Login | Register

আল বিদায়া ওয়ান্নিহায়া - খন্ড ৪

পৃষ্ঠা ৩০৮ ঠিক করুন

হুদায়বিয়ার অভিযান

হিজ্জী ষষ্ঠ সনের যিলকাদ মাসে হুদায়ৰিয়ার অভিযান সংঘটিত হয় ৷ এ ব্যাপারে কারো দ্বিমত
নেই ৷ ইমাম যুহ্রী, ইবন উমর (রা)-এর আযাদ কৃত গোলাম নাফি কাতাদা , মুসা ইবন উকবা
এবং মুহাম্মাদ ইবন ইসহাক প্রমুখ এ মত পোষণ করেন ৷ ইবন লাহিয়া আবুল আসওয়াদ সুত্রে
উরওয়া থেকে বর্ণনা করেন যে, হিজরী ষষ্ঠ সালের যিলকাদ মাসে হুদায়বিয়ার ঘটনা ঘটে ৷
ইয়াকুব ইবন সুফিয়ান ওরওয়া সুত্রে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ্ (সা) রমযান মাসে
হুদায়বিয়ার উদ্দেশ্যে বের হন আর হুদায়বিয়ার সন্ধি হয় শাওয়াল মাসে ৷ উরওয়া সুত্রের এ বর্ণনা
নিতম্ভেই গরীব তথা বিরল পর্যায়ের ৷ ইমাম বুখারী (র) ও ইমাম মুসলিম (র) উতয়ে হুদবা
আনাস ইবন মালিক (বা) সুত্রে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ্ (না) যিলকাদ মাসে : বার উমরা
করেন ৷ অবশ্য হন্থজ্জর সঙ্গে তিনি যে উমরা করেন তা এর ব্যতিক্রম ৷ তিনি হুদায়বিয়ার উমরা
করেন যিলকাদ মাসে, পরবর্তী বছরের উমরা করেন যিলকাদ মাসে এবং জিইরানা থেকে উমরা
করেন যিলকাদ মাসে ৷ এখানে তিনি হুনায়নের গনীমতের যাল বন্টন করেন ৷ আর এক উমরা
করেন হাজ্জা সঙ্গে ৷ এটা বুখারী শরীফের ভাষ্য ৷ ইবন ইসহাক বলেন, রাসুলুল্পাহ্ (সা) রমষান
এবং শাওয়াল এই দু মাস মদীনায় অবস্থান করেন এবং যিলকাদ মাসে উমরার উদ্দেশ্যে বের হন ৷
এ সময় যুদ্ধের অভিপ্রায় ফ্লিনা , ইবন হিশাম বলেন, এ সময় তিনি মদীনায় নুসায়লা ইবন
আবল্লোহ্ লায়হীকে আমীর নিযুক্ত করেন ৷

ইবন ইসহাক (র) বলেন যে, রাসুলুল্লাহ্ (সা) বেদুঈন এবং তাদের আশপাশের গ্রামের
লোকদের প্রতি বের হওয়ার আহ্বান জানান ৷ বুন্মায়শের পক্ষ থেকে রাসুলুল্লাহ্ (সা)-এ্যা আশংকা
ছিল যে, তারা তার সঙ্গে যুদ্ধে প্ৰবৃত্ত হবে বা বায়ভুল্লাহ্র যিয়ারত করতে তাকে বাধা দেবে; বিন্দু
গ্রামের অনেকেই বের হতে বিলম্ব করে ৷ ফলে মুহাজ্যি৷ এবং আনসারদের মধ্যে যারা রাসুলুল্লাহ্
(না)-এর সঙ্গে ছিলেন তাদেরকে নিয়ে তিনি বের হলেন ৷ গ্রামের কিছু লোকও তার সঙ্গে যোগ
দেয় ৷ তিনি সঙ্গে কুরবানীর পণ্ডও (হাদী) নিলেন এবং উমরার এহরামও বাধ্লেন যাতে যুদ্ধের
ব্যাপারে লোকেরা নিরাপদ হয়ে যায় এবং তারা একখাও জানতে পারে যে, রাসুলুল্লাহ্ (সা) কেবল

বায়ধুন্মাহ্র যিয়ারতের উদ্দেশ্যেই বের হয়েহ্নেষ্ক যুদ্ধের জন্য নয় ৷ বায়তৃল্লাহ্র মযদাি প্রকাশ বরোই
তার একমাত্র লক্ষ্য ৷

ইবন ইসহাক (র) মারওয়ান ইবনুল হাকাম সুত্রে বর্ণনা করেন যে, হুদায়বিয়ার বছর রাসুলুল্লাহ্
(না) বায়তৃল্লাহ্ যিয়ারত করার উদ্দেশ্যে বের হন; যুদ্ধ ব্বার উদ্দেশ্যে নয়, হাদী বা বুম্মবার্নীর জন্য
তিনি ৭০টি পশুও সঙ্গে নেন ৷ তার সঙ্গে ছিল ৭শ লোক প্রতি দশ জনের জন্য ছিল ক্যুবানীর এক

একটা পশু ৷ অবশ্য জাৰির ইবন আবদুল্লাহ (বা) বলতেন যে, হুদায়বিয়ার আমরা সঙ্গীরা ছিলাম
চৌদ্দ শত ৷


পৃষ্ঠা ৩০৯ ঠিক করুন

ইমাম যুহরী (র) বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ্ (সা) বের হয়ে চলতে চলতে উছফান নামক
স্থান পর্যন্ত পৌছলে বিশর ইবন সুফিয়ান কাবী (ইবন হিশাম-এর মতে বুসৃর ,ৰু ) তার সঙ্গে
সাক্ষাৎ করে আরয করলেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ্ (সা) ! আপনার বের হওয়ার বিষয় কুরায়শরা জানতে
পেয়েছে; তাই তারা কম বয়সের উষ্ট্র সঙ্গে নিয়ে বাঘের চামড়া পরিধান করে যুদ্ধের উদ্দেশ্যে
যীতুয়া’ উপত্যকায় অবস্থান গ্রহণ করছে ৷ তারা আল্লাহর নামে প্রতিজ্ঞা করছে যে, তারা কিছুতেই
আপনাকে প্রবেশ করতে দেরেনা ৷ আর তাদের অশ্বারােহী বাহিনীতেখালিদ ইবন ওয়ালীদ কুরাউল
গামীম’ পর্যন্ত এসে পৌছে গেছেন ৷ তখন রাসুলুল্পাহ্ (সা) বললেন, হার কুরায়শ, যুদ্ধ তাদের
সর্বনাশ করেছে ৷ কী হতো যদি তারা আমার এবং আরবের সকল গোকের মধ্যে পথ উন্মুক্ত করে
দিতো ? তারা আমাদেরকে বিনাশ করতে সক্ষম হলে এটাইতো হয়ে তাদের কাম্য; পক্ষাস্তরে
আল্লাহ যদি আমাকে তাদের উপর বিজয় দান করেন তবে তারা বিপুল সংখ্যায় ইসলামে প্রবেশ
করতে পারতো ৷ আর ইসলামে প্রবেশ না করলে সর্বশক্তি নিণ্য়াজিত করে যুদ্ধে প্রবৃত্ত হতো ৷
কুরায়শরা কি মনে করে ? আল্লাহ্র কসম, যে দীন সহকারে আল্পাহ্ আমাকে প্রেরণ করেছেন তার
জন্য আমি অব্যাহত ধারায় নিরলসভাবে জিহাদ চালিয়ে যাবাে যাবত না আল্লাহ আমাকে বিজয়
দান করেন অথবা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে আমার গদনি ঘাড় থেকে ৷ আমি আল্লাহ্র রাস্তায় জীবন উৎসর্গ
করে দেবাে ৷ এরপর তিনি বললেন, যে পথে শত্রু সৈন্যরা অবস্থান নিয়েছে সে পথ ছাড়া ভিন্ন
পথে আমাদেরকে নিয়ে যেতে পারে এমন কোন পুরুষ কি আছে ? আবদৃল্লাহ্ ইবন আবু বকর
সুত্রে ইবন ইসহাক বর্ণনা করেন যে, আসলাম গোত্রের জনৈক ব্যক্তি বললাে : ইয়৷ রাসুলাল্লাহ্!
আমি পারবো ৷ ফলে তিনি পাবর্ত্য অঞ্চলের দুর্গম কংকরময় পথ দিয়ে তাদেরকে নিয়ে চললেন ৷
এ দুর্গম গিরিপথ অতিক্রম করা ছিল মুসলমানদের জন্য এক কঠিন কাজ ৷ সে পথ থেকে বের
হয়ে সমতল ভুমিতে আগমন করলে রাসুলুল্পাহ্ (সা) বলেন : তোমরা সকলেই বলো :

আমরা আল্লাহ্র নিকট পানাহ চাই এবং তার কাছে তাওবা কবি তার দিকেই প্রত্যাবর্তন
করি ৷ তারা সকলে তা বললে রাসুলুল্লাহ্ (সা) বললেন : এ হল যে হিত্তা (ক্ষমা) যা বনী
ইস্রাঈলের উপর পেশ করা হয়েছিল, কিন্তু তারা তা বলেনি ৷ ইবন শিহাব যুহ্রী (র) বলেন,
রাসুলুল্লাহ্ (সা) লোকজনকে নির্দেশ দান করেন মক্কার নিম্নভুমি থেকে হুদায়বিয়ায় আরােহণের
পথে সানৃয়াতুল মিরার’ হয়ে ডান দিকের আল-হিস্ এর পথ ধরে চলার জন্য ৷ তিনি বলেন,
মুসলিম বাহিনী এভাবেই অগ্রসর হয় ৷ কুরায়শ বাহিনী (মুসলিম) বাহিনীর (পথ পরিক্রমের) ধুলো
বালি দেখতে পেয়ে পথ পরিবর্তন করে দ্রুত কুরায়ণের নিকট প্রত্যবের্জা করে ৷ রাসুলুল্লাহ্ (না)
সে পথে বের হয়ে সানিয়াতুল মিরার’ উপনীত হলে রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর উট বসে পড়ে ৷ তখন
লোকেরা বলে উষ্ট্র অবাধ হয়ে থেমে পড়েছে ৷ তিনি বললেন, না তা নয়, বরং হস্তিবাহিনীকে
যিনি বোধ করেছিলেন মক্কায় পৌছতে তিনি এ উষ্ট্রকেও রোধ করেছেন ৷ কুরায়শরা আজকের
দিনে আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার প্রতি আমাকে আহ্বান জানালে আমি তাদেরকে সে সুযোগ
দেবো ৷ এরপর তিনি লোকজনকে বললেন, তেড়ামরা অবতরণ করো ৷ কেউ বললাে, ইয়া
রাসুলাল্লাহ্ (সা)! এখানেতো পানি নেই ৷ তখন তিনি ভীরদান’ থেকে এবল্টা তীর বের করে


পৃষ্ঠা ৩১০ ঠিক করুন

জনৈক ব্যক্তিকে দান করে কুয়ার নীচে পুতে দেয়ার জন্য বললে তিনি পুতে দেন ৷ ফলে তা থেকে
অবিরাম ধারায় পানি উথলে উঠতে থাকে ৷ যা থেকে লোকেরা তাদের উটকেও পানি পান করার ৷
ইবন ইসহাক (র ) আসলাম গোত্রের জনৈক বিজ্ঞ ব্যক্তির বরাতে বলেন যে , রাসুলুল্লাহ্ (সা)শ্এ্যায়
তীর নিয়ে কুয়ােয় অবতরণকারী ব্যক্তি ছিলেন রাসুলের উষ্ট্র চালক নাজিয়া ইবন জুন্দুব ৷ পক্ষান্তরে
ইবন ইসহাক বলেন, কোন কোন ৰিজ্ঞজন মনে করেন যে, হযরত “ধারা ইবন আযিব বলতেন-
রাসুলুল্লাহ্ (সা)-এর তীর নিয়ে কুপে অবতরণকারী ব্যক্তি ছিলাম আমি ৷ কোনটা সঠিক আল্পাহ্ই
তা ভাল জানেন ৷ ইবন ইসহাক প্রথম মতের পক্ষে প্রমাণ উপস্থাপন করে বলেন যে, আনসারদের
এক দাসী কুয়ার নিকট আসে ৷ তখন নাজিয়া কুয়ার নীচ থেকে পানি তুলছিল্ দেখে দাসী বলে ৷


হে পানি উত্তোলনকারী! আমার বালতি ভরে দাও ৷ আমি লোকদের দেখেছি তোমার প্রশংসা
করতে ৷ তারা তোমার সম্পর্কে ভাল বলে এবং তোমার শ্রেষ্ঠতু প্রকাশ করে ৷ দাসীর কবিতার
জবাবে নাজিয়া বলেন :


ইয়ামানী নারী আসে যে, আমি পানি উত্তোলন করছি আর আমার নাম নাজিয়া বিদঘুটে পানির
ফোটাধড়ারী অনেক ভর্চুসনাকারিণী আছে আমি যার নিন্দা করেছি খারাপ স্বভাব প্রকাশ কালে ৷

ইমাম যুহ্রী (র) বলেন : রাসুলুল্লাহ্ (সা) সুস্থির হলে বুদায়ল ইবন ওয়ারাকা খুযায়ী তার
সম্প্রদায়ের কয়েকজন লোক নিয়ে রাসুলুল্পাহ্ (না)-এর সমীপে উপস্থিত হন ৷ তিনি রাসুলুল্লাহ্
(না)-এর সঙ্গে কথা বলে আগমনের হেতু জানতে চাইলে তিনি জানালেন যে , যুদ্ধ করার
অজ্যিায় নিয়ে তিনি আগমন করেননি; বরং তিনি এসেছেন ৰায়তুল্লাহ্ শরীফ যিয়ারত করতে এবং
তার প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে ৷ এরপর তিনি বিশ্ব ইবন সুফিয়ানকে যা বলেছিলেন
তাদেরকেও তাই বললেন ৷ তারা কুরায়শের নিকট ফিরে গিয়ে বলে :

হে কুরায়শের লোকেরা ! মুহাম্মাদের ব্যাপারে তোমরা তাড়াহুড়া করছো ৷ মুহাম্মাদতাে যুদ্ধ
করার উদ্দেশ্যে আসেননি ৷ তিনি এস্যেছন বারতুল্লাহ্ শরীফ যিয়ারতের অভিপ্রায় নিয়ে ৷ একথা
শুনে তারা তাকে দােষারোপ করে এবং তার প্রতি কটুক্তি করে ৷ তারা বলে : সে যদি যুদ্ধ করার
জন্য না-ও আসে তবু ও আমরা তাকে জোরপুর্বক প্রবেশ করতে দেবাে না এবং আরবদের মধ্যে
তার কথা প্রচার করতেও দেব না ৷ যুহ্রী বলেন, কাফিরমুশরিক নির্বিশেষে খুযাআ গোত্রের সমস্ত
লোক ছিল রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর শুডাথী ৷ তারা তার কাছে মক্কার কোন কথা গোপন রাখতো না ৷
তিনি আরো বলেন যে, এরপর তারা বনু আমির ইবন লুয়াই এর মৃফরিয ইবন হাফ্স আখৃয়াফকে
রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর নিকট প্রেরণ করেন ৷ তাকে আসতে দেখে রাসুলুল্লাহ্ (সা) বললেস , এ তো
দেখছিএকটি ৰিশ্বাসঘাতক ৷ সে রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর নিকট এসে তার সঙ্গে কথা বললে তিনি


পৃষ্ঠা ৩১১ ঠিক করুন

তাকে সে কথাই বলেন যা বলেছিলেন বুদাইল এবং তার সঙ্গীদেরকে ৷ সে কুরাইশের নিকট
ফিরে গিয়ে রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর কথা তাদেরকে জানালে তারা হুলায়স ইবন আলকামা অথবা
ইবন সবানকে প্রেরণ করে ৷ এ হুলায়স ছিল আছাবশী তথা কুরায়শ রচ্ছিত হ্মেত্রেগুলির দলপতি ৷
সে ছিল বনুল হড়ারিস ইবন আব্দ মানাত ইবন কিনানার অন্যতম সদস্য ৷ তাকে দেখে রাসুলুল্পাহ্
(সা) বললেন :

;;ন্

এ ব্যক্তি এমন এক গোষ্ঠির সদস্য যারা এক আল্পাহ্কে স্বীকার করে (অর্থাৎ, তাওহীদে
বিশ্বাসী) ৷ তোমরা কুরবানীর পশু তার সম্মুখে নিয়ে এলো যাতে যে তা দেখতে পায় ৷ তার সম্মুখে
কুরবানীর জন্য উপস্থিত করা হলো ৷ সে দেখতে পােলা যে, ওগুলো উপত্যকার ধার ঘেষে তার
সম্মুখে উপস্থিত হচ্ছে ৷ ওগুলোর গলায় রয়েছে মালা ৷ অবস্থান স্থল ণ্;থকে দুরে দীর্ঘ সময় আটক
থাকার কারণে সে গুলো শীর্ণকায় হয়ে গিয়েছে ৷ এ অবস্থা দেখে সে রৰুসুলুল্লাহ্ (না)-এর কাছে না
গিয়ে কুরায়শের নিকট ফিরে আসে এবং যা দেখতে পেয়েছে তাদের কাছে তা বলে ৷ তখন
কুরায়শের ণ্লাকেরা তাকে বলে : বসে পড়াে, তৃমিতো নিছক এক বেদুইন ৷ কোন জ্ঞান ধ্যান

নেই ৷ আবদুল্লাহ্ ইবন আবু বকরের উদ্ধৃতি দিয়ে ইবন ইসহড়াক (র) বলেন ; তবে হুলায়স ক্রুদ্ধ
হয়ে বলে :

হে কুরায়শ সম্প্রদায়! আল্লাহর শপথ এ কথায় আমরা তোমাদের সঙ্গে চুক্তি করিনি এবং
একথায় আমরা তোমাদের মিত্র হইনি যে, কোন ব্যক্তি বায়তুল্লাহ্র যিয়ারত এবং তার প্রতি সম্মান
প্রদর্শনের জন্য আগমন করলে তাকে বাধা দেয়া হবে ৷ হুলায়সের জীবন যার হাতে নিহিত তার
শপথ করে বলছি, মুহাম্মাদ এবং তার অভীষ্ঠ বিষয়ের মধ্যে তোমরা অম্ভরায় হয়ো না ৷ অন্যথায়
আমি সকল আহাবীশকে সঙ্গে নিয়ে একযোগে চলে যাবো ৷ একথা শুনে তারা বলে : একটু
অপেক্ষা কর, আমরা তাদের নিকট থেকে এমন অঙ্গীকার গ্রহণ করি , যাতে আমরা সন্তুষ্ট হতে
পারি ৷

যুহ্রী (র) আরো বলেন : এরপর কুরায়শের লোকেরা উরওয়া ইবন মাসউদ সাকাফীকে
রাসুলুল্লাহ্ (সা ) এর নিকট প্রেরণ করেন ৷ তিনি রওয়ানা হওয়ার আগে কুরায়শকে উদ্দেশ্য করে
বলেনঃ

হে কুরায়শের লোকেরা ! আমি দেখতে পাচ্ছি যে, তোমরা যাকে মুহন্মোদের নিকট প্রেরণ
কর, সে ফিরে এলে তোমরা তার সঙ্গে দুর্ব্যবহড়ার কর এবং উষ্মড়া প্রকাশ কর ৷ তোমরা জান যে,
তোমরা পিতৃস্থানীয় আর আমি সন্তান তৃল্য ৷ আর উরওয়া ছিলেন সুবায়আ ৰিনৃত আব্দ শামসের
সন্তান ৷ তোমাদের বিবাদ সম্পর্কে আমি শুনতে পেয়েছি ৷ আমার সম্প্রদায়ের মধ্যে যারা আমাকে
মান্য করে তাদেরকে একত্র করেছি এবং তোমাদের কাছে তাদেরকে নিয়ে এসেছি (তোমাদের
সাহায্যের জন্য) এমনকি আমি নিজে তোমাদের সমবেদনায় এগিয়ে এসেছি ৷ উরওয়ার এসব
কথা শুনে তারা বললো, তুমি যথার্থই বলেছ ৷ তোমার সম্পর্কে আমাদের কোন অভিযোগ নেই ৷
এরপর তিনি বের হয়ে রাসুলুল্পাহ্ (না)-এর নিকট গিয়ে তার সম্মুখে আসন গ্রহণ করে বললেন :


পৃষ্ঠা ৩১২ ঠিক করুন

মুহাম্মাদ ! তুমি কিছু বখাটে লোক একত্র করে তাদেরকে নিয়ে নিজ গোত্রের সর্বনাশের
আয়োজন করেছ ৷ কুরায়শের লোকজন তাদের সস্তানাদি নিয়ে ময়দানে সমবেত হয়েছে ৷ তারা
বাঘের চামড়া পরিধান করেছে ৷ তারা আল্পাহ্র নামে অঙ্গীকারাবদ্ধ হয়েছে, তুমি শক্তি প্রয়োগ
করে কিছুতেই মক্কায় প্রবেশ করতে সক্ষম হবে না ৷ আল্লাহ্র শপথ, আজ যারা তোমার চতুর্দিকে
জড়ো হয়েছে কাল তারা সকলেই উধাও হয়ে যাবে ৷ রাসুলুল্লাহ্র (সা) পিছনে ছিলেন হযরত আবু
বকর সিদ্দীক (রা) ৷ উরওয়ার বক্তব্য শুনে তিনি বললেন :

লাত দেবীর অঙ্গ বিশেষ চুষতো ৷ আমরা কি রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর সঙ্গ ত্যাগ করে চলে
“যাবো? উরওয়া জানতে চায়, হে মুহাম্মাদ ! ইনি কে ? রাসৃলুল্লাহ্ (সা) জানালেন এ হলো আবু
কৃহাফার পুত্র ৷ উরওয়া বললে : আল্লাহ্র কসম, আমার প্রতি আপনার অনুগ্নহ না থাকলে আমি
অবশ্যই আপনার কথার জবাব দিতাম ৷ কিন্তু অনুগ্রহের কারণে জবাব দিলাম না ৷ যুহ্রী (র)
বলেন : এরপর উরওয়া কথা বলতে গিয়ে রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর দাড়ি মৃবারক স্পর্শ করেন ৷ মুগীরা
ইবন শুবা তখন অস্ত্র হাতে নিয়ে রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর পেছনে দাড়িয়ে ছিলেন ৷ যুহ্রী (র) বলেন :
উরওয়া রাসুল (না)-এর দাড়ি মুৰারকে হাত রেখে কথা বলার সময় হাত নাড়লে হযরত মুগীরা
(বা) তার হাতে ঠোকর দিয়ে বলতেন : তোমার হাত সরাও নতুবা তা আর তোমার দিকে ফিরে
আসবে না ৷ রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর মুখের উপর এভাবে হাত নাড়াবে না ৷ তখন উরওয়া বলে : দুঃখ
হয় তোমার জন্য , তুমি কতটা হঠকারী আর বদমেজায! এ সময় রাসুলুল্লাহ্ (সা) মৃদু হাসলে
উরওয়া জিজ্ঞেস করেন, মুহাম্মাদ ! এ কে ? তিনি বললেন, এ তোমার ভাতিজা মুপীরা ইবন শুবা ৷
উরওয়া বললেন, হে দাগাবাজ৷ আমিভাে গতকালই তোমার দাপাবাজীর হাত ধুয়ে দিয়েছিলাম ৷
যুহ্রী (র) বলেন : রাসুলুল্পাহ্ (সা) তার সঙ্গে এমনভাবে কথা বলেন, যেমনভাবে তিনি বলেছেন
তার পুর্বেকার সঙ্গীদেরকে ৷ এ সময় রাসুলুল্লাহ্ (সা) তাকে একথাও জানিয়ে দেন যে, তিনি যুদ্ধ
করার উদ্দেশ্যে আগমন করেননি ৷ তখন তিনি রাসুলুল্লাহ্ (সা) এর সম্মুখ থেকে সরে আমার
জন্য উঠে দাড়ান ৷ রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর সড়াহাবীগণ তার সঙ্গে কেমন আচরণ করেন এ সময় তিনি
দুরে দাড়িয়ে তা পর্যবেক্ষণ করেন ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) উবু করলে তারা ছুটে এসে তার উয়ুর পানি
নিয়ে নিতেন (মাটিতে পড়তে দিতেন না), তিনি থুথু ফেললো , সাহাবীগণ ছুটে এসে তাও তুলে
নিতেন এবং তার চুল-দাড়ির কোন পশম খসে পড়লে তাও তারা ছুটে এসে লুফে নিতেন ৷

তিনি কুরায়শের নিকট প্রত্যাবর্তন করে বললেন :

হে কুরায়শ সম্প্রদায় ! আমি কিসৃরা, কায়সর এবং নজােশীর মতো সম্রাটদের দরবার ঘুরে
এসেছি ৷ ত্মাল্লাহ্র শপথ ! আমি কখনো কোন সম্রাটকে তার লোকজনের এমন মযদাির আসনে
দেখতে পাইনি, যেমনটি দেখতে পেয়েছি মুহাম্মাদকে তার সঙ্গীদের মধ্যে ৷ তারা কোন অবন্থায়ই
তাকে ত্যাগ করে চলে যাবে না , তোমরা এখন নিজেরাই মত স্থির কর , কী করবে ৷ কোন কোন
ওয়াকিফহাল মহলের উদ্ধৃতি দিয়ে মুহাম্মাদ ইবন ইসহাক (র) বলেন ?,

রাসুলুল্লাহ্ (সা) খারাশ ইবন উমইিয়া খুযায়ীকে ডেকে তার উট সালাব এর পিঠে সওয়ার
করিয়ে কুরায়শের নিকট রাসুলুল্লাহ্ (সা)-এর আগমনের মুল পয়পাম পৌছাবার জন্য প্রেরণ
করেন ৷ তারা রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর উটনীকে বধ করে এবং খারাশকেও হত্যা করতে উদ্যত হলে
আহাবীশরা তাকে রক্ষা করে ৷ তখন তারা তাকে ছেড়ে দেয় ৷ শেষ পর্যন্ত তিনি রাসুলুল্লাহ্


পৃষ্ঠা ৩১৩ ঠিক করুন

(সা)-এর নিকট ফিরে আসতে সক্ষম হন ৷ নির্ভরযেগ্যে রাৰী থেকে ইবন আব্বাস (রা) সুত্রে ইবন
ইসহাক (র) বর্ণনা করেন যে, কুরায়শরা রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর বাহিনীকে নিরীক্ষণ করার জন্য
৪ :৫০ জনের একটা দলকে প্রেরণ করে ৷ তাদের উদ্দেশ্য ছিল রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর কোন
সাহাবীকে আক্রমণ করা ৷ তাদেরকে পাকড়াও করে রাসুলুল্লাহ্ ( সা )এর দরবারে হাযির করা হলে
তিনি তাদেরকে ক্ষমা করে তাদেরকে মুক্ত করে দেন ৷ অথচ তারা রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর বাহিনীর
প্ৰতি প্রস্তর এবং তীরে নিক্ষেপ করেজ্যি ৷ এরপর রাসুলুল্লাহ্ (সা) হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রা)
-কে ডেকে কুরায়শের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্পের নিকট রাসুলুল্লাহ্ (সা)--এর পয়গাম পৌছিয়ে দিতে
বললে তিনি আরয করলেনৰু ইয়া রাসুলাল্লাহ্ (সা) আমার জীবনের ব্যাপারে কুরায়শকে আমি
হুমকি মনে করি ৷ আর মক্কায় বনু আদীর মধ্যে এমন কেউ নেই যে আমাকে রক্ষা করতে পারে ৷
আর কুরায়শরা আমার প্রতি কতটা ক্ষুদ্ধ আর রুষ্ট তাতো আপনি জানেনই ৷ তবে আমি এমন এক
ব্যক্তির কথা আপনাকে বলবো যিনি আমার চেয়েও বেশী মযক্ষোশীল ৷ তিনি হচ্ছেন উছমান ইবন
আফ্ফান (রা) ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) তাকে ডেকে আবু সুফিয়ান প্রমুখ কুরায়শী নেতৃবৃন্দের নিকট
প্রেরণ করেন তাদেরকে একথা জানিয়ে দেয়ার জন্য যে, রাসুলুল্পাহ্ (সা) যুদ্ধ করার জন্য আগমন
করেননি, বরং তিনি আগমন করেছেন বায়তৃল্লাহ্র যিয়ারত এবং তৎপ্রতি সম্মান প্রদর্শানব জন্য ৷
হযরত উছমান (বা) মক্কার পথে রওয়ানা হয়ে যান ৷ মক্কায় প্রবেশকালে অথবা তার কিছু আগে
আবান ইবন সাঈদ ইবনুল আস এর সঙ্গে তার সাক্ষাত হয় ৷ তিনি তার বাহনের সম্মুখে তাকে
বসান এবং রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর পয়গাম পৌছানাের পর্যন্ত তাকে নিরাপত্তা দান করেন ৷ এরপর
হযরত উছমান (রা) আবু সুফিয়ান প্রমুখ কুরায়শ নেতৃবৃন্দের নিকট গমন করেন এবং তাদের
নিকট রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর পয়গাম পৌছান ৷ তারা তার বক্তব্য শুনে বললো তুমি যাই ইচ্ছা কর
তা হলে আল্লাহর ঘরের তাওয়াফ করতে পার ৷ তিনি বললেন : রড়াসুলুল্লাহ্ (সা) তাওয়াফ না করা
পর্যন্ত আমিতে৷ তাওয়াফ করতে পারিনা ৷ এ সময় কুরায়শরা হযরত উছমান (রা) কে আটক
করলে রাসুলুল্লাহ্ (সা) এবং মুসলমানদের নিকট খবর পৌছে যে, হযরত উছমান (রা)-কে হত্যা
করা হয়েছে ৷ ইবন ইসহাক (র) হযরত আবদুল্লাহ ইবন আবু বকর (রা) এর উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন
যে, হযরত উছমান (রা) নিহত হয়েছেন একথা রাসুলুল্লাহ্ (সা )-এর নিকট পৌছলে রাসুলুল্লাহ্
(সা) বলেন : তাদের থেকে বদলা না নিয়ে আমরা ফিরে যাবো না ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) সকলকে
বায়আত করার জন্য আহ্বান জানান ৷ একটা গাছের তলায় অনুষ্ঠিত এই বায়আতকে বায়অড়াতে
রিদওয়ান’ বলা হয় ৷ (লাকেরা বলাবলি করতে) রাসুলুল্লাহ্ (না) তাদের কাছ থেকে আমৃত্যু লড়ে
যাওয়ার বায়আত গ্রহণ করেন ৷ আর জাবির ইবন আবদুল্লাহ (রা) বলভ্রুতন : রাসুলুল্লাহ্ (সা)
আমাদের নিকট থেকে আমৃত্যু লড়বার বায়আত গ্রহণ করেননি : বরং তিনি বায়আত গ্রহণ
করেছিলেন যে, আমরা যেন পলায়ন করি ৷ রাসুলুল্লাহ্ (না) আমাদের নিকট থেকে এ মর্মে
বায়আত গ্রহণ করেন ৷ বনু সালিমার জাদ্ ইবন কায়স ছাড়া মজলিসে উপস্থিত কেউই এ বায়আত
গ্রহণ থেকে পিছিয়ে থাকেননি ৷ এ সম্পর্কে হযরত জাবির ইবন আবদুল্লাহ্ (বা) বলেন, আল্লাহ্র
কলম, আমি যেন দেখতে পাচ্ছি জাদ তার উদ্রীর আড়ালে ণ্লাকজন থেকে লুকাচ্ছেন ৷ এরপর
রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর নিকট খবর আসে যে, উছমান (রা)-এর ব্যাপারে যা বলা হয়েছে তা গুজব
মাত্র ৷ ইবন হিশাম ওয়াকী সুত্রে শাবীর বরাতে বর্ণনা করেন যে, বায়আতৃর রিদওয়ানে

৪ :

পৃষ্ঠা ৩১৪ ঠিক করুন

সর্বপ্রথম যিনি বায়আত গ্রহণ করেন তিনি ছিলেন আবু সিনান আল-আসাদী ৷ নির্জ্যযোগ্য রাবীর
বরাতে ইবন উমর সুত্রে ইবন হিশাম বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ্ (সা) নিজে হযরত উছমান (বা)
এর পক্ষ থেকে বায়আত গ্রহণ করেন এবং তার নিজের এক হাতের উপর অপর হাত স্থাপন
করেন, যে সনদে ইবন হিশাম এ হাদীছটি বর্ণনা করেন তা দুর্বল; তবে হাদীছটি দুর্বল হলেও বুখারী
এবং মুসলিমের রিওয়ায়াতে ব্যাপারটি সমর্থিত ৷ যুহ্রী (র)-এর বরাতে মুহাম্মাদ ইবন ইসহড়াক
বলেন যে ; এরপর কুরায়শ বনু আমির ইবন লুয়াই-এর অন্যতম সদন৷ সুহায়ল ইবন আমৃরকে
রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর খিদমতে প্রেরণ করে এবং তাকে বলে দেয় যে, মুহাম্মাদ এর নিকট গমন
করে তার সঙ্গে সন্ধি কর ৷ সন্ধিতে একথা অন্তর্ভুক্ত থাকবে যে, এ বছর (ওমরা না করেই)
তাদেরকে ফিরে যেতে হবে ৷ আল্লাহর কলম, আরবে এ কথা যেন বলাবলি না হয় যে, মুহাম্মাদ
জোরপুর্বক মক্কায় প্রবেশ করেছেন ৷ সুহায়ল ইবন আমৃরকে আগমন করতে দেখে রাসুলুল্লাহ্ (সা)
বলেন, সন্ধির উদ্দেশ্যে তারা এ ব্যক্তিকে প্রেরণ করেছে, সুহায়ল রম্পুলুল্লাহ্ (না)-এর নিকট এসে
দীর্ঘ সময় ধরে কথা বলেন ৷ দীর্ঘ আলাপ-আলোচনার পর তারা সন্ধির ব্যাপারে ঐকমতেব্রু
পৌছেন ৷ কথাবার্তা কেবল পাকাপাকি হয়ে যায় সন্ধিপত্র লেখা বাকী ছিল এমন সময় উমর (রা)
আবু বকর (রা)এর নিকট ছুটে যান এবং বলেন : আবু বকর তিনি কি আল্লাহ্র রাসুল নন ? আবু
বকর বললেন, অবশ্যই ৷ উমর বললেন, আমরা কি মুসলিম নই ? আবু বকর বললেন,
নিঃসন্দেহে ৷ উমর (রা) আবার বললেন, তারা কি মুশরিক নয় ! তিনি বললেন, এতে কােনই
সন্দেহ নেই; উমর বললেন, তাহলে দীনের ব্যাপারে আমরা কেন হীনতা স্বীকার করে নেবাে ?
তখন আবু বকর (রা) বললেন, হে উমর ! রাসুলুল্লাহ্ (সা) এর আনুগত্য শক্তভাবে অবলম্বন কর ৷
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তিনি আল্পাহ্র রাসুল ৷ উমর (রা) বললেন, আমিও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তিনি
আল্লাহ্র রাসুল ৷ এরপর তিনি রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর নিকট হাযির হয়ে আরব করলেন; ইয়া
রাসুলাল্লাহ্ (সা) ! আপনি কি আল্লাহ্র রাসুল নন ? তিনি বললেন, অবশ্যই ৷ উমর বললেন, আমরা
কি মুসলিম নই ! জবাবে তিনি বললেন, অবশ্যই ৷ তিনি বললেন, তারা কি যুশরিক নয়? রাসুলুল্লাহ্
(সা) বললেন, অবশ্যই; এবার উমর (রা) বললেন, তবে কেন আমরা দীনের ব্যাপারে এ দীনতা-
হীনতা মেনে নেবাে ? তিনি বললেন, আমি আল্লাহ্র বন্দো ও রাসুল, আমি আল্লাহ্র নির্দেশের
বিরুদ্ধাচরণ করতে পারি না এবং আল্লাহ্, কিছুতেই আমার বিনাশ সাধন করবেন না, উমর (রা)
বলতেন, সেদিন আমি যেসব কড়া কথা বলেছি সে ভয়ে আমি অব্যাহতভাবে নামায পড়ি, রোযা
রাখি, সদকা করি, দাস মুক্ত করতে থাকি ৷ শেষ পর্যন্ত আমি কল্যাণ লাভের আশা করি ৷

ইবন ইসহড়াক (র ) বলেন : এরপর রাসুলুল্লাহ্ (সা) আলী ইবন আবু তালিবকে ডেকে এনে
বললেন, লেখ, বিসমিল্লাহির রাহমড়ানির রাহীম ; সুহায়ল বললেন , এটা কি, আমি জানি না , তবে
বিসমিকা আল্লাহুম্মা (শ্লো ৷ ৷ ষ্ঠাং); হে আল্লাহ্! তোমার নামে’ লিখ, তখন রাসৃলুল্লাহ্ (সা)
বললেন, লেখ বিসমিকা আল্লাহুম্মা ৷ আলী (রা) তাই লিখলেন, এরপর বললেন , লেখ-


এ হচ্ছে সে চুক্তিপত্র যাতে মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ্ (মা) এবং সুহায়ল ইবন আমর একমত
হয়েছেন ৷ সুহায়ল বললেন, আমি যদি আপনাকে আল্লাহর রাসুল বলেই স্বীকার করতাম, তাহলে


পৃষ্ঠা ৩১৫ ঠিক করুন

তো আর আপনার সঙ্গে যুদ্ধ করতাম না, বরং আপনার এবং আপনার পিতার নাম লিখুন! তখন
রাসুলুল্পাহ্ (সা) বললেন, লেখ ৷

এ হলো সেসব শর্ত, যাতে মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ্ এবং সুহায়ল ইবন আমর চুক্তিবদ্ধ
হয়েছেন, (১) উভয় পক্ষের মধ্যে দশ বছর পর্যন্ত যুদ্ধ বন্ধ থাকবে ৷ এসময় লোকেরা নিরাপদে
নিরুপদ্রবে জীবন-যাপন করবে, একে অন্যের উপর আক্রমণ করা থেকে বিরত থাকবে, (২)
কুরায়শের কোন লোক তার অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া মুহাম্মাদ এর নিবল্ট আগমন করলে তিনি
তাকে ফেরত পাঠাবেন , বিন্দু মুহন্মোদের সঙ্গীসাথীদের মধ্য থেকে কেউ কুরায়শের নিকট চলে
আসলে তারা তাকে ফেরত দিবে না ৷ (৩) আমরা আমাদের কোন পক্ষ অপর পক্ষকে যুদ্ধের জন্য
প্রকাশ্যে বা গোপনে যুদ্ধের উস্কানী দেবে না ৷ (৪ ) যার ইচ্ছা মুহাম্মাদ এর সাথে চুক্তিবদ্ধ হতে
পারবে আর যার ইচ্ছা কুরায়শদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হতে পারবে : সে মতে বনু থুযাআ মুহাম্মাদ
(সা) এর সঙ্গে এবং বকর কুরায়শের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয় ৷

;া; এে; ); পুপ্রুাদ্ব৷ ণ্া; ;,াদ্বু ৷১৷ ণ্১! প্
াগ্লুরু
াদ্১াট্র

(৫) এ বছর মুসলমানগণ মক্কায় প্রবেশ না করেই ফিরে যাবেন, (৬) আগামী বছর কুরায়শরা
মুসলমানদের জন্য পথ উন্মুক্ত করে দেবে, মুহাম্মাদ সঙ্গি-সাথী নিয়ে মক্কায় প্রবেশ করতে পারবেন

এবং (৭) সেখানে তিন দিন অবস্থান করতে পারবেন ৷ (৮) তখন পথিক সুলভ কােষবদ্ধ তরবারি
ছাড়া অন্য কোন অস্ত্র সাথে থাকবে না ৷

যুহ্য়ী (র) বলেন : রাসুলুল্পাহ্ (মা) এবং সুহায়ল ইবন আমর এর চুক্তিপত্র লিখা হচ্ছে এমন
সময় সুহায়ল ইবন আমর এর পুত্র আবু জন্দল লোহার বেড়ি পরিহিত অবস্থায় রাসুলুল্লাহ্ (সা)
এর সম্মুখে উপস্থিত হন ৷

রাসুলুল্লাহ্ (না) যে স্বপ্ন দেখেছিলেন তাতে বিজয় সম্পর্কে সাহাবীগণের মনে কোন সন্দেহ
সংশয় ছিল না, তইি তারা যখন সন্ধি স্থাপন ও ফিরে যাওয়ার শর্ত মেনে নেয়া এবং রাসুলুল্পাহ্
(সা)-এর ধৈর্য-ভৈস্থর্য প্রত্যক্ষ করলেন, তখন তারা এমন মর্মাহ্ত হন যে , তাদের জীবন নাশের
উপক্রম হয় ৷ সুহায়ল আবু জন্দলকে দেখে তার দিকে এগিয়ে যান, তাকে চপেটাঘাত করেন
এবং আমার প্রান্ত ধরে বলেন : হে মুহাম্মাদ ৷ এর আগমনের পুর্বেই আপনার ও আমার মধ্যে
সন্ধিশর্ত চুড়ান্ত হয়ে গিয়েছে ৷ রাসুলল্লাহ (সা ) বললেন : যথার্থ ৷ সুহায়ল আবু জন্দলকে টেনে

হেচড়ে কুরায়শদের কাছে নিয়ে যেতে শুরু করে ৷ এ সময় আবু জন্দল উচ্চস্বরে ফরিয়াদ করে
বলছিলো :

হে মুসলিম সমাজ ! আমাকে কি মুশরিকদের হাতে ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে ? তারা আমাকে
ধর্মচুত করতে প্রয়াস পাবে ৷ এ অবস্থা দেখে সাহাবীগণের মর্যযাতনা আরো বৃদ্ধি গেলো ৷ তখন


পৃষ্ঠা ৩১৬ ঠিক করুন

রাসুলুল্লাহ্ (সা) তাকে দেখে বললেন : হে আবু জন্দল ! ধৈর্য ধারণ কর আর ছাওয়াবের আশা
পোষণ কর ৷ কারণ আল্লাহ তোমার জন্য তোমার অন্যান্য দুর্বল সঙ্গীদের মুক্তি ব্যবস্থা করবেন ৷
আমরা এইমাত্র কুরায়শ সম্প্রদায়ের সাথে চুক্তি বদ্ধ হয়েছি আর তারাও আমাদের সঙ্গে আল্লাহর
নামে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে ৷ আমরা তাদের সঙ্গে বিশ্বাস ভঙ্গ করতে পারিনা ৷

রাবী বলেন যে, উমর ইবনুল খাত্তাব তখন ছুটে নিয়ে আবু জন্দলের পাশাপাশি ইাটতে
থাকেন ৷ এ সময় তিনি বলছিলেন :

হে আবু জন্দল ! ধৈর্য ধারণ কর, তারাভাে মুশরিক, তাদের রক্তাতা কুকুরের রক্ত তুলা ৷
হযরত উমর (রা) এর সবে তলোয়ারও ছিল ৷ তিনি বলেন, আমি আশা করছিলাম আবু জন্দল
তরবারি থানা নিয়ে তার পিতার গর্দানে মারবেন ৷ আবুজন্দল পিতার প্ৰতি দুর্বলতা প্রকাশ করে
এবং চুক্তিটি কার্যকর হয়ে যায় ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) চুক্তিপত্র লিপিবদ্ধ করা; সম্পন্ন করে মুসলমান
এবং যুশরিকদের মধ্যে কয়েকজনকে সাক্ষী রাখেন ৷ মুসলমানদের মধ্যে সাক্ষী ছিলেন আবু বকর
সিদ্দিক (রা), উমর ইবনুল খাত্তাব (রা) , আবদুর রহমান ইবন আওফ, আবদুল্লাহ ইবন সুহায়ল
ইবন আমর , সা’দ ইবন আবু ওয়াক্কাস ৷ আর মুশরিকদের মধ্যে মাহমুদ ইবন মাসৃলামা ও মুকরিয
ইবন হাফস তখনো তিনি মুশরিক ছিলেন ৷ আর হযরত আলী ইবন আবু তালিব চুক্তিপত্রটি
লিপিবদ্ধ করেন ৷

রাসুলুল্লাহ্ (সা) সে সময় হেরেম এলাকার বাইরে তাবু খাটান এবং হেরেমে নামায আদায়
করতেন, চুক্তিপত্র সম্পাদন শেষে তিনি কুরবানীর পশু গুলির দিকে এগিয়ে যান এবং পশু জবইি
করেন ৷ তারপর বসে মস্তক মুণ্ডন করেন ৷ আর এ দিন তার মস্তক মুণ্ডনের কার্য সম্পাদন করেন
খারাপ ইবন উমাইয়া ইবন ফযল খুযায়ী ৷ লোকেরা যখন দেখলো যে রাসুলুল্লাহ্ (সা) কুরবানী
করে মস্তক মুণ্ডন করেছেন তখন তারা সকলেও উঠে যান এবং কুরবানী ও মস্তক মুণ্ডন করেন ৷
ইবন ইসহাক আবদুল্লাহ ইবন আবুনাজীহ ইবন আব্বাস সুত্রে বর্ণনা করেন যে, হুদায়বিয়ার
দিন কিছু লোক হলফ করেন অর্থাৎ মাথা মুণ্ডন করেন আর কিছু লোক কসর করেন অর্থাৎ চুল
ছোট করে ছুাটেন ৷ তখন রাসুলুল্লাহ্ (সা) দৃআ করলেন ও


তারা মস্তক মুণ্ডন করেছে তাদের প্রতি আল্লাহ্ রহম করুন, সাহাবীগণ বললেন, ইয়া
রাসুলাল্লাহ্ (সা) ! মাথা ছুটিইিকারীদের কী হবে ? তখন তিনি বললেন, আল্লাহ মস্তক মুণ্ডনকারীদের
প্রতি রহম করুন ! আল্লাহ মস্তক মুণ্ডনকারীদের প্রতি রহম করুন ! ! আল্লাহ মস্তক মুণ্ডনকারীদের
প্রতি রহম করুন!!! চতৃর্থবার বললো, চুল হীটাইকারীদের প্রতিও আল্লাহ্ রহম করুন ৷ তখন
সাহাবীরা জিজ্ঞাসা করলেন ইয়া রাসুলড়াল্লাহ্! তাহলে আপনি কেন মস্তক মুণ্ডনকড়ারীদের জন্য
রহমতের দুআ পরপর করলেন, চুল কর্তাকােরীদেরকে বাদ দিয়ে ? রাসুল (সা) বললেন : যারা
মস্তক মুণ্ডন করেছে, ইহরাম খোলার ব্যাপারে তাদের মনে কোন রকম সন্দেহ সংশয় ছিল না ৷
আবদুল্লাহ ইবন আবু নাজীহ মুজাহিদ সুত্রে হযরত ইবন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণনা করে যে,
রাসুলুল্লাহ্ (সা) হুদায়বিয়ার বছর কুরবানীর পশুর মধ্যে আবু জাহলের উটও অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন ৷
মাথায় ছিল রৌপাের কুণ্ডলী, তিনি এ কাজ করেন, যাতে কাফিরদের অম্ভর্জুালা সৃষ্টি হয় ৷


পৃষ্ঠা ৩১৭ ঠিক করুন

হুদায়ৰিয়ায় সন্ধি সম্পর্কে এ হল মুহাম্মাদ ইবন ইসহাক (র)-এর বর্ণনা, বৃখারী (র)-এর
বর্ণনায় কোন কোন ক্ষেত্রে জ্যিতা রয়েছে, যা আমরা পরে দেখতে পাবাে ইনশাআল্লাহ! ইমাম
বুখারীর পুর্ণ বর্ণনা আমরা উল্লেখ করবো এবং তাতে সহীহ্ এবং হাসান হাদীছও অন্তর্ভুক্ত করবো ৷
ইনৃশাআল্লাহ্া

ইমাম বুখারী (র) খালিদ ইবন মাখলাদ যায়দ ইবন খালিদ সুত্রে বর্ণনা করে বলেন :

হুদায়ৰিয়ায় বছরে আমরা রাসুলুল্পাহ্ (না)-এর সঙ্গে বের হলাম ৷ সে রাত্রে বৃষ্টি বর্ধিত হয় ৷
রাসুলুল্লাহ্ (সা) ফজরের সালাত আদায় করে আমাদের দিকে মুখ করে বললেন : তোমরা কি
জান, তোমাদের পালনকতা কী বলেছেন ৷ আমরা বললাম আল্লাহ; এবং তার রাসুলই সবচেয়ে
ভাল জানেন ৷ তখন তিনি বলেন, আল্লাহ বলেছেন : আমার বন্দোদ্যে মধ্যে কিছু লোক সকালে
আমার প্ৰতি ঈমানদার হয়েছে আর কিছু হয়েছে আমার প্রতি কাকিং৷ ৷বঈমান ৷ণ্ংতাদেব মধ্যে যারা
বলেছে যে, আল্লা হ্ব রহমত বরকত আর ফসলে বৃষ্টি বর্ধিত হয়েছে তারা আমার প্রতি ঈমানদার
আর নক্ষত্রের প্রতি অবিশ্বাসী ৷ আর যারা বলে যে, অমুক নক্ষত্রের দ্বারা আমাদের উপর বৃষ্টি বর্ষিত
হয়েছে ৷ সে নক্ষত্রে বিশ্বাসী জ্যি আমাতে অবিশ্বাসী ৷ ইমাম বৃখারী (র) তার সহীহ গ্রন্থের
একাধিক স্থানে হাদীছটি উদ্ধৃত করোছা ৷ ইমাম মুসলিমও ইমাম যুহ্রী থেকে বিজ্যি সুত্র হাদীছটি
বর্ণনা করেছেন ৷ ইমাম যুহ্রী (র) থেকে উবায়দুল্লাহ্ ইবন আবদৃল্লাহ্র মারফত হযরত আবু
হ্বায়রাও হাদীছটি বর্ণনা করেহ্নেষ্ক ৷

ইমাম বুখারী (র) উবায়দৃল্পাহ্ ইবন মুসা বারা সুত্রে বর্ণনা করে বলেন ৷ তােমরাতো
মক্কা বিজয়বেইি আসল বিজয় মনে করে থাক আর ফতেহ মকা’ অবশ্যই বিজয় ছিল ৷ তবে
আমরা হুদায়ৰিয়ায় সব্ধির দিন বায়আতৃর রিদওয়ানকে বিজয় মনে করি ৷ নবী করীম (না)-এর
সঙ্গে আমরা ১৪০০ সঙ্গী ছিলাম আর হুদায়ৰিয়ায় ছিল একটা কুয়া ৷ আমরা কুয়৷ থেকে পানি
উত্তোলন করি এবং এমন কি তাতে এক ফোটা পানিও অবশিষ্ট ছিল না ৷ নবী করীম (সা) এ
সম্পর্কে জানতে পেরে সেখানে আগমন করেন এবং কুয়ার কিনারায় বসে পানির একটা পাত্র
আনতে বলেন এবং সে পানি দিয়ে উযু করেন কুলি করেন তার দুআ করেন ও সে পানি কুয়ায়
ফেলে দেন ৷ এরপর কিছুক্ষণ আমরা অপেক্ষা করলাম ৷ তারপর কুয়৷ আমাদের এবং আমাদের
সওয়ারীর জন্য প্রয়েজ্জীয় পানি সরবরাহ করলো ৷ ইমাম বুখরীি এককভাবে হাদীছটি বর্ণনা করেন্ ৷ ৷

আর ইবনইসহাক আল্লাহ্তাআলার বাণী ৰুশ্ ড্রুাট্রুৰু;শু সম্পর্কে
বলেন যে, এখানে ৷ ৰু,ও এে তথা নিকট বিজয় অর্থ হুদায়ৰিয়ার সর্ষি ৷ আর যুহ্রী (র)
বলেন, ইসলামে ইতিপুর্বে এর চেয়ে বড় বিজয় সাধিত হয়নি ৷ যেখানে দৃদল মুগােমুখী হতো
সেখানেই যুদ্ধ হতো সন্ধি স্থাপিত হলে অস্ত্র সংরক্ষিত হলো লোকেরা শান্তি ও নিরাপত্তা লাভ
করলো ৷ একে অপরের সঙ্গে কথাবার্তা বলে ৷ মেলামেশা করে ৷ পরস্পরে আলাপ-আলোচনা
লেতে থাকে যাদের জ্ঞান-বুদ্ধি ছিল তারা ইসলাম সম্পর্কে আলোচনা শুনে ইসলাম গ্রহণ ক্যতো ৷
ইতিপুর্বে যেসব লোক ইসলাম গ্রহণ করেছিল তাদ্যে৷ সম পরিমাণ বা ততোধিক ব্যক্তি এ দৃবছরে
ইসলাম গ্রহণ করে ৷ যুহ্রী (র) যা বলেছেন তার প্রমাণ এই যে, হযরত জাবির (বা) এর উক্তি
মতে রাসুলুল্লাহ্ (সা) ১৪শ সাহাবীর সঙ্গে হুদায়ৰিয়ায় উদ্দেশ্যে বের হন ৷ পক্ষাম্ভরে দুবহ্ব পর
মক্কা বিজয় কালে তিনি ১০ হাজার সঙ্গী নিয়ে বের হন ৷



Execution time: 0.03 render + 0.01 s transfer.