Login | Register

আল বিদায়া ওয়ান্নিহায়া - খন্ড ৩

পৃষ্ঠা ৫৬৯ ঠিক করুন


থাকে ৷ অথচ যে আনসাররা তাকে বন্দী করেছিলেন, তারাই রাসুলুল্লাহকেত তার মুক্তিপণ না
নিয়ে ছেড়ে দেয়ার জন্যে অনুরোধ জানিয়েছিলেন ৷ কিন্তু রাসুলুল্লাহ্ (সা) বলেছিলেন, তার
ধার্যকৃত মুক্তিপণ হতে এক দিরহামও কম নিও না ৷ বদর যুদ্ধের বন্দীদের ঘুক্তিপণের পরিমাণ
সবার জন্যে এক রকম ছিল না, বরৎ৩ ব ম৷ ছিল ৷ সর্বনিম্ন পরিমাণ ছিল চারশ দিরহাম ৷

কারও থেকে নেয়া হয় চল্লিশ উকিয়া স্বর্ণ ৷ মুসা ইবন উকবা বলেন, আব্বাসের নিকট থেকে
যুক্তিপণ নেয়া হয় একশ’ উকিয়া স্বর্ণ ৷ কতিপয় বন্দী যুক্তিপণ আদায়ে ব্যর্থ হলে তাদেরকে
মুক্তিপণের পরিমাণ অনুযায়ী কাজে লাগান হয় ৷ এ সম্পর্কে ইমাম আহমদ (র) আলী ইবন
আসিম সুত্রে ইবন আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন যে, বদর যুদ্ধে আ ৷টককুত কিছু সংখ্যক বন্দীর
দেয়ার মত মুক্তিপণ ছিল না ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা)ত তাদেরকে ঘুক্তিপণের বিনিময়ে আনসার শিশুদের
লেখা ৷৷শিক্ষ ৷দেয়ার কাজে নিযুক্ত করেন ৷ তিনি বলেন, একদিন এক শিশু কাদতে র্কাদতে তার
মায়ের কাছে আসে ৷ যা তার র্কাদার কারণ জিজ্ঞেস করলে শিশুটি বলল, আমার শিক্ষক
আমাকে যেরেছে ৷ তখন মা বলল, যে দুরাচার বদরের খুনের প্রতিশোধ্ নিতে চাচ্ছে ৷ আর
কখনও তার কাছে শিখতে ৩যেও ন৷ ৷ এ হাদীছটি শুধু ইমাম আহমদ বর্ণনা করেছেন, তবে এটি
সুনানের শর্ত অনুযায়ী বর্ণিত ৷ পুর্বে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে ৷

অনুচ্ছেদ
বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী মুসলমানদের মর্যাদা

সংক্রান্ত অধ্যায়ে ইমাম বুখারী বলেন ঘ্র আবদুল্লাহ্ ইবন মুহাম্মদ আনাস থেকে
বর্ণিত ৷ তিনি বলেন, হারিছা ছিল একজন অল্প বয়সী যুবক ৷ বদর যুদ্ধে সে শহীদ হয়ে গেলে
তার মা রাসুলুল্লাহ্ (সা) এর নিকট এসে বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ্ ৷ হারিছা আমার কত
আদরের সন্তান তা আপনি জা নেন ৷ সে যদি জান্নাতী হয় তা হলে আমি ধৈর্য ধারণ করবো এবং
এ জন্যে ছওয়ারের আশা পোষণ করবো ৷ আ র যদি ভিন্ন কিছু হয়, তবে আপনি তো দেখতেই
পাচ্ছেন, আমি কি করছি ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) বললেন, থাম , পাগল হয়েছ নাকি ৷ জান্নাত কি মাত্র
একটি ? অনেক জান্নাত আছে ৷ সে তো জান্নাতুল ফিরদাউসে আছে ৷ এ হাদীছটি অন্য সুত্রে
ছড়াবিত, কাতাদ৷ ও আসাম থেকে বর্ণিত ৷ তাতে আছে “হারিছা ছিল যুদ্ধের ময়দানের
পর্য্যবক্ষণকরীি এবং “তোমার ছেলে জ ন্ন৷ ল ফিরদাউসের উচ্চ আসনে অধিষ্ঠিত আছে ৷
কথাটির মধ্যে বদরী সাহাবীদের মর্যাদার ব্যাপারে এক নিগৃঢ়৩ তত্ত্ব লুক্কায়িত আছে ৷ কেননা,
রিহাছা বণক্ষেত্রে বা যুদ্ধের সারিতে ছিলেন না ৷ বরং দুর থেকে যুদ্ধ পর্যবেক্ষণ করছিলেন ৷
তিনি হা ওয থেকে পানি পান করার সময় হঠাৎ এক তীর এসেত তার শরীরে বিদ্ধ হয় ৷ যুদ্ধের
সাথে এতটুকু সৎশ্রিষ্টতা ৷র জন্যে পুরস্কার স্বরুপ তাকে সেই ফিরদা উসে স্থান দেয়৷ হয়, যা সকল
জান্নাতের সেরা জান্নাত, সর্বোত্তম জান্নাত, যেখান থেকে নহর প্রবাহিত হয়ে চলে গিয়েছে
অন্যান্য জ ন্নাতে যে জান্নাত সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ্ (সা) তার উম্মতকে বলেছেন, তোমরা যখন
আল্লাহ্র কাছে জান্নাতের প্রার্থনা কর, তখন জান্না ল ফিরদড়াউসের জন্যে প্রার্থনা করবে ৷


পৃষ্ঠা ৫৭০ ঠিক করুন


এমতাবস্থায় হারিছার মর্যাদা যদি এতো বড় হয়, তা হলে যারা তিনগুণ বেশী সৈন্য ও অস্তে
সজ্জিত শত্রুদের মুখোমুখি হয়ে লড়াই করেছিলেন, তাদের মর্যাদা যে কত উচু হতে পারে তা
সহজেই অনুমেয় ৷

এ ছাড়া ইমাম বৃখারী ও মুসলিম নিজ নিজ গ্রন্থে ইসহাক ইবন রাহ্ওয়ায়হ সুত্রে আলী
ইবন আবুতা তালিব (রা) বর্ণিত হাতির ইবন আবু বালতাআর ঘটনা উল্লেখ করেছেন ৷ হা৩ ৷তিব ৮ম
হিজরীতে মক্কা বিজয়ের বছর মক্কাবাসীদের নিকট এক গোপন চিঠি প্রেরণ করেছিলেন ৷
এতে হযরত উমর ক্রুদ্ধ হয়েত তাকে হত্যা করার জন্যে রাসুলুল্লাহ্র নিকট অনুমতি প্রার্থনা করেন
এবং বলেন, যে আল্লাহ, রাসুল ও ঘু মিনদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে ৷ তখন রাসুলুল্পাহ্
(সা) বলেছিলেন, সে তো বদর যুদ্ধে অং ষ্াকশগ্রহন্ কারী লোক ৷ তুমি কি জান ? আল্লাহ নিশ্চয়ই
বদরী সাহাবীদের প্রতি সদয় হয়ে বলে দিয়েছেন, তোমাদের যা ইচ্ছা কর, আমি তোমাদেরকে
ক্ষমা করে দিয়েছি ৷ ’ বুখারীর শব্দমালা হচ্ছে এরুপ সে কি বদরী সাহাবী নয় : আল্লাহ
নিশ্চয়ই বদরীদের প্রতি লক্ষ্য করেছেন এবং ঘোষণা দিয়েছেন, তোমরা তোমাদের যা ইচ্ছা
কর ৷ জান্নাত তোমাদের জন্যে অবধারিত ৎব৷ (বর্ণনাকারীর সন্দেহ) আমি তোমাদেরকে ক্ষমা
করে দিয়েছি ৷ এ কথা শুনে উমরেব দু’ চোখ অশ্রু সজল হয়ে উঠল ৷ তিনি বললেন, আল্লাহ ও

তার রাসুলই সর্বাধিক জ্ঞাত ৩৷ ইমাম মুসলিম কুতায়বা সুত্রে জাবির থেকে বর্ণনা করেন যে
একদা হ দিব-এর এক গোলাম এসে রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর নিকট হাতিবের বিরুদ্ধে অভিযোগ
করল এবং বলল, ইয়৷ রাসুলাল্পাহ্! হাতিব অবশ্যই জাহান্নামে যাবে ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) বললেন,
তুমি মিথ্যা বলছো, সে জাহান্নামে যাবে না, কারণ সে বদর ও হুদায়বিয়ায় উপস্থিত ছিল ৷ ইমাম
আহমদ মুসলিমের শর্তে নিম্নোক্ত হাদীছটি উল্লেখ করেছেন : সুলায়মান ইবন দাউদের সুত্রে
জাবির থেকে বর্ণিত ৷ তিনি বলেন, রাসুলুল্পাহ্ (সা) বলেছেন : যে ব্যক্তি বদর কিৎবা
হুদায়বিয়ায় অংশগ্রহণ করেছে, সে কখনও জাহান্নামে প্রবেশ করবে না ৷ ইমাম আহমদ বলেন,
ইয়াযীদ আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত ৷ নবী করীম (সা) বলেন : আল্লাহ্ তাআল৷ বদরীদের
প্রতি সদয় দৃষ্টি রেখে ঘোষণা করেছেন :

-ণ্গ্র ’১ং)ব্লুছু ন্এপুড্রু: র্চুণ্ ৷টুপুট্রুড্রু;া

“তোমরা যা ইচ্ছে কর, আমি তোমাদের ক্ষমা করে দিয়েছি ৷ এ হ দীছটি আবু দাউদও
তার কি৩ ৷বে ইয়াদীদ ইবন হারুন সুত্রে উল্লেখ করেছেন ৷ বায্যার ত ৷র মুসনাদ গ্রন্থে মুহাম্মদ
ইবন মারয়ুক সুত্রে আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) বলেছেন৪ যারা
বদর যুদ্ধে অং শগ্রহণ করেছে আশা করি আল্লাহ্ চাহেন তো তারা কেউই দােযখে যাবে না ৷

হাদীছটি আবু হুরায়রা (বা) থেকে এই একটি সুত্রেই বর্ণিত হয়েছে ৷ লেখক বলেন, এ হাদীছটি
কেবল বায্যারই বর্ণনা করেছেন, অন্য কেউ বর্ণনা করেননি ৷ এবং এটা সহীহ্ হাদীছের শর্ত
অনুযায়ী বর্ণিত ৷ ইমাম বুখারী তার সহীহ্ গ্রন্থে বদর যুদ্ধে ফেরেশতাদের অংশগ্রহণ
অনুচ্ছেদে ইসহাক ইবন ইবরাহীমের সুত্রে মুআয ইবন রাফি আযরাকী থেকে বর্ণনা করেন


পৃষ্ঠা ৫৭১ ঠিক করুন


যে, তার পিতা রাফি একজন বদরী সাহাবী ৷ তিনি বলেন, একদা জিবরাঈল ফেরেশতা নবী
করীম (সা) এর নিকট এসে বললেন বদর যুদ্ধে অং শঃাহণকারীদেরকে আপনারা কিরুপ গণ্য
করেন স্পো তিনি বললেন, মুসলমানদের মধ্যেত তারা সর্বোত্তম শ্রেণী ৷ (রাবীর সন্দেহ) অথবা এরুপ
কোন বাক্য তিনি বললেন ৷ তখন জিবরাঈল বললেন, ফেরেশতাদের মধ্যে যারা বদর যুদ্ধে
এসেছিলেন, তাদের মর্যাদাও অনুরুপ ৷

অনুচ্ছেদ
মক্কা থেকে হযরত যয়নবের মদীনায় হিজরত

নবী দুহিতা যয়নব (রা) এর ব্যাপারে তার বন্দী স্বামী আবুল আস রাসুলুল্লাহ (সা) এর
নিকট যে ওয়াদ৷ করেছিলেন, সে অনুযায়ী বদর যুদ্ধের এক মাস পর যয়নব মক্কা থেকে
মদীনায় হিজরত করে আসেন ৷ এ প্রসংপে ইবন ইসহাক বলেন ং আবুল আস বন্দী দশা হতে
মুক্তি পাওয়ার পর মক্কায় প্রত ৷৷বর্তন করলে রাসুলুল্পাহ্ (সা) জনৈক আনসারীসহ যায়দ ইবন
হাবিছ কে মক্কায় পাঠিয়ে দেন ৷ তিনি তাদেরকে বলে দিলেন৪ তোমরা বাতনে ইয়াজিজ
নামক স্থানে গিয়ে অপেক্ষা করবে ৷ যয়নব যখন সেখানে এসে পৌছবে, তখন তোমরা তাকে
নিয়ে আমার কাছে চলে আসবে ৷ আদেশমত তারা বেরিয়ে পড়লেন ৷ এ ঘটনাটি ছিল বদর
যুদ্ধের এক মাস পরে বা তার কাছাকাছি সময়ে ৷ আবুল আস মক্কায় এসে যয়নবকে তার
পিতার কাছে চলে যেতে বললেন ৷ সুতরাং যয়নব যাওয়ার জন্যে প্রস্তুতি গ্রহণ করতে লাগলেন ৷
ইবন ইসহাক বলেন : আবদুল্লাহ ইবন আবু বকর যয়নব বরাতে বর্ণনা করেছেন, যয়নব বলেন,
আমি মদীনায় চলে যাওয়ার জন্যে প্রস্তুতি তগ্রহণ করছিলাম ৷ এমন সময় উতবার কন্যা হিন্দ এসে
আমার সংগে সাক্ষাত করে বলল, হে মুহাম্মদ তনয়া শুনতে পেলাম, তুমি না ৷কি তে তামার পিতার
কাছে চলে যেতে চাচ্ছ ? আ ৷মি বললাম, এমন কো ন ইচ্ছে আমার সেই ৷ সে বলল, হে আমার
চাচড়াত বোন ৷ এমনটি করে৷ না ৷ আর যদি যেতেই চাও, তবে পথের খরচ এবংণ্ তোমার পিতার
কাছে পৌছতে প্রয়োজনীয় পাথেয় যা দরকড়ারত ৷আমার নিকট থেকে চেয়ে নিও ৷ অমি সব
দেব ৷ এ ব্যাপারে কোন লজ্জাবােধ করবে না ৷ পুরুষদের মাঝে যা চলছে তা যেন আমাদের
মহিলাদেরকে স্পর্শ না করে ৷ যয়নব বলেন, আল্লাহর কসম ৷ আমি জানি, যে যা বলছে তা সে
অবশ্যই করবে; কিন্তুত ৷সত্বেও আমি তার ব্যাপারে সতর্ক থাকলাম এব০ মদীনায় যাওয়ার
ইচ্ছার কথা তার নিকট অস্বীকার করলাম ৷ ইবন ইসহাক বলেন, মদীনায়৷ যাত্র ৷র জন্যে যয়নবের
প্রস্তুতি পর্ব সম্পন্ন হলেত তার স্বামীর ভাই কিনান৷ ইবন রবী’ একটি উট নিয়ে আসলো ৷ যয়নব
তাতে সওয়ার হলেন ৷ কিনান৷ ভীর-ধনুক সাথে নিয়ে দিনের বেলায় যয়নবকে সংগে করে
রওনা হলো ৷ কিনান৷ উটের রশি ধরে টেনে চলছিল আর যয়নব হাওদার মধ্যে অবস্থান
করছিলেন ৷ কুরায়শর৷ এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করল এবং তাকে ধরার জন্যে বেরিয়ে
পড়ল ৷ য়ু-তুয়৷ নামক স্থানে গিয়ে তারা তাকে ধরে ফেললো ৷ সর্বপ্রথম তার সামনে যেয়ে
র্দাড়ায় হাজ্জার ইবন আসওয়াদ ইবন মুত্তালিব ইবন আসাদ ইবন আবদুল উয্য৷ আল-ফিহ্রী ৷



Execution time: 0.05 render + 0.00 s transfer.