Login | Register

আল বিদায়া ওয়ান্নিহায়া - খন্ড ৪

পৃষ্ঠা ২৮১ ঠিক করুন



বনু লিহইয়ান যদি অপেক্ষা করতো
তাহলে তারা নিজেদের অঞ্চলে সত্যপন্থী
দলের সঙ্গে না যাতে প্রুবৃল্ডে হতো ৷
অনতিবিলন্বে তারা এমন দলের সঙ্গে
ৎঘাতে প্রবৃত্ত হতো, যাতে অন্তর হতো ভীত ৷
ৎস কর দলের সম্মুখে, যাদের তরবারি
চাকচিক্য নক্ষত্রের মতো উজ্জ্বল ৷
কিন্তু তাৱাতো ছিল যেন জঙ্গলের বিড়াল,
মানুষ দেখে যারা গর্ভে আশ্রয় নেয় ৷

ঘুকারাদের যুদ্ধ

ইবন ইসহাক (র) বলেন : এরপর রাসুল কৰীম (সা) মদীনায় পদার্পণ করেন এবং মাত্র
কয়েক দিন সেখানে অবস্থান করেন ৷ শেষ পর্যন্ত উয়াইনা ইবন হিসন ফাযারীর নেতৃত্বে একটা
বাহিনী ’গাবা নামক স্থানে নবী করীম (না)-এর দুধেল ইষ্টীর উপর হামলা চালায় ৷ তথায়
রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর পক্ষ থেকে রাখাল রুপে বনু গিফারের জনৈক ব্যক্তি সশ্রীক বসবাস করতো ৷
হামলাকারীরা পুরুষটিকে হত্যা করে এবং উষ্টীগুলোর সঙ্গে তার শ্ৰীকে নিয়ে যায় ৷ ইবন ইসহাক
(র) আসিম ইবন উমর আব্দুল্লাহ্ ইবন কাব ইবন মালিক সুত্রে বর্ণনা করেন যে, সালমা
ইবন আমৃর ইবনুল আক্ওয়া আসলামী এ হামলা সম্পর্কে সর্ব প্রথম জানতে পান ৷ ভীর-ধনুক
নিয়ে তিনি পাবার দিকে বেরিয়ে পড়েন ৷ তার সঙ্গে ছিল তলেহা ইবন উবায়দুল্পাহর ভৃত্যও একটি
ঘোড়া ৷ ঘোড়া তাদেরকে নিয়ে যাচ্ছিল ৷ তিনি ছানিয়াতুল ওদা’ পৌছলে কাফিরদের কিছু অশ্বের
প্রতি তার দৃষ্টি পড়ে ৷ সানা পর্বতের এক কিনারায় পৌছে তিনি চিৎকার করে বলেন, ছুা; ০ ৷ ’,
হে সাবধান ! তারপর তিনি হামলাকারীদের পেছনে ছুটে যান, তিনি ছিলেন নেকড়ের ন্যায়

দ্রুতগামী ৷ তিনি তাদেরকে নাগালে পেয়ে যান ! আর তীর দ্বারা তাদেরকে আঘাত করতে করতে
আবৃত্তি করেনং :


৩৬

পৃষ্ঠা ২৮২ ঠিক করুন

তাদের পাকড়াও কর আর আমি হলাম আকওয়া তনয়,
আর আজকের দিনটা হলো নীচ প্রকৃতির লোকদের বিনাসের দিন ৷

অশ্ববাহিনী তার দিকে ছুটে এলে তিনি পিছিয়ে যেতেন ৷ সুযোগ পেলে তিনি পুনরায় ঘুরে
দীড়াতেন এবং তীর ছুড়তে ছুড়তে পুনরায় পুর্বোক্ত পংক্তি আবৃত্তি করবেন ৷

ইবন ইসহাক বলেন, তাদের কেউ একজন বলে উঠে; সে কি সারা দিন ধরে আমাদের উপর
হামলা চালাৰেন ? ইবন ইসহাক বলেনঃ ইবনুল আকওয়া এর আহ্বান শুান রাসুল করীম (সা)
মদীনায় বিপদ সংকেত দেন : বিপদ ! বি পদ ! ! তা শুনে মুসলিম ঘোড়সওয়হ্বররা তার নিকট চলে
আসেন ৷ সর্ব প্রথম রাসুলের কাছে পৌছেন মিকদাদ ইবনৃল আসওয়াদ ৷ তারপর আব্বাদ ইবন
বিশৃর , সাদ ইবন যায়দ এবং উসায়দ ইবন যহীর ৷ তার ব্যাপারে সন্দেহ আছে আরো পৌছেন
উক্কাশা ইবন মিহসান, বনু আমাদের মুহারিয ইবন নায্লা , বনু সালমার আবু কাবাহা হারিছ ইবন
রিবৃঈ এবং বনু সুরাইকের আবু আয়্যাশ উবায়দ ইবন যায়দ ইবন সা মিত ৷ তিনি আরো বলেন,
রাসুল করীম (না)-এর সমীপে তারা একত্র হলে সাদ ইবন যায়দকে তিনি তাদের আমীর নিযুক্ত
করে বললেন : দুশমনের খোজে বের হও; আমিও সদলবলে তোমাদের সঙ্গে যোগ দেবাে ৷

বনী যুরায়কের একাধিক ব্যক্তি থেকে আমি জানতে পাই যে নবী করীম (সা) আবুআয়্যাশকে
বলেছিলেন : হে আবুআয়্যাশ তুমি যদি তোমার ঘোড়াটি তোমার চাইতে দক্ষ অশ্বারােহীকে দান
করতে ! আর সে দুশমনের পেছনে ছুটতো (তাহলে কতইনা ভাল হতো ) ৷ আবু আয়্যাশ বলেন;
তখন আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ্৷ আমি সবচেয়ে দক্ষ ঘোড়সওয়ার ৷ এরপর আমি ঘোড়া
ছুটালাম ৷ আল্লাহর কসম করে বলছি, আমি ৪০ গজও এগুতে পারিনি ঘোড়া আমাকে নিচে ফেলে
দেয় ৷ এতে আমি বিস্মিত হই ৷ বনুযুরায়কের কিছু লোক মনে করে যে, রাসুল করীম (সা) আবু
আয়্যাশের ঘোড়াটা মুআয ইবন মাইদ অথবা আইস ইবন মাইল ইবন কায়স ইবন খালদাকে
দিয়েছিলেন ৷ আর ইনি ছিলেন অষ্টম ঘোড়সওয়ার ৷ আবার কেউ কেউ সালামা ইবন আকওয়াকে
অষ্টম ঘোড়সওয়ার মনে করেন এবং বলেন যে, অশ্ব পৃষ্ঠ থেকে যাকে ফেলে দেয়, যে উসায়দ
ইবন য়হীর ৷ আসল ব্যাপার কি আর কে অষ্টম ছিলেন তা আল্পা ইে ভাল জানেন ৷ তিনি বলেন, ঐ
দিন সালামা ইবনুল আকওয়া ঘোড়ার সওয়ার ছিলেন না ৷ তিনি পদব্রজে ছুটে গিয়েই দুশমনের
সঙ্গে মিলিত হন ৷ ইবন ইসহাক (র) বলেন, ঘোড়সওয়াররা বের হলেন ৷ এবং ছুটে গিয়ে
দৃশমনের নাগাল পেলেন ৷ আসিম ইবন উমর ইবন কাতাদা সুত্রে তিনি বলেন যে , সর্ব প্রথম যে
ঘোড় সওয়ার ছুটে গিয়ে দৃশমনের সঙ্গে মিলিত হন তিনি ছিলেন মুহরিম ইবন নাঘৃলা ৷ আর তাকে
আখরাম নামে অভিহিত করা হতো অথবা তাকে কুমায়র বলা হতো ৷ যে ঘোড়ার নওয়াব হয়ে
তিনি গমন করেন, তা ছিল মাহমুদ ইবন মাসৃলামার ৷ আর এই ঘোড়াকে বলা হতো যুল লুম্মা ৷
মুহ্রিম দৃশমনের কাছে পৌছে তাদেরকে বললেন : হে বনুলুকায়্যার লোকেরা ! তোমরা অপেক্ষা
কর; পেছন দিক থেকে মুহাজির আনসাররা এসে তোমাদের সাথে মিলিত হোন ৷ ইবন ইসহাক
বলেন, একথা শোনার পর দৃশমনদের একজন হামলা চালিয়ে তাকে হত্যা করে ৷ আর ঘোড়া
ছুটিয়ে চলে যায় , তাকে পাকড়াও করা যায়নি ৷ নিহত ব্যক্তির ঘোড়াটি ছুটে যায় এবং বনু আবদুল
আশহড়ালের বাগানে গিয়ে থামে ৷ এটাই ছিল মদীনায় তাদের আস্তাবল ৷ ইবন ইসহাক বলেন, যে


পৃষ্ঠা ২৮৩ ঠিক করুন

দিন মুসলমানদের মধ্যে তিনি ব্যতীত আর কেউ নিহত হননি ৷ অবশ্য ইবন হিশাম বলেন যে ,
একাধিক জ্ঞানী ব্যক্তি আমাকে বলেন যে, সেদিন তার সঙ্গে ওয়াক্কাস ইবন মুজযান মৃছলাজীও
নিহত হন ৷ ইবন ইসহাক আবদুল্লাহ ইবন কাব ইবন মালিক সুত্রে বলেন যে, মুহরিয় উক্কাশা ইবন
মিহসানের ঘোড়ার সওয়ার ছিলেন, যাকে বলা হতো জানাহ ৷ মুহরিয নিহত হন এবং জামাহ
নামক ঘোড়াটি ছিনতাই করা হয় ৷ আল্লাহই ভাল জানেন ৷ তিনি আরো বলেন যে, ঘোড় সওয়ার
দুশমনের সঙ্গে মিলিত হলে আবু কাতাদ৷ হাবীব ইবন উয়াইনাকে ভ্রচ্তা৷ করে তাকে চাদর দ্বারা
ঢেকে রাখেন এবং এরপর লোকজনের সঙ্গে যোগ দেন ৷ তারপর রাসুল করীম (সা )
মুসলমানদের সঙ্গে এসে যোগ দেন ৷ ইবন ইিশাম বলেন যে, ঐ সময় রাসুল করীম (না) ইবন
উম্মে মাকতৃমকে মদীনায় প্রশাসক নিযুক্ত করেন এ সময় লোকজন হাবীরকে আবুক তা৷দার
চাদরে আবৃত দেখে ইন্ন৷ ৷লিল্লাহ্ পাঠ করেন ৷ তারা বলেন, আবু কাত ৷স ৷ নিহত হয়েছেন ৷ তখন
রাসুল করীম (সা) বললেন না, সে আবু কাতাদ৷ নয় বরং সে:তা ৷ভ্রা৷বু কাতাদার হাতে নিহত
ব্যক্তি ৷ আবুকাতাদাত তার উপর চাদর স্থাপন করেছে যাতে জানা যা- ভ্রু৷ যে, সেই তার হত্যাকারী ৷
তিনি আরো বলেন যে, উক্কা শা ইবন মিহছা ৷ন আওবার এবং তার পুত্র আমরকে একই উংষ্ট্ৰর উপর
সওয়ার পান এবং উতয়কে তীর নিক্ষেপে বধ করেন ৷ তারা তাদের কিছু উট নিয়ে যেতে ৩সমর্থ
হয় ৷ তিনি আরো ৷বলেন যে, রাসুলুল্লাহ্ চলতে চলতে ৩াযিক ৷রাদ এর একটা পাহাড়ে গিয়ে অবস্থান
গ্রহণ করেন এবং সাহাবীগণ ৷ও তার সঙ্গে সেখানে গিয়ে মিলিত ৩হন ৷ তিনি সেখানে এক দিন এক
রাত অবস্থান করেন ৷ সালাম৷ ইবনুল আকওয়া তাকে বললেন, ইয়া রাসৃলাল্লাহ্৷ আপনি যদি
আমাকে একশ’জন লোক সাথে দিয়ে পাঠান তবে আমি বাকী উটগুলােও নিয়ে আসতে পারতাম ৷
আর রাতে ধরে ওদের লোকদেরকেও ধরে আনতাম ৷ আমার কাছে যে বর্ণনা এসেছে যে মতে
তখন নবী করীম (সা) বললেন :

এখন তারা গাভ্রফান পােত্রে পৌছে গেছে এবং তাদের যেন্ হ্মানদারী করা হচ্ছে ৷ তারপর
রাসুলুল্লাহ সাল্ল ৷ল্লাহ আলায়হি ওয়াসাল্লাম তার সঙ্গী সাথীদের মধ্যে গনীমতের মাল বণ্টন করেন
এবং প্রতি একশজন লোকের মধ্যে অনেকগুলো উট বন্টন করেন এবং সেখানে কয়েকদিন
অবস্থান শেষে মদীনায় উদ্দেশ্যে প্রস্থান করেন ৷

তিনি আরো বলেন যে, গিফার গোত্রের এক নারী রাসুল করীম (সা) এর উটনীতে আরোহণ
করে মদীনায় আগমন করে ৷ সেই মহিলাটি রাসল (সা) কে এই খবরটি দেন ৷ মহিলাটি বলেন,
ইয়৷ রাসুলা ল্লাহ৷ আমি মানত করছি যে, আল্লাহ আমাকে নাজাত দিলে মানে নিরাপদে পৌছালে
আমি উটনীটি যবাই করবো ৷ মহিলার কথা শুনে রাসুলে মাকবুল (সা ) হেসে বললেন : তুমি
উটনীটিকে কতাহুনা নিকৃষ্ট প্ৰতিদান দিলে ৷ কারণ, আল্লাহ্ তোমাকে তার উপর সওয়ার করান
এবং তার সাহায্যে তোমাকে নাজাত দিলেন, আর এত সবের পর তুমি তাকে জবাই করার মানত
করলে ? জেনে রেখো, আল্লাহর নাফরমানীতে কোন মানত নেই ৷ তুমি যে জিনিসের মালিক নও,
সে ব্যাপারেও মানত করার অবকাশ ৷নেই ৷ সেটিতো আমার উটনীণ্ডু ৷ আল্ল৷ হ্র বরকত নিয়ে তুমি
স্বজনদের মধ্যে ফিরে যাও ! ইবন ইসহ ক (র) বলেন :০ এ ব্যাপারে আবুযুবায়র মাকী সুত্রে হাসান
বসরীর বরাতে হাদীছ বর্ণিত আছে ৷ ইবন ইসহাক (র ) সনদসহ কাহিনীটি এভাবে বর্ণনা করেছেন ৷


পৃষ্ঠা ২৮৪ ঠিক করুন

পক্ষান্তরে ইমাম বুখারী (ব) হুদায়বিয়ার পরে এবং খায়বরের আগে ঘুকাবাদ যুদ্ধের উল্লেখ
করেছেন ৷ এ যুদ্ধ সং টিত হয় খায়বর যুদ্ধের তিন দিন পুর্বে; যাতে দুশমনরা রাসুল করীম (সা)
-এর উটনী লুষ্ঠন করে নিয়ে গিয়েজ্যি ৷ ইমাম বুখারী (র) কুতায়বা ইবন সাঈদ (র)
সালামা ইবনুল আকওয়া সুত্রে বর্ণনা করেন :

তিনি বলেন, প্রথম আযানের (ফজরের) আগে আমি (ঘর থেকে) বের ইে ৷ তখন রাসুল
করীম (না)-এর উটনীগুলো ছিল ষী কারাদ-এর চারণ ভুমিতে ৷ পথে আবদুর রহমান ইবন
আওফের এক ভৃত্যের সাথে আমার সাক্ষাৎ হয় ৷ তিনি বললেন, রাসুল করীম (না)-এর
উটনীগুলো লুট করে নিয়ে গেছে ৷ আমি জিজ্ঞেস করলাম ; কে নিয়ে গেছে ? তিনি বললেন,
গাতফান গোত্রের লোকেরা ৷ তিনি বলেন : এরপর আমি ংাঠুা ; ৷ ৰু, বলে তিন দফা চিৎকার
করি ৷ আমার চিৎকারের শব্দ মদীনায় সকলকে শোনাই ৷ তারপর আমি ছুটে যাই এবং তাদের
নাপাল পেয়ে যইি ৷ তারা তখন পানি পান করছিল ৷ আমি তাদেরদিকে তীর নিক্ষেপ করলাম আর
আমি ছিলাম দক্ষ ভীরন্দায ৷ এ সময় আমি বলছিলাম :

আমি হলাম আকওয়া তনয়, আর আজকের দিনটি হলো নীচ লোকদের বিনাশের দিন ৷ এ
কথাগুলো আমি সুর করে গানের মতো আবৃত্তি করহ্নিাড়াম ৷ শেষ পর্যন্ত আমি তাদের নিকট থেকে
উটনীগুলো উদ্ধার করতে সক্ষম হই ৷ এছাড়াও আমি তাদের নিকট থেকে ৩০ থানা চাদরও
ছিনিয়ে আমি ৷ তিনি বলেন, তারপর রাসুল করীম (সা) এলেন এবং লোকজনও উপস্থিত হলো ৷
তখন আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্পাহ! আমিভাে তাদেরকে পানি পান করতে বাধা দিয়েছি ৷ তারা
পিপাসার্ত ৷ তখনই তাদের প্রতি লোক প্রেরণ করান ৷ তখন রাসুল করীম (সা) বললেন :

হে ইবনুল আকওয়া, যখন তুমি বিজয়ী হয়েছে৷ তখন উদার হও ৷ তারপর আমরা ফিরে
আমি এবং রাসুল করীম (সা) আমাকে তার নিজের উটনীতে সহযাত্রী করলেন ৷ অবশেষে আমরা
মদীনা পৌছলাম ৷ অনুরুপভাবে মুসলিম কুতায়বা সুত্রে হাদীছটি বর্ণনা করেছেন ৷ ইমাম বুখারী

(র) ও আবুআসিম সুহালী আবুউবায়দার আযাদ করা গোলাম সালামা সুত্রে হাদীছটি বর্ণনা
করেছেন ৷
ইমাম আহমদ (র) হাশিম ইবন কাসিম সালামা ইবনুল আকওয়া সুত্রে বর্ণনা করেন

হুদায়বিয়ার যমানায় আমরা রাসুল করীম (না)-এর সাথে মদীনায় আগমন করি ৷ একদিন আমি
এবং রাসুল করীম (না)-এর ভৃত্য রাবাহ রাসুলের সওয়ারী নিয়ে (মদীনায়) বাইরে গমন করি ৷
এবং আমি তালহা ইবন উবায়দুল্লাহ্ ঘোড়া নিয়ে বের হই ৷ উদ্দেশ্য ছিল উটনীর সঙ্গে ঘোড়াকেও
পানি পান করানো ও মাঠে চরানাে ৷ অন্ধকার থাকতেই আবদুর রহমান ইবন উয়ায়না রাসুল করীম
(না)-এর উটের উপর হামলা চালায় ৷ সে উটের রাখালকে হত্যা করে এবং সে-ও তার সঙ্গে
অন্যরা উটগুলাে হীকিয়ে নিয়ে যায় ৷ আমি তখন বললাম, হে রাবাহ! ঘোড়ার পিঠে চড় এবং
তালহার সঙ্গে মিলিত হয়ে রাসুল করীম (সা)-কে খবর দাও যে, তার পশুগুলাে লুট হয়ে গেছে ৷


পৃষ্ঠা ২৮৫ ঠিক করুন

রাবী বলেন, আমি একটা উচ্চস্থানে আরোহণ করে মদীনায় দিকে মুখ করে তিনবার ধ্বনি দেই,

ষ্টুা;া; পু ৷ এরপর শত্রুরা পিছু ছুটে যাই তরবারী আর তীর ধনুকসহ আমি তীর নিক্ষেপ
করতে থাকি আর তাদের বাহনকে আহত করতে থাকি ৷ ঐ সময় সেখান পর্যাপ্ত পরিমাণ গাছপালা
জ্জি ৷ কোন ঘোড় সওয়ার আমার দিকে ছুটে এলে আমি গাছের ন্ণ্হুমড়ােলে আত্মগােপন করতাম ৷
তারপর আবার তীর ছুড়তাম ৷ আমার দিকে কোন ঘোড় সওয়ার এগিয়ে এলে আমি তাকে তীর
নিক্ষেপে আহত কংতাম ৷ এ সময় আমি আবৃত্তি কবছিলাম :

“আমি হলাম ইবনুল আকওয়া, আজকের দিনটি নীচাশয় লোকদের ধ্বংসের দিন ৷” তিনি

বলেন, আমি শত্রুর কোন লোকের নিকটবর্তী হলে তাকে তীর নিক্ষেপ করতাম , যা তার বাহন
ভেদ করে তার র্কাধ পর্যন্ত পৌছতাে ৷ তখন আমি বলতাম :

৫৯র্স ’
তাকে পাকড়াও কর, আমি হচ্ছি ইবনুল আকওয়া,
আজকের দিনটি তাে নীচ লোকদের ধ্বংসের দিন ৷

যখন আমি বৃক্ষরাজি পরিবেষ্টিত আগুনে থাকতাম, তীর নিক্ষেপ দ্বারা তাদের দেহ বাজেরা
করে ফেলভাম, আবার যখন গিরিপথ সামনে পড়তে! তখন আমি পাহাড়ের চুড়ায় উঠে তাদ্যো
উপর পাথর নিক্ষেপ করতাম ৷ আমার এবং তাদের দশা এমনই ছিল যে, আমি একাধারে তাদের
অনুসরণ করছিলাম আর সুর করে কবিতা আওড়ান্ডিংড়াম ৷ এমনকি রাসুল করীম (না)-এর
সবগুলো উটকেই আমি আমার পেছনে নিয়ে আমি এবং তাদের হাত থেকে ছিনিয়ে নেই ৷
এরপরও আমি অব্যাহত ধারার তাদের প্রতি তীর নিক্ষেপ করে চনলাম ৷ এমন কি তার! বোঝা
হালকা করার মানসে ত্রিশটি বর্শা এবং ত্রিশটি চাদর ফেণে যায় ৷ আর তারা বা কিছু নিক্ষেপ
করতো তার উপর আমি প্রস্তর স্থাপন করতাম এবং রাসুনুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসগ্লোনের
আগমন পথে সেসব কিছু এক্য৷ করে ৱাখতাম ৷

শেষ পর্যন্ত বেলা উঠন্সে উয়ায়না ইবন বদর ফাষারী তাদের সাহায্যার্থে এগিয়ে আসে ৷ তখন
তারা ছিল একটা সংর্কীর্ণণিরিপঃপ ৷ এরপর আমি পাহাড়ে চড়ে তাদের উপরে অবস্থান নেই এ
সময় উয়ায়না কালো : আমি এটা কি দেখছি ৷ তারা কালো : আমরা এমনই এক পরিস্থিতির
সম্মুখীন হয়েছি ৷ ভোর রাত থেকে এখন পর্যন্ত সোকটি আমাদ্যো পিছু ছাড়েনি ৷ আমাদের নিকট
যা কিছু ছিন্ন তার সবই সে হিনিয়ে নিয়ে তার পেছনে রেখে দিয়েছে ৷ তখন উয়ায়না বসে : সে
যদি এটা না দেখত্তো যে, তার পশ্চাৎ থেকে সাহায্য আসছে তাহণে সে তােমাদেরকে ত্যাগ করে
চলে যেতো ৷ তোমাদের কিছু থেকে তাদের সখুখে দাড়াক ৷ তাদের মধ্য থেকে চারজন সৰুধে

এগিয়ে আসে এবং পাহাড়ে আরোহণ করে ৷ আমি তাদেরকে শুনিয়ে ৩নিয়ে বপশাম, তোমরা কি
আমাকে চিনতে প!রছ ? তারা বণশো : কে তুমি ৷ বস্লাম, আমি ইবনুল আকওয়া ৷ সে সভার


পৃষ্ঠা ২৮৬ ঠিক করুন

শপথ, যিনি মুহামাদের চেহারাকে সম্মানিত করেছেন ৷ তোমাদের মধ্যে যে কেউ আমার
পশ্চাদ্ধাবন করবে সে আমাকে পাকড়াও করতে পারবেনা পক্ষাম্ভরে আ ৷মি যার পশ্চাদ্ধাবন করবো
সে আমার হাত থেকে পালাতে পারবে না ৷ তাদের এক ব্যক্তি বললো, হবেওত তা তিনি বলেন
আমি আমার অবস্থানে স্থির থাকলাম ৷ এমন সময় রাসুল করীম (সা ) এর অশ্বারোহীদের প্রতি
আমার নজর পড়ে ৷ গাছের ফাক দিয়ে তারা এগিয়ে আসছিলেন ৷ তাদের মধ্যে সকলের
আংভাগে ছিলেন আখরাম আল আসাদী আর তার পশ্চাতে ছিলেন রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর ঘোড়
সওয়ার আবু কাতাদা ৷ আর তার পেছনে ছিলেন মিকদাদ ইবন আনৰুদ আল-কিন্দী ৷ তখন
ঘুশরিকরা পেছনের দিকে ছুটে পালায় ৷ আমি পাহাড় থেকে নিচে নাে: ৷ আমি এবং আখরামের
ঘোড়ার লাগান ধরি ৷ বলিষ্ক আখরাম! তাদের ব্যাপারে সর্তক থাকবে ৷ আমার আশংকা হয় ৷
তারা তোমাকে হত্যা করবে ৷ তুমি রাসুল করীম এবং তার সাহাৰীহ্ব দ্র আগমন পর্যন্ত একটু
অপেক্ষা কর ৷ তিনি বললেন সালামা ! আল্লাহ তা আ লা এবং শেষ দিনে তোমার যদি ঙ্গমান
থাকে আর তোমার যদি বিশ্বাস হয় যে, জান্নাত-জাহান্নাম সত্য তাহরুণ্৷ আমার আর শাহাদতের
মধ্যন্থলে তুমি অস্তুরায় হয়ে র্দাডিয়ােন৷ ৷

ইবন ইসহাক বলেন : তখন আমি তার ঘোড়ার লাগান ণ্ছড়ে দেই ৷ ফলে তিনি আবদুর
রহমান ইবন উয়ায়নার মুখোমুখী হন ৷ আর আবদুর রহমানও তার প্রতি ফিরে দাড়ায় ৷ উভশ্নে
সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন ৷ আখরাম আবদুর রহমানকে আঘাত করেন এবং আবদুর রহমান তীর
নিক্ষেণে তাকৈ হত্যা করে ৷ এর ফলে আবদুর রহমান আখরামের ঘোড়ার চড়ে বসে ৷ তারপর
আবু কাতাদা আবদুর রহমানের মুখোমুখি এসে দাড়ান, পরস্পরে একে অন্যের উপর আঘাত
হানেন ৷ যে আবুকাতদাের ঘোড়াকে আহত করে ৷ আবু কাতাদা আবদুর রহমানকে হত্যা করেন
এবং আখরামের ঘোড়ার পিঠে সওরার হন ৷

এরপর আমি শত্রুবাহিনীর ন্স্ফোতে ছুটে যাই; এমনকি আমি নবী কল্পীম (সা) এর সাহাবীদের
ঘোড়ার পায়ের ধুলোতেও দেখতে পাচ্ছিলাম না ৷ সুযাস্তের পুর্বে শত্রুর৷ একটা ঘাটিশুত পৌছে,
যেখানে পানি জ্জি ৷ এর নাম ল্লি বু-কারাদ ৷ শত্রুপ্স্ফো সেখানে প্া৷নি পান বল্পতে ঢেয়েছিল ; কিন্তু
পেছন দিক থেকে আমাকে ছুটে আসতে দেখে , তারা পেছনে সরে দাড়ায় এবং সানিয়া যী বির

-এর দিকে মোড় নেয় এবং সেখানেই সুর্য অস্তমিত হয় ৷ এসময় এক ব্যক্তির কাছে গিয়ে আমি
তাকে তীর নিক্ষেপ করে বলি :

৷ গ্লুন্ধুন্৷ ৷ ;প্রু৷ ক্রোঙ্ ৮৯১১
তাকে পাকড়াও করো আর আমি হলাম্ আক্যাে এর পুত্র আর আজকের দিনটি হল নিশ্চয়
লোকদের বিনাশ করার দিন ৷ সে বনল্যে, আকওয়া এর যা তার জন্য ব্লোদৃন করুক ৷ সকালের
সেই আক্ওয়া আমি ;বললাম হা রে নিজের দৃশমন ! ভোরনেলা আমি তাকে তীর নিক্ষেপ
করেছিলাম এবং এরপর আরো একটা তীর ছুড়ি; ফলে তার দেহে দুটি তীর বের হয় ৷ আর তারা
রেখে যায় দুটি ঘোড়া ৷ আমি যে ঘোড়া দুটি হাকিয়ে রাসুল কবীম (না-এর কাছে নিয়ে যাই ৷
পানির যে কুপের কাছ থেকে আমি তাদেরকে উচ্ছেদ করেছিলাম ৷ তিনি সেখানেই অবস্থান
করছিলেন ৷ তর্থোৰুৎ য়ু-কারাহ করার কাছে ৷ তখন নবী কর্বীম্ (মা) ছিলেন গাচশ’ জন সাহাবী


পৃষ্ঠা ২৮৭ ঠিক করুন

পরিবেষ্টিত ৷ আর বিলাল (বা) আমার ফেলে আসা উটের মধ্য থেকে একটা উট যবাই করেন
এবং তিনি রাসুল কয়ীম (না)-এর জন্য উটের কলিজা ও কুজের গোশত ভৃনছিলেন ৷ আমি রাসুল
করীম (না)-এর থেদমতে উপস্থিত হয়ে আরয করলাম; ইয়া রাসুলাল্লাহ্ৰু আমাকে অনুমতি দিন,
আমি আপনার সাহাবীপণের মধ্যে থেকে একশজনকে বাছাই করে নেবাে এবং রাতের অন্ধকারে
আমি কাফিরদেরকে পাকড়াও করবো এবং তাদের মধ্যে একজন গুপ্তচরও অবশিষ্ট থাকবে না ,
আমি তাদের সকলকেই হত্যা করবো ৷ আমার কথা শুনে রাসুল করীম (সা) বললেন : সালামা !
তুমি কি তাই করবে ? আমি বললাম, জী হা ৷ যে সত্তা আপনাকে সম্মানিত করেছেন তার শপথ
করে বলছি ৷ ৰু তে রাসুল করীম (সা) হেসে ফেললেন; এমন কি আগুনের আলোতে আমি তার
মাড়ির দাত দেখতে পেলাম ৷ এরপর তিনি বললেন, গাতফান গোত্রের ভুমিতে এখন তাদের
মেহমানদারী চলছে ৷ তখন পাতফান গোত্রের জনৈক ব্যক্তি উপস্থিত হয়ে বললো : তারা অমুক
গাতফানীর নিকট দিয়ে অতিক্রম করেছে ৷ সে তাদের জন্য উট যবাই করেছে ৷ তারা বসে উটের
চামড়া খসাচ্ছিল এমনি সময় গিয়ে তারা ধুলাবালি উড়তে দেখতে পেয়ে ছেড়ে ছুটে পালায় ৷ ভোর
হলে রাসুল করীম (সা) বললেন : আমাদের ঘোড়সওয়ারদের মধ্যে আবু কাতাদা সর্বোত্তম; আর
পদাতিকদের মধ্যে সবেত্তিম হল সালামা ৷ তাই রাসুল করীম (সা) আমাকে ঘোড়সওয়ার আর
পদাতিক উভয়ের অংশ দান করলেন ৷ তারপর মদীনা প্রত্যাবর্তনকালে তিনি তার নিজের উটনী
আযবার পিঠে আমাকে সহযাত্রী করলেন ৷ যখন আমাদের আর মদীনায় মধ্যে কিছুটা দুরতৃ
অবশিষ্ট জ্জি এবং দোকদ্যে৷ মধ্যে একজন এমনও ল্লি, যে প্রতিযোগিতায় পরাজিত হতো না সে
ডাক দিয়ে বলছিল; কোন প্ৰতািযাগী আছে কি ? মদীনা পর্যন্ত প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়ার মতো
কেউ আছে কি : কথাটা সে বারবার উচ্চারণ করছিল ৷ আর আমি ছিলাম রাসুল করীম (সা)--এর
পেছনের সহযাত্রী ৷ আমি তাকে বললাম : তুমি কি কোন সম্রান্ত ব্যক্তির সম্মান করনা আর কোন
শরীফ ব্যক্তিকে ভয় কর না : সে বললো : রাসুল করীম (সা) ব্যতীত অন্য কাউকে আমি সম্মানও
করি না আর ভয়ও করি না ৷ আমি আরয করলাম : ইয়া রাসুলাল্লাহ্! আপনার প্রতি আমার
পিতা-মাতা বুল্মবান হোন, আপনি আমাকে অনুমতি দিন, আমি তার সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নামবাে ৷
তিনি বললেন : তোমার ইচ্ছা হলে নামভে পার ৷ আমি তাকে বললাম , আমি তোমার দিকে
আসছি ৷ সে সওয়াৰী থেকে লাফিয়ে পড়লো, আর আমিও উটনীর পিছন থেকে লাফিয়ে পজ্ঞাম ৷
এরপর আমি এক বা দুই টিলা পেছনে রইলাম অর্থাৎ দম রাখার জন্য ধীর গতিতে এগুলাম ৷
তারপর দ্রুত ও দৌড়ে গিয়ে তার সঙ্গে মিলিত হলাম এবং তার দৃ’ স্কন্ধের মধ্যস্থুলে একটা ঘুষি
মেরে রললাম , আল্লাহ্র শপথ আমি তোমাকে হারিয়ে দিয়েছি, অথবা এরকম কোন কথা
বললাম ৷ আমার কথা শুনে সে হেসে বললো : আমিও তো তাই মনে করছি ৷ এভাবে আমরা
মদীনায় গিয়ে গৌছলাম ৷ মুসলিম (র) ইকরিমা ইবন আমার থেকে বিভিন্ন সুত্রে হাদীছটি বর্ণনা
করেছেন ৷ তাতে উল্লেখ আছে যে , আমি তার আগে মদীনা পৌছি এবং তিনদিন অবস্থান করেই
আমরা খায়ব্যারর উদ্দেশ্যে বের হই ৷ এ সুত্রে ইমাম আহমদ (র) থেকেও হাদীছ বর্ণিত আছে ৷
বুখারী এবং বায়হাকী হুদায়বিয়ার পর এবং খারবরের আগে এ যুদ্ধের কথা উল্লেখ করেছেন ৷
ইব ন ইসহ্াকের বর্ণনার তুলনায় এটাই অধিকতর যুক্তিযুক্ত ৷ আল্লাহ্ তাআলইি ভাল জানেন ৷


পৃষ্ঠা ২৮৮ ঠিক করুন

সুতরাং সপ্তম হিজরীর ঘটনাবলীর সঙ্গে তার উল্লেখ করাই হবে সমীচীন ৷ কারণ, সপ্তম হিজরীর
সফর মাসে বারবার যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল ৷ অবশ্য, সে মহিলাটি নবী করীম (সা)-এর উটনীতে
আরোহণ করে রক্ষা পেয়ে তা যবইি করার মানত করেছিল ৷ ইমাম ইবন ইসহাক (র) হাসান
বসরী সুত্রে আবুয যুবায়র এর বরাতে বিচ্ছিন্ন সনদে তা বর্ণনা করেছেন ৷ অবশ্য অন্যান্য সুত্রে
অৰিজ্জি সনদে হাদীছটি বর্ণিত আছে ৷

ইমাম আহমদ (র) আফ্ফান (র) — ইমরান ইবন হুসইিন সুত্রে বর্ণনা করে বলেন যে,
আযবা উটনীটি ছিল বনু আকীলের জনৈক ব্যক্তির ৷ এটি হাব্জীদেরকে নিয়ে দ্রুত গতিতে আগে
আগে ছুটে যেত ৷ সে লোকটাসহ আযবা উটনীকে ধরে আনা হয় ৷ ইমম আহমদ (র) আরো
বলেন যে, ল্যেকটি যখন বাধা ছিল তখন ইমাম আহমদ (র) নবী করীম (সা) তার পাশ দিয়ে
অতিক্রমকালে সােকটি জিজ্ঞাসা করে ৷ হে মুহাম্মাদ ৷ আমাকে এবং যাত্রীদলের অগ্রগামী
বাহনটাকে আপনি ণ্কন আটক ক্যালেন ? রাসুল করীম (সা) এ সময় তার খচ্চরের উপর সওয়ার
হয়ে যাচ্ছিলেন ৷ আর জবাবে তিনি বললেন, আমরা তোমাকে গ্রেফতার করেছি তোমাদের মিত্র
গোত্র ছার্কীফ এর অপরাধের কারণে ৷ তিনি বলেন যে, ছাকীফ গোত্র নবী করীম (সা)-এর দুজন
সাহাবীকে বন্দী করে রেখেছিল ৷ সে তার বক্তব্যে বলেছিল, আমি তাে একজন মুসলমান ৷ রাসুল
করীম (সা) তখন বললেন : তুমি যদি বন্দী হওয়ার আবগ স্বাধীন থাকাকালে এ কথা বলতে
তাহলে তো তুমি সফ্ফাই হতে ৷

এ কথাটি বলে রাসুল কত্রীম (সা) স্থান ত্যাগ করতে উদ্যত হলে সে বললো : হে মুহঙ্গোদা
আমি ক্ষুধার্ত, আমাকে আহার্য দিন ৷ আমি পিপাসার্ত ৷ আমাকে পানি পান করান ৷ তখন নবী বত্রীম
(সা) বললেন : এই তোমার প্রয়োজন ৷ এরপর তিনি পুবেক্তি দুব্যক্তির ফিদিয়া বা বিনিময় স্বরুপ
তাকে মুক্ত করে দিলেন এবং আযুবা উটনীটি নিজের বহ্হনের জন্য রেখে দিলেন ৷ ইমাম আহমদ
(র) আরো বলেন যে, মুশরিকরা যখন মদীনায় রাসুল (সা)এর পণ্ডপালে হামলা চালায় তখন
তার! ঙ্গুষ্ঠিত পশুপালের সঙ্গে আযুবা উটনীও নিবুয় যায় ৷ উপরন্তু তারা একজন মুসলিম মহিলাকেও
ধরে নিয়ে বন্দী করে রাখে ৷ তিনি আরো বলেন যে, তারা কোন মনযিণে অবস্থান করলে
মনযিলের আঙ্গিনায় উটণ্ডালা চারণের জন্য ছেড়ে দিতো ৷ এক রাত্রে সকলে ঘুমিরে পড়লে
মহিণাটি উঠে উটনীটির কাছে মোঃ৷ উটনীটি আওয়ায কাি ৷ মহিলাটি আষ্ৰা নামক উটনীর
কাছেও যায় ৷ এটি ছিল অত্যন্ত অনুগত ও শাস্তুশিষ্ট ৷ মহিণাটি আবৃবার পিঠে সওয়ার হয়, তাকে
মদীনায় দিকে ম্বুটায় এবং মানত করে যে, আল্পাহ্ তারে নিরাপদ পন্তব্যে পৌছালে সে এটিকে
আল্লাহর নামে যৰাই করবে ৷ মদীনায় পৌহগে জানা যায় যে, এটি রাসুল লীেম (না)-এর বহুল
পরিচিত উটনী ৷ মহিণাকে বলা হয় যে, এটি রাসুল করীম (সা )-এর উটনী ৷ তার মানত সম্পর্কে
রাসুল করীম (সা) জানতে পারলেন, অথবা মহিলা নিজেই রাসুল (না)-কে জানালেন তখন তিনি
বললেন : তুমি যে উটনীটিকে নিকুষ্ট প্রতিদান দিলে, অথ্বা তিনি বললেন যে, মহিলাটি তাকে
নিকৃষ্ট প্ৰতিদান কাি ৷ অল্লোহ্তাে সে ত্মীর উপর সওয়ার করিয়ে তাকে মুক্তি দিলেন আর যে মুক্তি
পেয়ে তাকে যৰাই করতে উদ্যত ৷ তারপর তিনি (সা) বললেন : আল্লাহ্র নাযদ্মমানীর ক্ষেত্রে
মানত পুরণ করতে হয় না; আদম সন্তান যে বন্তুর মালিক নয়, সে মোঃ মানত সিদ্ধ হয় না


পৃষ্ঠা ২৮৯ ঠিক করুন

(আর তা পুরণও করতে হয় না) ইমাম মুসলিম (র) আবুর রাবী যাহরানী সুত্রে হস্ফোদ ইবন
যায়দের বরাতে হাদীছটি বর্ণনা করেন ৷

ইবন ইসহাক (র) বলেন : যি-ফারাদ যুদ্ধ সম্পর্কে যে সব কাব্য রচিত হয়েছে, তন্মধ্যে

হাসৃসান ইবন সাবিতের নিম্নোক্ত কবিতাও উল্লেখযেশ্যে :

প্রুপ্রু১ৰুন্প্রু


১ম্ ষ্এণ্১শ্নণ্ স্টো



৷ শ্ব;া
১দ্রে




এেষ্ৰু ণ্ঙুাণ্

মর্মার্থ ও আমার দক্ষিণে কাল যদি আমাদের ঘোড়া ব্যস্ত না থাকতো, তাহলে সে আসতো
তোমাদের নিকট সশস্ত্র শীর্ষ ব্যক্তিবর্গকে পৃষ্ঠে সওয়াৱ করে ৫
আমরা মিকদাদের ঘোড়সওয়ারদের হাতে নস্তে এতে বংশ পরিচয় হীন লোকেরা আনন্দিত
হয়

আমরা ছিলাম আটজন (অশ্বারোহী) আর তারা ছিল বিশাল বাহিনী, যাদেরকে নণ্ডভণ্ড করা
হয়েছে বশার আঘাতে ৷

আমরা এমন সম্প্রদায়ের লোক যারা ত্যি তাদ্যেষ্ক নিকটবর্তী কুলীন অশ্বেৱ লাপাম ধরে তারা
সম্মুখে এগিয়ে যায় ৷

কক্ষনাে না সেসব সওয়ারীদের পাণনকতব্লি শপথ, যারা মিনাৱপথে ণননকাসে সুউচ্চ
পার্বত্য পথ অতিক্রম করে চলে :
এমনকি উন্নত মানের অশ্ব তোমাদের গৃহের আঙ্গিনায়, আর আমরা প্রত্যাবর্তন করবো বব্দিনী
আর সম্ভানদেরকে নিয়ে ৷
৩৭

পৃষ্ঠা ২৯০ ঠিক করুন

ধীরে-সুন্থে চলতে চলতে এক একটি চপল-চঞ্চল অশ্বকে, যা ছুটে যার প্রতিটি লড়ইিয়ের
ময়দানে আর প্রতিটি উপত্যকায় ৷

বিনড়াশ করেছে সেসব অশ্বের পশ্চাদৃদেশকে আর উজ্জ্বল হয়ে দেখা দিয়েছে সেগুলোর
পৃষ্ঠদেশ ; যে দিন সেগুলো চালিত হবে আর নিক্ষেপ করা হবে তীর ৷

অনুরুপভাবে আমাদের কুলীন অশ্বগুলাে বয়সে তরুণ আর যুদ্ধতাে র্তীৰু হয়ে উঠে ভোরের
বাতাসে ৷

আর আমাদের তব্রবারিগুলো লোহার উজ্জ্বলাকে স্পষ্ট করে ৷
লোহার মরিচা দুর করে আর যুদ্ধৎদেহীর শির কর্তন করে ৷

গ্রহণ করেছেন আল্লাহ্ তাদের নিকট থেকে অঙ্গীকার, হাযমের মযদাি রক্ষায় এবং আল্লাহ্র

সন্ত্রম রক্ষায় তারা ছিল নিজ দেশে সুখে-শান্তিতে, এরপর বদলে দািচ্ যু-কারার যুদ্ধের কারণে
অবাধ্যতার চেহারা ৷

ইবন ইসহাক (র) বলেন যে, (এ কবিতাণ্ডালা) শুনে রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর প্ৰতি অগ্রগামী
অশ্বারােহী বাহিনীর আমীর হযরত সাদ ইবন যায়দ (ব) ক্রোধান্বিত হলেন হাসৃসান (ইবন সাধিত)
-এর প্ৰতি এবং হলফ করে বললেন যে, তিনি কখনো হাসৃসানের সঙ্গে কথা বলবেন না ৷ তিনি
বলেন যে, হাসৃসানতো আমার অশ্ব ও অশ্বারোহীদের নিকট গিয়ে সেসবকে মিকদাদের বলে
সাব্যস্ত করেছেন ৷ তখন হাসৃসান তার নিকট ওয়ুরখাহী করেন যে , তিনি নামই কেবল অত্তমিলের
জন্য ব্যবহার করেছেন মিকদাদের ৷ তখন হযরত সাদ ইবন যায়দ (র)এ্যার প্ৰশংসায় হাস্সান
(রা) নিম্নোক্ত কবিতাটি আবৃত্তি করেন :

া১া


তোমরা ধ্যখন সুদৃঢ় ব্যক্তি বা অমুখাপেক্ষী ব্যজ্যি অভিপ্রায় করবে তখন অবশ্যই সাদ (ইবন
যায়দ)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ বল্মবে ৷ কারণ, তাকে দমানাে যায় না ৷

ইবন ইসহাক (র) বলেন যে, তার দ্বারা এটা ঘটেনি, অর্থাৎ তিনি এ ওযর আপত্তি গ্রহণ
করেননি ৷ তখন হাসৃসান যি-করোদের যুদ্ধ সম্পর্কে নিম্নোক্ত কবিতা রচনা করেন :

৷ মোঃ



Execution time: 0.08 render + 0.01 s transfer.