Login | Register

আল বিদায়া ওয়ান্নিহায়া - খন্ড ৪

পৃষ্ঠা ৫০৪ ঠিক করুন

অপেক্ষা উৎকৃষ্ট হয় তা হলে প্রথম বর্ণনা থেকে দ্বিতীয় বর্ণনাটি অধিক বিশুদ্ধ ৷ নচেৎ প্রসিদ্ধতর ও
সঠিক মত অনুযায়ী মক্কার উচু এলাকাকে বলা হয় কাদা ( ন্ ৷ ($) এবং মক্কার নিম্ন ভুমিকে বলা হয়

( এোছু ) কুদা ৷ আমরা পুর্বে উল্লেখ করেছি এবং সহীহ্ বুখারীর বর্ণনায়ও এসেছে যে সে দিন
রাসুলুল্লাহ্ (সা) খড়ালিদ ইবন ওয়ড়ালীদকে মক্কার উচু এলাকা (কাদা) দিয়ে প্রবেশ করার জন্যে
প্রেরণ করেন এবং নবী করীম (সা) নিজে মক্কার নিম্ন এলাকা কুদার দিক থেকে প্রবেশ করেন ৷
আল্লাহ্ই ভাল জানেন ৷ বায়হাকী বলেন, আবুল হুসায়ন ইবন আবদান — ইবন উমর (রা)
থেকে বর্ণিত ৷ তিনি বলেন, মক্কা বিজয়ের দিন রাসুলুল্লাহ্ (সা) যখন মক্কায় প্রবেশ করেন, তখন
মহিলারা এসে অশ্বগুলাের মুখের ধুলাবালি মুছে দিতে থাকে ৷ এ দৃশ্য দখে রাসৃলুল্লাহ্ (সা)
ঘুচকি হেসে আবু বকরকে বললেন, আবু বকর ! হাসৃসানেব কবিতাটা কী ? তখন আবু বকর (রা )
হাসৃসানের নিম্নোক্ত কবিতাৎশ আবৃত্তি করেন : ইয়াইেয়৷ ইয়াহ্ইয়া

;

১৷ ৷ ;); গ্লুা প্রু
অর্থ : তোমরা যদি লক্ষ্য না রাখ, তা হলে আমি আমার প্রিয় অশ্বগুলো হারাব ৷ যেগুলো কাদা
নামক স্থানের দুই প্রান্তের ধৃলাবালি উড়িয়ে চলছিল ৷ যীন পরান অবস্থায় সেগুলো লাগামের সাথে

প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছিল ৷ আর মহিলারা তাদের ওড়না দিয়ে সেগুলোর ধুলাবালি ঝেড়ে
দিচ্ছিল ৷

রাসুলুল্লাহ্ (সা) বললেন, হাসৃসান যেভাবে বলেছে সেভাবে একে অন্তর্ভুক্ত কর ৷

ইবন ইসহাক বলেন, ইয়াহ্য়া ইবন আববাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন যুবায়র তার পিতার সুত্রে,
তার দাদী আসমা বিনত আবু বকর থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ্ (সা) যখন যী
তৃওয়ড়ায় অবস্থান করেন, তখন আবু কুহাফ৷ তার কনিষ্ঠতম কন্যাকে ডেকে বললেন, হে আমার
কন্যা ! আমাকে আবু কুরায়স পাহাড়ে নিয়ে চলো ৷ আসৃমা বলেন, তখন তার দৃষ্টিশক্তি লোপ
পেয়ে গিয়েছিল ৷ সে অবস্থায় কন্যাটি তাকে নিয়ে পাহাড়ে আরোহণ করল ৷ আবু কুহাফা
বললেন, হে আমার কন্যা ! তুমি কি দেখতে পাচ্ছে৷ ? মেয়েটি বললো, আমি এক বিশাল
জনসমষ্টি দেখতে পাচ্ছি ৷ আবুকুহাফা বললেন, এরা অশ্বারোহী বাহিনী ৷ যেয়েটি আরো বললো,
আমি এক ব্যক্তিকে উক্ত জনসমষ্টির আগে পিছে অত্যন্ত তৎপর দেখতে পাচ্ছি ৷ আবু কুহাফা
বললেন, হে আমার কন্যা ঐ ব্যক্তিই বাহিনীকে নিয়ন্ত্রণ করছে এবং আগে আগে থাকছে ৷
তারপর যেয়েটি বললো, আল্লাহর কসম, জনতা এখন বিক্ষিপ্ত হয়ে পড়েছে ৷ আবু কুহাফা
বললেন, আল্লাহর কসম , তা হলে অশ্বারােহী বাহিনীকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে ৷ তুমি আমাকে
তাড়াতাড়ি বাড়ি নিয়ে চলো ৷ তখন যেয়েটি তাকে নিয়ে পাহাড় থেকে নেমে আসে ৷ কিন্তু
বাড়িতে পৌছবার আগেই তিনি অশ্বারােহীদের সামনে পড়ে যান ৷ আসমা বলেন, যেয়েটির গলায়
স্বর্ণের একটি হার ছিল, এক ব্যক্তি অগ্রসর হয়ে তার গলা থেকে হারটি ছিনিয়ে নিয়ে যায় ৷ আসমা
বলেন, এরপর রাসুলুল্লাহ্ (সা) যখন মক্কায় আসেন এবং মসজিদে প্রবেশ করেন ৷ তখন আবু
বকর তার পিতাকে নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) তাকে দেখেই বললেন,


পৃষ্ঠা ৫০৫ ঠিক করুন

মুরব্বিকে বাড়ি রেখে আসলে না কেন ? আমিই বাড়িতে গিয়ে তাকে দেখে আসতাম ৷ আবু বকর
(রা) বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ ! আপনার নিজে গিয়ে দেখে আমার চাইতে আপনার কাছে তার
৩া৷সাট ই অধিকতর মানানসই ৷ এরপর রাসুলুল্লাহ (সা)৩ তাকে সম্মুখে বসিয়ে র্তার বুকে হাত
বুলিয়ে দিয়ে বললেন, ইসলাম কবুল করুন ৷ বৃদ্ধ আবু কুহাফা তখন ইসলাম গ্রহণ করলেন ৷
আসম৷ বলেন, আবু বকর যখন পিতাকে নিয়ে রাসুলুল্লাহ্ (সা) এর দরবারে প্রবেশ করেন, তখন
৷ তার মাথাটি কাশফুলের মত শ্বেত শুভ্র দেখাচ্ছিল ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) তবললেন, তার চুল রাঙ্গিয়ে
দাও ! তারপর আবু বকর তার বোনের হাত ধরে দাড়িয়ে বললেন, আল্লাহর দােহাই ! ইসলামের
দােহাই ! আমি আমার এই বোনের স্বর্ণের হারটি ফেরত চাই ৷ কিভু কারও থেকে কোন উত্তর
পাওয়া গেল না ৷ তখন আবু বকর বললেন, শুনাে বোন ! নিজের হার নিজেই সামলে রাখবে ৷
আল্লাহর কসম ! লোকদের মধ্যে আজ আর তেমন আমানতদা রী নেই ৷ আজ’ বলতে হযরত
আবু বকর সিদ্দীক ঐ দিনকেই নির্দিষ্ট করে বুঝিয়েছেন ৷ কেনন৷ সে দিন সৈনাস থ্যা ছিল বিপুল ৷
বিক্ষিপ্তভাবে থাকার কা ৷রণে কেউ কারও ঘোজ রাখতে পারছি^৷ না ৷ আর যে ব্যক্তি হার ছিনিয়ে
নিয়েছে হযরত সিদ্দীক হয়তো মনে করেছেন যে, যে ব্যক্তি হয়তো শত্রু পক্ষের কেউ হবে ৷
হাফিয বায়হাকী বলেন, আবদুল্লাহ আর হাফিয জাবির (রা) থেকে বর্ণিত ৷ উমর ইবন
খাত্তাব আবু কুহাফাকে হাতে ধরে নবী করীম (সা)-এর কাছে নিয়ে যান ৷ তাকে দেখে রাসুলুল্লাহ্
(সা) বললেন, একে পরিবর্তন করে দাও অর্থাৎ তার দা ৷ড়ি রাঙ্গিয়ে দাও তবে কাল করে৷ না ৷
ইবন ওহাব যায়দ ইবন অ ৷সলাম থেকে বর্ণনা করেন যে আবু বকরের পিতা ইসলাম গ্রহণ
করার রাসুলুল্লাহ্ (সা) আবু বকরকে মুবারকবাদ জানান ৷ ইবন ইসহাক বলেন, আবদুল্লাহ ইবন
নাজীহ আমার নিকট বর্ণনা ৷করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ্ (না) যখন তার সৈন্য বাহিনীকে ষী তৃওয়া
থেকে বিভিন্ন দলে বি৩ ক্ত করে মক্কায় প্রবেশের আদেশ দেন, তখন যুবায়র ইবনুল আওয়ামকে
একটি দল নিয়ে কাদার দিক থেকে প্রবেশ করার হুকুম দেন ৷ যুবায়র বাহিনীর রাম অংশের
দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন ৷ আর সাদ ইবন উবাদাকে আর একটি দল নিয়ে কুদার দিক থেকে
প্রবেশের নির্দেশ দেন ৷ ইবন ইসহাক বলেন, কোন কোন আলিম বলেছেন যে, সাদ ইবন উবাদা
মক্কায় প্রবেশের জন্যে যাত্র ৷কালে বলেছিলেনং :



“আজকের দিন কঠিন যুদ্ধের দিন ! আজ বায়তৃল্লাহ্ব হুরমতকে হালাল করার দিন !

জনৈক ব্যক্তি তার এ কথাটি শুনে ফেলেন ৷ ইবন হিশামের মতে ,তিনি ছিলেন উমার ইবন
হতো যে (রা) ৷ তিনি বললেন ইয়া রাসুলাল্লাহ্ সা দ ইবন উবাদা কি বলছে শুনুন ! কুরায়শদের
উপর যে যে হামলা করবে না সে ব্যাপারে আমরা তার উপর ভরসা করতে পারছি না ৷ তখন
রাসুলুল্লাহ্ (সা) আলীকে ডেকে বললেন : তুমি ওর কাছে যাও এবং তার নিকট থেকে পতাকা
নিজ হাতে তনিয়ে তা নিয়ে তুমিই বরং নগরে প্রবেশ কর ৷

মুহাম্মাদ ইবন ইসহাক ব্যতীত ৩অন্য একজন বর্ণনা কারী ঘটনাটি এ৬ ৷বে বর্ণনা করেছেন যে

সা দ ইবন উবাদ৷ আবু সুফিয়ানের পাশ দিয়ে অতিক্রম করার সময় তাকে লক্ষ্য করে বলেছিলেন,
হে আবু সুফিয়ান ! “আজকের দিন সং ঘাতের দিন ৷ আজকের দিন বায়তুল্লাহ্র স্থুরমাতকে হালাল


পৃষ্ঠা ৫০৬ ঠিক করুন

বিবেচনায় দিন” ৷ তখন আবু সৃফিয়ান রড়াসুলুল্লাহ্ (না)-এর নিকট সাদ এর উক্তির বিরুদ্ধে
অভিযোগ পেশ করেন ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) জবাবে বললেন : না , বরং আজকের দিন কা’বার সম্মান
প্রতিষ্ঠিত হওয়ার দিন ৷ তিনি সাদ ইবন উবাদাকে সৌজন্য শিক্ষা দেয়ার জন্যে তার হাত থেকে
আনসারদের পতাকা নিয়ে নেয়ার আদেশ দেন ৷ কথিত আছে যে, মধ্যে এর নিকট থেকে পতাকা
নিয়ে তা র্তারই পুত্র কায়স ইবন সাদের হাতে ন্যস্ত করা হয় ৷ কিভু মুসা ইবন উকবা যুহবী
থেকে বর্ণনা করেছেন যে, সাদ এর হাত থেকে পতাকা নিয়ে যুবায়র ইবন আওয়ামের হাতে
প্রদান করা হয় ৷ আল্লাহ্ই ভাল জানেন ৷

হাফিয ইবন আসাকির ইয়া’কুব ইবন ইসহাক ইবন দীনারের আংলাচনায় আবদুল্লাহ ইব ন
সুররী এভাকী ও মুসা ইবন উকবা সুত্রে জাবির ইবন আবদুল্লাহ্ (বা ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে,
মক্কা বিজয়ের দিন রাসুলুল্লাহ্ (সা) সাদ ইবন উবাদার হাতে পতাকা প্রদান করেন ৷ সাদ পতাকা
নেড়ে নেড়ে বলছিলেন “আজকের দিন রক্তপাতের দিন ৷ আজ কাবব হুরমত হালাল করার দিন ৷
বর্ণনাকারী বলেন, সাদের এ কথাটি কুরায়শদের মনে প্রচণ্ড আঘাত করল এবং তাদের
আত্মমর্যাদায় খুব লাগলো ৷ বর্ণনড়াকারী বলেন : এ সময় জনৈক মহিলা তার গতি-পথে সম্মুখে
আসে এবং নিম্নের কবিতাটি আবৃত্তি করে :



(


ণ্এো৷ এ্ওা


অর্থ : হে সঠিক পথের সন্ধান দানকারী নবী কুরায়শ জনগণ আপনার নিকট আশ্রয় গ্রহণ
করেছে এবং আশ্রয় গ্রহণকালে সংবাদ প্রদান করেছে ৷

তারা আশ্রয় নিয়েছে এমন সময়, যখন প্রশস্ত ভুখণ্ড তাদের উপর সংকুচিত হয়ে পড়েছে ৷
আর আসমানের প্রভু তাদের প্রতি বিরুপ হয়েছেন ৷

এ কওমের অবস্থা অতি শোচনীয় অবস্থায় উপনীত হয়েছে ৷ এক জন-মানবশুন্য ধুসর প্রাম্ভর
তাদেরকে হাতছানি দিয়ে ডাকছে ৷

সাদ এখন চাচ্ছে, এ উপত্যকার দুর্বল অধিবাসীদের কােমর ভেৎগে দিতে ৷
সে তো খাযরাজ গোত্রের লোক ; ক্রোধের আতিশয্যে সে আমাদেরকে শকুন ও কুকুরের


পৃষ্ঠা ৫০৭ ঠিক করুন

খাদ্য হিসেবে নিক্ষেপ করতেও ত্রুটি করবে না ৷ আপনি তাকে বাধা দিন ৷ না হলে সে তো রক্ত
পিপাসু সিংহ ও নেকড়ের ভুমিকা গ্রহণ করবে ৷

সে যদি স্বেচ্ছা প্ৰণোদিত হয়ে পতাকা ধারণ করে এবং পতাকার অধিকারী ও সংরক্ষণ-
কারীদের আহ্বান করে, তাহলে কুরায়শদের এ উপত্যকা দাসীদের হাতে শুন্য মরুভুমিতে পরিণত
হয়ে যাবে ৷

যে এমন বীর-বাহাদুর যে, বিষাক্ত মুক সর্পের ন্যায় এ উপত্যকায় তার নীরব সিদ্ধান্ত

কার্যকর করতে চায় ৷

এ কবিতা ওনার পর তাদের প্রতি রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর ষ্ন্াহানুতুতির সঞ্চার হল এবং তার
নির্দেশক্রমে সাদ ইবন উবাদার হাত থেকে পতাকা নিয়ে তারই পুত্র কায়স ইবন সা ’ দের হাতে
তুলে দেয়া হলো ৷ বলা হয়ে থাকে যে, মহিলাটি রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর নিকট আগ্রহ সহকারে
মিনতি জানালে তিনি যেমন তাকে নিরাশ করতে চাননি, তেমনি সাদকেও অখুশী করতে চাননি-
তাই তিনি সাদের হাত থেকে পতাকা নিয়ে তারই পুত্রের হাতে তা অর্পণ করেন ৷

ইবন ইসহড়াক বলেন ;; ইবন আবু নাজীহ র্তার বর্ণনায় আরও উল্লেখ করেন যে, রাসুলুল্লাহ্
(না)-এর নির্দেশে খালিদ ইবনুল ওয়ালীদ কিছু লোক নিয়ে মক্কার নিস্নাঞ্চল লায়ত’ দিয়ে প্রবেশ
করেন ৷ খালিদ ছিলেন ডান দিকের বাহিনীর অধিনায়ক ৷ আর এ বাহিনীতে ছিল আসলাম, সুলায়ম ,
গিফার, মুযায়না ও জুহায়নাসহ আরবের আরও কতিপয় গোত্র ৷ অপর দিকে আবু উবায়দা ইবনুল
জাররাহ (রা) মুসলমানদের এক সারি লোকসহ রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর সম্মুখ দিয়ে মক্কায় প্রবেশ
করেন ৷ আর স্বয়ং রাসুলুল্লাহ্ (সা) আযাখির হয়ে মক্কার উচু এলাকায় উপনীত হন এবং সেখানেই
তার জন্যে র্তাবু স্থাপন করা হয় ৷ বুখারী যুহরী আলী ইবন হুসায়ন উসামা ইবন যায়দ সুত্রে
বর্ণনা করেন : মক্কা বিজয়ের প্রাক্কালে উসামড়া রাসুলুল্লাহ্ (না)-কে জিজ্ঞেস করেছিলেন, ইয়া
রাসুলাল্লাহ্; আপামীকাল কোথায় অবস্থান করবেন ? তিনি বললেন, আকীল কি আমাদের জানা
কোন জায়গা-জমি অবশিষ্ট রেখেছে ? তারপরে তিনি বললেন ও কাফির ঘু’মিনের ওয়ারিশ হয় না
এবং মু’মিন ও কাফিরের ওয়ারিশ হয় না ৷ এরপর বুখারী আবুল ইয়ামান সুত্রে আবু হুরায়রা
(রা) থেকে বর্ণনা করেন ৷ নবী করীম (সা ) বলেন, আল্লাহ আমাদেরকে বিজয় দান করলে
ইনশাআল্লাহ্ আমাদের অবস্থান স্থল হবে খায়ফে যেখানে কাফিরর৷ কুফরীর উপর পরস্পর শপথ
গ্রহণ করেছিল ৷ ইমাম আহমদ ইউনুস সুত্রে আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন যে,
রাসুলুল্লাহ্ (সা) বলেছিলেন : ইনৃশাআল্লাহ্ আগামীকাল আমাদের অবস্থানস্থুল হয়ে খায়ফে বনু
কিনানায় যেখানে কুরায়শরা কুফরীর উপরে শপথ করেছিল ৷ ইমাম বুখাবীও ইবরাহীম ইবন
সাদ সুত্রে আবু হুরায়রা থেকে অনুরুপ বর্ণনা করেছেন ৷

ইবন ইসহাক বলেন : আবদুল্লাহ ইবন আবু নাজীহ ও আবদুল্লাহ্ ইবন আবু বকর আমার
নিকট বর্ণনা করেন যে, সাফওয়ান ইবন উমাইয়া, ইক্রিমা ইবন আবু জাহ্ল ও সুহড়ায়ল ইবন
আমর যুদ্ধের উদ্দেশ্যে খানদামা নামক স্থানে কিছু সৈন্য সমাবেশ করে ৷ অপর দিকে বনু বকর
গোত্রের হিমাস ইবন কায়স ইবন খালিদ রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর মক্কা প্রবেশের আগে তার অংস্ত্র শান
দিতে শুরু করে ৷ তা দেখে তার ত্রী তাকে বলে : এসব প্রস্তুত করা হচ্ছে কিসের জন্যে ? জবাবে
সে বলে : মুহাম্মাদ ও তার সঙ্গীদের জন্যে ৷ তার শ্রী তাকে বললো : আল্লাহর কসম ! মুহাম্মাদ ও


পৃষ্ঠা ৫০৮ ঠিক করুন

তার সঙ্গীদের মুকাবিলায় কিছু করতে পারবে বলে তো আমার মনে হয় না ৷ হিমাস বললোং :
আল্লাহর কসম আমিতে ৷ আশা করছি তাদের ক ৷উকে অবশ্যই তোমার সামনে হ যিব করতে
পারবো ৷ তারপর সে কবিতায় বললােং :
শুা৷প্রু,াহ্রৰু১া ৷;;০ ধ্া;দ্বুা ষ্ৰুশু ;া৷প্রুদুৰুদ্বুপ্রু ;,া
স্

অর্থাৎ — আজ যদি তারা মুকাবিলার জন্যে এগিয়ে আসে তবে ৷ কান পরোয়া করি না ৷
কেননা আমার কাছে এই যে রয়েছে পুর্ণ অস্ত্রশস্ত্র, রয়েছে বর্শা ও দু ধারী তরবারি যা শত্রু বধ
করতে দ্রুত কার্যকর ৷

তারপর সে খানদামায় গিয়ে সাফওয়ান, ইকরামা ও সুহায়লের সংগে মিলিত হয় ৷ খালিদ
ইবন ওলীদের বাহিনীর কতিপয় মুসলমানের সাথে তাদের সাক্ষাৎ হয় ৷ এবং দু-পক্ষের মধ্যে
সামান্য স০×ঘর্ষও হয় ৷ এতে বনু মুহারিব ইবন ফিহর গোত্রের কুরঘৃ ইবন জাবির ও বনু-মুনকিয়ের
মিত্র হনায়শ১ ইবন খ৷ ৷লিদ ইবন রাবীঅ৷ ইবন আসরাম শহীদ হন ৷ এরা দুজনই ছিলেন খালিদের
বাহিনীভুক্ত ৷ খালিদের অবলম্বিত পথ ছেড়ে অন্য পথ ধরে চলার তাদের এ বিপর্যয় ঘটে এবং
একই সাথে উভয়ে নিহত হন ৷৩ তবে হুনায়শ নিহত হওয়ার একটু আগে কুবৃয নিহত হন ৷
আবদুল্লাহ ইবন৷ অ৷ বু নাজীহ ও অ বদুেল্লাহ্ ইবন অ৷ বু বকর বলেন : ঐ দিন খালিদের অশ্ব বাহিনীর
মধ্য থেকে সালামা ইবন মায়লা জুহানীও নিহত হন ৷ অপর দিকে মুশরিক বাহিনী পরাজিত হয়ে
পলায়ন করে ৷ এ সময়ও তাদের বারজন কি তেরজন মুসলমানদের হাতে নিহত হয় ৷ ওদিকে
হিমাস পালিয়ে বাড়ি চলে যায় এবং ঘরে প্রবেশ করে ত্রীকে ডেকে বলে ঘরের দরজা বন্ধ করে
দাও ৷ শ্রী তাকে বললো, তোমার সে বাহাদুরী কথা পেল কোথায় ? হিমাস তখন কবিতায় বলে :

মোঃ
মোঃ ’
মোঃপ্রু;া৷ণ্প্রুএোপ্রু১এ৬;এপ্লু : , : ,ৰুশুা , ব্লুা ; অ্যাংষ্ঠে

অর্থাৎ ওহে ! তুমি যদি খানদামার যুদ্ধে তথায় উপস্থিত থাকতে, তদুব সাফওয়ান ও
ইকরামার পলায়নের অবস্থা দেখতে পেতে ৷ সেদিন আবু ইয়াষীদ (সৃহায়ল) স্তন্তের ন্যায়
“ দাড়িয়েছিল ৷ আমি তা ৷দুদর ঘুক৷ ৷বিল৷ করেছি অনুগত তরবারি দ্বারা ৷৩ তরবারিগুলাে হাতের কজি ও
মাথার খুলি দুছদন করে যাচ্ছিল ৷ যুদ্ধের ঘনঘটায় গুমগুম আওয়৷ জ ছাড় ৷আর কিছুই শোনা য৷ ৷চ্ছিল
না ৷ তাদের রণ-হুত্কারে আমি দুরে পশ্চাতে ফিরে আসি ৷ তুমি যদি ওসব দেখতে তবে
তিরস্কারমুলক একটি কথাও বলতে না ৷

ইবন হিশাম বলেন৪ কবিতা গুলো মুলত০ ং রিয়াশ হুযালির বলে বর্ণিত ৷

স ৎকেত০ মক্কা বিজয়, হুনায়ন ও তায়েফের যুদ্ধে মুসলমানদের সা০ ×কেতিক চিহ্নসমুহ ছিল
নিম্নরুপ০ :

১ ইবন হিশাম ও তায়মুরিয়ার মতে৩ তার নাম ছিল খুনায়স ৷ কিতু সুহায়লী বলেন, সঠিক হলো হুনায়শ ৷




পৃষ্ঠা ৫০৯ ঠিক করুন

মুহাজিরদের সংকেত :
খাযরাজীদের সংকেত :

আওস গোত্রীয়দের সংকেত : (fl ৷া; ;ৰু ৷প্রু হে উবায়দুল্লাহর গোত্র !

তাবারাপী আলী ইবন সাঈদ রাযী — — — ইবন আব্বাস সুত্রে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ্ (সা)
বলেছেন : আল্লাহ যে দিন আসমান ও যমীন সৃষ্টি করেছেন যে দিন থেকে এ শহরকে হড়ারম’
করেছেন ৷ এবং যে দিন তিনি সুর্য ও চন্দ্র স্থাপন করেন যে দিনই এ শহর স্থাপন করেন ৷ এ
শহরের সমান্তরালে অবস্থিত আকাশকেও তিনি হড়ারম করেছেন ; আমার পুর্বে কখনও এ শহর
কারও জন্যে হলােল করা হয়নি ৷ কেবল আমার ক্ষেত্রে দিবসের স্বল্পক্ষণের জন্যে হালাল করা
হয়েছে ৷ এবং স্বল্পক্ষণ পরেই পুর্বের ন্যায় আবার এর হুরমত বহাল করা হয়েছে ৷ তখন রাসুলুল্লাহ্
(সা)-কে জানান হল যে, এই তো খালিদ ইবন ওয়ালীদ যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন ? রাসুলুল্লাহ্ (সা)
তখন একজনকে ডেকে বললেন : তুমি যাও খালিদকে যুদ্ধ বন্ধ করতে বল ৷ ল্যেকটি এসে
খালিদকে বললো : নবী করীম (সা) বলেছেন, যাকেই নাগালের মধ্যে পাও তড়াকেই হত্যা করতে
থাক ৷ খালিদ সেদিন সত্তর জন ব্যক্তিকে হত্যা করেন ৷ লোকটি রাসুলুল্লাহ্ (সা) এর নিকট এসে
এ সংবাদ তাকে জানায় ৷ তখন তিনি খালিদকে ডেকে এনে জিজ্ঞেস করেন, আমি কি তোমাকে
নর হত্যা করতে নিষেধ করিনি : খালিদ জবাব দিলেন, অমুক ব্যক্তি আমাকে গিয়ে বলেছে-
যাকেই আমি নাপালে পাই তাবেইি যেন হত্যা করি ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) সে ল্যেকটিকে ডেকে এনে
বললেন : আমি কি তোমাকে যুদ্ধ বন্ধ করার হুকুম দিইনি ? লোকটি বললো : আপনি এক প্রকার
চেয়েছেন, আর আল্লাহ্ চেয়েছেন অন্য প্রকার ৷ আপনার ইচ্ছার উপর আল্লাহর ইচ্ছাই বলবত
হয়েছে ৷ তাই না হওয়ার ছিল তার অন্যথা আমি করতে পারিনি ৷ তার জবাব শুনে রাসুলুল্লাহ্ (সা)
নীরব থাকলেন এবং তাকে কিইে বললেন না ৷

ইবন ইসহাক বলেন : রাসুলুল্লাহ্ (সা) তার সেনাধ্যক্ষদের নিকট থেকে এই মর্মে অংপীকার
নিয়েছিলেন যে, তারা তাদের ধিরষ্দ্ধে যুদ্ধ করতে আসা লোকদের ব্যতীত অন্য কারও সংগে
যুদ্ধে লিপ্ত হবেন না ৷ তবে তিনি নাম উল্লেখ করে বিশেষ কিছু লোককে হত্যার আদেশ
দিয়েছিলেন ৷ এমনকি যদি তাদেরকে কা’বার গিলাফের নীচেও পাওয়া যায় তবু ৷ তাদের মধ্যে
আবদুল্লাহ ইবন সাদ ইবন আবু সারাহ্ ছিল অন্যতম ৷ সে বাহ্যত : ইসলাম গ্রহণ করে ও ওহী
লিপিবদ্ধ করার দায়িতু পালন করে ৷ জ্যি পরে সে ঘুরতাদ হয়ে যায় ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) মক্কায়
প্রবেশ করে তাকে হত্যার ঘোষণা দিলে সে পালিয়ে উছমান (বা) এর কাছে আশ্রয় নেয় ৷ সে ছিল
উছমানেব দুধভাই ৷ উছমান তাকে নিরাপত্তা দেয়ার জন্যে রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর কাছে নিয়ে
আসেন ৷ তিনি দীর্ঘক্ষণ নীরব থাকার পর বললেন, আচ্ছা ঠিক আছে ৷ ’ উছমানের সাথে তার
ফিরে যাওয়ার পর রাসুলুল্লাহ্ (সা) উপস্থিত সাহাবীদেরকে লক্ষ্য করে বললেন : তোমাদের মধ্যে
এমন একজন সুবুদ্ধিসম্পন্ন ল্যেকও কি ছিল না, যে আমার নীরব থাকা অবস্থায় তাকে হত্যা করে
দিত ৷ সাহাবীগণ বললেন ইয়া রাসুলাল্লাহ্! আপনি আমাদেরকে একটু ইংগিত দিলেন না কেন :
তিনি বললেন, ইংগিত দিয়ে কাউকে হত্যা করান নবীর জন্যে শোভনীয় নয় ৷ অন্য একটি বর্ণনায়
আছে তিনি তখন বলেছিলেন : কোন নবী চোখের খিয়ানত করতে পারেন না ৷




পৃষ্ঠা ৫১০ ঠিক করুন

ইবন হিশাম বলেনং লোকটি পুনরায় ইসলাম গ্রহণ করে এবং র্খা টি মুসলমান হয় ৷ হযরত
উমর তাকে গর্তনরও নিযুক্ত করেন ৷ পরবর্তীতে হযরত উছমানও তাকে গভর্নর বানান ৷

আমি বলি , উক্ত আবদুল্লাহ ইবন সা দ নিজ গৃহে ফজরের নামাযে সিজদারত অবস্থায় কিংবা
নামায শেষ হওয়া রাসাথেই ইনতিকা ল করেন ৷

ইবন ইসহাক বলেনং বনু৩ তায়ম ইবন ণালিব গোত্রের আবদুল্লাহ ইবন খাতালকেও রাসুলুল্লাহ্
(সা) হত্যা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন ৷ তার নাম আবদুল উঘৃযা ইবন হুাতালও বলা হয় ৷ সম্ভবত
এ রকমই ছিল ৷ পরে ইসলাম গ্রহণ করলে আবদুল্লাহ নাম রাখা হয় ৷ ১ ইসলাম গ্রহণ করার পর
রাসুণুল্লাহু (সা) ৩াণ্ডে য়াকা ৩ উশুল করার জন্যে পাঠান তার সাথে একজন আনসারীকেও দেন ৷
তার নিজের আযাদকৃত গোলামও সাথে ছিল ৷ কোন এক কারণে (ন্ালাণ্পুমর উপর ক্ষিপ্ত হয়ে
তাকে সে হত্যা করে ফেলে ৷ তার পরে সে পুনরায় পৌত্তলিকতায় ফিরে যায় ৷ আবদুল্লাহ ইবন
খাতালের দুটি গায়িকা দাসী ছিল ৷

একজনের নাম ফারতানী ৷ অপর জন৩ তারই আরেক সংগিনী ৷ এরা প্;৷ জ্রনে রাসুলুল্লাহ্ (সা) ও
মুসলমানদের কুৎসামুলক গান গেয়ে বেড়াত ৷ এ কারণে তিনি ইবন খাতাল ও তার দৃ গায়িকাকে
হত্যার নির্দেশ দেন ৷ ফলে কা’বার গিলাফ ধরে থাকা অবস্থায় তাকে হত্যা করা হয় ৷ আবু বুরযা
আসলামী এবং সাঈদ ইবন হুরায়ছ সম্মিলিতভ্যবে তাকে হত্যা করেন ৷ গায়িকাদ্বয়ের মধ্যে এক-
জনকে হভ্যা করা হয় এবং অপরজনকে নিরাপত্তা প্রদান করা হয় ৷ বর্ণনাকা রী বলেন৪ হুয়ায়রিছ
ইবন নৃকাযছ২ ইবন ওহব ইবন আবদে কুসায়ওে এ৩ তালিকার অন্যতম ব্যক্তি ৷ এ লোকটিও মক্কায়
নানাভারে রাসুলুল্লাহ্ (সা) (ক জ্বালাতন করত ৷ হিজরাতের প্রথম দিকে রাসুলুল্লাহ্ (সা ) এর কন্যা
ফাতিমা ও উম্মে কুলছুমকে হযরত আব্বাস যখন মদীনায় রাসুলুল্লাহ্ (সা) এর নিকট পৌছিয়ে
দেয়ার জন্যে নিয়ে যাচ্ছিলেন তখন এই হুয়ায়রিছ তাদের পশ্চাদ্ধাবন করে এবং যে উটে তারা
আরোহণ করে যাচ্ছিলেন সে উটকে বল্লম দিয়ে ঘোচা দেয় ৷ ফলে৩ তারা দুজনেই মাটিতে লুটিয়ে
পড়েন ৷ হুয়ায়রিছকে হত্যা করার আদেশাদিলে আলী ইবন আবু৩ তালিব তাকে হত্যা করেন ৷

ইবন হসহাক বলেনং : তালিকায় মিক্য়াস ইবন সুবাবাও ছিল ৷ এক ব্যক্তি তার ভাইকে
ভুলত্রুমে হত্যা করে ৷ এ জন্যে সে য়থারীতি রক্তপণ গ্রহণ করে করে ৷ কিন্তু পরে সে
হতাকারীকে হত্যাও করে এবং মুরতাদ হয়ে ঘুশরিকদের দলে ভিড়ে যায় ৷ তাকে হত্যার নির্দেশ
দেওয়া হলে তারই গোত্রের নুমায়লা ইবন আবদুল্লাহ্ তাকে হত্যা করেন ৷ ইবন ইসহাক বলেন
বনু আবদুল মুত্তালব ও ইকরামা ইবন আবু জাহলের দাসী সারাও এ তালিকার অভ র্চুক্ত ছিল ৷
কেননা সে মক্কায় রাসুলুল্লাহ্ (সা ) কে নানা ধরনের কষ্ট দিতা

আমি বলি, ইতিপুর্বেই ৩ল্লেখ করা হয়েছে যে এইস রা হাতির ইবন আবু বাল৩াআর চিঠি
বহন করেছিল ৷ এবং হয়তো তার অপরাধ ক্ষমা করা হয়েছিল ৷ অথবা হতে পারে সে পালিয়ে
গিয়েছিল ৷ তারপরে তাকে হত্যার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল ৷ পরে রাসুলুল্লাহ্ (সা ) এর নিকটত
জন্যে নিরাপত্তা প্রার্থনা করা হয় ৷ তিনি৩ তাকে নিরাপত্তা দেন ৷ থলীফা উমর (রা) এর সময় পর্যন্ত





১ সুহায়লী বলেন৪ কারও মতে তার নাম ছিল হিলাল ৷ কারও মতে তার ভাইয়ের নাম হিলাল এবং দুই
ভাইকে এক সংগে খাতলান বলা হত ৷
২ আসাহ্হুস সিয়ারে এ নামটি হুয়ায়রিছ ইবন নুকায়দ-নুকায়য নয় ৷-সম্পাদক


পৃষ্ঠা ৫১১ ঠিক করুন

মে জীবিত থাকে ৷ ঘটনাক্রমে এক ব্যক্তির ঘোড়৷ ব পদতলে দলিত ৩হয়ে সে মারা যায় ৷ সুহায়লী
বলেছেনং ইবন খাত ৷লের গায়িকা দাসী ফ ব ৷নী ১ ও পরবর্তীতে ইসলাম গ্রহণ করে ৷ ইবন
ইসহ৷ ৷ক বলেনং : ইকরামা ইবন আবু জাহ্ল ইয়ামানে পালিয়ে যায় ৷ তার শ্রী উম্মু হাকিম বিনৃত
হারিছ ইবন হিশাম ইসলাম গ্রহণ করেন ৷ তিনি তার জন্যে রাসুলুল্লাহ (সা ) এর নিকট নিরাপত্তার
আবেদন জানান ৷ আবেদন মঞ্জুব হলে স্বামীর ঘোজে তিনি ইয়ামানে গিয়ে তাকে রাসুলুল্লাহ
(সা) এর কাছে নিয়ে আসেন ৷

তখন ইকরামাও ইসলাম গ্রহণ করেন ৷ বায়হাকী — — — আবুতাহিব মাসআব (রা)
সুত্রে বংনাি করেন : মক্কা বিজয়ের দিন রাসুলুল্লাহ (সা) চারজন পুরুষ ও দুইজন মহিলা ব্যতীত
অন্যান্য সকলের জন্যে নিরাপত্তা প্রদান করেন ৷ ঐ ছয় ব্যক্তি সম্পর্কে তিনি ঘোষণা দেন যে,
কা’বার গিলাফ জড়িয়ে ধরে থাকা অবস্থায় পেলেও ওদেরকে হত্যা করবে ৷ পুরুষ চারজন হল —
ইকরামা ইবন আবু জাহ্ল, আবদুল্লাহ ইবন খাত ৷,ল মিক্য়াস ইব -ব সুবাব ও আবদুল্লাহ ইবন সা দ
ইবন আবু স ৷রাহ এর মধ্যে আবদুল্লাহ ইবন খাতালকে কা ৷রন্ ৷গি ৷লা ৷ফ ধরে থাকা ৷অবস্থায় পা ওয়া
যায় ৷ তাকে দেখে সাঈদ ইবন হুরায়ছ এবং আমার ইবন ইয়৷ সির (রা) দৌড়ে অগ্রসর হন ৷ সা ৷ঈদ
বয়সে অপেক্ষাকৃত যুবক হওয়ায় আম্মারকে পিছে ফেলে আগে পৌছে যান এবং সেখানেই তাকে
হত্যা করেন ৷ মিক্য়াসকে মুসলমানগণ বাজারের মধ্যে পেয়ে সেখানেই তাকে হত্যা করেন ৷
ইকরামা মক্কা থেকে পালিয়ে যান ৷ সমুদ্র পাড়ি দেয়ার জন্যে তিনি নৌকায় আরোহণ করেন ৷
কিছুদুর অগ্রসর হলে সমুদ্রে ভীষণ ঝড় ওঠে ৷ তখন নৌকায় মাঝি আরোহীদেরকে জানলে,
তোমরা দেব-দেবীর প্রভাব থেকে অম্ভরকে মুক্ত করে থীঢি মনে এক আল্লাহকে ডাক ৷ কেননা,
তোমাদের ওসব দেব-দেবী এখানে কোন কাজেই আসবে না ৷ তখন ইকরামা বললে৷ : আল্লাহর
কসম ! সমুদ্রে যদি আল্লাহ ছাড়া আর কেউ মুক্তি দিতে না পারে তা হলে স্থলেও তিনি ছাড়া অন্য
কেউ মুক্তি দিতে পারবে না ৷ তারপরে তিনি দু’আ করলেন — হে আল্লাহু ! আমি আপনার নিকট
এই অংপীকার করছি যে, এই বিপদ থেকে যদি আপনি আমাকে যুক্তি দেন, তবে আমি
মুহাম্মাদের কাছে গিয়ে তীর হাতে নিজেকে সােপর্দ করবো ৷ আমি অবশ্যই তাকে দয়ালু ও
ক্ষমাশীল হিসেবে পাব ৷ এরপর তিনি রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর নিকট এসে ইসলাম গ্রহণ করেন ৷
আবদুল্লাহ ইবন সাদ ইবন আবু সারাহ্ হযরত উছমান ইবন আফ্ফানের নিকট আত্মগােপন করে
থাকে ৷ পরে রাসুলুল্লাহ (সা) যখন ঈমড়ানের উপর বায়আত গ্রহণ করার জন্যে লোকদের আহ্বান
করেন তখন হযরত উছমান আবদুল্লাহ ইবন সাদকে সাথে এনে নবী (সা) এর সামনে উপস্থিত
হন এবং তাকে বায়আত করার আবেদন জানান ৷ রাসুলুল্লাহ (সা) চক্ষু তুলে তার দিকে তাকান
আবার চক্ষু ফিরিয়ে নেন ৷ এভাবে তিনবার করেন , কিভু৩৷ার বায়আত নিলেন না ৷ তিনবার
তাকাবার পর তাকে বায়আত করান ৷ এরপর সাহাবাদের সম্বোধন করে বলেন : তোমাদের মধ্যে
কি এমন একজন বিচক্ষণ লোক নেই, যে আমাকে বায়আত করা হতে বিরত থাকতে দেখে
তাকে হত্যা করে দিতঃ সাহাবাগণ বললেন : ইয়৷ রাসুলাল্লাহ্ ! আপনার মনের কথা আমরা কি
করে বুঝবাে, আমাদের প্রতি আপনি চোখ দিয়ে একটু ইশারা করলেন না কেন ? তিনি বললেন,

১ আসাহহুসৃ সিয়রে এ নামটি কারতানা এবং অপর গায়িকাটির নাম কুরায়বা বলা হয়েছে ৷ দ্র আসাহ্হুস
সিয়ার পৃ ২৬৫ জালালাবাদী
৬৫






পৃষ্ঠা ৫১২ ঠিক করুন

নবীর জন্যে খিয়ানতকারী চোখ থাকা বাঞ্চুনীয় নয় ৷ আবুদাউদ ও নাসাঈ এ হাদীছটি আহমদ ইবন
মুফাযযাল সুত্রে অনুরুপ বর্ণনা করেছেন ৷ ইমাম বায়হাকী আবু আবদুল্লাহ হাফিয আনাস
ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণনা করেন : মক্কা বিজয়ের দিন রাসুলুল্লাহ্ (সা) চার ব্যক্তি ব্যতীত
অন্য সকলের জন্যে নিরাপত্তা ঘোষণা করেন ৷ চারজন হল আবদুল উঘৃযা ইবন খাতাল, মিক্য়াস
ইবন সুবাবা, আবদুল্লাহ ইবন সাদ ইবন আবু সারাহ্ এবং উম্মে সারা ৷ আবদুল উঘৃযা ইবন
খাতালকে কা’বার গিলাফ ধরে থাকা অবস্থায় হত্যা করা হয় ৷ আবদুল্লাহ ইবন সাদ ইবন আবু
সারাহ্কে দেখামাত্র হত্যা করার জন্যে এক ব্যক্তি মানত (প্রনিজ্ঞা ) করে ৷ আবদুল্লাহ ছিল উছমান
ইবন আফ্ফানের দুধ তা ৷ই ৷ তিনি৩ার পক্ষে সুপারিশ করার জন্যে তাকে রাসুলুল্লাহ্ (সা) এর
দরবারে নিয়ে আসেন ৷ তাকে আসতে দেখে ঐ আনসারী ৩রবারি নিয়ে রেবিয়ে আসলেন ৷ কিন্তু
তিনি এসে দেখলেন যে, আবদুল্লাহ রাসুলের মজলিসে বসে পড়েছে ৷ এ অবস্থায় আনসারী
সংশয়ে পড়ে যায় এবং অগ্রসর হতে ইতস্তত৷ বোধ করে ৷ এক পর্যায়ে রাসুলুল্লাহ্ (সা) হাত
বাড়ালে সে বায়আত হয়ে যায় ৷ তারপর রাসুলুল্লাহ্ (সা) আনসারীকে বললেন, তুমি তোমার
মানত পুরণ করবে বলে আমি অপেক্ষা করছিলাম ৷ তিনি বললেনং ইয়৷ রাসুলাল্লাহ্ ! আমি তো
দ্বিধাগ্নস্ত ছিলাম, আপনি আমাকে একটু ইংগিত করলেন না কেন ? তিনি বললেন, ইংগিত করা
নবীর জন্যে শোভা পায় না ৷ মিক্য়াস ইবন সুবাবা সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, সে একজন
মুসলমানকে হত্যা করে মুরতড়াদ হয়ে যায় ৷ উম্মু সারা ছিল কুরায়শ গোত্রের দাসী ৷ সে নবী করীম

সা-) এর নিকট এসে তার অভাবের কথা জানালে তিনিও তাকে সাহায্য স্বরুপ কিছু প্রদান করেন ৷
ফিরে যাওয়ার সময় এক লোক মক্কাবাসীদের উদ্দেশ্যে লেখা এক চিঠি তার কাছে দেয় ৷ এরপর
বায়হাকী হা৩ ৷তিব ইবন আবু বালত৷ ৷আর ঘটনা বর্ণনা করেন ৷ মুহাম্মাদ ইবন ইসহাক — ইবন
হাঘৃম থেকে বর্ণনা করেন, বনু মুস৩ ৩ালিকের যুদ্ধে মিক্য়াস ইবন সুবাবা র ভাই হিশামকে মুশরিক
মনে করে জনৈক মুসলমান হত্যা করে ৷ এ ঘটনার পর মিক্য়াস নিজেকে মুসলমান হিসাবে
প্রকাশ করে ভাইয়ের রক্তপণ আদায়ের জন্যে এগিয়ে আসে ৷ রক্তপণ গ্রহণ করার পর সে তার
ভাইয়ের হত্যাকারীকে হত্যা করে এবং পুনরায় মুশরিক হয়ে মক্কায় চলে যায় ৷ মক্কা বিজয়ের দিন
তাকে হত্যার ঘোষণা দিলে স৷ ৷ফ৷ ও মারওয়৷ পাহাড়দ্বয়ের মধ্যবর্তী জায়গায় তাকে হত্যা করা হয় ৷
ইবন ইসহাক ও বায়হাকী উল্লেখ করেছেন যে, মিক্য়াস তার ভাইয়ের হত্যাক৷ ৷রীকে হত্যা করার
সময় নিম্নোক্ত কবি ৷আবৃত্তি করছিল —

ট্টপ্রুএে ৷ ণ্এেগ্রা ন্নেন্ ;ওপ্রু ণ্া; এ্যা ধ্া এ ;)ন্ষ্ দ্দৌ ৷ ণ্স্পো ;১াদ্বুএ
এ্যা
অর্থ : যে ব্যক্তি দুর প্রান্তরে গিয়ে রাত্রি যাপন করেছে, তার হৃদয় প্রশাস্তি লাভ করেছে তখন,
যখন তার পােশাক-পরিচ্ছদ অহৎকারীদের রক্তে রঞ্জিভ হয়েছে ৷

তাকে হত্যা করার পুর্ব পর্যন্ত আমার অন্তর দুশ্চিন্তাগ্রস্ত ও উদ্বিগ্ন ছিল, নিজেকে তিরস্কৃত মনে
হচ্ছিল এবং শয্যা গ্রহণ পর্যন্ত আমি ভুলে বসেছিলাম ৷


পৃষ্ঠা ৫১৩ ঠিক করুন

আমি আমার ভাইয়ের বিনিময়ে বনু ফিহ্রের একজনকে হত্যা করেছি এবং বনু নাজ্জারের
উচ্চ মর্যাদা সম্পন্ন সর্দারদের থেকে রক্তপণ আদায় করতে সক্ষম হয়েছি ৷

এ হত্যা-প্রতিশোধ দ্বারা আমি আমার মানত পুরণ করেছি, সম্পদ লাভ করেছি এবং সর্বাগ্রে
মুর্তি দেবতার কাছে প্রত্যাবর্তন করেছি ৷

আমি বলি, কারও কারও মতে যে দুজন গায়িকা কে হত আর নির্দেশ দেওয়া হয় তারা ছিল এই
মিক্য়াস ইবন সুবাবারই দাসী ৷ আর সাফা ও মারওয়া পাহাড়দ্বয়ের ম ধ্যবর্তী স্থানে হত্যা করা হয়
মিকইয়াসের চাচাত ভাইকে ৷ কোন কোন লেখক বলেছেন, ইবন খা৩ালকে হত্যা করেছিলেন
যুবায়র ইবন আওয়াম (রা) ৷ ইবন ইসহাক বলেন, সাঈদ ইবন আবু :িত্ত্বণদ আমার নিকট আকীল
ইবন আবৃত তালিবের গোলাম আবু মুবৃরা সুত্রে বর্ণনা করেন যে, আবু তালিবের কন্যা উম্মু হানী
বলেন, রাসুলুল্লাহ্ (সা) যখন মক্কার উচু এলাকায় অবতরণ করেন, তখন মাখযুম গোত্রের আমার
দেবর সম্পর্কীয় দুব্যক্তি পালিয়ে আমার নিকট চলে আসে ৷ ইবন হিশাম বলেন, ঐ দু’ ব্যক্তির
নাম হারিছ ইবন হিশাম ও যুহায়র ইবন আবু উমাইয়া ইবন মুপীরা ৷ ইবন ইসহাক বলেন, উম্মু
হানী ছিলেন মাখযুম গোত্রের হুবায়রা ইবন আবু ওহবের শ্রী ৷ তিনি বলেন, এমন সময় আমার ভাই
আলী ইবন আবৃত তালিব আমার ঘরে আগমন করেন ৷৩ তাদের দু’জনকে দেখেই তিনি বলে
উঠলেন, আল্লাহর কসম ! আমি এদেরকে হত্যা করবই ৷ তখন আমি তাদেরকে আমার ঘরে
আবদ্ধ করে দরজা বন্ধ করে দিলাম ৷৩ তারপর রাসুলুল্লাহ্ (সা) এর নিকট মক্কা র উচু ভুমিতে ছুটে
গেলাম ৷ আমি লক্ষ্য করলাম, তখন তিনি এমন একটি মটকা থেকে পানি নিয়ে গোসল করছেন,
যাতে আটার চিহ্ন লেগে ছিল এবং তার কন্যা ফাতিমা তখন তাকে কাপড় দিয়ে আড়াল করে
রেখেছেন ৷ গোসল শেষ করে তিনি কা পড় পরলেন ৷ তারপর আাট রাকআত চাশতেব নামায
আদায় করলেন ৷ তারপর আমার দিকে তাকিয়ে বললেনষ্কাগতম হে উম্মু হানী কী মনে করে
আসলে ? তখন আমি তাকে ঐ দু ব্যক্তি ও আলীর সংবাদ জানালাম ৷ শুনে তিনি বললেন, তুমি
যাকে আশ্রয় দিয়েছ, আমরাও তাকে আশ্রয় দিলাম , তুমি যাকে নিরাপত্তা দিয়েছ আমরাও তাকে
নিরাপত্তা দিলাম ৷ আমরা ওদেরকে হত্যা করবো না ৷ ইমাম বুখারী বলেন, আমার নিকট হাদীছ
বর্ণনা করেছেন আবুল ওলীদ ইবন আবু লায়লা সুত্রে ৷ ইবন আবু লায়লা বলেন, রাসুলুল্লাহ্
(না)-কে চাশতের নামায পড়তে দেখেছেন এ কথা একমাত্র উম্মু হানী ব্যতীত আর কেউ
আমাদের নিকট বর্ণনা করেন নি ৷ তিনি মক্কা বিজয় যুদ্ধের উল্লেখ প্ৰসংগে বলেন : নবী করীম
(সা)৩া তার ঘরে গোসল সম্পন্ন করে আট রাকআত নামায পড়েন ৷ উন্মু হানী আরও বলেন, তিনি এ
নামায এতো সংক্ষেপে পড়লেন যেমনটি আমি আর কখনও দেখিনি ৷ তবে রুকু সিজদা
যথারীতি আদায় করেছেন ৷ সহীহ্ মুসলিমে (আকীলের গোলাম) আবু মুবৃরা সুত্রে অনুরুপ
বর্ণনা রয়েছে ৷ তবে তাতে আছে, রাসুলুল্লাহ্ (সা) তার গোসল ও চাশতের নামায আদায়ের
পুর্বেই তাদেরকে নিরাপত্তা দানের ঘোষণা দেন ৷৩ তাকে আশ্রয় দিলাম ৷

মুসলিমের আর একটি বর্থাংায় আছে যে, উম্মু হানী রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর কাছে যখন যান,
তখন তিনি গোসলরত ছিলেন এবং তার কন্যা ফাতিমা একখানা কাপড় আড় করে পর্দা করে
রেখেছিলেন ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) জিজ্ঞেস করলেন, এ আগভুক কে ? উত্তরে ফাতিমা জানালেন-



Execution time: 0.03 render + 0.01 s transfer.