Login | Register

আল বিদায়া ওয়ান্নিহায়া - খন্ড ৩ : পৃষ্ঠা ১৪০

আল বিদায়া ওয়ান্নিহায়া খন্ড ৩: পৃষ্ঠা - ১৪০


দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করেন ৷ জাফর (বা) বলেন, আমরা সেখান থেকে যাত্রা করে মদীনায়
এসে পৌছলাম ৷ রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর সাথে আমাদের সাক্ষ্যত হল ৷ তিনি আমাকে বুকে জড়িয়ে
ধরলেন ৷ তারপর বললেন, এখন আমি খায়বর বিজয়ের আনন্দে বেশী আনন্দিত, নাকি
জাফরের আপমনে বেশী আনন্দিত, তা বুঝতে পারছি না ৷ এটা ছিল খায়বর রিজয়কালেব
ঘটনা ৷ এরপর রাসুলুল্লাহ্ (সা) বললেন ৷ নাজাশীর প্রতিনিধি বললেন, এ যে জাফর, র্তাকে
জিজ্ঞেস করুন, আমাদের রাজা তীর সাথে কেমন আচরণ করেছেন ?

জাফর বললেন, হ্যা অবশ্যই রাজা আমাদের সাথে এরুপ এরুপ সদাচারণ করছেন ৷
আমাদের যানবাহন ও পাথেয়ের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন ৷ তিনি সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, আল্লাহ
ব্যতীত কোন মা’বুদ নেই এবং আপনি আল্লাহ্র রাসুল ৷ তিনি আমাকে বলেছেন, আমি যেন
আপনাকে বলি র্তার জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করতে ৷ এসব শুনে রাসুলুল্লাহ্ (সা) উঠে দীড়ালেন এবং
উযু করে নিলেন ৷ তারপর ,,;ৰুগুা৷ )@ছু ৷ স্পোা৷৷ “হে আল্লাহ নাজাশীকে ক্ষমা করুন
বলে উপর্বুপরি তিনবার দুআ করলেন ৷ প্রতিবার উপস্থিত মুসলমানগণ আমীন বলেন ৷ এরপর
হযরত জাফর (বা) প্রতিনিধিকে বললেন, আপনি এবার আপনার দোশ যেতে পারেন এবং
সেখানে গিয়ে আপনার রাজাকে রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর দরবারে যা লক্ষ্য করলেন সে সম্পর্কে
অবহিত করবেন ৷

ইবন আসাকির এটি হাসানগ্ড়ারীব পর্যায়ের বর্ণনা বলে উল্লেখ করেছেন ৷ হযরত উম্মে
সালামা (রা) এর বর্ণনা এই, ইউনুস ইবন বুকায়র উম্মে সালামা (বা) থেকে বর্ণনা করেন
যে, তিনি বলেছেন, মক্কায় সাহাবীগণের জীবন যাত্রা যখন দুর্বিষহ হয়ে উঠে এবং তারা
চরমভাবে নির্যাতিত ও নিপীড়িত হতে থাকেন দীন-ধর্ম পালনের প্রেক্ষিতে নানা প্রকার
জুলুম-পীড়নের সম্মুখীন হচ্ছিলেন, নিজ সম্প্রদায় এবং তার চাচা আবু তালিবের প্রভাবে
রাসুলুল্লাহ্ (সা) মোটামুটি নিজে কিছুটা রক্ষা পেলেও তার সাহাবীগণকে রক্ষায় তিনি অপারগ
হয়ে পড়েছিলেন ৷ এমন পরিস্থিতিতে তিনি তার সাহাবীগণকে লক্ষ্য করে বললেন,
আবিসিনিয়ায় একজন রাজা আছেন, তার রাজ্যে কারো প্রতি জুলুম করা হয় না ৷ তোমরা সবাই
তীর বাজে চলে যাও ৷ এখানে তোমরা যে জুলুম-নির্যাতনের শিকার হচ্ছেড়া, সেখানে গেলে
আশা করি আল্লাহ তড়াআলা তা থেকে নিকৃতি দেবেন ৷ তখন আমরা ওই রাজ্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা
করি ৷ সেখানে আমরা সবাই একত্রিত হই ৷ আমাদের দীনের ব্যাপারে নিরাপদ হয়ে আমরা
একটি ভাল দেখে ভাল পরিবেশে গিয়ে পৌছি ৷ সেখানে আমাদের উপর কোন
জুলুম-অতাড়াচারের আশংকা ছিল না ৷ কুরায়শের লোকেরা যখন লক্ষ্য করল যে, আমরা একটি
নিরাপদ বাসস্থান পেয়েছি, তখন তারা আমাদের প্রতি আরো মারযুখো হয়ে উঠে ৷ তারা একমত
হয় যে, আমাদেরকে ওই রাজ্য থেকে বের করে তাদের হাতে সোপর্দ করে দেয়ার জন্যে তারা
নাজাশীর নিকট একটি প্রতিনিধিদল পাঠাবে ৷ তারা আমর ইবন আস এবং আবদুল্লাহ ইবন
আবু রাবীআকে নাজাশীর নিকট পাঠায় ৷ তারা নাজাশী এবং তার প্রত্যেক সেনাপতির জন্যে
পৃথক পৃথক উপহারসামগ্রী প্রন্তুত করে ৷ প্রতিনিধি দু’জনকে তারা নির্দেশ দেয় যে , রাজার সাথে
পলায়নকারীদেরকে প্রত্যর্পণের আলোচনা শুরু করার পুর্বেই প্রত্যেক সেনাপতিকে নির্ধারিত



Execution time: 0.03 render + 0.00 s transfer.