Login | Register

আল বিদায়া ওয়ান্নিহায়া - খন্ড ৩

পৃষ্ঠা ৭২ ঠিক করুন


হযরত আবু বর (বা) বলেন, আমি তখন ওখান থেকে আমার ভাই আনীসের নিকট আসি ৷
সে আমাকে বলে, আপনি কী করে এলেন ? আমি উত্তর দিলাম যে, আমি ইসলাম গ্রহণ করেছি
এবং রাসুলুল্লাহ্ (সা) কে সত্য বলে গ্রহণ করেছি ৷ তখন আনীস বললেন, আপনার ধর্মমতের
প্ৰতি আমার অসন্তুষ্টি নেই ৷ আমিও ইসলাম গ্রহণ করলাম এবং রাসুলুল্লাহ্ (না)-কে সত্য বলে
মেনে নিলাম ৷ এবার আমরা উপস্থিত হলাম আমাদের মায়ের নিকট ৷ আমাদের মা বললেন,
তোমাদের ধর্মমতের প্রতি আমার কোন অসন্তুষ্টি নেই ৷ আমিও ইসলাম গ্রহণ করলাম এবং
রাসুলুল্পাহ্ (না)-কে সত্য বলে মেনে নিলাম ৷ সওয়ারীতে আরোহণ করে আমরা আমাদের
গিফার গোত্রে ফিরে আসি ৷

রাসুলুল্লাহ্ (সা) মদীনা যাওয়ার পুর্বেইি তাদের কেউ কেউ ইসলাম গ্রহণ করে ৷ খিফাফ
ইবন ঈসাইন ইবন রখসত পিফারী তাদের ইমাম ছিলেন ৷ তখন তিনিই তাদের নেতা ছিলেন ৷
অন্যরা বলেছিল যে, রাসুলুল্লাহ্ (সা) মদীনায় আসার পর আমরা ইসলাম গ্রহণ করব ৷ রাসুলুল্লাহ্
(সা) যখন মদীনায় পদার্পণ করলেন, তখন তারা ইসলাম গ্রহণ করল ৷ তাদের সহযোগী গোত্র
আসলাম গোত্রের লোকেরাও রাসুলুল্লাহ্ (সা) এর নিকট এল ৷ তশুরা বলল ইয়া রাসুলাল্লাহ্া
গিফার গোত্র আমাদের ভ্রাতৃ গোত্র ৷ ওরা যে ভাবে ইসলাম গ্রহণ করেছে আমরাও সেভাবে
ইসলাম গ্রহণ করতে চাই ৷ তখন রাসুলুল্পাহ (সা) বললেন :

ভ্রুা৷ ৷ ৷ড্রু;ব্রা; ,া;া, (,ত্র ’;া৷ ৷ ,;ৰু; ’,াব্লুৰু
গিফার গোত্র আল্লাহ তাদের ক্ষমা করুন এবং আসলাম গোত্র আল্লাহ তাদেরকে নিরাপদ
রাখুন ৷ ইমাম মুসলিম (র) হুদবা ইবন খালিদ সুতি সুলায়মান ইবন মুপীরা থেকে অনুরুপ বর্ণনা
করেছেন ৷ হযরত আবুযর (রা)-এর ইসলাম গ্রহণের ঘটনা অন্য বর্ণনায় ও এসেছি, তবে তাতে
আরও অতিরিক্ত তথ্য রয়েছে ৷ আল্লাহ্ই জানেন ৷ “রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর নবুওয়াত লাভের
সুসংবাদ” অধ্যায়ে হযরত সালমান ফারসী (রা)-এর ইসলাম গ্রহণের ঘটনা উল্লেখ করা
হয়েছে ৷

যেমাদ-এর ইসলাম গ্রহণ

ইমাম মুসলিম ও রায়হাকী (র) দাউদ ইবন আবী হিন্দ ইবন আব্বাস (বা) থেকে
বর্ণনা করেছেন ৷ তিনি বলেছেন যে, এক সময় যেমাদ মক্কায় উপস্থিত হন ৷ তিনি ছিলেন আযাদ
শানুআ গোত্রের লোক ৷ তিনি জিনগ্রস্ত লোকদের ঝাড়কুক করতেন ৷ মক্কার কতক মুর্থ ব্যক্তিকে
তিনি বলতে শুনলেন যে, তারা বলছে, “মুহাম্মদ (সা) নিশ্চয়ই জিনগ্নস্ত লোক যেমাদ বললেন,
ওই ল্যেকটি কোথায় ? আল্লাহ্ তাআলা হয়ত আমার মাধ্যমে তাকে আরোপ্য করবেন ৷ তিনি
বলেন, একদিন আমি মুহাম্মদ (না)-এর সাথে সাক্ষাত করি এবং তাকে বলি যে, আমি তো
জিনগ্রস্তদেরকে ঝাড়কুক করে থাকি ৷ আল্লাহ্ যাকে ইচ্ছা করেন আমার হাতে সুস্থ করেন ৷
সুতরাং আপনিও আমার নিকট আসুন ৷ তখন মুহাম্মদ (সা) বললেন, সকল প্রশংসা আল্লাহর ৷
আমি তার প্রশংসা করছি এবং তার নিকট সাহায্য প্রার্থনা করছি ৷ তিনি যাকে হিদায়াত দেন
অন্য কেউ তাকে গোমরাহ্ করতে পারে না ৷ আর আল্লাহ যাকে গোমরাহ্ করেন অন্য কেউ


পৃষ্ঠা ৭৩ ঠিক করুন


তাকে সৎপথ দেখাতে পারে না ৷ আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত মাবুদ নেই, তিনি
একক, তার কোন শরীক নেই ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) তিনবার এরুপ ঘোষণা দিলেন ৷

যেমাদ বলেন, আল্লাহর কসম, আমি তো গণকদের কথা শুনেছি, জাদুকরদের কথা শুনেছি
এবং কবিদের কবিতাও শুনেছি ৷ কিন্তু এ ধরনের কথা তাে কোন দিন শুনিনি! হে রাসুল (সা) !
আপনি আপনার হাত ব ৷ড়িয়ে দিন আমি ইসলাম গ্রহণের বায়আত করি ৷ তখন রাসুলুল্লাহ্ (না)
তার বায়আত গ্রহণ করেন ৷ রাসুলুল্লাহ্ (না) বললেন তোমার সম্প্রদায়ের পক্ষেও কি তুমি
বায়আত করবে ? তিনি বললেন, হ্যা আমার সম্প্রদায়ের পক্ষেও আমি বায়আত করছি ৷ এদিকে
রাসুলুল্লাহ্ (না) একদল সৈনিক প্রেরণ করেছিলেন ৷ তারা যেমাদের সম্প্রদায়ের পাশ দিয়ে
যাচ্ছিলেন ৷ সেনাধ্যক্ষ তার লোকজনকে বললেন, তোমরা কি এই সম্প্রদায়ের কোন কিছু কেড়ে
নিয়েছ ? একজন বলল, হী৷ ওদের একটি পানিপাএ আমি নিয়েছি ৷ সেনাধ্যক্ষ বললেন, ওটা
ফেরত দিয়ে দাও ৷ কারণ, এরা যেমাদের সম্প্রদায় ৷

অপর বর্ণনা যে আছে যে, যেমাদ রাসুলুল্লাহ্ (সা) ৫-ক বলেছিলেন আপনার ওই বাক্যগুলাে
আমাকে শুনিয়ে দিন ৷ ওগুলোর প্ৰভা র ওে তা গভীর সমুদ্রের তলদেশ পর্যন্ত পৌছেছে ৷

আবু নুআয়ম তার দালাইলুন নবুওয়াত গ্রন্থে মহান ব্যক্তিদের ইসলাম গ্রহণ শিরোনামে
একটি বিরাট অধ্যায় রচনা করেছেন ৷ এ বিষয়ে সেখানে তিনি ব্যাপক ও বিস্তারিত ভাবে
তথ্যগুলো সন্নিবেশিত করেছেন ৷ আল্লাহ্ তাকে দয়া করুন এবং তার পুরস্কার দিন ৷ যে সকল
সাহাবী প্রথম ধাপে ঈমান আনয়ন করেছেন, তাদের নাম” শিরোনামে ইসহড়াক (র) একটি
অধ্যায় রচনা করেছেন ৷ তাতে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তারপর ইসলাম গ্রহণ করেছেন আবু
উবায়দা, আবু সালামা, আরকাম ইবন আবুল আরকাম , উছমান ইবন মাযউন, উরায়দা ইবন
হারিছ, সাঈদ ইবন যায়দ ও তার ত্রী ফাতিমা বিনত খাত্তাব, আসম৷ বিনত আবী বকর, আইশা
বিন্ত আবু বকর, তিনি তখন ছোট ছিলেন রটে, কুদামা ইবন মাযউন, আরদুল্লাহ্ ইবন
মায়উন, খাব্বার ইবন আরত, উমায়র ইবন আবু ওয়াক্কাস, আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ, ইবনুল
কারী, সালিত ইবন আমর, আইয়াশ ইবন অড়াবী রাবীআ, তার শ্রী আসম৷ বিনত সালাম৷ ইবন
মাখরম৷ তায়মী, খুনায়স ইবন হুযাফা, আমির ইবন রাবীআ, আবদুল্লাহ ইবন জাহ্শ, আবু
আহমদ ইবন জ ৷হ্শ, জা ফর ইবন আবৃত ত,ালির তার শ্রী আসম৷ বিনত উমায়স, হাতির ইবনুল
হারিছ,ত ৷র শ্রী ফুকায়হ৷ বিনত ইয়াস৷ ৷র, মা মার ইবন হারিছ ইবন মা মার জুমাহী, সাইব ইবন
উছমান ইবন মাযউন, মুত্তা ৷লিব ইবন আযহার ইবন আবদ মানাফ, তার শ্রী রাম৷ লাহ বিনত আবু
আওফ ইবন সুয়ায়রাহ ইবন সা ঈাদ ইবন সাহম নুহাম, তার নাম নুআয়ম ইবন আবদুল্লাহ ইবন
উসড়ায়দ, আমির ইবন ফুহায়রা-হযরত আবু বকর (রা)-এর আযাদকৃত দাস, খালিদ ইবন
সাঈদ, উমায়ন৷ বিনত খালফ ইবন সাআদ ইবন আমির ইবন বিয়ায৷ ইবন খুযাআ , হাতির ইবন
আমর ইবন আবদ শামস আবু হুযায়র৷ ইবন উতব৷ ইবন রাবীআ, ওয়াকিদ ইবন আবদুল্লাহ
ইবন আরীন ইবন ছা ’লার৷ তামীমী, ইনি রনী আদী গোত্রের মিত্র, খালিদ ইবন বুক৷ য়র আমির
ইবন বুকায়র, আকিল ইবন বুকায়র, ইয়াস ইবন বুকায়র ইবন আরদি ইয়ালীল ইবন নাশিব
ইবন গায়রা-ইনি রনী সাআদ ইবন লায়ছ, আকিল-এর নাম ছিল পাফিল রাসুলুল্লাহ্ (না) তার


পৃষ্ঠা ৭৪ ঠিক করুন


নাম রাখেন আকিল তারা বনী আদী ইবন কড়াআব গোত্রের মিত্র, আমার ইবন ইয়ড়াসির এবং
সুহায়ব ইবন সিনান (রা)-এর পর দলে দলে নারী ও পুরুয ইসলামে দীক্ষিত হন ৷ অবশেষে
মক্কা য় ইসলামের প্রচার ও প্রসার ঘটে এবং এ বিষয়ে ব্যাপক আলোচনা হতে থাকে ৷

ইবন ইসহাক বলেন নবুওয়াত তপ্রাপ্তির তিন বছর পর আল্লাহ্ তা আলা ৷র্তার নবী (না)-কে
নির্দেশ দিলেন যাতে তা ৷র প্ৰতি আ ৷দিষ্ট বিষয়গুলো তিনি প্রচার করেন এবং মৃশবিকদের জুলুম
নির্যড়াত তনের মুখে ধৈর্যধারণ করেন ৷ ইবন ইসহাক বলেন, তখন সাহ ড়াবায়ে কিরড়াম নামায
আদায়ের জংন্য পাহাড়ী এলাকায় চলে যেভেন এবং নিজেদের সম্প্রদায়ের লোকজন থেকে
লুকিয়ে নামায আদায় করতেন ৷

এক দিনের ঘটনা ৷ হযরত সাআদ ইবন আবু ওয়াক্কাস (বা) কয়েকজন লোক নিয়ে
মক্কার পার্বত্য এলাকায় নামায আদায় করছিলেন ৷ হঠাৎ কতবণ্ মুশরিক লোক র্তাদের
নিকট গিয়ে পৌছে ৷ তারা নামায আদায় করা নিয়ে দােষারােপ করে ৷ শেষ পর্যন্ত তারা
মুসলমানদের সাথে মারামারিতে লিপ্ত হয় ৷ হযরত সাআদ ইবন আবু ওয়াক্কাস (রা) তখন
মৃশরিকদের এক লোককে উর্টের চােয়ালের হাড় দিয়ে প্রহার করেন ৷ এতে তার শরীরের
চামড়া কেটে রক্ত গড়িয়ে পড়ে ৷ ইসলামের পথে এ হল প্রথম রক্তপাত ৷ উমাবী (র) তার
মাগড়াযী গ্রন্থে আলওয়াক্কাসী আমির ইবন সাআদ সুত্রে৩ তার পিতা থেকে এ ঘটনা
বিস্তারিতভড়াবে উল্লেখ করেছেন ৷ ওই বর্ণনায় আছে যে, যে মুশরিক লোকের রক্ত ঝরেছিল

তার নাম আবদৃল্লাহ্ ইবন খত ল ৷ তার প্রতি আল্লাহর লা নত ৷


পৃষ্ঠা ৭৫ ঠিক করুন

অধ্যায়

প্রকাত্তশ্য প্রচারের নির্দোণ

সাধারণ অসাধারণ নির্বিশেষে সকলের প্রতি রিসালাওে র বাণী পৌছানাে ধৈর্য ধারণ ও
ন্থিরতা অবলম্বন ৷ মুর্থ, সত্যাদ্রাহী ও সত্য প্রত্যাথ্যানকারীদের নিকট সকল দলীল প্ৰমাণাদি
পৌছার পরও তাদের অবাধ্যতার প্রবণতাকে উপেক্ষা করার জ্যন্য রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর প্ৰতি
আল্লাহ তাআলার নির্দেশ এবং কাফির-মুশরিকদের নিকট সর্বশ্রেষ্ঠ রাসুল প্রেরণ আর তাদের
পক্ষ থেকে রাসুলুল্লাহ্ (সা) ও তার সাহাবীগণ যে সকল জুলুম-নির্যাতন ভোগ করেছেন তার
বিবরণ নিম্নে দেয়া হলো ৷

আল্লাহ্ তাআলা বলেন ?;
টু,াহু ট্রু,ৰুহ্রট্রুট্রু৷ ৷ ৷ )
’এ১দুশু
ট্ট)ন্১১
আপনার নিকট-আত্মীয়দেরকেও সতর্ক করুন ৷ আর যারা আপনার অনুসরণ করে, তাদের
প্রতি আপনি বিনয়ী হোন ৷ ওরা যদি আপনার অবাধ্য হয়, তবে তাদেরকে বলুন যে, তোমরা যা
কর তার জন্যে আমি দায়ী নই ৷ আপনি নির্ভর করুন পরাক্রমশালী পরম দয়ালু আল্লাহ্র

উপর যিনি আপনাকে দেখেন যখন আপনি দণ্ডায়মান থাকেন নামায়ের জন্যে এবং দেখেন
সিজদাকারীদের সঙ্গে আপনার উঠড়াবসা ৷ তিনি তো সর্বগ্রোতা সর্বজ্ঞ (২৬ : ২১ : ২২০ ) ৷

আল্লাহ তাআলা বলেছেন :
হ্ওা
কুরআন তো আপনার ও আপনার সম্প্রদায়ের জন্যে সম্মানের বস্তু, তোমাদের অবশ্যই এ
বিষয়ে প্রশ্ন করা হবে (৪৩ : ৪৪) ৷
আল্লাহ্ তাআলা আরো বলেন :
এ্ঢ়চু গ্রা৷ এ১াঠু
যিনি আপনার জন্যে কুরআনের বিধান দিয়েছেন তিনি আপনাকে অবশ্যই প্রত্যাবর্তন স্থলে

ফিরিয়ে আনবেন (২৮০ : ৮৫) ৷ অর্থাৎ যে মহান প্রভু কুরআনের প্রচার ও প্রসার ঘটানো
আপনার জন্যে বাধ্যতামুলক করে দিয়েছেন তিনি আপনাকে অবশ্যই প্রত্যাবর্তন-স্থল আখিরাভে



Execution time: 0.03 render + 0.00 s transfer.