Login | Register

আল বিদায়া ওয়ান্নিহায়া - খন্ড ৯

পৃষ্ঠা ১০১ ঠিক করুন


থেকে একজন আমীর হওয়ার জন্যে প্রথমে দাবী করেছিলেন ৷ তারপর তিনি তার এ অভিমত
প্রত্যাখ্যান করেন ৷ এ বিষয়ে পুর্বে বিস্তারিত বর্ণনা রাখা হয়েছে ৷ কাজেই তারা কেমন করে
অন্য বংশের একজন খলীফার প্রতি মনােযোগী হবেন ৷ মুসলমানগণ কর্তৃক কয়েক বছর আগে
যার খিলাফতের বায়আত গ্রহণ করা হয়েছে এখন তারা তাকে বরখাস্ত করবে অথচ তিনি
কুরায়শ বংশোদ্ভুত ৷ আর কিন্দী গোত্রের এক ব্যক্তিকে খলীফ৷ করার জন্য বায়আত গ্রহণ
করবে ৷ মুসলমানদের মধ্যে যারা গণ্যমান্য তারা কি এ ব্যাপারে একমত হতে পারেন ? যখন
এ ধরনের পদস্থালন ও ত্রুটি দেখা দিল তার কারণেই বিরাট বিপর্যয়ের সৃষ্টি হল এবং তাতে
শত শত লোক নিহত হল ৷ কাত্তুইে আমরা সকলে আল্লাহর জন্যে এবং৩৷ আল্লাহর দিকে
সকলকে প্রতব্রুাবর্তন করতে হবে ৷

আয়ুবে ইবন আল-কিরিয়াহ
আল-কিরিয়াহ্ তার মায়ের নাম ৷ তার পিতার নাম ইয়ড়াযীদ ইবন কায়স ইবন ষুরারাহ
ইবন মুসলিম আন্নামারী আল হিলালী ৷ তিনি একজন বেদুঈন উঘী অথচ বাশ্মীত৷ ৷-বাক পটুতা
ও স্বচ্ছন্দ ভাষী হিসেবে তিনি ছিলেন প্রসিদ্ধ ৷ তিনি হাজ্জাজের সঙ্গী ছিলেন ৷ তিনি আবদুল
মালিকের দরবারে প্রতিনিধি হিসেবে গমন করেছিলেন ৷ তিনি তাকে দুত হিসেবে ইবনুল
আশআছের কাছে প্রেরণ করেছিলেন ৷ তখন ইবনুল আশআছ তাকে বলেছিলেন যদি তুমি
আমার এখানে খভীব হিসেবে অবস্থান না করে৷ এবং হাজ্জাজের সঙ্গ ত্যাগ না কর আমি
তোমাকে মেরে ফেলব ৷ কাজেই সে হ জ্জাজের সঙ্গ ত্যাগ করে ইবনুল আশআছের কাছে
অবস্থান করতে লাগল ৷ যখন হাজ্জাজের কাছে এ কথাটি প্রকাশ পেল তখন হাজ্জাজ তাকে
ডেকে পাঠাল এবং কয়েক দফা তার সাথে বৈঠক হল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত হাজ্জাজ তাকে হত্যা
করল ৷ এ হত্যার জন্য সে লজ্জিত হলো কিন্তু তার এ লজ্জিত হওয়া কোন কাজে আসেনি ৷
যেমন বিজ্ঞ লোকেরা বলেন, “ঘনিষ্ঠত৷ রক্ষা করা উত্তম বলে বিবেচিত ৩ হয় যখন আর ঘনিষ্ঠতা
কোন উপকারে আসে না ৷” ,
ইবন আসাকির তার ইতিহাসে এবং ইবন খাল্লিকান তার আ ল ওয়া ৷ফিয়াত নামক কিভাবে
এ সম্পর্কে উল্লেখ করেন এবং আয়ুদ্রব ইবন কিরিয়ার জীবনী সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা
করেন আর তথায় আরো কিছু মুল্যবান তথ্য উল্লেখ করেন ৷ বর্ণনাকা রী বলেন , ’:;,: এর
ব্রব্লে এ যের এবং র্চে এ তাশদীদ দিয়ে পড়তে হবে ৷ তিনি ছিলেন তার দাদী ৷ তার নাম
হলো জামাআত বিনত জাশাম ৷ ইবনুল৷ খ৷ ল্লিকান বলেন০ কেউ কেউ তার অস্তিত্ব ও মাজনুনে
লায়লার অস্তিত্ব অস্বীকা ৷ব করেন ৷ ইবন আবু আকার মহা কাব্যের ধারক ছিলেন ৷ আর তিনিই
ইয়াহ্ইয়া ইবন আবদুল্লাহ ইবন আবুল আকার ৷ মহান আল্লাহ অধিক পরিজ্ঞাত ৷

রাওহ ইবন যাম্বা

তার পুর্ণ নাম আবু যুরআহ রাওহ ইবন যাম্ব৷ ইবন সালড়ামা আল-জুয়ড়ামী আদ-দামাশৃকী ৷
কেউ কেউ বলেন, আবু যুরআহ-এর স্থলে তার কুনিয়া ৷ত ছিল আবু যাম্ব৷ ৷ তার বাসস্থান ছিল
দামেশকে, মহাকাব্যের ধারক ইবন আকার-এর বাসন্থানের কাছে ৷ তিনি ছিলেন একজন উচু
পর্যায়ের তাবিঈ ৷ তিনি তার পিতা হতে হাদীস বর্ণনা করেন ৷ তিনি একজন সাহাবী ৷ অন্যান্য
যাদের থেকে তিনি হাদীস বর্ণনা করেন, তারা হলেনৃং : তামীমুদ্দারী, উবাদাহ ইবনুল সামিত,
মুআবিয়া, কাবুল আহ্বার ও অন্যান্য ৷ তার থেকে একদল আলিম হাদীস বর্ণন৷ করেনা
তাদের মধ্যে একজন হলেন উবাদাহ ইবন নাসী ৷ রাওহ আবদুল মালিকের কাছে একজন মদ্রীর


পৃষ্ঠা ১০২ ঠিক করুন


ন্যায় অবস্থান করতেন ৷ তিনি কখনও তার থেকে পৃথক হতেন না ৷ তিনি আবদুল মালিকের
পিতা মারওয়ানের সাথে মারজ রাহাতের দিন সঙ্গী ছিলেন ৷ ইয়াযীদ ইবন মুআবিয়া তাকে
ফিলিস্তীনে প্রেরিত সেনাবাহিনীর সেনাপতি নিযুক্ত করেছিলেন ৷ মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ মনে
করেন যে, রাওহ ইবন যাম্বা একজন সাহাবী ছিলেনত ৷ তবে তার এ অভিমতের সমর্থন পাওয়া
যায় না ৷ শুদ্ধ হলো যে, তিনি একজন তাবিঈ ছিলেন, সাহাবী ছিলেন না ৷ তার একটি বিশেষ

গুণ ছিল, যখন তিনি গোসলখানা থেকে বের হতে ন, তখন একটি ণ্গালাম আযাদ করতেন ৷ ’

ইবন যায়দ বলেন,ত তিনি ৮৪ হিজরীতে জর্দানে ইনৃতিকাল করেন ৷ আবার কেউ কেউ মনে
করেন, তিনি হিশাম ইবন আবদুল মালিকের আমল পর্যন্ত জীবিত ছিলেন ৷ তিনি একবার হজ্জ
করার সময় পবিত্র মক্কা ও মদীনায় মধ্যবর্তী একটি কুয়ার কাছে অবতরণ করেন ৷ তার জন্য
বিভিন্ন রকমের খাবারের আয়োজন করা হয় ৷ তারপর তার সামনে পরিবেশন করা হয় ৷ তিনি
খাবার খাওয়া শুরু করেছেন এমন সময় একজন রাখাল সেখানে পানির জন্য আগমন করল ৷
রাওহ ইবন যাম্বা তাকে খাবার খেতে ডাকলেন ৷ রাখালটি এগিয়ে আসল এবং খাবারের দিকে
নযর করল, আর বলল, “আমি রোযাদার ৷ রাওহ তাকে বললেন, “এত বড় ও অত্যন্ত
গরমের দিন তুমি রােযা রেখেছ হে রাখলে! রাখাল বলল, ৷তামার খাবারের জন্য কি আমি
আমার অভ্যাসের ব্যতিক্রম করব ? তারপর রাখাল নিজের জায়গায় ফিরে গেল ও সেখানে
অবস্থান করল এবং রাওহ ইবন যাম্বাকে ছেড়ে পেল ৷ তখন রাওহ ইবন যাম্বা বলেন, হে
রাখাল! তুমি তোমার অভ্যাসের ব্যাপারে কৃপণতার আশ্রয় নিয়েছ, যখন রাওহ ইবন যাম্বা
তোমাকে দান করতে চেয়েছিল ৷ তারপর রাওহ অনেকক্ষণ কা ন্নাকাটি করেন এবং এ
খাবারগুলোকে নিয়ে যাবার আদেশ দিলেন, আর বললেন দেখত, এ খাবার ভক্ষণকারী কোন
গ্রাম্য বা বেদুঈন লোক অথবা রাখালকে পাওয়া যায় কিনা ? তারপর তিনি ঐ জায়গা ত্যাগ
করেন অথচ রাখাল তার সমগ্র অস্তরাক নিয়ে নিল এবং তার নাফস রাখালের কারণে
অবমাননা বোধ করল ৷ মহাপবিএ অ ৷ল্লাহ্ অধিক পরিজ্ঞাত ৷

৮৫ হিজরীর আগমন

ইবন জারীরের মতে ৩এ বছরেই আবদুর রহমান ইবন আল আশআছ নিহত হয় ৷ এবছুরেই
হাজ্জাজ ইয়াযীদ ইবন আল মুহ ৷ল্লাবকে খুরা সালের শাসন ক্ষমতা থেকে বরখাস্ত করে এবং তার
ভইি আল-মুফাদ্দাল ইবন আল মুহাল্লাবকে তথাকার শাসক নিয়োগ করে ৷ত তার কারণ ছিল
নিম্নরুপ :
আল হাজ্জাজ একবার আবদুল মালিকের কাছে একটি প্রতিনিধি দলের প্রধান হিসাবে
আগমন করে ৷ ফেরত যাওয়ার সময় সে একটি আশ্রমে আগমন করে ৷ তখন তাকে বলা হল
যে, এখানে একজন বৃদ্ধলোক আছেন যিনি কিতাবী আলিম ৷ সে তার কাছে গেল এবং বলল,
হে শায়খ! আমরা যে অবস্থায় আছি এবং আপনারা যে অবস্থায় আছেন, এ সম্বন্ধে কি
আপনাদের কিভাবে কোন কিছু লিখা আছে ? শায়খ বললেন, “হ্যা ইাজ্জাজ তাকে বলল,
“আপনি আমাদের আমীরুল মদ্বুমিনীনের গুণাবলী সম্পর্কে কি কোন কিছু পেয়েছেন ?” শায়খ
বললেন, তার গুণাবলী সম্বন্ধে আমি পাচ্ছি যে, তিনি হবেন একজন টাক বিশিষ্ট বাদশা ৷ যে
তার পথে অম্ভরায় সৃষ্টি করবে সে নিহত হবে ৷ হাজ্জাজ বলল, “তার পরে কে খলীফা হবে?”
শায়খ বললেন, “তার পরে যিনি বাদশা হবেনত তার নাম আল ওয়ালীদ ৷” হাজ্জাজ বলল, “এর



Execution time: 0.03 render + 0.00 s transfer.