Login | Register

আল বিদায়া ওয়ান্নিহায়া - খন্ড ৩ : পৃষ্ঠা ৫১১

আল বিদায়া ওয়ান্নিহায়া খন্ড ৩: পৃষ্ঠা - ৫১১


লোকজন বলাবলি করে যে, রাসুলুল্লাহ্ (সা) বলেছিলেন, আমি তাদেরকে যা বলছি তারা তা
শুনতে পাচ্ছে’ ৷ প্রকৃত পক্ষে তিনি বলেছিলেন, তারা জানতে পারছে’ ৷

ইবন ইসহাক আনাস ইবন মালিক (বা) সুত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, রাসুলুল্পাহ্
(না)-এর সাহাবীগণ একদা মধ্যরাতে শুনতে পান তিনি আহ্বান করছেন : হে কুপের
অধিবাসীরা, হে উতবা ইবন রাবীআ, হে শায়বা ইবন রাবীআ, হে উমাইয়া ইবন খাল্ফ, হে
আবু জাহ্ল ইবন হিশাম ৷ এভাবে কুপের মধ্যে নিক্ষিপ্ত প্রত্যেকের নাম ধরে ধরে বলেন :
তোমরা কি তা সত্যরুপে পেয়েছ, যার ওয়াদা তোমাদের প্রভু তোমাদের সাথে করেছিলেন ?
আমার প্রভু আমাকে যে ওয়াদা দিয়েছিলেন আমি তো তা সত্যরুপে পেয়েছি ৷ সাহাবীগণ তখন
বললেন, ইয়া বাসুলাল্পাহ্! আপনি কি এমন এক সম্প্রদায়ের সাথে কথা বলছেন, যারা মরে পচে
পলে ণ্যেছ ? জবাবে তিনি বললেন, আমি যা বলছি তা তোমরা ওদের থেকে বেশী শুনছ না ৷
অবশ্য তারা আমার কথার উত্তর দিতে পারছে না ৷

ইমাম আহমদ (র) ইবন আবু আদী সুত্রে আনাস (রা) থেকে অনুরুপ ঘটনা বর্ণনা করেছেন
এবং তা বুখারী ও মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী সহীহ্ ৷ ইবন ইসহাক বলেন : আমাকে কতিপয়
বিজ্ঞ ব্যক্তি বলেছেন, বাসুলুল্লাহ্ (সা) বলেছিলেন হে কুপের বাসিন্দারা৷ তোমরা ছিলে
তোমাদের নবীর নিকৃষ্টতম আত্মীয়-স্বজন ৷ তোমরা আমাকে মিথ্যা সাব্যস্ত করেছ ৷ অন্যরা
আমাকে সত্য বলে মেনে নিয়েছে ৷ তোমরা আমাকে স্বদেশ থেকে বের করে দিয়েছ ৷ অন্যরা
আমাকে আশ্রয় দিয়েছে ৷ তোমরা আমার বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছ ৷ আর অন্য লোকেরা
আমাকে সাহায্য করেছে ৷ এখন কি তোমরা সেই প্রতিদান যথার্থ পেয়েছ, যে সম্পর্কে তোমাদের
রব তোমাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ? কেননা, আমি সেই প্রতিফল যথার্থভাবে পেয়ে গেছি, যা
দেয়ার প্রতিশ্রুতি আমার বব আমাকে দিয়েছিলেন ৷

ইবন কাহীর বলেন : হযরত আইশা (রা) যদি কুরআনের কোন আঘাতের সাথে বিশেষ
কোন হাদীছের বাহ্যিক দৃষ্টিতে সংঘর্ষ হচ্ছে বলে মনে করেন, তখন তিনি সেই হাদীছের তাবীল
(ব্যাখ্যা) করে থাকেন ৷ এটা যে ধরনের ৷ হযরত আইশার মতে, আলোচ্য হাদীছটি :

আয়াতের সাথে সংঘষিকি ৷ যার অর্থ হচ্ছে, “তুমি তাদেরকে শুনাতে সমর্থ হবে না, যারা কবরে
রয়েছে’ (৩৫ : ২২) ৷ প্রকৃতপক্ষে হাদীছের সাথে এ আঘাতের কোন সংঘর্ষ নেই ৷ সাহড়াবায়ে
কিরাম ও পরবর্তীকালের অধিকাত্শ বিজ্ঞ আলিম এ হাদীছের শাব্দিক অর্থই গ্রহণ করেছেন যা
হযরত আইশার মতের বিপরীত এবং এটাই সঠিক ৷ ইমাম বুখারী বলেন : উবায়দ ইবন
ইসমাঈল উরওয়া থেকে বর্ণিত ৷ তিনি বলেন, হযরত আইশার নিকট আলোচনা করা হল,
ইবন উমর রাসুলুল্লাহ্র বরাত দিয়ে বলছেন যে, মৃত ব্যক্তিকে তার পরিবারের কান্নাকাটি করার
কারণে কবরে শাস্তি দেয়া হয় ৷ আইশা (রা) বললেন, আল্লাহ তাকে রহম করুন ৷ রাসুলুল্লাহ্
(না) তো একথা বলেছিলেন যে, মৃত ব্যক্তিকে তার অপরাধ ও গোনাহের কারণে শাস্তি দেয়া
হচ্ছে ৷ অথচ তার পরিবারের লোকজন এখন তার জন্যে কান্নাকাটি করছে ৷ হযরত আইশা (বা )



Execution time: 0.11 render + 0.00 s transfer.