Login | Register

আল বিদায়া ওয়ান্নিহায়া - খন্ড ৯

পৃষ্ঠা ১৫ ঠিক করুন

এই সনে খলীফা আবদুল মালিক বুকায়র ইবন বিশাহ তামীমীকে থােরাসানের শাসনকর্তা
পদ থেকে অপসারণ করেন ৷ তার স্থলে উমা ইয়া ইবন আবদুল্লাহ ইবন খালিদ ইবন উসায়দ
কুরাশীকে নিয়োগ করেন ৷ যাতে তার নেতৃত্বে সকল নাগরিক ঐক্যবদ্ধ হয় ৷ কারণ, আবদুল্লাহ
ইবন খুযায়মার পর খােরাসানে ভীষণ বিপর্যয় ও বিশৃৎখলা সৃষ্টি হয়েছিল ৷

উমাইয়া ইবন আবদুল্লাহ্শাসনকর্তার দায়িত্ব গ্রহণ করেন ৷ তিনি বুকায়র ইবন বিশাহকে ’
পুলিশ প্রধানের পদে নিয়ােগের প্রস্তাব দেন ৷ বুকায়র তা প্রত্যাখ্যান করেন ৷ বুকায়র
তুখারিস্তানের শাসনকর্তার পদ চায় ৷ ক্লিন্তু সেখানেষ্ গিয়ে সে আনুগত্য প্রত্যাহার করে নিতে
পারে এই আশংকা প্রকাশ করার তিনি বুকায়রচক নিজের নিকটই রেখে দেন ৷

ইবন জারীর বলেন, এই বছর হ্ভ্রুজ্জর নেতৃর্তৃ দিয়েছে হাজ্জাজ ইবন ইউসুফ ৷ সে তখন
একই সাথে মক্কা, মদীনা, ইয়ামান ও ইয়ামামার শাসনকর্তা পদে অধিষ্ঠিত ছিল ৷ ইবন জারীর
এও বলেছেন যে, খলীফ৷ আবদুল মালিক এই সনে উমরাহ পালন করেন ৷ অবশ্য এই বর্ণনার
বিশুদ্ধত৷ সম্পর্কে আমি জ্ঞাত নই ৷

৭৪ হিজয়ী সনে যাদের ওফাত হয়

রাফি হুব্ান্ৰু খাদীজ (না)

তিনি হলেন রাফি ইবন খাদীজ ইবন রাফি আনস্যরী ৷ একজন উচু পর্যায়ের সাহাৰী ৷
উহুদ বা পরবর্তী যুদ্ধসমুহে তিনি অংশ নিয়েছেন ৷ হযরত আলী; (রা) এর পক্ষে তিনি
সিফ্ফীনেয় যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন ৷ কৃষক ও চাষীদেরকে তিনি সাহায্য কঃাতেন ৷ ৮৬ বছর বয়সে
তার ওফাত হয় ৷ অবিচ্ছিন্ন সনঃদযুক্ত ৭৮টি হাদীস তিনি বর্ণনা করেছেন ৷ তার হাদীসগুলো
উন্নত পর্যায়ের ৷ উহুদ যুদ্ধে একটি তীর তার কণ্ঠমুলে বিদ্ধ হয় ৷ রাসুলুল্পাহ্ (সা) তখন তাকে
ইখতিয়ার দিয়েছিলেন যে, তিনি চাইলে ওই তীর বের করে নিতে পারেন আর চাইলে
ক্ষতস্থানে তুলা গুজে দিয়ে ওটা সেখানে রেখে দিতে পারেন ৷ যাষ্ঠে কিয়ামতের দিন আমি ৰু
তোমার পক্ষে সাক্ষী হব’ ৷ তিনি দ্বিতীয় প্রস্তাব গ্রহণ করলেন ৷ এই সনে অর্থাৎ ৭৪ হিজয়ী সনে
তার ক্ষতস্থানে রক্তক্ষরণ শুরু হয় এবং তিনি ইনৃতিকাল করেন ৷ আল্লাহ তার প্রতি সদয় হোন ৷ ’
বাৎলায় ইসলামিক বই ডাউনলোড করতেও তিজিট করুণঃ ইসলামি বই ডট ওয়ার্ডপ্রেস ডট কম ৷

আবু সাঈদ খুদরী (না)
৭৪ সনে যাদের ওফাত হয়, তাদ্দের অন্যতম হলেন হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা) ৷ তিনি
হলেন সা দ ইবন মালিক ইবন সিনান আনসারী, খাযরাজী, উচু পর্যায়ের সাহাবী ৷ তিনি
অন্যতম ফিক্হবিদ সাহাবী ৷ অল্পবয়স্ক ছিলেন বলে উহুদ যুদ্ধে অংশ নিতে পারেননি ৷ জীবনের
প্রথম যুদ্ধে অংশ নেন খন্দকে ৷ রাসুলুল্পাহ্ (সা) এর সাথী হয়েও তিনি ১২টি যুদ্ধে অংশ নেন ৷
তিনি রাসুলুল্লাহ্ (সা) থেকে এবং সাহাবীদের থেকে বহু হাদীস বর্ণনা করেছেন ৷ বহু সাহাবী ও
তাবিঈ তার থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন ৷ তিনি একজন উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন, শ্রদ্ধাউাজন এবং
জ্ঞান সমৃদ্ধ সাহাবী ছিলেন ৷
ওয়াকিদী প্রমুখ ঐতিহাসিৰুগণ বলেছেন যে, ৭৪ সনে তার ওফাত হয় ৷ কেউ কেউ

বলেছেন, তারও দশ বছর পুর্বে অর্থাৎ ৬৪ হিজয়ী সনে তার ওফাত হয় ৷

তাবারানী বলেন, মিকদাম আবু সাঈদ খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন,
আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ্! কোন; প্রকারের মানুষ কঠিন থেকে কঠিন বিপদের সম্মুখীন


পৃষ্ঠা ১৬ ঠিক করুন

হয়?’ রাসুলুল্লাহ্ (না) বললেন, “নাবীপণ”ন্ ৷ আমি বললাম, “এরপর?” তিনি বললেন, এরপর
লেক্কার তথা সংকর্মর্ণীল ব্যক্তিবর্গ ৷ তারা কেউ কেউ ,এতাে অভাব ও দারিদ্রোর মুখোমুখি হন
যে, সম্পদ ,বর্লতে সতর ঢাকার জানা-কাপড় ব্যতীত তাদের কিছুই থাকে না ৷ তাদের কেউ
ক্লেউ উকুনের উপদ্রবের মুখোমুখি হয় ৷ উকুন বারে বারে পড়ে ৷ তারা সুখে থাকলে যত
আনন্দিত হয়, বিপদের সম্মুখীন হলে তার চাইতে অধিক আনন্দিত হয় ৷

কুতায়বা ইবন সাঈদ বলেন, লায়ছ ইবন সাদ আবু সাঈদ খুদরী (বা) থেকে বর্ণনা করেন
যে, তিনি বলেছেন৪ একদিন তার পরিবারের লোকজন তাদের অভাব-অনটনের কথা তাকে
লাসায় ৷ তাদের জান্য ৱাসুলুল্পাহ্ (সা) এর নিকট আর্থিক সাহায্য চাওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি বের
হলেন ৷ তিনি গিয়ে দেখলেন, রাসুলুল্লাহ্ (সা) মিন্বরে ভাষণ দিচ্ছেন ৷ তিনি বলছেন ং


; ; : ; শ্ £ ;

ন্ ণ্ ! ’ : শ্ : : শ্ # : !) শ্

ন্ ৷

০ :

ছুট্রু৷ দ্ভুষ্টুপ্রু
হে লোক সকল ভিক্ষা চাওয়া ও সাহায্য প্রার্থনা করা থেকে বিরত থাকার সময়
এসেছে ৷ যে নিজেকে তিক্ষাবৃত্তি থেকে পবিত্র রাখবে মহান আল্লাহ তাকে তা থেকে পবিত্র
ধ্াকার ব্যবস্থা করে দিবেন ৷ যে ব্যক্তি নিজেকে পরমুখাপেক্ষিতা থেকে মুক্ত রাখতে চায় আল্লাহ
তাকে মুক্ত রাখবেন ৷ মুহাম্মাদের (সা) প্রাণ যে সত্তার হাতে তার কসম৷ সবর ও ধৈর্য অপেক্ষা
অধিক স্বচ্ছেন্দাময়্ কোন দান মহান আল্পাহ্ কাউকে দেননি ৷ অবশ্য এরপরও তোমরা আমার
নিকট হাত পাতলে আমি তোমাদেরকে সাহায্য করব আমি যা পাই তা থেকে ৷” তাবারানী
আতা ইবন ইয়াসার সুত্রে হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা) থেকে অনুয়াপ বর্ণনা করেছেন ৷

শ্বৰঙ্গুন্নাহ্ ইবন উনার (বা)

তিনি হযরত ড্রাব্দুল্পাহ্ ইবন উনার ইবন খাত্তাব কুরায়শী আদাবী (রা) ৷ তার উপনাম
আবু আবদুর রহমান ৷ তিনি মকী এবং মাদানী ৷ সাবালক হবার পুর্বেই পিতা হযরত উনার
(না)-এর সাথে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন ৷ পিতা পুব্ দু ’জীনই এক সাথে মদীনায় হিজরত
করেন ৷ তখন তার বয়স দশ বছর ৷ উহুদ যুদ্ধের দিবসে অপ্রাপ্তরয়স্ক বিবেচিত হওয়ায় যুদ্ধে
অ্যাংণর অনুমতি পাননি, তবে খন্দকের যুদ্ধে অংশঃাহণের অনুমতি পেয়েছিলেন ৷ তখন
তার বয়স ১৫ বছর ৷ পরবর্তী যুদ্ধগুলোতে তিনি নিয়মিত অংশঃাহণ করেছেন ৷ উম্মুল মু’মিনীন
হযরত হাকসা (রা) এর তিনি সহোদর ভাই ৷ তাদের উভয়ের মতো হলেন উছম্ান ইবন ,
মাযউনের ণ্বান হযরত যায়নাব বিনুত মাযউন (রা) ৷

, হযরত আবদুল্লাহ (রা) একজন মধ্যম আকারের গাঢ় বাদামী বর্ণের ব্যক্তিতুসম্পন্ন পুরুষ

ছিলেন ৷ তার মাথায় ছিল দু’ র্কাধ পর্যন্ত ঝুলানাে বাবরী চুল ৷ তিনি হৃষ্টপুষ্ট স্বান্থের অধিকারী
হ্যিসন ৷ হলুদ রংয়ের খিযাব লাগাতেন ৷ পোফ কেটে ফেলাতন ৷ প্রতি ওয়াক্ত নানাযের জন্যে
উবু করতেন ৷ চোখের ভেতরে পানি প্রবেশ করাতেন ৷ তৃতীয় খলীফা হযরত উছনান (রা)
তাকে বিচারক পদে নিয়োগ দিতে চেয়েছিলেন ৷ তিনি তাতে রাযী হননি ৷ তার পিতা হযরত
উনার (বা) তাকে অনুরুপ পদে নিযুক্ত করার ইচ্ছা করেছিলেন, কিভু তিনি তাতে সযত হননি ৷
ন্,ইয়ারমুক কাদেসিয়া, জালুলাসহ এই সব যুদ্ধের মধ্যবর্তী সময়ে অনুষ্ঠিত সকল পারসিক
বিরোধী যুদ্ধে তিনি অংশ নেন ৷ মিসৱ বিজয় যুদ্ধেও তিনি সক্রিয় অংশঃাহণ করেছিলেন ৷



Execution time: 0.02 render + 0.00 s transfer.