Login | Register

আল বিদায়া ওয়ান্নিহায়া - খন্ড ৩ : পৃষ্ঠা ১৩৭

আল বিদায়া ওয়ান্নিহায়া খন্ড ৩: পৃষ্ঠা - ১৩৭


করলে না কেন ? হযরত জাফর (রা) বললেন, আমরা মহান আল্লাহ্ ব্যতীত কাউকে সিজদা
করি না ৷ নাজাশী বললেন, সেটি কিরুপ? হযরত জাফর (রা) বললেন, আল্লাহ্ তাআলা
আমাদের প্রতি একজন রাসুল প্রেরণ করেছেন ৷ তিনি সেই রাসুল, ঈসা ইবন মারয়াম তার পরে
আহমদ নামের যে রাসুলের আগমনী সুসংবাদ দিয়েছিলেন ৷ ওই রাসুল আমাদেরকে একমাত্র
আল্লাহর ইবাদত করা এবং তার সাথে কাউকে শরীক না করার নির্দেশ দিয়েছেন ৷ তিনি
আমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন আমরা যেন নামায আদায় করি, যাকাত দিই ৷ তিনি আমাদেরকে
সৎকাজ করার আদেশ দিয়েছেন এবং অসৎ কাজ থেকে বারণ করেছেন ৷ নাজাশী তার কথায়
চমৎকৃত হন ৷ এ অবস্থা দেখে আমর ইবন আস নাজাশীকে বললেন, “আল্লাহ সম্রাটের মঙ্গল
করুন, ওরা ঈসা (আ)-এব ব্যাপারে আপনার বিরুদ্ধ মত পোষণ করে ৷ নাজাশী জাফর
(রা) কে বললেন, আপনাদের নবী হযরত মারিয়াম পুত্র ঈসা (আ) সম্পর্কে কী বলেন ? উত্তরে
জাফর (বা) বললেন, তিনি তো তাই বলেন, যা আল্লাহ্ তাআলা নিজে বলেছেন আর তা
হলো, তিনি আল্লাহ্র প্রেরিত রুহ, এবং আল্লাহর কালেমা ও বাণী ৷ আল্লাহ্ তাআলা র্তাকে
এমন একজন সতী-সাত্রী কুমারীর গর্ভ থেকে বের করেছেন কোন পুরুষ যার নিকট যায়নি এবং
যার মধ্যে কোন সন্তানের বীজ নিক্ষেপ করেনি ৷ তারপর নাজাশী মাটি থেকে একটি শুকনো
কাঠ তুলে নিয়ে বললেন, হে পাদ্রী ও যাজক সম্প্রদায় ! মারয়াম পুত্র সম্পর্কে আমরা যা বলি,
ওরা তা থেকে এতটুকুও অতিরিক্ত বলে না ৷ এমনকি এই শুকনো কাঠ পরিমাণও নয় ৷ ”

“হে প্রতিনিধিদল, সাদর অভিনন্দন আপনাদের প্ৰতি এবং আপনারা মার পক্ষ থেকে
এসেছেন তার প্ৰতি ৷ আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তিনি আল্লাহর রাসুল এবং তিনি সেই মহান পুরুষ
হযরত ঈসা (আ) যীর আগমনের সুসংবাদ দিয়েছেন ৷ আমি যদি রাজ্য পরিচালনার দায়িত্বে না
থাকতাম, তবে আমি অবশ্যই তার নিকট যেতাম এবং তার পাদুকাদ্বয়ে চুঘু থেতাম ৷ আপনারা
আমার রাংজ্য যেখানে ইচ্ছা বসবাস করুন ৷ তিনি আমাদেরকে খাদ্য ও পােশাক-পরিচ্ছদ দানের
নির্দেশ দিলেন এবং কুরায়শ প্রতিনিধিদের উপহার সামগ্রী ফেরত দেয়ার আদেশ করলেন ৷

আমর ইবন আস ছিলেন একজন বেটে মানুষ ৷ আর আম্মারা ছিল সুদর্শন ব্যক্তি ৷ তারা
দু’জনে সাগর তীরে এসে পানি পান করেন ৷ আমরের সাথে তার ত্রীও ছিলেন ৷ পানি পান করার
পর আম্মারা তার সাথী আমরকে বলল, তুমি তোমার ন্তীকে নির্দেশ দাও সে যেন আমাকে চুমু
খায় ৷ আমর বললেন, তাতে ভোর লজ্জা হয় না ৷ কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে আম্মারা তার
সাথী আমরকে তুলে সমুদ্রে নিক্ষেপ করে ৷ আমরের কাকুতি-মিনতি ও প্রাণে ৰ্বাচানাের দােহাই
দেয়ার প্রেক্ষিতে আম্মারা তাকে নৌকায় তুলে নেয় ৷ এ ঘটনায় আম্মারার প্রতি চরম ক্ষুব্ধ হয়ে
উঠেন আমর ৷ প্ৰতিশোধ গ্রহণের উদ্দেশ্যে তিনি নাজাশীকে গিয়ে বলেন যে, আপনি ঘর থেকে
বেরিয়ে গেলে আম্মারা গিয়ে আপনার ব্রীর সাথে কুকর্ম করে ৷ নাজাশী তখন আম্মারাকে ডেকে
আনেন ৷ তারপর তার পুরুষাঙ্গে ছিদ্র করে দেন ৷ অবশেষে সে বন প্রাণীদের সাথে ঘুরে
বেড়াতো ৷ হাফিয বায়হাকী (র) আদ-দালাইল গ্রন্থে আবু আলী হাসান ইবন সালাম আস
সাওয়াক সুত্রে উবায়দুল্লাহ্ ইবন মুসা থেকে নিজস্ব সনদে এরুপ বর্ণনা করেছেন, “তিনি
আমাদের জন্যে খাদ্য ও বত্রের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিলেন” পর্যন্ত ৷

€০য়ো
১ ৮ ——


Execution time: 0.16 render + 0.00 s transfer.