Login | Register

আল বিদায়া ওয়ান্নিহায়া - খন্ড ৩ : পৃষ্ঠা ৫৪৩

আল বিদায়া ওয়ান্নিহায়া খন্ড ৩: পৃষ্ঠা - ৫৪৩


রাসুলুল্পাহ্ (সা)-এর কাছে গিয়ে বললেন, হে আল্লাহর নবী এই যে আল্লাহর দুশমন উমায়র
ইবন ওয়ড়াহব র্কাধে তরবারি ঝুলিয়ে এখানে এসেছে ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) বললেন, তাকে আমার
কাছে নিয়ে এসো ৷ বর্ণনাকারী বলেন, উমর এসে ঝুলন্ত তরবারি তার ঘাড়ের সাথে চেপে রেখে
বুকের কাপড় জড়িয়ে ধরলেন এবং সাথী আনসারদের বললেন, তোমরা রাসুলুল্লাহ্র কাছে গিয়ে
রস এবং এ দুরাচাবের ব্যাপারে সতর্ক থাক ৷ কেননা, একে বিশ্বাস করা যায় না ৷ এরপর তিনি
তাকে রাসুলুল্লাহ্র কাছে নিয়ে গেলেন ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) যখন তাকে এ অবস্থায় দেখলেন যে,
উমর তার ঘাড়েই তরবারি লাগিয়ে রেখেছেন, তখন তিনি বললেন “হে উমর ! তাকে ছেড়ে
দাও হে উমায়র! আমার কাছে এসো ৷ উমায়র রাসুলুল্লাহ্র কাছে গিয়ে বলল, ৷;শু£ৰু ন্;ক্ট্রা
সৃপ্রভাত৷ এটাই ছিল তাদের মধ্যে প্রচলিত জাহিলী যুগে পরস্পরের প্রতি সম্ভাষণ ৷ রাসুলুছুন্বত্ত্বহ্
(সা) বললেন, হে উমায়র তোমার সম্ভাষণ অপেক্ষা উত্তম সম্ভাষণের ব্যবস্থা দিয়ে আল্লাহ
আমাদের সম্মানিত করেছেন ৷ আর তা হলো সালাম’ (অড়াসসালামু অলায়কুম) , যা হবে
জান্নাতীদের সম্ভাষণ ৷ সে বলল, হে মুহাম্মদ ৷ আল্লাহর কসম৷ আমি এ বিষয়ে এখনই অবগত
হলাম ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) বললেন : উমায়র! তুমি কি জন্যে এসেছ ? সে বলল, আমি এসেছি
আপনাদের হাতে আটক এই বন্দীর মুক্তির জন্যে ৷ তার ব্যাপারে দয়া করুন ৷ রাসুল (সা)
বললেন, তবে তোমার কাধে তরবারি কেন ? সে বলল, আল্পাহ্ তরবারির অমঙ্গল করুন ৷ তা
কি আমাদের কোন কাজে এসেছে ? রাসুলুল্লাহ্ (সা) বললেন, সত্যি করে বল, কী উদ্দেশ্যে
এসেছ? সে বলল, ঐ বিষয় ছাড়া আমি আর কােন উদ্দেশ্যে আসিনি ৷ তখন রাসুলুল্লাহ্ বললেন
কিছুতেই তা নয়, বরং ভুমি ও সাফওয়ান ইবন উমাইয়া হাতীমে বসে বদবের কুয়াের নিক্ষিপ্ত
কুরায়শদের সম্পর্কে আলোচনা করছিলে ৷ তুমি না বলেছিলে! আমার যদি ঋণের বোঝা এবং
সন্তানদের ভরণ পোষণের দায়িতৃ না থাকতো, তবে আমি অবশ্যই বেরিয়ে গিয়ে মুহড়াম্মদকে
হত্যা করে দিতাম ৷ তখন সাফওয়ান ইবন উমাইয়া তোমার ঋণ ও সন্তানের দায়িতু এই শর্তে
গ্রহণ করে যে, তুমি আমাকে হত্যা করে দিবে ৷ অথচ আল্লাহ তোমার ও তোমার উদ্দেশ্যের
মাঝে অন্তরায় হয়ে আছেন ৷ তখন উমায়র বলল, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আপনি আল্লাহর রাসুল ৷
ইয়া রাসুলাল্পাহ! আপনি আকাশের যে সব সংবাদ আমাদের শুনাতেন এবং আপনার উপর যে
সকল ওহী অবতীর্ণ হতো, আমরা তা সবই অবিশ্বাস করতাম ৷ আর এ বিষয়টি আমি ও
সাফওয়ান ব্যতীত অন্য কেউ জানে না ৷ সুতরাং আল্লাহর কসম আমি নিঃসন্দেহে বলতে পারি,
এ সংবাদ আপনাকে আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানায়নি ৷ সকল প্রশংসা সেই আল্লাহর, যিনি
আমাকে ইসলামের পথ দেখালেন ও এই স্থানে এনে দিলেন ৷ এরপর সে সত্যের সাক্ষ্য প্রদান
করে ৷ এরপর রাসুলুল্লাহ্ (সা) বললেন : তোমরা তোমাদের দীনী ভাইকে দীনের জ্ঞান দান কর ,
তাকে কুরআন শিক্ষা দাও এবং তার বন্দীকে ছেড়ে দাও ৷ সাহাবাগণ নির্দেশ মতে তাই করলেন ৷
একদা উমায়র বলল : ইয়া রাসুলাল্লাহ্! এতকাল ধরে আমি আল্লাহর নুর নির্বাপিত করার
কাজে ছিলাম তৎপর এবং যারা আল্লাহর দীনের উপর প্রতিষ্ঠিত ছিল তাদেরকে নির্যাতন করার
ব্যাপারে অত্যন্ত কঠোর ৷ এখন আমি চাই, আমাকে অনুমতি দিন, মক্কায় গিয়ে আমি তাদেরকে
আল্লাহর রাসুল ও ইসলামের দিকে আহবান জানাই ৷ হয়তো আল্লাহ তাদেরকে হিদায়াত দান
করবেন ৷ আর যদি তারা হিদায়াত না হয়, তবে বাতিল দীনে থাকার কারণে আমি ঐরুপ শাস্তি



Execution time: 0.03 render + 0.00 s transfer.