Login | Register

আল বিদায়া ওয়ান্নিহায়া - খন্ড ৪ : পৃষ্ঠা ৪৯

আল বিদায়া ওয়ান্নিহায়া খন্ড ৪: পৃষ্ঠা - ৪৯

মুকা ৷বিলায় এগিয়ে গেলেন ৷ তিনি তার উপর বাপিয়ে পড়লেন ৷ এক সময়৩ তিনি তার উটের উপর
চড়ে বসেন ৷ তিনি তাকে ধরাশায়ী করে ফেলেন এবং নিজ তরবারি দিয়ে তাকে জব ই করে
ফেলেন ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) হযরত যুবায়র (রা)-এর এ বীরত্বের প্রশংসা করে বললেন, প্রতোক
নবীর হাওয়ারী ও সাহায্যকারী থাকে, আমার হাওয়ারী হল যুরায়র ( বা ) ৷ তিনি আরো বললেন,
আমি যখন দেখলাম মসলিম সৈন্যগণ৩ তালহ৷ থেকে সরে থাকছে তখন যুবায়র যদি বেরিয়ে না
আসত তবে আমি নিজেই ৩ ৷র বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হতাম ৷

ইবন ইসহাক বলেন, সাদ ইবন আবু ওয়াক্কাস (রা) সেদিন আবু সা দ ইবন আবু তালহাকে
হত্যা করেছিলেন ৷ দ্বন্দু যুদ্ধে নেমেছিলেন আসিম ইবন ছাবিত ইবন আবু আফলাহ, ৷ তিনি নাফি
ইবন আবুতালহা ও তার ভাই জিলাসকে হত্যা করেন৷ তাদের উভয়েই তার প্ৰতি তীর নিক্ষেপ
করছিল ৷ সে৩ তার মায়ের নিকট আসত এবং তার কোলে মাথা রাখত ৷ তার মা বলত বৎসা
তোমাকে কে আঘাত করলো ? সে বলত মা , আমার প্রতি ৩ ৷র নিক্ষেপ করার সময় আমি এক
ব্যক্তিকে বলতে শুনেছি, সে বলছিল , এটি গ্রহণ কর, আমি আবুআফলাহ্ এর পুত্র ৷ তখন তার মা
মানত করেছিল যে, যদি কোনদিন সে আসিম ( রা)-এর মাথা হাতে তে পারে তবে ওই মাথার
থুলিতে শরাব পান করবে ৷ হযরত আসিম (রা ) ও আল্লাহ্র সাথে প্রতিশ্রুতি বদ্ধ হয়েছিলেন যেন
তিনি কোনদিন কোন মুশরিককে স্পর্শ না করেন এবং কোন মুশরিক ও তাকে স্পর্শ করতে না
পারে ৷ এজন্যে “রাজী দিবসের ঘটনায় কোন মুশরিকের স্পর্শ থেকে আল্লাহ্ তাআল৷ তার
লাশকে রক্ষা করেছিলেন ৷ রাজী দিবসের ঘটনা অবিলম্বে বর্ণনা করা হবে ৷

ইবন ইসহাক বলেন, হানযাল৷ ইবন আবু আমির মুখোমুখি হলেন আবু সুফিয়ানেয় ৷
হানযালার পিতা আবু আমিরের নাম ছিল আমর ৷ তাকে আবদ আমর ইবন সায়ফীও বলা হত ৷
জাহেলী যুগে সে রাহিব অর্থাৎ ধর্ম যাজক উপাধি পেরু২ ছিল ৷ এটি হয়েছিল তার প্রচুর ইবাদত
বন্দেগীর প্রেক্ষিতে ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) তাকে ফাসিক তথা পাপাচারী নামে আখ্যায়িত করেছিলেন ৷
কারণ ইসলামী যুগে সে সত্য ও মত ৷পন্থীদের অর্থাৎ ইসলাম ও মুসলমানদের বিরোধিতা
করেছিল ৷ সে রাসুলুল্লাহ্ (সা)-এর বিরোধিতা করতে গিয়ে এবং ইসলাম গ্রহণ থেকে দুরে
থাকার উদ্দেশ্যে মদীনা ছেড়ে মক্কায় পালিয়ে গিয়েছিল ৷ আলোচ্য হানযাল৷ হলেন ফেরেশতাদের
গোসল প্রাপ্ত হানযাল৷ ৷ ফেরেশতাপণ তাকে গোসল দিয়েছিলেন ৷ ওই ঘটনা পরে উল্লেখ করা
হবে ৷ বস্তুতঃ হানযাল৷ এবং আবু সুফিয়ান সাখর ইবন ;হ্ারব পরস্পর মুখোমুখি হলেন ৷ হানযালা
যখন আবু সুফিয়ানকে পরাস্ত করছিলেন এবং তার ববুকের উপর উঠে বসেন তখন শাদ্দাদ ইবন
আওস ওরফে ইবন শাউব তাকে দেখে ফেলে এবং তার উপর আক্রমণ করে তাকে হত্যা করে ৷
তার সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ্ (সা) বলেছিলেন “তোমাদের স৷ ৷থী হানযালাকে এখন ফেরেশতাগণ
গোসল দিচ্ছে, তার পরিবারকে জিজ্ঞেস করে দেখ তো ব্যাপার কী ৷৩ তার ত্রীকে এ বিষয়ে
জিজ্ঞেস করা হয়েছিল ৷ ওয়াকিদী বলেন, তার শ্রী হলেন জামীলা বিনত উবাই ইবন সালুল ৷ মাত্র
ওই রাতেই তিনি নববধুরুপে হানযালার গৃহে আগমন করেছিলেন ৷ তিনি জানালেন, হানযালার
গোসল ফরয হয়েছিল ৷ যুদ্ধের অহ্বান শুনে গোসলন্ না করেই তিনি জিহাদে বেরিয়ে পড়েন ৷
রাসুলুল্লাহ্ (সা ) বললেন, এজন্যেই ফেরেশতাগণ তাকে গোসল দিয়েছেন ৷




Execution time: 0.04 render + 0.00 s transfer.