Login | Register

আল বিদায়া ওয়ান্নিহায়া - খন্ড ৯

পৃষ্ঠা ১০৫ ঠিক করুন

বলে সে তার বিছানার চাদর উপরে উঠাল ৷ আর অমনি তার তলোয়ার চকচক করতে লাগল ৷প্
উমর এটাকে হাতে নিল এবং এ তলোয়ার দিয়ে মুসার উপরে সজােরে আঘাত করল ৷ মুসা
মৃত্যুমুখে পতিত হলো এবং উমর অতি দ্রুত পালিয়ে গেল ৷ তারপর মুসার সাথী সংগীরা
ছত্রভঙ্গ হয়ে গেল ৷

ইবন জারীর বলেন, এ বছরেই আবদুল মালিক নিজের ডাই আবদুল আষীয ইবন
মারওয়ানকে মিসরীয় প্রদেশগুলোর শাসন ক্ষমতা থেকে বরখাস্ত করার মনস্থু করেন ৷ আররাওহ
ইবন যাম্বা আল-জুযামী এ কাজটি করার জন্যে প্রলুব্ধ করেন ৷ তারা এ দুইজন এ পরিকল্পনায়
লিপ্ত ছিলেন ৷ একরাত কাবীসা ইবন যুয়ায়ব তাদের কাছে প্রবেশ করল আর এ ব্যক্তির
প্রাসাদে প্রবেশের ব্যাপারে রাত দিনের পার্থক্য ছিল না ৷ তিনি তার ভাই আবদুল আষীয
সম্পর্কে সহ্াৰুতুতি প্রকাশ করলেন ৷ এটাতে আবদুল মালিক তার ভাইয়ের বরখাস্তের ব্যাপারে
মনন্থ করার লজ্জাবােধ করলেন আর তাকে বরখাস্ত করার জন্যে যে বিষয়টি তাকে প্রলুব্ধ
করেছিল তা হল এই যে, তার পরে খিলাফভের বিষয়টি তার আওলাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ ও
নির্ধারিত করার জন্যে সে মনস্থু করেছিল ৷ তার পরে তার ছেলে ওয়ালীদ, তারপর সুলায়মান,
তার পরে ইয়াযীদ তার পরে হিশামের জন্যে নির্ধারিত করেছিল ৷ আর এটা হলো হাজ্জাজের
পরামর্শ এবং আবদুল মালিকের জন্যে হাজ্জাজ এ তালিকাটি প্রণয়ন করেছিল ৷ আবদুল
মালিকের পিতা মারওয়ান খিলাফভের বিষয়টি আবদুল মালিকের জন্য নির্ধারণ করেছিল এবং
তার পরে আবদুল আষীযের জন্যে ৷ কিন্তু আবদুল মালিক বড় ভাইকে পুরাপুরি খিলাফত থেকে
দুরে রাখার জন্য ইচ্ছে পোষণ করেছিল ৷ আর তার পরই তার আওলাদ ও পরে যারা আসবে
তাদের জন্যে খিলাফতকে নির্ধারণ করার জন্যে ইচ্ছে পোষণ করেছিল ৷ মহান আল্লাহ্ অধিক
পরিজ্ঞাত ৷

আবদুল আষীয ইবন মারওয়ান

তার পুর্ণ নাম ও আবুল আসবাগ, আবদুল আষীয ইবন মারওয়ান ইবন আল হাকাম ইবন
আবুল আ’স ইবন উমায়্যা ইবন আবদ শামস আলণ্কারশী আল উমুয়ী ৷ তিনি পবিত্র মদীনায়
জন্মগ্রহণ করেন ৷ তারপর স্বীয় পিতার সাথে সিরিয়া চলে যান ৷ তার ভাই আবদুল মালিকের
পর তিনি ছিলেন খিলাফভের উত্তরাধিকারী ৷ তার পিতা তাকে ৬৫ হিজরীতে মিসরীয়
প্রদেশগুলাের শাসনকর্তা নিয়োগ করেন ৷ তিনি ৮৫ হিজরী পর্যন্ত ওখানেৱ শাসনকর্তা হিসেবে
বলবৎ ছিলেন ৷ তিনি সাঈদ ইবন আমর ইবনুল আ’স এর হত্যাকাণ্ডে উপস্থিত ছিলেন ৷ এটা
পুর্বেও বর্ণনা করা হয়েছে ৷ দামেষ্কে তার একটি বাড়ী ছিল যা আজকাল সুফীদের বাড়ী হিসেবে
প্রসিদ্ধ এবং আল-খানকায়ে আল সামীসাতীয়া নামেও প্রসিদ্ধ ৷ ঐ বাড়ীটি তার পরে তার পুত্র
উমর ইবন আবদুল আষীযের জন্যে নির্ধারিত হয়েছিল ৷ এরপর খানকায়ে সুফীয়া হিসাবে
পরিচিত হয় ৷ আবদুল আষীয ইবন মারওয়ান যাদের থেকে হাদীস বর্ণনা করেন তাদের মধ্যে
প্রসিদ্ধ হলেন, তার পিতা মারওয়ান ইবনুল হাকাম, আবদুল্লাহ্ ইবনুয যুবায়র, উকবাহ্ ইবন
আমির, আবুহুরায়রাহ (বা) ৷

আবু হুরায়রা (রা) হতে বর্ণিত তার একটি হাদীস মুসনাদে আহমদ ও সুনানে আবু দাউদে
বর্ণিত হয়েছে যে, রাসুলুল্পাহ্ (সা) ইরশাদ করেন, মানুষের মধ্যে যে অভ্যাসটি খারাপ সেটা
হল অস্বীকৃতিৰাচক কাপুরুষতা এবং লোভ লালসা পুর্ণ কৃপণতা ৷ আবদুল আষীয হতে যারা
হাদীস বর্ণনা করেন, তারা হলেন ৪ তড়ারপুত্র উমর, আয় যুহরী, আলী ইবন রাবাহ এবং
মুহাদ্দিসগৰ্পুণর বড় একটি দল ৷


পৃষ্ঠা ১০৬ ঠিক করুন

মুহাম্মদ ইবন সাদ বলেন, তিনি ছিলেন হাদীস বর্ণনায় বিশ্বস্ত ৷ কিন্তু কম হাদীস
বর্ণনাকারী ৷ অন্যান্য ইতিহাসবিদগণ বলেন, আবদুল আযীয হাদীস বর্ণনায় এবং নিজের
কথারার্তায় ব্যাকরণজনিত ভুল করতেন ৷ তারপর তিনি আরবী ভাষা শিক্ষা করেন এবং তা
উত্তমরুপে শিখে নেন ৷ পরবর্তী কালে তিনি বিশুদ্ধতম আরবী ভাষাভাষীদের অন্যতম ছিলেন ৷
তার আরবী ভাষা শিক্ষার পটভুমি ছিল নিম্নরুপ : একদিন তার কাছে একটি লোক নিজ
জামাতার বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে প্রবেশ করে ৷ আবদুল আযীয তখন তাকে বলে, মান
খাতানাকা ১ :,; অর্থাৎ আপনাকে কে খতৃনাহ্ করেছে ? লোকটি উত্তরে বলল, আমাকে
ঐ ব্যক্তি খাতনাহ্ করেছে যে অন্যান্য লোকদেরকেও খাতনাহ্ করে থাকে ৷ তখন তিনি তার
লিখককে বললেন, হতভাগা আমার প্রশ্নের কী জবাব দিল ? লিখক বললেন, হে আমীরুল
মু’মিনীন! আপনার উচিত ছিল তাকে বলা মান খাতানুকা ?া; ১১ অর্থাৎ তোমার
জামাতা কে ? তারপর তিনি নিজে নিজে শপথ করলেন, আরবী ভাষা উত্তম রুপে শিক্ষা না
করা পর্যন্ত তিনি লোক সমক্ষে বের হবেন না ৷ তিনি এক সপ্তাহ ঘরে অবস্থান করেন এবং
আরবী ভাষা উত্তমরুপে শিখে নিলেন ও আরবী ভাষায় পারদর্ণীদের মধ্যে অন্যতম হিসেবে
পরিগণিত হন ৷ এরপর থেকে তিনি আরবী ভাষায় পারদশীদৈরকে প্রচুর অর্ঘ্য ও উপচৌকন
দিতেন এবং আরবী ভাষায় যারা ভুল করত, তাদের ভাতা হ্রাস করে দিতেন ৷ ফলে লোকজন
তার যুগে আরবী ভাষা শিক্ষা করার প্রতি ঝুকে পড়ে ৷ একদিন আবদুল আযীয এক ব্যক্তিকে
বললেন অর্থাৎ
আমি বনু আবদুদদার গোত্রের ৷ শুদ্ধ আরবী ভাষাটি হতো , ৷ৰু৷ ৷া ; ঠু ট্রু,র্মুআবদুল
আযীয বললেন, এ ভুলের প্রতিফলন তুমি তোমার ভাতায় ণ্দৰু২াতে পাবে ৷ তারপর তার ভাতা
একশত দীনারহ্রাস করা হলো ৷

আবু ইয়ালা আল-মুসিলী আল-কা’কা ইবন হাকীম হতে বর্ণনা করেন ৷ তিনি বলেন,
একদিন আবদুল আযীয ইবন মারওয়ান আবদুল্লাহ ইবন উমর (রা)-এর কাছে লিখলেন,
“তোমার প্রয়োজনের কথা আমাকে জানাবে ৷ আবদুল্লাহ ইবন উমর (রা) প্রতি উত্তরে
লিখলেন, রাসুলুল্লাহ্ (সা) ইরশাদ করেন, “দাতা গ্রহীতার চেয়ে উত্তম এবং নিকটতম ব্যক্তি
থেকে দান বন্টন শুরু কর” ৷ আমি তোমার কাছে আর কিছু চইি না এবং আল্লাহ্ তাআলা
তোমার মাধ্যমে আমাকে যে রিঘৃক দান করেছেন তাও আমি প্রত্যাখ্যান করি না া

ইবন ওহাব সুওয়ায়দ ইবন কায়স হতে বর্ণনা করেন ৷ তিনি বলেন, একদিন আবদুল
আযীয ইবন মারওয়ান এক হাজার দীনারসহ আমাকে আবদুল্লাহ ইবন উমর (রা)-এর কাছে
প্রেরণ করেন ৷ আমি তার কাছে একটি পত্র নিয়ে হাযির হলাম তখন-তিনি আমাকে বললেন
তোমার সাথে প্রেরিত সম্পদ কোথায় ? তখন আমি বললাম, ভোর না হওয়া পর্যন্ত এ রাতের
বেলায় সমুদয় সম্পদ বহন করতে পারি নাই ৷ তখন তিনি বললেন, আমি এ সম্পদ চইি না ৷
আল্লাহর শপথ, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রা) কখনও এক হাজার দীনার নিয়ে রাত্রি যাপন করে
না ৷ বর্ণনাকারী বলেন, আমি পত্রটি তার হাতে প্রদান করলাম কিন্তু তিনি তা ছিড়ে ফেলে
দিলেন

তীর কিছু স্মরণীয় বাণী নিম্নে বর্ণনা করা হল, তিনি বলতেন, “ভাবতেও অবাক লাগে
কোন ব্যক্তি মহান আল্লাহ্র উপর বিশ্বাস স্থাপন করে এবং সুদৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে, আল্লাহ্
তাআলা তাকে রিবৃক দান করেন ৷ তারপর সে তীর বিরোধিতা করে, তার নির্দেশাবলী
যথাযথভাবে পালন করে না ৷” তিনি আরো বলেন, “মহাপুরস্কার ও প্রশংসা অর্জনের জন্য মানুষ


পৃষ্ঠা ১০৭ ঠিক করুন


কেমন করে সম্পদকে কুক্ষিগত করে রাখে ৷ যখন তীর মৃত্যু উপস্থিত হয় এবং তার সামনে
তীর সম্পদ পেশ করা হয়, তখন তিনি সম্পদের হিসাব করতে লাগলেন এবং তিনশত মুদ
(মুদ ১ ছায়ের চার ভাগের এক ভাগ) স্বর্ণ পেলেন ৷ তখন তিনি বললেন, “আল্লাহ্র শপথ,
আমি এ সম্পদকে নজদের কোন রাখালের কোন একটি মেয়ের মল তুলা মনে করি ৷” তিনি
আরো বলতেন, আল্লাহর শপথ ! আমি পছন্দ করি যে, যদি আমি কোন উল্লেখযোগ্য বস্তু না
হতাম ৷ আমি আরো পসন্দ করি যে, হিজাযের পবিত্র ভুমিতে যদি পানির নহর জারী হত এবং
তা শস্য শ্যামল ভুমিতে পরিণত হতো ৷ তিনি তার সভাসদ বর্পকে বলতেন, “মৃত্যুর পর
তোমরা আমাকে যে কাপড়ে কাফন দিয়ে তা আমাকে দেখাও (যেন বেশী মুল্যের না হয়)
তারপর তিনি নিজকে লক্ষ্য কর বলতেন, “তোমার জন্যে আফসোস! তোমার দৈর্ঘ্য কতই না
ছোট ৷ তোমার প্রাচুর্য কতই না স্বল্প ৷

ইয়া কুব ইবন সুফিয়ান, ইবন বুকায়রের মাধ্যমে লায়স ইবন সা দ থেকে বর্ণনা করেন,
তিনি বলেন, “তার মৃত্যুর তারিখ ছিল, ৮৬ হিজরীর জুমাদাল উলা মাসের তের তারিখ
সোমবার দিবাগত রাত৷ ইবন আসাকির বলেন, এ অভিমত ইয়া কুব ইবন সুফ্য়ানের ভ্রান্ত
ধারণা ৷ সঠিক সন হল ৮৫ হিজরী ৷ কেননা,৩ তিনি তার ভাই আবদুঃ৷ মালিকের পুর্বে মৃত্যুবরণ
করেছিলেন এবং আবদুল মালিক তীর পরে ৮৬ হিজরীতে ইন্তিকাল করেছিলেন ৷

আবদুল আযীয ইবন মারওয়ান উত্তম শাসকগণের দলভুক্ত ছিলেন ৷ তিনি ছিলেন দয়ালু,
দাতা ও প্ৰশং সনীয় চরিত্রের মানুষ ৷ তিনি ন্যায় পরায়ণ শাসক উমর ইবন আবদুল আষীযের
পিতা ছিলেন ৷ উমর তার পিতা হতে উত্তম চরিত্রের উত্তরাধিকারী হিসেবে প্রাপ্ত হয়েছিলেন
এবং তার থেকেও বেশী গুণাবলীর অধিকারী ছিলেন ৷ উমর ব্যতীত আবদুল আযীযের আরো
কয়েকজন সন্তান “ছিল ৷ যেমন আসিম, আবু বকর, মুহাম্মদ ও আল আসবাগ ৷ আল-আসবাগ
তার পিতার মৃত্যুর কিছুদিন পুর্বে মারা যায় ৷ পুত্রের মৃত্যুর ণ্শাকে পিতা অসুস্থ হয়ে পড়েন
এবং কিছু দিনের মধ্যে ইনৃতিকাল করেন ৷ তার অন্য এক সন্তানের নাম ছিল সুহইিল ৷ আর
কিছু সংখ্যক কন্যাও ছিল যেমন উম্মে মুহাম্মদ, উম্মে সুহইিল, উম্মে উছমান, উম্মে আল হাকাম
ও উম্মে আল বানীন ৷ তারা বিভিন্ন মায়ের সন্তান ছিলেন ৷ উপরোক্ত সন্তানদের ব্যভীতও তার
আরো সন্তান ছিল ৷ তিনি মিসর থেকে কয়েক মইিল দুরে তার প্রতিষ্ঠিত শহরে ইনৃতিকাল
করেন ৷ মিসরের নীলনদের কিনারায় তাকে আনা হয় এবং সেখানে তাকে দাফন করা হয় ৷
আবদুল আযীয মৃত্যুকালে বহু সম্পদ, দাসী, ঘোড়া, খচ্চর ও উট রেখে যান তার বর্ণনা
দেওয়া অত্যন্ত কঠিন কাজ ৷ এগুলোর মধ্যে স্বষ্ন্থিদ্র৷ ছাড়াও তিনশত মুদ স্বর্ণ ছিল তার ৷ অথচ
তিনি ছিলেন অত্যন্ত দাতা ও দয়ালু, বড় বড় উপচৌকন প্রদানকারী, বিশাল আকারের দান
দাতাদের অন্তর্ভুক্ত ৷ মহান আল্পাহ্ তার প্রতি ৩রহম করল ৷

ইবন জারীর (র) উল্লেখ করেন, একদিন আবদুল মালিক ইবন মারওয়ান তীর ভইি
আবদুল আযীযের কাছে পত্র লিখেন ৷ যখন তিনি মিসরের ৰিজ্যি শহরের শাসনকর্তা ছিলেন ৷
তাকে তিনি পত্রের মাধ্যমে তার পরে আপন ছেলে ওয়ালীদের অনুকুলে যুবরাজের পদ ছেড়ে
দেওয়ার জন্যে আদেশ দেন কিংবা খােদ আবদুল মালিক যেন তার পরে যুবরাজের পদ দখল
করতে পারেন ৷ কেননা, তার ছেলে তার কাছে বেশী প্রিয় ৷ তখন তার কাছে আবদুল আযীয
পত্র লিখে বলেন, তুমি ওয়ালীদের মধ্যে যে সব গুণাবলী দেখছ, আমি আবু বকর ইবন আবদুল
আষীযের মধ্যেও সে সব গুণাবলী দেখতে পাচ্ছি ৷ তখন আবদুল মালিক তাকে পত্র লিখে
মিসরের খাজনা প্রদানের জন্যে আদেশ দেয় ৷ আবদুল আযীয পুর্বে খাজনা কিংবা অন্য কোন


পৃষ্ঠা ১০৮ ঠিক করুন

প্রকার কর আদায় করতেন না ৷ মিসরের বিভিন্ন শহর এবং মাগরিবের বিভিন্ন শহর ও অন্যান্য
শহরের সমুদয় কর, যুদ্ধলব্ধ সম্পদ ও উৎপাদন আবদুল আযীয ভোগ করতেন ৷ আবদুল আষীয
আবদুল মালিকের কাছে পত্র লিখে বলেন, হে আমীরুল মু’মিনীন ! আমি ও আপনি আমাদের
পরিবারে এমন বয়সে পৌছেছি পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আর কেউ এ বয়সে পৌছেনি ৷ তারা
সকলে কম বয়স পেয়েছে ৷ আমি ও আপনি আমরা কেউই জানি না আমাদের মধ্যে কার কাছে
মৃত্যু প্রথম আসবে ৷ যদি তুমি আমার বাকী জীবনে কোন প্রকার কষ্ট না দেওয়াটা ভাল মনে
কর, তাহলে তাই কর ৷ এ কথা শুনে আবদুল মালিক তার প্রতি দয়াবান হন এবং তার কাছে
লিখেন, আমার আয়ুর শপথ, আমি তোমার বাকী জীবনে তোমাকে কোন প্রকার কষ্ট দিব না ৷প্
আবদুল মালিক তার ছেলে আল-ওয়ালীদকে বলেন, যদি আল্লাহ তাআলা তোমাকে রাজতু দান
করার ইচ্ছে করেন তাহলে বান্দাদের মধ্যে কেউ এমন নেই যে, তোমাকে তা থেকে বঞ্চিত
করতে পারে ৷ তারপর তার ছেলে আল-ওয়ালীদ ও সুলায়মানকে বলেন, তোমরা কি কখনও
দুই ভাই কোন ব্যাপারে দ্বিমত পোষণ করেছ ? তারা বললেন, না, আল্লাহর শপথ ! তিনি
বললেন, , আল্লাহ আকবার, কাবার প্রতিপালকের শপথ ৷ তাহলে তোমরা সফলকাম হয়েছ ৷
কথিত আছে যে, আবদুল মালিক যখন তার ছেলে আল ওয়ালীদের অনুকুলে বায়আতের
ব্যাপারে আপন ভাই থেকে কাডিক্ষত উত্তর পেলেন না তখন তিনি তার ভাইয়ের জন্য বদ দু আ
করলেন এবং বললেন, হে আল্লাহ! সে আমার সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করেছে তুমি তাকে উঠিয়ে
নিয়ে যাও ৷ তারপর যে ঐ বছরই মৃত্যুমুখে পতিত হয় ৷ এ ব্যাপারে পুর্বেও উল্লেখ করা
হয়েছে ৷ যখন তার ভাই আবদুল আযীষের মৃত্যুর সংবাদ তার কাছে রাতের বেলায় পৌছে,
তখন তিনি তার ভাইয়ের জন্য শোকাহত হয়ে পড়েন ও ভাইয়ের জন্য অত্যন্ত কান্নাকাটি
করেন ৷ কিন্তু, তার দুই ছেলে থেকে তা গোপন রাখেন ৷ কেননা, তার মৃত্যুর পর তার দুই
ছেলের খলীফা হবার আশা তার পুর্ণ হয়েছে ৷
হাজ্জাজ ইবন ইউসুফ আবদুল মালিকের কা ৷ছে একটি প্রতিনিধি দল প্রেরণ করে ৷ ইমরান

ইবন ইসাম আল আসরীকে৩ ৷দের প্রধান নিযুক্ত করে ৷ উদ্দেশ্য হল আবদুল মালিকের পর

তার ছেলে ওয়ালীদের রাজত্বের প্রশংসা করা ও আবদুল মালিকের কাছে তা শ্যেভনীয় বলে
প্রতীয়মান করা ৷ প্রতিনিধিদল যখন আবদুল মালিকের কাছে পৌছল, ইমরান এ ব্যাপারে
একটি ভাষণ রাখেন, প্রতিনিধিদলের সদস্যরা এ ব্যাপারে বক্তব্য রাখেন এবং আবদুল
মালিককে এ ব্যাপারে উৎসাহ প্রদান করেন ৷ ইমরান ইবন ইসাম এ সম্পর্কে একটি কবিতা
রচনা করেন যা নিম্নরুপং :

হে আমীরুল মু মিনীন! আপনার খিদমতে আমরা পৃথক পৃথক ভাবে সালাম ও অভিবাদন
পেশ করছি ৷ আপনার সন্তান সম্পর্কে আমার আকুতি-মিনতির জবাব দিন ৷ তাহলে প্রজাদের
সম্পর্কে আমার প্রতিউত্তর হবে স্বাভাবিক এবং আমাদের জন্যে তা হবে শক্তির উৎস ৷ আপনার
সন্তান ওয়ালীদ যদি খিলাফত গ্রহণের আকৃতি মিনতিতে রাযী হন ৷ তাহলে, আপনি তার জ্যা৷
খিলাফত উপহার দিন এবং তাকে দায়িতৃ অর্পণ করুন ৷ তিনি আপনারই মত যার চভুর্দিকে
রয়েছে কুরায়শদের শক্তি, তার থেকে লোকজন দয়ার দৃষ্টি কামনা করবেন ৷ পরহেযগারীতেও
তিনি আপনার ন্যায় শিশুদের গলায় ব্লোগমুক্তির জন্যে মালা পরাবার বা খোলার বিষয়ে কোন
দিন তিনি কোন পদক্ষেপ নেননি ৷ আপনি যদি খিলাফতের ব্যাপারে আপনার ভাইকে
অগ্ৰাধিকার দেন তাহলে আমরা আপনার অভিমতকে মেনে নিতে বাধ্য থাকর ৷ এ ব্যাপারে
কােনরুপ দােষারোপ করার শক্তি আনুমোঃৰুষ্ক্কুন্নুহৃতবে আমরা তার বংশধরদেরকে ভয় করি ৷


পৃষ্ঠা ১০৯ ঠিক করুন


(কানা, এরা সম্ভবতঃ চতুর্দিকে বিষ ছড়িয়ে দিবে ৷ যদি তাদের মধ্যে আপনি খিলাফত বণ্টন্
করে দেন তাহলে আমাদের ভয় হয় তারা জনগণের দয়ার পরিবর্তে জাহান্নামের হাওয়া বইয়ে
দিবে ৷ আপনি সম্প্রদায়ের জন্য যে পরিশ্রম করেছেন৩ তারা ভবিষ্যতে তার ফল ভোগ করতে
পারবে না ৷ আর ভবিষ্যতে আপনার বংশধররা পুতুলে পরিণত হয়ে থাকবে ৷ আমি শপথ করে
বলছি, যদি ইসাম আমাকে পদদলিত করে তাহলে এ ব্যাপারে ভবিষ্যতে আমি ইসামের কোন
ওযর আপত্তি শুনব না ৷ আমি যদি আমার কোন ভাইকে কোন দয়া দেখাই তাহলে আমি
সাহিত্য চর্চার মজলিস এবং জলসা তার থেকে কামনা করি ৷ তা নাহলে আমার বংশধররা
অন্যদের পিছনে পড়েযাবে কিৎরা তার জন্যে তোমার কোন প্রকার ব্যবস্থা নিতে হবে ৷ যদি
কারো আত্মীয়-স্বজনের মধ্যে কোনরুপ অসঙ্গতি ও মাথা ব্যথা দেখা দেয় তাহলে তাতে
বিচলিত হবার কিছু নেই; কিন্তু শাসকের মধ্যে যদি এরুপ অসঙ্গতি দেয়৷ দেয় তাহলে তা সুস্থ
হতে বহু সময় লেগে যায় ও জনগণের ভোগান্তির আর অভ থাকে না ৷

বর্ণনাকারী বলেন, উপরোক্ত কবিতাটি তার মধ্যে প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে এবং এজন্যই
তার ভাইকে ছেলে ওয়ালীদের অনুকুলে খিলাফত হতে সরে র্দাড়াবার জন্য পত্র লিখেন বিত্তু
তিনি তা অস্বীকার করেন ৷ অন্য দিকে অ ৷ল্পাহ্ তা আলা আবদুল মালিকের মৃত্যুর একবছর পুর্বে
আবদুল আযীয়ের মৃত্যু ঘটায় ৷ তারপর তিনি তার ছেলে ওয়ালীদ ও সুলায়মানের বায়আতের
কাজ অতি সহজে সম্পন্ন করে নেন ৷ আল্লাহ তা জানা অধিক পরিজ্ঞাত ৷

আবদুল মালিকের আপন ছেলে ওয়ালীদ ও তার পরে সুলায়মানের জন্য বায়আত গ্রহণ

এ বছরেই আবদুল আযীয ইবন মারওয়ানের মৃত্যুর পর দামেশৃকে আল-ওয়ালীদের
অনুকুলে বায়আত গ্রহণ করা হয় ৷ তারপর রাজ্যের সমস্ত অংশে বায়আত গ্রহণ করা হয় ৷ তার
পরে তার ভাই সুলায়মানের অনুকুলে বায়আত গ্রহণ করা হয় ৷ এরপর যখন বায়আতের
কার্যক্রম পবিত্র মদীনা মুনাওয়ারাতে পৌছে সাঈদ ইবন আল-মুসায়্যাব আবদুল মালিকের
জীবদ্দশায় অন্য কারো হাতে বায়আত করা হতে ৩বিরত থাকেন ৷ পবিত্র মদীনায় নাইব হিশাম
ইবন ইসম৷ ঈল তখন তাকে ষটিটি বেত্রাঘাত করার হুকুম দেন ৷ তিনি আরো হুকুম দেন যেন

তাকে পশমের কাপড় পরানাে হয়, একটি উটে আরোহণ করানো হয় এবং পবিত্র মদীনায়
প্রদক্ষিণ করানো হয় ৷ তারপর তিনি হুকুম দিলেন যেন রাজকর্মচারীরা তাকে ছানিয়াহ্ যাবাবে
নিয়ে যায় ৷ এ ছানিয়াহ্ বা গিরিপথের কাছে তারা সালাত আদায় করতেন ও মধ্যাহ্ন ভোজের
পর বিশ্রাম নিতেন ৷ যখন তারা তাকে নিয়ে সেখানে পৌছে পুনরায় তাকে তারা পবিত্র মদীনায়
ফিরিয়ে নিয়ে আসে এবং তাকে কারাগারে বন্দী করে ৷ তিনি তাদেরকে বলেন, আল্লাহর শপথ,
যদি আমি জানতাম যে, তোমরা আমাকে হত্যা করবে না আমি কখনও এ কাপড় পরিধান
করতাম না ৷ তারপর হিশ ৷৷ম ইবন ইসমাঈল আল-মাখবুমী আবদুল মালিকের কাছে পত্র লিখে
এ ব্যাপারে সাঈদ (র) এর বিরোধিতা সম্বন্ধে অবহিত করে ৷ আবদুল মালিক তখন তার কাছে
পত্র লিখে তাকে এ ব্যাপারে শাসায় এবং তাকে বহিষ্কারের হুকুম দেয় ও তাকে বলে তুমি
সাঈদের সাথে যেরুপ কঠিন ব্যবহার করেছ সে তোমার চেয়ে অধিক সদ্ব্যবহারের যোগ্য এবং
আমি জানি তার মধ্যে কোন শত্রুতা ও বিরোধিতা নেই ৷ এরুপও বণিতি ৩আছে যে, তিনিত
বলেছিলেন বায়আত ব্যতীত কোন গতম্ভের নেই ৷ যদি সে বায়আত না করে তার গর্দান কাটা
যাবে অথবা তার অবস্থায় তাকে ছেড়ে দিতে হবে ৷

আল্লাম৷ ওয়াকিদী (র) উল্লেখ করেন সাঈদের কাছে যখন ওয়ালীদের বায়আভ্রু তর প্রশ্নটি
উথাপিত হয়, তখন তিনি বায়আত ৩হতে বিরত থাকেন ৷ তখনকার পবিত্র মদীনায় নাইব



Execution time: 0.02 render + 0.00 s transfer.