Login | Register

আল বিদায়া ওয়ান্নিহায়া - খন্ড ৩

পৃষ্ঠা ৪৬ ঠিক করুন


জিবরাঈল ফেরেশতা রয়েছেন ৷ আচ্ছা, তোমাদের নিকট কী কৌশল আছে ? তারা উত্তর দিল
যে, তার সাথীদের নিকট কমনীয় ও রমণীয় বিষয়গুলােকে আমরা চিত্তাকর্ষক ও সুসজ্জিত করে
রাখব এবং ওগুলোকে তাদের নিকট মােহনীয় করে তুলব ৷ এবার ইবলীস বলল, ঠিক আছে,
তাহলে আমি নিরাশ হব না ৷

ওয়াকিদী বলেন, তালহা ইবন আমর আবদুল্লাহ ইবন আমর থেকে বর্ণনা করেন ৷ তিনি
বলেছেন, যে দিন রাসুলুল্লাহ্ (সা) নবুওয়াতপ্রাপ্ত হলেন, সেদিন শয়তানদেরকে আকাশে যেতে
বধো দেয়া হল এবং তাদের প্রতি উল্কাপিণ্ড নিক্ষেপ করা হল ৷ তখন শয়তানরা ইবলীসের নিকট
গিয়ে উপস্থিত হয় এবং ওই ঘটনা তাকে জানায় ৷ তখন সে বলে, আসলে নতুন একটি ঘটনা
ঘটেছে ৷ ইসরাঈলীদের নির্গমন স্থলে পবিত্র ভুমিতে তোমাদের প্রতি একজন নবী প্রেরিত
হয়েছেন ৷ তার খোজে শয়তানরা সিরিয়ায় যায় ৷ কিন্তু সেখানে তাকে না পেয়ে তারা ইবলীসের
নিকট ফিরে এসে বলে, ওখানে তিনি সেই ৷ ইবলীস বলল, ঠিক আছে, আমি নিজে তাকে খুজে
বের করব ৷ রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর খোজে সে মক্কায় গমন করে ৷ যে তাকে দেখতে পায় যে,
তিনি হেরা গুহায় অবতরণ করছেন ৷ তার সাথে রয়েছেন ফেরেশতা জিবরাঈল (আ) ৷ সে তার
শিষ্যদের নিকট ফিরে আসে ৷ তাদের উদ্দেশ্যে সে বলে, আহমদ (সা) নবীরুপে প্রেরিত
হয়েছেন, তার সাথে রয়েছেন জিবরাঈল (আ) ৷ তোমাদের নিকট কী কৌশল আছে ? তারা
সমন্বয়ে উত্তর দিল যে, আমাদের নিকট আছে দুনিয়া ৷ এটিকে আমরা মানব জাতির নিকট
চাকচিক্যময় ও আকর্ষণীয় করে তুলব ৷ যে বলল, ঠিক আছে, তবে তাই কর ৷

ওয়াকিদী (র) বলেন, তালহা ইবন আমর ইবন আব্বাস (রা)-এর বরাতে বলেছেন,
শয়তানরা আড়ি পেতে ওহী শ্রবণ করত ৷ মুহাম্মাদ (সা) যখন নবুওয়াত লাভ করলেন, তারা
ওহী শ্রবণে বাধা প্রাপ্ত হল ৷ ইবলীসের নিকট তারা এ বিষয়ে অভিযোগ পেশ করে ৷ সে বলে,
নিশ্চয়ই কোন নতুন ঘটনা ঘটেছে ৷ সে আবু কুবায়স পাহাড়ে উঠল ৷ এটি পৃথিবীর আদি
পাহাড় ৷ ওখান থেকে সে দেখতে পেল যে, রাসুলুল্পাহ্ (সা) মাকামে ইবরাহীমের পেছনে নামায
আদায় করছেন ৷ সে বলল, আমি গিয়ে তার ঘাড় মটকে দিই ৷ রাগে গরগর করতে করতে সে
রাসুলুল্লাহ্ (সা) এর নিকট যায় ৷ তার নিকট তখন হযরত জিবরাঈল (আ) ছিলেন ৷

হযরত জিবরাঈল (আ) তখন ইবলীসকে এমন একটি লাথি নামের যে , সে দুরে বহুদুরে
গিয়ে ছিটকে পড়ল এবং পালিয়ে প্রাণ র্বাচাল ৷ অন্য এক বর্ণনায় আছে যে, জিবরাঈল (আ)
তাকে এমন সজােরে লাথি যেরেছিলেন যে, সে এডেন অঞ্চলে গিয়ে পড়েছিল ৷

রাসুলুল্লাহ (সা)-এর নিকট ওহী আসতো কেমন করে ?

হযরত জিবরাঈল (আ) প্রথমবার কোন অবস্থায় এসেছিলেন তা ইতোপুর্বে আলোচিত
হয়েছে ৷ দ্বিতীয়বার কেমন অবস্থায় এসেছিলেন তাও আলোচনা করা হয়েছে ৷ মালিক (র)
হযরত আইশা (রা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, হারিছ ইবন হিশাম রাসুলুল্লাহ্ (সা)-কে
জিজ্ঞেস করেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ্! আপনার নিকট ওহী আসে কেমন করে ? উত্তরে তিনি
বলেছিলেন, কখনো আসে ঘন্টাধ্বনির ন্যায় ৷ এটি আমার জন্যে খুবই কষ্টকর হয় ৷ এরপর ওই
পরিস্থিতি কেটে যায় আর যা নাযিল হল আমি তা সংরক্ষণ করি ৷ কখনো কখনো ওই ফেরেশতা


পৃষ্ঠা ৪৭ ঠিক করুন


আমার নিকট আসেন মানুষের রুপ ধরে ৷ তিনি সরাসরি আমার সাথে কথা বলেন ৷ তিনি যা
বলেন, আমি তা সংরক্ষণ করি ৷ হযরত আইশা (রা) বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ্ (সা) কে দেখেছি
যখন তার প্রতি ওহী নাযিল হত প্রচণ্ড ঠাণ্ডার দিলেও ওহী নাযিল হওয়ার পর তার কপাল থেকে
যান ঝরে পড়ত ৷ বর্ণনাটি বুখারী ও সহীহ্ মুসলিম-এর ৷ ইমাম আহমদ (র) আমির ইবন
সালিহ্ সুত্রে অনুরুপ উদ্ধৃত করেছেন ৷ অনুরুপ আবদা ইবন সৃলায়মান এবং আনাস ইবন ইয়ায
এ হাদীছটি বর্ণনা করেছেন ৷

আইয়ুব সুখতিয়ানী হারিছ ইবন হিশাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্পাহ্
(সা) কে জিজ্ঞেস করেছিলাম যে, আপনার নিকট কীভাবে ওহী আসে ? এরপর তিনি পুর্বোক্ত
হাদীছের ন্যায়ই বর্ণনা করেছেন ৷ তবে ওই সনদে হযরত আইশা (রা) এর নাম উল্লেখ নেই ৷

হযরত আইশা (রা)-এর প্রতি অপবাদ সংক্রান্ত হাদীছে রয়েছে যে , তিনি বলেছিলেন,
এরপর রাসুলুল্লাহ্ (সা) ওই ঘর থেকে বের হওয়ার ইচ্ছা করেননি আর অন্য কেউও বের হয়নি
এমতাবস্থায় তার প্রতি ওহী নাযিল হতে শুরু করে ৷ ওহী নাযিলকালীন অবস্থার মত তখন তার
চোখ-মুখ কঠিন ও স্থির হয়ে উঠে ৷ এরপর তার মুখমণ্ডল থেকে মুক্তাবিন্দুর ন্যায় নাম ঝরে
পড়তে থাকে ৷ তখন ছিল শীতকাল ৷ ওহী নাযিলের গুরুভারের কারণে এমনটি হয়েছিল ৷

ইমাম আহমদ উমর ইবন খড়াত্তাব (রা) থেকে বর্ণনা করেন তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ্
(না)-এর প্রতি যখন ওহী নাযিল হত, তখন তার মুখমণ্ডলের নিকট মৌমাছির গুঞ্জরনের ন্যায়
গুঞ্জন শোনা যেত ৷ ট্রু,দ্দু;পু৷ ৷ ত্া১৷ ন্ আঘাতের শানে নুয়ুল বর্ণনা প্ৰসংগে এ হাদীছ
বিস্তারিত ভাবে উল্লিখিত হয়েছে ৷ ইমাম তিরমিযী ও নাসাঈ (র) হাদীছটি আবদুর রায্যাক সুত্রে
বর্ণনা করেছেন ৷ এরপর ইমাম নাসাঈ মন্তব্য করেছেন যে, বর্ণনাটি অগ্রহণযােগ্য ৷ ইউনুস ইবন
সুলায়ম ব্যতীত অন্য কেউ এটি বর্ণনা করেছেন বলে আমার জানা নেই ৷ আর তিনি একজন
অজ্ঞাত পরিচয় রাবী ৷

সহীহ্ মুসলিম ও অন্যান্য গ্রন্থে আছে যে, হাসান উবাদাহ্ ইবন সামিত (রা) থেকে বর্ণনা
করেন, রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর প্রতি যখন ওহী নাযিল হত, তখন তা তীর নিকট অত্যন্ত কষ্টকর
হত এবং তার মুখমণ্ডল ঘর্মাক্ত হয়ে যেত ৷ এক বর্ণনায় আছে যে , তিনি তখন দুচােখ বন্ধ করে
রাখতেন ৷ তার এ অবস্থায় সাথে আমরা পরিচিত ছিলাম ৷

সহীহ্ বুখারী ও মুসলিমে যায়দ ইবন ছাবিত (রা) থেকে বর্ণিত যে , টু,,ঠু এে ৷ ধ্;প্রুব্লুঠুঠুরু
;;,;;;;;§: ৷ ;,, আয়াত নাযিল হওয়ার পর ইবন উম্মে মাকতুম তীর অন্ধত্বের বিষয়টি
ন্রার্মুলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট ব্যক্ত করলেন ৷ এ প্রেক্ষিতে ,,ট্রু:৷ ৷ হো,’৷ ’,: ; (অর্থাৎ যাদের
কোন ওমর নেই) আয়াতাংশ (৪ : ৯৫) নাযিল হয় ৷ যায়র্দ ইবন ছার্বিত (রা) বলেন যে, তখন
রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর উরু মুবারক আমার জানুর উপর ছিল ৷ আমি তখন ওহী লিখছিলাম ৷ ওহী
যখন নাযিল হচ্ছিল, তখন তার উরুর চাপে আমার উরু যেতলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল ৷

সহীহ্ মুসলিমে হিশাম ইবন ইয়াহ্য়া ইয়ালা ইবন উমাইয়া সুত্রে বর্ণনা করেন তিনি
বলেছেন, হযরত উমর (রা) আমাকে বলেছিলেন, রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর প্রতি ওহী নাযিল হওয়ার
সময় তীর অবস্থা দেখার কোন আগ্নহ তোমার আছে কি ? একথা বলে তিনি রাসুলুল্লাহ্ (সা ) এর


পৃষ্ঠা ৪৮ ঠিক করুন


;খমওলের পর্দা ফীক করে দিলেন ৷ তখন তার প্রতি ওহী নাযিল হচ্ছিল ৷ তার মুখমণ্ডল ছিল
চাল টকটকে ৷ তখন তিনি গোঙাচ্ছিলেন ৷ এ ঘটনা ঘটেছিল জিইররানা নামক স্থানে ৷

সহীহ্ বুথারী ও সহীহ্ মৃসলিমে হযরত আইশা (না) থেকে বর্ণিত ৷ পর্দার আয়াত নাযিল
দ্বুওয়ার অব্যবহিত পুর্বে একরাতে হযরত সাওদা প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে বাইরে
পয়েছিলেন ৷ তাকে দেখে হযরত উমর (রা) বললেন হে সাওদা শু আমি আপনাকে চিনে
ফলেছি ৷ হযরত সাওদা ঘরে পৌছে এ বিষয়ে রাসুলুল্লাহ্ (সা ) এর নিকট অনুযোপ করলেন ৷
ান্বসুলুল্লাহ্ (সা) তখন বসে বসে রাতের খাবার গ্রহণ করছিলেন ৷ তার হাতে ছিল একটি হাড় ৷
চখনি আল্লাহ্ তাআলা তার প্রতি ওহী নাযিল করলেন ৷ ওই হাড় তখনও তার হাতে ছিল ৷

এরপর তিনি মাথা তুলে বললেন, “প্রয়োজন সমাধা করার জন্য বাইরে যাওয়ার অনুমতি
তামাদেরকে দেয়া হয়েছে ৷” এতে প্রমাণিত হয় যে, ওহী নাযিল হওয়ার সময় তার অনুভুতি
ন্ম্পুর্ণরুপে বিলুপ্ত হত না ৷ কারণ, হাদীছে রয়েছে যে , তিনি বসা ছিলেন এবং তার হাত থেকে
হাড়টি পড়ে যায়নি ৷

আবু দাউদ তায়ালিসী বলেন, আব্বাদ ইবন মানসুর হযরত ইবন আব্বাস (রা) থেকে
বর্ণনা করেন ৷ তিনি বলেন, ওহী নাযিল হওয়ার সময় রড়াসুলুল্লাহ (না)-এর দেহ ঘুবারক ও
মুখমণ্ডল ঘর্মাক্ত হয়ে যেত ৷ তিনি তখন সাহাবীদের সাথে কথা বলা থেকে বিরত থাকতেন ৷
তাদের কেউ তখন র্তার সাথে কথাবার্তা বলতেন না ৷ মুলনাদে আহমদ প্রভৃতি পন্থে ইবন
নাহ্ইয়া আবদুল্লাহ ইবন আমর (রা) সুত্রে বর্ণিত ৷ তিনি বলেন, আমি বলেছিলাম, ইয়া
রাসুলাল্লাহ্ ! ওহী নাযিল হওয়ার বিষয়টি কি আপনি অনুভব করতে পারেন ? তিনি বললেন হীা,
আমি তখন ঘণ্টাধ্বনির ন্যায় আওয়াজ শুনতে পাই আর তখন আমি স্থির হয়ে থাকি ৷ যখন
আমার প্রতি ওহী নাযিল হতে থাকে, তখন আমার আশংকা হয় যে, এর কারণে আমার প্রাণ
বেরিয়ে যাবে ৷

আবু ইয়ালা মুসিলী বলেন, ইবরাহীম ইবন হাজ্জাজ আলইয়াস ইবন আসিম থেকে বণ্নাি
করেন ৷ তিনি বলেন, একদা আমি রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর নিকট ছিলাম ৷ তখন তার প্রতি ওহী
নাযিল হচ্ছিল ৷ তীর প্রতি যখন ওহী নাযিল হত, তখন তার দৃষ্টি স্থির হয়ে যেত চক্ষুদ্বয় থাকত
খোলা ৷ তার শ্রবণেদ্রিয় ও অন্তর আল্লাহর পক্ষ থেকে যা নাযিল হচ্ছে তা সংরক্ষণের জন্যে
প্রস্তুত থাকত ৷

আবু নুআয়ম হযরত আবু হুরায়রা (রা) সুত্রে বর্ণনা করেন ৷ তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ্
(সা) এর প্রতি যখন ওহী নাযিল হত , তখন তার মাথা ধরে যেত এবং তিনি (মহ্দী দ্বারা মাথায়
প্ৰলেপ দিতেন ৷ হাদীছটি অত্যন্ত গরীব পর্যায়ের ৷

ইমাম আহমদ বলেন, আবু নাসর আসমা বিনত ইয়াযীদ (রা) থেকে বর্ণিত ৷ তিনি বলেন
একদিনের ঘটনা ৷ আমি রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর “আযবা” নামক উষ্ট্রীর লাগাম ধরে র্দাড়িয়ে
ছিলাম ৷ তখন সুরা মায়িদা পুরোটাই তার প্রতি নাযিল হল ৷ ওহীর ভারে উষ্ট্রীর পার্শ্বদেশ ভেঙ্গে
যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল ৷ এ হাদীছটি আবু নুআয়মও বর্ণনা করেছেন ৷


পৃষ্ঠা ৪৯ ঠিক করুন


ইমাম আহমদ হাসান আবদুল্লাহ ইবন আমর সুত্রে বর্ণনা করেন ৷ তিনি বলেন রাসুলুল্লাহ্
(সা) সওয়ারীর পৃষ্ঠে ছিলেন এ অবস্থায় সুরা মায়িদা নড়াযিলভ্রু হত ৩থাকে ৷ সওয়ারী ওহীর তার
সইতে অক্ষম হয়ে পড়ে ৷ তখন রাসুলুল্লাহ্ (সা) সেটি থেকে নেমে পড়েন ৷

ইবন মারদাবিয়্যাহ উম্মে আমরের চাচা সুত্রে বর্ণনা করেছেন যে, একদা তিনি রাসুলুল্লাহ
(সা) এর সাথে সফরে ছিলেন ৷ তখন তার প্রতি ৩সুরা মায়িদা নাযিল হয় ৷ ওহীর৩ শরে সষ্ শ্লিষ্ট
সওয়৷ ৷রীর ঘাড় ভেঙ্গে যাওয়া র উপক্রম হয়েছিল ৷ এ সনদে হাদীছটি ণরীব পর্যায়ের ৷

সহীহ্ বুখারী ও সহীহ্ মুসলিমে বর্ণিত আছে যে, হুদায়বিয়া থেকে প্রত্যারর্তনের সময়
রাসুলুল্লাহ্ (সা) এর প্রতি ৩সুরা ফাত তহ নাযিল হয় ৷ তখনও তিনি সওয়ারীর পিঠে ছিলেন ৷ অবস্থা
ভেদে সেটি একবার এদিক, একবার ওদিক নড়াচড়৷ করছিল ৷

সহীহ্ বুখায়ীর ভাষ্য গ্রন্থের প্রথম দিকে আমরা ওহীর প্রকারভেদ আলোচনা করেছি ৷
হালীমী প্রমুখ ইমামগণ বা মন্তব্য করেছেন৩ তাও আমরা সেথাঃন উল্লেখ করেছি ৷

পরিচ্ছেদ
আল্লাহ্ তাআলা বলেন :


, ৷ ;

“তাড়াতাড়ি ওহী আয়ত্ত করার জন্যে আপনি আপনার জিহ্বা সেটির সাথে সঞ্চালন করবেন
না ৷ এটিড় সংরক্ষণ ও পাঠ করানোর দ য়ি আমারই ৷ সুতরাং আমি যখন সেটি পাঠ করি
আপনি যে পাঠের অনুসরণ করুন ৷ এরপর সেটির বিশদ ব্যাখ্যার দায়িত্ব আমারই” (৭৫ :
১৬ ১৯) ৷
মহান আল্লাহ আরো বলেন :

১াএ
“আপনার প্রতি আল্লাহর ওহী সম্পুর্ণ হওয়ার পুর্বে কুরআন পাঠে আপনি তৃর৷ করবেন না
এবং বলুন হে আমার প্রতিপালকা” আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করে দিন (২০ : ১১৪) ৷ ওহী নাযিলের
সুচনাকালে পরিস্থিতি এরুপ ছিল ৷ আল্লাহ তা আলার পক্ষ থেকে ফেরেশ৩ তা জিবরাঈল (আ)
ওহী নিয়ে আসলে ফেরেশত৷ থেকে তা গ্রহণ করার প্রচণ্ড আগ্রহ হেতু রাসুলুল্লাহ্ (সা) হযরত
জিবরাঈলের তিলাওয়াতে র সাথে সাথে তিলাওয়তি করতেন ৷
এরপর আল্লাহ তা আল৷ তাকে এ নির্দেশ দিলেন যে, ওহী নাযিল শেষ হওয়ার পুর্ব পর্যন্ত
তিনি যেন চুপ থাকেন ৷ ওই ওহী রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর বক্ষে সংরক্ষণ করা সেটির তিলাওয়াত
ও তাবলীগ সহজ করে দেয়া, সেটির ব্যাথ্যা-বিশ্লেষণ এবং সেটির মর্য অনুধাবন করিয়ে দেয়ার


পৃষ্ঠা ৫০ ঠিক করুন


যিম্মাদারী মহান আল্লাহ নিজেই নিয়ে নিয়েছেন ৷ এ প্রেক্ষিতেই আল্লাহ্ তাআলা উপরোক্ত
আয়াত নাযিল করেন ৷ এ প্রেক্ষিতে আল্লাহ্ তাআলা আরো বলেন :


তাড়াতাড়ি ওহী আয়ত্ত করার জন্যে সেটির সাথে আপনি জিহ্বা সঞ্চালন করবেন না ৷
সেটির সংরক্ষণ করা অর্থাৎ আপনার বক্ষে স্থায়ী রাখা ¢:ং,’;’, এবং সেটি পাঠ করানো অর্থাৎ
আপনাকে তা পাঠ করানোর দায়িত্ব আমারই ৷ হুাঠুন্ৰুদ্বু ৷ ট্রা১ অতএব আমি যখন তা পাঠ করি
অর্থাৎ ফেরেশতা যখন তা আপনার নিকট পাঠ করেন, রু১াপ্রু’ও ং৫ ড্রু;া১ তখন আপনি তার পাঠের
অনুসরণ করুন ৷ অর্থাৎ আপনি তা মনোযোগ সহকারে শুনুন ও তার প্রতি মনোনিবেশ করুন ৷
রু১া ৷া; :-, ৷ ন্; এরপর সেটির বিশদ ব্যাখ্যার দায়িত্ব আমারই এটি ৷সু; ;,’;$’; ;;
এর অনুরুপ মর্ম-জ্ঞাপক ৷
সহীহ্ বুখায়ী ও সহীহ্ মুসলিমে রয়েছে যে, মুসা ইবন আবী আইশা হযরত ইবন আব্বাস
(রা) সুত্রে বর্ণনা করো ৷ তিনি বলেন, কুরআন নাযিল হওয়ার সময় রাসুলুল্পাহ্ (না) তা আয়ত্ত
করতে অত্যন্ত যত্মবান হতেন ৷ তখন তিনি তার ওষ্ঠদ্বয় সঞ্চালন করতেন ৷ তখন আল্পাহ্
তাআলা নাযিল করলেন :
ঠু১নুএটুএ
এর ব্যাখ্যার ইবন আব্বাস বলেছেন যে, ওই কুরআন আপনার বক্ষে সংরক্ষিত রাখা এবং
তারপর আপনাকে দিয়ে তা পাঠ করানোর দায়িত্ব আমারই ৷
গ্রুাট্রু’ও ছুট্রু;এে
অর্থাৎ আমি যখন পাঠ করি, তখন আপনি মনোযোগ সহকারে তা শুনবেন এবং চুপ
থাকবেন ৷
এরপর সেটির ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের দায়িত্ব আমারই ৷
বর্ণনাকারী বলেন, এরপর থেকে রাসুলুল্লাহ্ (না) জিবরাঈল (আ) ওহী নিয়ে আসলে নত

মস্তকে চুপ করে থাকতেন ৷ জিবরাঈল (আ) চলে গেলে তিনি নাযিলকৃত ওহী পাঠ করতেন ৷
যেমনটি মহান আল্লাহ র্তাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ৷

পবিছেদ
ইবন ইসহাক বলেন, এরপর থেকে রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর প্ৰতি নিয়মিত ওহী নাযিল হতে
থাকে ৷ আল্লাহ্র পক্ষ থেকে যা আসত তা পুরোপুরি এবং যথাযথ ভাবেই তিনি প্ৰত্যায়ন ও
সর্বন্তঃকরণে বরণ করতেন ৷ সাধারণ মানুষ তাতে সন্তুষ্ট কি অসন্তুষ্ট তিনি তার তােয়াক্কা মাত্র না
করে তা সহ্য করে পুেছেন ৷ নবুওয়াতী দায়িত্ব পালন উপলক্ষে তিনি অনেক দুঃখ-কষ্ট ভোগ
করেছেন ৷ প্রচণ্ড শক্তিমান ও সুদৃঢ় রাসুলগণ ব্যতীত অন্য কেউ তা সহ্য করতে পারে না


পৃষ্ঠা ৫১ ঠিক করুন


আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে আনীত বিষয় প্রচার করতে গিয়ে ওই নবী-রাসুলগণ
জনসাধাব ণের পক্ষ থেকে যে অপ্রীতিকর আচরণের সম্মুখীন হন এবং ওরা তাদের উপর যে
অত্যাচা র নির্যাতন চালায় তার মুকা ৷বিলড়ায় মহান আল্লাহর সাহায্য ও দয়ায় তারা দায়িতু পালনে
সক্ষম হন ৷ এ ভাবেই আপন সম্প্রদায়ের বিরোধিতা ও নির্যা ৷তসের মুখে রাসুলুল্লাহ্ (সা)
নিয়মিতভাবে আল্লাহর নির্দেশ পালন করে গিয়েছেন ৷

ইবন ইসহাক বলেন, হযরত খাদীজা বিনত খুওয়ায়লিদ ঈমান আনয়ন করলেন আল্লাহর
পক্ষ থেকে প্রা ৷প্ত বিষয় সত্য বলে গ্রহণ করলেন এবং স্বীয় দায়ি তু পালনে রাসুলুল্লাহ (সা) কে
সাহায্য করেন ৷ তিনিই সর্বপ্রথম আল্লাহ ও রাসুলের প্রতি ঈমান এসেছেন ৷ আল্লাহর পক্ষ থেকে
যা এসেছে তা সত্য বলে গ্রহণ করেছেন ৷ তার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা রাসুলুল্লাহ্ ( সা)-এর
দুঃখ-কষ্ট লাঘব করেছেন ৷ রাসুলুল্লাহ (সা) তার বিরুদ্ধবাদীন্দের প্রত্যাখ্যান ও অস্বীকৃতি
ইত্যাকার যত দুঃখজনক আচরণের মুখোমুখি হয়ে শোকেদুঃখে জর্জরিত হয়ে যখন হযরত
খাদীজা (রা)-এর নিকট ফিরে আসতেন, তখন হযরত খাদীজার মাধ্যমে আল্লাহ তাত্মালা তার
সকল দৃংখের উপশম ঘটাতেন ৷

হযরত খাদীজা ৷(রা)৩ তাকে অটল থাকতে বলতে তন ৷ তিনিওার গুরুদায়িতৃ পালন সহজ
করে তুলতেন ৷ সকল কাজে তার সত্যায়ন করতেন এবং শত্রুদের শত্রুতামুলক আচরণকে
সহনীয় করে তৃলতেন ৷ আল্লাহ হযরত খাদীজার প্রতি সন্তুষ্ট হোন এবং তবে সন্তুষ্ট করুন ৷

ইবন ইসহাক বলেন, হিশাম ইবন উরওয়া তার পিতা থেকে এবং তিনি আবদুল্লাহ ইবন
জাফর থেকে বর্ণনা করেছেন ৷ তিনি বলেছেন যে, রাসুলুল্লাহ (সা) বলেছেন : আমাকে নির্দেশ
দেয়া হয়েছে আমি যেন খাদীজাকে জান্নাতে মুক্তার তৈরি একটি ঘরের সুসংবাদ দিই যেখানে

না আছে কোন কোলাহল, আর না আছে কোন দুঃখ-কষ্ট ৷ এ হাদীছ সহীহ বুখারী ও সহীহ

মুসলিমে হিশাম (র) থেকে উদ্ধৃত আছে ৷

ইবন ইসহাক বলেন, আল্লাহ তা অ ৷ল৷ প্রিয়নবী (সা) কে নবুওয়াত প্রদানের মাধ্যমে তার
প্রতি এবং সকল বান্দ র প্রতি যে নিআমত ও অনুগ্রহ বর্ষণ করেছেন প্রিয়নবী (না) তার
পরিবারের ঘনিষ্ঠজনকে একান্তে সেগুলো জানাতেন ৷

মুসা ইবন উকবা যুহরী থেকে বর্ণনা করেছেন যে, হযরত খাদীজা (রা) সর্বপ্রথম আল্লাহর
প্রতি ঈমান এসেছেন এবং রাসুলকে সত্য বলে গ্রহণ করেছেন ৷ নামায ফরয হওয়ার পুরেই
তিনি ঈমান আসেন ৷

উক্ত বর্ণনার ব্যাখ্যায় আমি বলি যে, এখানে মিরাজের রাতে পাচ ওয়াক্ত নামায ফরয
হওয়ার পুর্বের কথা বলা হয়েছে ৷ নতুবা মুলত নামায ফরয হয়েছে হযরত খাদীজা (রা)-এর
জীবদ্দশায় ৷ এ বিষয়ে আমরা এবন্টু পরে আলোচনা করব ৷

ইবন ইসহাক বলেন, হযরত খাদীজা (রা)-ই প্রথম লোক, যিনি আল্লাহ ও তার রাসুলের
প্রতি ঈমান এসেছেন এবং রাসুলুল্লাহ (সা) যা এসেছেন, তা সত্য বলে গ্রহণ করেছেন ৷

রাসুলুল্লাহ (না)-এর উপর নামায ফরয হওয়ার পরের একদিনের ঘটনা ৷ হযরত জিবরাঈল
(আ) এলেন রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর নিকট ৷ নিজের পায়ের গোড়ালি দ্বারা তিনি মাঠের এক প্রান্তে


পৃষ্ঠা ৫২ ঠিক করুন


মাটিতে আঘাত করলেন ৷ তার ফলে যমযম কুপের সাথে সংযোগ সম্পন্ন একটি ঝর্ণার সৃষ্টি
হয় ৷ হযরত জিবরাঈল (আ) ও প্রিয়নবী (সা) দু’জনে ওই পানিতে উয়ু করেন ৷ তারপর
জিবরা ঈল (আ) চার সিজদায় দু’রাকআত নামায আদায় করেন ৷ তার নয়ন জুড়ালো ও হৃদয়
প্রশান্ত হলো ৷ এমতাবস্থায় রাসুলুল্পাহ্ (সা) আপন ঘরে ফিরে এলেন ৷ আল্লাহর নিকট থেকে
তাই এলো যা তিনি পসন্দ করতেন ৷ ঘরে ফিরে গিয়ে তিনি হযরত খাদীজার হাত ধরে তাকে
নিয়ে ওই ঝর্ণাধারার নিকট আসলেন ৷ তারপর জিবরাঈল (আ) যেমনটি উয়ু করেছিলেন
রাসুলুল্লাহ্ (সা)-ও তেমনটি উবু করলেন ৷ তারপর চার সিজদাসহ দু’রাকআত নামায আদায়
করলেন ৷ এরপর থেকে তারা দৃজনে গোপনে নিয়মিত নামায আদায় করতেন ৷

আমি বলি, হযরত জিবরাঈল (আ) এর এই নামায তার বায়তৃল্লাহ্ শরীফের সম্মুখে দৃ বার
আদায় করা নামায থেকে পৃথক একটি নামায ৷ বায়তৃল্লাহ্ শরীফের সম্মুখে দু বার আদায়কৃত
নামাষে তিনি পড়াচ ওয়াক্ত নামাষের প্রথম ও শেষ ওয়াক্ত সম্পর্কে শিক্ষা দিয়েছেন এবং ওই
শিক্ষামুলক নামায ছিল মিরাজ রাতে পড়াচ ওয়াক্ত নামায ফরয হওয়ার পরের ঘটনা ৷ এ
বিষয়ে আলোচনা পরবর্তীতে আসবে ইনশাআল্লাহ্ ৷

পবিস্দ
সর্বপ্রথম ঈমান আনয়নকায়ী সাহাৰায়ে কিরাম

ইবন ইসহাক বলেন, ওই ঘটনার একদিন পর হযরত আলী (বা) তাদের নিকট আসেন ৷
তখন রাসুলুল্লাহ্ ও হযরত খাদীজা নামায আদায় করছিলেন ৷ আলী (বা) বললেন : আপনারা এ
কী করছেন ? রাসুলুল্লাহ্ (সা) বললেন, এটি আল্লাহ্র দীন ৷ তার নিজের জন্য এ দীনকে তিনি
মনোনীত করেছেন এবং এ দীন সহকারে তিনি রাসুলগণকে প্রেরণ করেছেন ৷ আমি তখন
তোমাকে একক ও লা-শরীক আল্লাহর দিকে এবং তার ইবাদতের দিকে আহ্বান করছি ৷ আমি
তোমাকে আহ্বান জানাচ্ছি লাভ ও উঘৃযা প্রতিমা পরিত্যাগ করতে ৷ হযরত আলী (রা) বললেন,
এটি তো এমন একটি বিষয়, যা ইতোপুর্বে আমি কখনো শুনিনি ৷ আমার পিতা আবু তালিবের
সাথে আলোচনা না করে আমি কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারছি না ৷ পুরো বিষয়টি প্রকাশ্যে ঘোষিত
হওয়ার পুর্বে আবু তালিবের নিকট এ গোপনীয় বিষয়টি প্রকাশিত হোক রাসুলুল্লাহ্ (সা) তা
সমীচীন মনে করলেন না ৷ তাই হযরত আলী (রা) কে বললেন, হে আলী ৷ তুমি যদি এখনই
ইসলাম গ্রহণ না কর, তবে আপাতত বিষয়টি গোপন রাখ, কাউকে বলো না ৷ হযরত আলী
(বা) ওই রাত অপেক্ষা করলেন ৷

এরপর আল্লাহ্ তাআলা হযরত আলী (রা)-এর অতরে ইসলাম গ্রহণের আগ্রহ সৃষ্টি করে
দিলেন ৷ ভোর বেলা তিনি রড়াসুলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট গেলেন এবং বললেন, আপনি আমার
নিকট কি প্রস্তাব পেশ করেছিলেন ? রাসুলুল্লাহ্ (সা) বললেন, প্রস্তাবটি এই, তুমি সাক্ষ্য দিয়ে
যে, আল্লাহ ব্যতীত কে ন ইলাহ্ নেই, তিনি একক, তার কে ন শরীক নেই ৷ আর তুমি লাভ ও
উয্যা প্ৰতিমাকে পরিত্যাগ করবে এবং সকল প্রকার অ ৎশীবাদিতড়া থেকে নিজেকে মুক্ত রাখবে ৷
হযরত আলী তা ইি করলেন এবং ইসলাম গ্রহণ করলেন ৷ তবে পিতা আবু তালিবের ভয়ে তিনি



Execution time: 0.03 render + 0.00 s transfer.