Login | Register

আল বিদায়া ওয়ান্নিহায়া - খন্ড ৩

পৃষ্ঠা ৫২ ঠিক করুন


মাটিতে আঘাত করলেন ৷ তার ফলে যমযম কুপের সাথে সংযোগ সম্পন্ন একটি ঝর্ণার সৃষ্টি
হয় ৷ হযরত জিবরাঈল (আ) ও প্রিয়নবী (সা) দু’জনে ওই পানিতে উয়ু করেন ৷ তারপর
জিবরা ঈল (আ) চার সিজদায় দু’রাকআত নামায আদায় করেন ৷ তার নয়ন জুড়ালো ও হৃদয়
প্রশান্ত হলো ৷ এমতাবস্থায় রাসুলুল্পাহ্ (সা) আপন ঘরে ফিরে এলেন ৷ আল্লাহর নিকট থেকে
তাই এলো যা তিনি পসন্দ করতেন ৷ ঘরে ফিরে গিয়ে তিনি হযরত খাদীজার হাত ধরে তাকে
নিয়ে ওই ঝর্ণাধারার নিকট আসলেন ৷ তারপর জিবরাঈল (আ) যেমনটি উয়ু করেছিলেন
রাসুলুল্লাহ্ (সা)-ও তেমনটি উবু করলেন ৷ তারপর চার সিজদাসহ দু’রাকআত নামায আদায়
করলেন ৷ এরপর থেকে তারা দৃজনে গোপনে নিয়মিত নামায আদায় করতেন ৷

আমি বলি, হযরত জিবরাঈল (আ) এর এই নামায তার বায়তৃল্লাহ্ শরীফের সম্মুখে দৃ বার
আদায় করা নামায থেকে পৃথক একটি নামায ৷ বায়তৃল্লাহ্ শরীফের সম্মুখে দু বার আদায়কৃত
নামাষে তিনি পড়াচ ওয়াক্ত নামাষের প্রথম ও শেষ ওয়াক্ত সম্পর্কে শিক্ষা দিয়েছেন এবং ওই
শিক্ষামুলক নামায ছিল মিরাজ রাতে পড়াচ ওয়াক্ত নামায ফরয হওয়ার পরের ঘটনা ৷ এ
বিষয়ে আলোচনা পরবর্তীতে আসবে ইনশাআল্লাহ্ ৷

পবিস্দ
সর্বপ্রথম ঈমান আনয়নকায়ী সাহাৰায়ে কিরাম

ইবন ইসহাক বলেন, ওই ঘটনার একদিন পর হযরত আলী (বা) তাদের নিকট আসেন ৷
তখন রাসুলুল্লাহ্ ও হযরত খাদীজা নামায আদায় করছিলেন ৷ আলী (বা) বললেন : আপনারা এ
কী করছেন ? রাসুলুল্লাহ্ (সা) বললেন, এটি আল্লাহ্র দীন ৷ তার নিজের জন্য এ দীনকে তিনি
মনোনীত করেছেন এবং এ দীন সহকারে তিনি রাসুলগণকে প্রেরণ করেছেন ৷ আমি তখন
তোমাকে একক ও লা-শরীক আল্লাহর দিকে এবং তার ইবাদতের দিকে আহ্বান করছি ৷ আমি
তোমাকে আহ্বান জানাচ্ছি লাভ ও উঘৃযা প্রতিমা পরিত্যাগ করতে ৷ হযরত আলী (রা) বললেন,
এটি তো এমন একটি বিষয়, যা ইতোপুর্বে আমি কখনো শুনিনি ৷ আমার পিতা আবু তালিবের
সাথে আলোচনা না করে আমি কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারছি না ৷ পুরো বিষয়টি প্রকাশ্যে ঘোষিত
হওয়ার পুর্বে আবু তালিবের নিকট এ গোপনীয় বিষয়টি প্রকাশিত হোক রাসুলুল্লাহ্ (সা) তা
সমীচীন মনে করলেন না ৷ তাই হযরত আলী (রা) কে বললেন, হে আলী ৷ তুমি যদি এখনই
ইসলাম গ্রহণ না কর, তবে আপাতত বিষয়টি গোপন রাখ, কাউকে বলো না ৷ হযরত আলী
(বা) ওই রাত অপেক্ষা করলেন ৷

এরপর আল্লাহ্ তাআলা হযরত আলী (রা)-এর অতরে ইসলাম গ্রহণের আগ্রহ সৃষ্টি করে
দিলেন ৷ ভোর বেলা তিনি রড়াসুলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট গেলেন এবং বললেন, আপনি আমার
নিকট কি প্রস্তাব পেশ করেছিলেন ? রাসুলুল্লাহ্ (সা) বললেন, প্রস্তাবটি এই, তুমি সাক্ষ্য দিয়ে
যে, আল্লাহ ব্যতীত কে ন ইলাহ্ নেই, তিনি একক, তার কে ন শরীক নেই ৷ আর তুমি লাভ ও
উয্যা প্ৰতিমাকে পরিত্যাগ করবে এবং সকল প্রকার অ ৎশীবাদিতড়া থেকে নিজেকে মুক্ত রাখবে ৷
হযরত আলী তা ইি করলেন এবং ইসলাম গ্রহণ করলেন ৷ তবে পিতা আবু তালিবের ভয়ে তিনি


পৃষ্ঠা ৫৩ ঠিক করুন


বাসুলুল্লাহ্ (না)-এর নিকট যাতায়াত করতেন না ৷ তার ইসলাম গ্রহণের বিষয়টি তখনকার মত
তিনি গোপন রাখলেন ৷ ইতোমধ্যে যায়দ ইবন হারিছ৷ ইসলাম গ্রহণ করলেন ৷ তারা এভাবে
প্রায় একমাস কাটালো ৷ মাঝে মাঝে হযরত আলী (বা) রাসুলুল্পাহ্ (না)-এর নিকট আসতেন ৷
হযরত আলী (রা)-এর প্রতি আল্পাহ্ তাআলার অন্যতম অনুগ্রহ ছিল এই যে, ইসলাম গ্রহণের
পুর্বে তিনি রাসুলুল্লাহ্ (সা) এর তত্ত্বাবধানে ছিলেন ৷

ইবন ইসহাক বলেন, ইবন আবী নাজীহ মুজাহিদ সুত্রে বলেছেন যে, হযরত আলী (র)এর
প্রতি আল্লাহ তাআলার অন্যতম অনুগ্রহ ছিল এই যে , একবার কুরায়শ সম্প্রদায় চরম দৃর্তিক্ষে
পতিত হয় ৷ হযরত আবু তালিবের পরিবারের লোকসংখ্যা ছিল অনেক ৷ তখনকার সময়ে
হাশিম গোত্রে অপেক্ষাকৃত ধনী লোক ছিলেন হযরত আব্বাস (বা) রাসুলুল্পাহ্ (সা) তার চাচা
আব্বাস (রা)-কে বললেন, চাচা ! আপনার ভাই আবু তালিবের পরিবারের লােকসংখ্যা তাে
অনেক ৷ মানুষ যে দৃর্ভিক্ষে পতিত হয়েছে তাও তো আপনি দেখতে পাচ্ছেন ৷ আপনি বরং তীর
নিকট যান এবং এমন ব্যবস্থা করুন যাতে পরিবারের ভরণ--পােষণ তার জন্য সহজ হয় ৷ এ
সুত্রে রাসুলুল্লাহ্ (সা) হযরত আলী (রা)-কে তার নিকট নিয়ে আসেন এবং নিজের কাছেই
রেখে দেন ৷ হযরত আলী রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর নবুওয়াত লাভ পর্যন্ত তার সাথেই থাকেন ৷
হযরত আলী (বা) তার অনুসরণ করেন, তার প্রতি ঈমান আনেন এবং তার বক্তব্যের সত্যতা
স্বীকার করে নেন ৷

ইউনুস ইবন বুকায়র আফীফ থেকে বর্ণনা করেন ৷ তিনি বলেন যে , আমি ছিলাম একজন
ব্যবসায়ী ৷ একবার হজ্জ মওসুমে আমি মীনাতে উপস্থিত হই ৷ আবদুল মুত্তালিবের পুত্র আব্বাস
(রা)-ও একজন ব্যবসায়ী ছিলেন ৷ ক্রয়-বিক্রয় করার উদ্দেশ্যে আমি তার নিকট উপস্থিত হই ৷
আমরা সেখানে থাকা অবস্থায় হঠাৎ দেখি একটি র্তাবু থেকে একজন লোক বের হল এবং
কাবামুখী হয়ে নামাষে দাড়িয়ে গেল ৷ তারপর একজন মহিলা এসে তার সাথে নড়ামাষে যোগ
দিল ৷ এরপর একজন বালকও তার সাথে নামাষে শরীক হল ৷ আমি বললাম, হে আব্বাস ৷ এটি
আবার কেমন ধর্ম ? এটি কোন প্রকারের ধর্ম তার কিছুই তো আমি বুঝতে পারছি না ৷ আব্বাস
(বা) বললেন, ইনি হচ্ছেন আবদুল্লাহ-এর পুত্র মুহাম্মাদ (সা) ৷ তার দাবী হচ্ছে আল্লাহ্ তাকে
রাসুল রুপে প্রেরণ করেছেন ৷ পারস্য ও রোমান সম্রাটের সকল ধন-সম্পদ তার হস্তগত হবে ৷
মহিলা টি তার শ্রী ৷ খুওয়ায়লিদের কন্যা খাদীজা (বা) ৷ সে ওর প্রতি ঈমান এসেছে ৷ বালকটি
হল তার চাচড়াত ভাই ৷ আবু৩ তালিবের পুত্র আলী (বা) ৷ সেও তার প্ৰতি ঈমান এন্যেছ ৷
বর্ণনাকা রী আফীফ (বা) পরে আক্ষেপ করে বলেছেন, হায় আমি যদি সেদিন ঈমান আনতাম,
তবে আমি পুরুষদের মধ্যে দ্বিতীয় ঈমান আনয়নকারী হতে প ৷রতাম ৷

ইব্রাহীম ইবন সাআদ মুহাম্মদ ইৰ্ন ইসহাক থেকে অনুরুপ বর্ণনা করেছেন ৷ ওই হাদীছের
ভাষ্য এরুপঃ হঠাৎ নিকটবর্তী একটি র্তাবু থেকে একজন লোক বের হল এবং আকাশের দিকে
তাকিয়ে দেখল ৷ যখন সে দেখল যে, সুর্য কিছুটা ঢলে পড়েছে, তখন সে নামাষে দাড়িয়ে গেল ৷
তারপর তার পেছনে হযরত খাদীজা (রা)-এর দীড়ানাের কথা এ হাদীছে উল্লিখিত হয়েছে ৷

ইবন জারীর বলেন, মুহাম্মাদ ইবন উবায়দ মুহারিৰী ইয়াহ্ইয়া ইবন আফীফ থেকে বর্ণনা
করেন যে, তিনি বলেছেন, জাহিলী যুগে আমি মক্কায় এসেছিলাম ৷ সেখানে আমি অবস্থান


পৃষ্ঠা ৫৪ ঠিক করুন


করছিলাম আব্বাস ইবন আবদুল মুত্তালিবের নিকট ৷ সুর্য যখন উদিত হল এবং আকাশের
অনেক উপরে উঠে গেল, তখন আমি কাবাপৃহের দিকে তাকিয়েছিলাম ৷ আমি দেখতে পেলাম ,
একটি যুবক সেখানে এসে আকাশের দিকে তাকাল ৷ তারপর কাবাগৃহের সম্মুখে এসে সেটিকে
সামনে রেখে র্দাড়িয়ে গেল ৷ অবিলম্বে সেখানে উপস্থিত হল একটি বালক এবং সে তার ডান

শ র্দাড়িয়ে গেল ৷ এরপর এল একজন মহিলা ৷ সে দীড়াল ওদের দু’জনের পেছনে ৷ প্রথম
যুবকটি রুকুতে গেল ৷ সাথে সাথে বালক ও মহিলাটি রুকুতে ৫গল ৷ যুবকটি রুকু থেকে মাথা
তুলল ৷ বালক এবং মইিলাটিও রুকু থেকে মাথা তুলল ৷ তার ৷বপর যুবক সিজদায় ৫পল ৷ ওরা
দু জনও সিজদায় গেল ৷ আমি বললাম, ৫হ আব্বাস এতে তা এক আশ্চর্যজনক ব্যাপার ৷ তিনি
বললেন আশ্চর্যজনকই ব৫ট ৷ আব্বাস বললেন, যুবকটির পরিচয় তুাম জান কি ? আমি বললাম,
না, জানি না৷ তিনি বললেন, যে হল আমার তা ৷তিজা মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন আবদুল
মুত্তালিব ৷ বালকটির পরিচয় তোমার জানা আছে কি ? আমি বললাম না, জান না৫নই ৷ তিদি
বললেন, যে হল আবু তালিবের পুত্র আলী (রা) ৷ ওদের পিছনে মহিলাটি ৫ক ৫চন কি ? আমি
বললাম, না, চিনি না ৷ তিনি বললেন, সে হল আমার তাতিজার শ্রী ৷ থুওয়ায়লিদের কন্যা
খাদীজা ৷(রা) ৷ ভাতিজা মুহাম্মদ (সা) আমাকে বলেছে, আপনার প্রতিপালক হলেন আকাশ ও
পৃথিবীর প্রতিপ লক ৷ তার কাজকর্ম এই যা এখন তুমি ৫দখেছ ৷ আল্লাহর কসম দুনিয়াতে ওই
দীনের অনুসা ৷রী ওই তিনজন ব্যতীত অন্য কেউ আছে বলে আমার জা ৷ন৷ ৫নই ৷

ইবন জারীর বলেন, মুহাম্মদ ইবন মুনকাদির রাবীআ ইবন আবী আবদুর রহমান, আবু
হাযিয ও কালবী বলেছেন যে, সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণ করেছেন হযরত আলী (বা) কালবী (রা)
বলেন, হযরত আলী নয় বছর বয়সে ইসলাম গ্রহণ করেন ৷ ইবন ইসহাক বলেছেন, পুরুষদের
মধ্যে হযরত আলী (বা) প্রথম ঈমান আনয়ন করেন, রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর সাথে নামায আদায়
করেন এবং তাকে সত্য বলে গ্রহণ করেন ৷ তখন তার বয়স ছিল দশ বছর ৷ ইসলামের পুর্বেও
তিনি রাসুলুল্লাহ্ (সা)-এর পরিবারভুক্ত ছিলেন ৷

ওয়াকিদীও হযরত আলী (রা) দশ বছর বয়সে ইসলাম গ্রহণ করেছেন বলে উল্লেখ
করেছেন ৷

ওয়াকিদী বলেন, আমাদের ইমড়ামগণ এ বিষয়ে একমত যে, রাসুলুল্লাহ্ (সা)-এর নবুওয়াত
লাভের এক বছর পর হযরত আ ৷লী (রা) ইসলাম গ্রহণ করেছেন ৷

মুহাম্মদ ইবন কাআব বলেন, এই উম্ম৫৩ র মধ্যে সর্বপ্রথম ঈমান আনয়ন করেছেন খাদীজা
(বা) এবং পুরুষদের মধ্যে প্রথম ঈমান আনয়নক৷ রী দু’ জন হলেন হযরত আবু বকর (রা)ও
হযরত আলী (রা) ৷ হযরত আবু বকরের ঈমান আনয়নের পুর্বে হযরত আ ৷লী ঈমান আনয়ন
করেন ৷ পিতার ভয়ে হযরত আলী (রা)৩ তার ইসলাম গ্রহণের কথা গোপন ৫রখেছিলেন ৷
একদিন তার পিতার মুখোমুখি হলে তার পিতা ৷ব,লেন তুমি কি ইসলাম গ্রহণ করেছ ? তিনি
বললেন, হ্যা ৷ পিতা বললেন, তবে তোমার চাচাত ভাইকে সাহায্য সহযোগিতা করবে অবশ্য,
সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণের কথা প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছিলেন হযরত আবু বকর (রা ) ৷

ইবন জারীর তার ইতিহাস গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, শুব৷ ইবন আব্বাস (রা ) সুত্রে
বর্ণনা করেন ৷ তিনি বলেছেন, সর্ব প্রথম নামায আদায় করেছেন আলী আবদুর হামীদ হযরত


পৃষ্ঠা ৫৫ ঠিক করুন


জাবির থেকে বর্ণনা করেন তিনি বলেছেন, রাসুলুল্লাহ্ (সা) নবুওয়াত লাভ করেছেন সােমবারে
আর আলী (রা) নামায আদায় করেছেন মঙ্গলবারে ৷ আবু হামযড়া নামে জনৈক আনসারী বাড়ি
থেকে বর্ণিত ৷ তিনি বলেন, আমি যায়দ ইবন আরকাম (রা)-কে বলতে শুনেছি, রাসুলুল্পাহ্
(সা)-এর নিকট সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণ করেছেন আলী ইবন আবী তালিব (রা) ৷ বর্ণনাকায়ী
বলেন, এরপর এ বর্ণনাটি আমি নাখঈ এর নিকট পেশ করি ৷ তিনি এটি প্রত্যাখ্যান করেন এবং
বলেন যে, সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণ করেছেন আবু বকর (রা) ৷ উবায়দুল্লাহ্ ইবন মুসা
আব্বাদ ইবন আবদুল্লাহ্ থেকে বর্ণনা করেন ৷ তিনি বলেছেন আমি আলী (রা)-কে বলতে
শুনেছি, আমি আল্লাহর বান্দা তার রাসুলের ভাই এবং আমিই সিদ্দীকে আকবর তথা প্রধান
সত্যায়নকারী ৷ আমার পরে কেউ এ উপাধি দাবী করলে সে হবে মিথ্যাবাদী ৷ অন্যদের নামায
আদায়ের সাত বছর পুর্ব থেকেই আমি নামায আদায় করে এসেছি ৷

ইবন মাজাহ্ (র) মুহাম্মদ ইবন ইসমাঈল উবড়ায়দৃল্লাহ্ ইবন মুসা ফাহমী সুত্রে এ
হাদীছ উদ্ধৃত করেছেন ৷ উৰায়দুল্লাহ্ ইবন মুসা মুলত শিয়া ৷ তবে তিনি বিশুদ্ধ হাদীছ
বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত ৷ তবে আবু হাতিম বলেছেন যে মুলত একজন কট্টর শিয়া ৷ আলী ইবন
মাদানী বলেন, যে প্রচুর অগ্রহণা:যাগ্য হাদীছ বর্ণনা করেছে ৷ মিনহাল ইবন আমর আন্থাভাজ্যা
বর্ণনাকারী ৷ তার শায় খ হলেন আব্বাদ ইবন আবদুল্লাহ আসাদী কুফী ৷ আব্বাদ সম্পর্কে আলী
ইবন মাদীনী বলেছেন যে, হাদীছ শাদ্রে তিনি দুর্বল লোক বলে গণ্য ৷ ইমাম বুখারী (র)
বলেছেন, এই রাবী সন্দেহমুক্ত নন ৷ ইবন হাইয়ান তাকে আস্থাভাজনদের অন্তর্ভুক্ত রেখেছেন ৷

মােদ্দাকথা উপরোক্ত হাদীছটি সর্বাবন্থায়ই অথহণযােগ্য ৷ হযরত আলী (বা) এমন কথা
বলেননি ৷ ণ্লাকজনের নামায পড়ার সাত বছর পুর্বে তিনি নামায আদায় করেছেন এটা কী করে
সম্ভব ? এমন কথা কল্পনাই করা যায় না ৷ আল্লাহ্ই ভাল জানেন ৷ অন্যান্য আলিমগণ বলেন,
এই উম্মতের মধ্যে সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণ করেছেন হযরত আবু বকর সিদ্দীক (বা) ৷

বন্তুত এই সব বক্তব্যের সমন্বয়সুচক ব্যাখ্যা এই যে, মহিলাদের মধ্যে সর্বপ্রথম ইসলাম
গ্রহণ করেন হযরত খাদীজা (রা) ৷ তিনি সকল মহিলা থেকে এ ব্যাপারে আঃবর্তী ৷ কারো কারো
মতে নারী-পুরুষ সবার চেয়ে আঃবর্তী ৷ ক্রীতদাসদের মধ্যে সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণ করেন
হযরত যায়দ ইবন হড়ারিছা (রা) ৷ বালকদের মধ্যে সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণকারী হযরত আলী
ইবন আবী তালিব (রা) ৷ কারণ, তখন তিনি অপ্রপ্তেবয়স্ক ছিলেন ৷ স্বাধীন এবং প্রাপ্তবয়স্ক
লোকদের মধ্যে সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণ করেন হযরত আবু বকর সিদ্দীক (বা) ৷ ইতোপুর্বে
যাদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তাদের তুলনায় হযরত আবু বকরের ইসলাম গ্রহণ অধিকতর
কল্যাণকর ও তাৎপর্যবহ ছিল ৷ কারণ, তিনি ছিলেন আরবের সম্মানিত নেতা, কুরড়ায়শ বংশের
সর্বওনে শ্রদ্ধেয় নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিতু ও সম্পদশালী লোক ৷ তিনি ছিলেন ইসলামের প্রতি
আহ্বানকারী, আল্লাহ্ ও তার রাসুলের আনুগত্যে ধনসম্পদ ব্যয় করে তিনি সকলের প্রিয় ও
ভালোবাসার পত্র হয়ে উঠেছিলেন ৷ এ বিষয়ে পরে আলোচনা আসবে ৷

ইউনুস ইবন ইসহাক থেকে বর্ণনা করেন যে, হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রা) প্রিয়নবী
(সা) এর সাথে সাক্ষাত করে বলেছিলেন, আপনার সম্পর্কে কুরাশের লোকেরা যা বলছে তা কি
সত্য : তারা তো বলছে যে , আপনি আমাদের উপাস্যদেরকে বর্জন করছেন , আমাদের বুদ্ধিমান


পৃষ্ঠা ৫৬ ঠিক করুন


নােকদেরকে মুর্থ ঠাওরাচ্ছেন এবং আমাদের পুর্বপুরুষদের কাফির সাব্যস্ত করছেন ৷
রাসুলুল্লাহ্ (সা) বললেন, হীা, তাই ৷ আমি তো আল্লাহর রাসুল ও তার নবী ৷ তিনি আমাকে
প্রেরণ করেছেন তার দেয়৷ রিসালাত প্রচার করার জন্যে এবং তােমাদেরকে সত্য পথে আল্লাহর
দিকে ডাকার জন্যে ৷ আল্লাহর কসম, এটাই সতব্রপখ ৷ হে আবু বকর! আমি তোমাকে একক
লা-শরীক আল্লাহর দিকে আহ্বান জানাচ্ছি ৷ তুমি অন্য কারো ইবাদত করবে না ৷ র্তার
আনুগত্যের ব্যাপারে তোমার নিকট সহযোগিতার আহ্বান জানাচ্ছি ৷

রাসুলুল্লাহ্ (সা) তাকে কুরআন পাঠ করে গােনালেন ৷ হযরত আবু বকর (রা)
তাৎক্ষণিকভাবে তা গ্রহণ বা বর্জন কিছুই করলেন না ৷ এরপর তিনি ইসলাম গ্রহণ করলেন এবং
মুর্তিপুজা ত্যাগ করলেন ৷ আল্লাহর শরীক তথাকথিত অংশীদারগুলেকে বর্জন করলেন এবং
ইসলামের সত্যতা স্বীকার করলেন ৷ ঈমানদার এবং সত্যায়নকারীরপে তিনি বাড়ী ফিরে
গেলেন ৷

ইবন ইসহাক বলেন মুহাম্মদ ইবন আবদুর ররমান ইবন আবদুল্লাহ ইবন ২স ইন তামীমী
বলেছেন যে, রাসুলুল্লাহ্ (যা) বলেছেন, আমি যাকেই ইসলামের দাওয়াত দিয়েছি সে-ই প্রথমে
দ্বিধাদ্বস্থে ভুগেছে, ইতন্তত করেছে এবং চিন্তা ভাবনা করেছে কিভু আবু বকর (বা) তার
ব্যতিক্রম ৷ আমরাত র্ণীর নিকট ইসলাম গ্রহণের প্রস্তাব দেয়ার পর তিনি কােনরুপ দ্বিধা করেননি
কোন প্রকারের ইতস্তত তারও প্রকাশ করেননি ৷ দেরীও করেননি ৷ ইবন ইসহাকের বর্ণনায়
উল্লিখিত তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সমর্থনও করেননি বর্জ্যও করেননি বক্তব্যের অর্থ এটিই ৷ কারণ,
ইবন ইসহাক ও অন্যরা উল্লেখ করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর নবুওয়াত লাভের পুর্বেও
হযরত আবু বকর (রা) রাসুলুল্লাহ্ (সা) এর সাহচর্যে থাকতেন ৷ রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর
সত্যব দি ৷, বিশ্বস্ততা, সৎ স্বভ ৷ব ও মধুর চরিত্র সম্পর্কে তিনি সম্যক অবগত ছিলেন ৷ এসব
গুণাবলী তাকে সৃষ্টিজগতে র সাথে মিথ্যাচার থেকে বিরত রেখেছে, তাহলে৩ তিনি কেমন করে

আল্লাহ সম্পর্কে মিথ্যাচার করবেন ? এজন্যে “আল্লাহ্ তাকে রাসুলরুপে প্রেরণ করেছেন শুধু

এটুকু বক্তব্য শুনে তিনি তাকে সত্যবাদী বলে মেনে নিয়েছেন ৷ কোন প্রকারের বিলম্বও
দােদুল্যমানতা দেখাননি ৷

হযরত আবু বকর (রা) এর জীবনী বিষয়ক একটি পৃথক গ্রন্থে আমরা বীর ইসলাম গ্রহণের
পটভুমি ও বিস্তারিত বিবরণ উল্লেখ করেছি ৷৩ তার মর্যাদা এবং চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যাবলীও আমরা
সেখানে উল্লেখ করেছি ৷ এরপর আমরা হযরত উমর ফ রুক (রা)-এর জীবনী আলোচনা
করেছি ৷৩ র্তারা উভয়ে রাসুলুল্লাহ্ (না) থেকে যে সব হাদীছ বর্ণনা করেছেন, সেগুলো তথায়
সন্নিবেশিত করেছি ৷ হযরত আবু বকর (রা) থেকে যে সকল হাদীছ মন্তব্য ও ফা৩ ৷ওয়া বর্ণিত
হয়েছে, উক্ত গ্রন্থে সেগুলো আমরা এসেছি ৷ উক্ত গ্রন্থ৩ তিন খণ্ডে সমাপ্ত হয়েছে ৷ সকল প্রশংসা
আল্লাহর ৷

হযরত আবু বকর (রা) ও হযরত উমর (রা) এর মাঝে সৃষ্ট বিতর্ক বিষয়ক আবু দারদা
কর্তৃক বর্ণিত হাদীছে সহীহ্ বুখারীতে উদ্ধৃত হয়েছে যে, প্রসঙ্গক্রমে রাসুলুল্লাহ্ (সা)
বলেছিলেন :


পৃষ্ঠা ৫৭ ঠিক করুন





ৰুন্ঠু;াএ ৰু ন্৷ ;’$): ণ্’;ং;৷ ধুট্রুৰুঠুণ্ হ্ার্চু)
আল্লাহ তাআলা আমাকে তোমাদের নিকট রাসুলরুপে প্রেরণ করেছেন ৷ কিন্তু তোমরা
আমাকে বলেছিলে আপনি মিথ্যাবাদী আর আবু বকর বলেছিলেন, তিনি স৩ ইি বলেছেন ৷ আবু
বকর (বা) নিজের জানমাল দিয়ে আমাকে সহযােগি৩ ৷ করেছেন ৷ এখন আমার সম্মানার্থে
তোমরা কি আমার এই সাথীকে একটু শান্তিতে থাকতে দিবে ? শেষ কথাটি তিনি দুবার
বলেছেন ৷ এরপর থেকে হযরত আবু বকর (বা) ক ৷রো পক্ষ :থকে ক্লেশদায়ক কোন আচরণের
সম্মুখীন হননি ৷ এটি৩ ৷ প্রায় সুস্পষ্ট দলীল যে, হযরত আবু বকর (রা) সর্বপ্রথম ইসলাম
গ্রহণকারী ব্যক্তি ৷ ইমাম তিরমিযী ও ইবন হিব্বান শু বা আবু সাঈদ থেকে বর্ণনা করেছেন
যে, প্রসঙ্গক্রমে আবু বকর (রা) বলেছিলেন, আমি কি ওই খিলাফতের অধিকতর যোগ্য নই ?
আমি কি সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণকারী ব্যক্তি নই ? আমি কি অমুক অমুক ভৈবশিক্টোব অধিকারী
নই ?
ইবন আসাকির হারিছ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি হযরত আলী (রা) কে
বলতে শুনেছি, পুরুষদের মধ্যে সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণকারী হলেন হযরত আবু বকর (বা) আর
রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর সাথে নামায আদায়কারী সর্বপ্রথম পুরুষ হলেন আলী ইবন আবু তালিব
(রা) ৷
শু’বা যায়দ ইবন আরকাম থেকে বর্ণনা করেন ৷ তিনি বলেছেন, রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর
সাথে প্রথম নামায আদায় করেছেন আবু বকর সিদ্দীক (রা) ৷ এ হাদীছ ইমাম আহমদ, তিরমিযী
ও নাসাঈ (র) প্রমুখ শু’ব৷ সুত্রে উল্লেখ করেছেন ৷ ইমাম তিরমিযী মন্তব্য করেছেন যে, এটি
হাসান ও সহীহ্ হাদীছ ৷
ইতোপুর্বে শু’বা যায়দ ইবন আরকাম সনদে ইবন জারীরের বর্ণনা উদ্ধৃত হয়েছে যে
যায়দ ইবন আরকাম (যা) বলেছেন, সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণ করেছেন আলী ইবন আবৃত ৩ালিব ৷
আমর ইবন মুবরা বলেন, এ বর্ণনা আমি ইবরাহীম নাখঈ-এর নিকট আলোচনা করেছিলাম ৷
তিনি এটি প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং বলেছেন যে, সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণ করেছেন আবু বকর
সিদ্দীক (রা) ৷
ওয়াকিদী আপন সনদে আবু আরওয়৷ দাওসী এবং আবু মুসলিম ইবন আবদুর রহমানসহ
একদল পুর্ববর্তী বর্ণনাকারী থেকে বর্ণনা করেছেন যে , সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণ করেছেন হযরত
আবু বকর সিদ্দীক (রা) ৷ ইয়াকুব ইবন সুফিয়ান বলেনহযরত ইবন আব্বাস (রা)-কে
জিজ্ঞেস করা হয়েছিল যে, সর্বপ্রথম ঈমান আনয়ন করেছেন কে ? উত্তরে তিনি বলেন, আবু
বকর সিদ্দীক (রা) ৷ তুমি কি হাসসানের ওই বক্তব্য শুননি :

ৰুাট্রুগ্প্ ৷১া


পৃষ্ঠা ৫৮ ঠিক করুন


যদি কে ন আস্থাভাজন দীনী ভাইয়ের ব্যথা বেদনা ও দুঃখ-কষ্টের কথা উল্লেখ করতে চাও
তবে তোমার ভাই আবু বকর (রা) এর ভোগ্ করা দুঃখ বেদনার কথা উল্লেখ করো ৷ দীনেব
উন্নয়নে ও প্রসারে তিনি যে ত্যাগ ও কুরবানী করেছেন৩ তা উল্লেখ করো ৷


নবী করীম (সা) এর পর তিনিই জগতের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি, বিশ্বস্ততম ও শ্রেষ্ঠ ন্যায়বিচারক ৷
তিনি যা সহ্য করেছেন তার রদৌলতে তিনি সর্বোত্তম ৷

ব্লুাট্রুঠু৷ ৷ ৰুদ্বুক্ট্রছু;ষ্ ট্রুট্রুন্ৰু এ,াট্রুা ৷ ব্ার্টুাএ হু’া’গ্লুৰুন্’ণ্ :fi’,;; ;ং: ৷ পুাট্রু;৷ টু
নবী করীম (সা) এর অব্যবহিত পরেই তার স্থান তিনি দ্বিতীয় স্থান অধিকারী এবং তার
অবস্থান প্রশং সাযোগ্য ৷ মানুষের মধ্যে তিনিই প্রথম ব্যক্তি, যিনি রাসুলাণকে সত্য বলে গ্রহণ
করেছেন ৷


ল্লাহ্র নির্দেশ মান্য করে এবং তার দীর্ঘদিনের সাথী মুহাম্মদ (সা ) এর পদাৎ ক অনুসরণ
করে তিনি প্রশংসনীয় জীবন যাপন করেছেন ৷ ওই পথ থেকে তিনি কখনো বিচ্যুত হননি ৷

আবু বকর ইবন আবী শায়বা আমির থেকে বর্ণনা করেন ৷ তিনি বলেন, আামি হযরত
ইবন আব্বাস (রা) কে জিজ্ঞেস করেছি অথবা তাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল যে, সর্বপ্রথম
ইসলাম গ্রহণ করেছেন কে ৷ উত্তরে তিনি বলেছিলেন, তুমি কি হাসসানের বক্তব্য শুননি ৷ এ
বলে তিনি উপরোল্লিখিত কবিতাটি আবৃত্তি করলেন ৷ হায়ছাম ইবন আদী হযরত ইবন আব্বাস
(রা) থেকে অনুরুপ বর্ণনা করেছেন ৷ আবুল কাসিম বাগভী বলেন, ইউসুফ ইবন মাজিশুন
বলেছেন, আমি আমাদের অনেক শায়খের সান্নিধ্য পেয়েছি ৷ তন্মধ্যে মুহাম্মদ ইবন মুনকাদির,
রাবীআ ইবন আবু আবদুর রহমান, সালিহ্ ইবন কায়সান এবং উছমান ইবন মুহাম্মদ প্রমুখ
রয়েছেন ৷ হযরত আবু বকর সিদ্দীক (বা) যে সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণকারী, এ বিষয়ে তাদের
কেউই বিন্দমাত্র সন্দেহ পোষণ করতেন না ৷
অমি বলি যে, ইব্রাহীম নাখঈ মুহাম্মাদ ইবন কাআর, মুহাম্মদ ইবন সীরীন এবং সাআদ
ইবন ইবরাহীম প্রমুখ (র) অনুরুপ বলেছেন ৷ আহলুস সুন্নাহ জামাআতের অধিকাৎশের নিকট
মশহুর অভিমত এটিই ৷
সাআদ ইবন আবী ওয়াক্কাস এবং মুহাম্মদ ইবন হানফিয়্যাহ থেকে ইবন আসাকির বর্ণনা
করেছেন যে, র্তারা দু’জনে বলেন, হযরত আবু বকর সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণকারী নন, বরং
তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ ইসলাম গ্রহণকারী ৷ সাআদ বলেন, হযরত আবু বকর (রা)-এর পুর্বে আরো
পাচজন ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন ৷ সহীহ্ বুখারীতে হাম্মাম ইবন হারিছেব বর্ণিত হাদীছে আছে
যে, আমার ইবন ইয়াসির (না) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ্ (সা)-কে দেখেছি
যে, তার সাথে রয়েছেন পাচজন ক্রীতদাস, দু’জন মহিলা এবং আবু বকর (রা) ৷

ইমাম আহমদ ও ইবন মাজাহ আসিম ইবন আবু নুজুদ সুত্রে যির থেকে ইবন মাসউদের
বরাতে হাদীছ বর্ণনা করেছেন যে প্রথম ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছিলেন সাতজন ৷


পৃষ্ঠা ৫৯ ঠিক করুন


রাসুলুল্লাহ্ (সা), আবু বকর (রা), আমার (বা) , তার মা সুমাইয়া (রা) , সুহায়ব (বা), বিলাল
(রা) ও মিকদাদ (রা) ৷ বস্তুত আপন চাচার তত্ত্বড়াবধানের মাধ্যমে রাসুলুল্লাহ্ (না)-কে আল্লাহ্
তাআলা নির্যাতন থেকে রক্ষা করেছেন ৷ আর আবু বকরকে রক্ষা করেছেন অন্যান্যদেরকে তার
গোত্রের মাধ্যমে অন্যান্যদেরকে মুশরিকগণ ধরে নিয়ে যায় এবং লোহার পোশাক পরিয়ে প্রখর
রৌদ্রের মধ্যে দগ্ধ করতে থাকে ৷ অবশেষে হযরত বিলাল ব্যতীত অন্যরা মুশরিকদের
ইচ্ছাদ্বুযায়ী১ বক্তব্য দিতে বাধ্য হন ৷ কিন্তু হযরত বিলাল (রা) আল্লাহর সভুষ্টি অর্জনের পথে
নিজের জীবনকে তুচ্ছ এবং নিজের সম্প্রদায়কে গুরুতুহীন জ্ঞান করেন ৷ ফলে, মুশরিকগণ তাকে
নিয়ে বালকদের হাতে তুলে দেয় ৷ তারা র্তাকে রশিতে বেধে নিয়ে অত্যাচার করতে করতে
মক্কার অলিতে-ণলিতে ঘুরতে থাকে ৷ তিনি তখনও বলছিলেন আহাদ’ আহাদ অল্লোহ্ -এক
আল্লাহ এক ৷ ছাওরী (র) থেকে মুরসালরুপে এ হাদীছটি বর্ণিত হয়েছে ৷

ইবন জারীর (র) মুহাম্মদ ইবন সাআদ ইবন আবী ওযাককাস থেকে সুত্র ও বিষয়বস্তুর
দিক থেকে অগ্রহণযোগ্য একটি বর্ণনায় বলেছেন যে, তিনি বলেন, আমি আমার পিতাকে
জিজ্ঞেস করেছিলাম, আবু বকর (বা) কি আপনাদের মধ্যে সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণকারী ? উত্তরে
তিনি বলেছিলেন না, তা নয় ৷ তার পুর্বে ৫০ জনের অধিক লোক ইসলাম গ্রহণ করেছিল ৷ তবে
তিনি আমাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ইসলাম গ্রহণকারী ছিলেন ৷

ইবন জারীর বলেন, অন্য একদল আলিম বলেছেন যে, সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণ করেছেন
যায়দ ইবন হারিছা (রা) ৷ অন্যদিকে ইবন আবী যি’ব থেকে ওয়াকিদী বর্ণনা করেন, আমি
যুহরীকে জিজ্ঞেস করেছিলাম মহিলাদের মধ্যে সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণ করেছেন কে ? তিনি
বললেন, খাদীজা (রা) ৷ আমি বললাম পুরুষদের মধ্যে কে ? তিনি বললেন, যায়দ ইবন হারিছা
(রা), অনুরুপভাবে উবওয়া সুলায়মান ইবন ইয়াসার এবং আরো অনেকে বলেছেন যে,
পুরুষদের মধ্যে সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণ করেছেন যায়দ ইবন হারিছা (রা) ৷

উপরোক্ত সবগুলো মন্তব্য ও অভিমতের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে ইমাম আবু হানীফা (র)
বলেছেন, স্বাধীন বয়স্ক পুরুষদের মধ্যে সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণ করেছেন হযরত আবু বকর
সিদ্দীক (বা) , মহিলাদের মধ্যে হযরত খাদীজা (রা) , ক্রীতদাসদের মধ্যে যায়দ ইবন হারিছা
(বা) এবং বালকদের মধ্যে হযরত আলী ইবন আবু তালিব (রা) ৷

মুহাম্মদ ইবন ইসহাক বলেন, আবু বকর (রা) এর ইসলাম গ্রহণ এবং তা প্রকাশ করার পর
তিনি লোকজনকে আল্লাহর পথে দাওয়াত তে শুরু করলেন ৷ নিজ সম্প্রদায়ের লোকজনের
নিকট তিনি অত্যন্ত জনপ্রিয় ও মিশুকরুপে পরিচিত ছিলেন ৷ কুরায়শ বংশের তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ
কুলজী বিশারদ ছিলেন ৷ উক্ত বংশের কল্যাণ-অকল্যাণ সম্পর্কে তিনি ছিলেন সর্বাধিক অবগত ৷
ব্যবসায়ী, চরিত্রবান এবং সর্বজন পরিচিত ব্যক্তি হিসেবে তীর প্রসিদ্ধি ছিল ৷ তার জ্ঞান গরিমা
ব্যবসায়িক সম্পর্ক এবং সুন্দরতম সড়াহচর্য লাভের আশায় লোকজন র্তার নিকট উপস্থিত হত ৷
যারা তীর নিকট আসত , তাদের মধ্য থেকে যাদেরকে তিনি বিশ্বস্ত ও আস্থাভাজন মনে করতেন,
তাদেরকে তিনি ইসলামের দাওয়াত তেন ৷ মুহাম্মদ ইবন ইসহাক বলেন আমার জানা মতে



১ প্রাণরক্ষার জন্য এমনটি করা জাইয ৷ সম্পাদকদ্বয়


পৃষ্ঠা ৬০ ঠিক করুন


যুবায়র ইবন আওয়াম (রা) , উছমান ইবন আফ্ফান (রা) , তালহ৷ ইবন উবায়দুল্লাহ্ (বা) ,
সাআদ ইবন আবু ওয়াক্কাস ও আবদুর রহমান ইবন আওফ (রা) প্রমুখ তার হাতে ইসলাম
গ্রহণ করেন ৷ তারা রাসুলুল্লাহ্ (সা) এর দরবারে হাযির হন ৷ সাথে ছিলেন হযরত আবু বকর
(বা) ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা)৩ তাদের নিকট ইসলাম গ্রহণের দাওয়াত পেশ করেন এবং তাদেরকে
কুরআন পাঠ করে শুনান এবং তাদেরকে জানিয়ে দেন যে, ইসলাম-ই সত্য ও সঠিক ধর্ম ৷ তখন
তারা ঈমান আনয়ন করেন ৷ ইসলাম গ্রহণে অগ্রবর্তী এই আটজন রাসুল (না) যে সত্য নবী
বলে মেনে নেন এবং আল্লাহ্ তা আলার পক্ষ থেকে তার নিকট যা এসেছে তার প্রতি ঈমান
আনয়ন করেন ৷

ওয়াকিদী৩ালহ৷ ইবন উবায়দিল্পাহ্ (রা) সুত্রে বর্ণনা করেন ৷ তিনি বলেন, একদিন আমি
বুসরার১ বাজারে উপস্থিত হই ৷ তখন একজন যাজককে তার উপাসনালয়ে দেখতে পাই ৷ তিনি
বলছিলেন, মওসুমী ব্যবসায়ীদেরকে জিজ্ঞেস করো তাদের মধ্যে হারম শরীফের অধিবাসী কেউ
আছে কিনা ? তালহ৷ (রা) বললেন, আমি বললাম ই৷ আমি আছি ৷ তিনি বললেন, আহমদ কি
ইং৩ ৷ মধ্যে আবির্ভুত ৩হয়েছেন ? আহমদ কে ? আমি জিজ্ঞেস করলাম-তিনি বললেন,
আবদুল্লাহ্র পুত্র এবং আবদুল মুত্তালিবের দৌহিত্র আহমদ এটিত ৷ ৩র আবিভারৈর মাস ৷ তিনি
সর্বশেষ নবী ৷৩ তার আবির্ভ৷ ৷বের স্থান হল মক্কার হারাম শরীফ ৷ তিনি হিজরত করে যাবেন
খেজুর বৃক্ষশোভিত পাথুরে এবং লবণাক্ত জমিতে ৷ অতএব আপনি সতর্ক থাকুন, তীর থেকে
কল্যাণ লাভে কেউ যেন আপনার চেয়ে অগ্রগামী না হয় ৷ বর্ণনাকারী তালহ৷ (রা) বলেন,
যাজকের কথা আমার মনে দাগ কাটে ৷ আমি দ্রুত ওখান থেকে বেরিয়ে পড়ি এবং মক্কা
উপস্থিত হই ৷

এখানে কোন নতুন ঘটনা ঘটেছে কিনা আমি জানতে চাই ৷ লোকজন বলল, ই৷ ঘটেছে
বৈকি ৷ আবদৃল্লাহ্র পুত্র আল-আমীন মুহাম্মদ নিজেকে নবী বলে দাবী করেছেন ৷ আবু বকর
ইবন আবু কুহাফ৷ তার অনুসরণ করেছেন ৷ আমি হযরত আবু বকরের (রা) নিকট গেলাম এবং
বললাম, আপনি ক্লি ওই লোকের অনুসরণ করেছেন ? তিনি বললেন, হী৷ করেছি ৷ তৃমিও তার
নিকট যাও এবং৩ ব অনুসরণ কর ৷ কারণ তিনি সত্যের প্রতি আহ্বান করছেন ৷ তালহ৷ (রা)
যাজকের বক্তব্য আবু বকরকে জানালেন হযরত আবু বকর (বা) হযরত ত লাহ৷ (রা)-কে নিয়ে
রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর নিকট গিয়ে উপস্থিত হলেন ৷ তালহ৷ (রা) ইসলাম গ্রহণ করলেন এবং
যাজকের বক্তব্য রাসুলুল্লাহ্ (না)-কে জানালেন ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) তাতে খুশী হলেন ৷ আবু বকর
(রা) ও তালহ৷ (রা)-এর ইসলাম গ্রহণের পর নাওফিল ইবন খুওয়ায়লিদ ইবন আদবিয়্যা
তাদের দু’জনকে পাকড়াও করে ৷ সে কুরায়শের সিৎহ বলে পরিচিত ছিল ৷ একটি রশিতে সে
তাদের দু’জনকে বেধে ফেলে ৷ বনুতায়ম গোত্রের কেউই তাদেরকে রক্ষা করতে পারল না ৷ এ
জন্যে আবু বকর (বা) ও তালহ৷ (রা)-কে সাথীদ্বয় নামে আখ্যায়িত করা হয়ে থাকে ৷ রাসুলুল্লাহ্
(সা) এ বলে হে আল্লাহ! ইবন
আদৃবিয়্যা-এর অনিষ্ট থেকে আমাদেরকে রক্ষা করুন ৷ এটি বায়হাকীয় বর্ণনা ৷



১ এটা কিন্তু ইরাকের প্রসিদ্ধ বসর৷ নগরী নয় ৷ এটা সিরিয়ার একটি স্থান , যা পরবর্তীতে হুরবান বা হারান
নামে বিখ্যাত হয় ৷ সম্পাদকদ্বয়


পৃষ্ঠা ৬১ ঠিক করুন


হাফিয আবুল হাসান খায়ছামাহ আইশা (রা) সুত্রে বর্ণনা করেন ৷ তিনি বলেন,

একদা হযরত আবু বকর (বা) যাত্রা করলেন রাসুলুল্লাহ্ (সা) এর সাথোসাক্ষাতের উদ্দেশ্যে ৷

জাহিলী যুগেও৩ তারা দু’ জনে অম্ভরঙ্গ ছিলেন ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) এর সাথে তার সাক্ষাত হল ৷
আবু বকর (রা) বললেন, হে আবুল কাসিম আপনার সম্প্রদায়ের আসরে তো আপনি অনুপ
থাকেন ৷ আর লোকজন সকলেই আপনার সমালোচনা করে এবং আপনাকে তাদের বাপ দাদার
ব্যাপারে অর্থাৎ তাদের ধর্মত্যাগের ব্যাপারে দোষারোপ করে ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) বললেন, “আমি
আল্লাহর রাসুল ৷ আমি তোমাকে আল্লাহর দিকে আহ্বান জানাচ্ছি ৷ তার কথা শেষ হওয়ার পর
পরই আবু বকর (বা) ইসলাম গ্রহণ করলেন ৷৩ তার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে রাসুলুল্লাহ্ (সা)
চলে গেলেন ৷ হযরত আবু বকর (বা) ইসলাম গ্রহণের কার ৷বণে তিনি এত আনন্দিত হয়েছিলেন
যে, মক্কার উপত্যকার অধিবাসীদের মধ্যে কেউই তখন এত আনন্দিত ছিল না ৷ তারপর আবু
বকর (রা) চলে গেলেন এবং উছমান ইবন আফ্ফান,ত্ষ্ ন্তুালহ৷ ইবন উবায়দুল্লাহ্, যুবায়র ইবন
আওয়াম এবং সাআদ ইবন আবু ওয়াক্কাস-এর সাথে গিয়ে সাক্ষাত করলেন ৷ তারা সকলেই
ইসলাম গ্রহণ করলেন ৷ পরদিন তিনি উছমান ইবন মাযউন, আবু উবায়দা ইবন জাররাহ,
আবদুর রহমান ইবন আওফ, আবু স ৷লাম৷ ইবন আবদুল আসাদ এবং আরকাম ইবন আবুল
আরকাম প্রমুখের নিকট গেলেন ৷৩ তারা সবাই ইসলাম গ্রহণ করলেন ৷ আল্লাহ্ত তাদের প্ৰতি
সন্তুষ্ট হোন ৷

আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মদ বলেন, আবু মুহাম্মদ ইবন ইমরান হযরত আইশা (রা ) সুত্রে বর্ণনা

করেন ৷ তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর সাহাবীগণ (বা) যখন একত্রিত হলেন, তখন তারা
ছিলেন ৩৮ জন ৷ হযরত আবু বকর (রা) প্রকাশ্যে বের হওয়ার জন্যে রাসুলুল্লাহ্ (সা)ণ্এর
সাথে পীড়াপীড়ি শুরু করলেন ৷ রাসুলুল্লাহ্ বললেন, আবু বকর ! আমরা কিন্তু সংখ্যায় কম ৷ আবু
বকর (বা) প্রকাশ্যে বের হওয়ার জন্যে পীড়াপীড়ি করতেই লাগলেন ৷ অবশেষে রাসুলুল্লাহ্ (সা)
প্রকাশ্যে বের হলেন ৷ অন্যান্য মুসলিমগণ মসজিদের বিভিন্ন স্থানে ছাড়িয়ে পড়ে ৷ প্রত্যেকে নিজ
নিজ গোত্রের মধ্যে অবস্থান নেয় ৷ হযরত আবু বকর (বা) জনসমক্ষে বক্তৃতা দিতে শুরু করেন ৷
রাসুলুল্লাহ্ (সা) পাশে উপবিষ্ট ছিলেন ৷ বন্তুত হযরত আবু বকর (বা) প্রথম বক্তা, যিনি প্রকাশ্যে
লোকজনকে আল্লাহর প্রতি এবং তার রাসুলের প্রতি আহ্বান করলেন ৷ মুশরিকগণ
অবিলম্বে হযরত আবু বকরের উপর এবং মুসলমানদের উপর বাপিয়ে পড়ে ৷ মসজিদের
বিভিন্ন স্থানে থাকা মুসলমানদেরকে তা ৷রা ভীষণ প্রহার করে ৷ হযরত আবু বকর (রা) কে ত রা৷
পায়ের নীচে ফেলে পিষ্ট করে এবৎ৩ তাকে বেদম মারপিট করে ৷ পাপিষ্ঠ উ৩ বা ইবন রাবীআ
তার কাছে আসে এবং পুরনো ভারী দুটো জুতাে দিয়ে তাকে প্রহার করে, সেগুলো দিয়ে
তীর চোখে, মুখে আঘাত করে এবং তার পেটের উপর উঠে দাড়ায় ৷ তবে এমন প্রহার করা
হয় যে, তার নাক-মুখ চেনা যাচ্ছিল না ৷ সংবাদ পেয়ে বানু তায়মের লোকেরা দ্রুত সেখানে

হাযির হয় এবং মুশরিকদের হাত থেকে তাকে উদ্ধার করে ৷ একটি কাপড়ে মুড়িয়ে
তারা তাকে তুলে নেয় এবৎ৩ ব বাড়ীতে নিয়ে পৌছায় ৷ তার মৃত্যু যে আসন্ন তাতে তাদের
কোন সন্দেহ ছিল না ৷



Execution time: 0.11 render + 0.01 s transfer.