Login | Register

আল বিদায়া ওয়ান্নিহায়া - খন্ড ৪

পৃষ্ঠা ২১৩ ঠিক করুন

আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা) থেকে বর্ণনা করেন ৷ তিনি বলেছেন, মুশরিকরা খন্দক যুদ্ধের দিনে
রাসুলুল্লাহ (সা) কে চার ওয়াক্ত নামায আদায় করা থেকে বিরত রাখে ৷ এভাবে রাতের কিছু অংশ
ও অতিবাহিত হয়ে যায় ৷ এরপর তিনি বিলাল (রা) কে নির্দেশ দেন ৷ বিলা ৷ল (রা) আযান দিলেন ৷
৷ তারপর ইকামত দিলেন ৷ রাসুলুল্লাহ (সা) যুহরের নামায আদায় করলেন ৷ত তারপর বিলাল (রা)
ইকামত দিলেন ৷ বাসুলুল্লাহ (সা) আসরের নামায আদায় করলেন ৷ তারপর বিল৷ ৷ল (বা) ইক৷ ৷মত
দিলেন ৷ রাসুলুল্লাহ (সা) মাগরিরের নামায আদায় করলেন ! তারপর হযরত বিলাল (বা) ইকামত
দিলেন ৷ বাসুলুল্লাহ (সা) ইশার নামায আদায় করলেন ৷

হাফিয আবু বকর রায্যার বলেন, মুহাম্মাদ ইবন মামার জাবির ইবন আবদুল্লাহ (রা)
থেকে বর্ণনা করেন যে, বাসুলুল্লাহ (সা) খন্দক যুদ্ধের দিন যোহর আসর, মাপরিব ও ইশার নামায
আদায়ে বাধা প্রাপ্ত হয়েছিলেন ৷ এরপর তিনি বিলাল (রা) কে আযান দেয়ার নির্দেশ দেন ৷ বিলাল
(রা) আমান ও ইকামত দেন ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) যুহরের নামায আদায় করেন ৷ এরপর রাসুলুল্লাহ
(সা) বিলাল (রা)-কে নির্দেশ দেন ৷ তিনি আমার ও ইকামত দেন ৷ রাসুলুল্লাহ (সা) আসরের
নামায আদায় করেন ৷ তিনি বিলাল (রা) কে আবার নির্দেশ দেন ৷ বিল৷ ৷ল (বা) আমান ও ইকামত
দেন ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) মাপরিবের নামায আদায় করেন ৷৩ তারপর তিনি বিলাল (রা) কে নির্দেশ
দেন ৷ বিলা ৷ল (রা) আযান ও ইকামত দেন ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) ইশা ৷র নামায আদায় করেন ৷ তারপর
তিনি বললেনং তােমরা
ব্যতীত জমিনের বুকে অন্য কোন সম্প্রদায় নেই যারা এই সময়ে আল্লাহর যিকর করে, আল্লাহকে
স্মরণ করে ৷’ ’বায্য৷ র একাই এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন যে,এ সুত্র ছাড়া অন্য কো ন সুত্রে
এটি আমি পাইনি ৷ কেউ কেউ এই হাদীছ আবদুল করীম আবদুল্লাহ সুত্রে বর্ণনা করেছেন ৷

খন্দকের যুদ্ধে সম্মিলিত শত্রু বাহিনীর বিরুদ্ধে রাসুলুব্লাহ্ (না)-এর দৃআ
ইমাম আহমদ (র) বলেন, আবু আমির আবু সাঈদ খুদরী (রা) থেকে বর্ণনা করে ৷ , তিনি
বলেন, আমরা খন্দকের দিবসে বললাম , ইয়৷ রাসুলাল্লাহ্ (সা) ! আমরা কি এক্ষণে কোন দৃআ পাঠ
ন্ করব ? আমাদের প্রাণ তো এখন কণ্ঠাগত ৷ রাসুলুল্লাহ (সা) বললেন হা এই দৃআ পাঠ কর ন্ৰুৰুা৷’া
ভয়৩ ভীতি ও অশা ৷ন্তি দুর করে শান্তি দান করুন ৷ বর্ণনাক ৷রী বলেন, এরপর আল্লাহ তা আল৷ প্রচণ্ড
ঝঞা বায়ু প্রেরণ করে শ ৷ত্রুদের মুখ মলিন করে দিলেন ৷ ইবন আবী হাতিম তার তাফসীর গ্রন্থে
তার পিতা — — — আবু সাঈদ খুদরী সুত্রে এই হাদীছ উদ্ধৃত করেছেন ৷ এটাই সঠিক ৷
ইমাম আহমদ (র) বলেন, হুসায়ন জাবির ইবন আবদুল্লাহ (বা) থেকে বর্ণনা করেন
যে, বাসুলুল্লাহ্ (সা) সম্মিলিত বাহিনীর অবস্থান ক্ষেত্রের নিকটস্থ মসজিদে এলেন ৷ তিনি তার চাদর
খুলে রাখলেন এবং দাড়িয়ে দৃহাতঙু লে শত্রু বাহিনীর বিরুদ্ধে দুআ করলেন ৷ তখন তিনি ওখানে

নামায পড়েননি ৷ এরপর তিনি আবার সেখানে এলেন এবং ওদের জন্যে বদ দৃআ করলেন ৷
তারপর সেখানে নামায পড়লেন ৷

সহীহ বুখা ৷রীও সহীহ মুসলিমে ইসমাঈল ইবন আবু৷ খ৷ লিদ সুত্রে আবদুল্লাহ ইবন আবু আওফা
শ্ংাষ্ক বর্ণনা করেন ৷ তিনি বলেছেন যে, বাসুলুল্লাহ্ (সা) সম্মিলিত শত্রু বাহিনীর বিরুদ্ধে এই বলে


পৃষ্ঠা ২১৪ ঠিক করুন

দু অড়া ৩বব্লবৃস্থুল্ড়ান্ত্ত্ব০ : ণ্শু দ্বুণ্১:ট্রি
ণ্;ও-ং’১এ এ এ “হে অ ৷ল্লাহ্ ! কিতাব ন ৷৷যিলক রী দ্রুত হিসাব গ্রহণক৷ ৷রী, ওই সম্মিলিত বাহিনীকে পরাস্ত
করে দিন ৷ হে আল্লাহ ৷ ওদেরকে পরাজিত করে দিন এবং ওদের অবস্থান নড়বড়ে করে দিন ৷

অপর এক বর্ণনায় আ ছেষ্ ণ্ষ্; ৷প্রু ৷ , ন্ঠুট্রুট্রুণ্ড্র৷ স্পোা৷ ৷ “হে আল্লাহ ! ওদেরকে পরাজিত
করে দিন এবং ওদের বিরুদ্ধে আমাদেরকে সাহায্য করুন ৷”

ইমাম বুখারী (র) বর্ণনা করেছেন, কুতায়বা আবু হুরায়র৷ (বা) সুত্রে ৷ তিনি বলেছেন যে,
রাসুলুল্লাহ্ (সা) এই কালিমা পাঠ করতেন হুৰু১ট্রু ছু ;;¢’;; হুৰু১ট্রুছু টু,;৷ হু১হ্র, ধ্া৷ ৷ ৰু৷ ৷ ব্লু৷ ৷ ৰুা
হুৰুাটুগ্ঠু ;:,;: ১এে হুৰুাছুটু হু ন্ ৷)ছুৰু ৷ £দ্ভু, আল্লাহ্ ব্যতীত কোন ইলাহ্ নেই ৷ তিনি একক ৷
তার বাহিনীকে তিনি বিজয়ী করেছেন ৷ তার বান্দাকে তিনি সাহর্ষন্ব,ঢ় করেছেন ৷ তিনি একাই
সম্মিলিত শত্রু বাহিনীকে পরাজিত করেছেন ৷ তিনি ব্যতীত চিরস্থায়ী কিছুই নেই ৷

ইবন ইসহাক বলেন, বন্তুত রাসুলুল্লাহ্ (সা) ও তার সাহাবীপণ সেই করুণ ও বিপদসংকুল
অবস্থায় ছিলেন ৷ যা আল্লাহ তা আল৷ কুরআন করীমে উল্লেখ করেছেন ৷ কারণ, শত্রু পক্ষ তাদের
কাছাক কাছি এসে পডেছিল ৷৩ তদুপরি ওরা উধ্বঞ্চিল নিম্নাঞ্চল সকল দিক থােক অগ্রসর হচ্ছিল ৷
বর্ণনা কারী বলেন, এরপর নৃয়া ৷ইম ইবন মাসউদ আসেন র ৷সুলুল্লাহ্ (সা) এর নিকট ৷ নুয়াইম (রা)
বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ্ (সা) ! আমি ইসলাম গ্রহণ করেছি ৷ আমার সম্প্রদায়ের লোকজন কিন্তু
আমার ইসলাম গ্রহণের বিষয়টি জানেন৷ ৷ সুতরাং আপনার যা ইচ্ছা আমাকে নির্দেশ দিন ৷ আমি
তা করব ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) বললেন, আমাদের পক্ষে তুমি একা ৷ সুতরাং ওদেরকে লাঞ্ছিত ও
অপদস্ত করতে আমাদের পক্ষে তুমি যা সম্ভব তা কর ৷ কারণ, যুদ্ধ হল কৌশল ৷ অনুমতি পেয়ে
নুয়াইম যাত্র৷ করলেন ৷ তিনি এলেন বনুকুরায়য৷ গোত্রের নিকট ৷ জাহিলী যুগে ওদের সাথে তার
বন্ধুত্বের সম্পর্ক ছিল ৷ তিনি বললেন, হে বনু কুরায়য৷ গোত্র ! তোমাদের সাথে আমার রন্ধুত্বের
ব্যাপার তো তোমরা জান ৷ আমার মাঝে আর তোমাদের মাঝে যে বিশেষ সম্পর্ক তাও তো
তোমরা অবগত আছ ৷ তারা বলল, ছুা,তাই আপনি সত্য বলেছেন ৷ আপনি আমাদের নিকট কোন
সন্দেহ ভাজন ব্যক্তি নন ৷ তিনি ওদেরকে বললেন, কুরায়শ আর গাতফান গোত্র তো তোমাদের
মত নয় ৷ এই শহর তোমাদের শহর ৷ এখানে তোমাদের ধন-সম্পদ রয়েছে শ্ৰীপুত্র রয়েছে ৷
তোমরা এ শহর ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে পারবে না ৷ পক্ষান্তরে, কুরায়শ ও গাতফান গোত্রের
লোকদের বিষয়টি তোমাদের চেয়ে আলাদা ৷ ওরা মুহাম্মাদ (না) ও তার সাথীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ
করতে এসেছে ৷ তোমরাও এই লক্ষে ওদেরকে সহযোগিতা করছ ৷ ওদের শহর, ওদের ত্রীপুত্র
এবং ওদের ধন-সম্পদ কিন্তু অন্যত্র ৷ এখানে নয় ৷ সুতরাং ওদের অবস্থা ৷আর তোমাদের অবস্থা
সমান নয় ৷ ওরা বিজয় দেখলে তা ভোগ করবে আর অন্যথ৷ হলে তর ৷নিজেদের শহরে চলে
যাবে এবং তোমাদেরকে এমন এক লোকের নিকট ছেড়ে যাবে যে (৩ ৷মাদের শহর মদীনাতেই
বসবাস করে ৷ তোমরা তখন একা ৷কী ও নিঃসঙ্গ হয়ে যাবে ৷ ওই ব্যক্তির আক্রমণ প্রতিহত করার
সামর্থ তোমাদের থাকবে না ৷ সুতরাং ওই দুই গোত্রের সন্তুাত ও নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদেরকে
যিস্বীরুপে না রেখে তোমরা ওদের সমর্থনে যুদ্ধে বের হয়ে না ৷ ওই যিম্মায় থাকা সস্রাম্ভ লোকজন


পৃষ্ঠা ২১৫ ঠিক করুন

তোমাদের সাথে থাকবে জামানত হিসেবে ৷ যতক্ষণ না তোমরা বিজয় লাভ কর ৷ ওরা বলল,
চমৎকার আপনি তো খুব ভাল কথা বলেছেন ৷ এরপর তিনি বের হলেন ৷ এসে উঠলেন কুরড়ায়শ
গোত্রের নিকট ৷ আবু সুফিয়ান ও তার সাথীদেরকে তিনি বললেন, তোমাদের প্ৰতি আমার বন্ধুতু
ও ভালবাসা এবং মুহাম্মাদের প্রতি আমার সম্পকহীনতার কথা তো তোমাদের অজানা নেই ৷
আমার নিকট একটি গোপন সংবাদ এসেছে ৷ সেটি তোমাদেরকে জানিয়ে দেয়া আমি৷ দ ৷য়িতু মনে
করেছি ৷ তবে এই সংবাদ আমার তরফ থেকে জেনেছ তা গোপন রাখতে হবে ৷ ওরা বলল, ঠিক
আছে, তাই হবে ৷ তিনি বললেন, তবে জেনে রেখো যে, মুহাম্মাদের (সা) সাথে ইয়াহ্রদীদের যে
চুক্তি ছিল তারা যে চুক্তি ভঙ্গ করে যে অপরাধ করেছে তার জন্যেত তারা লজ্জিত ও অনুতপ্ত
হয়েছে ৷ ওরা মুহাম্মাদ (না)-এর নিকট প্রস্তাব পাঠিয়েছে যে, আমাদের কৃতকমের জন্যে আমরা
অনুতপ্ত ৷ এখন আমরা যদি কুরায়শ ও গাতফান গোত্রের নামকরা ও সন্তুম্ভে কতক লোক ধরে
এনে আপনার হাতে তুলে ল্টি আর আপনি তাদেরকে হত্যা করেন এবং এরপর আমরা আপনার
সাথে মিলিত হয়ে ওদের অবশিষ্ট সবাইকে সমুলে উৎখাত করে ৫ইে, এই প্রস্তাবে হে মুহাম্মাদ
(সা) ! আপনি কি রাখী আছেন ? উত্তরে মুহাম্মাদ (সা) সংবাদ পাঠিয়েছেন যে, হা এই প্রস্তাবে আমি
রাখী ৷ নাঈম বললেন, হে কুরায়শী লোকজন! বনু কুরায়যার লোকজন যদি তোমাদের স্ম্ভাম্ভ
লোকদেরকে যিস্বী রাখার জন্যে ওখানে নিয়ে যেতে চায় তবে সাবধান, তোমরা একজন
লোককেও ওখানে পাঠাবে না ৷
এরপর তিনি গেলেন গাতফান গোত্রের নিকট ৷ ওদের নিকট গিয়ে তিনি বললেন, হে
গাতফান গোত্র ! তোমরা আমার স্ববংশীয় লোক এবং আমার আপন জন ৷ তোমরা আমার সর্বাধিক
প্রিয়জন ৷ তোমরা আমাকে সন্দেহ করবে আমি তা মনে করি না ৷ ওরা বলল, বটে , আপনি সত্য
বলেছেন, আপনি আমাদের নিকট কোন সন্দেহ ভাজন ব্যক্তি নন ৷ তিনি বললেন, তবে আমি
তােমাদেরকে পরামর্শ দিচ্ছি এ খবরটি যে আমি দিয়েছি তা গোপন রাখতে হবে ৷ এরপর তিনি
কুরায়শদেরকে যা বলেছিলেন ওদেরকেও তা বললেন ৷ কুরায়শদেরকে যেমন সতর্ক করেছিলেন
এদেরকেও তেমনি সতর্ক করে দিলেন ৷
৫ম হিজরী শাওয়াল মাসের শনিবার দিনে আল্লাহর সাহায্য মুহাম্মাদ (না)-এর জন্যে নেমে
এল ৷ এভাবে যে আবু সুফিয়ান ও পাতফানী নেতারা ইকরাম৷ ইবন আবু জাহ্লের নেতৃত্বে
কুরড়ায়শী ও পাতফানী লোকদের সমন্বয়ে গঠিত একটি প্রতিনিধিদল পাঠায় বনুকুরায়যা গোত্রের
নিকট ৷ ওরা গিয়ে বনু কুরায়যার লোকদেরকে বলেছিল যে, আমরা এখানে স্থায়ী থাকার মত
অবস্থানে নেই ৷ আমাদের গাধা-ঘোড়া ও গরু ছাগল সব শেষ হয়ে গিয়েছে ৷ সুতরাং যুদ্ধের
জন্যে প্রস্তুত হও ৷ যাতে আমরা মুহাম্মাদ (না)-কে পরাস্ত করে, এই ঝামেলা থেকে মুক্ত হতে
পারি ৷ উত্তরে বনুকুরায়যা বলল, আজ শনিবার ৷ শনিবারে আমরা কোন কাজই করিনা , আমাদের
কেউ কেউ শনিবারে কাজ করে বিপদগ্রস্ত হয়েছে তাও তোমাদের অজানা নেই ৷ উপরন্তু
তোমাদের সন্তুাস্ত ব্যক্তিদেরকে আমাদের নিকট যিশী না রাখলে আমরা তোমাদের সাথী হয়ে
মুহাম্মাদ (সা) এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব না ৷ তোমাদের লোকগুলাে আমাদের হাতে থাকবে জামানত
স্বরুপ, যতক্ষণ না আমরা মুহাম্মাদ (সা) এর বিরুদ্ধে বিজয়ী হই ৷ কারণ, আমরা আশংকা করছি
যে, যুদ্ধে যদি তে তামরা পরাজিত হও ৷ এবং প্রচণ্ড যুদ্ধের কারণে তোমরা নিজেদের পরিবার


পৃষ্ঠা ২১৬ ঠিক করুন

পরিজন ও মালামাল নিয়ে তোমাদের শহরেই চলে যাও ৷ আর আমাদের একা এমন এক
লোকের কাছে রেখে যাও যে, ওর সাথে টিকে থাকার ক্ষমতা আমাদের ও সেই ৷ তখন আমাদের
অবন্থাটা কী দাড়াবে ৷

বনুকুরায়যার উত্তর নিয়ে প্রতিনিধিদল ফিরে আসে ৷ বিস্তা বিত শুনে কুরায়শী ও পাত ফড়ান্নীরা

তারা বনু কুরায়যার নিকট স বাদ পাঠাল যে, আল্লাহর কসম ! আমরা আমাদের একজন লোকও
তোমাদের নিকট পাঠাব না ৷ তোমরা যদি স্বতঃস্ফুর্ত ভাবে যুদ্ধে অংশ নিতে চাও তবে এসে অংশ
নাও ৷ কুরায়শীদের বক্তব্য বনুকুরায়যার লোকজন অবগত হবার পর তারা বলল যে, নুয়াইম ইবন
মাসউদ বলেছেন তা তো পুরোপুরি সত্য ৷ ওদের ইচ্ছা হল, তোমাদেরকে সাথে নিয়ে ওরা যুদ্ধ
করবে ৷ যুদ্ধে বিজয়ের সম্ভাবনা দেখলে ওরা তা ভোগ করবে ৷ অন্যথায় নিজেদের শহরের দিকে
দৌড়ে পালাবে, আর তোমাদেরকে তোমাদের শহরে ওই লোকের হাতে ছেড়ে যাবে ৷ সুতরাং
কুরায়শ ও পাতফান গােএকে জানিয়ে দাও যে, আল্লাহর কসম ! আমরা তোমাদের সাথী হয়ে যুদ্ধ
করব না, যতক্ষণ না তোমাদের লোকজন আমাদের নিকট যিঘী স্বরুপ রাখ ৷ ওরাও এই প্রস্তাব
প্রত্যাখ্যান করল ৷ মহান আল্লাহ্ উভয় দলের মধ্যে পরস্পর অবিশ্বাস সৃষ্টি করে তাদের লাঞ্চুনার
ব্যবস্থা করে দিলেন ৷ উপরন্তু শীতকালীন প্রচন্ড শীতের রাতে ঝঞা বায়ু প্রেরণ করলেন ৷ তাতে
তাদের পাতিল ডেকচি উন্টে গেল এবং থালা-বাসন দুরে বহুদুরে উড়ে গেল ৷ মুসা ইবন উকবা
নুয়াইম ইবন মাসউদ সম্পর্কে যা উল্লেখ করেছেন ইবন ইসহাকের এই বর্ণনা তার চাইতে উত্তম ৷
বায়হাকী মুসা ইবন উক্বা সুত্রে তার দালাইল গ্রন্থে এটি উদ্ধৃত করেছেন ৷ ওই বর্ণনার মুল কথা
হল নুয়ায়ম ইবন মাসউদ যা শুনতেন তা প্রচার ও প্রকাশ করে দিতেন ৷ ঘটনাক্রমে একদিন
ইশার সময়ে তিনি রাসুলুল্লাহ্ (সা)-এর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন ৷ তাকে ডেকে রাসুলুল্লাহ্ (সা)
বললেন, ওহে৷ এদিকে এস ! তিনি এলেন ৷ তিনি বললেন, তুমি কি দেখে এসেছ ৷ ওদিকের
খবর কী ? তিনি বললেন, কুরায়শ ও পাতফানের লোকেরা বনুকুরায়যার নিকট প্রস্তাব পাঠিয়েছে
যে, তারা যেন ওদের সাথে মিলে আপনার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে বিজয়ী হয় ৷ বনুকুরায়যার লোকেরা
বন্ধক চেয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছে ৷ ইতিপুর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে, জামানত স্বরুপ সন্তুাম্ভ
লোকদেরকে বন্ধক রাখার শর্তে তারা হুয়াই ইবন আখতাবের প্ররােচনায় রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর
সাথে সম্পাদিত চুক্তি ভঙ্গ করে ৷
রাসুলুল্লাহ্ (সা) নুয়াইমকে বললেন, আমি তোমাকে একটি গোপন কথা বলব তা তুমি কারো
নিকট প্রকাশ করো না ৷ তিনি বললেন, বনু কুরায়যা গোত্র আমার নিকট প্রস্তাব পাঠিয়েছে যে,
ওদের মিত্র বনু নযীর গোত্রকে যদি মদীনায় এনে ওদের বাড়ী ঘর ও বন সম্পদ ফিরিয়ে দিই
তাহলে তারা আমার সাথে মীমা সায় পৌছবে ৷ একথা শুনে নুয়াইম ইবন মাসউদ গেলেন
পাতফান গোত্রের নিকট ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) এ ও বলেছিলেন যে, , ৷ ন্^;স্ ৰুদ্ব ৰু১ ;;; ৷
এে ধ্া৷ ৷ ¢;;,; শ্যুদ্ধ হল কৌশল মাত্র ৷ নিশ্চয় আল্পাহ্ তা আলা আমাদের কল্যাণের কোন
একটি ব্যবস্থা করে দেবেন ৷ নুয়াইম এলেন গড়াতফ ন ও কুরড়ায়শ গোত্রের লোকজনের নিকট এবং
তাদেরকে বানু কুরায়যার মীমাংসা প্রস্তাবের কথা জানালেন ৷ তারা অবিলম্বে বনু কুরায়যার নিকট
ইকরামার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল পাঠায় যুদ্ধে অংশ গ্রহণের আহবান জানিয়ে ৷ ঘটনাক্রমে


পৃষ্ঠা ২১৭ ঠিক করুন

সেদিন ছিল শনিবার ৷ তাই ইয়াহুদীগণ শনিবারের দােহইি দিয়ে যুদ্ধে অংশ নিতে অস্বীকার করে ৷
তারপর তারা আবার মানুষ বন্ধক চায় ৷ এভাবে আল্লাহ্ তাআলা উভয় পক্ষের মধ্যে সন্দেহ ও
বিরোধ সৃষ্টি করে দেন ৷ আমি বলি যে, সম্ভবত বনুকুরায়যা গোত্র ঢেষ্টা-সাধনার পর ও কুরায়শ ও
পাতফান গোত্রের সাথে সমঝোতায় পৌছতে ব্যর্থ হয়ে রাসৃলল্লাহ্ (সা) এর নিকট মীমাংসার
প্রস্তাব পাঠিয়েছিল যে, বনু নযীর গোত্রকে মদীনায় ফিরিয়ে আনলে তারা তার সাথে একটি
মীমাংসার পৌছবে ৷ আল্লাহ্ই ভাল জানেন ৷

ইবন ইসহাক বলেন, শত্রুপক্ষের ঐক্যের ফাটল ধরার সংবাদ রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর নিকট
পৌছে ৷ তখন শত্রুপক্ষ রাতের বেলা কী করছে তা দেখে আমার জন্যে তিনি হযরত হুযায়ফাকে
পাঠালেন ৷ ইবন ইসহাক বলেন, ইয়াযীদ ইবন যিয়াদ বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবন কা’ব কুরাযী
থেকে ৷ তিনি বলেন, কুফার একজন লোক হুযায়ফা ইবন ইরামন্বন (রা) কে বললেন, হে আবু
আরদুল্লড়াহ্! আপনি কি রাসুলুল্লাহ্ (না)-কে দেখেছেন এবং ত্দ্রন্ক্ষ্র সাহচর্য লাভ করেছেন ? হুযায়ফা
(রা) বললেন, হা, হে ভাতিজা ! সে লোকটি বলল, তবে আপনারা তখন কী করতেন তা
আমাদেরকে জানান ৷ হুযায়ফা (রা) বললেন, আল্লাহ্র কসম , তখন আমরা সাধ্যমত পরিশ্রম
করতাম ৷ ল্যেকটি বলল, আল্লাহর কসম , আমরা যদি রাসুলুল্লাহ্ (সা)-ণ্ক (পতাম তবে আমরা
তাকে মাটিতে পা ফেলতে দিতাম না কাধে নিয়ে রাখতাম ৷ হুযায়ফা (রা) বললেন, ভাতিজা,
শোন, একটি ঘটনা তোমাকে বলি ৷ আমরা রাসুলুল্লাহ্ (সা)-এর সাথে খন্দক যুদ্ধে নিয়োজিত
ছিলাম ৷ রাতের কিছুক্ষণ অতিবাহিত হবার পর রাসুলুল্পাহ্ (সা) নামায আদায় করলেন ৷ তারপর
আমাদের দিকে তাকিয়ে বললেন “কে আছ এই মুহুর্তে শত্রুপক্ষের নিকট গিয়ে ওদের অবস্থা
দেশে ফিরে আসবে এবং বিনিময়ে আমি দৃআ করি যে আমার জান্নাতের সাথী হবে ৷ খবর জেনে
ফিরে আসার শর্ত লাগিয়ে দিয়েছিলেন তিনি ৷ প্রচণ্ড ক্ষু ধা , অসহ্য ঠাণ্ডা ও ভয়-ভীতির কারণে
কেউই তার ডাকে সাড়া দিল না ৷ কেউ যখন প্রস্তুত হল না তখন তিনি আমাকে নাম ধরে
ডাকলেন ৷ সুনিদিষ্টভাবে আমাকে ডাক দেয়ায় আমার না উঠে উপায় ছিল না ৷ তিনি আমাকে
বললেন, হে হুযায়ফা ! তুমি যাও, শত্রুপক্ষের ভেতরে প্রবেশ কর, তারপর দেখে নাও ওরা কী
করছে ৷ আমার নিকট ফিরে আসার পুর্বে এ সম্পর্কে কাউকে কিছু বলবে না ৷ হুযায়ফা বলেন,
আমি গেলাম ৷ ওদের দলের মধ্যে ঢুকে গেলাম ৷ ঝঞা বায়ু ও আল্লাহ্র প্রেরিত প্রাকৃতিক শক্তি
তখন সেখানে যা করার করছিল তাদের ডেকচি-পাতিল , আগুন ও তাবু কিইে ন্থির থাকছিল না ৷
সব উপড়ে গিয়ে ছত্রভঙ্গ হয়ে লণ্ড-তণ্ড অবস্থা ৷ তখন আবু সুফিয়ড়ান দাড়িয়ে বলল, হে কুরায়শ
সম্প্রদায় প্রতেক্তকেই নিজের পাশের লোকের পরিচয় জেনে নাও এবং তার ব্যাপারে সতর্ক
থেকাে ৷ হুযায়ফা (রা) বলেন, এ কথা শুনে আমি আমার পাশের লোকটিকে১ বললাম, তুমি কে
হে ? সে বলল, আমি অযুকের পুত্র অমুক ৷

হুযায়ফা (রা) বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর সাথে সাক্ষাতের জন্যে ফিরে চললাম ৷ তার
নিকট যখন এসে পৌছি তখন তিনি তার এক সহধর্মিণীর নক্শী চাদর গায়ে নামায পড়ছিলেন ৷
আমাকে দেখতে পেয়ে আমাকে তার পদদ্বয়ের নিকট চাদরের মধ্যে ঢুকিয়ে ফেললেন এবং

১ টীকা ও ঘটনাচক্রে তখন তার ভানে রায়ে মুআবিয়া ও আমর ইবনুল আস অবস্থান করছিলেন ৷ — দ্র
পাদটীকা আল-ৰিদায়া ওয়ান নিহায়৷ পৃ ৩ (শেষাংশ) শারহে মাওয়াহিল লাদৃন্নিয়া এর ররাতে ৷

২৮ —

পৃষ্ঠা ২১৮ ঠিক করুন

চাদরের এক মাথা আমার উপর ছড়িয়ে দিলেন ৷ তারপর তিনি রুকু করলেন, সিজদা করলেন ৷
আমি তখনও তার চাদরের মধ্যে, তার সালাম ফিরানোর পর আমি তাকে শত্রুপক্ষের অবস্থান
জানালাম ৷ এদিকে কুরায়শদের মক্কা যাত্রার কথা গাতফান গোত্রের লোকেরা জানতে পায় ৷ ফলে
তারাও অবিলম্বে নিজেদের দেশের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে ৷ এ সনদটি বিচ্ছিন্ন ৷

ইমাম মুসলিম (বা) এই হাদীছ তার সহীহ্ গ্রন্থে উদ্ধৃত করেছেন আমাশ ইয়াষীদ
তায়মী থেকে ৷ তিনি বলেছিলেন, আমরা হুযায়ফা (রা)এর পাশে ছিলাম ৷ তখন এক ব্যক্তি
বলল, আমরা যদি রাসুলুল্লাহ্ (সা) কে পেতাম তবে তার সাথী হয়ে জিহাদ করতাম এবং যে
কোন বিপদ হাসিমুখে বরণ করে নিতাম ৷ তখন হুযায়ফা (বা) ওকে পুর্ব বর্ণিত ঘটনাটি আনুপুর্বিক
বললেন ৷ তুমি কি তাই করতে ? তবে তাতে রাসুলুল্লাহ্ (না)-এ কাজের জন্য তিন তিনবার
আহ্বান করার পর তাকে নাম ধরে আহ্বান করেছিল বলে উল্লেখ রয়েছে ৷

হুযায়ফা (বা) ঐ প্রসঙ্গে তাতে বাড়তি বলেন, আমি রওয়ানৰু করলাম ৷ আমি হাটছিলাম
এমনভাবে যে, আমি যেন গোসল থানার উষ্ণতা অনুভব করছিলাম ৷ অথাৎ প্রচণ্ড শীতের সামান্য
ও আমি অনুভব করিনি ৷ তিনি আরও বলেন : আমি ওদের নিকট পৌছে যাই ৷ সেখানে দেখি আবু
সুফিয়ান আগুনের দিকে পিঠ করে আগুন পোহাচ্ছে ৷ আমি আমার ধনুকে তীর সাজিয়ে ফেলি
এবং তাকে লক্ষ্য করে তীর নিক্ষেপ করতে উদ্যত হই ৷ হঠাৎ রাসুলুল্লাহ্ (সা) এর নির্দেশ আমার
স্মরণে আসে যে, “আমার তরফে ওদের কাউকে ভয় পাইয়ে দিয়োনা যেন ৷ আমি থেমে যাই ৷
কিন্তু যদি তখন তীর নিক্ষেপ করতড়াম তবে আমি নিশ্চিত যে, তা লক্ষ্য ভেদ করতেড়া ৷ আমি
ওখান থেকে ফিরে এলড়াম যেন গোসল থানার উষ্ণতার মধ্যে ইাটছি ৷ আমি এসে পৌছি বাসুলুল্লাহ্
(সা)-এর নিকট ফিরে আসার পথে আমি আবার ঠাণ্ডা অনুভব করি ৷ শত্রুপক্ষের অবস্থান সম্পর্কে
আমি তাকে অবহিত করি ৷ তিনি যে জুব্বা পরিধান করে নামায পড়ছিলেন তার অতিরিক্ত অংশ
দ্বারা তিনি আমার শরীর ঢেকে দিলেন ৷ সকাল পর্যন্ত আমি বিভাের ঘুমে আচ্ছন্ন থাকি ৷ ভোররেলা
রাসুলুল্লাহ্ (সা) আমাকে ডেকে বললেন, হে ঘুম কাতুরে ব্যক্তি উঠ ৷

হাকিম এবং হাফিয বায়হাকী তার দালাইল গ্রন্থে এ হাদীছটি বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করেছেন
ইকরামা ইবন আমার আব্দুল আযীয সুত্রে ৷ আব্দুল আষীয হলেন হুযায়ফা (রা)-এর
ভাতিজা ৷ তিনি বলেন, একদিন হুযায়ফা (বা) তার সহচরদের নিকট রাসুলুল্লাহ্ (সা) এর সাথে
তাদের গুরুতৃপুর্ণ অভিযানসমুহে উপস্থিত থাকার কথা বর্ণনা করছিলেন ৷ তার সহচরগণ বললেন,



(দ্র৪) এরপর আবু সুফিয়ান বলল, হে কুরড়ায়শ সম্প্রদায় ! আল্লাহ্র কসম, এখন তোমরা সুন্থির
অবস্থানে নেই ৷ রসদ পত্র, পশু-প্রাণী, খাদ্য দ্রব্য সব এখন ধ্বংস হয়ে গিয়েছে ৷ ওই দিকে বড়ানু
কুরায়যা গোত্র আমাদের সাথে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে ৷ ওদের সম্পর্কে আমরা যে সংবাদ পেয়েছি তা

৪খজনক ৷ প্রচন্ড ঝঞা বায়ুতে আমাদের এখন কী যে অবস্থা তাতে৷ সকলেই দেখতে পাচ্ছ ৷
ঝড়ের আঘাতে আমাদের হাড়ি পাতিল স্থির থাকে না আগুন নিতে যাচ্ছে এবং আমাদের বাসস্থান তাবু
কিছুই টিকে থাকছে না ৷ সুতরাং সবাই মক্কা অভিমুখে যাত্রা শুরু কর ৷ আমি চললাম ৷ একথা বলে
সে পাশেই বাধা উটের পিঠে সওয়ার হল ৷ পিঠে উঠেই সে চড়াবুক মারল পিঠে তিন পায়ে লাফিয়ে
ছুটতে লাগল সেটি ৷ পুর্ণ গতিতে উটটি যাত্রা করল ৷ রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর সাথে আমার অঙ্গীকার ছিল
যে, তার নিকট ফিরে না আসা পর্যন্ত কোন ঘটনা ঘটাবনা ৷ এই অঙ্গীকার না থাকলে আমি অনায়াসে
তীর নিক্ষেপে আবু সুফিয়ানকে হত্যা করতে পারতাম ৷


পৃষ্ঠা ২১৯ ঠিক করুন

“আল্লাহর কসম, আমরা যদি ওই সময় থাকতাম তবে এমন এমন উল্লেখযোগ্য কাজ করতাম ৷
হুযা ৷য়ফ৷ (বা) বললেন, ওই রকম অবস্থান কামনা করোনা ৷ শোন আমরা খন্দকের যুদ্ধে বা ৷ত্রিবেলা
ওখানে ছিলাম ৷ আমরা সকলে সারিবদ্ধভাবে বসা আছি ৷ আবু সুফয়ান ও তার বাহিনী অবস্থান
করছে আমাদের উপরের দিকে ৷ আর বনু কুরায়যার ইয়াহ্রদীর৷ আমাদের নীচের দিকে ৷ ওরা
আমাদের নারী ও শিশুদের উপর আক্রমণ করে কিনা আমরা সেই আশংকায় ছিলাম ৷ ওই রাতের
চেয়ে অধিক ঠাণ্ডা , অন্ধকারও ঝঞা বিক্ষুদ্ধ রাত আমাদের জীবনে আর আসেনি ৷ বাতাসের শব্দে
বব্লুজ্রর নিনাদ ৷ চারিদিকে অগৈ অন্ধকার ৷ আমাদের কেউ নিজের অ ৷ঙ্গুলটি পর্যন্ত দেখতে পাচ্ছিল
না ৷ মুনাফিকরা রাসুলুল্লাহ্ (সা) এর নিকট ঘরে ফিরে যাওয়ার অনুমতি চাচ্ছিল ৷৩ তারা বলছিল,
আমাদের বাড়ীঘর অরক্ষিত ৷ প্রকৃতপক্ষে ওগুলে৷ অরক্ষিত ছিল্ না ৷ যে ই অনুমতি চাচ্ছিল
রাসুলুল্লাহ্ (সা) তাকেই অনুমতি দিয়ে দিচ্ছিলেন ৷ আর মুনাফিকর৷ অনুমতি নিয়ে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে
কৌশলে সরে পড়ছিল ৷ আমরা প্রায় তিনশ জনের মত ছিলাম ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) ব্যক্তিগতভাবে
একে একে আমাদের সবার নিকট এলেন ৷ এক পর্যায়ে তিনি আমার নিকট এলেন ৷ আমার নিকট
শত্রুর আক্রমণ থেকে রক্ষার কোন চাল ও ছিল না আর ঠাণ্ডা থেকে বাচার কোন জামা কাপড়ও
ছিল না ৷ আমার ত্রীর একটি ছোট্ট চাদর আমার কাছে ছিল ঘটে ৷ সেটি আমার ইাটুর নীচে
পৌছতাে না ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) আমার নিকট এলেন ৷ তখন আমি মাটিতে ইাটু গেড়ে বসেছিলাম ৷
তিনি বললেন, এ লোকটি কে ? আমি বললাম, আমি হুয়ায়ফ৷ ৷ তিনি বললেন, হুয়ায়ফা! তুমি যে
একেব৷ র মাটির সাথে মিশে আছ ? আমি বললাম , জী হা ইয়৷ রাসুলাল্লাহ্ ! দাড়াতে চাইনা বলে
তা করেছি ৷ এরপর আমি দাড়ালাম ৷ তিনি বললেন, শত্রু শিবিরে একটি অবাক ঘটনা ঘটরে-
তুমি গি গয়ে ওই সৎবা দ নিয়ে আমার নিকট ফিরে আসবে ৷ হুয়ায়ফ৷ (বা) বলেন, আমি তখন ছিলাম
সর্বাধিক ভীতি গ্রস্ত ও ঠাণ্ডা ৷য় আক্রান্ত মানুষ ৷ তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ্ (সা) এর নির্দেশ পা লবনর
জন্যে আমি বের হলাম ৷ তিনি আমার জন্যে দৃ আ করে বললেনং : এ ট্রু,ন্ং ণ্এণ্ ণ্ ৷ স্পো,া ৷ ৷
হে আল্লাহ ওকে
র্হিফাযত করুন আর সামনের দিক থেকে, পেছনের দিক থেকে, ডান দিক থেকে, বাম দিক
থেকে এবং তার উপরের দিক ও নীচের দিক থেকে ৷ হুয়ায়ফ৷ বলেন, আল্লাহর কলম, তখন
থেকে আমার মধ্যে কোন ভীতি বা ঠাণ্ডাকাতর ভাব আসেনি ৷

তিনি বলেন, আমি যখন যাত্রা করলাম তখন রাসুলুল্পাহ্ (সা) বললেন, হে হুয়ায়ফ৷ ! আমার
নিকট ফিরে না আসা পর্যন্ত তুমি শত্রু-শিবিরে কোন ঘটনা ঘটাবে না ৷ হুয়ায়ফ৷ বলেন, আমি বের
হলাম ৷ শত্রু সৈন্যদের কাছাকাছি এসে দেখলাম ওদের ওখানে আগুন জ্বলছে ৷ আগুনের আলোতে
আমি জনৈক হৃষ্টপুষ্ট এবৎ কালো বর্ণের একজন লোককে দেখতে পেলাম ৷ সে আগুন পােহাচ্ছিল
এবৎ কােমরে গরম হাত বুলাচ্ছিল ৷ আর বলছিল, যাত্রা কর ৷ যাত্রা কর ৷ ইতিপুর্বে আমি আবু
সুফয়ানকে চিনতাম না ৷ আমি আমার তুনীর থেকে একটি তীর বের করে ধনুকে যোজন করি ৷
আগুনের আলোতে ওকে স্পষ্ট দেখতে পেয়ে আমি ওই লোকের প্রতি ভীর নিক্ষেপ করতে
যাচ্ছিলাম ৷ হঠ৷ ৷ৎ রাসুলুল্লীহ্ (সা) এর নির্দেশ আমার স্মরণ হল ৷ তিনি বলেছিলেন আমার নিকট
ফিরে না আসা পর্যন্ত কোন ঘটনা ঘটাবে না ৷ আমি থেমে গেলাম ৷৩ ভীর পুনরায়তু নীতে ভরে
নিলাম ৷ এরপর আমি দৃসােহসী হয়ে উঠলড়াম ৷ যেতে যেতে শত্রু সেনাদের ভেতরে ঢুকে


পৃষ্ঠা ২২০ ঠিক করুন

গেলাম ৷ আমার পাশের লোকটি ছিল বনু আমির গোত্রের লোক ৷ তারা ডাকাভাকি করে বলছিল,
হে আমির গোত্রের লোকেরা ! ফিরে চল ৷ ফিরে চল ৷ এখানে আর থাকা যাবে না ৷ শত্রু সৈন্যের
ওখানে শুরু হল প্রচণ্ড ঝঞা বায়ু ৷ ঝড়ের দাপটে ওরা এক বিঘতও সম্মুখে অগ্রসর হতে পারছিল
না ৷ আল্লাহর কসম ! ওদের তাবুতে ও বিছানায় আমি পাথরের শব্দ ওনছিলাম , ঝড়ের আঘাতে
ওই পাথরগুলাে উড়ে এসে ওদের তাবুতে পড়ছিল ৷ এরপর আমি রাসৃলুল্লাহ্ (না)-এর নিকট
আসার জন্যে ফিরতি যাত্রা করি ৷ অর্ধপথ অতিক্রম করার পর আমার সাথে সাক্ষাত হয় পাগড়ী
পরিহিত প্রায় ২০ জন অশ্বারোহী ব্যক্তির ৷ তারা আমাকে বলল, তোমার সাথী অর্থাৎ নবী করীম
(সা) কে জানিয়ে দিবে যে, তার পক্ষে আল্লাহ তাআলা সমস্যা সমাধান করে দিয়েছেন ৷

হুযায়ফা (রা) বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর নিকট ফিরে এলাম ৷ তিনি তার চাদর গায়ে
নামায পড়ছিলেন ৷ আমি ওখানে পৌছার সাথে সাথে আমার শীতের অনুভুতি ফিরে আসে এবং
আমি অসুস্থ বোধ করতে থাকি ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) নামাযে ছিলেন ৷ তিনি আমাকে হাতে ইশারা
করলেন ৷ আমি তার খুব কাছে গেলাম ৷ তার চাদরের এক অংশ তিনি আমার উপর ছেড়ে
দিলেন ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) এর নিয়ম ছিল যে, কোন বড় সমস্যার সম্মুখীন হলে তিনি নামায়ে
মনোনিবেশ করতেন ৷ আমি শত্রু পক্ষের খবর তাকে জানাই যে, আমি দেখে এসেছি ওরা সকলে

চলে যাচ্ছে ৷ বর্ণনাকাবী বলেন, এ প্রসংগে নাযিল হয়েছে :
া,দ্বু দ্বু১

হে মু’মিনগণ! তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহের কথা স্মরণ কর, যখন শত্রু বাহিনী
তোমাদের বিরুদ্ধে সমাগত হয়েছিল এবং আমি ওদের বিরুদ্ধে প্রেরণ করেছিলাম ঝঞা বায়ু এবং
এক বাহিনী যা তোমরা দেখ নাই ৷ তোমরা যা কর আল্লাহ্ তার সম্যক দ্রষ্টা ৷ যখন ওরা তোমাদের
বিরুদ্ধে সমাগত হয়েছিল উচ্চ অঞ্চল ও নিম্ন অঞ্চল হতে তোমাদের চক্ষু বিফারিভ হয়েছিল,
তোমাদের প্রাণ হয়ে পড়েছিল কণ্ঠাগত এবং তোমরা আল্লাহ সম্বন্ধে নানাবিধ ধারণা পোষণ
করছিলে ৷ তখন মু’মিনগণ পরীক্ষিত হয়েছিল এবং তারা ভীষণভাবে প্রকম্পিত হয়েছিল এবং
মুনাফিকগণ এবং যাদের অন্তরে ছিল ব্যাধি , তারা বলছিল , আল্লাহ্ এবং তার রাসুল আমাদের যে
প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা প্রতারণা ব্যতীত কিছুই নয় এবং ওদের একদল বলেছিল, হে
ইয়াছরিববাসী ! এখানে তোমাদের কোন স্থান নেই, তোমরা ফিরে চল, এবং ওদের একদল নবীর
নিকট অব্যাহতি প্রার্থনা করে বলছিল, আমাদের বাড়ীঘর অরক্ষিত অথচ ওগুলো অরক্ষিত ছিল না ৷
আসলে পলায়ন করাই ছিল ওদের উদ্দেশ্যে ৷ যদি শত্রুরা নগরীর বিভিন্ন দিক হতে প্রবেশ করে
ওদেরকে বিদ্রোহের জন্যে প্ররোচিত করত তারা অবশ্যই তা-ই করত ৷ ওরা তাতে কাল বিলম্ব
করত না ৷ এরা তো পুর্বেই আল্লাহর সাথে অংপীকার করেছিল যে, এরা পৃষ্ঠ প্রদর্শন করবে না ৷
আল্লাহর সাথে কৃত অংপীকার সম্বন্ধে অবশ্যই জিজ্ঞেস করা হবে ৷ বলুন, তোমাদের কোন লাভ
হবে না যদি তোমরা মৃত্যু অথবা হত্যার ভয়ে পলায়ন কর এবং সেক্ষেত্রে তোমাদেরকে সামান্যই
ভোগ করতে দেওয়া হবে ৷ বলুন ,কে তোমাদেরকে আল্লাহ্ হতে রক্ষা করবে যদি তিনি তোমাদের
অমংগল ইচ্ছা করেন এবং তিনি যদি তোমাদের অনুগ্রহ করতে ইচ্ছা করেন কে তোমাদের ক্ষতি
করবে ? ওরা আল্লাহ্ ব্যতীত নিজেদের কোন অভিভাবক ও সাহায্যকারী পাবে না ৷ আল্লাহ্ অবশ্যই


পৃষ্ঠা ২২১ ঠিক করুন

জানেন, তোমাদের মধ্যে কারা তোমাদেরকে যুদ্ধে অংশ গ্রহণে বাধা দেয় এবং তাদের ভ্রাতৃ-
বর্গকে বলে “আমাদের সাথে আস” ওরা অল্পই যুদ্ধে অংশ নেয় ৷ তোমাদের ব্যাপারে কৃপণতা
বশত ৷ যখন বিপদ আসে তখন আপনি দেখবেন মৃত্যুভয়ে মুচছাতুর ব্যক্তির মত চক্ষু উল্টিয়ে ওরা
আপনার দিকে তাকিয়ে আছে ৷ কিন্তু যখন বিপদ চলে যায় তখন ওরা বনের লালসায় তোমাদের
-কে তীক্ষ্ণ ভাষায় বিদ্ধ করে ৷ ওরা ঈমান আনেনি ৷ এজন্যে আল্লাহ্ ওদের কার্যাবলী নিম্ফল করেছেন
এবং আল্লাহর পক্ষে তা সহজ ৷ ওরা মনে করে সম্মিলিত বাহিনী চলে যায়নি ৷ যদি সম্মিলিত বাহিনী
আবার এসে পড়ে তখন ওরা কামনা করবে যে, ভাল হত যদি ওরা যাযাবর মরুবাসীদের সাথে
থেকে তোমাদের সংবাদ নিত ৷ ওরা তোমাদের সংগে অবস্থান করলেও ওরা যুদ্ধ অল্পই করত ৷
তোমাদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও আখিরাতাক ভয় করে এবং আল্লাহ্কে অধিক স্মরণ করে তাদের
জন্যে রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ ৷ ঘুমিনগণ যখন সম্মিলিত বাহিনীকে দেখল
ওরা বলে উঠল , এতো আল্লাহ ও তার রাসুল যার প্রতিশ্রুতি আমাদেরকে দিয়েছিলেন এবং আল্লাহ্
ও তার রাসুল আমাদেরকে সত্যই বলেছিলেন, আর তাতে তাদের ঈমান ও আনুগত্যই বৃদ্ধি
পেল ৷ মু’মিনদের মধ্যে কতক আল্লাহর সাথে তাদের কৃত অংগীকার পুর্ণ করেছে, ওদের কেউ
কেউ শাহাদাত বরণ করেছে এবং কেউ কেউ প্ৰতীক্ষায় রয়েছে ৷ ওরা তাদের অংগীকারে কোন
পরিবর্তন করেনি ৷ কারণ, আল্লাহ সতাবাদীদেরকে পুরস্কৃত করেন সতাবাদিতার জন্যে এবং তার
ইচ্ছা হলে মুনাফিকদেরকে শাস্তি দেন অথবা ওদেরকে ক্ষমা করেন ৷ আল্লাহ ক্ষমাশীল পরম
দয়ালু ৷ আল্লাহ্ কাফিরদেরকে ক্রুদ্ধাবস্থায় বিফল মনােরথ হয়ে ফিরে যেতে বাধ্য করলেন ৷ যুদ্ধে
মু’মিনদের জন্যে আল্লাহ্ই যথেষ্ট আল্লাহ্ সর্বশক্তিমান, পরাক্রমশালী ৷ কিতাবীদের মধ্যে যারা
ওদেরকে সাহায্য করেছিল তাদেরকে তিনি তাদের দুর্গ হতে অবতরণে বাধ্য করলেন এবং তাদের
অম্ভরে ভীতি সঞ্চার করলেন ৷ এখন তোমরা ওদের কতককে হত্যা করছ এবং কতককে করছ
বন্দী ৷ এবং তোমাদেরকে অধিকারী করলেন ওদের ভুমি, ঘর-ব সম্পদের এবং এমন
ভুমির যা তোমরা এখনও পদানত করনি ৷ আল্লাহ সর্ব বিষয়ে সর্বশক্তিমান ৷ (৩৩ , আহযাব :
৯-২৭) ৷ “কাফিরদেরকে ক্রুদ্ধ ও ব্যর্থ মনোরথ অবস্থায় আল্লাহ্ তাআলা ফিরিয়ে দিয়েছেন”
অর্থাৎ প্রচন্ড ঝঞা বায়ু, ফিরিশতা এবং অন্যান্য উপায়ে আল্লাহ্ তাআলা কাফিরদেরকে ফিরে
যেতে বাধ্য করেছেন ৷ “ঘু’মিনদের জন্যে যুদ্ধে আল্লাহ্ই যথেষ্ট” অখাৎ মু’মিনদের যুদ্ধ করতে
হয়নি, শত্রুর মুখোমুখি হতে হয়নি; বরং সর্বশক্তিমড়ান আল্লাহ্ তাআলা নিজ কুদরত ও শক্তিতে
শত্রুপক্ষকে পরাজিত করে ব্যর্থ মনােরথ হয়ে ফিরে যেতে বাধ্য করেছেন ৷

সহীহ্ ৰুখারী ও সহীহ্ মুসলিমে এ বিষয়ে বর্ণিত আছে যে, আবু হুরায়রা (বা) থেকে বর্ণিত ৷
রাসুলুল্লাহ্ (সা) এ বাক্য পাঠ করতেন :

হু১;, ;া;,;ৰুা৷ হুদ্ভু;ষ্, হু১চুড্ৰু হ্রহ্রা, ১পু হু );ব্ল;, হু;;, ;,১;ং হু১;, হ্রা৷ ৷ ৰু৷ ৷ ; ৷ ৰুা

১াট্রু

আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ্ নেই ৷ তিনি একক, তিনি তার প্রতিশ্রুতি পুর্ণ করেছেন, তার

বান্দাকে সাহায্য করেছেন, তার সৈন্যবাহিনীকে বিজয় দান করেছেন ৷ তিনি একাই সম্মিলিত
শত্রুবাহিনীকে পরাজিত করেছেন ৷ তিনি ব্যতীত কিছুই চিরস্থায়ী নয় ৷ আল্লাহ্ তাআলার বাণী :


পৃষ্ঠা ২২২ ঠিক করুন

( ধ্এো৷ ৷ ,গ্রাৰুপু ৷ ণ্া৷ ৷ প্রু;ষু, মু’মিনদের জন্যে যুদ্ধে আল্লাহ্ই যথেষ্ট) আয়াতে এই
ইঙ্গিত রয়েছে যে, মুসলমানদের মাঝে ও মক্কা র মুশবিকদের মাঝে যুদ্ধাবস্থ৷ শেষ হয়ে গিয়েছে ৷
মুশরিকদের পক্ষ থেকে আক্রমণের দিন শেষ হয়ে গিয়েছে ৷ বাস্তবে তাই ঘটেছে ৷ খন্দকের যুদ্ধ
থেকে পালানাের পর কুরায়শ সম্প্রদায় আর কোন সময় মুসলমান৷ দর উপর আক্রমণ করতে
পারেনি ৷ যুদ্ধ চাপিয়ে দিতে পারেনি ৷ এ প্রসং গে মুহাম্মাদ ইবন ইসহাক (র) বলেছেন যে,

খন্দকের যুদ্ধে উপস্থিত কুরায়শ বাহিনী খন্দক যুদ্ধ ক্ষেত্র থেকে ফিরে যাওয়ার পর র ৷সুলুল্লাহ্ (সা)
বলেছিলেন : এই বছরের পর
কুরায়শরা আর কখনও তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে আসবে না যুদ্ধ আক্রমণ করবে না; বরং
তােমারই ওদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ আক্রমণ করবে ৷ বর্ণনাকারী বলেন, বস্তুতঃ এরপর কুরায়শরা আর
কােনদিন মুসলমানদের বিরুদ্ধে আক্রমণ করতে আসেনি ৷ বরং রাসুলুল্লা হ্ (সা) ও তার সাহাবীগণ

কুরায়শদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন ৷ এমন হতে হতে এক পর্যায়ে আল্লাহ তা জানা মক্কা বিজয়
করিয়েছিলেন ৷ এটি ইবন ইসহাকের বর্ণনা ৷

ইমাম আহমদ (র) বলেছেন, ইয়াহ্ইয়া — সুলায়মান ইবন সারদ (রা) থেকে বর্ণিত ৷
তিনি বলেন যে, রাসুলুল্লাহ্ (সা) বলেছেন : এখন আমরা ওদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব, ওরা আমাদের
বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে আসবে না ৷ ইমাম বৃখারী (র) ইসমাঈল ও সুফিয়ান ছাওরী সুলায়মান
ইবন সারদ সুত্রে এরুপ বর্ণনা করেছেন ৷

ইবন ইসহাক বলেন, খন্দকের যুদ্ধে বনু আবৃদ আশহাল গোত্রের তিনজন লোক শহীদৃ ন্
হয়েছিলেন ৷ তারা হলেন সাদ ইবন মুআয (বা) তার শাহাদত বরণের বিস্তারিত আলােচন রে
আসবে ৷ আনাস ইবন আওফ ইবন আতীক ইবন আমর এবং আব্দুল্লাহ ইবন সাহল ৷ এছাড়া
আরো যারা শহীদ হয়েছিলেন তারা হলেন তৃফায়ল ইবন নুমান , ছালাব৷ ইবন পানামা তারা
দু’জন জুশৃম গোত্রের লোক এবং কাব ইবন যায়দ আল নাজ্জারী একটি অজ্ঞাতনাম৷ তীরের

াঘাতে তিনি শহীদ হন ৷

ইবন ইসহাক বলেন, ওই যুদ্ধে মুশরিক পক্ষে নিহত হয় তিনজন ৷ তারা হল মুনাববিহ ইবন
উছমান ইবন উবায়দ ইবন সাববাক ইবন আবদুদ্দার ৷ সে তীরের আঘাতে আহত হয়েছিল এবং
মক্কা য় পৌছে মারা যায় ৷ নাওফল ইবন আব্দুল্লাহ ইবন মুর্গীরা ৷ সে যে ৷ড়াসহ পরিখার মধ্যে নেমে
পড়েছিল ৷৩ তারপর সেখানে ছুটোছুটি করছিল ৷ সেখানেই সে নিহত হয় ৷ তার লাশে র বিনিময়ে
মোটা অংকের অর্থ দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল মুশরিক পক্ষ ৷ এ বিষয়টি ইতিপুর্বে আলোচিত
হয়েছে ৷ মুশ ৷রিকদের ততীয় নিহত ব্যক্তি হল আমর ইবন আবৃদ উদ্দ আমিরী ৷ হযরত আলী ইবন
আবু ত ৷লিব (রা) তাকে হত্যা করেন ৷

ইবন হিশাম বলেন, বিশ্বস্ত সুত্রে আমি জেনেছি যে, যুহরী বলেছেন, ওই দিন হযরত
আলী (রা) আমর ইবন আবৃদ উদ্দ এবং তারপুত্র হাস্ল ইবন আমর দু’জনকেই হত্যা
করেছিলেন ৷ ইবন হিশাম বলেন, কেউ বলেছেন, ওর নাম আমর ইবন আবৃদ উদ্দ আর কেউ
বলেছেন আমর ইবন আবৃদ ৷



Execution time: 0.03 render + 0.01 s transfer.