Login | Register

আল বিদায়া ওয়ান্নিহায়া - খন্ড ৪ : পৃষ্ঠা ৪৬

আল বিদায়া ওয়ান্নিহায়া খন্ড ৪: পৃষ্ঠা - ৪৬

কাল পর্যন্ত আমি এরুপ করেছি ৷ হযরত আবু বকর (রা)-এর যুগে ভণ্ড নবী-মিথ্যাবাদী ঘুসায়লামা
র বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্যে মুসলমানপণ যখন ইয়ামামার উদ্দেশ্যে যাত্রা করে তখন আমিও
তাদের সাথে যাত্রা করি ৷ যে বর্শ৷ দ্বারা আমি হযরত হামযা (রা)-কে হত্যা করেছিলাম ওই বর্শাটি
আমি সঙ্গে নিই ৷ উভয় পক্ষ মুখোমুখি হওয়ার পর আমি মুসায়লামাকে র্দাড়ানে৷ অবস্থায় ৫দখোত
পাই ৷ তার হাতে ছিল তরবারি ৷ আরো কিছু চিহ্ন ছিল যা দ্বারা আমি তার পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত
হই ৷ ডাকে আক্রমণ করার জন্যে আমি প্রস্তুত হই ৷ অন্য দিক থেকে একজন আনসারী লোকও
তার উপর আক্রমণ করার জন্যে প্রস্তুত হয় ৷ আমাদের উভয়ের লক্ষ্য ছিল সে ই ৷ আমি আমার
বর্শা তাক করলাম ৷ নিশ্চিতভাবে লক্ষ্যস্থির করে আমি বর্শ৷ নিক্ষেপ করলাম ৷ বর্শা গিয়ে তাকে
আঘাত করে ৷ আনসারী লোকটিও তার উপর তরবারির আক্রমণ চালায় ৷ আমাদের দুজনের মধ্যে
কে তাকে হত্যা করেছে তা আল্লাহ্ই ভাল জানেন ৷ বন্তুত অ৩ামিই যদি তাকে হত্যা করে থাকি
তবে একদিকে আমি রাসুলুল্লাহ্ (সা)-এর পর সর্বোত্তম ব্যক্তি অর্থাৎ হযরত হামযা (রা) কে হত্যা
করেছি আর জগতের নিকৃষ্ট ব্যক্তি অর্থাৎ মুসায়লামাকে হত্যা করেছি ৷

আমি মনে করি , আনসারী লোকটি ছিলেন আবুদুজানা সিমাক ইবন খারাশা ৷ ইয়ামামার যুদ্ধে
ওই বিবরণ আসবে ৷ মুরতাদ ও ধর্মতা৷পীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাভিযান পর্বে ওয়াকিদী উল্লেখ করেছেন
যে, আনসারী লোকটি ছিলেন আবদুল্লাহ ইবন যায়দ ইবন আসিম মাযানী ৷ সায়ফ ইবন আমর
বলেন, ওই আনসারী লোক হলেন আদী ইবন সাহ্ল ৷ বন্তুত: আদী ইবন সাহল নিম্নের কবিতা
আবৃত্তি করেছিল :

স্পো
তুমি কি জাননা যে, আমি এবং ওয়াহ্শী হত্যা করেছি অভিশাপগ্রস্ত মুসায়লামাকে ৷
,
লোকে আমাকে জিজ্ঞেস করে যে, আমি কিভাবে তাকে হত্যা করেছি ৷ তখন আমি বলি যে,
আমি তাকে আঘাত করেছি ৷ আর এটি হল সেই বর্শ৷ ৷

প্রসিদ্ধ অভিমত এই যে, ওয়াহ্শীই প্রথম মুসায়লামাকে আঘাত করেন এবং আবু দুজানা তার
উপর চুড়ান্ত আঘাত হানেন ৷ এ বিষয়ে ইবন ইসহাক বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ ইবন ফযল
আবদুল্লাহ ইবন উমার (রা ) থেকে ৷ তিনি বলেছেন, ইয়ামামার যুদ্ধের দিন আমি জনৈক
চীৎকারকারীকে শুনেছি সে চীৎকার করে বলছিল যে, এক কালো ক্রীতদাস তাকে হত্যা করেছে ৷
ইমাম বুখারী (র) হযরত হামযা (রা)-এর শাহাদাতের ঘটনা বর্ণনা করেছেন আবদ্বণ আযীয ইবন
আবদুল্লাহ জাফর ইবন উমাইয়া দিসারী থেকে ৷ তিনি বলেছেনু আবদুল্লাহ ইবন আদী
ইবন খিয়ারের সাথে আমি সফরে বের হয়েছিলাম ৷ এরপর পুর্বোল্লিখিত বিবরণ উল্লেখ করেছেন ৷
ওই বর্ণনায় আছে যে , উবায়দুল্লাহ্ ইবন আদী ইবন খিয়ার যখন ওয়াহ্শীর নিকট উপস্থিত হন তখন
তার সমগ্র মুখমণ্ডল পাগড়ীতে ঢাকা ছিল তার দুটো চক্ষু আর দুখানা পা ব্যতীত অন্য কিছুই
ওয়াহ্শীর দৃষ্টিগােচর হচ্ছিল না ৷ এরপর ওয়হ্শী ভীকে যেভাবে চিনলেন তার বর্ণনা রয়েছে ৷ এটি
একটি গভীর পর্যবেক্ষণ ও বিচক্ষণত৷ বটে ৷ অনুরুপ বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছিলেন মৃজায্যায



Execution time: 0.03 render + 0.00 s transfer.