Login | Register

আল বিদায়া ওয়ান্নিহায়া - খন্ড ৩

পৃষ্ঠা ১৬ ঠিক করুন


তার পুর্বাভাস ৷ মুসা ইবন উক্বা সংকলিত মগোযী গ্রন্থে যুহরী থেকে এ কথা সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত
হয়েছে যে, রাসুলুল্লাহ্ (সা) ঘুমের মধ্যে এরুপ দেখেছিলেন ৷ তারপর সজাগ অবস্থায় ওই
ফেরেশতা তার নিকট এসেছিলেন ৷

হাফিয আবু ন্নুআয়ম ইস্পাহানী তার “দড়ালাইলুন নবুওয়ড়াত” গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে
মুহাম্মাদ ইবন আহমদ আলকামা ইবন কায়স থেকে বর্ণনা করেন , তিনি বলেছেন, নবীগণকে যা
দেয়া হত প্রথম অবস্থায় তা ঘুমের মধ্যেই দেয়া হত ৷ যাতে তাদের অন্তঃকরণ ধৈর্যশীল ও
সুন্থির হয়ে ওঠে ৷ এরপর তাদের প্রতি ওহী নাযিল করা হত ৷ এটি আলকামা ইবন কড়ায়সের
নিজস্ব ব্যাখ্যা ৷

এটি একটি সুন্দর বক্তব্য ৷ পুৰ্বাপর বক্তব্যগুলো এটিকে সমর্থন করে ৷

ওহী প্রাপ্তিকালে রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর বয়স এবং ওহী নাযিলের তারিখ

ইমাম আহমদ আমির শাবীর বরাতে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ্ (সা) নবুওয়াতপ্রাপ্ত হন
চল্লিশ বছর বয়সে ৷ তার নিকট নবুওয়াত আনয়ন তথা ওহী আনয়নে তিন বছর যাবত
ফেরেশতা ইসরাফীল (আ) সম্পৃক্ত ছিলেন ৷ তখন তিনি রাসুলুল্লাহ্ (সা)-ক্ষে বিভিন্ন বাণী ও বস্তু
সম্পর্কে শিক্ষা দিতেন ৷ তখন কুরআন নাযিল হয়নি ৷ তিন বছর অতিবাহিত হওয়ার পর হযরত
জিবরাঈল (আ) ওহী নাযিলের সাথে সম্পৃক্ত হন ৷ এরপর জিবরাঈল (আ)-এর মাধ্যমে ২০
বছরে পুর্ণ কুরআন মজীদ নাযিল হয় ৷ ১০ বছর মক্কায় এবং দশ বছর মদীনায় ৷ ৬৩ বছর
বয়সে রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর ইনতিকাল হয় ৷ শাবী পর্যন্ত এটি একটি বিশুদ্ধ সনদ ৷ এত দ্বারা
বুঝা যায় যে, রড়াসুলুল্লাহ্ (সা)-এর চল্লিশ বছর বয়সের পর পরবর্তী ৩ বছর ইসরাফীল (আ)
তার সাথে ছিলেন ৷ এরপরই জিবরাঈল (আ) তার নিকট এসেছেন ৷

শায়খ শিহাবুদ্দীন আবু শামা বলেছেন, হযরত আইশা (রা)-এর হাদীছ এই বর্ণনার সাথে
সাৎঘর্ষিক নয় ৷ কারণ, এমনও হতে পারে যে, প্রথমাবস্থায় রাসুলুল্লাহ্ (সা) স্বপ্ন দেখতেন ৷
তারপর হেরা গুহায় ধ্যানমগ্ন থাকার মেয়াদে ইসরাফীল (আ) তার নিকট আসতেন ৷ তিনি দ্রুত
বাক্য বলে দিয়ে চলে যেতেন ৷ রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর নিকট অবস্থান করতেন না ৷ রাসুলুল্লড়াহ্
(সা)-এর প্রশিক্ষণ ও ক্রমান্বয়ে র্তাকে পরবর্তী পরিস্থিতির জন্যে উপযোগী করে তোলার
উদ্দেশ্যে এরপর জিবরাঈল (আ) তিনি এমনটি করতেন ৷ রাসুলুল্পাহ্ (সা)-এর নিকট আগমন
করলেন এবং তাকে তিনবার চেপে ধরার পর যা শেখানাের তা শেখালেন ৷ হাদীছ সংক্ষিপ্ত
করার উদ্দেশ্যে রাসুলুল্লাহ্ (না) ও জিবরাঈল (আ)-এর মাঝে যা অনুষ্ঠিত হয়েছে হযরত
আইশা (বা) তা বর্ণনা করেছেন ৷ ইসরাফীল (অড়া)-এর সাথে তার সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ
করেননি ৷ অথবা এমনও হতে পারে যে, হযরত ইসরাফীল (আ) এর সম্পৃক্ততার বিষয়টি তার
জানা ছিল না ৷

ইমাম আহমদ (র) বলেন, ইয়াহইয়া ইবন আব্বাস (রা) সুত্র বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ্
(সা)-এর নিকট ওহী নাযিল হয় তার তেতাল্লিশ বছর বয়সে ৷ এরপর তিনি মক্কায় অবস্থান
করেন দশ বছর আর মদীনায় অবস্থান করেন দশ বছর ৷ তেষট্টি বছর বয়সে তার ইনতিকাল


পৃষ্ঠা ১৭ ঠিক করুন


হয় ৷ ইয়াহ্ইয়া ইবন সাঈদ এবং সাঈদ ইবন মুসায়ক্লাব থেকেও অনুরুপ বর্ণিত হয়েছে ৷ ইমাম
আহমদ (র)৩ ভিন্ন সনদে ইবন আব্বাস (বা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে রাসুলুল্লাহ (সা)
নবুওয়াতপ্রাপ্ত হলেন এবং তবে প্ৰতি কুরআন ন ৷যিল হল৩ তার চল্লিশ বছর বয়সে ৷ এরপর তিনি
মক্কায় অবস্থান করেন (তর বছর আর মদীনায় দশ বছর ৷ তে তষট্টি বছর বয়সে৩ তার ইনতিকাল
হয় ৷ ইমাম আহমদ (র)৩ ভিন্ন সুত্রে ইবন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে , রাসুলুল্লাহ্ (সা)
মক্কায় পনের বছর এ ভাবে অবস্থান করেছেন যে, প্রতিবছর তিনি একটি জোাতি দেখতেন ও

অদৃশ্য শব্দ শুনতেন আর ৩৷ ট বছর৩ তার প্রতি ওহী নাযিল হরু৩ তা ৷ তিনি মদীনায় অবস্থান
করেছেন দশ বছর ৷

আবু শামা (র) বলেন, রাসুলুল্লাহ্ (সা) তার নবুওয়াত লাভের পুর্বে আশ্চর্য ও বিস্ময়কর
বিষয়াদি দেখতেন ৷ সহীহ্ মুসলিমে বর্ণিত অনুরুপ একটি ঘটনা নিম্নরুপ জাবির ইবন সামুরা
(বা) থেকে বর্ণিত ৷ তিনি বলেন রাসুলুল্লাহ্ (সা) বলেছেন

;,ন্’া“ ব্১,ছুস্ট ; ৷ ৷ ৷ ট্রুাট্রু দ্বু র্ট ,হ্র ণ্দ্বুট্র ৷হ্র ত্হ্রপ্রু ৷ , ন্এষ্ §,;%;ং ,

মক্কায় অবস্থিত একটি পাথরকে আমি চিনি ৷ আমার নবুওয়াতপ্রাপ্তির পুর্বেও সেটি আমাকে
সালাম দিত ৷ ওই পাথরটি আমি এখনও চিনতে পারবো ৷

তখন রাসুলুল্লাহ্ (সা) নির্জ্যাত৷ পসন্দ করতেন ৷ তিনি তার সম্প্রদায়ের লোকদের সাহচর্য
থেকে দুরে থাকতে চা৩ইদু ন ৷ এজন্যে যে তিনি দেখতেন, তারা মুর্তিপুজা এবং প্রতিমাকে
সিজদ৷ করা ই৩ ব্রাদি স্পষ্ট গোমরাহীতে লিপ্ত রয়েছে ৷ তার প্রতি আল্লাহ্র তরফ থেকে ওহী
নাযিলের দিন যতই ঘনিয়ে আসছিল, ততই নির্জ্যাতা ও একাকীত্বের আগ্রহ তার মধ্যে প্রবল
থেকে প্রবলতর হচ্ছিল ৷ মুহাম্মাদ ইবন ইসহাক জনৈক আলিমের বরাত বর্ণনা করেছেন যে
রড়াসুলুল্লাহ্ (সা) প্রতেকে বছরই এক মাস করে হেব৷ গুহায় কাটাতেন এবং সেখানে ইবাদত
করতেন ৷ জ হিলী যুগে কুরায়শের যে কেউ ওই বিশেষ ইবাদত করতো যে তার কাছে আগত
সকল মিসর্কীনকে খাদ্য দান করত ৷ অবশেষে তার ওই বিশেষ ইবাদত সমাপ্ত হলে বায়তুল্লাহ্
শরীফের তা ওয়াফ না করে সে ঘরে ফিরত না ৷ ওয়াহাব ইবন কায়সান আবদুল্লাহ ইবন যুবায়র
(রা ) সুত্রে অনুরুপ বর্ণনা করেছেন ৷ এতে প্রমাণিত হয় যে কুরায়শ ব শের উপাসনাকারী
লোকদের এ নিয়ম ছিল যে, উপাসনার জন্যে তার৷ হেরা পর্বতে গিয়ে অবস্থান করত ৷ এ জন্যে

আবু তালিবত তার বিখ্যাত কাসীদায় বলেছেন :

,,,,,

শপথ ছাওর পর্বতের আর যিনি ছাবীর পর্বতকে যথাস্থানে স্থাপন করেছিল তার ৷ শপথ
হেরা পর্বতে আরোহণকারীর এবং সেখান থেকে অবতরণকারীর ৷

উক্ত পংক্তিটির এটিই বিশুদ্ধ পাঠ ৷ সুহায়লী আবু শামা ও শায়খ হাফিয আবুল হাজ্জাজ
মিয্যী (র) প্রমুখও তাই বলেছেন ৷ কোন কোন বর্ণনাকারী ভুল করে এরুপ বলেছেন —


পৃষ্ঠা ১৮ ঠিক করুন


ড্রো টুটু;শু ১ ;টু ব্লুাটুটু এটি বিশুদ্ধতার পরিপন্থী ও ত্রুটিপুর্ণ ৷ আল্লাহ্ই ভাল জানেন ৷

হেব৷ ( টুঠু) শব্দটি দীর্ঘ স্বরে এবৎহ্রাস স্বরে উভয় প্রকারে পাঠ করা যায় ৷

হেব৷ একটি পর্বব্লুও র নাম ৷ এটি মক্কা থেকে তিন ম ইল দুরে উচ্চভুমিতে অবস্থিত ৷ মিনার
পথে যা ৷ত্রীর এটি বামদিব্লুক থাকে ৷৩ তার একটি সুউচ্চ শৃঙ্গ কা বা গৃহের দিকে ঝুব্লুক রয়েছে ৷
ওই অংব্লু শেই গুহাটি অবস্থিত ৷ এ প্রসংপে রুব৷ ইবন আজাজ কী চমৎকারই না বলেছেন ং

, , : ;

ব্লুদৃন্ ;

নিরাপদ ও নিরুদ্বিগ্ন কবুতরগুব্লুলার প্রতিপালকের শপথ এবং, হেব৷ পর্বতের মস্তকাবনত
ঝুব্লুক থাকা অংশের প্রতিপালকের শপথ ৷

হাদীছে উল্লিখিত“ প্রু ণ্ ’ শব্দটিকে ট্র তথা ইব৷ ৷দতে লিপ্ত থাকা বলে ব্যাখ্যা করাটা হল
অর্থগত ব্যাখ্যা ৷ বন্তুত ং শব্দের ধাতৃগত অর্থ হল পাপের মধ্যে প্রবেশ করা ৷ এটি
বলেছেন ভাষাবিদ সুহায়লী ৷ তবে আ ৷রবী ভাষায় আমি গুটি কতক শব্দ দেখেছি যেগুলোর অর্থ
হল তার ধাভুগত অর্থ থেকে বেরিয়ে আসা ৷ যেমন ন্ অর্থ পাপ থেকে সে বেরিয়ে এসেছে ৷
যেমন ও টু;ৰুম্বুছু প্রভৃতি শব্দে ধাতৃগত অর্থ থেকে
বেরিয়ে আসা বুঝানো হয়েছে ৷

আবু শামা এসব নজীর উল্লেখ করেছেন ৷ হাদীসে বর্ণিত
বলা সম্পর্কে ইবন আরাবী (র)-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল ৷ উত্তরে তিনি বলেন ? মুলত ওই
শব্দটি
দীন-ই-হানীফ তথা সঠিক ধর্মমব্লুতর সাথে শব্দটি সম্পর্কিত ৷ অর্থাৎ রাসুলুল্লাহ্ (সা) হেব৷ গুহায়
হযরত ইবরাহীম (আ)-এর দীন-ই-হানীফ অনুযায়ী ইবাদত করবেন ৷ ইবন হিশাম বলেন,
ষ্; শব্দটি মুলত মোঃ ছিল ৷ আরবপণ যা (১) বর্ণকে ছা (;-) বব্লুর্ণ পরিবর্তিত করে
থাকে ৷ যেমন করে ;-টু;রু কে বলে ’১টু’; যেমন রুব৷ বলেন :

এ্াট্রুৰুখুা

— হার পাথরগুলো যদি কবরগুলোর সাথে থাকত ৷ এখানে এ ৷া ৷ দ্বারা : ৷ াৰু ৷ বুঝানো
হয়েছে ৷

আবুউবায়দা বলেন, আরবপণ ন্; এর স্থলে ণ্’: বলে থাকে ৷ আমি বলি, ওই সুত্রেই কোন
কোন তাফসীরকার বলেন যে, ৷হ্;,টুটুটু অর্থ টুন্টুৰু (অর্থ রসুন) ৷

নবুওয়াত লাভের পুর্বে রাসুলুল্লাহ্ (সা) কোন নির্দিষ্ট শরীআব্লুত র অনুসরণে ইবাদত করতেন
কিনা সে সম্পর্কে আলিমগণের মধ্যে মতানৈক্য রয়েছে ৷ কে ন শরীআত অনুসরণ করলে তা
কোনটি ?

কেউ বলেছেন, তিনি নুহ (আ) এর শরীআব্লু৩ র অনুসরণ করতেন ৷ কেউ বলেছেন,
ইবরাহীম (আ) এর শরীআত মেনে চলতে ন ৷ এটি অবশ্য অধিক৩ র যুক্তিসঙ্গত ও বলিষ্ঠ


পৃষ্ঠা ১৯ ঠিক করুন


অভিমত ৷ কেউ মুসা (আ) এর , আবার কেউ ঈসা ৷(আ) এর শরীআত তিনি অনুসরণ করতেন
বলে মত প্রকাশ করেছেন ৷ আবার কেউ বলেছেন,ত তার বিবেক বিবেচনায় যে কাজ তার নিকট
শরীআত সম্মত প্রমাণিত তহয়েছেত তিনি ত ই পালন করতেন ৷ এ বিষয়ে বিন্তুত আলোচনার জন্যে
উসুলে ফিক্হ বিষয়ক প্রন্থ৷ ৷দি দেখা যেতে পারে ৷

হাদীছের ভাষ্য ; ৷ )ন্ ,৮ fl; :§; ং ৷ ষ্ছু! ণ্ অবদুশষে তার নিকট সত্য এল ৷
তিনি তখন হেব৷ গুহায় ছিলেন ৷ ৩ার্থ ৎ পুর্ব অবগতি ব্যতিরেকে হঠাৎ ও আকস্মিক সত্য তার
নিকট এসেছে ৷ যেমনটি আল্লাহ তাআল৷ বলেন :


আপনি আশা করেননি যে, আপনার প্রতি কিতাব অবতীর্ণ হবে ৷ এটি তো একমাত্র
আপনার প্রতিপা ৷লকের অনুগ্রহ (২৮০ ৮৬) ৷

কিতাব নাযিলের সুচনা হয়েছিল সুরা আলাকের প্রথম দিকের আয়াত গুলো নাযিলের
মাধ্যমে ৷ সেগুলো হল০ :

র্দুব্লু;এ ৷

ওএেন্ ণ্ঞ্চ
পাঠ করুন আপনার প্রতিপালকের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন ৷ সৃষ্টি করেছেন মানুষকে
জমাট রক্ত থেকে ৷ পাঠ করুন, আর আপনার প্রতিপালক মহ৷ মহিমাম্বিত যিনি কলম দ্বারা
শিক্ষা দিয়েছেন ৷ শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানত না (৯৬ : ১-৫) ৷ এটুকুই হল
কুরআনের সর্বপ্রথম নাযিলকৃত অংশ ৷ তাফসীর গ্রন্থে আমরা তা প্রমাণ করেছি ৷
“সোমবার” বিষয়ক আংলাচনায়ও তা আলোচিত হবে ৷ এ বিষয়ে সহীহ্ মুসলিমে উল্লিখিত
আছে যে, আবু কাতাদা (বা) থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ্ (না)-কে সােমবারেব রোয৷ সম্পর্কে
জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, উত্তরে তিনি বলেন ং

সেটি এমন একটি দিন যে, ওই দিলে আমি জন্মগ্রহণ করেছি এবং ওই দিনটিতে
মর ৷প্রতি ওহী নাযিল হয়েছে ৷

হযরত ইবন আব্বাস (রা) বলেছেন, “ওে ৷মাদের নবী মুহাম্মদ (সা) জন্মগ্রহণ করেছেন

সােমবড়া রে এবং তিনি নবুওয়াত তপ্রাপ্ত হয়েছেন সােমবারে ৷ উবায়দ ইবন উমায়র, আবু জা ফর-

বাকির এবং আরও বহু আলিম এরুপ বলেছেন যে, সােমবারেই রাসুলুল্লাহ্ (সা)-এর প্রতি
ওহী নাযিল করা হয়েছে ৷ এ বিষয়ে তাদের মধ্যে কোন মতভেদ নেই ৷ ,

ওহী নাযিলের মাস সম্পর্কে কেউ কেউ বলেছেন যে, রবীউল আউয়াল সালে প্রথম ওহী
নাযিল হয়েছে যেমন ইতোপুর্বে উল্লেখ করা হয়েছে ৷ ইবন আব্বাস ও জাবির (বা) থেকে বর্ণিত
যে, রাসুলুল্পাহ্ (সা) জন্মগ্রহণ করেছেন রবীউল আউয়ালের ১২ত তারিখ সােমবারে ৷ ওই


পৃষ্ঠা ২০ ঠিক করুন


তাবিখেই তিনি নবুওয়াত লাভ করেছেন এবং ওই তাবিখেই তিনি মি’ রাজে গিয়েছেন ৷ তবে
প্রসিদ্ধ অভিমত এই যে, রমাযান মাসে রাসুলুল্লাহ্ (সা)এর প্রতি সর্বপ্রথম ওহী নাযিল করা
হয় ৷ উবায়দ ইবন উমায়র মুহাম্মাদ ইবন ইসহড়া ড়াক ও অন্যান্য অনেকেই এ বিষয়ে সুস্পষ্ট দলীল
পেশ করেছিল ৷ ইবন ইসহড়া ক (র) এ বিষয়ে দলীল পেশ করেছেন আল্লাহ্৩ তা জানার এই বাণী
দিয়ে
১ঢ়ণ্;ণ্১

রমাযান মাসই সেই মাস যাতে কুরআন নাযিল করা হয়েছে মানুষের হিদায়াতের
জন্যে ৷

তবে কেউ কেউ বলেছেন, রমাযানের প্রথম দশ দিনের মধ্যে কুরআন নাযিলের সুচনা
হয়েছে ৷ ওয়াকিদী আবু জাফর বড়াকির থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন, রাসুলুল্লাহ্
(সা) এর প্ৰতি ওহী নাযিলের সুচনা হয় রমাযানের সতের তারিখ সােমবারে ৷ কেউ কেউ
বলেছেন রমাযানের চব্বিশ তারিখে ৷ ইমাম আহমদ (র) বলেন, আবু সাঈদ ওয়াছিল৷ ইবন
আসকা সুত্রে বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ্ (সা) বলেছেন ইবরাহীম (আ ) এর সহীফাগুলাে নাযিল
হয়েছে রমাযানের পহেলা তারিখে ৷ তাওরাত নাযিল হয়েছে রমাযানের ছয়ত তারিখে ৷ ইনজীল

নাযিল হয়েছে রমাযানের (তর তারিখে এবং কুরআন নাযিল হয়েছে রমাযানের ২৪৩ তারিখে ৷

ইবন মারদাওয়াহ্ তীর তাফসীর গ্রন্থে জাবির ইবন আবদুল্লাহ (বা ) থেকে রাসুলুল্লাহ্ (সা ) এর
উক্তি রুপে অনুরুপ বর্ণনা করেছেন ৷ এ জন্যে একদল সাহাবী ও তাবিঈ এ অভিমত পেশ
করেছেন যে, লায়লাতৃল কদর হল রমাযানের ২৪তম রাত্রি ৷

জিবরাঈল (আ) প্রিয়নবী (সা) ৫-ক বললেন “পাঠ করুন’ ৷ তিনি বললেন আমি পাঠ
করতে পারি না ৷৩ তার বক্তব্য মুলত; নেতিবাচক ৷ অর্থাৎ আমি ভাল করে পাঠ করতে পারি না ৷
ইমাম নববী (র) এবং তীর পুর্বে শায়খ আবু শাম৷ ৷এই ব্যাখ্যাকে প্রাধান্য দিয়েছেন ৷ যারা বলে,
উক্ত বক্তব্য প্রশ্নবােধক অর্থাৎ আমি কী পড়বাে ? তাদের কথা গ্রহণযোগ্য নয় ৷ কারণ,
ইতিবাচক বক্তব্যে অতিরিক্ত র্দুব৷ ( গ্ ) ব্যবহৃত হয় না ৷ আবু নুআয়মের উদ্ধৃত মু’তামির ইবন
সুলায়মানের হাদীছটি প্রথমােক্ত অভিমতকে সমর্থন করে ৷ মুতামিব ইবন সুলায়মান তার
পিত ৷ থেকে বর্ণনা করেছেন যে “ যে ও শংকায় কম্পমান হয়ে রাসুলুল্লাহ্ (সা) বললেন,
আমি তো কখনও কোন কিতাব পাঠ কবিনি এবং আমি ভালভাবে পাঠ করতে আমি না ৷
আমি লিখিও না আমি পড়িও না ৷ এরপর জিবরাঈল (আ) তাকে ধরলেন এবং সজোরে
র্তাকে চাপ দিলেন ৷ এরপর ছেড়ে দিলেন এব০ বললেন “পাঠ করুন” ৷ উত্তরে মুহাম্মাদ (সা)
বললেন, আমি তে ৷ এমন কিছু দেখছি না যা পা ৷ঠ করব ৷ আমিতে ৷পড়ি না, আর আমি লিখিও
না ৷

বুখারী ও ঘুসলিমের বর্ণনায় আছে তিনি আমাকে সজোরে চেপে ধ্ন্সলন ( ,ন্াণ্শু )
আবার কোন কোন বর্ণনায় আছে, তিনি আমার গলা চেপে ধরলেন ( ; ংাও)

আবু সুলায়মান খঃাত্তাবী বলেন, তিনি এরুপ করেছেন রাসুলুল্পাহ্ (সা) এর ধৈর্য পরীক্ষা
করার জন্যে তার আচার আচরণ পরিশীলিত করে দেয়ার জন্যে যাতে নবুওয়াতের কঠিন দায়িতৃ


পৃষ্ঠা ২১ ঠিক করুন


পালনে তিনি উপযোগী হয়ে উঠেন ৷ এজন্যে মাঝে মাঝে তিনি প্রচণ্ড তড়াপে উত্তপ্ত ব্যক্তির ন্যায়

হয়ে উঠতেন এবং ঘর্মসিক্ত হয়ে উঠতেন ৷ অন্য এক ভাষ্যকার বলেছেন, একাধিক কারণে

জিবরাঈল (আ) এরুপ করেছেন ৷ তার একটি এই যে, দৈহিকভাবে প্রচণ্ড কষ্ট ভোগের পর তার

প্রতি যা নাযিল করা হবে তা ৷র গুরুতু ও মাহাত্ম্য সম্পর্কে তিনি যেন সচে৩ ন হয়ে উঠেন ৷ যেমন
আল্লাহ তা আলা বলেছেন :

াদ্বুা

— আমি আপনার প্রতি অবিলম্বে অবতীর্ণ করব গুরুভার বাণী ( ৭৩ ৫) ৷ এ জন্যেই
যখন ওহী আসতো, তখন তার মুখমওল লাল হয়ে যেত উট শাবকের ন্যায় তিনি হাপাতেন
এবং প্রচণ্ড শীতের দিলেও তা ৷র কপাল যেয়ে ঘাম ঝরভাে ৷

হড়াদীছের বাণী ’এ্পুরুটুঠু ব্লুএ’ন্
ষ্ঠুাট্রুষ্ট্র নাষিলকৃত আয়াত নিয়ে রাসুলুল্লীহ্ (সা)মাদীজার নিকট আসলেন ৷ তখন তীর হৃদয়
র্কাপছিল ৷

কোন কোন বর্ণনায় এা৷দ্বুপ্রুট্টা-এর স্থলে ণ্’এা৷এ’ শব্দ এসেছে ৷ ংএা৷এ শব্দটি ;এ১া এর
বহুবচন ৷ আবু উবায়দা বলেন, ৰু;এাঠু হল বাধ ও ঘাড়ের মধ্যবর্তী র্গোশতের ট্রুকরর্ট ৷ অন্যরা
বলেন, ওএএ্া হচ্ছে সেই শিরাগুলি যেগুলো ভীতিবিহ্বলতড়ার সময় দপ দপ করতে থাকে ৷
কোন কোন বর্ণনায় এসেছে ছুা৷ষ্টু এ্ছুংএছু ৷ পুিা৷ব্লু বহুবচন ৷ এ্যাকবচনে ছুা৷ ৷ মতাম্ভরে পুা৮ৰু
৷ ৰুা৷ঠু এর অর্থ হল ঘাড় ও কষ্ঠার মধ্যবর্তী অংশ্৷ ৷ কেউ কেউ বলেন, স্তনমুল ৷ আর কেউ
বলেন, স্তনদ্বয়ের গোশৃত ৷ এ ছাড়াও এর আরো বিভিন্ন ব্যাখ্যা রয়েছে ৷

রাসুলুল্লাহ (সা) বলেছিলেন ;এা এ :-ন্এ-^ এ তোমরা আমাকে কম্বলে ঢেকে দাও,
কম্বলে ঢেকে দাও ৷ ভয় কেটে যাওয়ার পর তিনি খাদীজা (রা)-কে বলেছিলেন আমার কী
হল ? আমি কিসের সম্মুখীন হলাম ? ইতোপুর্বেকড়ার সকল ঘটনা তিনি খাদীজা (রা)-কে খুলে
বললেন ৷ তিনি এও বললেন যে, আমি আমার জীবনহানির আশংকা করেছিলাম ৷ তা এ জন্যে
যে, তিনি এমন একটি ঘটনার মুখোমুখি হলেন ইতোপুর্বে কখৃদুনা যা ঘটেনি এবং যা তিনি
কখনো ধারণাও করেননি ৷ এ জন্যে হযরত খাদীজা (রা) তাকে বলেছিলেন, আপনি সুসংবাদ
নিন, কখনো আল্লাহ আপনাকে অপমানিত করবেন না ৷ আবার কেউ বলেছেন যে, তিনি
বলেছিলেন, আল্লাহ আপনাকে দুজ্যিগ্রেস্ত করবেন না ৷ হযরত খাদীজা (বা) তবে এ নিশ্চিত
আশ্বাসবাণী দিতে পেয়েছিলেন এ জন্যে যে, রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর চরিত্রে যে অনিন্দাসুন্দর ও
অনুপম গুণাবলী আল্লাহ তাআলা দিয়েছিলেন, তা হযরত খাদীজা (রা) জানতেন এবং তিনি
জানতেন যে, এমন সদগুণড়াবলীসম্পন্ন লোককে আল্লাহ তাআলা দুনিয়াতেও লাঞ্ছিত করেন না,
আখিরাতেও নয় ৷ এরপর তিনি রাসুলুল্লাহ (না)-এর কতিপয় সুমহান চারিত্রিক বৈশিষ্টেদ্রর কথা
উল্লেখ করেছেন ৷ তিনি বলেছেন, নিঃসন্দেহে আপনি আত্মীয়তার সম্পর্ক সুদৃঢ় রাখেন ৷ সদা
সত্য কথা বলেন ৷ বন্তুত সত্যবাদিতায় দোস্ত-দুশমন সকলের নিকট রাসুলুল্লাহ (না)-এর
সুখ্যাতি ছিল ৷


পৃষ্ঠা ২২ ঠিক করুন


হযরত খাদীজ৷ (বা) আরো বলেন, “আপনি অন্যের বোঝা বহন করেন অর্থাৎ পরিবারের
ভরণ-পােষণে হিমশিম খাওয়া লোককে এমন দান-খয়রাত করেন, যা দ্বারা পরিবারের ভরণ
পােষণের কষ্ট থেকে যে মুক্তি পায় ৷ আপনি নিঃস্ব লোকদেরও উপার্জনের ব্যবস্থা করেন ৷
অর্থাৎ সৎকর্মে আপনি এগিয়ে যান এবং নিঃস্ব অভাবগ্রস্তদেরকে দান করার বেলায়ও আপনি
অগ্রণী থাকেন ৷

হড়াদীছে আছে, তারপর হযরত খাদীজা (না) তাকে তার (বা) চাচাত ভাই ওয়ারাক৷ ইবন
নাওফিলের নিকট নিয়ে গেলেন ৷ তিনি ছিলেন অতি বৃদ্ধ ৷ তার দৃষ্টিশক্তি লোপ পেয়েছিল ৷

ইতাপুর্বে যায়দ ইবন আমর ইবন নুফায়লের আলোচনার সাথে তার সম্পর্কে কিছু আলোচনা
করা হয়েছে ৷ জ হিলী যুগে৩ তিনি খৃটধর্ম গ্রহণ করেছিলেন এবং মক্কা ছেড়ে সিরিয়ায় চলে
গিয়েছিলেন ৷ ওয়ারাকা ইবন নাওফিল, যায়দ ইবন আমর , উছমন ইবন হুওয়ায়রিছ এবং
উবায়দুল্লাহ্ ইবন জ হাশ তারা সবাই তখন খৃক্টধর্ম গ্রহণ করেছিলেন ৷ কারণ তখনকার
পরিস্থিতিতে অন্যান্য ধর্মের তুলনায় খৃক্টধমকেইত তারা সতের অধিকতর কাছাক কাছি বলে মনে
করেছিলেন ৷ কিন্তু যায়দ ইবন আমর ইবন নুফায়লত তাদের সাথে যোগ দেননি ৷ কারণ, তিনি
খৃন্টধর্মে বানােয়াট তথ্যের অনুপ্রবেশ, সতা-মিথ্যার সংমিশ্রণ সত্য বিকৃতি অসত্য সংযোজন ও
ভুল ব্যাখ্যা প্রভৃতি আচ করতে পােরছিলেন ৷৩ তই তার স্বচ্ছ বিবেক ওই ধর্ম গ্রহণে অস্বীকৃতি
জানায় ৷

অন্যদিকে পাদ্রী ও ধর্মযাজকগণ সত্য নবীর আবির্ভাব ও তার আগমন আসন্ন বলে তাকে
অবহিত করেছিলেন ৷ ফলে, ওই সত ৷ নবীর অম্বেষণে তিনি ফিরে আসেন এবং তার স্বচ্ছ
বিবেক ও একতুবাদে অবিচল থাকেন ৷ কিন্তু রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর নবুওয়াত প্রাপ্তির পুর্বেই মৃত্যু
তাকে ধ্রাধাম থেকে সরিয়ে দেয় ৷

ওয়ারাকা ইবন নাওফিল রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর নবুওয়াত প্রাপ্তির যুগ পেয়েছিলেন ৷ সঠিক
নবীর নিদর্শনসমুহ তিনি রাসুলুল্লাহ্ (সা) এর মধ্যে প্রত্যক্ষ করেছিলেন ৷ যেমন ইতোপুর্বে
আমরা উল্লেখ করে এসেছি ৷ তাতে ওয় ৷রাকা বুঝে নিয়েছিলেন যে ইনি সঠিক ও স৩ তা নবী ৷ এ
জন্যে ওহী সম্পর্কে সংঘটিত ঘটনার বিবরণ শুনে ওয়ারাক ৷ কবললেন, ৰুটুৰুৰুৰুটুৰুঠু পবিত্র,
পবিত্র ! ইনি (তা সেই মাহাত্ম্যপুর্ণ সংবাদবাহক, যিনি মুসা (আ) এর নিকট এসেছিলেন ৷ ঈসা
(আ) মুসা (আ) এর পরে আসা সত্বেও ওয়ারাক৷ তার উল্লেখ করেননি এজন্যে যে হযরত ৩ঈসা
(আ) এর শরীআত ছিল মুসা (আ ) এর শরীআতের সম্পুরক ৷ আ ৷লিমগণের বিশুদ্ধ অভিমত এই

তার শরীআত হযরত মুসা (আ)-এর শরীআতের কতক বিধি-বিধা ন রহিত করেছে ৷ যেমন
হযরত ঈসা (আ) এর বক্তব্য কুরআন শরীকে উদ্ধৃত হয়েছে ৷
-ন্ছুট্রুাহ্র ব্লুশ্)ছু র্দুন্ৰুাড়ু

—— এবং আমি এসেছি তোমাদের জন্যে যা নিষিদ্ধ ছিল তার কতক বৈধ করে দেয়ার জন্যে

(৩ : ৫০) ৷


পৃষ্ঠা ২৩ ঠিক করুন


ওয়ারাকা ইবন নাওফিলের উপরোক্ত মন্তব্য নাখলা প্রান্তরে উপস্থিত জিনদের বক্তব্যের
অনুরুপ ৷ তারা বলেছিল :

এে১শু,ৰু১
; শ্ শ্ , ; শ্ শ্ “

৷ ষ্া৷
-হে আমাদের সম্প্রদা য়! আমরা এমন এক কিতাবের পাঠ শুনেছি যা অবতীর্ণ হয়েছে

মুসা (আ) এর পরে ৷ এটি পুর্ববর্তী কিতাবকে সমর্থন করে এবং সত্য ও সরল পথের দিকে
পরিচালিত করে (৪৬ং ৩০) ৷

এরপর ওয়ারাকা বললেন, অর্থাৎ হার ৷ আমি যদি তখন যুবক
হতাম, ঈমান দ্বারা কল্যাণকর জ্ঞান দ্বারাএবং সৎকন্ন দ্বারা শক্তিমান হতাম ! হার ! আমি যদি
তখন জীবিত থাকতাম যখন আপনার সম্প্রদায় আপনাকে দেশ থেকে বহিষ্কার করবে ৷ অর্থাৎ
তাহলে আমি আপনার সাথে বেরিয়ে যেতাম এবং আপনাকে সাহায্য করতাম ৷

তখনই রাসুলুল্লাহ্ (সা) বললেন, ওরা কি সত্যিই আমাকে দেশ থেকে বহিষ্কার করবে ?
ভাষ্যকার সুহায়লী বলেন, প্রিয়নবী বিস্মিত হয়ে এ প্রশ্ন করেছিলেন এ জন্যে যে, জন্মভুমি ছেড়ে
যাওয়া অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও কষ্টকর ৷ উত্তরে ওয়ারাকা বলেছিলেন হ্যা, তাই ৷ আপনি যা নিয়ে
এসেছেন ইতােপুর্বে অনুরুপ আহ্বান নিয়ে যিনিই এসেছেন তার প্রতিই শত্রুত৷ পোষণ করা
হয়েছে ৷ আপনার ওই সময়ে যদি আমি জীবিত থাকতাম, তবে প্রচণ্ড ও কার্যকরভাবে আমি
আপনাকে সাহায্য করতাম ৷

হত্ত্বদীঙ্গুছর ভফ্লষব্র

অর্থাৎ এ ঘটনার অল্প কয়েক দিন পরেই ওয়ারাকা ইবন নাওফিলের মৃত্যু হয় ৷ আল্লাহ্ তার
প্রতি সন্তুষ্ট হোন এবং র্তার প্রতি আল্লাহ্র রহমত বর্ষিত হোক ৷ কারণ, ওয়ারাকার মুখ থেকে যা
কিছু বের হয়েছে তা রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর আনীত বিষয়ের সত্যায়ন এবং তার আনীত ওহীর
প্রতি ঈমান আনয়ন ৷ এটি ভবিষ্যতের জন্য তার একটি উপযুক্ত নিয়াতের বহিঃপ্রকাশ ৷

ইমাম আহমদ-আইশা (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, হযরত খাদীজা (রা) একদা ওয়ারাকা
ইবন নাওফিলের অবস্থা সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ্ (সা)-কে জিজ্ঞেস করেছিলেন ৷ উত্তরে রাসুলুল্লাহ্
(স ৷) বলেন, আমি তো তাকে স্বপ্নে দেখেছি ৷ আমি তার পবিধানে সাদা পোশাক দেখেছি ৷
আমি মনে করি যে, তিনি যদি জাহান্নামের অধিবাসী হতেন তবে তার পবিধানে সাদা পোশাক
থাকত না ৷ এ হাদীসের সনদ উত্তম ৷ তবে আল্লাম৷ যুহরী এবং হিশাম হাদীছটি উরওয়া থেকে
মুরসালরুপে অর্থাৎ সাহাবীর উক্তিরুপে বর্ণনা করেছেন ৷ আল্লাহ্ই ভাল জানেন ৷

হাফিয আবু ইয়ালা জাবির ইবন আবদুল্লাহ্ (রা) থেকে বর্ণনা করেন ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা)-কে
ওয়ারাকা ইবন নাওফিল সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েজ্জি ৷ তিনি বললেন, আমি তাকে দেখেছি ৷
আমি তার পবিধানে সাধা কাপড় দেখেছি ৷ আমি তাকে দেখেছি জান্নাতে ৷ তার পবিধানে সুক্ষ্ম
ব্লেশমী পোশাক ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা)-কে যায়দ ইবন আমর ইবন নুফায়ল সম্পর্কেও জিজ্ঞেস করা


পৃষ্ঠা ২৪ ঠিক করুন


হয়েছিল ৷ উত্তরে তিনি বলেন যে, ৰুঠুছুঠু ! রুট্রুন্ছো ৷ চুশ্র্দু,ট্রু : ণ্ষ্ কিয়ামত দিবসে তিনি
একাকী পুনরুথিত হবেন ৷ তাকে আবু তালিব সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল ৷ জবাবে তিনি
বলেছেন তাকে জাহান্ন(মেব
তলদেশ থেকে টেনে এনে অপেক্ষাকৃত অপভীর স্থানে রেখেছি ৷ তাকে হযরত খ(দীজা ((বা)
সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল ৷ কারণ (ইসলামের ফরয বিষয়াদি এবং কুরআনের বিধি বিধান
পবিপুর্ণভ(য়ে ক(র্যকর হওয়ার পুর্বে৩ তিনি ইনতিকাল করেছিলেন; উত্তরে র(সুলুল্লাহ্ (সা)
বললেন, ৷
-জ(ন্ন(তের মধ্যে একটি ঝর্ণ(র পাশে জান্ন(ডী মুক্তায় নির্মিত গহের মধ্যে আমি তাকে
দেখেছি ৷ সেখানে না আছে কোন গােরগােল আর না আছে কোন দুছুখ-কষ্ট এ হ(দীছের সনদ
উত্তম ৷ সহীহ্ হ(দীছ গ্রন্থসমুহে এটির সমর্থনে অন্যান্য বর্ণনা রয়েছে

হাফিয় আবু বকর ব(য্যার হযরত আইশা (র() এর বর(তে বলেন, রাসৃলুল্লাহ্ (সা)
বলেছেন, —— ওে(মবা ওয়(রাকার দুর্নাম
করো না ৷ কারণ আমি দেখেছি তার জন্যে একটি কিৎবা দু টি জান্ন৷ ত রয়েছে ইবন আসাকিব

আইশ( (রা) সুত্রে অনুরুপ (বর্ণনা করেছেন ৷ এটি একটি উত্তম সনদ ৷ হ(দীছটি মুরসাল রুপে ও
বর্ণিত হয়েছে এবং তা মুরস(ল হওয়াট( ই অধিকতর যুক্তিযুক্ত ৷

হাফিস বায়হ(কী আবু নুআয়মত তাদের নিজ নিজ দালাইলুন নবুওয়াত গ্রন্থে ইউনুস ইবন
বুকায়র সুত্রে আমর ইবন শুর(হবীল (রা) )থেকে বর্ণনা করেছেন যে র(সুলুল্লাহ (সা ) হযরত
খ(দীজা (র()-কে বলেছিলেন, আমি যখন একাকী থাকি তখন আমি একটি শব্দ শুনতে পাই ৷
আল্লাহ্র কসম ! আমি আশঙ্কা করছি যে, এর মাধ্যমে কোন দুর্ঘটনা ঘটতে পারে ৷ খ(দীজা
(রা ) বললেন, আল্লাহ্ হিফাযত করুন, মহান আল্লাহ্ আপনার সাথে তেমন আচরণ করবেন না ৷
আল্লাহ্র কসম, আপনি তাে আমানত পরিশোধ করেন, আত্মীয়তা রক্ষা করেন, সত্য কথা
বলেন ৷ এরপর আবু বকর (রা ) সেখানে আসলেন ৷ তখন র(সুলুল্লাহ্ (সা ) সেখানে উপ
ছিলেন না ৷

হযরত খাদীজা (রা ) আবু বকরকে এ সম্পর্কে অবহিত করে বলেন, হে আভীকা১ আপনি
একটু মুহাম্মদ (না)-কে নিয়ে ওয়(রাকা এর নিকট যান ৷ র(সুলুল্লাহ্ (সা) উপস্থিত হওয়ার পর
হযরত আবু বকর র(সুলুল্ল(হ্ (সা )-এর হাত ধরে বললেন, চলুন আমরা ওয়(রাক(-এর নিকট
যাই ৷ র(সুলুল্লাহ্ (সা) বললেন, তোমাকে আবার এসব জানানো কে ন্ তিনি উত্তর দিলেনবু
খ(দীজা (বা) ৷ তারপর তারা দৃজনে ওয়ারাকা এর নিকট গেলেন এবং পুর্বোল্লিখিত ঘটনা
তাকে জানাতে গিয়ে রাসুলুল্লাহ্ (সা) বললেন, “আমি যখন একাকী ও নির্জনে থাকি তখন
আমার পেছন থেকে আমাকে ডাক(র শব্দ শুনি যেন কে বলছে, হে মুহাম্মাদ হে মুহাম্মাদ ! এ
ডাক শুনে আমি ভয়ে ওখান থেকে চলে যাই ৷ ওয়(রাক( বললেন, আপনি আর অমন করবেন
না ৷ ওই আপন্তুক আপনার নিকট আসলে আপনি স্থির থাকবেন এবং যে কী বলে তা শুনবেন ৷
এরপর আমার নিকট এসে তা আমাকে জানাবেন ৷



১ হযরত আবু বকর (রা)ণ্কে এ নামে ডাকা হতো সম্প(দকদ্বয়


পৃষ্ঠা ২৫ ঠিক করুন


এরপর একদা রাসুলুল্লাহ্ (সা) একাকী ছিলেন ৷ তখন ওই আগন্তুক তাকে ডেকে বললেন
হে মুহাম্মাদ (সা) বলুন,

৷ ঝুপুন্

দয়াময় পরম দয়ালু আল্লাহর নামে ৷ প্রশংসা জপতসমুহের প্রতিপালক আল্লাহ্রই প্রাপ্য ৷
যিনি দয়ড়াময়, পরম দয়ালু ৷ কর্মফল দিবসের মালিক ৷ আমরা শুধু আপনারই ইবাদত
করি ৷ শুধু আপনারই সাহায্য কামনা করি ৷ আমাদেরকে সরল পথ দেখান ৷ তাদের পথ-
যাদেরকে আপনি অনৃগ্নহ দান করেছেন ৷ যারা ক্রোধে নিপতি ৩৩ নয় পথভ্রষ্টও নয় ৷ আরও
বলুন ছু ৷ ৰু৷ ৷ এ ৷ ১! আল্লাহ ব্যতীত কোন না বুদ নেই ৷
এরপর রাসুলুল্লাহ্ (সা) ওয়ারাকা এর নিকট আসলেন এবং ওই ঘটনা তাকে জানালেন ৷
ওয়ারাক৷ ভীকে বললেন আপনি সুসৎবাদ আর সুসৎবাদ গ্রহণ করুন ৷ আমি সুনিশ্চিতভাবে
সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আপনি তে ৷ সেই মহান নবী মারয়াম পুত্র ঈসা যার আবির্তা ৷বের সুসং বাদ
দিয়েছিলেন এবং আপনি মুসা (আ)-এর নিকট মাহাত্ম্যপুর্ণ সংবাদ রহনকারী ফেরেশতার
মুখোমুখি হয়েছেন ৷ আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি প্রেরিত নবী এবং অচিরেই আপনি
জিহাদের জন্যে আদিষ্ট হবেন ৷ আমি যদি ওই সময়ে জীবিত থাকি তবে অবশ্যই আপনার সাথী
হয়ে আমি জিহাদ করব ৷ তারপর ওয়ারাকা ইবন নাওফিলের মৃত্যুর পর রাসুলুল্লাহ্ (সা)
বলেছিলেন :
“আমি ওই জ্ঞানী ব্যক্তিকে জান্নাতে দেখেছি ৷ তখন তার পরনে ছিল রেশমী বস্ত্র ৷ কারণ,
তিনি আমার প্ৰতি ঈমান এন্যেছন এবং আমাকে সত্য বলে স্বীকার করেছেন ৷ এখানে তিনি

ওয়ারাকার কথা বুঝিয়েছেন ৷ এটি রায়হাকী (র )-এর উদ্ধৃত পাঠ ৷ বর্ণনাটি মুরসাল পর্যায়ের
এবং এটি একটি বিরল বর্ণনা ৷

যেহেতু এতে প্রথম নাযিলকৃত আয়াতসমুহরুপে সুরা ফ৷ ৷তিহ৷ ৷র উল্লেখ রয়েছে ৷ ইতোপুর্বে
আমরা ওয়ারাকার কয়েকটি পৎক্তি উল্লেখ করেছি যা তার ঈমান আনয়ন ও ঈমানের উপর তার
দৃঢ় অবস্থান প্রমাণ করে ৷ হযরত খাদীজা ৷(রা) এর ক্রীতদাস মায়সারার সাথে রাসুলুল্লাহ্
(সা) এর আচরণ এবং প্রচণ্ড গরমের দিনে ভর দুপুরে৩ তার উপর যেঘমালার ছায়া প্রদান
ইত্যাদি বিষয়ে হযরত খাদীজা (বা) যখন ওয়ারাকাকে অবগত করেন, তখন ওয়ারাক৷ ওই
বিতা আবৃত্তি করেন ৷ তার কতকাৎশ এরুপ :

— আমি পুনঃ পুনঃ বলে আসছিলাম যে, সেই বিষয়ের কথা যে বিষয়ে দীর্ঘ দিন পর্যন্ত
আমার অশ্রুপাত ঘটেছিল ৷



Execution time: 0.04 render + 0.01 s transfer.