Login | Register

আল বিদায়া ওয়ান্নিহায়া - খন্ড ৪

পৃষ্ঠা ২৯২ ঠিক করুন

তারা প্রতিরোধ করে নিজেদের এবং দেশের মযদাি, এমন তরবারি দ্বারা, যা কর্তন করে তার
নিচের মন্তব্যসমুহ ৷

বদরের সন্তানদের জিজ্ঞাসা কর যখন তাদের সাক্ষাৎ পাও, ভাইয়েরা যুদ্ধের দিন কেমন
আচরণ করেছিল ৷

যখন তেষ্মেরা বের হয়ে তখন যার সঙ্গে দেখা হবে সত্য বলবে, তারে মজলিসে নিজেদের
কথা গোপন করবে না ই

আর তোমরা বলবে আমরা বেরিয়ে এসেছি হতভম্ব ব্যাব্রের পাঞ্জা থেকে , আমাদের বক্ষে
আছে উষ্ণতা যাবত যুদ্ধ না করে ৷

বনু মুস্তালিক যুদ্ধ

ইমাম বুখারী (র) বনু মুস্তালিক ষুদ্ধকে পাবৃওয়া মুরাটসী বলেন ৰু আর মুহাম্মাদ ইবন ইসহাক
(র) বলেন : ৬ষ্ট হিজরী সনে এ যুদ্ধ সংঘটিত হয় গ্ পক্ষাত্তরে মুসা ইবন উক্বার মতে চতৃ
হিজরী সনে এ যুদ্ধ সংঘটিত হয় ৷ নুমান ইবন রাশিদ (র) যুহ্রী (রা সুত্রে বর্ণনা করে বলেন যে ,
গাষ্ওয়া মুরাইসীতে ইফ্ক কথা অপবাদের ঘটনা ঘটে ৷ অনুরুপভাবে ইমাম বুখারী (র) মুসা
ইবন উকবার মাগাযীর বরাত দিয়ে বলেন যে , এ যুদ্ধ চতুর্থ হিজয়ী সনে সংঘটিত হয়েছে ৷ তিনি
মুসা ইবন উক্বা এবং উরওয়া (র) সুত্রে একথাও উল্লেখ করেন যে, পঞ্চম হিজয়ী সনের শাবান
সালে এ যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে ( আর ওয়াকিদী বলেন, ৫ম হিজরীর ২রা শাবান সংঘটিত এ যুদ্ধে
রাসুল করীম (সা)-এর সঙ্গে সাতশ’ সাহাৰী ছিলেন ৷ পক্ষান্তরে মুহাম্মাদ ইবন ইসহাক বলেন :
যু-কারাদ এর ঘটনার পর রাসুলুল্লাহ্ (সা) মদীনায় জুমাদাল উখরা এবং রজব মাসের কয়েক দিন
অবস্থান করেন এবং ৬ষ্ঠ হিজরী সনের শাবান মাসে বনু খুযাআর শাখা গোত্র বনুমুস্তালিক এর
যুদ্ধে প্রবৃত্ত হন ৷ এ সময় আবু যর গিফারী (রা) মতাত্তরে নুমায়ন ইবন আবদুল্লাহ লায়হীকে
মদীনায় আমির নিযুক্ত করে যান ৰ্ মুহাম্মাদ ইবন ইসহাক (র) আসিম ইবন উমর ইবন কাতাদা
প্রমুখ সুত্রে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ্ (না) জানতে পারেন যে, হারিছ ইবন আবু যিরারের
নেতৃত্বে বনুমুস্তালিক রাসুলুল্লাহ্ (সা)-এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য সমবেত হচ্ছে ম্র এ আবুষিরার
ছিল পরবর্তীক্রিাস্তুলর উম্মু ল মুমিনীন জুয়ইিরিয়া এ খবর পেয়ে রাসুল (সা) তাদের উদ্দেশ্যে যাত্রা
করেন এবং মুরাইসী কুয়োর নিকট তাদের মুখোমুখী হন ৰু স্থানটি ছিল কুদায়দ এর দিক থেকে
সষ্কৃডু উপকুলে : উত্তর পক্ষে লড়াই হয় ৷ আল্পাহ্ তাআলা বনুমুস্তালিককে পন্নাজ্যি করেন তাদের
অনেকে নিহত হয় ৰ্ রাসুলুল্লাহ্ (না) তাদের ন্নী-পুত্র কন্যাদের বন্দী করে এনে গনীমতরুপে বন্টন
করেন ধ্ ওয়াকিদী বলেন : রাসুলুল্লাহ্ (সা) হিজরী ৫ম সালে ২রা শাবান ৭ শত সাহাবীর একটা
বাহিনী নিয়ে বনুমুস্তালিক অভিমুখে রওয়ানা হন ৷ এরা হ্নিম্ বনুমুলেক্লজের মিত্র ( তাদের নিকট
পৌছে রাসুল (সা) মুহাজ্যিদের পতাকা হযরত আবু বকর সিদ্দীক মতআের অস্ফোর ইবন
ইয়াসিরের হাতে এবং আনসারদের পতাকা সাদ ইবন উবদাের হাতে ন্যস্ত করেন ৷ এরপর উমর
ইবনুল খত্তোবকে জনগণের মধ্যে এ মর্মে ঘোষণা প্রচার করার নির্দেশ দেন যে , তোমরা সকলে
লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ্ অর্থাং আল্লাহ্ ছাড়া কোন মাবুদ সেই একথা স্বীকার করে নাও; এতে তোমরা
নিজেদের জানমাল সুরক্ষিত হয়ে ৷ তারা এন্টা মেনে নিতে অস্বীকার করলে তীর নিক্ষেপ শুরু হয়ে


পৃষ্ঠা ২৯৩ ঠিক করুন


যায় ৷ এরপর রাসুল (সা)-এর নির্দেশে সকলে একযোগে হামলা চালালে তাদের এক ব্যক্তিও গা
ঢাকা দিতে সক্ষম হয়নি ৷ তাদের দশজন নিহত এবং অবশিষ্ট সকলে বন্দী হয় এবং মুসলমানদের
মধ্যে একজন ছাড়া আর কেউ শহীদ হননি ৷

বুখারী ও মুসলিমে আবদুল্লাহ ইবন আওন বর্ণিত হাদীছে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেন : আমি
যুদ্ধের পুর্বে ইসলামের দিকে আহ্বানের ৰিফল সম্পর্কে জানতে চেয়ে নাফিকে পত্র লিখি; তিনি
বলেন : রাসুলুল্পাহ্ (সা) যখন বনুমুন্তালিকে হামলা করেন, তথ্যা তারা পশু পালকে পানি পান
করাবার কাজে কুয়ার কাছে ছিল ৷ রাসুলুল্লড়াহ্ (না) তাদের যােদ্ধাদেরকে হত্যা করেন এবং
অন্যদেরকে বন্দী করেন ৷ আমার যতদুর মনে পড়ে তিনি সেদিন একথাও বলেছেন যে , রাসুলুল্লাহ্
(সা) সেদিন জুয়াইরিয়া বিনতৃল হারিছকেও বন্দী করেছিলেন, নাফি বলেন যে , আবদুল্লাহ ইবন
উমর আমাকে এরুপ বলেছেন যে, সে বাহিনীতে তিনি নিজেও ছিলেন ৷ ইবন ইসহাক বলেন : এ
যুদ্ধে একজন মুসলমান শহীদ হন; তার নাম ছিল হিশাম ইবন ত্ন্াবাবা জনৈক আনসারী শক্রপক্ষের
লোক মনে করে ভুলক্রমে তাকে হত্যা করেন ৷

ইবন ইসহাক উল্লেখ করেন যে তার ভাই মিকয়াস ইবন সাবাবা ইসলাম প্রকাশ করে মক্কা
থেকে আগমন করে রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর নিকট তার ভাইয়ের দিয়াত তথা রক্তপণ দাবী করেন ৷
কারণ, ভুলবশতঃ তাকে হত্যা করা হয়েছিল ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) তাকে দিয়াত দান করেন ৷ এরপর
স্বল্পকাল মদীনায় অবস্থান করে তার ভাইয়ের হত্যাকারীকে হত্যা করে মুরতাদ হয়ে মক্কায়
প্রত্যাবর্তন করে ৷ এ সম্পর্কে যে নিম্নোক্ত কবিতা রচনা করে :

&

মর্মার্থ : মনের তৃপ্তি এই যে, সে নিচু ভুমিতে রাত্রিকালে আসন গ্রহণ করেছে যে, তার
ঘাড়ের রক্ত সিক্ত করছিল তার বস্ত্রকে ৷

তার মৃত্যুর পুর্বে মনের চিন্তা আমাকে তিরস্কার করছিল আর বারণ করছিল নরম শয্যায় শয়ন
করতে ৷

আমি তাকে অতিক্রম করেছি আর তুমিতাে দেখতে পাচ্ছ; আর আমি পেয়েছি আমার
প্ৰতিশোধ আর আমি ছিলাম মুর্তির দিকে সবাগ্রে প্রত্যাবর্ত্যকাবী ৷

আমি তার নিকট থেকে বদলা মিয়েছি ফিহরের আর বনু নাজ্জারের দুর্গ ফারি এর মালিকের
নিকট থেকে অর্জন করেছি তার রক্তপণও ৷

আমি বলি যে , এ মিক্য়াস ছিল সে চার ব্যক্তির অন্যতম, মক্কা বিজয়ের দিন রাসুলুল্লাহ্ (সা)
যাদেরকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন তারা যদি কাবার গিলাফ ধরে ঝুলে থাকে তবু ৷

ইবন ইসহাক (র) বলেন : লোকেরা তখনো সে কুপের নিকট অবস্থান করছিল ৷ এ সময়
কিছু লোকের আগমন ঘটে (পানি নেয়ার জন্য) উমর ইবনুল খাত্তাবের সঙ্গে তার মজুর জাহ্জাহ্ও


পৃষ্ঠা ২৯৪ ঠিক করুন

ছিল ৷ জাহজাহ ইবন মাসৃউদ ঘোড়ার রশি টেনে চলেছিল ৷ এসময় জাহজাহ গিফারী এবং সিনান
ইবন ওবর জুহানীর সংঘর্ষ বাধে ৷ সিনান ইবন ওবর জুহানী ছিলেন বনুআওফ ইবনুল খায্রাজের
মিত্র ৷ উভয়ের মধ্যে সংঘাত শুরু হলে জুহানী চিৎকার দিয়ে বলে : হে আনসার দল আর
জাহজাহ চিৎকার দিয়ে বলে হে মুহাজির দল! এতে আবদুল্লাহ ইবন উবাই ইবন সালুল ক্রুদ্ধ রুষ্ট
ও ক্ষিপ্ত হয় ৷ তার সঙ্গে ছিল তার দলের কিছু লোক ৷ এদের মধ্যে ;যায়দ ইবন আরকাম নামে
জনৈক তরুণও ছিলেন ৷ ইবনে উবাই বলে ওঠে ! এরা এমন কাণ্ড করছে! এরা আমাদের মধ্যে
ঘৃণার উদ্রেক করছে আর আমাদের শহরে আমাদের উপর সংথ্যাধিকদ্বু৷ বলে যাহির করছে ৷
আল্লাহর কসম ! আমাদের এবং কুরাইশী বিদেশীদের দৃষ্টান্ত এমন, যেমন আরবী ভাষায় বলা হয় :
ছুন্ৰু;টু
কুকুরকে খইিয়ে-দাইরে পুষ্ট কর তারপর সে তোমাকে সাবাড় করবে ৷ সে আরো বলে :

আল্লাহর কসম ! আমরা মদীনায় প্রত্যাবর্তন করলে তথাকার সম্মানিতরা হীন তৃচ্ছদেরকে
অবশ্যই বহিস্কার করবে ৷

অতঃপর সে তার দলের উপস্থিত লোকদের প্রতি লক্ষ্য করে বলে :

“এ কান্ডতো তোমরা নিজেরা সৃষ্টি করেছ ৷ তোমরা নিজেদের শহরে তাদেরকে স্থান দান
করেছ, নিজেদের ধন-সম্পদ তাদেরকে বণ্টন করে দিরেছ ৷ আল্লাহ্র কসম , ণ্তামাদের হাতে যা
আছে তোমরা তা সংরক্ষণ করে নিলে তারা তোমাদের দেশ ছেড়ে অন্য দেশে চলে যাবে ৷ যায়দ
ইবন আরকাম এ কথাগুলো শুনে রাসুল (সা)-কে তা অবহিত করেন ৷ এসময় রাসুলুল্লাহ্ (সা)-
এর নিকট হযরত উমর ইবনুল খাত্তাবও উপস্থিত ছিলেন ৷ তখন হযরত উমর (রা) বললেন :
আব্বাদ ইবন বিশৃরকে আদেশ করুন সে যেন তাকে হত্যা করে ৷ তখন রাসুল (সা) বললেন :

“হে উমর এটা কেমন করে হতে পড়ার ? লোকে বলাবলি করবে মুহাম্মাদ তার সঙ্গি-
সাথীদেরকে হত্যা করা শুরু করছে ৷ এটা ঠিক নয় ৷ তবে এখন আমি প্রস্থানের নির্দেশ দিচ্ছি,
এটা ছিল এমন সময় সাধারণত রাসুলুল্লাহ্ (সা) সে সময় সফর করতেন না ৷ তাই লোকেরা
প্রস্থান করে ৷ আবদৃল্লাহ্ ইবন উবাই ইবন সালুল জানতে পারে যে, যায়দ ইবন আরকাম যা কিছু
শুনেছিলেন বা রাসুলুল্লাহ্ (সা)-কে অবহিত করেছেন ৷ তখন সে শপথ করে বলেন যে, সে
আপনাকে যে কথা বলেছেন তেমন কথা আমি বলিনি ৷ সে ছিল স্বজাতির মধ্যে সঘ্রহ্ন্ত এবং
নেতৃস্থানীয় ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) এর নিকট আনসারদের মধ্যেকার যারা উপস্থিত ছিলেন তারা বললেন
৪ ইয়া রাসুলাল্লাহ্! হতে পারে বালকটি বলতে গিয়ে ভুল করে ফেলেছে ৷ সোকটি যা বলেছে তা
হয়ত স্মৃতিতে ধরতে পারেনি ৷ একথাগুলো তারা বলেছিলেন দয়াপরবশ হয়ে এবং তার মুখ
রক্ষার উদ্দেশ্যে! রাসুলুল্লাহ্ (সা) সুস্থির হয়ে যখন রওয়ানা হলেন তখন রাস্তায় উসায়দ ইবন
হুযইির এর সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয় ৷ সালাম দিয়ে তিনি আরব করলেন : ইয়া রাসুলাল্লাহ্! ৷ আপনি
অসময় রওয়ানা করেছেন, এমন অসময়তো সাধারণত আপনি রওয়ানা করেন না ৷ তখন রাসুলুল্পাহ্
(সা) তাকে বললেন : তোমরা কি জানা নেই যে, তোমাদের সঙ্গীটি কী বলেছে ? তিনি জিজ্ঞেস


পৃষ্ঠা ২৯৫ ঠিক করুন

করলেন, ইয়া রাসুলড়াল্লাহ্! কোন সঙ্গী ? বললেন, আবদুল্লাহ ইবন উবইি ৷ তিনি জানতে চাইলেন,
কী বলেছে সে ? বললেন : তার ধারণা সে মদীনায় প্রত্যাবর্তন করলে সম্মানিতরা তথা থেকে
হীনদেরকে বের করে দেবে ৷ তিনি বললেন : ইয়া রাসুলাল্লাহ্ ! আপনি ইচ্ছা করলে তাকে বের
করে দিতে পারেন ৷ আল্লাহর শপথ ! আপনি হলেন সম্মানিত আর সে হলো হীন ৷ অতঃপর তিনি
আরয করলেন : ইয়া রাসুলাল্লাহ্! তার সঙ্গে কোমল আচরণ করুন ৷ আল্লাহর কসম, আল্লাহ
আপনাকে এমন সময় আমাদের নিকট উপস্থিত করেছেন যখন তার জাতি তাকে মুকুট পরাবার
আয়োজন করেছিল ৷ তার ধারণা, আপনি তার বাদশাহী ছিনিয়ে নিয়েছেন ৷ তারপর বাসুলুল্লড়াহ্ (সা)
লোকজন নিয়ে চলতে থাকেন সকাল থেকে সন্ধ্য৷ , আবার সন্ধাড়া থেকে সকাল পর্যন্ত পুরো
দিবা-রাত্র এবং পরদিন দুপুরে সুর্য তাপ ভীব্রে না হওয়া পর্যন্ত ৷ তারপর তিনি লোকজনকে নিয়ে
অবতরণ করেন এবং মাটির স্পার্ণ লাভ মাত্র তারা ঘুমিয়ে পড়েন ৷ অবশ্য তিনি এটা করেন এজন্য
যাতে লোকেরা আবদুল্লাহ ইবন উবাই-এর গতকালকের ঘটনা নিয়ে আলোচনায় লিপ্ত না হয়ে
পড়েন ৷ তারপর রাসুলুল্লাহ্ (সা) হিজাযের পথ ধরে অগ্রসর হতে থাকেন এবং নাকী এর কিছুটা
উচুতে অবস্থিত বুকআ কুপের নিকট অবস্থান গ্রহণ করেন ৷ রাসুল (সা) যখন সেখানে অবস্থান
গ্রহণ করেন তখন প্রচন্ড বায়ু প্রবাহিত হয় ৷ এতে ণ্লাকজনের কষ্ট হয় এবং তারা ভীত হয়ে
পড়লে তিনি (সা) বললেন :

“ তোমরা এতে ভীত হয়ে না; কাফিরদের একজন বড় নেতার মৃত্যুতে এ ঝঞা বায়ু প্রবাহিত
হয়েছে ৷ মদীনা উপনীত হয়ে তারা জানতে পারেন যে, বনু কায়নুকা এর অন্যতম নেতা রিফাআ
ইবন যায়দ ইবন তাবুত এ দিন মৃত্যুমুখে পতিত হয়েছে ৷ সে ছিল অন্যতম প্রধান ইহুদী নেতা
এবং মুনাফিকদের আশ্রয় দাতা ৷ মুসা ইবন উকবা এবং ওয়াকিদী (র) এরুপই বর্ণনা করেছেন ৷
আর ইমাম মুসলিম (র) ও আমাশ সুত্রে জাবির থেকে অনুরুপ বর্ণনা করেছেন ৷ তবে তিনি মৃত্যু
বরণকারী মুনাফিকের নাম উল্লেখ করেননি ৷ তিনি এতটুকু উল্লেখ করেছেন যে, নবী করীম
(সা ) এর কোন এক সফর কালে তীরে বায়ু প্রবাহিত হলে তিনি বলেছিলেন : জনৈক ঘুনাফিকের
মৃত্যুতে এ বায়ু প্রবাহিত হয়েছে ৷ আমরা মদীনায় উপনীত হয়ে অন্যতম প্রধান মুনাফিকের মৃত্যু
সম্পর্কে অবগত হই ৷ মুহাম্মাদ ইবন ইসহাক বর্ণনা করেন যে, আবদুল্লাহ ইবন উবাই এবং অনুরুপ
মুনড়াফিক প্রসঙ্গে সুরা মুনাফিকুন নাযিল হলে রাসুলুল্লাহ্ (সা) যায়দ ইবন আরকামের কানে ধরে
বলেন যে এ হচ্ছে যে ব্যক্তি, যে আল্লাহর খাজির যা কর্ণে শ্রবণ করেছে তা-ই বর্ণনা করেছে ৷
আমি বলি, এ বিষয়ে আমাদের তাফসীর গ্রন্থে আমরা বিস্তারিত আলোচনা করেছি ৷ এখানে তার
পুনঃউল্লেখ নিম্প্রয়ােজন এবং যায়দ ইবন আরকামের মাধ্যমে বর্ণিত এ হাদীছের সুত্র সম্পর্কেও
আমরা সেখানে আলোচনা করেছি ৷ সমস্ত প্রশংসা ও স্তব-ন্তুতি আল্লাহর জন্য ৷ আগ্রহী পাঠক
সেখানে দেখে নিতে পারেন ৷ মুহাম্মাদ ইবন ইসহাক (র) আসিম ইবন উমর ইবন কাতাদা সুত্রে
বর্ণনা করেন যে, আবদুল্লাহ ইবন উবাই ইবন সালুলের পুত্র আবদুল্লাহ (বা) রাসুল (না)-এর
দরবারে হাযির হয়ে আরয করলেন ও

ইয়া রাসুলাল্লাহ ! (আমার পিতা) আবদুল্লাহ ইবন উবইি আপনাকে যে কষ্ট দিয়েছে ৷ আমি
জানতে পারলাম যে, সে জন্য আপনি তাকে হত্যা করতে মনস্থু করেছেন ৷ যদি তাই হয় তবে


পৃষ্ঠা ২৯৬ ঠিক করুন

আপনি আমাকে নির্দেশ দিন, আমি আপনার সম্মুখে তার মস্তক হাযিব করবো আল্লাহ কলম!

খাঘৃরাজ গোত্র (ভাল করেই) আসে যে তাদের মধ্যে পিার প্রতি আমার চেয়ে বেশী ৷শ্রদ্ধাশীল
কোন ব্যক্তি নেই ৷ আমার আশংকা হচ্ছে আপনি আমি ছাড়া অপর কোন ব্যক্তিকে তাকে হত্য’ণ্
করার নির্দেশ দিলে আর সে ব্যক্তি তাকে হত্যা করবে ৷ আমার পিতার হভ্যাকারীকে আমি
যমীনের বুকে চলাফেরা করতে দেখে তাকে হত্যা করবো ৷ আর এভাবে একজন কাফির এর
বদলড়ায় একজন মু’মিনকে হত্যা করে আমি জাহান্নামী হবো অন্তত আমার এমন অবস্থা হতে
আপনি দেবেন না ৷

তার এ নিবেদনের জবাবে রাসুলুল্লাহ্ (সা) বলেন :


না বরং আমরা তার সঙ্গে কোমল আচরণ করবো এবং সে যত ন আমা;দর সঙ্গে অবস্থান
করে আমরা তার সঙ্গে সদাচার করবো ৷ এরপর যখনই কোন ঘটনা ঘটার্দ্রতা, তার জাতির
সােকেরাই তাকে শাসাতো, হুমকি দিত এবং উমা প্রকাশ করতো ৷ তাদের এ অবস্থা জান্তে
পেরে ৱাসুলুল্লাহ্ (সা) হযরত উমর ইবনুল খাত্তাবকে বললেন ১০

হে উমর ! কী মনে হয় দ্রু আল্লাহর কলম, সে দিন তুমি বলেছিলে সেদিন আমি যদি তাকে
হত্যা করতাম তবে অনেকেই নাক সিটকাং তা, আজ যদি তাকে হত্যা করা র নির্দেশ দেই তবে
অবশ্যই তাকে হত্যা করবে ৷ তখন হযর৩ তউমর ইবনুল খাত্তাব (রা) বললেন :

আল্লাহর কলম, আমি জানতাম যে, আমার কথার চেয়ে রাসুল (না)-এর কথা অনেক
বরকতময় ৷ ইকরামা ও টুবৃন যায়দ প্রমুখ উল্লেখ করেন যে, ৩দীয় পুত্র আবদুল্পহ (রা) মদীনায়
একটি স০ কীর্ণ গলিতে তা আবদুল্লাহ ইবন উবাই ইবন সালুল এর সম্মুখে দাড়িয়ে বলেন ৷

দাড়ান রাসুলুল্লাহ্ ভেতরে প্রবেশের অনুমতি না দেয়া পর্যন্ত আপনি মদীনায় প্রবেশ করতে
পারবেন না ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) অনুমতি দান করলে৩ তার তিনি তাকে পথ ছেড়ে দেন এর :সে
মদীনায় প্রবেশ করে ৷

ইবন ইসহাক (র) বলেন : এ যুদ্ধে বনু মুস্তালিকের বেশ কিছু লোক আহত ও বন্দী হয় ৷

আলী ইবন আবুত৷ ৷লিব (বা) তাদের দৃব্যক্তি মালিক এবংত ৷র পুত্রকে হত্যা করেন ৷ ইবন হিশাম

(র) বলেনং এ যুদ্ধে মুসলমানদের সংকেত ধ্বনি ছিল এ ৷ ;০৷ প্রু টু;ষ্টুশু ;

ইবন ইসহাক আরো বলে ৷ যে, এ যুদ্ধে রাসুলুল্লাহ্ (সা) তাদের অনেককে রক্ষা করে
মুসলমানদের মধ্যে বণ্টন করেন ৷

বুখারী (র) কুতায়বা ইবন সাঈদ ইবন মুহাইরীয সুত্রে বর্ণনা করেন যে, আমি
মসজিদে প্রবেশ করে আবু সাঈদ থুদরীকে দেখতে পেয়ে তার পাশে বসলাম ৷ আয্ল সম্পর্কে
তাকে জিজ্ঞেস করলে আবু সাঈদ (রা ) বললেন : বনুমুস্তালিক যুদ্ধে আমরা রাসুল (না)-এর সঙ্গে
বের হলাম ৷ আমরা আরবদের অনেককে বন্দী করলাম ৷ নারীর প্রতি আমাদের আসক্তি আগে
এবং নারী বিহীন জীবন যাপন করা আমাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে ৷ তাই আযল করাই আমরা
পসন্দ করলাম ৷ আমরা বললাম, রাসুলুল্লাহ্ (সা) তো আমাদের সম্মুখেই আছেন; তাকে জাি, জ্ঞস
না করেই আমরা আযল করবো ? তাই এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন :


পৃষ্ঠা ২৯৭ ঠিক করুন


তোমরা আনৃল না করলেও কিছু যায় আসে না ৷ কিয়ামত পর্যন্ত ও প্রাণী আলবাব আছে সে
অবশ্যই আসবে ৷ কেউ তার আগমন ঠেকাতে পারবে না ৷ তিনি অনুরুপই বর্ণনা করেছেন ৷

ইবন ইসহাক (র) বলেন : সেদিন যাদেরকে বন্দী করা হয় তাদের মধ্যে জুয়াইরিয়া বিনৃত
হ্ারিছ ইবন আবুযিরার)ও ছিলেন ৷ মুহাম্মাদ ইবন জা“ফর আইশা (রা) সুত্রে বর্ণনা করেন :

রাসুলুল্লাহ্ (সা) বনু মুন্তালিকের বন্দীদেরকে বণ্টন করলে জ্বয়ইিরিয়া বিনতুল হারিছ সাবিত
ইবন কায়স ইবন শাম্মাস অথবা তার চাচাত ভাইয়ের ভাগে পড়েন ন্ জুয়াইরিয়া নিজের জন্য
মুক্তিপণ নির্ধারণ করিয়ে নেয় ৷ আর ইনি ছিলেন এক লাবণ্যময়ী মহিলা ৷ যে কেউ তাকে দেখলে
মনে দাগ কাটতো ৷ তিনি রাসুলুলুল্লাহ্ (না)-এর নিকট আগমন করে মুক্তিপণ পরিশ্যেধে তার
সাহায্য কামনা করেন ৷ আইশা (রা) বলেন : আল্লাহ্ কসম ! আমার ছুজরার দ্বারে তাকে দেখে
আমি পসন্দ করতে পারিনি ৷ আমি বুঝতে পারলাম যে, আমি তার (সৌন্দর্যের) যা দেখতে পাচ্ছি
রাসুল (মা) ও তা অচিরেই দেখতে পাবেন ৷ তিনি বাসৃলুল্লাহ্র (না) সম্মুখে উপস্থিত হয়ে আরয
করলেন ;

ইয়া রাসুলাল্লাহ্! আমি জুয়াইরিয়া বিনৃত হারিছ ইবন আবু যিরার ৷ আমার পিতা সম্প্রদায়ের
নেতা ৷ আমি এমন বিপদে পতিত হয়েছি , যা আপনার কাছে গোপন নেই ৷ আমি ছাবিত ইবন
কায়স ইবন শাম্মাস অথবা তার চাচাত ভাইয়ের হিস্যায় পড়ি এবং নিজেকে মুক্ত করার জন্য তার
সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছি ৷ চুক্তির দায় শোধ করার জন্য আপনার নিকট সাহায্য চাইতে এসেছি ৷
জবাবে রাসুলুল্লাহ্ (সা) বললেন : তোমার জন্য এর চেয়ে ভাল কিছু করা হলে ? তিনি বললেন :
ইয়া রাসুলাল্লাহ্ত্ত তা কী? রাসুলুল্লাহ্ (না) বললেন : আমি তোমার মুক্তিপণ পরিশোধ করে
তোমাকে বিবাহ করবো ৷ তিনি বললেন : ইয়া রাসুলাল্লাহ্ ! আমি কবুল করলাম ৷ রাবী হযরত
আইশা (রা) বলেন : লোকজনের নিকট খবর পৌছে গেল যে, রাসুলুল্লাহ্ (সা) , জুয়াইরিয়া বিনৃত
হারিছকে বিবাহ করেছেন ৷ তখন লোকেরা বলে : এরা হল রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর শ্বশুর গোষ্ঠী
তখন তারা আনন্দিত হয়ে ঐ বংশের দাসদেরকে মুক্ত করে দেন ৷ রাবী হযরত আইশা (রা) বলেন
চ রাসুলুল্লাহ্ (সা) কর্তৃক জুয়াইরিয়াকে বিয়ে করার ফলে তাদের মধ্যে বনু মুন্তালিকের একশ
পরিবার আযাদ হয়ে যায় ৷ জানামতে জুয়ইিরিয়ার চাইতে নিজের সম্প্রদায়ের জন্য বেশী বরকতময়
আর কোন নারী আছে বলে আমার জানা নেই ৷

অতঃপর ইবন ইসহাক (র) বনু মুস্তালিক যুদ্ধ প্রসঙ্গে ইফ্ক তথা অপবাদ আরোপের
বিস্তারিত ঘটনা বর্ণনা করেন ৷ অনুরুপভাবে ইমাম বুখারী (র) প্রমুখ মনীষীও ইফ্কের ঘটনা বর্ণনা
করেন ৷ তাফসীর গ্রন্থে সুরা নুর-এর তাফ্সীর প্রসঙ্গে এ বর্ণনার সকল সনদের বিস্তারিত আলোচনা
করা হয়েছে ৷ সেখানে লেখা যেতে পারে ৷

ওয়াকিদী হারাম সুত্রে উরওয়া থেকে বর্ণনা করেছেন : হযরত জুয়াইরিয়ড়া বলেন যে,
নবী করীম (না)-এর আগমনের তিন দিন পুর্বে আমি স্বপ্নে দেখি যে, যেন চন্দ্র ইয়াছরিব থেকে

এসে আমার কোলে পতিত হয়েছে ৷ এ বিষয়ে কোন মানুষকে অবহিত করা আমি পসন্দ করিনি ৷

৩৮

পৃষ্ঠা ২৯৮ ঠিক করুন

অবশেষে রাসুলুল্লাহ্ (সা) আগমন করলেন ৷ আমরা যখন বন্দী হলাম তখন স্বপ্নের ব্যাখ্যার
আকাগ্রা জাগ্রত হয় ৷ হযরত জুয়াইরিয়া বলেন £ রাসুলুল্লাহ্ (সা) আমাকে মুক্ত করে বিবাহ
করেন, আল্লাহর কসম ! রাসুলুল্লাহ্ (সা)-এর সঙ্গে আমার সম্প্রদায় সম্পর্কে আমি কোন কথা
বলিনি ৷ মুসলমানরা নিজেরাই তাদেরকে আযাদ করেছেন ৷ আমার চাচাতো বোনের এক দাসীর
মাধ্যমে আমি এ বিষয়ে জানতে পেয়েছি ৷ সে আমাকে এ খবর দিলে আমি আল্লাহর শুকরিয়া
আদায় করি ৷ ওয়াকিদী বলেন : রাসুলুল্লাহ্ (সা) জুয়াইরিয়ার মহর হিসাবে বনুমুস্তালিকের ৪০ জন
কে মুক্ত করেন ৷ মুসা ইবন উকবা বনু মুস্তালিক সুত্রে উল্লেখ করেন যে, তার পিতা তার খোজ
নেন এবং মুক্তিপণ দিয়ে তাকে মুক্ত করেন ৷ তারপর রাসুলুল্লাহ্ (সা) তাকে বিয়ে করার প্রস্তাব
দিলে তার পিতা তাকে বাসুলুল্পাহ্ (সা)-এর নিকট বিবাহ দেন ৷

হযরত আইশা (না)-এর প্রতি অপৰাদ আরোপের ঘটনা

মুহাম্মাদ ইবন ইসহাক (র) অপবাদের ঘটনা সম্পর্কে বলেন, ংইব ন ইসহাক যুহরী সুত্রে
আলকামা — উবায়দৃল্লাহ্ইবন উতবা এর বরাতে বর্ণনা করেন যে, এরা সকলেই আমাকে এ
ঘটনা সম্পর্কে জানিয়েছেন তবে তাদের মধ্যকার কিছু লোক ঘটনা বেশী স্মরণ রেখেছেন ৷ আর
লোকেরা আমাকে যা জানিয়েছেন তার সমস্ত আমি একত্র করেছি ৷ ইবন ইসহাক ইয়াহ্ইয়া ইবন
আব্বাদ সুত্রে আইশা (রা) থেকে এর আবদুল্লাহ্ ইবন আবু বকর উমরা বিনৃত আবদুর
রহমান অইিশা সুত্রে এবং তিনি নিজের সম্পর্কে বর্ণনা করেন যে, অপৰাদ রটনাকাবীরা এ ব্যাপারে
যা বলার বলেছে ৷ এ ঘটনা বর্ণনায় সকলেই অন্তর্ভুক্ত আছেন তাদের কেউ কেউ এমন বর্ণনা
দিয়েছেন যা অন্যরা বর্ণনা করেননি ৷ আর এরা সকলেই নির্ভরযোগ্য এবং সকলেই হযরত আইশা
থেকে যা কিছু শুন্যেছন তড়া-ই বর্ণনা করেছেন ৷ হযরত আইশা (রা ) বলেন : রাসুলুল্লাহ্
(সা)সফরে গমনের অভিপ্রায় করলে (স্বভাবতই) তিনি ত্রীগণের মধ্যে লটারী করতেন ৷ এতে যার
নাম আসভাে , তাকে সঙ্গে নিয়ে তিনি সফরে বের হতেন ৷ বনু মুস্তালিক যুদ্ধে বের হওয়ার সময়
ও তিনি সেই ব্যবস্থা অবলম্বন করেন ৷ এতে আমার নাম উঠে ৷ ফলে রাসুলুল্লাহ্ (সা) আমাকে
সঙ্গে নিয়ে বের হন ৷ হযরত আইশা (রা) বলেন : তখনকার দিনে নারীরা স্বল্প আহার করতেন ৷
ফলে যেদভুড়ি বৃদ্ধি দ্বারা নারীরা মোটা সোটা না হয়ে বরং হাল্কা হতেন ৷ আমার বাহন প্রস্তুত হলে
আমি হাওদায় বসে পড়ি ৷ এরপর আমার উটের চালকরা আগমন করলে তারা আমার হাওদা নীচ
দিয়ে ধরে উটের পিঠে রাখে এবং হাওদাকে উটের পিঠে সওয়ার করায় ৷ হাওদা রশি দিয়ে করে
বাধার পর তারা রওয়ড়ানা করতো ৷ হযরত আইশা (বা) বলেন : এ সফর শেষে বাসুলুল্লাহ্ (সা)
মদীনায় দিকে বওয়ানা করেন ৷ মদীনায় কাছে এসে একটা মনযিলে সকলে অবস্থান করেন এবং
রাত্রের কিছু অংশ সেখানে কাটান ৷ তারপর ঘোষক লোকদের মধ্যে ঘোষণা প্রচার করলে
সকলেই বওয়ানা হন ৷ আমি প্রাকৃতিক প্রয়োজন বাইরে গিয়েছিলাম ৷ আমার গলায় ছিল ঝিনুকের
হার ৷ আমি যখন প্রাকৃতিক প্রয়োজন সেরে অবসর হই তখন আমার অজান্তে হারটি আমার গলা
থেকে পড়ে যায় ৷ আমি টেরই পাইনি ৷ আমি অবতরণস্থলে ফিরে এসে গলায় হাত দিয়ে দেখি
হার নেই ৷ এসময় লোকেরা বাহন যােগে রওয়ড়ানা হতে উদ্যত হয় ৷ যে স্থানে আমি হার ফেলে
এসেছিলাম ৷ আমি সেখানে ফিরে যাই এবং হারটি খুজে পাই ৷



Execution time: 0.17 render + 0.02 s transfer.