Login | Register

আল বিদায়া ওয়ান্নিহায়া - খন্ড ৪

পৃষ্ঠা ২৫৯ ঠিক করুন

বদর যুদ্ধের দিন তারা ৰিশ্বস্ততা প্রদর্শন করেছে রাসুল (সা)এর সঙ্গে ৷ আর তাদের মাথার
উপরে ঝুলত্যি মৃত্যুর ছায়া আর উজ্জ্বব তরবারী ৷

রাসুল তাদেরকে আদেশ করেন আর তারা সাড়া দেন, সাতাৰুন্ত্র ডাকে, প্রতিটি ব্যাপারে তারা
সকলেই ছিলেন রাসুলের অনুগত এবং বাধ্য ৷

ভয়ে তারা ফিরে যায়নি, শেষ পর্যন্ত তারা নিজেদ্যে৷ দলে মিশে যায় আর নির্ধারিত আয়ুকে
কেবল মৃভ্যুই কর্তন করতে পারে ৷

কারণ তারা নবীজির শাফাআতের আশা পোষণ করে, যখন নৰীরা ছাড়া আর (কান
সু’পারিশকারী থাকবেন না ৷

তাই হে আল্লাহ্র নেক বন্দোরা ! এটইি ছিল আমাদের পরীক্ষা আর আমরা সাড়া দেই আল্লাহ্
সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে ৷ আমাদেরকে মেনে নিতে হবে আল্লাহ্র দ্বন্কুম, আর মৃত্যুতে! অবধারিত ৷

তোমার পাং;নই আমাদের প্রথম পদক্ষেপ , আর আমাদের পশ্চাতে রয়েছে আল্লাহ্র দীনের
তার আমাংদ্যা অ ননকারীরা ৷

আমরা জানি যে, রাজত্ব কর্তৃত্ব কেবলমাত্র আল্লাহ্র , আর আল্লাহ্র সিদ্ধম্ভে অবশ্যই কার্যকরী
হবে ৷ আবল্লোহ্ আবল্লোহ্

আবু রাফি ইয়াহ্রদীর হত্যার ঘটনা

ইবন ইসহাক (র বলেন : খন্দক যুদ্ধে এবং বনু কুরায়যার ঘটনার পর আবু রাফি“ সালাম
ইবন আবুল হুকায়ক ছিল রাসুল (না)-এর বিরুদ্ধে যারা সম্মিলিত বাহিনীকে একত্র করে তাদের
অন্যতম ৷ ণ্ডহুদ যুদ্ধের পুর্বে আওস গোত্রের ণ্লাবেল্পা কাব ইবন আশরাফকে হত্যা করে ৷ তখন
খাবৃরজে পেহ্বত্রের ণ্লাকেরন্ সালাম ইবন আবুল ছ<ন্নায়ককে হত্যা করার জন্য রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর
অনুমতি প্রার্থনা করে ৷ সে অবস্থান করছিল থায়বরে ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) তাদেরকে অনুমতি দান
করেন ৷ ইবন ইসহাক (র) মুহাম্মাদ ইবন যুহরীর সুত্রে আবদৃল্লাহ্ ইবন কাব ইবন মালিক-এর
উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, আল্লাহ্ তাআলা রাসুল (না)-এর নিমিত্ত এমন ব্যবস্থা করে দেন যে,
আনস!রদের দুটি গােত্রই আওস এবং খাবৃরাজ রাসুল (সা)এর সাহায্য সহযোগিতার ব্যাপারে
প্রতািযাগিতা করতো, আণ্ডস গোত্র কোন কার্য সাধন করলে খাঘৃরাজ গোত্রের লোকেরা বলতে! :
আল্পাহ্র কসম! এরা যেন রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর নিকট আমাদের চেয়ে অগ্রগামী না হয়ে যায় ৷
ওদের মত কিছু একটা না করা পর্যন্ত তারা থামতো না ৷ আর বনু খাঘৃরাজের কোন ব্যক্তি ভাল
কিছু করলে আওস গোত্রের লোকেরা অনুরুপ করার সুস্থযাগের অপেক্ষায় থাকতো ৷

ইবন ইসহাক (র) আরো বলেন : রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর সঙ্গে রিদ্বেষ ও শত্রুত৷ পাষণেৱ
অপরাধে আওস ণ্গাত্রের লোকেরা কাব ইবন আশরফোক হত্যা করলে খাষ্রাজ গোত্রের
লোকেরা বলে আল্লাহ্র শপথ, তারা কখনো আমাদেরকে ছাড়িয়ে যেতে পারবে না ৷ কোন লোক
কাব ইবন আশরাফের মতো রাসুল (না)-এর প্ৰতি শক্রচা ও বিদ্বেষ পোষণ করে , সে বিষয়ে
তারা ভাবতে থাকে ৷ এ প্রসঙ্গে তারা খ্যাঃবরে অবস্থানরত ইব ন আবুল হুকায়ক সম্পর্কে আলোচনা
করে ৷ ন্৮ব্লকে হত্যা করার জন্য তারা রাসুল (সা)এর নিকট অনুমতি প্রার্থনা করেন ৷ তিনি


পৃষ্ঠা ২৬০ ঠিক করুন

অনুমতি দান করেন ৷ তদনুযায়ী খাঘৃরাজ গোত্রের বনু সালিমা শাখা থেকে পাচ জন লোক বেরিয়ে
পড়েন ৷ এরা হলেন, আবদ্বপ্লাহ্ ইবন আতীক, মাসৃউদ ইবন সিনান, আবদুল্লাহ ইবন উনাইস; আবু
কাতাদা হন্রিছ ইবন রিবৃঈ এবং আসলাম গোত্র থেকে তাদের মিত্র খিযাঈ ইবন আসলামী ৷ এরা
হত্যার উদ্দেশ্যে বর্হিগত হলে রাসুলুল্লাহ্ (সা) আবদুল্লাহ ইবন আভীকা,ক দল নেতা নিযুক্ত করে
কোন নারী এবং শিশুকে হত্যা করতে নিষেধ করে দেন ৷ তারা যখারীতি বর্হিপত হন এবং
খায়বরে পদার্পন করে রাত্রি বেলা ইবন আবুল হুকায়কের বাড়ীর চৌহদ্দীতে পৌছে সেখানকার
বাসিন্দাদের পমনাপমনের পথ বন্ধ করে দেন ৷ ইবন ইসহাক (র ) বলেন যে, সে ছিল তার ঘরের
উপর তলায় ৷ উপরে আরােহণের খেজুর গাছ নির্মিত সিড়ি ছিল ৷ তারা সিড়ি বোয় উপরে উঠে
অনুমতি চাইলে তার শ্রী বের হয়ে জিজ্ঞাসা করে ৷ কে তোমরা ? তারা বলেন : আমরা আরবের
কতিপয় লোক ৷ আমরা এসেছি খাদ্যের খোজে ৷ সে বললো : এই তো অেমাংদ্য সাহেব,
ভেতরে প্রবেশ করে তার কাছে যাও ৷ আমরা ভেতরে প্রবেশ করলে গেলোঃযাগের আশংকার সে
তেভ্য থেকে দরজা বন্ধ করে দেয় ৷ ইবন ইসহাক (র) বলেন : তা লক্ষ্য করে তার ন্তী চিৎকার
জুড়ে দেয় ৷ আমরা দ্রুত এগিয়ে গিয়ে বিছানায় তার জীবন-লীলা সাঙ্গ করি ৷ আমরা তরবারির
আঘাতে তাকে বধ করেছিলাম ৷ আল্লাহ্র কসম, রাত্রির অন্ধকারে কেবল তার শুভ্র দেহ
পরিলক্ষিত হচ্ছিল তা যেন জ্জি সাদা বঙ্গের রিচুবতী চ!দর ৷ তিনি বলেন, তার ন্তী চিৎকার জুড়ে
দিল ৷ আমাদের কোন ব্যক্তি তলেয়োর উচিয়ে তার দিকে ছুটে যায় ৷ বিন্তু রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর
নিষেধের কথা স্মরণ করে সে হাত গুটিয়ে (নয় ৷ ৱাসুলুল্পাহ্ (না)-এর নিষেধ বাণী না থাকলে
আমরা রাত্রিকালেই তার কাজও সারা করতাম ৷ তিনি বলেন : আমরা তরৰারি দ্বারা তার উপর
হামলা চালাবার পর আবদুল্লাহ ইবন উনাইস তার উদরে তরৰারি স্থাপন করে তা বিদীর্ণ করে
ফেলেন ৷ এ সময় তিনি বলছিলেন ব্যস হয়েছে ৷ বসে হয়েছে ৷ তিনি আরো বলেন যে, আমরা
বেরিয়ে নিচে নেমে আসি ৷ আবদুল্লাহ ইবন আডীক ছিলেন ক্ষীণদৃষ্টি সম্পন্ন ব্যক্তি ৷ তিনি সিড়ি
থেকে পড়ে যান এ ৎ এতে এতে মারাত্মক আঘাত পান ৷ আমরা তাকে বয়ে নিয়ে পানির একটা
নালায় প্রবেশ করি ৷ তারা আগুন প্রজ্জ্বলিত করে চারিদিকে হান্য হয়ে আমাদেরকে খুজতে থাকে ;
তারা নিরাশ হয়ে ফিরে যায় ৷ তারা যখন ফিরে যায় তখন তার প্রাণ যায় যায় দশা ৷ তিনি বলেন,
তখন আমরা বললাম, আমরা কি করে জানবাে যে, আল্লাহ্ব দৃশমন মারা গেছে ৷ তখন আমাদের
মধ্যে একজন বললো, আমি যাচ্ছি, পরিস্থিতি যাচাই করে ণ্তাম্যাদরকে অবহিত করবো ৷ তিনি
বলেন, ণ্লাকটি গিয়ে ণ্লাকজঃনর সাথে মিশে যায় এবং ফিরে এসে আমার যে, আমি তার শ্রী
এবং আরো কিছু লোককে তার আশে পাশে দেখতে পাই ৷ এরা সকলেই কাি ইয়াহ্রদী ৷ তার ব্রীর
হাতে একটি বাতি ছিল ৷ সে নিহত ব্যক্তির চেহারার দিকে তাকিয়ে সমবেত স্পোকজনকে বলতাি
আল্লাহর শপথ! আমি আবদুল্লাহ্ ইবন আভীক এর কণ্ঠস্বর শুনতে পেয়েছি ৷ তারপর আমি নিজের
ধরেণাকে মিথ্যা ঠাউরে মনে মনে বলি : ইবন আভীক এখানে গামা থেকে কেমন করে আসবে ৷
তারপর সে অগ্নসর হয়ে তার চেহরোর দািক তাকিয়ে বলে য়াহ্রদীৰুদঃ উপাস্যের শপথ, সে নিহত
হয়েছে ৷ বর্ণনাকারী বলেন, আমি আমার নিক্কজ্যা ত্তন্যে এর চেয়ে শ্রুতিমধুর কোন কথা শুনিনি ৷
তিনি বলেন, এরপর তিনি আমাদের নিকট আগমন করে আমাদেরকে সংবাদ দিলে আমরা
আমাদের সঙ্গীকে বয়ে নিয়ে রাসুলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট সাক্ষাৎ করতে যাই এবং আল্লাহ্র


পৃষ্ঠা ২৬১ ঠিক করুন

দৃশমনকে হত্যার সুসংবাদ তাকে দেই ৷ তাকে হত্যা কে করেছে এ ব্যাপারে আমাদের মধ্যে
মতবিরোধ দেখা দেয় এবং আমাদের প্রতোকেই তাকে হত্যা করার দাবী করে ৷ ইবন ইসহাক
(র) বলেন, রাসুলুল্লাহ্ (না) বললেন : আমার নিকট তোমাদের তলোয়ার নিয়ে এসো ৷ আমরা
তরবারি হাযির করলে তিনি আবাল্লোহ্ ইবন উনইিসের তলোয়ারের দিকে তাকিয়ে বললেন : আমি
দেখছি এর তরবারিটিই তাকে হত্যা করেছে আর তাতে আহার্যের চিহ্ন রয়েছে ৷ ইবন ইসহাক
(র) বলেন, এ প্রসঙ্গে হাস্সান ইবন ছাবিত নিম্নের কবিতা রচনা করেন :

মোঃ

হে হুকায়কের পুত্র! ওহে আশরফের পুত্র ! সাবাস সে দলকে যাদের দেখা তোমরা পেয়েছো ৷

তারাতাে তোমাদের কাছে গিয়েছিল রাতের বেলা হালকা তরবারি নিয়ে দর্পভরে ৷

গভীর বনের সিৎহের মতো ; শেষ পর্যন্ত তারা আগমন করে তোমাদের দেশের চৌহ্দ্দীতে,

আর তীক্ষ্ণধার তালায়ার দ্বারা সাঙ্গ করে তোমাদের জীবন লীলা ৷

নবীর দীনকে সাহায্য করার উদ্দেশ্যে, যেকোন ভয়ংকর আঘাতকে তৃচ্ছ জ্ঞান করে ৷

মুহাম্মাদ ইবন ইসহাক (র) এ রকমই উল্লেখ করেছেন ৷ ইমাম বৃখারী ইসহাক ইবন নসর
বারা ইবন আষিব সুত্রে বর্ণনা করেন :

আবু রাফি য়াহ্রদীকে হত্যা করার জন্য রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম ছোট্ট একটি
দলকে প্রেরণ করেন ৷ আবদুল্লাহ ইবন আত্তীক রাতের বেলা তার ঘরে প্রবেশ করে ঘুমন্ত অবস্থায়
তাকে হত্যা করেন ৷ ইমাম বৃখারী (র) ইউসুফ ইবন মুসা বারা সুত্রে বর্ণনা করে বলেন :

ইমাম বৃখারী (র) ইউসুফ ইবন মুসা বারা সুত্রে বলেন ; রড়াসুলুল্লাহ্ (সা) কতিপয়
আনসারী ব্যক্তিকে আবুরাফি য়াহ্রদীর প্রতি প্রেরণ করেন এবং আবদুল্লাহ ইবন আতিক (রা)-কে
তাদের আমীর নিযুক্ত করেন ৷ এ লোকটি রাসুল (সা ) কে কষ্ট দিত এবং তীর বিরুদ্ধে
লোকদেরকে প্ররােচিত করতো, হিজাযের একটি দুর্গে সে অবস্থান করতো, তারা যখন দুর্গের
নিকট পৌছেন ৷ তখন সুর্য অস্ত গিয়েছে এবং লোকজন তাদের পশুপাল নিয়ে বাড়ী ফিরেছে ৷
আবদুল্লাহ বললেন : তোমরা এখানেই অবস্থান কর ৷ আমি যাচ্ছি দারােয়ানকে কৌশলে ভুলিয়ে
ভেতরে প্রবেশ করার উপায় বের করা যায় কিনা দেখি ৷ তিনি এগিয়ে যান এবং দরজার কাছে
গিয়ে কাপড় দিয়ে মুখ ঢেকে ফেলেন যেন তিনি প্রস্রাব করার জন্য বসেছেন ৷ ইতোমধ্যে
লোকেরা ভেতরে প্রবেশ করে আর দারোয়ান চিৎকার করে বলে : হে আল্লাহর বান্দা তুমি
ভেতরে প্রবেশ করতে চাইলে প্রবেশ কর ৷ কারণ, আমি দরজা বন্ধ করতে যাচ্ছি, তাই আমি
ভেতরে প্রবেশ করে আত্মগােপন করে থাকি ৷ সকলে ভেতরে প্রবেশ করলে সে দরজা বন্ধ করে
চাবিগুলো এক স্থানে ঝুলিয়ে রাখেন ৷ বর্ণনকােরী বলেন, আমি উঠে দীড়াই এবং চাবিগুলো নিয়ে
দরজা থুলি ৷ আর আবুরাফির বাড়ীতে রাতের বেলা গল্পের আসর জমতে৷ এবং সে বাস করতো


পৃষ্ঠা ২৬২ ঠিক করুন

উপর তলায় ৷ আসরের ণ্,লাকজন বিদায় নিলে আমি উপরে আরোহণ করি এবং একটা একটা
করে দরজা থােলামাত্র ভেতর ৷;থকে বন্ধ করতে থাকি ৷ আমি মনে মনে বনিঃ লোকজন আমার
ব্যাপারে জানতে পারলেও তারা আমার নিকট পৌছার পুর্বেই, আমি তাকে হত্যা করে ফেনবাে ৷

অবন্শ্ ৷ষে আমি তার কাছে পৌছে গেলাম সেছিল একটা অন্ধকারাহে স্বজন পরিৰেষ্টিতা
আমি জানতাম না গৃহের কোথায় যে আছে ৷ আমি আবু র ৷ফি কে তার নাম ধরে ডাক দিলাম ৷ সে
জিজ্ঞাসা করলো, কে ? আমি আওয়ায ত্তানই সেদিকে ছুটে যাই এরখ্ তলেৰুরারা৷র ৷ তাকে
আঘাত করি ৷ আমি ছিলাম বিচলিত ৷ আমার আঘাতে কোন কাজ হলোন৷ ৷ সে চিৎকার দিলে
আমি ঘর থেকে বের হলাম ৷ কিছুক্ষণ বাইরে অবস্থান করে আমি পুনরায় ৷ত্ইতবে প্ারুরশ করি ৷
আমি রললামং আবুবাফি: এটা কিসের আওয়ায! সে রললাে০ ং ৷ট্টতর্লরার ম য়ের জন্য দুর্তোগ,
এক ব্যক্তি ঘরে প্রবেশ করে তরবারি দিয়ে আমাকে আঘাত করেছে রাণ্ান্ বলেন আমি তাকে
সজ্যেরে আঘাত কবি, কিন্তু তাতে ও সে মারা যায়নি ৷ এরপর আমি তররারা ফশ্া৷ রু ৷র পেটে
স্থাপন করি, যা পিঠ পর্বত ভেদ করে যায় ৷ তখন আমি বুঝতে পারলা ৷ যে আমি ণ্>৷ কে হত্যা
করতে পােরছি ৷ এরপর আমি এক এক করে সবগুলো দরজা খুলে কক্ষের সিড়ি পর্যন্ত পীছি, ৷
আমি সিড়িতে পা স্থাপন করি ৷ আমি ধারণা করলাম যে, আমি শেষ প্রান্ত পর্যন্ত পৌছেছি ৷ র্চাদর্নী
রাতে সিড়ি থেকে পড়ে যাই এবং এর ফলে আমার পায়ের নলা ভেঙ্গে যায় ৷ আমি পাগড়ি দিয়ে
পা বেধে নেই ৷ আমি ইাটতে ছুাটতে সিড়িাত পৌছে সেখানে বসে পান্ষ্ট্র ; আমি মনে মনে বলি,
তার হত্যা সম্পর্কে নিশ্চিত না হওয়া পর্বত আমি এখান থেকে আজ রা£ত বের হবােন৷ ৷ ণ্ভারে
মােরণ ডাক দিলে মৃত্যু স বাদ দানকারী দেয়ালে আরোহণ করে ঘোষণা দেয় যে, আমি
হিজাযবাসীদের সাহায্যকারী আবু রাবি চ মারা যাওয়ার কথা ঘোষণা করাছ কথা শুনে আমি
আমার বন্ধুদের নিকট গিয়ে তাদেরকে বলি, রক্ষা পেয়েছি ৷ আল্লাহ্৩ ত৷ আলা আবু রাফি কে ধ্বংস
করেছেন ৷ আমি নবী (সা) এর নিকটগ্ গিয়ে তাকে গোটা ইতিবৃত্ত অবহিত করলে তিনি বা নন
তোমার পা বাড়াও ৷ আমি প৷ বড়ো লে৩ তিনি তাতে হাত বুলান ৷ এতে আমার মনে হলো যেন পারে
কোন কষ্টই ছিল না ৷

ইমাম বুখারী ৷ র) আহমদ ইবন উসমান ৷ আবু ইসহাক সুত্রে অনুরুপ হাদীহু বর্ণনা করেন ৷
এতে বলা হয়েছে :

ইমাম বুখারী (য়) বার৷ সুত্রে বর্ণনা করেন, রাসুলুল্পাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসারাম একদল
লোকসহ আবদুল্লাহ ইবন উতবা এবং আবদুল্লাহ ইবন আভীককে আবু রাফি এর প্রতি প্রেরণ
করেন ৷ তীরা অগ্রসর হয়ে দুর্গ পর্যন্ত পৌছেন ৷ তখন আবদুল্লাহ ইবন আভীক তাদেরকে
বললেনঃ তোমরা এখানে অবস্থান কর , আমি গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবো ৷ তদনুষায়ী আমি
ভেতরে প্রবেশ করার ফন্দি আটি ৷ এ সময় তাদের একটা গাধ্৷ থাে য়া যায় ৷ তার৷ ম৷ লো নিয়ে
গাধার খোজে বের হয় ৷ আমার আশংকা হলো, তারা আমাকে চিনে ফেলতে পারে ৷ তাই আমি
মস্তক আবৃত করে বসে পড়ি, যেন আমি প্রাকৃতিক প্রয়োজন পুরণ করার জন্য বসেছি আর কি
তখন দারোয়ান বললোং যে ভেতরে প্রবেশ করতে চায়, প্রবেশ করুক ৷ দরজা বন্ধ করার
আগেই তাকে প্রবেশ করতে হবে ৷ তাই আমি ভেতরে প্রবেশ করে দুর্গের দরজার নিকটে গাধার


পৃষ্ঠা ২৬৩ ঠিক করুন

আস্তাবলে লুকিয়ে থাকি ৷ দুর্গের লোকেরা আবুরাফি’,এর নিকটে আহার করে এবং রাতের কিছু
সময় অবধি গল্পগুজর করে ৷ তারপর তারা নিজ নিজ গৃহে ফিরে যায় ৷ যখন কোলাহল থেমে
গেল এবং আমি কোন সাড়াপব্দ শুনতে পেলাম না তখন আমি বের হলাম ৷ তিনি বলেন, আমি
দারোয়ানকে কোথায় সে দুর্গের চাবি ব্লেখেছে তা লক্ষ্য করি ৷ আমি সেখান থেকে চাবি নিয়ে
দুর্গের দরজা খুনি ৷ আমি মনে মনে বলি ৷ কেউ আমাকে দেখে ফেললে আমি তৎক্ষণাৎ রেরিয়ে
পড়বাে ৷ এরপর গৃহের দরজার দিকে এগিয়ে বাইরে থেকে তা বন্ধ করে দেবো ৷ এরপর সিড়ি
যেয়ে উপরে উঠে আমি আবুরাফি এর কাছে পৌছি ৷ অন্ধকার গৃহ, বাতি নিবে গেছে ৷ লোকটি
কোথায়, তা আমি ঠাহর করতে পারছিলাম না ৷ আমি তার নাম ধরে ডাক দিলাম, হে আবুরাফি!
সে বলে, কে ৷ আমি আওয়াযের দিকে এগিয়ে যাই এবং তাকে আঘাত করি ৷ কিন্তু আঘাতে
কোন কাজ হলো না ৷ সে চিৎকার করে ৷ ব্যর্থ চিৎকার ৷ তারপর আমি তার শুভার্থী সেজে তার
কাছে যইি ৷ আমি বলি, আবুরাফি ৷ তোমার কী হয়েছে৷ আমি তখন আ ওযায় বদলে ফেলি ৷ সে
বলে, না, তোমার জন্য আমাকে অবাক হতে হয় ৷ তোমার নামের জন্য ধ্বং স ৷ এক ব্যক্তি আমার
গৃহে প্রবেশ করে তরৰারি দ্বারা আঘাত করেছে ৷ তিনি বলেন, পুনরায় আমি তার দিকে এগিয়ে
যাই ৷ পুনরায়৩ তার উপর আঘাত হানি ৷ কিংফু এবারও আঘাতে কোন কাজ হলো না সে চিৎকার
জুড়ে দেয় এবং তার পরিবারের লোকজন জেগে উঠে ৷ তারপর আমি কণ্ঠস্বর পরিরজ্ঞা করে
শুভাথীর মতো এগিয়ে যইি ৷ দােখ, সে চিৎ হয়ে শুয়ে আছে ৷ আমি তার পেটের উপর অস্ত্র স্থাপন
করি এবং তার উপর প্রচন্ড চাপ দেই ৷ যাতে তার পৃষ্ঠদেশের হাড়ের আওয়ায শুনতে পাই ৷
এরপর আমি ব্যতিব্যস্ত হয়ে বেরিয়ে পড়ি এবং নিচে নড়ামার উদ্দেশ্যে সিড়ির কাছে গমন করি ৷
সিড়ি থেকে পড়ে গিয়ে আমার পা ভেঙ্গে যায় ৷ আমি পা বেধে খােড়াতে খােড়াতে আমার বন্ধুদের
কাছে আমি এবং তাদেরকে বলি : তোমরা যাও এবং নবী করীম (সা) কে সুসং বাদ দাও
আমিতো মৃত্যুর সংবাদ না শোনা পর্যন্ত এখানেই অবস্থান করবো ৷ প্রভ্যুষে মৃত্যু সংবাদ
ঘোষণাকারী প্ৰাচীরে আরোহণ করে বলেং; আমি আবু রাফি এর মৃত্যুর কথা ঘোষণা করছি ৷
তিনি বলেন, সাথে সাথে আমি উঠে দাড়াই এবং রওয়ানা হয়ে পড়ি ৷ এ সময় আমার পারে কোন
ব্যথা ছিলন৷ ৷ আমার বন্ধুরা রাসুল করীম (না)-এর নিকট পৌছার পুর্বেই আমি পথিমধ্যেই
তাদেরকে গিয়ে ধরতে সমর্থ হই আর আমি রাসুল করীম (সা) কে এ সুসংবাদ দান করি ৷
এসব বিস্তারিত বিবরণ দানের ক্ষেত্রে সিহাহ্ সিত্তাহ্ তথা ৬টি বিশুদ্ধ হাদীছ গ্রন্থের মধ্যে
ইমাম ৰুখারী (র) একক বৈশিাষ্ট্যর অধিকারী ৷
ইমাম যুহরী (র) উবাই ইবন কাব সুত্রে বর্ণনা করেন যে, রাসুল কবীম (না) যখন মিম্বরে

উপবিষ্ট ছিলেন তখন তারা আগমন করেন ৷ রাসুল করীম (না) বলে উঠলেন : :, প্রু৷ ৷ , ;াণ্ ৷

চেহারাগুলো সফল হয়েছে ৷ অথর্ধৎ তারা সফলকাম হয়ে ফিরে এসেছে ৷ তিনি বললেন ং পেং

ণ্া ,, ণ্া৷; এ৷ ৷ ষ্া ণ্ ধ্া৷ ৷ ,াস্পো, ৷ াধ্ধ্, হে অ ল্লাহ্র নবী (সা ) আপনার চেহারা সফল
হোক ৷ তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, তোমরা কি তাকে হত্যা করেছ ৷৩ তারা বললেন, জী হা ৷ তিনি
বললেন, আমার কাছে তরবারি নিয়ে এসো ৷ তিনি কোষ থেকে তরবারি বের করে সেখানে
রাসৃলুল্লাহ (সা) বললেন, হ৷ ৷ এ হলো তরবা ৷বি ধারে তার আহার্যের চিহ্ন রয়েছে ৷


পৃষ্ঠা ২৬৪ ঠিক করুন

আমি বলি, হতে পারে আবন্মোহ্ ইবন আতীক যখন সিড়ি থেকে পড়ে যান তখন তার পায়ের
জোড়া স্থানচ্যুত হয় , গোড়ালি ভেঙ্গে যায় এবং পায়েও মােচড় লাগে; কিন্তু যখন তা বেধে দেয়া
হয় তখন ব্যথা দুর হয়ে যায় এবং চলাচলে আর কোন কষ্ট অবশিষ্ট থাকেনি ৷ কারণ , ব্যাপারটি
খুবই স্বাভাবিক এবং অতি স্পষ্ট ৷ তিনি যখন হীটা-চলার অভিপ্রায় করেন তখন এজন্য তাকে
সাহায্য করা হয় ৷ কারণ, এর মধ্যে নিহিত রয়েছে কল্যাণকর জিহাদ ৷ তারপর তিনি যখন রাসুল
করীম (না)-এর নিকট পৌছেন এবং তিনি স্বস্থি ফিরে পান তখন পুনরায় ব্যথা ফিরে আসে এবং
তিনি পা ছড়িয়ে দিলে রাসুল করীম (না) তাতে হাত বুলিয়ে দেন ৷ ফলে অসুবিধা দুর হয়ে যায়
এবং ভবিষ্যতে দেখা দিতে পারে এমন বথােও আর অবশিষ্ট জ্জি না ৷ এভা৷:ব উভয় বর্ণনার মধ্যে
সামঞ্জস্য সাধিত হয় ৷ আল্লাহ-ই ভাল জানেন ৷ মুসা ইবন উক্বা তদীয় মগাষী’ গ্রান্থ ইবন
ইসহাক অনুরুপ বর্ণনা করেছেন এবং ইব্রাহীম ও আবু উবায়দের মড়াতা তিনিও তাদের এ
অভিযানে অংশ গ্রহণকারী সাহাবীগা;ণর নাম উল্লেখ করেছেন ৷

খালিদ ইবন সুফিরান হুযালনী হত্যার ঘটনা

হাফিয বায়হাকী (র) দালাইল গ্রন্থে আবু রাফি এর হত্যার ঘটনা উল্লেখ করার পর ইমাম
আহমদ (র)-এর বরাতে ইয়াকুব আবদুল্লাহ ইবন উনাইস তদীয় পিতা সুত্রে বর্ণনা করে
বলেন

রাসুল করীম (সা) আমাকে ডেকে বললেন : আমি জানতে পেয়েছি যে, খালিদ ইবন
সুফিয়ান ইবন নাবীহ্ হুযালী আমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে প্রবৃত্ত হওয়ার জন্য লোকজনকে সমবেত
করেছে ৷ এখন সে উরানা’ নামক স্থানে অবস্থান করছে ৷ তুমি সেখানে গিয়ে তাকে হত্যা কর ৷
তিনি নিবেদন করলেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ্ ! আমার জন্য তার কিছু বৈৰিষ্ট্য উল্লেখ করুন যাতে আমি
তাকে চিনতে পারি ৷ তিনি বললেন, তুমি যখন তাকে দেখবে, তখন লক্ষ্য করবে যে, সে কম্পন
ব্যাধিতে আক্রান্ত আছে ৷ তিনি বলেন, আমি তলওয়ার কােষবদ্ধ করে উরানায় তার কাছে গিয়ে
পৌছি ৷ তখন ছিল আসরের নামায়ের সময় ৷ রাসুল (না) তার কম্পনের যে বর্ণনা দেন, আমি
তাকে তেমনটিই পেলাম ৷ তখন যে স্তীদেরকে নিয়ে বাসন্থানের সন্ধানে ছুটাছুটি করছিল ৷ আমি
তার দিকে এগিয়ে যাই ৷ আমার আশংকা হয় যে, আমার এবং তার মধ্যে ধস্তাধ্স্তি হতে পারে ৷
যা আমাকে যথাসময়ে সালাত আদায় থেকে বিরত রাখতে পারে ৷ তাই আমি তার দিকে হাটতে
হাটতে ইশাৱায় সালাত আদায় করলাম ৷ মাথার ইশাৱায় আমি রুকু সিজদা আদায় করছিলাম ৷
আমি তার কাছে পৌছলে সে জিজ্ঞেস করলো কে ৷ আমি বললাম, আমি একজন আরব ৷ এ
ব্যক্তির উপর হামলা চালানোর উদ্দেশ্যে আপনার লোকজন সমবেত করার কথা শুনতে পেয়ে এ
উদ্দেশ্যে আপনার কাছে এসেছি ৷ সে বললো, হ্যা, আমিতো সে চেষ্টায় প্রবৃত্ত আছি ৷ আমি কিছু
দুর তার সঙ্গে অগ্রসর হই ৷ সুযোগ বুঝে আমি তরবারি চালিয়ে তাকে হত্যা করি এবং তার
ত্রীদেরকে সেখানে ফেলে রেখে বেরিয়ে আসি ৷ তার ত্রীরা তার জন্য বিলাপ করছিল ৷ আমি রাসুল
করীম (সা)এর নিকট এগিয়ে গেলে আমাকে দেখে তিনি বলেন : ৰুৰু,পু ৷ াদ্বু ৷ চেহারা এতো
দেখছি সফল হোক ৷ কর্ম সিদ্ধ হয়েছেত ? তিনি বলেন, আমি বললাম , ইয়া রাসুলাল্লাহ্ ৷ আমি
তাকে হত্যা করেছি ৷ তিনি বললেন, সত্য বলছ ৷ এরপর রাসুলুল্লাহ্ আমার পাশে দাড়ালেন এবং



Execution time: 0.04 render + 0.00 s transfer.