Login | Register

আল বিদায়া ওয়ান্নিহায়া - খন্ড ৯

পৃষ্ঠা ৭১ ঠিক করুন

তারা দখল করে নেয় ৷ হাজ্জাজের নিকট তার বাহিনী পরাজিত হরার এবং মাছাব ও দুর্গ
পতনের সংবাদ পৌছে ৷ সে তখন দাড়িয়ে বক্তৃতা করছিল ৷ সে বলল লোক সকল! তোমরা
রসরাতে ফিরে যাও ৷ কারণ, সেটা সেনাবাহিনীর জন্য অনুকুল স্থান ৷ ফলে লোকজন ফিরে
যাচ্ছিল ৷ আশআছের সৈন্যরা ওদেরকে তাড়া করতে লাগল ৷ তারা যাকেই নাগালের মধ্যে
পাফ্লি হত্যা কৱজ্জি ৷ হাজ্জাজ নিজে পালিয়ে গেল ৷ কোন দিকেই তার ভ্রক্ষেপ ছিল না ৷ সে
পালিয়ে এসে যাবিয়াতে অবস্থান নেয়, সেখানে সৈন্য সমাবেশ ঘটায় ও সেনা ক্যাম্প স্থাপন
করে ৷ সে বলছিল, “মুহাল্লাব আসলেই সফল ও দক্ষ সেনাপতি ৷ সে আমাদেরকে একটা ভাল
প্রস্তাব দিয়েছিল ৷ কিন্তু আমরা তা গ্রহণ কবিনি ৷ হাজ্জাজ সেখানে অবস্থান নিয়ে সেনাদল প্রস্তুত
করতে থাকে ৷ সেনাবাহিনী গঠন করতে গিয়ে যে সেখানে ১৫ কোটি দিরহাম ব্যয় করে ৷ তার
সেনা ক্যাম্পের চারিদিকে পরিখা খনন করে ৷ ইরার্কীরা বসরা প্রবেশ করে ৷ তারা তাদের
পরিবার-পরিজনের সাথে মেলে ৷ প্ছোল মেয়েকে বুকে জড়িয়ে ধরে তাদের ঘ্রাণ নেয় ৷

ইবনুল আশআছ বসরা এসে অবতরণ করেন, ৷ তিনি ড্ডাসাধারণের উদ্দেশ্যে বক্তৃতা দেন ৷
ওদের থেকে বায়আত নেন এবং তারা আবদুল মালিক ও হাজ্জাজ দু’জন থেকেই বায়আত
প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয় ৷ ইবনুল আশআছ ওদেরকে বলেছিলেন হাজ্জাজ কোন ব্যাপারই নয় ৷
আমাদেরকে বরং আবদুল মালিকের নিকট নিয়ে যাও ৷ আমরা তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব ৷ ওই
সময়ে বসরায় অবন্থনিকারী সকল আলিম-উলামা ন্ফর্কীহ, কিরআন্ডৰিদ এবং যুবক বৃদ্ধ
, নির্বিশেষে সকলেই হাজ্জাজ ও আবদুল মালিকের প্রতিংপ্রদত্তবায়আত প্রত্যাহারে সমর্থন

জানান, এরপর ইবনুল আশআছ বসরা নগরীর চারিদিকে পরিখা খননের নির্দেশ দেন ৷ পরিখা

খনন করা হয় ৷ এরসব ঘটনা ঘটেছিল ৮ ১ সনের যিলহাজ্জ মাসের শেষ দিকে ৷

ওয়াকিদী ও আবু যা পরে বলে যে, এই সনে হজ্জ পরিচালনা করেন ইসহ্াক ইবন ঈসা ৷
খলীফ৷ আবদুল মালিকের নিযুক্ত আফ্রিকার রাজ্যগুলোর শাসনকর্তা মুসা ইবন ৰুসায়র ণ্,স্পন
জয় করার জন্যে এই সনে অভিযান পরিচালনা করেন ৷ তিনি ওই অভিযানে অনেক শহর নগর
এবং আবাদী জমি দখল করে নেন ৷ তিনি প্রচণ্ড গতিতে পশ্চিমী শহরগুলােতে প্রবেশ করেন ৷
তিনি পশ্চিমে আটলান্টিকেৱ উপকুল পর্যন্ত দখল করে নেন ৷ আল্পাহ্ই ভাল জানেন ৷ ন্

এই হিজয়ী সনে যাদের ওফাত হয়

বুজায়র ইবন ওয়ারকা সারীমী

৮১ হিজরী সনে যে সকল বিশিষ্ট ব্যক্তির ওফাত হয়৩ তাদের একজন হলেন বুজায়র ইবন
ওয়ারকা সারীমী ৷ তিনি খােরাসানের শীর্ষস্থানীয় ও বিশিষ্ট ব্যক্তি ছিলেন ৷ তিনি ইবন খাযিমের
বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন এবং তাকে হত্যা করেন ৷ তিনি বুকায়ব ইবন বিশাহ্কে হত্যা করেন ৷

পর এই৮১ সনেতিনিনিজেইনিহতহন ৷ ,

সুওয়াইদ ইবন গাফলাহ ইবন আওসাজা ৮১ হিজৰী সনে যাদের ইনতিকাল হয় তাদের
অন্যতম হল সুওয়াইদ ইবন গাফলাহ্ ইবন আওসম্পো ইবন আমির ৷ আবু উমাইয়৷ জুফী কুফী ৷
তিনি ইয়ারনুকের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন ৷ বহু সাহাবী থেকে তিনি হাদীস বর্ণনা করেছেন ৷
প্রসিদ্ধ অভিমত অনুযায়ী তিনি জাহেলী যুগ ও ইসলামী যুগ উভয় যুগে শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তি
হিসেবে পরিচিত ছিলেন ৷ কেউ কেউ বলেন যে, তিনি রাসুলুল্লাহ্ (সা) কে দেখেছিলেন ৷
রাসুলুল্লাহ (না) যে বত্সয়ে দৃনিয়াতে আগমন করেছেন ওই বৎসরেই সুওয়াইদ ইবন গাফলাহ
(রা) এর জন্য হয় ৷ তিনি রাসুলুল্লাহ্ (সা) এর পেছনে নামায পড়েছেন ৷ তবে বিশুদ্ধ অভিমত


পৃষ্ঠা ৭২ ঠিক করুন

হলো যে, তিনি রাসুলুল্লাহ্ (না)-কে দেখেননি ৷ কেউ কেউ বলেছেন, রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর
দুনিয়াতে আগমনের দুই বৎসর পর সুওয়াইদের জন্ম হয় ৷ তিনি ১২০ বৎসর জীবিত ছিলেন ৷
এই সময়ের মধ্যে কেউ তাকে কুজাে হয়ে হাটতে দেখেনি, আর তীর হাতে লাঠিও দেখেনি,
তার ওফাতের বৎসর অর্থাৎ ৮১ সনে তিনি জনৈকা কুমারী মেয়েকে বিয়ে করেন ৷ আবু উবায়দ
ও অন্যান্যরা এই তথ্য দিয়েছেন ৷ কেউ কেউ বলেছেন যে, ৮২ সনে৩ তার ইনদিক ল হয় ৷
আল্লাহ্ই ভাল জানেন ৷

আবদুল্লাহ ইধ্ন শাদ্দাদ ইবনুল হাদ

যীরা ৮১ সনে ইনৃতিকাল করেছেন তাদের একজন হলেন আবদুল্লাহ ইবন শাদ্দাদ ইবনুল
হাদ (র) ৷ তিনি ইবাদতকারী ও পরহেযগার লোক ছিলেন ৷ বিশিষ্ট জ্ঞানী ব্যক্তি ছিলেন ৷ তিনি
বহু ওসিয়ত এবং উপদেশমুলক বাণী রচনা করে গিয়েছেন ৷ সাহাবীদের বরাতে একাধিক
হাদীস এবং তাবিঈদের বরাতে বহু হাদীস বর্ণনা করেছেন ৷

মুহাম্মদ ইবন আলী ইবন আবু তালিব (বা)

৮১ সনে ওফৰুতপ্রাপ্ত বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অন্যতম এই মুহাম্মদ ইবন আলী (বা) ৷ তিনি আবুল
কাসিম এবং আবু আবদুল্লাহ উভয় উপনামে পরিচিত ৷ ইবনুল হানাফিয়্যাহ নামে তিনি
ততোধিক পরিচিত ছিলেন ৷৩ তার মাতা হানাফিয়্যাহ ছিলেন বানু হানীফ৷ গোত্রের একজন
কালো মহিলা ৷ তার মুলনাম খাওলা ৷ হযরত উম৷ ৷র ইবন খাত্তাব (রা) এর শাসনামলে মুহাম্মদ
ইবন আলীর জন্ম হয় ৷ পরিণত বয়সে তিনি আমীর মুআবিয়া এবং আবদুল মালিক ইবন
মারওয়ানের দরবারে গিয়েছিলেন ৷ উংষ্ট্রর যুদ্ধের দিন তিনি মারওয়ানকে মাটিতে ফেলে
দিয়েছিলেন এবং তার বুকের উপর চড়ে বলেছিলেন ৷ তিনি তাকে হত্যা করতে চেয়েছিলেন ৷
কিন্তু মারওয়ান কাক্কুতি-মিনতি এবং আল্লাহর দােহাই দিয়ে প্রাণ ভিক্ষা চায় ৷ পরে তিনি তাকে
ছেড়ে দেন ৷ খলীফ৷ আবদুল মালিকের রাজত্বকালে তীর সাথে সাক্ষাত করতে গেলে আবদুল
মালিক এই ঘটনার উল্লেখ করেন ৷ মুহাম্মদ ইবন আলী ঘটনায় জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করেন ৷

খলীফ৷ ক্ষমা মনয়ুর করেন এবং তাকে বহু উপহার-উপচৌকন প্রদান করেন ৷
মুহাম্মদ ইবন আলী (রা) কুরায়শের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি ছিলেন ৷ তিনি প্রসিদ্ধ বীর সাহসী
এবং শক্তিমান পুরুষদের একজন ছিলেন ৷ হযরত ইবন যুবায়র (না)-কে খলীফ৷ ঘোষণা করে
যখন তীর পক্ষে বায়আত গ্রহণ করা হয় তখন মুহাম্মদ ইবন আলী (রা) বায়আত করেননি ৷
ফলে র্তাদের দুজনের মধ্যে সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটে ৷ এমনকি খলীফ৷ ইবন যুবায়র
মুহাম্মদ ইবন আলী এবং তীর পরিবারের উপর আক্রমণ করার সিদ্ধান্ত নেন ৷ পরবর্তীতে
হযরত আবদুল্লাহ ইবন যুবায়র নিহত হলেন ৷ আবদুল মালিক ইবন মারওয়ানের খিলাফত
নিষ্কন্টক হলো ৷ এ সময়ে হযরত আবদুল্লাহ্ ইবন উমার (রা) আবদুল মালিকের প্রতি বায়আত
ও আনুগত্য প্রকাশ করেন ৷ তীর অনুসরণে মুহাম্মদ ইবন হানাফিয়্যাহ্ও খলীফার প্রতি আনুগত্য
প্রকাশ করেন ৷ এ সময়ে তিনি মদীনায় আগমন করেন ৷ এবং ৮১ সনে সেখানে ইনৃতিকাল
করেন ৷ কেউ কেউ বলেছেন তার ওফাত হয়েছে ৮২ সনে ৷ আবার কেউ বলেছেন ৮০ সনে,
জান্ ত্ত্বা৷তুল বাকী গোরস্তানে র্তাকে দাফন করা হয় ৷ বাফিযী সম্প্রদায়ের ধারণা যে, মুহাম্মদ
ইবনুল হানাফিয়ব্র৷ রিজভী পর্বতে অবস্থান করছেন, তিনি জীবিত আছেন রিযকপ্ৰাপ্ত আছেন ৷



Execution time: 0.01 render + 0.00 s transfer.