Login | Register

আল বিদায়া ওয়ান্নিহায়া - খন্ড ৯

পৃষ্ঠা ৩৭ ঠিক করুন


ষুহায়র ইবন কায়স রালাবী (বা)

৭৬ সনে ওফাতপ্রাপ্তদের একজন হলেন যুহাযর ইবন কায়স বালাবী (রা) ৷ তিনি মিসর
বিজয়ে অংশ শনিয়েছিলেন এবং সেখানে বসতি স্থাপন করেছিলেন ৷ তিনি রাসুলুল্লাহ্ (না) এর
সাহচর্য পেয়েছিলেন ৷ আফ্রিকার (লিবিয়ার) শহর বারকা তে রোমানগণ তাকে হত্যা করে ৷
মিসরের শাসনকর্তা আবদুল আযীয ইবন মারওয়ানের নিকট সংবাদ আসে যে, রোমানগণ
বারকা অঞ্চলে অবস্থান নিয়েছে ৷ শাসনকর্তা আবদুল আযীয যুহায়রা (রা)ণ্ক ওদের বিরুদ্ধে
অভিযান পরিচালনা করতে নির্দেশ দিলেন ৷ যুহায়র (বা) অগ্রসর হলেন ৷ তার সাথে মাত্র ৪০
জন সৈনিক ৷ তিনি সেখানে রোমানদের অবস্থানরত পেলেন ৷ তার মুল সেনাদল যুদ্ধক্ষেত্রে
পৌছার পুর্ব পর্যন্ত তিনি যুদ্ধ থেকে বিরত থাকতে চেয়েছিলেন ৷ কিন্তু তার সাথিগণ পীড়াপীড়ি
করে বলল, আপনি বরং আমাদেরকে সাথে নিয়ে ওদের উপর আক্রমণ করুন ৷ তারা আক্রমণ
করলেন ৷ পরিণামে তারা সকলেই নিহত হলেন ৷

মুনযির ইবন জারুদ (র)

মুনযির ইবন জারুদ এই ৭৬ সনে ইনতিকাল করেন ৷ তিনি এক সময় সরকারী ণ্কাষাগার
বা বায়তুল মালের তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন ৷ প্রতিনিধি দলের সদস্য হয়ে তিনি আমীর মুআবিয়া
(রা) এর দরবারে গিয়েছিলেন ৷

৭ ৭ হিজরী সন

এই সনে শাসনকর্তা হাজ্জাজ কুফার নাগরিকদের সমন্বয়ে একটি বিশাল যোদ্ধা দল গঠন
করে ৷ এই দলে সৈন্য সংখ্যা ছিল ৪০,০০০ ৷ পরবর্তীতে তার সাথে আরো ১০,০০০ হাজার
সৈন্য যোগ করে ৷ ফলে সৈন্য সংখ্যা পঞ্চাশ হাজারে উন্নীত হয় ৷ আত্তাব ইবন ওয়ারাকা
সেনাপতি নিযুক্ত হন ৷ শাবীবকে খুজে বের করে পাকড়াও করতে ,র্তাকে নির্দেশ দেয়া হয় ৷
তাকে হত্যা করার দৃঢ় সংকর নিয়ে এগিয়ে যেতে বলা হয় ৷ হাজ্জাজ এও বলে দেয় যে,
ইতোপুর্বে পরাজয় বরণ ও পালিয়ে গিয়ে যে অপকর্ম করেছে এবার যেন তার পুনরাবৃত্তি না
হয় ৷ তখন শাবীবের সাথে ছিল মাত্র ১০০০ অনুসারী ৷ শ্া৷বীবের নিকট হাজ্জাজের বিশাল
সেনাবহর এগিয়ে আমার সংবাদ আসে ৷ তাতে সে মোটেও বিচলিত হয়নি ৷ সে তার
অনুসারীরুব্ব উদ্দেশ্যে ভাষণ দিতে দীড়ায় ৷ সে তাদেরক ওয়ায-নসীহত করে, উপদেশ দেয় ৷
এবং যুদ্ধের সময় ধৈর্য ধারণ ও শত্রুর উপর কুশলী আক্রমণ পরিচালনায় উৎসাহ প্রদান করে ৷
এরপর অনুসারীদেরকে সাথে নিয়ে শাবীর আত্তাব ইবন ওয়ারকা-এর উদ্দেশ্যে অগ্রসর হন ৷
দিনের শেষ বেলায় সুর্যাস্তের সময় উভয় পক্ষ মুখোমুখি হয় ৷ শাবীর তীর মুআযযিন সালাম
ইবন ইয়াসারকে মাগরিবের আমার দিতে বলে ৷ সেন্ আমান দেয় ৷ সাথীদেরকে নিয়ে শাবীর
ধীরস্থিরভাবে পুর্ণাঙ্গ রুকু সিজদা করে মাগরিবের নামায আদায় করল ৷ আত্ত৷ ব তার ভৈসনিকদের
সারিবদ্ধ করলেন ৷ শাবীর মাগরিবের নামায ণ্;শষে নিরুদ্বিগ্ন বসে থাকল ৷ অপেক্ষায় থাকল
চীদ উঠার ৷ চাদ উঠল আকাশে ৷ চারিদিকে আলোকময় হয়ে পড়ল ৷ এরপর সে তার ডান
দিৰেল্ম সৈন্য এবং বাম দিকের সৈন্যদের প্রতি দৃষ্টি দিন এবং সেগুলোকে বিন্যস্ত করল ৷
ষ্ারপর আত্তাবেৱ পতাকাবাহী সৈন্যদের উপর আক্রমণ চালায় ৷ শাবীর বলছিল “আমি হলাম
ষ্বুমুদ্দিল্লাহ্ আল্পাহ্ ব্যতীত কারো কোন ফায়সালা চলবে না ৷ ”শাবীর ওদের উপর আক্রমণ
না ৷ ওদের সেনাপতি কাবীস৷ ইবন ওয়ালিকসহ অনেক সেনাপতিকে সে হত্যা করল ৷
মোঃ হামলা চালাল ওদের লেনাদলেন্নু ডান এবং বাম ইউনিটের উপর ৷ উভয় বাহুর


পৃষ্ঠা ৩৮ ঠিক করুন


সৈনিকদেরকে আক্রমণে আক্রমণে ছত্রভঙ্গ করে ফেলল, এরপর মুল দলের উপর হামলা
চালাল ৷ অবিরাম হামলা চালিয়ে ওদের প্রধান সেনাপতি আত্তাব ইবন ও য়ারকা এবং তার সাথে

যুহরা ইবন জাওনাহ্কে হত্যা করল ৷ এরপর বাকী সৈন্যরা পালাতে শুরু করে ৷ সেনাপতি
আত্তাবের লাশ ফেলেই তারা পালাতে থাকে ৷ ঘোড়ার পায়ের তলায় পিষ্ট হয় আত্তাবের
মরদেহ ৷ যুদ্ধে আরো নিহত হয় আমার ইবন ইয়াযীদ কা ৷লবী ৷

এরপর শাবীর তার অনুসারীদেরকে বলল, তোমরা কোন পলাতক শত্রুর পেছনে তাড়া
করো না ৷ তোর হতে না হতে হাজ্জাজের সৈন্যরা পালিয়ে কুফা, চলে যায় ৷ বিরোধী পক্ষের
সেনা ক্যাম্প দখল করার পর খারিজী নেতা শাবীর অবষিষ্টি লোকদের থেকে তার নিজের
নেতৃত্বের প্রতি বায়আত ও অঙ্গীকার নিয়ে নেয় ৷ সে তাদেরকে বলে কােন্ সময়ের দিকে
তোমরা পালিয়ে যাচ্ছে ? এরপর তো শত্রু শিবিরে থাকা মালামাল ও রসদপত্র সে নিজ
আয়ত্তে নিয়ে আসে ৷ শ্

এ পর্যায়ে সে তার ভাই মুসাদকে ডেকে নিংয় আসে মাদাইন থেকে ৷ এরপর শাবীর কুফার
উদ্দেশ্যে যাত্রা করে ৷ এদিকে সুফয়ান ইবন আব্বাদ কালবী এবং হাবীব ইবন আবদুর রহমান
হাকামী ছয় হাজার অশ্বারোহী ও বহু সিরীয় সৈন্য সহকারে শাসনকর্তা হাজ্জাজের নিকট
উপস্থিত হয় ৷ এদেরকে পেয়ে কুফাবাসীদের সাহায্য নেয়া থেকে হাজ্জাজ মুক্ত হল ৷ হাজ্জাজ
উপস্থিত সৈন্যদের প্রতি বক্তৃতা দিতে শুরু করে ৷ সে আল্লাহ্র প্রশংসা করে এবং তীর গুণগান
করে ৷ তারপর বলে, হে কুফাবাসিগণ! তোমাদের সাহায্যে যে ব্যক্তি ইজ্জত পাওয়ার আশা
করে মহান আল্লাহ তাকে ইজ্জ্বত দিবেন না ৷ তোমাদের মাধ্যমে যে সাহায্য লাভ করতে চায়
প্রকৃতপক্ষে সে কোন সাহায্য পাবে না৷ আমাদের আশপাশ থেকে তোমরা বেরিয়ে যাও ৷
আমাদের সাথী হয়ে কোন শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াইতে তোমরা অংশ নিবে না ৷ তোমরা হীরা
প্রদেশে চলে যাও ৷ সেখানেস্ব গিয়ে ইয়াহুদী নাস৷ রাদের সাথে বসবাস কর ৷ যারা আমাদের রাজ
কর্মচারী এবং যারা নিহত সেনাপতি আত্তাবের সাথে যুদ্ধে অংশ ণ্নয়নি শুধুমাত্র তারাই
আমাদের সাথী হয়ে যুদ্ধে যাবে ৷

এবার হাজ্জাজ নিজে শাবীবের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয় ৷ শাবীর সম্মুখে
অগ্রসর হয়ে আল সুরাত গিয়ে পৌছে ৷ হাজ্জাজ ত ৷র ৷সাথী সিরীয় সৈন্য ও অন্যান্যা-দরন্থক নিয়ে
অভিযানে বের হয় ৷ উভয় পক্ষ মুখোমুখি হয় ৷ হ জ্জাজ শাবীৰ্কে দেখতে পড়ায় যে, সে মাত্র
ছয়শত অনুসারী নিয়ে অবস্থান করছে ৷ হ জ্জাজ ন্সিরীয়দের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়ে বলে, ওহে
সিরীয় জনগণ! তোমরা সত্তাগতভাবে আনুগত্যশীল, ধৈর্যশীল ও আস্থাভাজন লোক ৷ ওই
নাপাক ও অপবিত্র শত্রুপক্ষ যেন তোমাদের হক নষ্ট করতে না পারে ৷ তোমরা দৃষ্টি অবনত
রাখবে এবং অশ্বপৃষ্ঠে মযবুতভাবে বসবে ৷ বর্শার মাথা উচিয়ে সম্মুখে এগিয়ে যাবে ৷ তারা তাই
ব্বল ৷

খারিব্জী নেতা শাবীর ও প্রস্তুত ৷ তার অনুসারীদেরকে সে তিনভাগে বিভক্ত করে ৷ এক
অংশ তার সাথে ৷ এক অংশ সুওয়ায়দ ইবন সুলায়মের (নতৃত্বে এবং এক অংশ মুজাল্লাল ইবন
ওয়াইলের নেতৃত্বে বিন্যাস করে, শাবীর নির্দেশ দিল সুওয়ায়দকে সে যেন শত্রুপক্ষের উপর
হামলা চালায় ৷ সে হামলা চালায় হাজ্জাজ বাহিনীর উপর ৷ ওরা ধৈর্য অবলম্বন করে ৷ পাল্টা
হামলা চালায়নি ৷ সুওয়ায়দ ওদের খুব কাছে পৌছে যায় ৷ এবার তারা একযোগে পাল্টা
আক্রমণ করে সুয়ায়দের উপর ৷ সে পরাজিত হয় ৷ হাজ্জাজ তার সৈন্যদেরকে ডেকে বলে, ওহে
অনুগত বাহিনী, এভাবে তোমরা যুদ্ধ চালিয়ে যাও ৷ এবার হ জ্জাজেব নিদ্যেশ তার বসার
আসনটি সম্মুখে এগিয়ে নেয়া হয় ৷


পৃষ্ঠা ৩৯ ঠিক করুন

এরপর শাবীব মুজাল্লালকে নির্দেশ দেয় হ জ্জাজ বাহিনীর উপর হামলা করার জন্যে ৷ সে
হামলা করল ৷ ওরা ধৈর্য ধরে থাকল ৷ হাজ্জাজত তার আসন আরো এগিয়ে নিল ৷ এরপর শাবীব
নিজে তার বাহিনী নিয়ে হাজ্জাজ বাহিনীর উপর হামলা চালায় ৷ ওরা ধৈর্য ধারণ করে থাকে ৷
খারিজী বাহিনী ওদের বর্শার নাপালের মধ্যে এসে যাবার পর হাজ্জাজ বাহিনী একযোগে
খারিজীদের উপর আক্রমণ করে ৷ দীর্ঘক্ষণ উভয় পক্ষে যুদ্ধ হয় ৷ সিরীয় বাহিনী শাবীবের উপর
আক্রমণ করে তাকে বর্শার আঘাত করে এবং তাকে তার সাথীদের নিকট ঠেলে নেয় ৷ সিরীয়
বাহিনীর ধৈর্য ও দৃঢ়তা দেখে শাবীব তার সেনাপতি সুওয়ায়দকে ডেকে বলে, তোমার
অশ্বারোহী বাহিনী নিয়ে এই শত্রু দলের উপর হামলা চালাও ৷ আশা করি তুমি ওদেরকে এখান
থেকে সরিয়ে দিতে পারবে ৷ তুমি পেছনের দিক থেকে এসে হ জ্জাজেব উপর আক্রমণ কর ৷
আর আমি সম্মুখ থেকে তার উপর আক্রমণ করব ৷ সুওয়ায়দ হামলা করল ৷ কিন্তু কোন লাভ
হল না ৷ কারণ, সচেতন হাজ্জাজ পুর্ব থেবেইি তার পেছনে একটি বাহিনী নিয়োজিত ব্লেখেছিল
যেন খারিজীগণ পেছন থেকে তার উপর আক্রমণ করতে না পারে ৷ তিনশত অশ্বড়ারােহীর ওই
দলের নেতৃত্বে ছিলেন ওরওয়৷ ইবন মুগীরা ইবন শু বাহ ৷ বস্তুত হাজ্জাজ ছিল দক্ষ ও অভিজ্ঞ
সমরবিদ ৷ শাবীব যখনই তার অনুসারীদেরকে হামলা চালানোর নির্দেশ ৷দেয় তখনই৷ হ জ্জাজ
বুঝে নেয় যে, তারা পেছনের দিক থেকে হামলা চালাতে পারে ৷ হাজ্জাজ তার সাথীদেরকে
বলে, ওহে ধৈর্যশীল ও আনুগতাশীল জনতা এই প্রচণ্ড আক্রমণের মুখে ধৈর্য ধারণ করে থাক ৷
আসমান-যমীনের মালিকের কসম ! বিজয়ের চইিতে মুল্যবান কিছু নেই ৷ ওরা সওয়ারীর উপর
উপুড় হয়ে পড়ল ৷ সকল সাথী নিয়ে, শাবীব ওদের উপর আক্রমণ চালায় ৷ শাবীব বাহিনী
হাজ্জাজ বাহিনীর খুবই কাছাকাছি আসার পর হাজ্জাজ তার সকল সৈন্যকে ডেকে সম্মিলিত
আক্রমণের নির্দেশ দেয় ৷ তারা শাবীব বাহিনীর উপর সম্মিলিত আক্রমণ চালায় ৷৩ তারা শাবীব
বাহিনীর উপর তীব্র আক্রমণ চালায় ৷ একের পর এক আক্রমণে ওদেরকে জর্জরিত করে
তোলে ৷ তারা শাবীব বাহিনীর বিরুদ্ধে একের পর এক জয়লাভ করতে থাকে ৷ এক পর্যায়ে
তারা শাবীব ও তার সাথীদেরকে পেছনের দিকে সরিয়ে দিতে সক্ষম হয় ৷ এই সময়ে শাবীব
তার অনুসারীদেরকে বলল, ভুমিতে নেমে পড়, ভুমিতে নেমে পড়, হে আল্লাহর ওলিণণ
তোমরা সওয়ারী থেকে নেমে যাও ৷ সে সওয়ারী ছেড়ে মাটিতে নেমে পেল ৷ তার সাথীরাও
নীচে নেমে পেল ৷ হাজ্জাজ তার বাহিনীকে ডেকে বলল, ওহে সিরিয়াবাসীগণ৷ ওহে
আনুগত্যশীল সম্প্রদায় এই তো মা এ প্রথম সাহায্য ৷ যীর হাতে আমার প্রাণ তার কন্যা! এটি
প্রথম সাহায্য মাত্র ৷ সে ওখানে একটি মসজিদের উপর উঠে যায় ৷ উভয় পক্ষের যুদ্ধবিগ্রহ
দেখতে থাকে ৷ শাবীবের সাথে তখন না এ বিশ (২০) জন অনুসারী ৷ অস্ত্র হিসেবে তাদের
নিকট রয়েছে শুধু৩ তীর ও বর্শা ৷ সারাদিন উভয় পক্ষে চরম যুদ্ধ চলে ৷ এ এক অভুতপুর্ব যুদ্ধ ৷
উভয় পক্ষের সকলেই প্রতিপক্ষের শক্তি ও দৃঢ়তার স্বীকৃতি দিয়েছে ৷ হ জ্জাজ তার বসার স্থান
থেকে উভয় পক্ষের দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছিল ৷ খালিদ ইবন আত্তাব হাজ্জা জের নিকট
অনুমতি চেয়েছিল শাবীবের পেছন দিক থেকে গিয়ে আক্রমণ করার জন্যে ৷ হ জ্জাজ অনুমতি
দিয়েছিল ৷ সে চার হাজার সৈন্যসহ এগিয়ে যায় ৷ এরপর খারিব্জীদের পেছনের দিক থেকে
খালিদ ইবন আত্তাব তাদের উপর হামলা করে ৷ সে শাবীবের ভাই মুসাদকে এবং শাবীবের শ্রী
ণাযালাকে হত্যা করে ৷ ফারওয়া ইবন দিকাক কালবী নামে এক লোক গাযালাকে খুন করে
ফেলে ৷ ইতোমধ্যে হাজ্জা জ বাহিনীর আক্রমণে শাবীবের সৈন্যদের মধ্যে বিচ্ছিন্ন তার দেখা
দেয় ৷ তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় ৷ এতে হাজ্জ্বাজ এবং তার সাথীরা খুশী হয় ৷ তারা আনন্দে
ত্যৰুবীর ধ্বনি দিয়ে উঠে ৷


পৃষ্ঠা ৪০ ঠিক করুন

শাবীব ও তার সাথিগণ প্রত্যেকে এক একটি ঘোড়ার চড়ে অন্যত্র চলে যায় ৷ হাজ্জাজ় তার
ণ্লাকদেরকে ওদ্যো পেছনে ধাওয়া করার জন্যে নির্দেশ দিয়েছিল ৷ তারা আক্রাণ চালায় ৷ এবং
ওদেরকে পরাজিত করে দেয় ৷ শাবীব নিরপেত্তা রক্ষী রুপে সবার পেছনে পেছনে রজ্জি ৷ তারা
এগিয়ে যাচ্ছিল ৷ হাজ্জাজের লোকেরা অদ্দের পেছনে যাওয়া করে ৷ শাবীব তখনো তার ঘোড়ার
পিঠে ৷ তদ্রালু তন্দ্রৰ্লু তার ৷ ঘুমের ঘোরে তার মাথা নুয়ে নুয়ে পড়ছিল ৷ হাজ্জাজের সৈন্য
শাবীৰের খুব কাছাকাছি পৌছে যায় ৷ তার জনৈক অনুসারী তাকে এই পরিস্থিতিতে ঘুমাতে
নিষেধ করল ৷ কিভু যে কারো কথায় কান দেয়নি ৷ তন্দ্রালু হয়েই এগুচ্ছিল ৷ দীর্ঘক্ষণ এভাবে
চলার পর হাজ্জাজ তার সাথীদের একথা বলে ফিরিয়ে আসে যে, ওকে যেতে দক্টও জাহান্নামের
আগুনে পুড়ে মরুক ৷ তারপর তারা তাকে ছেড়ে দিয়ে ফিরে আসে ৷

এরপর হাজ্জাজ কুফার প্রবেশ করে ৷ জনসাধারণের উদ্দেশ্যে এক ভাষণ দেয় ৷ ভাষণে সে
বলে, ইতোপুর্বে কোন সময়ে শাবীবকে পরাজিত করা যায়নি, ৷ এবার প্রথম যে পরাজিত হল ৷
এরপর শাবীবও কুফাতে প্রবেশ করে ৷ তাকে প্রতিরোধের জন্যে হাজ্জাজের একটি বাহিনী
অগ্রসর হয় ৷ বুধবারে উভয় পক্ষে যুদ্ধ শুরু হয় ৷ জ্বযুআ দিবস পর্যন্ত যুদ্ধ অব্যাহত থাকে ৷ এই
যুদ্ধে হাজ্জাজ বাহিনীর সেনাপতি ছিল হারিছ ইবন মুআবিয়া ছাকাফী ৷ তার সাথে ছিল ১০০০
অশ্বারােহী সৈনিক ৷ খারিজী নেতা শাবীব হারিছ ইবন মুআবিয়ার উপর হামলা করে ৷ সে হারিছ
ও তার সাথী সেনাদলকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়, ওদের অনেক ৫লাককে সে হত্যা করে ৷ সরকারী“-
বাহিনী পালিয়ে গিয়ে কুফার নগরীর ভেতরে আশ্রয় নেয় ৷ তারা রাজপথ ও“গলিপথগুলোতে
প্রতিরক্ষার ব্যবস্থা করে ৷ এ সময়ে হাজ্জাজের মুক্ত করা ক্রীতদান্স আবু ওয়ারদ একদল সৈনিক
নিয়ে শাবীৰের মুকাবিলা করার জঃন্য উপস্থিত হয়, সে লড়াই করে এবং নিহত হয় ৷ তার
সাথিগণ পালিয়ে কুফা চলে যায় ৷ এবার অন্য এক সেনাপতি আসে শাবীৰের বিরুদ্ধে যুদ্ধ
করার জন্যে ৷ সেও পরাজিত হয় ৷ এবার শাবীর তার সাথীস্কদ্যাক নিয়ে “আস সাওয়াদ”
অঞ্চলের দিকে যাত্রা করে ৷ ওই অঞ্চলে হাজ্জাজের নিযুক্ত কর্মকর্তার সাথে তাদের সাক্ষাত
হয় ৷ তারা তাকে হত্যা করে, এরপর শাবীব তার অনুসারীদের উদ্দেশ্যে একটি ভাষণ দান করে,
ধ্ সে বলল, তোমরা কি আমিরাত বাদ দিয়ে দুনিয়া নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছ ? এরপর ধন-সম্পদ
ও মালপত্র যা সাথে ছিল সবগুলো ফোরাত নদীতে ফেলে দেয় ৷ এরপর সে অনুসারীদেরকে
নিয়ে এগিয়ে যায়, এ যাত্রার সে বহুৰুশহর-নগৱ জয় করে ৷ তাকে প্রতিরোধের জন্যে যে-ই
এগিয়ে এসেছে তাকেই সে হত্যা করেছে ৷ এরপর জনৈক নগর প্রশাসক তার নিকট উপস্থিত
হয়, সে বলল, ওহে শাবীব! আস আমি তোমার সাথে দ্বন্দুযুদ্ধে অবতীর্ণ হই আর তুমি আমার
সাথে দ্বন্দুযুদ্ধে অবতীর্ণ হও ৷ এই প্রশাসক মুলতঃ শাবীৰের বন্ধু ছিল ৷ শাবীব তাকে বলল,
আমি তোমাকে খুন করতে চাইনা ৷ প্রশাসক বলল, আমি তো ণ্তামাকে খুন করতে চাই ৷
সুতরাৎ তোমার আত্মবিশ্বাস এবং ইভােপুর্বেকার বিজয়গুলাে তোমাকে যেন প্রভাবিত না করে ৷
এ কথা বলেই প্রশাসক ব্যক্তিঢি শাবীৰের উপর আক্রমণ করে ৷ শাবীব পাল্টা আক্রমণে তার
মাথায় সজােরে আঘাত করে৷ তাতে তার মাথা থেতলে যায়, হাতিঃ, মগজ আর গোশত
মিশে একাকার হয়ে যায় ৷ এরপর শাবীব তার দাফন কাফনের ব্যবস্থা করে ৷
এরপর হাজ্জাজ শাৰীবকে ধরে আমার জন্যে তার সেনাবাহিনীর পেছনে বহু টাকা-পয়সা ও

অর্থ কড়ি ব্যয় করে ৷ কিন্তু তারা তাকে বয়ে আনতে পারেনি, সক্ষম হয়নি তার নাগাল পেতে ৷
অবশেষে হাজ্জা জ বাহিনীর কোন প্রক্রিয়ায় নয় আর শাবীৰের নিজেরও কোন ক্রিয়ার নয়; বরং
তাকদীর সুত্রে মহান আল্লাহ এই ৭৭ সনে শাবীৰের মৃত্যু ঘটান ৷


পৃষ্ঠা ৪১ ঠিক করুন

শাবীবের মৃত্যু সম্পর্কে ইবন কালবী বলেন, তার ঘটনা ছিল এই : হাজ্জাজ তার নিযুক্ত-
বসরার শাসনকর্তা হাকাম ইবন আইয়ুব ইবন হাকাম ইবন আবু আকীলকে শাবীবের বিরুদ্ধে
অভিযান পরিচালনার জন্যে নির্দেশ দিয়েছিল ৷ বসরার শাসনকর্তা হাকাম ইবন আইয়ুব ছিল
হাজ্জাজের জামাত৷ ৷ হাজ্জাজ তাকে শাবীবের মুকাবিলার জন্যে ৪০০০ সৈন্য প্রস্তুত রাখতে
নির্দেশ দিয়েছিল ৷ এরা সুফয়ান ইবন আবরাদের নেতৃতুাধীান কাজ করবে ৷ শাসনকর্তা হাকাম
ইবন অইিয়ুব তইি করে ৷ তারা শাবীবের খোজে অভিযানে বের হয় ৷ ইবন আবরাদের সাথে
বহু সিরীয় সৈন্য ছিল ৷ বসরার সৈন্যগণ গিয়ে মিলিত হয় ইবন আবরাদের নেতৃত্বাধীন সিরীয়
সৈন্যদের সাথে ৷ উভয় দলের সৈন্য মিলে এক বিশাল সেনাদাল পরিণত হয় ৷ তারা শাবীবের
খোজে অভিযানে বের হয় ৷ তাকে তার খুজে পেল ৷ খারিজী ও সরকারী বাহিনীর মধ্যে তুমুল
যুদ্ধ হয় ৷ উভয় পক্ষ ধৈর্যের সাথে অবিচল থাকল ৷ এরপর হাজ্জাজ বাহিনী খারিজীাদর উপর
একটি সম্মিলিত ও প্রচণ্ড আক্রমণ পরিচালনা করল ৷ খারিজীপণ সংখ্যায় কম ছিল বাট ৷ হামলা
ঠেকাতে না পেরে তারা সামনের দিকে পালিয়ে গেল ৷ ওখানে একটি সেতুর উপর গিয়ে
থামাত তারা বাধ্য হয় ৷ প্রায় একশত অনুসারী নিয়ে শাবীব ওখানে অবস্থান নেয় ৷ সুফয়ান
ইবন আবরাদ শাবীবের সাথে এটে উঠছিল না ৷ সেতুর নিকট পুনরায়৩ ভীষণ যুদ্ধ হয় ৷ দিনভর
চলে সেই যুদ্ধ ৷ শাবীবও তার সাথিগণ সরকারী বাহিনীকে ওখান থেকে পেছনে তাড়িরে দেয় ৷
ইবন আবরাদ তার সৈনিকদেরকে একাযাগে তীর নিক্ষেপের নির্দেশ, দেয় ৷ নিক্ষিপ্ত তীরের
মুকাবিলাকরতে অপা রপ হয়ে খারিজীগণ সেখান থেকে পালিয়ে যায় ৷ এরপর তারা পাল্টা
আক্রমণ চালায় সরকারী বাহিনীর উপর ৷ এই আক্রমণে তারা আবরাদ বাহিনীর ৩০ জন
সৈনিক হত্যা করে ৷ ইতোমধ্যে গভীর অন্ধকার নিয়ে রাত নেমে আসে ৷ উভয়পক্ষ যুদ্ধ বিরতি
পালন করে ৷ উভয়পক্ষ প্রতিপক্ষের উপর আরো প্রচণ্ড হামলা করার উত্তেজ্যা৷ নিয়ে রাত
কাটায় ৷ ভোরবেলা খারিজী নেতা শাবীব তার সাথীাদরকে নিয়ে সেতু পার হতে যায় ৷ শাবীব
সেতুর উপর ছিল তার ঘোড়ার পিঠে ৷ তার সম্মুখে ছিল একটি মাদী ঘোড়া ৷ হঠাৎ তার
ঘোড়াটি সম্মুখস্থু মাদী ঘোড়ার পায়ের উপর উঠে যায় ৷ শাবীব তখনো সেতুর উপর ৷ উত্তেজিত
ঘোড়ার এক পা পড়ে যায় নৌকায় এক পাশে ৷ ঘোড়া পড়ে যায় পানিতে ৷ সাথে শাবীবও ৷
হাবুডুবু খাওয়া অবস্থায় শাবীব বলে, এটা৷ত৷ “এ জন্যে যে, মহান আল্লাহ্ তার সিদ্ধান্ত
বাস্তবায়ন করবেনই ৷” এরপর সে পানিতে ডুবে যায় ৷ আবার মাথা উঠার এবং বলে “এটি
পরাক্রমশালী সর্যজ্ঞ স্রষ্টার সিদ্ধান্ত” ৷ অতঃপর সে পানিতে ডুবে মারা যায় ৷ নেতা শাবীব
পানিতে পড়ে গিয়েছে এটা নিশ্চিত হবার পর তার অনুসারী খারিজীগণ আল্লাহু আকবার ধ্বনি
দেয় এবং সকলে বিক্ষিপ্ত ও ছত্রভঙ্গ হয়ে বিভিন্ন শহরে পালিয়ে যায় ৷

হাজ্জাজ বাহিনীর প্রধান এগিয়ে আসে ৷ সে শাবীবের মরদেহ্ পানি থেকে উত্তোলন করে ৷
তখনো তার দেহে যুদ্ধ বর্ম ৷ সেনাপতির নির্দেশে শাবীবের বক্ষ চিরে ফেলা হয় ৷ বের করে
আনা হয় তার হৃৎপিণ্ড ৷ দেখা গেল সেটি মযবুত ও শক্ত একটি গোলক ৷ যেন কঠিন পাথর ৷
সেটিকে তারা মাটিতে আছাড় মারছিল আর সেটি লাফিয়ে মানুষের মাথা সমান উপরে
উঠছিল ৷

কেউ কেউ বলেছেন যে, শাবীবের অনুসারীদের মধ্যে কেউ কেউ তার প্রতি বিদ্বেষভাবাপন্ন
হিণ্৷ ৷ কারণ, শাবীবের দ্বারা তাদের জ্ঞাতিগােত্রদের ক্ষতি হয়েছিল ৷ শাবীব বাহিনীর পেছনের
দিকে থাকার সময় এক পর্যায়ে তারা নিজেদের মধ্যে পরামর্শ করে ৷ তারা সিদ্ধান্ত নিয়ে বলে
যে, শাবীব সেতুাত উঠাল আমরা তাকেসহ সেতুর খুটি কেটে দিব ৷ বন্তুত তারা তাই করে ৷
সেতু ভেঙ্গে পড়ে নৌকায় উপর ৷ তার ঘোড়া লাফিয়ে উঠে এবং সে পানিতে ডুবে মারা যায় ৷

া০ ৷৷া
হু

পৃষ্ঠা ৪২ ঠিক করুন


তারা চীত্কার দিয়ে বলেছিল, আযীরুল মু’মিনীন পানিতে ডুবে গিয়েছেন, ওদের ঘোষণা শুনে

হাজ্জাজের সৈনিকেরা বুঝতে পারে যে, শাবীব পানিতে ডুবে মারা গিয়েছে ৷ তারা এগিয়ে আসে

এবং তার মরদেহ উদ্ধার করে ৷
শাবীবের মৃত্যু সংবাদ পৌছে তার মায়ের নিকট ৷ সংবাদ যারা নিয়ে গিয়েছিল তাদেরকে

সে বলেছিল, হী তোমরা ঠিকই বলেছ যে, সে মারা গিয়েছে ৷ আমি তাকে গর্ভধারণ কালে

স্বপ্নে দেখেছিলাম ৷ তার মধ্য থেকে একটি অগ্নিস্ফুলিঙ্গ বের হয়েছে ৷ তখনই আমি বুঝে নিয়েছি

যে, অগ্নিশিখা পানি ছাড়া নেভানাে যায় না ৷ পানি ব্যতীত অন্য কিছু এটি নিভাতে পারবে না ৷

তার মাতা ছিল একজন ক্রীতদাসী ৷ তার নাম জাহবারা ৷ সে রুপবভী, অন্যতম শ্রেষ্ঠ সাহসী ও

বীরাঙ্গনা ছিল ৷ পুত্র শাবীবের সাথে যুদ্ধক্ষেত্রে উপস্থিত হয়ে সে শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করত ৷

ইবন খাল্লিকান বলেছেন যে, শাবীবের মাতা এই যুদ্ধেই মারা গিয়েছিল ৷ তাই যুদ্ধে শাবীবের

শ্রী গাযালাও নিহত হয় ৷ সেও প্রচণ্ড শক্তিমতী ও সাহসী মহিলা ছিল ৷ সে যুদ্ধ করত প্রচণ্ড

দক্ষতার সাথে ৷ পুরুষ বীর যােদ্ধারা তার মুকাবিলায় হেরে যেত ৷ শাবীবের পত্নী গাযালাকে

শাসনকর্তা হাজ্জাজ নিজে ভীষণ ভয় করত ৷ এ প্রসঙ্গে জনৈক করি বলেছেন-
শাসনকর্তা হাজ্জার্জ আমাদের নিকট আসে সিংহ হয়ে ৷ যুদ্ধে সে কোমল দেহের উটপাথীর
ছানা ৷ হুইসেলের ন্াব্দ শুনে সে দুরে পালিয়ে যায় ৷
১ঞে
কেন আপনি যুদ্ধক্ষেত্রে“ গাযালা-এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে পেলেন না ? বরং আপনার অন্তর

হলো পক্ষী শাবকের ণ্দু’ বাহুর ম ধ্যখানে ৷ আপনার অন্তর পাখীর অন্তরের ন্যায় ঙ্ঘার্ত-সস্ত্রস্ত ও

দুব্ল

বর্ণনাকারী বলেন, খারিজী নেতা শাবীব ইবন ইয়াযীদ নিজেকে খলীফা বলে দাবী করেছিল
এবং আপন বলয়ে আমীরুল ঘু’মিনীন সালে তাকে ডাকা হত ৷ মহান আল্লাহ্ যেভাবে তাকে
স্তব্ধ করে দিয়েছেন যদি তা না করতেন তাহলে কালে সে সর্বজন স্বীকৃত খলীফা হয়ে যেত
বটে ৷ কেউই তাকে প্রতিরোধ করতে পারত না ৷ বস্তুত মহান আল্লাহ হাজ্জাজের মাধ্যমে তাকে
থামিয়ে দিয়েছেন ৷ খলীফা আবদুল মালিকের নির্দেশে সিরীয় ,সেনা-অভিযান প্রেরণ করার এই
বম্সহয়েহে ৷

শাবীবের ঘোড়া এখন তাকে দুজায়ল১ নদীর পানিতে ফেলে দিয়েছিল ৷ তখন একলোক

তাকে বলেছিল’ ওহে আযীরুল মু’মিনীন খলীংফা৷ আপনি কি ডুবে যাচ্ছেন ? উত্তরে শাবীব
বলেছিল ৷ এতে৷ পরাক্রমশালী-মহাজ্ঞানী আল্লাহ্র সিদ্ধান্ত তাকদীর ৷’ এরপর তাকে পানি
থেকে উদ্ধার করে হাজ্জাজের নিকট নেয়া হল ৷ তার নির্দেশে বুক চিরে তার হৃৎপিণ্ড বের করা
হল ৷ দেখা গেল সেটি পাথরের ন্যায় শক্ত ৷ শাবীব ছিল দীর্যাঙ্গী গৌরবর্ণের মানুষ ৷ তার জন্ম
তারিখ ২৬ হিজরী সনের ১ :ই যিলহাজ্জ ঈদুল আযহার দিবস ৷ শাবীবের মৃত্যুর সময়ে তার

ন্ এক অনুসারীকে বন্দী করা হয়েছিল ৷ তাকে উপস্থিত করা হয়েছিল খলীফা আবদুল মালিকের
নিকট ৷ আবদুল মালিক তাকে বলেছিলেন, তুমি কি এই কবিতার রচয়িতা ?

জ্যো যদি মারওয়ানু তার পুত্র; আমর, হাশিম ও হাবীব থেকে থাকে ৷
১ আহওয়ায়ের একটি নদী ৷


পৃষ্ঠা ৪৩ ঠিক করুন


এে

তাহলে আমাদের মধ্যে রয়েছেন হুসায়ন, বাতীন, কা বার এবং আমাদের মধ্যে আছেন
আমীরুল মু ’মিনীন শাবীব ৷

খলীফা আবদুল মালিকের প্রশ্নের উত্তরে লোকটি বলল, কবিতা আমি বলেছি বটে তবে
শেষাৎরু শ বলেছিলাম হে আমীরুল মুমিনীন! আমাদের

মধ্যে শাবীবও রয়েছে’ ৷ তার এই চাতৃর্যপুর্ণ ওমর পেশে খলীফা মুগ্ধ হলেন এবং তাকে ছেড়ে
দিলেন ৷ আল্লাহ্ই ভাল জানেন ৷

এই ৭৭ সনে উমাইয়া সেনাপতি মুহাল্লাব ইবন আবু সুফরাহ এবং আযারিকা সম্প্রদায়ভুক্ত
খাবিজীদের মধ্যে বহু যুদ্ধ সংঘটিত হয় ৷ এই পর্যায়ে খাবিজীদের নেতা ছিল কা৩ ৷রী ইবন
ফুজাআহ ৷ কাতারী নিজেও দুঃসাহসী ও বীর অশ্বারোহীছিল ৷ এই সনে কাতারীর অনুসারিগণ
ছএভঙ্গ হয়ে যায় এবং বিভিন্ন দিকে পালিয়ে যায় ৷ কিংন্নু কাতারী নিজে কোথায় হারিয়ে গিয়েছে
তার কোন হদিস পাওয়া যায়নি ৷ কারণ, সে সবার নিকট থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল ৷ অবশ্য
উমাইয়া বাহিনী এবং কাতারী বাহিনীর মধ্যে বহু যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল যা উল্লেখ করতে
বিশাল ফিরিস্তির দরকার ৷ ইবন জারীর তার ইতিহাসগ্রন্থে এসবের বিশদ আলোচ্না করেছেন ৷

ইবন জারীর বলেন, এই সনে থােরাসানের শাসনকর্তা বুকায়ব ইবন বিশাহ সেখানকার
অপর প্রশাসক উমাইয়া ইবন আবদুল্লাহ ইবন খালিদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে ৷ বুকায়ব
বিশ্বাসঘাতক্তা করে জনসাধারণকে উমাইয়ার বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তোলে এবং তাকে হত্যা
করে ৷ বুকায়ব ও উমইিয়ার মধ্যে ইতিপুর্বে বহু যুদ্ধ-বিগ্রহ অনুষ্ঠিত হয়েছিল ৷ ইবন জারীর তার
ইতিহাসঃান্থে তা বিস্তারিত আলোচনা করেছেন ৷

এই হিজরীতে খারিজী নেতা শাবীব ইবন ইয়াযীদের মৃত্যু হয়; ইতোপুর্বে আমরা তা
আলোচনা করেছি ৷ শাবীব ছিল একজন দুরদর্শী, সাহসী ও অন্যতম ণ্তজস্বী পুরুষ ৷ সাহারা-ই-
কিরাম (রা) এরপর শাবীব, আশতার, তার পুত্র ইব্রাহীম, মুসআৰ ইবন যুবায়র, তার ভাই
আবদুল্লাহ ইবন যুবায়র, কাতারী ইবন ফুজ৷ আ প্রমুখ ব্যক্তিবর্গ ছাড়া তেমন তেজস্বী পুরুষ খুব
একটা দেখা যায়নি, আল্লাহ্ই ভাল জানেন ৷

এই সনে আরও যে সব বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ইনতিকাল করেন তাদের একজন হলেন কাহীর
ইবন সালত ইবন মাদীকারাব আল কিনদী ৷ তিনি একজন বয়ােবৃদ্ধ ব্যক্তি ছিলেন ৷ তার
সম্প্রদায়ের সকলে তাকে মান্য করত ৷ মদীনা শরীফে “আল মুসান্নাহ্” এলাকায় তার একটি
বড় বাড়ী ছিল ৷ কেউ কেউ বলেছেন যে, তিনি খলীফা আবদুল মালিকের যোগাযোগ দপ্তরের
লিপিকার ছিলেন, তিনি সিরিয়াতে ইনতিকাল করেন ৷

মুহাম্মদ ইবন মুসা ইবন তালহা ইবন উবায়দুল্লাহ্ এই ৭৭ সনে ইনতিকাল করেন ৷ খলীকা
আবল্দো মালিক ছিলেন তার ভগ্নিপতি ৩৷ খলীফ৷ আবদুল মালিক তাকে সিজিস্তানের শাসনকর্তা
নিয়োগ করেছিলেন ৷ তিনি কর্মস্থলে যাবার উদ্দেশ্যে যাত্রা করলেন ৷ তাকে জানানো হল যে,
পথে আপনাকে খারিজী নেতা শাবীবের মুখোমুখি হতে হবে ৷ কেউই শাবীবকে পরাজিত
করতে পারেনি ৷ ররৎ সে সবইিকে পরাজিত করেছে ৷ সুতরাং পুর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে অগ্রসর হোন ৷
আপনি হয়ত তাকে পরাস্ত করতে পারবেন ৷ যদি তাই হয় তাহলে আপনি হবেন চিবস্মরণীয়
বিজয়ী ব্যক্তিত্ব ৷ পথিমধ্যে শাবীব তার মুখোমুখি হয় ৷ উভয় পক্ষের মধ্যে যুদ্ধ হয় ৷ এক পর্যায়ে
শাবীব তাকে হত্যা করল ৷ কেউ কেউ অন্য মস্তব্যও করেছেন ৷ আল্লাহ্ই ভাল জানেন ৷


পৃষ্ঠা ৪৪ ঠিক করুন


৭৭ সনে যারা ইনৃতিকাল করেন ইয়ান ইবন গানাম অড়াশআরী (রা) তাদের একজন ৷
তিনি ইয়ারমুকের যুদ্ধে উপস্থিত ছিলেন ৷ তিনি বহু সাহাবী থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন ৷
বসরাতে তার ওফাত হয় ৷

মুতাররিক ইবন আবদুল্লাহ্ (রা) ৭৭ সনে ইনৃতিকাল করেছেন ৷ তারা কয়েক ভাই
, ছিলেন ৷ উরওয়া, মুতাররিফ এবং হামযা (র) ৷ উমাইয়াদের প্রতি তাদের আকর্ষণ ও
আন্তরিকতা ছিল ৷ তাই হাজ্জাজ ইবন ইউসুফ তাদেরকে বিভিন্ন প্রদেশে শাসনকর্তারুপে নিয়োগ
দেয় ৷ এই সুত্রে উরওয়া নিযুক্ত হন কুফার কর্মকর্তা ৷ মুতাররিফ মাদাইনের এবং হামযা
হামদানের প্রশাসক নিযুক্ত হন ৷

৭৮ হিজরী সন

এই সনে মুসলমানগণ একটি বিরাট যুদ্ধে অংশ নেয় ৷ ওই যুদ্ধ ছিল ণ্রামানদের বিরুদ্ধে ৷
এই যুদ্ধে মুসলমানগণ ইরকিলিয়্যাহ জয় করে ৷ যুদ্ধ শেষে প্রত্যাবর্ত্যনর পথে তারা প্রবল বৃষ্টি,
তৃষারপাত ও শৈত্য প্রবাহের শিকার হয় ৷ তাতে বহু লোক অসুস্থ হয়ে পড়ে ৷

এই সনে খলীফা আবদুঃ৷ মালিক মুসা ইবন নুসায়র কে আফ্রিকার দেশগুলো জয় করার
জন্যে দায়িত্ব দেন ৷ তিনি সৈন্য সামম্ভ নিয়ে তানজাহ্ এর উদ্দেশ্যে ২যাত্রা করেন ৷ সম্মুখ
বাহিনীর নেতৃত্বে ছিলেন তারিক ৷ তারা ওইসব অঞ্চলের রাজা বাদশাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন
এবং ওদেরকে হত্যা করেন ৷ ওদের কাউকে কাউকে নাক কেটে দেশাস্তরী করা হয়, এই সনে
খলীফা আবদুল মালিক থােরাসানের শাসনকর্তার পদ থেকে উমাইয়া ইবন আবদুল্লাহ্কে
বরখাস্ত করে খােরাসান এবং সিজিস্তান দুটোকে হাজ্জাজের শাসনাধীনে ন্যস্ত করেন ৷ এদিকে
খারিজী নেতা শাৰীব ইবন ইয়াযীদের ঝামেলা থেকে মুক্ত হবার পর শাসনকর্তা হাজ্জাজ কুফা
ছেড়ে বসরাৱ উদ্দেশ্যে যাত্রা করে ৷ মুগীরা ইবন আবদুল্লাহ ইবন আমির হাদরামীকে কুফার
শাসনকর্তা নিয়োগ করে হাজ্জাজ বসরায় গিয়ে পৌছে ৷ সেনাপতি মুহাল্লাব তার সাথে সাক্ষাত
করেন ৷ তিনিও আযারিকা সম্প্রদায়কে পরাজিত করে এসেছিলেন ৷ হাজ্জাজ তার সেনাপতি
মুহাল্লাবকে নিজের সাথে সিংহাসনে বসতে দেয় ৷ তার সৈনিকদের মধ্যে যারা আহত তাদেরকে
ডেকে আনে ৷ মুহাল্পাব যে সৈনিকে র সুনাম করেন হাজ্জাজ তাকে প্রচুর পুরস্কার প্রদান করে ৷
এরপর হাজ্জাজ সেনাপতি মুহাল্লাবকে সিজ্যিানের শাসনকর্তা নিয়োগ করে ৷ আর আবদুল্লাহ্
ইবন আবু বকরাহকে থােরাসানের শাসনকর্তার পদ প্রদান করে ৷ কিন্তু অবিলম্বে সাক্ষাতকার-
শেয হবার পুকেহ উভয়ের কর্মক্ষোর পরিবর্তন করে দেয় ৷ মুহাল্লাবকে দেয় খােরাসান ৷ শাসনের
দায়িত্ব আর আবদুল্লাহ্কে প্রদান করে সিজিস্তানের শাসনভার ৷ কেউ কেউ বলেছেন যে,
মুহাল্লাবের পরামর্শে হাজ্জাজ এই রদবদল করে ৷ আবার কেউ বলেছেন যে, হাজ্জাজ তৎকালীন
পুলিশ প্রধান আবদুর রহমান ইবন উবায়দ ইবন তারিক আবশামীর পরামর্শ চেয়েছিল ৷ সে
হাজ্জা জকে এরুপ পরামর্শ দিয়েছিল ৷ হাজ্জাজ তার পরামর্শ গ্রহণ করে এই রদবদল করে এবং
মুহাল্পাবকে লক্ষ ব্বিহাম পরিশোধের নির্দেশ দেয় ৷ কারণ, তিনি এই সিদ্ধান্তে প্রশ্ন
তৃলেছিলেন ৷

আবু মাশার বলেন এই সনে ওয়ালীদ ইবন আবদুল মালিক হজ্জ পরিচালনা করেন ৷ এ
সময়ে মদীনা শরীফের শাসনকর্তা ছিলেন আৰান ইবন উছমান ৷ ইরাক, থােরাসান ও
সিজ্যিানসহ ওই অঞ্চলের সকল রাজ্যের প্রশাসক ছিল হাজ্জাজ ইবন ইউসুফ ৷ তার পাশে
থােরাসাভৈনর দায়িত্বে ছিলেন মুহাল্লাব ইবন আবু সুফ্রাহ, সিডিন্তোনে আবদুল্লাহ ইবন আবু
বকরাহ ছাকাফী ৷ কুফার বিচারক পদে ছিলেন শুরায়হ, বাসরার বিচারক পদে মুসা ইবন
আনাস ইবন মালিক আনসারী (রা) ৷



Execution time: 0.02 render + 0.01 s transfer.