Login | Register

আল বিদায়া ওয়ান্নিহায়া - খন্ড ৪

পৃষ্ঠা ১৮২ ঠিক করুন

তাকে তার সাথীদের সম্পর্কে জাি,জ্ঞস করেন ৷ সে বলে যে, ওরা সবাই পুর্বের দিন এলাকা ছেড়ে
পালি য় গিয়েছে ৷ রাসুলুলাহ (না) তাকে ইসলাম গ্রহণের প্রস্তাব দিলেন, যে ইসলাম গ্রহণ করে ৷
রাসুলুল্লাহ্ (স ) মদীনায় ফিরে এলেন ৷

ওয়াকিদী বলেন রাসুলুল্লাহ্ ( সা ) দুমাতুল জানদা ল অভিযানে ৷ররিয়েছিলেন ৫ম হিজরীর
রবীউ ল আখের মাসে ৷ ওয়াকিদী এও বলেন যে ওই মাসেই স৷ দ ইবন উবাদ৷ ৷(রা) এর মা
ইনতিকাল ৷করেন ৷ তখন স৷ দ (রা) রাসৃলুল্লাহ্( সা)-এর সাথেই ছি?ণ্ষ্ান ৷

ইমাম আবু ঈসা তিরমিযী তার জামি গ্রন্থে বলেছেন, মুহাম্মাদ ইবন বাশৃশার সাঈদ
ইবন মুসাব্যিব (র) থেকে বংনাি করেন যে, সাদ (বা) এর ম যখন মারা যান তখন রাসুলুল্লাহ্
(সা) মদীনায় ছিলেন না ৷ মদীনায় প্রত্যাবর্তনের পর তিনি মরহুমার জাল নামায আদায় করেন ৷
মৃত্যুর একমাস পর তিনি এই নামায আদায় করেন ৷ এটি একটি উত্তম ঘুরসাল পদ্ধতির হাদীছ ৷
এতে প্ৰ৩ ভীয়মান হয় যে নাসুলুল্ল হ (না) এই যুদ্ধ উপলক্ষে প্রায়এ ক পান বা ততোধিক সময়
মদীনায় অনুপস্থিত ছিলেন ৷ যেমনটি ওয়াকিদী বলেছেন ৷

খন্দক বা আহযাবের যুদ্ধ

এ প্ৰসংণে আল্লাহু তা আ ল৷ সুরা আহয়াধেয় প্ৰথ ৷ দিকের আয়া৩ ওগুলো অবতীর্ণ করেন ৷
আল্লাহ তাআলা বলেন &


অর্থাং হে মুমিনগণ ৷ তোমরা তোমাদের প্ৰতি অল্লোহ্র অনুগ্রহের কথা স্মরণ কর, যখন
শত্রুবাহিনী তোমাদের বিরুদ্ধে সমাগত হয়েছিল এবং আমি ওদের বিরুদ্ধে প্রেরণ করেছিলাম
ঝঞা বার এবং এক বাহিনী যা তোমরা দেখনি ৷ তোমরা য৷ কর আল্লাহ্ তার সম্যক দ্রষ্ট৷ ৷ যখন
ওরা তোমাদের বিরুদ্ধে সমাণত হয়েছিল ডচ্চ অঞ্চল ংনিম্ন অঞ্চল হতে তোমাদের চক্ষু
বিম্ফারিত হয়েছিল , তোমাদের প্রাণ হয়ে পড়েছিল কণ্ঠাণত এবং তোমরা আল্লাহ সম্পর্কে নানাবিধ
ধারণা পোষণ ৷করছিলে ৷ তথাং ম’মিনগণ পরীক্ষিদ্ হয়েছিল এবং তারা ভীযণভাবে প্রকম্পিত
হয়েছিল এবং মুনাফিকরা ও যাদের অম্ভার ছিল বাধিত তারা বলছিল আল্লাহ্ এবং তার রাসুল
আমাদেরকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তা প্রতারণা ব্যভীত কিছুই নয় ৷ এবং ওদের একদল
বলেছিল হে ইয়াছরিররাসী ৷ এখানে তোমাদের কোন স্থান নেই, তোমরা ফিরে চল এবং ওদের
মধ্যে একদল নবীর নিকট অব্যাহতি প্রার্থনা করে বলছিল, আমাদের বাড়ী ঘর অরক্ষিত ৷ অথচ
ওগুলো অরক্ষিত :ি ল না অ৷ ৷-সরু’৷ পলায়ন করাই ছিল ওদের উদ্দেশ্য ৷ যদি শত্রুর৷ নগরীর বিভিন্ন
দিক হতে প্রবেশ করে ওদের৫ক’ বািদ্রাহের জ্যনা প্ৰরোচিত করত ন্ব্রার৷ অবশ্য তা-ই করে বসত,
তারা তাতে কাল ধিলম্ব করত না ৷ এরাতাে পুর্বেই আল্লাহ্র সাথে অৎগীকার করেছিল যে, এরা
পৃষ্ঠ প্ৰদশ্নি করে, পালাবে না শ্ আল্লাহর সাথে কত অত্গীকার সম্বন্ধে অবশ্যই জিজ্ঞেস করা হবে ৷
বলুন, তোমাদের কোন লাভ হবে না যদি তোমরা মৃত্যু অথবা হত্যার ভয়ে পলায়ন কর এবং


পৃষ্ঠা ১৮৩ ঠিক করুন


সেক্ষেত্রে তোমাদেরকে সামান্যই ভোগ করতে দেয়া হবে ৷ বলে দিন, কে তোমাদেরকে আল্লাহ
হতে রক্ষা করবে ৷ যদি তিনি তোমাদের অমংগল ইচ্ছা করেন এবং তিনি যদি তোমাদেরকে
অনুগ্রহ করতে ইচ্ছা করেন কে তোমাদের ক্ষতি করবে ? ওরা আল্লাহ ব্যতীত নিজেদের কোন
অভিভাবক ও সাহায্যকারী পাবে না ৷ আল্লাহ অবশ্যই জানেন তোমাদের মধ্যে কারা তোমাদেরকে
যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করতে বাধা দেয় এবং তাদের ভ্রাতৃবর্গকে বলে “আমাদের সংগে এস ৷ ” ওরা
অল্পই যুদ্ধে অংশ নেয় তোমাদের ব্যাপারে কৃপণতাবশত যখন বিপদ আসে তখন আপনি
দেখবেন মৃত্যু ভয়ে মুচ্ছড্রির ব্যক্তির ন্যায় চক্ষু উল্টিয়ে ওরা আপনার দিকে তাকিয়ে আছে ৷ কিন্তু
যখন বিপদ চলে যায় তখন ওরা বনের লালসায় তোমাদেরকে ভীক্ষ্ণ ভাষায় বিদ্ধ করে ৷ ওরা ঈমান
আসে নাই, এজন্যে আল্লাহ ওদের কার্যাবলী নিম্ফল করেছেন এবং আল্লাহর পক্ষে তা সহজ ৷ ওরা
মনে করে , সম্মিলিত বাহিনী চলে যায়নি ৷ যদি সম্মিলিত বাহিনী আবার এসে পড়ে, তখন ওরা
কামনা করবে যে, ভাল হত যদি ওরা যাযাবর মরুবাসীদের নাথে থেকে তোমাদের সংবাদ নিত ৷
ওরা তোমাদের সাথে অবস্থান করলেও ওরা যুদ্ধ অল্পই করত ; ণ্তামাদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও
আখিরাতকে ভয় করে এবং আল্লাহ্কে অধিক স্মরণ করে তাদের জন্যে রাসুলুল্লাহ (না)-এর মধ্যে
রয়েছে উত্তম আদর্শ ৷ ঘু’মিনগণ যখন সম্মিলিত বাহিনীকে দেখল ওরা বলে উঠল , এটি তো তাই
আল্লাহ ও তার রাসুল যার প্রতিশ্রুতি আমাদেরকে দিয়েছিলেন এবং আল্লাহ ও তার রাসুল সতাই
বলেছেন ৷ আর এতে তাদের ঈমান ও আনুগত্যই বৃদ্ধি পেল ৷ মু’মিনদের মধ্যে কতক আল্লাহর
সাথে তাদের কৃত অংপীকার পুর্ণ করেছে, ওদের কেউ কেউ শাহাদত বরণ করেছে ৷ ওদের কেউ
কেউ প্রভীক্ষায় রয়েছে, তারা তাদের অংপীকারে কোন পরিবর্তন করেনি ৷ কারণ, আল্লাহ
সতবােদীদেরকে পুরস্কৃত করেন ৷ সতবােদিতার জন্যে এবং তার ইচ্ছা হলে ঘুনাফিকদেরকে শাস্তি
দেন অথবা ওদেরকে ক্ষমা করেন ৷ আল্লাহ ক্ষমাশীল পরম দয়ালু ৷ আল্লাহ কাফিরদেরকে
ক্রুদ্ধাবন্থায় বিফল মনােরথ হয়ে ফিরে যেতে বাধ্য করলেন ৷ যুদ্ধে মু’মিনদের জন্যে আল্লাহ্ই
যথেষ্ট ৷ আল্লাহ সর্বশক্তিমান পরাক্রমশালী ৷ কিতাবীদের মধ্যে যারা ওদেরকে সাহায্য করেছিল
তাদেরকে তিনি তাদের দুর্গ থেকে অবতরণে বাধ্য করলেন এবং তাদের অন্তরে ভীতির সঞ্চার
করলেন; এখন তোমরা ওদের কতককে হত্যা করছ এবং কতককে করছ বন্দী, এবং তিনি
তােমাদেরকে অধিকারী করলেন ওদের ভুমি, ঘববাড়ী ও ধন-সম্পদের এবং এমন ভুমির যা
তোমরা এখনও পদানত করনি, আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান ৷ (৩৩-আহযাব : ৯-২ ৭ ৷)

উপরোক্ত আয়াতগুলাের প্ৰতেকেটি সম্পর্কে আমরা তাফসীর গ্রন্থে বিস্তারিত আলোচনা
করেছি ৷ সকল প্রশংসা মহান আল্লাহর ৷ এখানে আমরা সংশ্লিষ্ট যুদ্ধ সম্পর্কিত বিষয়গুলো
আলোচনা করব ইনশাআল্লাহ্ ৷

খন্দকের যুদ্ধ সংঘটিত হয় ৫ম হিজরীর শাওয়াল মাসে ৷ ইবন ইসহড়াক, উবওয়া ইবন যুরায়র ,
কাতাদ৷ , বায়হাকী এবং প্রাচীন ও আধুনিক যুগের বহু উলামা-ই-কিরাম এ বিষয়ে সুস্পষ্ট দলীল
প্রমাণ পেশ করেছেন ৷ মুসা ইবন উক্বা যুহরী থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন,
খন্দকের যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে : র্থ হিজরীর শাওয়াল মাসে ৷ আহমদ ইবন হাম্বল (র) মুসা ইবন
দাউদের বরাতে ইমাম মালিক থেকে অনুরুপ বর্ণনা করেছেন যে, বায়হাকী (র ) বলেন, মুলত


পৃষ্ঠা ১৮৪ ঠিক করুন

এখানে কোন ভৈবপরী৩ ত নেই ৷ কারণ,ারাত : র্থ হিজরী বলে এ কথা বুঝিয়েছেন যে, যুদ্ধটি
ৎঘটিত হয়েছে হিজরী : র্থ বছর পুর্ণ হবার পর এবং ৫ম বছর পুর্ণ হবার পুর্বে ৷

এটা নিশ্চিত যে উহুদ যুদ্ধ থেকে প্ৰতাবর্তনের সময় মুশরিকরা পরবর্তী বছর পুনরায় বদর
প্রান্তরে যুদ্ধের আগাম ঘোষণা দিয়ে গিয়েছিল ৷ সেই যুতাবিক রাসুলুন্ব: হ্ ( সা) তার সাহাবীগণকে
নিয়ে : র্থ হিজরীর শা বান মাসে বদর প্ৰাম্ভরে উপস্থিত ৩হন ৷ আর দুর্ভিক্ষের বাহানা দিয়ে আবু
সুফিয়ান তার কুরায়শী বাহিনী নিয়ে মক্কায় ফিরে যায় ৷ এ পরিস্থিতিতে মাত্র দু” মাস পর তাদের
মদীনা আক্রমণ করা সম্ভব ছিলনা ৷ ফলে এটি নিশ্চিতভারে জা না (গল <য, পরবর্তী বছরের অর্থাৎ
৫ম হিজরীর শাওয়াল সালে তারা মদীনা আক্রমণের জন্যে এসেছিল ৷

ঘুহরী স্পষ্ট বলেছেন যে, উহুদ যুদ্ধের দু’ বছর পর খন্দকের যুদ্ধ সংঘটিত হয় ৷ এতে কারো
াদ্বমত নেই যে, উহুদ যুদ্ধ সৎঘ টিতহয়েছিল ৩য় হিজরী সনের শাওয়াল মাচস ৷ অবশ্য কেউ কেউ
বলে থাকেন যে, রাসুলুল্লাহ্ (সা ) এর হিজরভ্রুতর পরবর্তীমুহাররম মাস থেকে হিজবী সন গণনা
শুরু হয় ৷ তারা হিজরস্তু৩ তর বছরের রবীউল আওয়াল হতে ৩যিলহজ্জ মাস পর্যন্ত এই মাসগুলোকে
গণনায় আনয়ন করেন না ৷ বায়হাকী এটি উদ্ধৃত করেছেন ৷ ইয়াকুব ইবন সুফিয়ান ফাসাবী এই
মতের সমর্থক ৷ এই দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি সুস্পষ্টভা বে বলেন যে, বদরের যুদ্ধ অনুষ্ঠিত হয়েছে
১ম হিজরীতে, উহুদ ২য় হিজরীতে, বদর-ই ছানী ততীয় হিজরীর শা বান মাসে এবং খন্দকের যুদ্ধ
ৎযটিত হয় : র্থ হিজরী সনে ৷ ১ম হিজরীর মাস গুলো বাদ দিয়ে হিজরী সন গণনা করাটা জমহুর
তথা অধিকাৎশ ইমামের ঐক্যবদ্ধ অডিমবু৩ তর বিরোধী ৷৷ কারণ এটা সুপ্ৰসিদ্ধ যে হযরত ৩উমর
ইবন খঃা তোর (রা) )হিজরতের ১লা যুহাররম কে হিজবী বর্ষপঞ্জির পথম দিবস হিসেবে নির্ধারণ
করেছিলেন ৷ অন্যদিকে ইমাম মালিক (র) হিজররুত তর বছরের রবীউল আওয়াল মাস থেকে হিজরী
সনের সুচনা বলে মত প্রকাশ করেছেন ৷ ফলে হিজরী সনের সুচনাসষ্পর্কে তিনটি অভিমত
বিদ্যমান ৷ আল্লাহ্ই ভাল জানেন ৷
বিশুদ্ধ মত হলো জমহুরের অভিমত যে, উহুদ যুদ্ধ তত য় হিজরীর শাওয়াল মাসে এবং
খন্দকের যুদ্ধ ৫ম হিজরীর শাওয়াল সালে সংঘটিত হয় ৷ তবে সহীহ্ বুখারী ও সহীহ্ মুসলিমে
উবায়দুল্লাহ্ভ্রু সুএে এানাফি থেকে বর্ণিত যে, ইবন উমর (রা) বলেছেন উহুদ যুদ্ধের সময় আমার
বয়স ছিল ১৪ বছর ৷ যুদ্ধে অং শ গ্রহণের জন্যে আমি নিজেকে রাসুলুল্লাহ্ (সা) এর নিকট পেশ
করলে তিনি আমাকে ৩াণুনা৩ পেনান ৷ খস্পাকের যুদ্ধের সময় আমি নিজেকে তীর নিকট পেশ
করি ৷ তখন আমার বয়স ১৫ বছর ৷ তিনি এবার আমাকে যুদ্ধে যাবার অনুমতি দিলেন ৷ ইবন
উমর (রা) এর এ বক্তব্য সম্পর্কে উলামা-ই-কিরাম বিভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন ৷ এ প্রসৎগে বায়হাকী
বলেছেন যে, উহুদ যুদ্ধের দিবসে তিনি যখন নিজেকে রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর নিকট পােণ করেছেন
তখন তার চৌদ্দতম বছর মাত্র শুরু হয়েছিল ৷ আর খন্দকের যুদ্ধের দিবসে যখন তিনি নিজেকে
পেশ করেছিলেন তখন তীর বয়স ১৫ বছর পুর্ণ হওয়ার শেষ পর্যায়ে ছিল ৷
আমি বলি, এমন ব্যাথ্যাও দেয়া যায় যে, খন্দকের যুদ্ধের দিলে তিনি যখন নিজেকে রাসুলুল্লাহ্
(না)-এর নিকট পেশ করেছিলেন তখন তীর বয়স ১৫ বছর পুর্ণ হয়ে গিয়েছিল ৷ সাধারণতঃ ১৫
বছর পুর্ণ হলে বালকদেরকে যুদ্ধে যাবার অনুমতি দেয়া হত ৷ ১৫ বছরের অধিক হবার জন্যে




পৃষ্ঠা ১৮৫ ঠিক করুন

অনুমতি আটকে থাকত না ৷ এ জন্যে নাফি যখন এই হাদীছ উমর ইবন আবদুল আযীযের নিকট
পাঠান তখন এই মন্তব্য করেছিলেন যে, নাবালক ও সাবালকের মধ্যে সীমা নির্ধারণকারী মানদণ্ড
হল এটি ৷ত তারপর তিনি এই হাদীছ ও এই মন্তব্য সব জায়গায় পীছিয়ে দেন ৷ জমহুব তথা
অধিকাৎশ আলিম এটাকেই নির্ভরযোগ্য অভিমত বলে গ্রহণ করেক্ষ্রুহৃহুন ৷ আল্লাহ্ইত ভাল জানেন ৷

ইবন ইসহাক ও প্রমুখ খন্দকের যুদ্ধের ঘটনা এভাবেই উল্লেখ করেছেন ৷ ইবন ইসহাক
বলেছেন, তারপর কথা হল ৫ম হিজরী সনের শাওয়াল মানেই ন্দকের যুদ্ধ সংঘটিত হয় ৷ এ
প্ৰসংগে আমার নিকট বংনাি করেছেন উবায়দুল্লাহ্ ইবন কাব ইবন মালিক থেকে ৷ আরো বংনাি
করেছেন, মুহাম্মাদ ইবন কা’ব কুরাযী, যুহরী, আসিম ইবন উমার ইবন কাতাদ৷ এবং আবদুল্লাহ
ইবন আবুবকর প্রমুখ ৷ত তাদের কেউ এমন তথ্য বর্ণনা করেছেন য সনাের বর্ণনায় নেই ৷ তবে
তারা সকলে বলেছেন, খন্দক যুদ্ধের পটভুমি এই যে, ইয়াহদী <নতা সালাম ইবন আবুল হুকায়ক
নয়রী, হুয়৷ ৷ই ইবন আখতার, কিনান৷ ইবন রা ৷বী ইবন আবুল হুকায়ক, হাওয৷ ইবন কায়স ওয়া ৷ইলী
এবং আবু আম্মার ওয়াইলীর নেতৃত্বে বনু নবীর ও বনু ওয়াইল পত্রের কতিপয় লেকে মিলে
রাসুলুল্লাহ্ (সা ) এর বিরুদ্ধে একটি (জ ট বাধে ৷ তারা একসময় মক্কায় কুরায়শদের নিকট
উপ ত হয় ৷ তার৷ কুরায়শীদেরকে রাসুলুল্লাহ্ (সাৰু)-এর বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ গ্রহণের আহ্বান
জানায় ৷ তারা আশ্বাস দিয়ে বলে যে, মুহাম্মাদ (সা) কে সমুলে উৎখাত না করা পর্যন্ত আমরা
তোমাদের সাথে থাকবই ৷ কুরায়শী লোকেরা তাদেরকে বলল, হে ইয়াহদী সম্প্রদায় ! আমরা
এবং ঘুহ৷ ম্মাদ (সা) যে বিষয়ে মতভেদ করছি তা সৃষ্টি হওয়ার পুর্বেকা র কিতাবের তোমরা অনুস৷ ৷রী
এবং তোমরা তখনও জ্ঞা ৷নবান ছিলে, আচ্ছা তোমরা ৷ই বল আমাদের ধর্ম ভ ৷,ল না কি মুহাম্মাদের
(সা) ধর্ম ? ইয়াহদী জোটের লোকেরা বলল, ওে ৷মাদের ধর্মই ররৎ৩ার ধর্মের চাইতে উত্তম ৷
তোমরা ৷ই সব্লু৩ তার অধিকতর নিকটবর্তী, সকল ইয়াহ্রদীদের সম্পর্কে আল্লাহ্ তাআল৷ বলেন :

;ন্হ্রন্ওৰুএে ৷১ ণ্ত্রা
শ্ষ্ ; শ্ ৷০ষ্ ব্ল : শ্ :ষ্ধ্শ্০ ; শ্ ণ্াশ্ ! ষ্ষ্ৰুণ্শ্ষ্ন্, শ্০০প্টেশ্
৷ ঠুষ্টুার্মু
আপনি কিত ৷দেরকে দেখেননি যাদেরকে কিতাবের এক অংশ দেয়া হয়েছিল ৷ তারা আল্লাহ
ব্যতীত অন্যান্য উপাসে৷ বিশ্বাস করে ৷ তারা ক ফিবদেব সম্বন্ধে বলে, এদেরই পথ ঘুমিনদের

চেয়ে প্রকৃষ্টত র ৷ এরাই তারা যাদেরকে আল্লাহ লা নত করেছেন ৷ এবং আল্লাহ যাকে লা নত
করেন আপনি তার জন্যে কখনো কোন সাহায্যক৷ ৷বী পাবেন না ৷ (৪ নিস৷ ৫ ১ ৫২) ৷

তাদের উত্তর শুনে কুরায়শরা মহা খুশী ৷ তারা রাসুলুল্লাহ্ (সা) এর বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তাবে
সানন্দে রাষী হয়ে গেল ৷ তারা সকলে একমত হল এবং যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে লাগল ৷ এরপর
ইয়াহদী দল পাতফান গোত্রের নিকট যায় ৷ তাদেরকে রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ
নিতে প্ৰরোচিত করে ৷ নিজেরা এই যুদ্ধে অংশ নেবে বলে প্রতিশ্রুতি তারা পাতফানীদেরকে
দেয় ৷ কুরায়শরা যে যুদ্ধে শরীক হবে সে সৎবাদও তারা জানান ৷ পাতফড়ানীরা তাদের সাথে
একাত্মত৷ ঘোষণা করল ৷

২৪ ——

পৃষ্ঠা ১৮৬ ঠিক করুন

যথা সময়ে আবু সুফিয়ানের নেতৃত্বে কুরায়শরা উয়ায়না ইবন হিসান ইবন হুযায়ফা ইবন বদর
-এর নেতৃত্বে পাতফানীরা ও ফাযাবীরা, হারিছ ইবন আওফ ইবন আবু হারিছা মুররী এর নেতৃত্বে
বনু মুররা গোত্রের লোকজন এবং মিসআর ইবন রুখড়ায়লা ইবন নুওয়ায়রা এর নেতৃত্বে আশজাঈ
গোত্রের লোকেরা যুদ্ধের জন্যে বের হয় ৷ ওদের আগমন ও পরিকল্পিত যুদ্ধ প্রন্তুতির সংবাদ শুনে
রাসুলুল্লাহ্ (সা) মদীনার সীমানায় পরিখা (খন্দক) খননের নির্দেশ দিলেন ৷ ইবন হিশাম বলেন,
পরিখা থননের পরামর্শ দিয়েছিলেন হযরত সালমান ফাবেসী (রা ) ৷

তাবারী ও সুহায়লী বলেন, যুদ্ধে সর্ব প্রথম পরিখা খনন করেছিল , মনুচেহ্র ইবন ঈরাজ ইবন
আফবীদুন ৷ সে ছিল মুসা (আ)-এর যুগের লোক ৷ ইবন ইসহাক বলেন, মুসলমড়ানদেরকে এ
ছাওযাবের কাজে উৎসাহিত করে রাসুলুল্লাহ্ (সা) নিজেও পরিখা খননে অংশ নেন ৷ মুসলিম
সৈনম্পোণ তার সাথে পরিখা খনন করেন ৷ মুনাফিকদের একটি দল শারিরীক দৃর্বলতার অজুহাতে এ
কাজ থেকে বিরত থাকে ৷ তাদের কতক আবার রাসুলুল্লাহ্ (ৰুন্ন্দ্)এ্যা অনুমতি ও অবগতি
ব্যতিবেকে চুপিসারে পালিয়ে যায় ৷ এ সম্পর্কে আল্লাহ্ তাআলা আয়াত নাযিল করে বলেন :

তারাই মু’মিন যারা আল্লাহ্ এবং তার রাসুলের প্রতি ঈমান আসে এবং রাসুলের সাথে
সামষ্টিক ব্যাপারে একত্র হলে তার অনুমতি ব্যতীত সরে পড়েনা ৷ যারা আপনার অনুমতি প্রার্থনা
করে তারাই আল্লাহ্ এবং তার রাসুলে বিশ্বাসী ৷ অতএব, তারা তাদের কোন কাজে বাইরে যাবার
জন্যে আপনার অনুমতি চাইলে তাদের মধ্যে যাদেরকে ইচ্ছা আপনি অনুমতি দেবেন এবং তাদের
জন্যে আল্লাহ্র নিকট ক্ষমা প্রার্থাংড়া করবেন ৷ আল্লাহ্ ক্ষমাশীল , পরম দযালু ৷ রাসুলের অড়াহ্বানকে
তোমরা (তামাদের একে অপরের প্রতি আহ্বানের ন্যায় গণ্য করো না , তোমাদের মধ্যে যারা চুপি
চুপি সরে পড়ে আল্লাহ্ তাদেরকে জানেন ৷ সুতরাং যারা তার আদেশের বিরোধিতা করে তারা
সতর্ক থাকুক যে, বিপর্যয় তাদের উপর আপতিত হবে অথবা আপতিত হয়ে তাদের উপর কঠিন
শাস্তি ৷ জেনে রেখো, আকাশরাজি ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে তা আল্লাহ্রই ৷ তোমরা যাতে
ব্যাপৃত তিনি তা জানেন, যেদিন তারা তার নিকট প্রত্যাবর্তিত হবে সেদিন তিনি তাদেরকে জানিয়ে
দেবেন, তারা যা করত ৷ আল্লাহ্ সর্ব বিষয়ে সর্বজ্ঞ ৷ (২৪ নুর : ৬২-৬৪ ) ৷

ইবন ইসহাক বলেন, মুসলিম সৈন্যগণ পরিখা খনন করতে লেগে গেলেন এবং উত্তমভাবে
তা সম্পন্ন করলেন ৷ জনৈক মুসলমানকে উপলক্ষ করে তারা কবিতা ও আবৃত্তি করেছিলেন ৷
ল্যেকটির নাম ছিল জুআঈল ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) তার নামকরণ করেন আমর ৷ তখন মুসলমানগণ
নিম্নের কবিতা আবৃত্তি করলেন :

৪১১ ১১ ,,ন্ওঞ ১ব্লে১ ৷বুন্ন্হ্ন,ন্ান্ন্১ট্ব্ল ,ণ্হ্১ পু>:ণ্ ’০শু১
রাসুলুল্লাহ্ (সা) তার নাম রাখলেন আমর ৷ প্রথমে তার নাম ছিল জুআঈল ৷ এক সময় সে
ফকীর মিসকীন ও অভাবীদের সাহায্যকারী ছিল ৷

কবিতা আবৃত্তি করতে গিয়ে ওার৷ যখন আম র৷ ণ্৷ উচ্চারণ করতেন তখন রাসুলুল্লাহ্ (সা)-ও
তাদের সাথে আমরান উচ্চারণ করতেন ৷ তারা যখন যাহরান” উচ্চারণ করতেন তখন তিনিও
“যাহরান” উচ্চারণ করতেন ৷




পৃষ্ঠা ১৮৭ ঠিক করুন

বুখারী (র) বলেছেন, আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মাদ আনাস (বা) সুত্রে বলেছেন, রাসুলুল্লাহ্
(সা) পরিখ৷ এলাকায় গমন করলেন ৷ তিনি সেখানে দেখতে পেলেন যে, শীতকালের ভোর
বেলায় আনসার ও মুহাজিরগণ পরিখ৷ খনন করছেন ৷ র্তাদের পক্ষ হয়ে কাজ করে দেয়ার মত
কোন দাস র্তাদের ছিল না ৷ র্তাদের দুঃখ কষ্ট ও ক্ষুধা দেখে তিনি দুআ করে বললেন,


হে আল্লাহ ! আখিরাতের জীবনই প্রকৃত জীবন ৷ আপনি আনস৷ র ও মুহাজিরদেরকে ক্ষমা
করে দিন ৷ রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর দৃআর জবাবে র্তারা বললেন ঘ্র


আমরা মুহাম্মাদ (সা) এর হাতে বায় আত করেছি এবং মঙ্গীকার করেছি যে যত দিন বেচে
থাকর জিহ৷ ৷দ করেই যাব ৷

সহীহ্ বুখারী ও সহীহ্ মুসলিমে শুব৷ আনাস (বা) সুত্রে অনুরুপ হাদীছ বর্ণিত আছে ৷
ইমাম মুসলিম (র) হাম্মাদ আনাস (বা) সুত্রে অনুরুপ উদ্ধৃত করেছেন ৷ ইমাম বুখারী (র)
বলেছেন, আবুমামার আনাস (রা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, মদীনার সীমানায়

আনসার ও মৃহাজিরগণ পরিখ৷ খনন করছিলেন, নিজেদের পিঠে করে তারা মাটি বহন করছিলেন,
এবং এ কবিতা আবৃত্তি করছিলেন :

া’;টু’৷ ৷ৰু,ট্রু;ঠুাট্রু ট্রু,ট্রু;এ ৷ ;,শ্ট্রু
আমরা মুহাম্মাদ (সা) এর হাতে বায় আত করেছি এ বিষয়ে যে য়৩ তদিন বেচে থাকি
ইসলামের পথে অবিচল ও অটল থাকর ৷
তাদের কবিতার জবাবে রাসুলুল্লাহ্ (সা) বললেন :

ণ্

স্পোা৷৷ ৷

বর্ণনাকা বী বলেন, পরিখ৷ খননের এই কষ্টময় সময়ে র্তাদের খাদ্য হিসেবে আজলা ভরে য়ব

আনা হতে৷ আর দুর্গন্ধযুক্ত চর্বি মিশি ৷য়ে তা দিয়ে তাদের জন্যে খাদ্য তৈরী করা হত ৷ সেই স্বল্প

পরিমাণ খাদ্য র্ত৷ ৷দের সম্মুখে রাখা হত ৷ অথচ তারা সকলে তখন অভুক্ত তদুপরি ওই খাদ্য গলায়
আটকে যেত এবং ৷দুর্গন্ধময়ও ছিল ৷

বুখারী বলেন, কুতায়ব৷ ইবন সাঈদ সাহ্ল ইবন সাদ (রা) থেকে বর্ণনা করেন ৷ তিনি
বলেছেন, আমরা রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর সাথে খন্দকের যুদ্ধে উপস্থিত ছিলাম ৷ মুসলিম মুজাহিদগণ
পরিখ৷ খনন করছিল ৷ আমরা কাধে বয়ে মাটি সরাচ্ছিলাম ৷ এ অবস্থায় রাসুলুল্লাহ্ (সা ) বললেন :

ইমাম মুসলিম (রা) কানবী সুত্রে আবদুল আযীয থেকে এ হাদীছ বর্ণনা করেছেন ৷


পৃষ্ঠা ১৮৮ ঠিক করুন

বুখারী বলেছেন, মুসলিম ইবন ইব্রাহীম বার৷ ইবন আযিব (রা) সুত্রে বর্ণনা করেন ৷
তিনি বলেছেন, রাসুলুল্লাহ্ (সা) নিজে খন্দক যুদ্ধে মাটি সরিয়েছেন ৷ তাতে তার পবিত্র পেটও
ধুলায়িত হয়ে পড়ে ৷ তিনি তখন নিম্নের কবিতা আবৃত্তি করছিলেন :

া৷;া৷;১ ৰুাট্রু ৷ছুট্রুব্রা৷;; ৰুাট্রু — ৷ছুপু ট্ট্রুর্দুণ্ড্রাট্রু হুদু৷ ৷ রুাটু৷ «fl ৷)
আল্লাহর কসম , আল্লাহ্র দয়া না থাকলে আমরা হিদায়াত ণ্পতাম না ৷ আমরা সাদকাও
করতাম না ৷ নামাযও পড়তাম না ৷

া৷াৰু৷ ১৷ ব্লুা৷দ্বুরু৷ পুাদ্বু;া৷

হে আল্লাহ ! আপনি আমাদের উপর প্রশান্তি নাযিল করুন এবং আমরা যখন শত্রুর মুখোমুখি
হব, তখন আমাদেরকে সুদৃঢ় ও অবিচল রাখুন :

র্চুটু প্রুৰু৷ ৰুৰুৰুন্ ; ৷র্টুা৷ৰু৷ ৷ট্র৷ ৷ৰুং “: ৷ৰু;ছু;ঠু ংাছুন্ ষ্’া’১া৷ , ৷
হে আল্লাহ ! শত্রুরা আমাদের প্ৰতি সীমালং ×ঘন করেছে ৷ ওরা যখনই কোন ফিতনা ফাসাদ
সৃষ্টির চেষ্টা ৷করেছে তখনই আমরা তা প্রতিরোধ করি ৷ প্ৰ৩ ৷৷খ্যান করি ৷ রাসুলুলুড়াহ্ (সা) ৷ ৷

শব্দ উচ্চারণ করার সময় উচ্চস্বরে ৷ ৷ ৷ ৷ বলছিলেন ৷ মুসলিম (র) ওশু বা সুত্রে এ
হাদীছটি বর্ণনা করেছেন ৷

এরপর ইমাম বুখারী (র) বলেছেন, আহমদ ইবন উছমান প্রমুখ এবং বাবা (রা) থেকে, বর্ণনা
করেন ৷ তিনি বলেছেন, খন্দকের যুদ্ধের দিন রাসুলুল্লাহ্ (সা) পরিখ৷ খনন করেছিলেন ৷ আমি
তাকে দেখেছি যে, তিনি পরিখার মাটিগুলে৷ অন্যত্র নিয়ে যাচ্ছিলেন ৷ এক পর্যায়ে এমন হল যে,
মাটির আবরণে তীর পবিত্র পেটের চামড়া ঢেকে গেল ৷৩ তার শরীরে প্রচুর সোম ছিল ৷ আমি
শুনেছি, তিনি মাটি বহন করেছিলেন আর আবদুল্লাহ ইবন রাওয়াহ৷ বিরচিত এই কবিতা পা ৷ঠ
করছিলেন :

ৰুা”,৷ ন্বুা৷া

শ্শ্শ্শ্শ্শ্শ্শ্শ্শ্শ্

এখুবু)

বায়হার্কী (র) তার৷ দাল লাইল গ্রন্থে বলেছেন, আ ৷লী ইবন আহমদ সালমান (বা) থকে
বর্ণনা করেন ৷ র ৷সুলুল্লাহ্ (সা ) পরিখ৷ খননে অংশ গ্রহণ করেন এবং তখন তিনি এ কবিতা আবৃত্তি
করেছেন :


শ্০শ্শ্ ণ্শ্০ :

আরম্ভ করছি আল্লাহর নামে ৷ তার দয়ায় আমরা হিদায়াত পেয়েছি ৷ আমরা যদি তাকে ছাড়া
অন্য কারো ইরাদত করতাম তবে নিঃসন্দেহে আমরা হতভাপ্য হয়ে যেতাম ৷


পৃষ্ঠা ১৮৯ ঠিক করুন

আহ ৷ কতই না ভাল প্রভু ! আহ! কতই না ভাল দীন ৷ এই সনদের এটি একক বর্ণনা ৷ ইমাম
আহমদ বলেন, সুলায়মান হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণনা করেন ৷ মুজাহিদগণ পরিখা
খনন করছিল তখন রাসুলুল্লাহ্ (সা) বলেছিলেন :

হু;ড্রুপ্রুঢু,পুৰুদ্বু৷ ৷, ,শু>৷ ৷ ৰু ৷ “ ঢু; ;,গ্রা৷ ;;; ছু৷ র্বৃ,টু ; ন্৷ ট্রুচুৰুা৷া
হে আল্লাহ! পরকালের কল্যাণ ব্যতীত প্রকৃত কোন কল্যাণ (নই ৷ আপনি আনসার ও
মুহড়াজিরদেরকে পরিংত্তদ্ধ করে দিন ৷ বুখারী ও মুসলিম তাদের সহীহ গ্নন্থদ্বয়ে এ হাদীছটি গুনদার
সুত্রে শুবা থেকে বর্ণনা করেছেন ৷

ইবন ইসহাক বলেন, পরিখা খননকালে এমন কতক ঘটনা ঘটেছে বলে আমার নিকট হড়াদীছ
পৌছেছে যে ঘটনাওলাের মধ্যে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে ৷ষ্ণ্ক্ষথীয় বিষয় রয়েছে ৷ সে ঘটনা
গুলোতে প্রমাণ রয়েছে রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর সত্যায়নের এবং তার নুবুওয়াতের যথার্থতার ৷
উপস্থিত মুসলমানগণ ওহী সব ঘটনা স্বচক্ষে দেখেছেন ৷ তার একটি এই হযরত জাবির (রা )
বর্ণনা করেছেন যে, একটি পরিখা খনন করার সময় তারা একটি কঠিন শিলা খন্ডের মুখোমুখি
হন ৷ কোন কুঠার ও শাবল দ্বারা তা ভাঙ্গা যাচ্ছিল না ৷ তারা বিষয়টি রাসুলুল্লাহ্ (না)-কে
জানালেন ৷ তিনি এক পাত্র পানি আনতে বললেন ৷ তিনি ওই পানিতে তার পবিত্র মুখের থু থু
মিশিয়ে তারপর দৃআ করলেন ৷ তারপর ওই পাথরে পানিটুকু ছিটিয়ে দিলেন ৷ সেখানে যারা
উপস্থিত ছিল তারা বলল যে, যে মহান সত্তা তাকে সত্য রাসুলরুপে প্রেরণ করেছেন তার কলম ,
ওইপাথর একেবারেই নরম হয়ে গেল ৷ এমনকি তা বালুর ঢিবিতে পরিণত হল ৷ তারপর আর
কোন কুঠার কিৎরা রেলচার আঘাত ব্যর্থ হয়নি ৷ ইবন ইসহাক এভাবে হযরত জাবির (রা) থেকে
সনদ ছাড়া এ হাদীছটি বর্ণনা করেছেন ৷

বুখারী (র ) বলেছেন, খড়াল্লাদ ইবন ইয়াহ্য়া আয়মান সুত্রে বলেছেন যে, তিনি বলেন, আমি
হযরত জাবির (রা) এর নিকট এসেছিলাম ৷ তখন তিনি আমাকে বললেন যে, খন্দক যুদ্ধের দিনে
আমরা পরিখা খনন করছিলাম ৷ আমাদের সামনে পড়ল একটি কঠিন শিলাখণ্ড ৷ লোকজন
রাসুলুল্লাহ্ (সা) এর নিকট এসে তাকে ঘটনা জানান ৷ তিনি বললেন, আমি নিজে ওই পরিখড়াতে
নামব ৷ তিনি উঠলেন ৷ তার পেটে পাথর বাধা ছিল ৷ তিনদিন আমরা কোন খাবার খেতে পাইনি ৷
রাসুলুল্লাহ্ (না) শাবল হাতে নিলেন ৷ তারপর ওই শিলাখণ্ডে আঘাত করলেন ৷ সেটি বালির ঢিবি
বালির স্তুপের ন্যায় হয়ে গেলে ৷ হযরত জাবির (রা) বলেন, আমি তখন রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর
নিকট আরয করলাম যে, আমাকে একটু বাড়ী যাবার অনুমতি দিন ৷ তিনি অনুমতি দিলেন ৷ বাড়ী
গিয়ে আমি আমার ত্রীকে বললাম, আমি রাসুলুল্লাহ্ (না)-কে এতই ক্ষুধার্ত ও করুণ অবস্থায়
দেখে এসেছি যে, আমি আর ধৈর্য ধারণ করতে পারছিলাম না ৷ তোমার নিকট কি কোন খাদ্য দ্রব্য
আছে ? সে বলল, আমার নিকট সামান্য বর ও একটি বকরীর বাচ্চা আছে ৷ আমি ওটি যবাই
করলাম ৷ সে যবগুলো পিষে নিল ৷ আমরা পাতিলে গোশত ঢেলে রান্না চডিয়ে দিলাম ৷ আমি
রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর নিকট এলাম ৷ তখন আটাগুলো পৃথক করার খামীরের পর্যায়ে ছিল এবং


পৃষ্ঠা ১৯০ ঠিক করুন

চুলার উপর পাতিলের গোশত রান্না হয়ে আসছিল ৷ আমি বললাম , ইয়৷ রাসুলাল্পাহ্! আমার
বাড়ীতে সামান্য খাবার আছে ৷ আপনি চলুন ৷ সাথে এক দু’জন লোক নেয়া যায় ৷ তিনি বললেন,
খাদ্যের পরিমাণ কতটুকু ? আমি পরিমাণ বললাম, তিনি বললেন, ভাল, ভাল , তড়াতে৷ অনেক
বেশী ৷ তুমি তোমার প্রীকে গিয়ে বল, আমি না আশা পর্যন্ত যেন চুলা থেকে পাতিল না নামায় আর
তন্দুর থেকে রুটি বের না করে ৷ এদিকে তিনি সবাইকে বললেন, চল , সকলে আস ৷ তাতে
মুহাজির এবং আনসার উপস্থিত সবাই যাত্রা করলেন ৷ হযরত জাবির (বা) তার শ্ৰীর নিকট গিয়ে
বললেন, হায় কপাল ! রাসুলুল্লাহ্ (সা) আনসার, মুহাজির এবং তাদের সাদুণ যারা আছে সবাইকে
নিয়ে যাত্রা করেছেন ৷ তার শ্রী বললেন, রাসুলুল্লাহ্ (সা) কি আপনাকে কিছু জিজ্ঞেস করেছিলেন ?
আমি বললাম, হা জিজ্ঞেস করেছেন ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) বললেন, সকলে সুশৃৎখঃলভাবে ভেতরে
প্রবেশ কর ৷ কোন প্রকারের হুড়ােহুড়ি না হয় ৷ এবার রাসুলুল্লাহ্ (সা) স্বহস্তে রুটি ভেঙ্গে তাতে
গোশত দিয়ে এক একজন করে দিতে লাগলেন ৷ একেক বার নেয়ার পর তিনি পাতিল ও চুলাে
ঢেকে রাখছিলেন ৷ এভাবে দিচ্ছিলেন আর ঢেকে রাখছিলেন ৷ রুটি ভেঙ্গে দিতে দিতে এবং
গােশতের পাতিল থেকে গোশত তুলে দিতে দিতে একে একে সকলের তৃপ্তি সহকারে খাওয়া
হয়ে গেল ৷ তবু কিছু খাবার অবশিষ্ট রয়ে গেল ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) জাবির (রা)-এর ন্তীকে বললেন,
এটা তুমি খাও এবং অন্যকে উপহার হিসেবে দাও ৷ কারণ, আশে পাশের লোকজন অভুক্ত আছে ৷
এই বর্ণনা ইমাম বুখারী (র) একাই উদ্ধৃত করেছেন ৷ ইমাম আহমদ (র ) উকী জাবির
(রা) সুত্রে কঠিন শিলাখও এবং রাসুলুল্লাহ্ (সা)-এর পবিত্র পােট পাথর বাধার ঘটনা বর্ণনা
করেছেন ৷ বায়হাকী (র) দালাইল গ্রন্থে হাকিম জাবির (বা) সুত্রে কঠিন শিলাখণ্ড এবং
খাদ্য তৈরীরও পরিরেশনের ঘটনা উদ্ধৃত করেছেন ৷ তার বংনািটি ইমাম বুখারী (র) এর বনাি
অপেক্ষা দীর্ঘ ও পুণঙ্গি ৷ ওই বর্ণনায় আছে যে, খাবারের পরিমাণ সম্পর্কে অবগত হবার পর
রাসুলুল্লাহ্ (সা) উপস্থিত সকল মুসলমানকে বললেন, সবাই জাবির (বা) এর বাড়ী চল ৷ সবাই
যাত্রা করলেন ৷ জাবির (বা) বলেন, আমি তাতে এত বেশী লজ্জিত হয়ে পড়েছিলাম যা আল্লাহ
ছাড়া কেউ জানে না ৷ আমি মনে মনে বললাম , হায় ৷ আমার এক সা (৩৫ সের প্রায়) য়ব ও
একটি ছোট্ট বকরীর বাচ্চার তৈরী খাবারের জন্যে রাসুলুল্লাহ্ (সা) বিরাট জামাত নিয়ে আসছেন ৷
আমি আমার শ্রীর নিকট গিয়ে বললাম , এবার তোমার লজ্জা পাওয়ার পালা ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) খন্দক
যুদ্ধে উপস্থিত সবাইকে নিয়ে তোমার বাড়ীতে আসছেন ৷ শ্রী বলল, রাসুলুল্লাহ্ (সা) কি আপনাকে
খাদ্যের পরিমাণ জিজ্ঞেস করেছেন ? আমি বললাম, হা, জিজ্ঞেস করেছেন ৷ সে বলল, তবে
আল্লাহ ও তার রাসুলই ভাল জানেন ৷ আমরা তো আমাদের নিকট যা আছে তা জানিয়ে দিয়েছি ৷
তার কথায় আমার প্রচন্ড দুশ্চিভার অবসান হয় ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) বাড়ী এলেন ৷ আমার ত্রীকে
বললেন, তুমি রুটি পােশতের ব্যাপারটি আমার হাতে ছেড়ে দাও ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) রুটি ভেঙ্গে
ভেঙ্গে আর পাতিল থেকে গোশত তুলে তুলে দিচ্ছিলেন ৷ রুটি নেয়ার পর চুলা এবং গোশত
নেয়ার পর পাতিল ঢেকে রাখছিলেন ৷ তিনি এভাবে সবাইকে খাদ্য পরিবেশন করছিলেন ৷ এক
পর্যায়ে সবারই তৃপ্তির সাথে খাওয়া শেষ হল ৷ চুলা ও পাতিলে শুরুতে যা খাবার ছিল এখন তার
চাইতে আরো বেশী অবশিষ্ট থাকল ৷ রড়াসুলুল্লাহ্ (সা) জাবির (রা ) এর ত্রীকে বললেন, এবার তু


পৃষ্ঠা ১৯১ ঠিক করুন

নিজে খাও এবং প্রতিবেশীদেরকে হাদিয়া স্বরুপ দাও ৷ সে দিন পুর্ণ দিবস সে নিজে থেয়েছে এবং
প্রতিবেশীদেরকে দান করেছে ৷

আবু বকর ইবন আবু শায়বা হযরত জাবির সুত্রে অনুরুপ বর্ণনা করেছেন ৷ সেটি
আরো দীর্ঘ ওই হাদীছের শেষ দিকে আছে যে, তিনি আমাকে জানিয়েছেন যে, তার বাড়ীতে
উপস্থিত মুজাহিদদের সংখ্যা ৮০০; অথচ তিনি বলেছেন ৩০ : ৷ ইউনুস ইবন বুকায়র
জাবির (রা) সুত্রে এটি বর্ণনা করেছেন ৷ তবে তিনি খাবার সম্পর্কিত হাদীছটি উল্লেখ করেছেন ৷
তিনি উদ্ধৃত করেছেন যে, উপস্থিত লোকজনের সংখ্যা ছিল ৩০০ ৷

এরপর ইমাম বুখাবী (র) বলেছেন, আমর ইবন আলী জাবির ইবন আবদুল্লাহ্ (রা)
সুত্রে বলেছেন, পবিখা যখন খনন করা হচ্ছিল তখন আমি রাসুলুল্লহ্ (সা) এর মধ্যে প্রচণ্ড ক্ষুধার
আলামত দেখতে প ই ৷ আ ৷মি আমার ত্রীর নিকট ফিরে আসি ৷ আমি তাকে বলি “ তামার নিকট
কি কোন খাবার আছে ? আমি তো রাসুলুল্লাহ্ (সা) কে প্রচণ্ড ক্ষুধার্ত অবস্থায় রেখে এসেছি ৷ সে
আমাকে একটি থলে বের করে দিল ৷৩ তার মধ্যে ছিল এক স৷ ৷ ৩ ৫ সের প্রায়) যব ৷ আর
আমাদের একটি ছোট্ট বকরী ছিল ৷ আমি বকরীটি যবাই করে দিলাম ৷ সে যবগুলে৷ পষে আটা

বানিয়ে নিল ৷ সে তার কাজ শেষ করল, আমি আমার কাজ শেষ করলাম ৷ বকরীর গোশত কেটে
আমি পাতিলে রাখলাম ৷ত তারপর আমি রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর উদ্দেশ্যে যাত্রা করলাম ৷ শ্রী বলল,
দেখুন রাসুলুল্লাহ্ (সা) ও তার সাথে যারা আছেন সবাইকে এনে আমাকে লজ্জা দিবেন না ৷ আমি
রাসুলুল্লাহ্ (সা)এর নিকট এলাম ৷ তার কানে কানে রললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ্ (সা) ! আমাদের
এক সা পরিমাণ যব ছিল ৷ সেগুলো আমরা গিয়েছি ৷ ছোট্ট একটা বকরী ছিল ৷ সেটি যবাই
করেছি ৷ আপনি অল্প কয়েকজন লোক নিয়ে যেহেরবানী করে আসুন ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) উচ্চস্বরে
সবাইকে ডেকে বললেন, হে খন্দকে উপস্থিত লোকজন ! জাবির (রা) তোমাদের জন্যে খাবার
তৈরী করেছে ৷ সুতরাং তোমরা সকলে চল ৷ তিনি আমাকে বললেন যে, আমি না আসা পর্যন্ত
তোমরা চুলার উপর থেকে পাতিল নামারে না এবং খামার দিয়ে রুটি বানাবে না ৷

আমি আমার বাড়ীতে এলাম ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) লোকজন নিয়ে এসে পৌছলেন ৷ আমি আমার
ত্রীর নিকট উপস্থিত হলাম ৷ সে আমাকে দোষারুপ করে বলল, আপনি কী করলেন ? আমি
বললাম, তুমি যেভাবে বলতে বলেছিলে আমি সেভ৷ ৷রেই বলেছি ৷ সে আ টা৷গুলো বের করে দিল ৷
রাসুলুল্লাহ্ (না) তার মধ্যে পবিত্র মুখের লাল৷ মিশিয়ে দিলেন এবং বরকওে র দৃ আ করলেন ৷
তারপর গোশতের পাতিলে লাল৷ মিশিয়ে বরকতের দু আ করলেন ৷ত তারপর বললেন, রুটি
বানাতে পারদর্শী একজন লোক ডেকে আন ৷ সে তোমার সাথে রুটি বানাবে ৷ আর তুমি প৷ ৷তিল
থেকে (পয়ালা ভর্তি করে গোশত ৩পরিবেশন করবে ৷ পাতিল কিন্তু চুলা থেকে নামাবে না ৷ তারা
ছিলেন ১০০০ জন, জ বিব (বা) বলেন, আমি কসম করে বলছি তারা সকলেই থেয়েছিলেন ৷
সবাই চলে যাওয়ার পরও ওই পাতিলে পুর্বের মত ই গোশত টগবগ করছিল ৷ আর আমাদের
আটাও ওে তমনি থা কল, যেমনটি পুর্বে ছিল ৷

ইমাম মুসলিম (বা) এই হাদীছ হাজ্জা জ ইবন শাইর সুত্রে আবু আসিম থেকে অনুরুপ বর্ণনা
করেছেন ৷ মুহাম্মাদ ইবন ইসহাক এই হাদীছটি উদ্ধৃত করেছেন ৷ তবে কোন কোন বিষয়ে তিনি



Execution time: 0.04 render + 0.01 s transfer.