Login | Register

আল বিদায়া ওয়ান্নিহায়া - খন্ড ৯

পৃষ্ঠা ২১ ঠিক করুন

;:ট্রুট্রু৷ ৷ পু’; হেট্রুব্লু;পু ৷ ;’: এরপর মহান আল্লাহ্ আরশে সমাসীন হয়েছেন আঘাতের

অর্থ হিসেবে জাহমিয়্যা সম্প্রদায় বলে যে, আল্লাহ্ আরশের উপর কর্তৃতু স্থাপন করেছেন ৷ তারা
কবিআখতড়ালের কবিতার আলোকে এই অর্থ গ্রহণ করে ৷ করি আখতাল বলেছিলর্দ্ধ
শ্শু

বিশর ইরাকের উপর ,কর্তৃৎ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন কোন তরবারি ব্যবহার এবং রক্তপাত
ছাড়া ৷ ’ ,

বস্তুতঃ এই কবিতায় জাহমিয়্যাদের পক্ষে কোন প্রমাণ নেই ৷ সুতরাং তাদের বক্তব্যও
দলীল-প্রমাণহীন এবং বাতিল ৷ সেটি বাতিলের পক্ষে বহু যুক্তি রয়েছে ৷ করি আখতাল ছিল খৃন্ট
ধর্মাবলম্বী ব্যক্তি ৷ প্

শাসনকর্তা-বিশর ইবন মারওয়ানের মৃত্যুর ঘটনা ছিল এই যে, তার চোখে ক্ষত হয়েছিল ৷
গোড়া থেকে ওই চক্ষু কেটে ফেলে দেয়ার জন্য তাকে পরামর্শ দেয়া হয়েছিল ৷ তাতে, তিনি ভয়
পেয়ে গেলেন ৷ কিন্তু চোখের ঘা বৃদ্ধি হতে হতে ঘাড়ে গিয়ে পৌছল ৷ এরপর পৌছল পেটে ৷
এরপর তাতে র্তার মৃত্যু ঘটে ৷ মৃত্যু শয্যায় শায়িত হয়ে তিনি কাদছিলেন আর বলছিলেন,
“আহ্! আমি যদি শাসনকর্তা না হয়ে কোন আরব বেদুঈনের বকরী চারণকারী রাখলে হতাম,
তাও ভাল হতো ৷”

তার এই মন্তব্য আবু হাযিম কিৎরা সাঈদ ইবন মুসায়া ড়াবকে জানানো হল ৷ তখন তিনি
বললেন, “সকল প্রশংসা মহান আল্লাহ্র যিনি ওদেরকে মৃত্যুকালে আমাদের দিকে ধাবিত
করেছেন আমাদেরকে ওদের দিকে ধাবিত করেননি ৷ ওদের জীবনে আমাদের জন্যে শিক্ষা ও
উপদেশ রয়েছে ৷

হাসান বলেছেন, আমি বিশরের নিকট গিয়েছিলাম ৷ তখন তিনি তার খাটে গড়াগড়ি
দিচ্ছিলেন ৷ ছটফট করছিলেন ৷ এরপর খাট ছেড়ে ঘরের আঙ্গিনায় গিয়ে পড়লেন ৷
চিকিত্সকেরা তার চারপাৰ্;শ ছিল ৷ এই ৭৪ সনে তিনি বসরাতে ইনৃতিকাল করেন ৷ বসরায়
ইনৃতিকাল করেছেন এমন শাসনকর্তাদের মধ্যে তিনিই প্রথম ৷ বিশরের মৃত্যু সংবাদ শুনে
খলীফা আবদুল মালিক খুবই দুঃখ পান ৷ তিনি কবিদের তার শ্যেকগাথা রচনা ও আবৃত্তির
নির্দেশ দেন ৷ মহান আল্লাহ্ই ভাল জানেন ৷

ণ্ ৭৫ হিজরী সন

এই সনে মুহাম্মদ ইবন মারওয়ান রোমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনা করেন ৷ মুহাম্মদ
ইবন মারওয়ান হলেন খলীফা আবদুল মালিবেরে ভাই এবং মারওয়ান আল হিমার-এর পিতা ৷
ণ্রামানগণ মারআশ থেকে বের হবার পর তিনি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন ৷ এই সনে খলীফা
আবদুল মালিক ইয়াহ্য়া ইবন আবুআসকে মদীনায় শাসনকর্তা নিয়োগ করেন ৷ ইয়াহ্য়া হলেন
তার চাচা, হাজ্জাজকে মদীনায় শাসনকর্তার পদ থেকে অপসারিত করে ইরাক, বসরা, কুফা
এবং আশেপাশের অন্যান্য অঞ্চলের শাসনকর্তার পদে নিয়োগ দেয়া হয় ৷ বিশর ইবন
মারওয়ানের মৃত্যুর পর এ রদ-বদল ঘটে ৷ এ সময়ে খলীফা আবদুল মালিক অনুধাবন করলেন
যে, শক্তি, শৌর্য, সাহস, নিষ্ঠুরতার অধিকারী হাজ্জাজ ব্যতীত অন্য কেউ ইরাকের বিশৃৎখল
ক্কনেগণকে শৃৎখলাবদ্ধ করতে পারবে না ৷ তাই তিনি মদীনায় অবস্থানকারী হাজ্জাজকে ইরাকের
শাসনকর্তা নিয়োগ করে চিঠি প্রেরণ করলেন ৷ মাত্র ১২ জন অশ্বারােহী সাথী নিয়ে হাজ্জাজ
মদীনা থেকে ইরাকের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে ৷


পৃষ্ঠা ২২ ঠিক করুন

জনগণের অজ্ঞাতসারে সে কুফায় প্রবেশ করে ৷ কুফা নগরীর কাছাকাছি এক স্থানে তারা
অবস্থান নেয় ৷ সে গোসল করল ৷ খিযাব লাগলে ৷ নিজের পেশোক পরিধান করল ৷ গলায়
তরবারি ঝুলাল ৷ পাগড়ীর মাথা ঝুলিয়ে দিল দু’কীধের মাঝখানে ৷ এরপর গিয়ে প্রশাসনিক
ভবনে প্রবেশ করল ৷ সেদিন ছিল জুমাআবার, মুয়ায্যিন জুমাআর প্রথম আযান দিল ৷ সবার
অজান্তে হাজ্জাজ মসজিদে গিয়ে মিম্বরে উঠে বসল ৷ দীর্ঘক্ষণ কোন কথা বলল না ৷ সকলে তীক্ষ্ণ
দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে রইল ৷ সবাই হীটু গেড়ে বসল তাকে কংকর মারার জন্যে ৷ সবার
হাতে পাথর কণিকা ৷ ইতোপুর্বেকার শাসনকর্তাকে তারা কংকর যেয়ে তাড়িয়ে দিয়েছিল ৷

হাজ্জাজ মিম্বরে উঠে দীর্ঘক্ষণ চুপ মেরে রইল, কোন কথা বলল না ৷ তাতে সকলে স্তষিত
হয়ে গেল ৷ এবং তার বক্তব্য ণ্শানার জন্যে আগ্রহী হয়ে উঠল ৷ অতঃপর সর্বপ্রথম সে বলে
উঠল, ওহে ইরার্কী জনগণ ৷ বিদ্রোহী ও মুনাফিক জনতা ! বদ চরিত্রের লোকসমাজৰু আল্পাহ্র
কসম ! তোমাদের এখানে আসার আগেই তোমাদের অবস্থান ও কার্যকলাপ আমাকে ভাবিয়ে
তৃলেছিল ৷ আমি আল্পাহ্র নিকট দুআ করেছিলাম আমার হাতে যেন তিনি তোমাদেরকে
শায়েস্তা করার সুযোগ করে দেন ৷ শুনে নাও, ণ্তামাষ্কদরকে শিক্ষা দেয়ার জন্যে আমার হাতে যে
চাবুক ছিল গতরাতে সেটি হাত থেকে পড়ে গিয়েছে ৷ এখন সেস্থানে এসেছে এই তরবারি ৷ সে
তার তরবারির’ দিকে ইঙ্গিত করল ৷ এরপর বলল, আল্লাহ্র কসম, তোমাদের বড়দের জন্য
আমি ছোটদেরকে পাকড়াও করব ৷ দাসদের জন্য ৰুস্বতৃধীনদেরকে পাকড়াও করব ৷ এরপর আমি
তােমাদেরকে কামায়ের লোহা পেটানোর মত পিটার, বাবুর্চির মণ্ড মাথার ন্যায় দলিত-মথিত
করে পিষে ফেলব ৷ তার বক্তব্য শুনে সবার হাত থেকে কংকরগুলো খসে পড়তে শুরু করে ৷
কেউ কেউ বলেছেন যে, শাসনকর্তা হাজ্জাজ কুফায় প্রবেশ করে রমযান মাসে যুহরের সময়ে ৷
সে তখন মসজিদে আগমন করে ৷ মিম্বরে উঠে ৷ তার মাথায় লাল পাগড়ী বীধা ছিল ৷ পাগড়ীর
মাথায় ঢাকা ছিল তার মুখমণ্ডল ৷ সে নির্দেশ দিল, সবাইকে আমার নিকট উপস্থিত কর ৷
জনসাধারণ তাকে ও তার সাথীদেরকে খারেজী সম্প্রদায়ের লোক বলে ণ্ভবেছিল ৷ তারা তাদের
উপর হামলা চালানোর ইচ্ছা করেছিল ৷ লোকজন একত্রিত হবার পর সে দাড়ালাে এবং মুখের

পর্দা সরিয়ে দিল ৷ আর বলল-

শ্শ্শ্শ্শ্শ্


আমি প্রভাত আলো ৷ আমার সম্মুখের বড় দাত গজিয়েছে ৷ আমি অভিজ্ঞ ৷ পাগড়ী
ণ্ খুললেই তোমরা আমাকে চিনতে পারবে ৷ ’

এরপর সে বললো, আল্লাহ্র কসম ! আমি প্রত্যেকটি বিষয়কে তার উপযুক্ত মাধ্যম দিয়েই
উত্তোলন করি ৷ জুতার জোড়ার মাপের মত সমান সমানডাবে ব্যবস্থা নিই ৷ রশি অনুযায়ী পইিট
বীধি ৷ আমি দেখতে পাচ্ছি যে, তোমাদের মধ্যে কতগুলো মাথা থেকে গেছে ৷ ওগুলো কেটে
যেস্পার সময় হয়ে গিয়েছে ৷ আমি দেখতে পাচ্ছি তোমাদের মধ্যে কতক লোকের রক্ত দাড়ি ও
পাগড়ীর মধ্যে খইথই করছে ৷ আমি পায়ের নলার কাপড় খুলে ফেলেছি, এখন তা উন্মুক্ত ৷
এরপর সে নিম্নের কবিতা আবৃত্তি করলো ৷

এা১১ ৷ ৷ , ৷ ৷ এই

এখন বেধে নেয়ার সময় ৷ আমি এখন গোশতগুলাে প্যাকেট করে নিব ৷ নিষ্ঠুর রাথাল
রাতভর যে গোশতগুৰলাকে সাজিয়ে ব্লেখেছে ৷


পৃষ্ঠা ২৩ ঠিক করুন

ণ্হ্নএড্র এব্লএচ্ ন্
মুলতঃ আমি উটের রাখাল নই ৷ বকরীরও নই, আমি কাঠের গুড়িতে রেখে গোশত
কাটার কসাইও নই ৷
আমার পক্ষ থেকে জনৈক শক্তিশালী এবং অনুগত ব্যক্তি ওই গোশতগুলো কেটে
সাজিয়েছে ৷ ওই ব্যক্তি একরোখা, গৌড়া, বনবাসী ৷

সুন্এ
সে দেশত্যাগী, গ্রাম্য বেদৃঈন নয় ৷

এরপর সে বললো, আল্পাহ্র কসম! হে ইরাকী জনগণ! আমি সাধারণ তীরন্দায নই ৷
আমি খালি কলসী বজােই না প্রভাবিত ও ভীত হই না ৷ আমি বয়সে পাকা হয়েছি ৷
জীবন-অভিজ্ঞতার সমৃদ্ধ হয়েছি ৷ খলীফা আবদুল মালিক তার তীরের ঝুড়ি ঝোড় সবগুলো
তীর সম্মুখে রেখেছিলেন ৷৩ তারপর একটা একটা করে সবগুলো পরীক্ষা করেছেন ৷ আমাকে



? পেম্বেহেন ডীক্ষ্ণধার ও মষবুত তীর ৷৩ তারপর তিনি আমাকে তোমাদের নিকট পাঠিয়েছেন ৷
তোমরা যতবেশী ফিতনার-ময়দানে বিচরণ করবে, বিভ্রাস্তির পথে চলবে, গোমরাহীর
নীতি অবলম্বন করবে আল্লাহর কসম আমি ততই ওে ৷মাদেরকে লাঠির ছাল খোলার ন্যায়
চামড়া খুলব ৷ সালামা বৃক্ষের পাতা পেষার নৃা৷য় পিষে (নব ৷ অবাধ্য উটের ন্যায় পেটাব ৷
আল্লাহ্র কসম৷ আ ৷মি যে প্রতিশ্রুতি দিই তা পুরণ করি ৷ যা ৷তৈরী করি তা ভালভাবেই তৈরী
করি ৷ সুতরাং ওই বিচ্ছিন্নতা, দলবাজি এবং অপ্রীতিকর কথাবার্তা ছেড়ে দাও ৷ আল্লাহর কসম
তোমরা অবশ্যই সরল ও সোজা পথে চলবে নতুবা আমিণ্ তামাদের শরীরে শরীরে এমন ক্ষত
ও জখম সৃষ্টি করে দিব যে, তার যন্ত্রণায় তোমরা অন্যসব কথা ভুলে যাবে ৷
এরপর সে বললো, বিশর ইবন মারওয়ানের ঙু পর সেনাপতি ঘুহাল্লাবের দল ত্যাগ
করে যারা এসেছ আজ থেকে তিন দিন পর যদি তাদের কাউকে ওই দলের বাহিরে পাই
অবশ্যই আমি তার রক্ত প্রবাহিত করে দেব খুন করে ফেলব এবং তার ধন-সম্পদ বাজেয়াপ্ত
করব ৷ এতটুকু বলে সে মিম্বর থেকে নেমে গেলো এবং প্রাসাদে ফিরে এলো ৷
কেউ কেউ বলেন যে, শাসনকর্তা হাজ্জাজ মিম্বরে আরোহণ করার পর এবং লোকজন
সমবেত হবার পর দীর্ঘক্ষণ চুপচাপ বসে রইলাে ৷ জনৈক শ্রোতা মুহাম্মদ ইবন উমায়র এক
পর্যায়ে পাথবকুচি হাতে তুলে নিল ৷ হ জ্জাজেব গায়ে সেগুলো নিক্ষেপ করার ইচ্ছা ছিল তার ৷
সে বলেছিল, অ ৷ল্লাহ্ এই লোককে অপমানিত করুন, কত মন্দ লোক সে ৷
হাজ্জাজ যখন র্দাড়ালাে আর তার ওই পিলে চমকানাে কড়া বক্তব্য রাখল তখনতয়ের
চোর্টে মুহাম্মদ ইবন উমায়রের হাত থেকে পাথরকুচিগুলাে আপনা-আপনি খসে পড়ে গেল
অথচ সে টেবই পায়নি ৷ হাজ্জাজের বক্তব্যের ধার, বিশুদ্ধতা ও জােরদেখে সে স্তস্তিত হয়ে
যায় ৷
কেউ কেউ বলেছেন যে, হাজ্জাজ তার বক্তব্যে বলেছিল, সবার মুখমওল বিশ্ৰী হোক ৷
মহান অ ৷ল্লাহ্ পবিত্র কুরআনে একটি উদাহরণ দিয়ে বলেছেন :



পৃষ্ঠা ২৪ ঠিক করুন


আল্লাহ দৃষ্টান্ত দিচ্ছেন এক জনপদের যা ছিল নিরাপদ ও নিশ্চিন্ত, যেখানে আসত সবদিক
হতে সেটির প্রচুর জীবনােপকরণ ৷ অতঃপর সেটি আল্লাহর অনুগ্রহ অম্বীক৷ ৷র করল, ফলে তারা
বা করত তার জন্যে আল্লাহ তাদেরকে আস্বাদ গ্রহণ করালেন ক্ষুধা ও ভীতির আচ্ছাদনের ৷
(নাহ্ল১৬ং : ১১২) ৷ বন্তুতঃ তোমরা হলে সেই জাতি ও সম্প্রদায় ৷ অবিলম্বে তোমরা ঠিক
হয়ে যাও, সরল র্পথের পথিক হও ৷ আল্লাহর কসম! আমি তোমড়াদেবকে এমন শাস্তি ভোগ
করার যে, তোমরা ছিন্নভিন্ন-ছত্রভঙ্গ হয়ে যাবে ৷ সালামা বৃক্ষের রস লিংড়ানাের মত আমি
তোমাদেরকে পিষে ফেলব যে, তোমরা অনুগত হবে ৷
আমি আল্লাহর কসম করে বলছি তোমরা ইনসাফ ও ন্যায়নীতির পথে অগ্রসর হয়ে ৷
ফিতনা ও বিশৃৎখলার পথ পরিহার করবে ৷ কেউ কেউ আমাকে তোমাদের অবস্থা জ নিয়েছে
বটে ৷ তোমাদের এই অবস্থা কেন ? ব্যাপার কি ? অবশ্যই তোমরা এসব ছেড়ে দিবে, না হয়
তররারির আঘাতে আমি তোমাদের দেহকে টুকরো টুকরো করে ফেলব ৷ তোমাদের ত্রীগণ হবে
বিধবা ৷ ছেলেমেয়েরা ইয়াতীম হয়ে যাবে ৷ তখন তোমরা ঋ জু হয়ে চলবে, বাকা ও বিদ্রোহের
পথ ছেড়ে আসবে ৷ এটিশ্ ৷৷সনকর্তা৷ হজ্জ ৷জের একটি সুদীর্ঘ, উন্নত, কঠোর ও নির্দয় বক্তব্যের
শ৷ শওই বক্তব্যে কোন পুরস্কার ও কল্যাণের ওয়াদা ছিল না ৷ বক্তৃতার পর তৃতীয় দিনে সে
বাজারের দিকে শ্লোগান ও তা ৷কবীরধ্বনি শুনলেন ৷ সে ঘর থেকে বেরিয়ে এসে মিম্বরে বসল ৷
এবং বলল, ওহে ইরাকী জনগণ! ওহে বিদ্রোহী ও মুনাফিকগণ! ওহে বদমাশ জনগণ আমি
তো বাজারে তাকবীরধ্বনি শুনেছি ৷ ওই৩ ৷কবীর উৎসাহব্যঞ্জক তাকবীর নয় ৷ বরং শ্াং কা ও
তর উদ্রেকক৷ রী তাকবীর ৷ প্রচণ্ড ঝড় শুরু হয়েছে ৷৩ তার নীচে দুমড়ে-মুচড়ে পড়ছে বৃক্ষরাজি ৷
ওহে ছোট লোকের বাচ্চারা৷ লাঠি প্রহার খাওয়া গােলামেরা, দ সী ও বিধবাদের পুত্রগণ!
তোমাদের প্রত্যেকে নিজ নিজ অপরাধের জন্যে অনুতপ্ত হতে পাবনা? নিজ নিজ রক্ত ও খুন
নিরাপদ রাখতে পাবনা ? নিজের দীড়ানোর স্থান দেখে নিতে পাবনা ?
আমি আল্লাহর কসম করে বলছি, আমি তোমাদের উপর এমন আঘাত হানব যে, সেটি
বর্তমান লোকদের জন্যে হবে কঠিন শাস্তি আর পরবর্তী প্রজন্মের জন্যে হবে শিক্ষণীয় ৷
এ বক্তব্য শুনে উমায়র ইবন হানী তামীমী হানযালী উঠে দীড়ালাে ৷ সে বলল, মহান
আল্লাহ শাসনকর্তার ভাল করুন ৷ আমি সেনাপতি ৩মুহাল্লাবের সেনাদলের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম, আমি
একজন দুর্বল বুড়াে মানুষ ৷ এই আমার পুত্র, সে আমার চইিতে জােয়ান ৷
হাজ্জাজ বলল, তুমি কে ? সে বলল, আমি উমায়র ইবন দাবী তামীমী ৷ হাজ্জাজবলল,
আমার গত দিনের বক্তব্য কি তমি শুনেছ ? সে বলল, হা, শুনেছি ৷ হাজ্জ ৷জ বলল, তুমি হযরত
উছমান ইবন আফ্ফানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলে৩ ৷ই না ? সে বলল, ভুা,৩ ৩ইি ৷ হাজ্জাজ
বলল, তুমি তা করতে গেলে কেন ? সে বলল,৩ তিনি আমার বাবাকে বন্দী করে রেখেছিলেন ৷
আমার বাবা ছিলেন বুড়ো মানুষ ৷ হ ৷জ্জাজ বলল, তোমার বাব৷ কি এই কবিতাটি বলেনি ?


আমি তার উপর (হয়য়ত উছমানের উপর) আক্রমণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম ৷ কিন্তু
আক্রমণ করিনি ৷ যদি করতাম৫ তা ভালই হত ৷ যদি তার শ্ৰীদেরকে ক্রন্দনকারিণী বানাতে
পারতাম, তাহলে বেশ ভাল হতো ৷
এরপর হাজ্জাজ বলল, আমি অবশ্যই মনে করছি যে, তোমাকে হত্যা করলে মিসরীয়দের-
কল্যাণ হবে ৷ এরপর নিরাপত্তা প্রহরীকে ডেকে বলল, ওকে শেষ করে দাও ৷ এক লোক তার


পৃষ্ঠা ২৫ ঠিক করুন

দিকে এগিয়ে গেল এবং তার ঘাড়ে তরবারির কােপ মারল এবং৩ তার মালামাল ছিনিয়ে নিল:
তারপর হাজ্জাজ তার ঘোষককে বলল, জনসমক্ষে এ কথা ঘোষণা করে দাও যে, উমায়র ইবন
দাবী শাসনকর্তার ঘোষণা শোনার পরও তিনদিন পর্যন্ত মুল সেনাদলের সাথে যোগ দেয়নি ৷
বিধায় তাকে হত্যার আদেশ দেয়া হয়েছে ৷ এবং তাকে হত্যা করা হয়েছে ৷

ঘোষণা শুনে সবইি পড়ি কি মরি অবস্থায় দলে দলে মুহ ৷ল্পাবের দিকে দৌড়াতে শুরু করে ৷
নদী অতিক্রমকালে সেতুর উপর প্রচণ্ড ভিড় জমে যায় ৷ একই সময়ে ৪০০০ লোক ওই সেতু
পার হয় এবং মুহাল্পাবের নিকট গিয়ে পৌছে ৷ ইউনিট প্রধানগণও প্রত্যাবর্তনকা ৷রী দলে ছিল ৷
সেখানে পৌছার পর তারা মুহাল্পাবের নিকট থেকে সেখানে পৌছেছে মর্মে সনদ সংগ্রহ করে ৷
মুহাল্লাব তখন বলেছিলেন, এবার ইরাকে একজন মরদের মত মরদ এসেছে বটে ৷ এবার শত্রু
পক্ষের বিরুদ্ধে লড়াই হবে ৷ শত্রু বিনাশ হবে ৷ এক বর্ণনায় এসেছে যে, হাজ্জাজ বৃদ্ধ উমায়র
ইবন দাবীকে চিনতেন না ৷ অ ৷ম্বাম৷ ইবন সা ৷ঈদ তাকে ডেকে বলেছিল, শাসনকর্তা এই যে,
বড়ো লোকটি দেখতে পাচ্ছেন, হযরত উছমান (রা) নিহত হবার পর সে তার পবিত্র মুখে চড়
মেরেছিল ৷ তখনই হাজ্জাজ তাকে হত্যা করার আদেশ দেয় ৷
শাসনকর্তা হাজ্জাজ তার পক্ষ থেকে হাকাম ইবন আইয়ুব ছাকাফীকে বসরার শাসনকর্তা
নিয়োগ করল ৷ত তাকে খালিদ ইবন আবদুল্লাহ-এর বিরুদ্ধে আক্রমণ পরিচালনার জন্যে নির্দেশ
দিল ৷ শুরায়হকে কুফা র বিচ৷ ৷রক পদে বহাল রাখল ৷ এরপর হাজ্জা জ নিজে বসরার উদ্দেশ্যে
যাত্রা করে ৷ কুফায় তার প্রতিনিধি রেখে যায় আবু ইয়াকুরকে ৷ বসরার বিচারক পদে নিয়োগ
দেয় যুরারাহ ইবন আবু আওফাকে ৷ পরে সে কুফায় ফিরে আসে ৷ এই বৎসর হজ্জ পরিচালনা
করেন খলীফা আবদুল মালিক ইবন মারওয়ান ৷ তার চাচা ইয়াহ্য়া মদীনা শরীফের শাসনকর্তা
পদে বহাল রাখেন ৷ থােরাসানের শাসনকর্তা পদে বহাল থাকেন উমায়্যা ইবন আবদুল্লাহ ৷
এই সনে বসরার জনগণ হ জ্জাজেব বিরুদ্ধে প্রচণ্ড আন্দোলন গড়ে তোলে ৷ কারণ, উমায়র
ইবন দা ৷বীকে হত্যার পর হাজ্জ ৷জ কুফা থেকে বসরা গমন করে ৷ তখন সে বসরার জনগণের
সম্মুখে বক্তৃতা দিতে উঠে ৷ কুফা র জনগণের সম্মুখে সে যেমন আক্রমণাত্মক্, কঠিন, কঠোর ও
নিদয় বক্তব্য রেখেছিল বসরাবুত ও সে রকম বক্তৃতা দিল ৷ এরপর বানু ইয়াশকা ৷র গোত্রের এক
ব্যক্তিকে ধ্রে এনে বলা হলো, এ ব্যক্তি সরকারের নিদ্যে৷ অমান্যকারী ৷ সে বলল, আমি
অসুস্থ ৷ মহান আল্লাহ আমাকে অক্ষম বানিয়েছেন ৷ পুর্ববর্তী শাসক বিশর ইবন মারওয়ানও
আমার অক্ষমত৷ মঞ্জুর করেছেন ৷ এই যে, আমার ভাতা, আমি বায়তৃল মাল তথা সরকারী ধ্
কােষাণারে ফেরত দিলাম ৷ হাজ্জাজ তার বক্তব্য গ্রহণ করল না, তাকে হত্যার নির্দেশ দিল ৷
তাকে হত্যা করা হল ৷ এ ঘটনায় উপস্থিত জনগণ বেসামাল ও ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ল ৷ তারা
বসরা ছেড়ে বাইরে চলে গেল ৷ তারা জমায়েত হল, রামহুরমুয সেতুর নিকট ৷ তখন তাদের
নেতৃত্বে এল আবদুল্লাহ ইবন জারুদ ৷ ওদেরকে শায়েস্তা করার জন্যে হাজ্জাক নিজে অভিযানে
বের হল ৷ সাথে তার অনেক সৈন্য সামন্ত ৷ এটি হলো শাবান মাসের ঘটনা, সেখানে উভয়
পক্ষে প্রচণ্ড যুদ্ধ সংঘটিত হয় ৷ যুদ্ধে বিরোধী পক্ষের অন্যান্য নেতাদের সাথে প্রধান নেতা
আবদুল্লাহ ইবন জারুদ নিহত হয়, হাজ্জাজের নির্দেশে ওদের মাথা কেটে রামহুরমুয সেতুর
উপর ঝুলিয়ে রাখা হয়, এরপর সেগুলো মুহাল্লারের নিকট পাঠানো হয়, এতে মুহাল্লাবের শক্তি
ও সাহস বৃদ্ধি পায় এবং খারিজী নেতাদের মনোবল ভেঙ্গে পড়ে ৷ তা ৷রা দুর্বল হয়ে যায়,
হাজ্জাজ সংবাদ পাঠায় যুহ ৷ল্পাব ও আবদুর রহমান ইবন মিখনাকের নিকট তারা যেন আযারিকা
সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে ৷ নিজ নিজ সৈন্যবাহিনী নিয়ে তারা আযারিকী খারিজীদের


পৃষ্ঠা ২৬ ঠিক করুন

বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনা করে ৷ এবং স্বল্প যুদ্ধে সহজে ওদেরকে রামহুরমুযের আস্তান৷ থেকে
বহিফার করে দেয় ৷ ওরা পালিয়ে পারস্যরাজ শাপুরের দেশ কাযরুন চলে যায় ৷ মুসলিম
সরকারী বাহিনী তাদেরকে ৷পছু ধাওয়৷ করে ৷ রামাযানের শেষ ভাগে উভয় পক্ষ পুনরায়
মুখোমুখি হয় ৷

রাতের বেলা খারিজিগণ মুহাল্লাবের অবস্থান পর্যবেক্ষণ করে ৷ তারা দেখতে পায় যে,
ঘুহাল্লাব তার সেনা ক্যাম্পের চারিদিকে পরিখা খনন করে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছেন ৷ এরপর
খারিজীগণ আবদুর রহমান ইবন নিখনাফের সেনা ছাউনী দেখতে আসে ৷ তারা দেখতে পায়
যে , আবদুর রহমান নিরাপত্তার কোন ব্যবস্থা-ই নেননি ৷ কোন প্রকারের নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ
ব্যতীত তার সৈন্যরা রাত্রিযাপন করছে ৷ অবশ্য সেনাপতি মৃহাল্লাব আবদুর রহমানকে পরিখা
খনন করে নিরাপত্তা ব্যুহ তৈরী করার নির্দেশ দিয়েছিলেন ৷ তিনি তা করেননি ৷ তারপর উভয়
পক্ষের সৈন্যরা রাতের মধ্যেই যুদ্ধে লিপ্ত হয় ৷ খারিজীরা সরকারী সেনাপতি আবদুর রহমানকে
হত্যা করে ৷ সাথে তার বেশ কিছু সৈন্যকে হত্যা করে, ওদেরকে চরমভাবে পরাজিত করে ৷
বলা হয় যে, খাবিজী ও সরকারী বাহিনীর এই যুদ্ধ সংঘটিত হয় রামাযান মাসের ১০ তারিখ
বুধ্বারে ৷ প্রচও সংঘর্ষ হয় উভয় পক্ষের মধ্যে ৷ ইতিপুর্বে খারিজীগণ কখনো এত বড় যুদ্ধ

: ং করতে পারেনি ৷

এবার খারিজীণণ মুহাল্পারের ভৈসনিকদের উপর হামলা চালায় ৷ তারা তাদুক তার সেনা
ছাউনীতে নিয়ে ঠেকিয়েছিল ৷ ইতােপুর্বে সেনাপতি আবদুর রহমান অশ্বারোহী দলের পর
অশ্বারোহী দল পাঠিয়ে মুহাল্পাবকে সাহায্য করেছিলেন ৷ তিনি সেনাদলের পর সেনাদল
পাঠিয়েছিল ৷ আসরের পর খারিজীগণ আবদুর রহমানের সেনাদলের উপর আক্রমণ চালায় ৷
রাত পর্যন্ত যুদ্ধ হয়, রাতের মধ্যে আবদুর রহমান নিহত হন, তার সাথে থাক৷ সেনাবাহিনীর
অনেক লোক তখন নিহত হয় ৷
তােররেলা মুহাল্লাব উপস্থিত হলেন ৷ আবদুর রহমানের জানাযা শেষ করে তাকে দাফন
করলেন ৷ এবং হাজ্জাজের নিকট তার মৃত্যু সংবাদ পাঠালেন ৷ ওই শোক সং বাদ হাজ্জাজ
পাঠাল খলীফ৷ আবদুল মালিক ইবন মারওয়ানের নিকট ৷ আবদুল মালিক মিনায় উপস্থিত
লোকজনের নিকট সেনাপতি আবদুর রহমান ইবন মিখনাফের মৃত্যু সংবাদ প্রচার করেন ৷
শাসনকর্তা হাজ্জাজ নিহত আবদুর রহমানের পদে আত্তাব ইবন ওয়ারকাকে সেনাপতি নিযুক্ত
করে ৷ তাকে নির্দেশ প্রদান করে যেন মুহাল্লাবের কথা মেনে চলে ৷ কিন্তু নবনিযুক্ত সেনাপতি
আত্তাব মুহাল্লাবের নির্দেশ মানতে রাযী ছিল না ৷ জ্যিজ্জ হাজ্জ ৷জের নির্দেশ অমান্য করারও তার
উপায় ছিল না ৷৩ তাই অনিচ্ছা সত্বেও সে মুহাল্লাবের সাথে মিলিত হবার জ্যন্য যাত্রা করে ৷
সেখানে সে প্রকাশ্যে মুহাল্লাবের নির্দেশ পালন করেছিল বর্টে; কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে তার
বিরোধিতা করছিল ৷ এক পর্যায়ে উভয়ে তর্কে লিপ্ত হয় ৷ উভয়ের মাঝে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়
হয় ৷ মুহাল্লাব আত্তাবকে আঘাত করতে উদ্যত হন ৷ লোকজন উভয়কে নিবৃত্ত করে থামিয়ে
দেয় ৷ আত্তাব হাজ্জাজকে চিঠি লিখে মুহাল্লাবের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানায় ৷ হাজ্জাজ৩ তাকে ওই
পদে ইস্তফ৷ দিয়ে তার নিকট ফিরে আসতে বলে ৷ তারপর মুহাল্লাব ওই পদে নিজ পুত্র হাবীব
, ইবন মুহাল্লাবকে নিয়োগ করেন ৷
এই সনে দাউদ ইবন নু মান মাযিনী বসরার শইরতলিতে বিদ্রোহী হয়ে উঠে ৷ হাজ্জাজ
তাকে দমন করার জন্যে একদল সেনাবাহিনী প্রেরণ করে ৷ তাদের হাতে দাউদ ইবন ৰু মান
নিহত হয় ৷


পৃষ্ঠা ২৭ ঠিক করুন

ইবন জারীর বলেন যে, এই সনে ইমরুল কায়েস গোত্রের সালিহ্ ইবন মুসাররাহ একটি
আন্দোলন গড়ে তোলে ৷ সে সুফারিয়্যাহ (খারিজীদের একটি শাখা) মতবাদের অনুসারী ছিল ৷
কারো কারো মতে সে ছিল সুফারিয়্যাহ মতবাদের গোড়া পত্তনকারী ৷ ঘটনা ছিল এই যে, এই
৭৫ সনে সে হজ্জ করতে গিয়েছিল ৷ শাবীব ইর্বৃন ইয়াযীদ,ধ্ বাভীন এবং এই পর্যায়ের খারিজী
নেতৃবৃন্দ তার সাথে ছিল ৷ ঘটনাক্রমে ওই বৎসর খলীফা আবদুল মালিক হজ্জ করতে
গিয়েছিলেন ৷ খারিজী নেতা শাবীব খলীফাকে হত্যা করার পরিকল্পনা করেছিল ৷ কিভু তা সম্ভব
হয়নি ৷ হজ্জ থেকে ফিরে আসার পর খলীফা এই সংবাদ জানতে পারেন ৷ ফলে ওই দলের
লোকদেরকে ধরে আমার জন্যে খলীফ৷ শাসনকর্তা হাজ্জাজকে নির্দেশ দেন ৷ আলোচ্য সালিহ্
ইবন মুসাররাহ্ বারবার কুফ৷ যেত এবং সেখানে অবস্থান করত ৷ তার একদল অনুসারী ছিল ৷
তারা তার মজলিসে বসত ৷ তার বুযুগীতিত বিশ্বাস করত ৷ এদের অধিকাৎশ ছিল দারা ও
মুসেলের অধিবাসী ৷ সালিহ্ ওদেরকে কুরআন শিক্ষা দিত ৷ ওয়ায নসীহত করত ৷ তার গায়ের
রং ছিল হলুদ ৷ সে প্রচুর ইবাদত বন্দেপী করত ৷ ওয়ায করার সময় সে আল্লাহ্র
ৎসা-গুণগান ও রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর প্রতি দরুদ শরীফ পাঠ করে ওয়ায শুরু করত ৷
ওয়াযের মধ্যে যে দুনিয়ার প্রতি নির্লোভ থাকা, আখিরাতের প্রতি আগ্রহী হওয়া, মৃত্যুর কথা
বেশী বেশী স্মরণ করা ইত্যাদি বিষয়ের আলোচনা করত ৷ সে হযরত আবু বকর (বা) ও উমর
(রা) এর প্রতি আল্লাহর রহমত কামনা করত ৷ তাদের সুনাম সুকীর্তি বর্ণনা করত ৷ এরপর
হযরত উছমান (রা) এর বিষয় আলোচনায় আনত এবং তাকে গালমন্দ করত ৷ তার হত্যাকারী
পাপাচারী ঘাতকেরা তাকে যে সব দোষে অভিযুক্ত করেছিল ওইসব তথাকথিত দােষগুলো সে
উল্লেখ করত ৷ এরপর তা তার সাথীদেরকে খারিজীদের দলভুক্ত হয়ে খারিজী আন্দোলনে শরীক
হয়ে সৎকর্মের আদেশ ও মন্দ কর্মে নিষেধ করতে বেরিয়ে পড়ার জন্যে উদ্বুদ্ধ করত ৷ লোক
সমাজে প্রচলিত রসুম রেওয়াজের প্রতি ঘৃণাবােধ সৃষ্টিতে সে তার অনুসারীদেরকে কাজে
লাগতে ৷ সে তাদেরকে এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে হেলায় মৃত্যুবরণ করতে দীক্ষা দিত ৷ সে দুনিয়ার
বিরুপ সমালোচনা করত ৷ পার্থিব বিষয়গুলােকে নিতান্ত তুচ্ছ ও গৌণ বিবেচনা করত ৷ হতে
হতে একদল লোক তার মতবাদে বিশ্বাসী হয়ে উঠে ৷ এক পর্যায়ে তার সতীর্থ শাবীব নিজ
অনুসারীদেরকে নিয়ে তাকে সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণার আহ্বান জানান ৷ এরপর
সালিহের নিকট শাবীব নিজে এসে উপস্থিত হন ৷ সালিহ্ তখন “দাবা অঞ্চলে অবস্থান
করছিল ৷ আলাপ আলোচনার পর উভয়ে একমত হল যে, আগামী বছর ৭৬ সনের সফর
মাসের শুরুর দিকে তারা মাঠ পর্যায়ে বিদ্রোহ ও আন্দোলন শুরু করবে ৷ এই যাত্রার শাবীবের
সাথে তার ভাই মুসাদ, মুজাল্লাল এবং ফযল ইবন আমির সালিহের নিকট উপস্থিত হয়েছিল ৷
দারায় সালিহের নিকট তখন প্রায় ১২০ জনের মত নেতৃস্থানীয় খারিজী লোকের সমাবেশ
ঘটেছিল ৷ একদিন তারা শাসনকর্তা মুহাম্মদ ইবন মারওয়ানের অশ্বগুলোর উপর আক্রমণ করে ৷
তারা অশ্বগুলোকে ছিনিয়ে নেয় এবং সেগুলো নিয়ে পালিয়ে যায় ৷ এরপর তারা কী কী ঘটিনা
ঘটিয়েছিল “৭৬ সনের ঘটনাবলী প্রসঙ্গে আমরা তা আলোচনা করব ইনশাআল্লাহ্ ৷

৭৫ হিজধী সনে নেতৃন্থৰুনীয় যীরা ইন্তিকাল করেন

আবু মুসহির ও আবু উবায়দ এর অভিমত অনুসারে এই সনে হারা ইনৃতিকাল করেন
তাদের অন্যতম হলেন হযরত ইরবাদ ইবন সারিয়৷ ৷ তিনি আবু নাজীহ সুলড়ামী উপনামেও
পরিচিত ৷ তিনি একজন বিশিষ্ট সাহাবী ৷ তিনি হিমস নগরীতে বসবাস করতেন ৷ ইসলামের



Execution time: 0.04 render + 0.01 s transfer.