Login | Register

আল বিদায়া ওয়ান্নিহায়া - খন্ড ৯

পৃষ্ঠা ৯৭ ঠিক করুন

উৰায়দুস্লাহ্ ইবন আদী (বা)

তার পুর্ণনড়াম উবায়দুল্পাহ্ ইবন আদী ইবনুল খিয়ার (রা) ৷ তিনি রাসুলুল্লাহ্ (সা)-কে
পেয়েছিলেন এবং আবদুল্লাহ ইবন কায়স ইবন মাখরামাহ (রা)-এর মত এক জমাআত্ত
সাহাবায়ে কিরাম হতে তিনি হাদীস বর্ণনা করেন ৷ তিনি মদীনায় কাষী ছিলেন ৷ তিনি কুরায়শ
বংশীয় ফিকাহ্ বিশারদ ও উলমােয়ে কিরামের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন ৷ তার পিতা আদী বদর যুদ্ধের
দিন কাফির অবস্থায় নিহত হয় ৷

এ বছরেই পবিত্র মদীনা শরীফে আবুল খায়ের মিরসাদ ইবন আবদুল্লাহ আল-ইয়ামড়ানী
ইনতিকাল করেন ৷ এ বছরেই কারীউল কুরআন ও উলাযায়ে কিরামের একটি বিরাট জামাআত
হারিয়ে যান যাৱাআল-অড়াশআহু-এর সঙ্গী ছিলেন ৷ তাদের মধ্য থেকে কেউ কেউ পালিয়ে যান;
কেউ কেউ যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত হন ৷ আবার কেউ কেউ বন্দী হন ৷ যিনি বন্দী হন তাকে হাজ্জাজ
নৃশংসভাবে হত্যা করে ৷ তাদের মধ্যে কাউকে কাউকে হাজ্জাজ খুজে বের করে এবং হত্যা
করে ৷ খালীফাহ ইবন খইিয়াত এমন ধরনের একদল ব্যক্তিবর্পের নাম উল্লেখ করেছেন তাদের
মধ্যে নিহতরা হলেন; মুসলিম ইবন আল ইয়াসার আল-মুযানী, আবুমারানা আল-আজালী,
উকবাহ্ ইবন আবদুল ণাফফার, উকবাহ্ ইবন বিশাহ, আব্দুল্লাহ ইবন খড়ালিদ আল-জাহদামী,
আবুল জাওযা আর রাবঈ, আন-নদর ইবন আনাস, আবু হামযাহ আদদাবয়ীর পিতা ইমরান,
আবুল মিনহাল, সায়্যার ইবন সালামাহ আররাইয়াহী, মালিক ইবন দীনার, মুৰ্বাজ ইবন যুবাব
আল-হাদাদী, আবু নুজায়দ আলজাহদামী, আবু সাবীজ আল-হানায়ী, সায়ীদ ইবন আবুল
হাসান এবং তার ভাই আলহাসান আল-বসরী ৷

ইতিহাসবিদ আযুবে বলেন, “ইবনুল আসআছকে বলা হল, যদি প্তৃমি চাও যে, তোমার
চভুদািক সােকজনকে হত্যা করা হোক যেমনভাবে উৰ্ষ্ট্রর যুদ্ধের দিন হযরত আইশা (না)-এর
উটের পিঠের হড়াওদারৰুচতম্পাস্থ:র্শ্ব লোকজন নিহত হয়েছিল তাহলে আল-হাসানকে তোমার
সাথে সগ্রোমে অন্তর্ভুক্ত করে নাও ৷ সে তাকে সগ্রোমে অন্তর্ভুক্ত করেছিল ৷

কুফাবাসীদের মধ্যে যারা নিহত হয়েছিলেন তারা হলেন : সাঈদ ইবন জুবায়র, আবদুর
রহমান ইবন আবুলাইলা,আবদুল্লাহ্ ইবন শাদ্দাদ, আশ-শাবী, আবু উবায়দা ইবন আবদুল্লাহ্
ইবন মাসউদ, মা’রুর ইবন সাওয়ীদ, মুহাম্মদ ইবন সাদ ইবন আবু ওযাক্কাস, আবুল বুখতারী,
তালহা ইবন মসেরাফ, ষুবায়দ ইবন আল-হারিস আলী ইয়ামিয়ান এবং আতা ইবন
আস-সায়িব ৷
ইতিহাসবিদ আয়ুবে বলেন ও তাদের মধ্য হতে যারা ইবনুল আশআছের সাথে নিহত
, হয়েছিলেন, তারা ইবনুল আশআছের প্রতি নারায ছিলেন ৷ আর ইবনুল আশআছের অনুসারীদের
যারা নিহত হওয়া থেকে রক্ষা পেয়েছিলেন তারা তাদের রক্ষাকারী আল্লাহ তাআলার প্রতি
প্রাণৎসা জ্ঞাপন করেছিলেন ৷ হাজ্জাজ যাদেরকে হত্যা করেছিল তাদের মধ্যে একজন ছিলেন
ইমরান ইবন ইসাম আদ দাবয়ী, আবু হাজমাহ এর পিতা ৷ তিনি বসরার উলামায়ে কিরামের
অন্তর্ভুক্ত ছিলেন ৷ তিনি ছিলেন ইৰাদতগুযার ও সত্লোক ৷ তাকে বন্দী অবস্থায় হাজ্জাজের কাছে
প্রেরণ করা হলে হাজ্জাজ তাকে বলে, তুমি তোমার জন্যে কুফরীর সাক্ষ্য দাও তাহলে আমি
তোমাকে ছেড়ে দিব ৷ ’ তিনি বললেন, আল্লাহ্র শপথ, আমি যেদিন আল্পাহ্ তাআলার প্রতি
বিশ্বাস স্থাপন করেছি, সেদিন থেকে আর কোন দিনও মহান আল্লাহর প্রতি কুফরী করি নাই ৷ ’
তারপর তাকে হত্যা করার নির্দেশ দেওয়া হল এবং তাকে হত্যা করা হল ৷ নিহত ব্যক্তিদের
মধ্যে অন্য একজন হলেন, আবদুর রহমান ইবন আবু লায়লা ৷ এক জামাআত সাহাবায়ে কিরাম

০ তো
হু

পৃষ্ঠা ৯৮ ঠিক করুন

থেকে তিনি হাদীস বর্ণনা করেন ৷ তারা পিতা আবু লায়লা (রা) সাহাবী ছিলেন ৷ আবদুর
রহমান হযরত আলী ইবন আবু তালিব (বা) হতে কুরআন শিক্ষা করেন ৷ তিনি ইবনুল
আশআছের সাথে সগ্রোমে নেমেছিলেন ৷ তাকে হাজ্জাজের সামনে পেশ করা হল এবং তার
সামনেই তাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হল ৷

৮৪ হিজরীর আগমন

আল্লামা আল-ওয়াকিদী (র) বলেন, এ বছরেই আবদুল্লাহ ইবন আবদুল মালিক মাসীসাহ্
জয়লাভ করেন ৷ আর এ বছরেই মুহাম্মদ ইবন মারওয়ান আরমিনিয়ায় যুদ্ধ করেন ৷
আরমিনিয়াবাসীর অনেককে তিনি হত্যা করেন এবং তাদের গির্জা ও ধনসম্পদ দখল করেন ৷ এ
বছরটিকে সানাতুল হারীক হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছিল ৷ এ বছরেই আল-হাজ্জাজ মুহাম্মদ
ইবনুল কাসিম আছ-ছাকাফীকে পারস্যের শাসক নিযুক্ত করে এবং কুর্দীদের হত্যা করার জন্য
তাকে নির্দেশ দেয় ৷ এ বছরেই আবদুল মালিক আইয়াদ ইবন পানাম আল-বুজায়নীকে
আল-ইস্কান্দারীয়ার শাসক নিযুক্ত করেন এবং আবদুল মালিক ইবন আবুল কানুদকে বরখাস্ত
করেন ৷ যাকে পুবৰির্তী বছরে শাসক নিযুক্ত করা হয়েছিল ৷ আর এ বছরেই মুসা ইবন নুছায়ব
পশ্চিমাঞ্চলীয় ণ্দশসমুভৈহর বেশ কতগুলো শহর জয়লাভ করেন, তার মধ্যে একটি শহর
আরুমা’ ৷ ঐ শহরের অনেক ; লোককে তিনি হত্যা করেন এবং প্রায় পঞ্চাশ হাজার লোককে
বন্দী করেন ৷ এ বছরেই হাজ্জাজ ইবনুলহুআশঅফ্লহুছুর অনুসারীদের বড় একটি দলকে হত্যা
করে ৷

আয়ুরুব ইবন আল-কেরীয়া

আয়ুত্রব ইবন আল-কেরীয়া ছিলেন বাশ্মী, স্বচ্ছন্দভাষী এবং ধর্মোপদেশদাতা ৷ হাজ্জাজ
তাকে নিজের সামনে নৃশংসভাবে হত্যা করে ৷ কথিত আছে যে, হাজ্জাজ তার নিহত হওয়ায়
লজ্জিত হয় ৷ তার পুর্ণনাম আবু সুলায়মা ন আয়ুদ্রব ইবন যায়দ ইবন কারন আল-হিলালী ৷ তিনি
ইবনুল কেরিয়া হিসেবে প্রসিদ্ধ ছিলেন ৷ অন্য যারা নিহত হয়েছিলেন তারা হলেন : আবদুল্লাহ
ইবন আল-হারিছ ইবন নওফল; সাদ ইবন ইয়াশ আশ-শায়বানী, আবু গুনাইনামা
আলখাওলানী (রা), তিনি সাহাবী ছিলেন এবং একজন হাদীস বর্ণনাকারী ছিলেন ৷ তিনি
হিমসে বসবাস করতেন এবং তথায় তিনি ইনৃতিকালও করেন ৷ তিনি প্রায় একশত বছরের
কাছাকাছি বয়স পেয়েছিলেন ৷ যারা নিহত হয়েছিলেন তাদের অন্য একজন হলেন, আবদুল্লাহ
ইবন কাতাদাহ ৷ উপরোল্লিখিত ব্যক্তিবর্গ ছাড়াও তাদের একটি দলকে হাজ্জাজ হত্যা করেছিল
এবং তাদের মধ্যে কিছু সংখ্যক ইনৃতিকাল করেছিলেন ৷ তাদের মধ্যে একজন হলেন আবু
যুরআ আল-জাযামী আল-ফিলিন্তীনী ৷ তিনি সিরিয়াবাসীদের কাছে অত্যন্ত সম্মানিত ব্যক্তি
ছিলেন ৷ আমীর মুআবিয়া (রা) তাকে ভয় করতেন ৷ আবুযুরআ তা উপলব্ধি করেন এবং তিনি
আমীর মুআবিয়াহ (রা)-কে বলেন : হে আমীরুল মু’মিনীন ! আপনি আপনার সংসদের কোন
সদস্যকে তার নিয়তির উপর নির্জ্য করে ধ্বংস করে দেবেন না ৷ আপনি যাকে আপনার গোপন
রহৰস্যর সাথী হিসেবে গ্রহণ করেছেন তাকে চিস্তিত করবেন না ৷ যে দুশমনবেঃ আপনি
পরাজিত করেছেন তাকে নিরাশ করবেন না ৷ তারপর হযরত আমীর মুআবিয়া (রা) তার থেকে
বিরত থাকেন ৷ ষ্ ,

এ বছরে উতবা ইবন যুনযির আস-সুলামী ইনতিকাল করেন ৷ তিনি একজন উচ্চ পর্যায়ের
সাহাবী ছিলেন ৷ তাকে আহলে সুফ্ফার মধ্যে গণ্য করা হতো ৷ ইমরান ইবন হত্তোন



Execution time: 0.10 render + 0.00 s transfer.