ছিলেন বিদ্বান ও জ্ঞানী লোকদের অন্যতম ৷ তার সম্পর্কে
বহু ঘটনা ও বিষয়াদি বর্কিং রয়েছে ৷ তিনি ছিলেন বিশুদ্ধ ভাষাবিদদের অন্যতম ৷ তিনি আবুল
আসওয়াদ আদ্ দু ’লী থেকে আ ৷রবী ভাষা শিখেছেন ৷

কায়ী শুরায়হ ইবন আল-হাবিছ ইবন কায়স ,

তিনি জাহিলিয়াণ্ডে র যুগ পেয়েছেন ৷ হযরত উমর (রা) তাকে কুফায় কাযী নিয়োগ
করেন ৷ তিনি সেখানে ৬৫ বছর ক যী ছিলেন ৷ তিনি ছিলেন জ্ঞানী, ন্যায়বিচারক ও অধিক
কল্যাণকামী, সচ্চরিত্রবান ৷ তিনি ছিলেন খুব রঙ্গ রহস্যময়ী ৷ তার ছিল খুব কম দাড়ি ৷
চেহারায় কোন চুল ছিল না ৷ আবদুল্লাহ ইবন আয-যুবায়র আহনাফ ইবন কায়স এবং কায়স
ইবন সাদ ইবন উবাদাহও এরুপ ছিলেন ৷ তার বংশধারা, বয়স ও মৃত্যুর বছর নিয়ে মতভেদ
দেখা যায় ৷ ইবন খাল্লিকান এ বছর তার মৃত্যু হয়েছে বলে অগ্নাধিকার ভিত্তিতে বর্ণনা করেন ৷
আল্লাম৷ ইবন কাহীর (ব) বলেন, আমি ৭৮ হিজরীতে কাযী শুরায়হের মৃত্যু বর্ণনা করে
যেখানে বর্তমান বর্ণনা ব্যতীত বহুকিছু বর্ণনা করেছি ৷

৮৮ হিজরীর প্রাৱশু
এ বছরেই মাসলামাহ ইবন আবদুল মালিক ও তার ভাতিজা আব্বাস ইবন আল ওয়ালীদ
ইবন আবদুল মালিক আস সাইফার যুদ্ধ করেন ৷ তারা মুসলমানদেরকে সাথে নিয়ে এ বছরেই
জুমাদাল্-উলা মাসে তাওয়ান নাহ দুর্গ জয়লাভ করেন ৷ আর এ দুর্গটি ছিল দুর্ভেদ্য ৷ জনগণও তার
সমীপে তুমুল যুদ্ধ করে ৷ তারপর মুসলমানরা খৃস্টানদের উপর হামলা করেন ও তাদেরকে



Execution time: 0.01 render + 0.00 s transfer.