Login | Register

আল বিদায়া ওয়ান্নিহায়া - খন্ড ৩

পৃষ্ঠা ৫১০ ঠিক করুন


“ঐটা ছিল একটি বিশেষ ফযীলত ৷ বিক্ষু বর্তমানে এর সাথে তুলনা করা যায় এমন দু’টি
পেয়ালার সাথে যায় একটিতে আছে শুভ্র দুধ এবং অপরটিতে পানি ৷ কিন্তু পরিবর্তীতে উভয়টিই
প্রস্রাবে পরিণত হয়ে যায় ৷”

অনুরুপ আরেকটি ঘটনা

ইমাম বায়হাকী বলেন : আবু আবদুল্লাহ আল-হাফিয রাফি’ ইবন মালিক থেকে বর্ণিত ৷
তিনি বলেন, বদর যুদ্ধে এক পর্যায়ে উবাই ইবন খাল্ফের চারপাশে লোকজনের জটলড়া দেখতে
পাই ৷ আমি অগ্রসর হয়ে সেখানে গেলাম ৷ দেখলাম, তার পরিহিত বর্ম বগলের নীচ থেকে
কাটা ৷ সেই র্কাক দিয়ে তরবারি ঢুকিয়ে আমি তাকে আঘাত করলাম ৰু এ সময় যুদ্ধক্ষেত্র থেকে
একটি তীর এসে আমার চোখ কুড়ে যায় ৷ রাসুল (সা) আমার চোখে একটু থুথু দিলেন ও দৃআ
করলেন ৷ এতে আমার চোখে আর কোন কষ্ট অনুভব হল না ৷ হড়াদীছটি বর্ণিত সুত্রে খুবই
অপরিচিত, যদিও এর সনদ উত্তম ৷ সিহাহ্ সিত্তাহ্র মুহাদ্দিছগণ এ হাদীছটি বর্ণনা করেননি ;
অবশ্য তাবারানী এটা ইবরাহীম ইবন মুনযির থেকে বর্ণনা করেছেন ৷ বদর যুদ্ধে হযরত আবু
বকর সিদ্দীক তার পুত্র আবদুর রহমানকে ডেকে বললেন, হে দৃরাচড়ারা আমার ধন-সম্পদ
কোথায় ? আবদুর রহমান তখনও মুসলমান হননি এবং ঘুশরিকদের পক্ষ হয়ে যুদ্ধ করতে
এসেছিলেন ৷ তিনি কবিতার মাধ্যমে জবাবে বললেন : (কবিতার অর্থ৪) ঘোড়া, যুদ্ধাস্ত্র ও
পথভ্রষ্ট বৃদ্ধদের হত্যা করার তরবারি ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই ৷ উমাবীর মাগড়াযী গ্রন্থ সুত্রে
আমরা বর্ণনা করেছি যে, বদর যুদ্ধ শেষে রাসুলুল্লাহ্ (সা) ও আবু বকর সিদ্দীক নিহত শত্রুদের
লাশের মধ্য দিয়ে ইাটছিলেন ৷ তখন রাসুলুল্লাহ্ (সা) বললেন : আমরা এদের শিরগুলাে
কাটবাে ৷ আবু বকর সিদ্দীক (রা) বললেন : যারা আমাদের উপর অত্যাচার-নিপীড়ন
চালিয়েছিল এবং অহংকার প্রদর্শন করত এগুলো হচ্ছে তাদেরই শির ৷

বদর কুয়ায় কাফির সর্দারদের লাশ নিক্ষেপ

ইবন ইসহাক বলেন : ইয়াযিদ ইবন রুমান উরওয়া সুত্রে আইশা (রা) থেকে আমার নিকট
বর্ণনা করেন ৷ বদর যুদ্ধে নিহত কাফিরদেব লাশ বদর কুয়ায় নিক্ষেপ করতে রাসুলুল্লাহ্ (সা)
নির্দেশ দেন ৷ নির্দেশ মত লাশগুলাে তাতে নিক্ষেপ করা হয় ৷ কিন্তু উমাইয়া ইবন খালফেব লাশ
নিক্ষেপ করা হল না ৷ কেননা, তার লাশ ফুলে-কেপে পরিহিত বর্মের সাথে আটকে গিয়েছিল ৷
সাহাবীগণ বর্মের ভিতর থেকে লাশ টেনে বের করার চেষ্টা করলে মাংস ছিড়ে যেতে থাকে ৷
তখন ঐ অবস্থায় রেখেই তাকে মাটিচাপা দেয়া হয় ৷ লাশ নিক্ষেপ শেষ হলে রাসুলুল্লাহ্ (সা)
কুপের পাশে দাড়িয়ে তাদের উদ্দেশ করে বলেন : হে কুপের অধিবাসীরা ৷ তোমাদের
প্রতিপালক তোমাদের সাথে যে ওয়দাে করেছিলেন, তা কি তোমরা যথাযথভাবে পেয়েছ ?
আমার প্রতিপালক আমার সাথে যে ওয়দাে করেছিলেন, তা তো আমি যথাযথভাবে পেয়েছি ৷
হযরত আইশা (রা) বলেন, সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন ইয়া রাসুলাল্লাহ্! আপনি মৃত লোকদের
সাথে কথা বলছেন ? জবাবে রড়াসুলুল্লাহ্ (সা) বললেন, তারা এখন ভালভাবে জোন গিয়েছে যে,
তাদের প্রতিপালক তাদের সাথে যে ওয়দাে করেছিলেন তা সঠিক ৷ হযরত আইশা (রা) বলেন :


পৃষ্ঠা ৫১১ ঠিক করুন


লোকজন বলাবলি করে যে, রাসুলুল্লাহ্ (সা) বলেছিলেন, আমি তাদেরকে যা বলছি তারা তা
শুনতে পাচ্ছে’ ৷ প্রকৃত পক্ষে তিনি বলেছিলেন, তারা জানতে পারছে’ ৷

ইবন ইসহাক আনাস ইবন মালিক (বা) সুত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, রাসুলুল্পাহ্
(না)-এর সাহাবীগণ একদা মধ্যরাতে শুনতে পান তিনি আহ্বান করছেন : হে কুপের
অধিবাসীরা, হে উতবা ইবন রাবীআ, হে শায়বা ইবন রাবীআ, হে উমাইয়া ইবন খাল্ফ, হে
আবু জাহ্ল ইবন হিশাম ৷ এভাবে কুপের মধ্যে নিক্ষিপ্ত প্রত্যেকের নাম ধরে ধরে বলেন :
তোমরা কি তা সত্যরুপে পেয়েছ, যার ওয়াদা তোমাদের প্রভু তোমাদের সাথে করেছিলেন ?
আমার প্রভু আমাকে যে ওয়াদা দিয়েছিলেন আমি তো তা সত্যরুপে পেয়েছি ৷ সাহাবীগণ তখন
বললেন, ইয়া বাসুলাল্পাহ্! আপনি কি এমন এক সম্প্রদায়ের সাথে কথা বলছেন, যারা মরে পচে
পলে ণ্যেছ ? জবাবে তিনি বললেন, আমি যা বলছি তা তোমরা ওদের থেকে বেশী শুনছ না ৷
অবশ্য তারা আমার কথার উত্তর দিতে পারছে না ৷

ইমাম আহমদ (র) ইবন আবু আদী সুত্রে আনাস (রা) থেকে অনুরুপ ঘটনা বর্ণনা করেছেন
এবং তা বুখারী ও মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী সহীহ্ ৷ ইবন ইসহাক বলেন : আমাকে কতিপয়
বিজ্ঞ ব্যক্তি বলেছেন, বাসুলুল্লাহ্ (সা) বলেছিলেন হে কুপের বাসিন্দারা৷ তোমরা ছিলে
তোমাদের নবীর নিকৃষ্টতম আত্মীয়-স্বজন ৷ তোমরা আমাকে মিথ্যা সাব্যস্ত করেছ ৷ অন্যরা
আমাকে সত্য বলে মেনে নিয়েছে ৷ তোমরা আমাকে স্বদেশ থেকে বের করে দিয়েছ ৷ অন্যরা
আমাকে আশ্রয় দিয়েছে ৷ তোমরা আমার বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছ ৷ আর অন্য লোকেরা
আমাকে সাহায্য করেছে ৷ এখন কি তোমরা সেই প্রতিদান যথার্থ পেয়েছ, যে সম্পর্কে তোমাদের
রব তোমাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ? কেননা, আমি সেই প্রতিফল যথার্থভাবে পেয়ে গেছি, যা
দেয়ার প্রতিশ্রুতি আমার বব আমাকে দিয়েছিলেন ৷

ইবন কাহীর বলেন : হযরত আইশা (রা) যদি কুরআনের কোন আঘাতের সাথে বিশেষ
কোন হাদীছের বাহ্যিক দৃষ্টিতে সংঘর্ষ হচ্ছে বলে মনে করেন, তখন তিনি সেই হাদীছের তাবীল
(ব্যাখ্যা) করে থাকেন ৷ এটা যে ধরনের ৷ হযরত আইশার মতে, আলোচ্য হাদীছটি :

আয়াতের সাথে সংঘষিকি ৷ যার অর্থ হচ্ছে, “তুমি তাদেরকে শুনাতে সমর্থ হবে না, যারা কবরে
রয়েছে’ (৩৫ : ২২) ৷ প্রকৃতপক্ষে হাদীছের সাথে এ আঘাতের কোন সংঘর্ষ নেই ৷ সাহড়াবায়ে
কিরাম ও পরবর্তীকালের অধিকাত্শ বিজ্ঞ আলিম এ হাদীছের শাব্দিক অর্থই গ্রহণ করেছেন যা
হযরত আইশার মতের বিপরীত এবং এটাই সঠিক ৷ ইমাম বুখারী বলেন : উবায়দ ইবন
ইসমাঈল উরওয়া থেকে বর্ণিত ৷ তিনি বলেন, হযরত আইশার নিকট আলোচনা করা হল,
ইবন উমর রাসুলুল্লাহ্র বরাত দিয়ে বলছেন যে, মৃত ব্যক্তিকে তার পরিবারের কান্নাকাটি করার
কারণে কবরে শাস্তি দেয়া হয় ৷ আইশা (রা) বললেন, আল্লাহ তাকে রহম করুন ৷ রাসুলুল্লাহ্
(না) তো একথা বলেছিলেন যে, মৃত ব্যক্তিকে তার অপরাধ ও গোনাহের কারণে শাস্তি দেয়া
হচ্ছে ৷ অথচ তার পরিবারের লোকজন এখন তার জন্যে কান্নাকাটি করছে ৷ হযরত আইশা (বা )


পৃষ্ঠা ৫১২ ঠিক করুন


বলেন, ইবন উমরের এ কথাটি তার ঐ কথারই অনুরুপ, যা রাসুলুল্লাহ্ (না) ঐ কুপের পাশে
দাড়িয়ে বলেছিলেন, যে কুপে বদর যুদ্ধে নিহত ঘুশরিকদের লাশ নিক্ষেপ করা হয়েছিল ৷ তিনি
তাদেরকে যা বলার তা বললেন ৷ ইবন উমর বলছেন যে রাসুলুল্লাহ্ (সা) বলেছিলেন আমি যা
বলছি৩ বা তা সবই শুনতে পাচ্ছে ৷ আসলে তিনি বলেছিলেন এখন তারা ভালই বুঝতে
পারছে যে আমি তাদেরকে যা কিছু বলেছিলামত ৷ছিল যথার্থ ৷ তারপর হযরত আইশা এ
আয়াতাৎশ দুটো তিলাওয়াত করলেনং :


(তুমি তো মৃতকে শুনাতে পারবে না (৩০০ : ৫২) এবং তুষ্মে ত্যাদরকে শুনাতে সমর্থ হবে
না, যারা কবরে রয়েছে (৩৫ : ২২“) ৷ আইশা (রা) বলেন, এর অর্থ , হল যখন তারা জাহড়ান্নামে
যাবে ৷ ইমাম মুসলিম এ হাদীছ আবু কুরায়ব সুত্রে আবু উসামা থেকে বর্ণনা করেছেন ৷ মৃত
ব্যক্তিকে করবে দাফন করার পর সে বাইরের কথা শুনতে পায় এ সম্পর্কে একাধিক হাদীছে
সুস্পষ্ট বর্ণনা রয়েছে ৷ জানাযা অধ্যায়ে আমরা এ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব
ইনশা আল্লাহ ৷ এরপর ইমাম বুখারী বলেন ; উছমান ইবন উমর সুত্রে অনুরুপ বর্ণনা
করেছেন ৷

এ হাদীছটি ইমাম মুসলিম আবু কুরায়ব সুত্রে আবু উসামা থেকে এবং আবু বকর ইবন আবু
শায়বা ও ওয়াকী’ সুত্রে হিশাম ইবন উরওয়া থেকে বর্ণনা করেছেন ৷ ইমাম বুখারী বলেন,
আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মদ আবু তালহা থেকে বর্ণিত ৷ বদর যুদ্ধের দিন নবী করীম (না)-এর
নির্দেশে চব্বিশজন কুরায়শ সর্দারের লাশ বদর প্রাতরের একটি কুপে নিক্ষেপ করা হয়েছিল ৷
কুপটি ছিল ভীষণ নােৎরা ও কদর্য ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা)এর নীতি ছিল কোন সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে
বিজয় লাভ করলে যুদ্ধের ময়দানে তিন দিন অবস্থান করতেন ৷ সে মতে বদর প্রান্তরে
অবন্থানের৩ তৃতীয় দিলে তিনি তার বাহন প্রস্তুত করার আদেশ দেন ৷ বাহনের উপরে যীন তুলে
বেধে দেয়া হল ৷ এরপর তিনি পায়ে হেটে এগিয়ে গেলেন এবং সড়াহাবীগণ তাকে অনুসরণ করে
পিছনে পিছনে গেলেন ৷ তারা বলেন আমরা মনে করছিলাম, হয়ত কোন প্রয়োজনে তিনি
কোথাও যাচ্ছেন ৷ অবশেষে তিনি ঐ কুপের কিনারে গিয়ে র্দাড়ালেন এবং কুপে নিক্ষিপ্ত নিহত
ব্যক্তিদের নাম ও তাদের পিতার নাম ধরে ডেকে বললেন হে অমুকের পুত্র অমুক হে অমুকের
পুত্র অমক ! এখন তো বুঝতে পারছ আল্লাহ্ও ও তার রাসুলের আনুগত্য করা তোমাদের জন্যে
আনন্দকর ছিল কিনা ? আমাদের প্ৰতিপালক আমাদেরকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন আমরা তাে
তা সত্য পেয়েছি ৷ তোমাদের প্রতিপালক তােমাদেরকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তোমরা কি ত
সত্য পেয়েছ ? একথা শুনে হযরত উমর (রা ) বললেন ইযা রাসুলাল্লাহ্ ৷ আপনি অড়াত্মড়াহীন
দেহের সাথে কী কথা বলছেন? রাসুলুল্লড়াহ্ (সা) বললেন, সেই মহান সত্তার কলম ! যার হাতে
মুহাম্মদের জীবন, আমি যা বলছি তা ওদের তুলনায় তোমরা বেশী শুনছ না ৷ কাতড়াদা বলেন
আল্লাহ তার রাসুলের কথা শুনাবার জন্যে তাদের দেহে সাময়িকভাবে প্রাণ সঞ্চার করে
দিয়েছিলেন তাদেরকে ভর্চুসনাস্বরুপ এবং লাঞ্চুনা, কষ্ট , অনুশোচনা ও লজ্জা দেয়ার জন্যে ৷ এ
হাদীছ ইবন মাজাহ্ ব্যতীত অন্যান্য মুহাদ্দিছগণ সাঈদ ইবন আবু আরুবা থেকে বিভিন্ন সুত্রে


পৃষ্ঠা ৫১৩ ঠিক করুন


বর্ণনা করেছেন এবং ইমাম আহমদ ইউনুস, শায়বান, কা৩াদা সুত্রে বর্ণনা করেছেন ৷ কাতাদা
আনাস ইবন মালিক থেকে অনুরুপ বর্ণনা করেছেন ৷ তিনি আবু তালহার উল্লেখ করেননি ৷ এ
সনদটি সহীহ্ ৷ কিন্তু প্রথমটি অধিকতর সহীহ্ ও প্রসিদ্ধ ৷

ইমাম আহমদ আফ্ফান সুত্রে আনাস (রা) থেকে বর্ণনা করেন ৷ বদর যুদ্ধে নিহত
শত্রুদের লাশ ব সুলুল্লাহ (সা) তিন দিন পর্যন্ত রেখে দেন ৷ অবশেষে লাশে পচন ধরে ৷ তখন
তিনি তাদের কাছে গিয়ে বলেন০ : হে উম৷ ইয়া ইবন খালফ, হে আবু জাহ্ল ইবন হিশাম, হে
উতবা ইবন রাবীআ, হে শায়ব৷ ইবন রাবীআ! ওোমাদের প্রতিপালক তােমাদেরকে যা দেয়ার
ওয়াদা করেছিলেন তা কি তোমরা যথার্থভাবে পেয়েছ ? আমার প্ৰতিপা ৷লক আমাকে যা দেয়ার
ওয়াদ৷ করেছিলেন আমি ওে ৷ তা যথার্থভাবে পেয়েছি ৷

হযরত আনাস বলেন, উমর (রা) রাসুলুল্লাহ্ (সা) এর কথা শুনতে পেয়ে বললেন, ইয়া
রাসুলা ল্লাহ্! মৃত্যুর তিন দিন পর আপনি তাদেরকে আহ্বান করছেন ? তারা কি আপনার কথা
শুনতে পাচ্ছে ? আল্লাহ্ তো বলেছেন :
ছু৷ এট্রুা
“তুমি তো মৃতকে শুনাতে পারবে না ৷” তখন রাসুলুল্লাহ্ (সা) বললেন সেই সত্তার কসম,
যার হাতে আমার প্রাণ, আমি যা যা বলছি তা তাদের তুলনায় তোমরা অধিক শুনছ না ৷ কিন্তু
তারা উত্তর দিত পারছে না ৷ ইমাম মুসলিম এ হাদীছটি হুদবা ইবন খালিদ সুত্রে হ ম্মাদ ইবন
সালাম৷ থেকে বর্ণনা করেছেন ৷ ইবন ইসহাক বলেন, হাসসান ইবন ছাবিত এ প্রসঙ্গে নিম্নের
কবিতাটি আবৃত্তি করেন :
,া১০ ;;;,;

“আমি বালুর টিলার উপরে অবস্থিত যয়নাবের বসতব্াটি চিনলাম, যেমনটি চেনা যায়
পুরাতন কাগহ্রজ্যা উপরে (অস্পষ্ট) হস্তাক্ষর ৷ বাতাস প্রবাহিত হয়ে সে বস৩ তবাটিকে দে ৷ল৷ দেয়
এবং প্রতিটি কাল যেঘ৩ তার উপর প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করে ৷ ফলে তার চিহ্ন পুরাতন হয়ে গেছে
এবং তা সে পড়েছে ৷ অথচ এক কালে এখানেই আমার প্রেমিকা বসবাস করত ৷ (ওহে করি!)
প্রতিনিয়ত সেই স্মৃতি স্মরণ করা থেকে নিজেকে বিরত রাখ এবং হৃদয়ের জ্বালা-যন্ত্রণ৷ নিবারণ
কর ৷ মিথ্যা কল্পকাহিনী বলা বাদ দিয়ে সেইসব সত্য ঘটনা বল, যার মধ্যে সন্দেহের কোন
অবকাশ নেই ৷ বদর যুদ্ধে মুশরিকদের মুকাবিলায় মহান আল্লাহ্ আমাদেরকে যে সৌভাগ্যদান
করেছিলেন, সে কথা বর্ণনা করা সেদিন প্রাত কোলে তাদের কাহিনীকে হিরা পর্বতের ন্যায় (দৃঢ়)
মনে হচ্ছিল ৷ কিন্তু অপরাংহ্র তার গোড়া পর্যন্ত দৃশ্যমান হয়ে পড়ল ৷ আমরা আমাদের মধ্য হতে
এমন এক বাহিনী নিয়ে তাদের ঘুক৷ ৷বিল৷ করেছি, যে বাহিনীর যুবক ও বৃদ্ধ সব৷ ৷ই ছিল বনের
সিংহের ন্যায় ৷ তারা যুদ্ধে অগ্নিশিখার মধ্যে মুহাম্মদ (সা) এর সম্মুখে থেকে তাকে হিফাযত
করেছে ৷ তাদের হাতে ছিল হাতলযুক্ত৩ রতবারি এবং যোট৷ গ্রন্থিবিশিষ্ট বর্শ৷ ৷৷ সত্য দীনের
খাতিরে বনু আওসের নেতৃবৃন্দকে বনু নাজ্জ্ব ৷রের লোকজন সাহায্য-সহযোগিতা করেছে ৷ আমরা
আবু জাহ্লকে ধ্রাশায়ী করেছি এবং উতবাকে য়মীনের উপর ছুড়ে মেরেছি ৷ আর শায়বাকে


পৃষ্ঠা ৫১৪ ঠিক করুন


এমন সব লোকদের মধ্যে নিক্ষেপ করেছি যদি তাদের বৎশ পরিচয় দেয়৷ হয়, তবে তারা
সল্লাত বংশ হিসেবে গণ্য হবে ৷ আমরা যখন তাদের দলবলকে কুপের মধ্যে নিক্ষেপ করলাম
তখন রাসুলুল্লাহ্ (সা) তাদেরকে সম্বোধন করে বললেন ৪৫ তোমরা কি এখন আমার কথা
সত্যরুপে পাওনি ? আল্লাহর নির্দেশ অম্ভরকে প্রভাবিত করে ৷ কিন্তু তারা কোন জবাব দিল না ৷
যদি তার! কথা বলতে সমর্থ হত, তবে অবশ্যই বলত যে, আপনি সত্য কথা বলেছিলেন এবং
আপনি ছিলেন সঠিক সিদ্ধান্তের অধিকারী ৷ ”

ইবন ইসহাক বলেন : রাসুলুল্লাহ্ (সা) যখন মুশরিকদের লাশ কুপের মধ্যে নিক্ষেপ করার
নির্দেশ দেন, তখন উত্বা ইবন রবীআর লাশ টেনে-হেচড়ে কুপের নিকট আনা হল ৷ এ সময়
রাসুলুল্লাহ্ (সা) উতৃবার (মুসলমান) ছেলে আবু হুযায়ফার চেহারার দিকে তাকালেন ৷ দেখলেন
যে, সে মর্মড়াহত এবং তার চেহারা বিবর্ণ হয়ে গেছে ৷ তখন রাসুলুল্লাহ্ (সা) বললেন : হুযায়ফা !
তােমা ৷র পিতার অবস্থা দেখে সম্ভবত তোমার মনে কিছু তা ৷বের সৃষ্টি হয়েছে! হুযায়ফা বললেন
আল্লাহর কসম, ইয়৷ রাসুলাল্লাহ্! তা নয় ৷ আমি আমার পিতার কুফরী ও হত্যার ব্যাপারে কোন
প্রকারে দ্বিধাগ্রস্ত নই ৷ তবে আমি আমার পিতাকে যথেষ্ট জ্ঞানী প্রজ্ঞাশীল ও উত্তম গুণের
অধিকারী বলে জানতাম ৷ সে জন্যে আশা করেছিলাম যে, এসব গুণ তাকে ইসলামের দিকে
আকৃষ্ট করবে ৷ বিক্ষ্ম যখন দেখলাম যে, তিনি কুফরী অবস্থায়ই মারা গে লেন, তখন আমার যে
আশা পুর্ণ না হওয়ায় আমি মর্মাহত হয়েছি ৷ একথা শুনে রাসুলুল্লাহ্ (সা) তার কল্যাণের জন্যে
দু’আ করলেন ও তার প্রশংসা করলেন ৷ ইমাম বুখারী বলেন : হুমায়দী ইবন আব্বাস সুত্রে
বর্ণনা করেন, তিনি ৷টুদ্বুদ্বু ণ্এ৷ ! মোঃ ৷টুপুর্দুাট্রু ;,;fl (য রা আল্লাহ্র অনুগ্রহের বদলে অকৃজ্ঞতা
প্রকাশ করে) আয়াতাৎত্ত শর ব্যাথ্যায় বলেছেন, আল্লাহর কসম, এরা হল কুরায়শদের মধ্যকার
কাফিররা ৷ আমর বলেন, এরা হল কুরায়শ সম্প্রদায় এবং মুহাম্মদ (সা) )হচ্ছেন আল্লাহর
নিআমত ৷ এবং :’; ৷ ’ ; :;);’; ং,fi ;, (নিজেদের সম্প্রদ৷ য়কে তারা ধ্বংসের ঘরে পৌছে
দিয়েছে) আয়াতা ৷ ,এ ৷ ১ অর্থ ,১ ( দোযখ) ৷ এখানে বদরের যুদ্ধের দিনে দোযখে
নিক্ষেপের কথা বুঝান হয়েছে ৷ ইবন ইসহাক বলেন : এ প্রসঙ্গে হ স্নান ইবন ছাবিত তার
কবিতায় বলেন : ,
“আমার কওম যারা তাদের নবীকে আশ্রয় দিয়েছিল এবং গোটা বিশ্ববাসী যখন কুফরীতে
নিমজ্জিত ছিল, তখন তারা তাকে সত্য বলে বিশ্বাস করে নিয়েছিল ৷ এরা ছিল পুর্ব-পুরুষের
উত্তম বৈশিষ্ট্যাবলীর সঠিক উত্তরসুরী ৷ এরা পুণ্যবান আনসারদের সহযোগী ৷ আল্লাহর বণ্টনে
তারা সন্তুষ্ট ৷ বংশীয় মর্যাদায় সম্মানিত শ্রেষ্ঠ নবী যখন তাদের মাঝে আগমন করেন, তখন মধুর
স্বাগত সম্ভাষগে তারা তাকে বরণ করে নেন এবং তারা বলেন, আপনি এখানে নিরাপদে ও
স্বাচ্ছন্দোর সাথে অবস্থান করুন! আপনি শ্রেষ্ঠ নবী, উত্তম প্রতিবেশী ৷ আমরা বড়ই
সৌভ গ্যব ন ৷ তারা তাকে থাক ব ব্যবস্থা করলেন এমন ঘরে, যেখানে কোন ভয়৩ ভীতি ছিল
না ৷ যে এদের প্রতিবেশী হবে এ রকম ঘরই তার থাকবে ৷ ঘুহাজিরপণ যখন হিজরত করে


পৃষ্ঠা ৫১৫ ঠিক করুন

আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ৫১৫

এখানে আগমন করলেন, তখন এরা নিজেদের ধন সম্পদ তাদেরকে ভাগ করে দিলেন ৷ আর
অংাহ্যকারী ক ফিবদেব তাগে রয়েছে জাহান্নাম ৷ আমরা বদর প্রান্তরের দিকে এগিয়ে গেলাম,
তারাও মৃত্যুর জন্যে সেদিকে এগিয়ে আসল ৷ যদি তারা নিশ্চিততাতবে তাদের পবিণামের কথা
জানত, তবে কিছুওে ই সেদিকে অগ্রসর হত না ৷ ইবলীস তাদেরকে ঘোকাদিয়ে পথ দেখিয়ে
এগিয়ে ৩া নল ৷ তারপর তাদেরকে একাকী ছেড়ে চলে গেল ৷ শয়তান যাকে বন্ধু বানায় তার
সাথে চরম ঘোকাবাজীই করে থাকে ৷ সে বলেছিল, আমি তোমাদের পাশেই থাকর ৷ পরে
তাদেরকে এক নিকৃষ্ট হাটিতে এনে ফেলল, যাতে কেবল লাঞ্চুনা ও অপমানই ছিল ৷ এরপর
যখন আমরা পরস্পরের মুখোমুখি হলাম, তখন শয়তান ণ্াতার সাহায্যকারী দলবল নিয়ে
নেতাদের থেকে কেটে পড়ল ৷ আর একদল দিকবিদিক জ্ঞানশুন্য হয়ে ছুটে পালাল ৷

ইমাম আহমদ বলেন : ইয়াহয়া ইবন আবু বকর ও আবদুর রায্যাক ইবন আব্বাস (রা)
থেকে বর্ণনা করেন ৷ তিনি বলেন, বদর যুদ্ধ <শষ হলে রাসুলুল্লাহ্ (সা ) (ক বলা হল, এখন
আবু সুফিয়ানের বাণিজ্য কাফেলাকে আক্রমণ করুন ৷৩ তাদেরকে সাহায্য করার মত আর কেউ
সামনে নেই ৷ তখন আব্বাস বন্দী অবস্থায় শৃগ্রলাবদ্ধ থেকে বলে উঠলেন মুহাম্মদ! এটা তুমি
করতে পড়ার না ৷ রাসুলুল্লাহ্ বললেন, কেন পারব না ? আব্বাস বললেন, আল্লাহ্ তোমাকে দৃ টি
দলের মধ্যে একটি দেয়ার ওয়াদা করেছেন এবং সে ওয়াদা তিনি পুর্ণ করেছেন ৷

বদর যুদ্ধে বড় বড় কাফির নেতাসহ মোট সত্তর জন নিহত হয় ৷ এ যুদ্ধে এক হাযার
ফেরেশতা অংশগ্রহণ করেন ৷ আল্লাহর পুর্ব সিদ্ধান্ত ছিল যে, এ যুদ্ধে যারা বেচে যাবে, তাদের
অনেকেই ইসলাম গ্রহণ করবে ৷ তাদের সকলকে হত্যা করা আল্লাহ্র আভীষ্ট হলে এ কাজের
জন্যে একজন মাত্র ফিরিশ৩া পাঠিয়েই তিনি তা করতে পারতেন ৷ কিন্তু যুদ্ধে কেবল সে
লোকগুলে ই নিহত ৩হয়েছে, যাদের মধ্যে বিন্দুমাত্র কল্যাণ ছিল না ৷ এই ফেরেশতাদের মধ্যে
ছিলেন হযরত জিবরীল (আ) ৷ যিনি আল্লাহ্র নির্দোশ লুতৃ জাতির আবাসভুমি মাদাইনকে যমীন
থেকে উপরে তুলে নেন ৷ অথচ সেই ভু খণ্ডের মধ্যে ছিল সাতটি সম্প্রদায়ের লোক জীব জভু,
মাটি, বৃক্ষ-লতা, ফসলাদি এবং আরও অনেক কিছু, যায় তথ্য আল্লাহ্ ব্যতীত অন্য কারও জানা
নেই ৷ এসব কিছুসহ ভু-খওটি হযরত জিবরীল (আ) তার একটি পাখার কিনারায় তুলে
আকাশের সীমানা পর্যন্ত উঠিয়ে নেন ৷ এরপর তা উলঢিয়ে নীচে ফেলে দেন এবং৩ তার উপর
চিহ্নিত বিশেষ ধরনের পাথর বর্ষণ করেন ৷ লুৎ জাতির আলোচনায় আমরা এ বিষয়ে উল্লেখ
করে এসেছি ৷

আল্লাহ ঘুমিনদেরকে কাফিরদের বিরুদ্ধে জিহাদ করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং সাথে সাথে
এর যৌক্তিকতা ও অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্য বর্ণনা করে দিয়েছেন ৷ যেমন আল্লাহর বাণী :

সে :





পৃষ্ঠা ৫১৬ ঠিক করুন


অতএব যখন তোমরা কাফিরদের সাথে যুদ্ধে মুকাবিলা কর, তখন তাদের গর্দানে আঘাত
কর, পরিশেষে যখন তোমরা তাদেরকে সম্পুর্ণরুপে পরাভুত করবে, তখন তাদেরকে করে
র্বাধ্বে, এরপর হয় অনুকম্পা , নয় মুক্তিপণ ৷ তোমরা জিহাদ চালিয়ে যাবে যতক্ষণ না যুদ্ধ তার
অস্ত্র নামিয়ে ফেলে ৷ এটাই বিধান ৷ এটা এ জন্যে যে, আল্লাহ্ ইচ্ছা করলে তাদেরকে শাস্তি
দিতে পারতেন ৷ কিন্তু তিনি চান তোমাদের একজনকে অপরের দ্বারা পরীক্ষা করতে” (৪ ৭ :
৪) ৷

মহান আল্পাহ্র বাণী :




“তোমরা তাদের সাথে যুদ্ধ করবে ৷ তোমাদের হাতে আল্লাহ্ তাদেরকে শাস্তি দেবেন,

তাদেরকে লাঞ্ছিত করবেন, তাদের বিরুদ্ধে তােমাদেরকে বিজয়ী করবেন ও ঘু’মিনদের চিত্ত

প্রশান্ত করবেন এবং তাদের অন্তরের ক্ষোভ দুর করবেন ৷ আল্লাহ্ যাকে ইচ্ছা তার প্রতি
ক্ষমা-পরায়ণ হন” (৯ : ১৪-১৫) ৷

তাই দেখা যায় আবু জাহ্ল একজন আনসার বালকের হাতে নিহত হয় ৷ তারপর
আবদুল্লাহ্ ইবন মাসউদ তার বুকের উপর বসে দাড়ি চেপে ধরেন ৷ তখন আবু জাহ্ল তাকে
বললাে হে তৃচ্ছ মেষ রাখলে! আজ তুমি এক কঠিন স্থানে আরোহণ করেছে৷ ৷ তারপর ইবন
মাসউদ তার ঘুণ্ড কেটে রাসুলুল্লাহ্ (সা) এর সম্মুখে নিয়ে হাযির করেন ৷ আল্লাহ এভাবে
মুমিনদের চিত্তকে প্রশাস্তি দান করেন ৷ নিঃসন্দেহে আবু জ হ্লের এই মৃত্যু ছিল বজ্রপাতে বা
ছাদ ধসে কারো মৃত্যু বা স্বাভাবিক মৃত্যুর চাইতে অধিকতর লাষ্কৃনাপুর্ণ ৷

ইবন ইসহাক বদর যুদ্ধে নিহত মুশরিকদের তালিকায় এমন কতিপয় ব্যক্তির নাম উল্লেখ
করেছেন, র্ষড়ারা প্রকৃতপক্ষে মুসলমানই ছিলেন, বিন্দু ঘুশরিকদের ভয়ে তাদের পক্ষ হয়ে যুদ্ধ
করতে আসেন ৷ কেননা, ইসলাম গ্রহণের কারণে তারা ছিলেন মক্কার মুশরিকদের হাতে
অত্যাচারিত ও নিগৃহীত ৷ তাদের কয়েকজনের নাম এখানে উল্লেখ করা হল : (১) হারিছ ইবন
যামআ ইবন আসওয়াদ, (২) আবু কায়স ইবন ফাকিহ্ , (৩) আবু কায়স ইবন ওয়ালীদ ইবনুল
মুগীরা, (৪) আলী ইবন উমাইয়া ইবন খালফ (৫) আল ইবন মুনাব্বিহ্ ইবন হাজ্জাজ ৷ ইবন
ইসহাক বলেন, এদের সম্পর্কেই কুরআনের এ আয়াত নাযিল হয় :

ঢু;ৰু ৷,াঢু; ংণ্ৰুএ্ংন্ ণ্;পুৰু ৷ট্রু,া ব্লু ন্দ্বুও৷ ৷৷া; ’ব্ ; ণ্৷ ’৷ ৷ ’ণ্ছুৰুন্দ্বুৰু,’; ;,;fl’: হু,া
’;াওএে ৷ স্রট্রু,ট্রু £টুট্রুহ্রন্ছুর্দুট্রু



পৃষ্ঠা ৫১৭ ঠিক করুন


“যারা নিজেদের উপর জুলুম করে, তাদের জান কবযের সময় ফেরেশতাগণ বলে, তােমরা
কী অবস্থায় ছিলে’হ্র তারা বলে দুনিয়ার আমরা অসহায় ছিলাম ৷ তারা বলে, দুনিয়া কি এমন
প্রশস্ত ছিল না, যেখানে তোমরা হিজরত করতে জ ৷হান্নামই এদের আবাসস্থল আর তা কত মন্দ
আবাস” (৪০ ৯৭) ৷

বদর যুদ্ধে যে ট বন্দী সং থ্যা সত্তর জন ৷ পরে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা আসবে
ইনশা ৷আল্লাহ্ ৷ বন্দীদের মধ্যে কয়েকজন ছিলেন রাসুলুল্পাহ্ (সা) এর পরিবারের অস্তত্যুঃ ৷
ফ্রোন (১) রাসুলুল্লাহ্র (সা)-এর চাচা আব্বাস ইবন আবদুল মুত্তালিব, (২) তার চাচড়াত
ভাই আকীল ইবন আবু তালিব এবং (৩) নাওফিল ইবন হারিছ ইবন আবদুল মুত্তালিব ৷ এখান
থেকে দলীল গ্রহণ করে ইমাম শাফিঈ ও ইমাম বুখারী বলেন, কেউ যদি রক্ত সম্পর্কীয় কোন
আত্মীয়ের মুনীর হয়ে যায়, তবে সে এমনিতে আযাদ হবে না; বরং গােলামই থাকবে ৷ কিন্তু
ইবন সাযুরা থেকে হাসানের বর্ণিত হাদীছ এর বিপরীত ৷ এই তালিকার মধ্যে আরও আছেন
রাসুলুল্লাহ্ (সা) কন্যা যয়নবের স্বামী আবুল আস ইবন রবী’ ইবন আবদে শাম্স ইবন
উমাইয়া ৷

অনুভ্রুচ্ছদ

বদর যুদ্ধের বন্দীদের হত্যা করা হবে, নাকি মুক্তিপণ নিয়ে ছেড়ে দেয়৷ হবে-এ ব্যাপারে
সাহাবাগণের মধ্যে মতভেদ দেখা দেয় ৷ এ প্রসঙ্গে ইমাম আহমদ বলেন : আলী ইবন আসিম
হাসান সুত্রে বর্ণনা করেন ৷ তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ্ (সা) বদর যুদ্ধের বন্দীদের সম্পর্কে
সড়াহাবীগণের পরামর্শ চান এবং বলেন : আল্লাহ্ তাদেরকে তোমাদের করায়াত্ত করে দিয়েছেন ৷
হযরত উমর র্দাড়িয়ে বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ্ ! ওদেরকে হত্যা করে দিন ! রাসুলুল্পাহ্ (সা)
; উমরের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে পুনরায় লোকদের কাছে এবইি ব্যাপারে পরামর্শ চাইলেন ৷
এবার আবু বকর সিদ্দীক দাড়িয়ে বললেন, ইয়৷ রাসুলাল্পাহ্৷ আমার মত হচ্ছে, তাদের নিকট
থেকে মুক্তিপণ গ্রহণ করে তাদেরকে ছেড়ে দেয়৷ হোক ৷ এ কথা ওনার পর রাসুলুল্লাহ্র চেহারার
বিষগ্ন তার কেটে গেল এবং মুক্তিপণ নিয়ে তিনি তাদেরকে ছেড়ে দিলেন ৷ হাসান বলেন, এ
পরিপ্রেক্ষিতে আল্পাহ্ তাআলা আয়াত নাযিল করলেনং ,

আল্লাহর পুর্ব বিধান না থাকলে তোমরা যা গ্রহণ করেছ তাতে তোমাদের উপর মহড়াশাস্তি
আপতিত হত” (৮ : ৬৮) ৷
ইমাম আহমদ, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী ও আলী আল-মদীনী ইকরিমা ইবন আমার
সুত্রে ত্রে উমর ইবন যা তার (বা) থেকে বর্ণিত ৷ তিনি বলেন, বাসুলুল্লাহ্ (সা) বদর যুদ্ধের দিনে
তার সাহাবীগণের প্রতি লক্ষ্য করলেন, তারা ছিলেন সং থ্যায় তিনশ র কিছু বেশী ৷ পরে মুশরিক
বাহিনীর প্রতি লক্ষ্য করে দেখতে পেলেন, তারা ছিল হাযারের উধের্ব ৷ এরপর তিনি ঘটনার
বিস্তারিত বিবরণ দেন, যার শেষের কথা ছিল কাফিরদের সত্তরজন নিহত হয় এবং সত্তরজন
বন্দী হয় ৷ পরে রাসুলুল্লাহ্ (সা) (বন্দীদের ব্যাপারে) আবু বকর, আলী ও উমর (রা)-এর সাথে


পৃষ্ঠা ৫১৮ ঠিক করুন




পরামর্শ করেন ৷ হয়র৩ আবু বকর বললেন, ইয়৷ রাসুলাল্লাহ্! এরা তো আমাদের ভাই-যেরাদর
ও আত্মীয় স্বজন, আমার মতে, এদের থেকে মুক্তিপ ণ গ্রহণ করুন ৷ এতে যে অর্থ আসার৩
দ্বারা শ ৷ত্রুদের বিরুদ্ধে আমাদের শক্তি বৃদ্ধি পাবে ৷ ভবিষ্যতে হয়ত আল্লাহ্ত তাদেরকে হিদায়াত
দান করবেন এবং তখন তারা আমাদের সাহায্যক৷ ৷রী হবে ৷ এরপর রাসুলুল্লাহ্ (সা) বললেন, হে
খাত্তাবের পুত্র (উমর) ! তোমার মত কি? আমি বললাম, আল্লাহর কসম, আবু বকর যে মত
ব্যক্ত করেছেন আমার মত সে রকম নয় ৷ আমার মত হচ্ছে এদের মধ্যে আমার
নিকট-আত্মীয়কে ধরে আমিই হত্যা করব ৷ আকীলকে আলীর হুাস্বাৰু:ছ দেয়া হবে, সে তাকে হত্যা
করবে এবং হামযা তার ভাইকে ধরে হত্যা করবেন ৷ এতে আল্লাহ দেখবেন ”যে, আমাদের
অম্ভরে মুশরিকদের প্রতি কোনই দুর্বল৩ তা নেই ৷ আর এই বন্দীরা হচ্ছে কাফিরদের সর্দার
তাদের নেতা ও পরিচালক ৷ রাসুলুল্লাহ (সা) আমার মত গ্রহণ কংালেন না,৩ তিনি আবু বকরের
মত গ্রহণ করলেন ও মুক্তিপণ আদায় করলেন ৷

উমর বলেন : পরের দিন রাসুলুল্লাহ্ (মা) ও আবু বকরের নিকট গিয়ে দেখতে পেলাম
তারা উভয়ে র্কাদছেন ৷ আমি বললাম, ইয়৷ রাসুলাল্লাহ্ৰু আপনারা র্কাদছেন কেন ? কারণটা
জানতে পারলে যদি আমারও কান্না আসে, তবে আমিও র্কাদব ৷ আর যদি কান্ন৷ না আসে, তবে
আপনাদের দেখাদেখি ক ন্নাব ডান করব ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) বললেন, ঘুক্তিপ্ ণ গ্রহণের কারণে
তোমাদের সাথীকে১ এক ভয়াবহ দৃশ্য দেখান হয়েছে ৷ দেখান হয়েছে যে ওে ৷মাদের উপর
আবার আসছে এবং তা একেবারে নিকটস্থ এই বৃক্ষের চেয়েও নিকটে এসে গেছে ৷ আর আল্লাহ
এ আয়াত নাযিল করেছেন ও





,

দেশে ব্যাপকভাবে শত্রুকে পরাভুত না করা পর্যন্ত বন্দী রাখা কোন নবীর জন্যে সংগত

নয় ৷ তোমরা কামনা কর পার্থিব সম্পদ এবং আল্লাহ চান পরলোকের কল্যাণ ৷ আল্লাহ

পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময় ৷ আল্লাহর পুর্ববিধান না থাকলে তে ৷মরা যা গ্রহণ করেছ (৩ার্থ ৎ ৰু

মুক্তিপ্ ণ) সেজন্যে তোমাদের উপর আপতিত হত মহাশাস্তি (৮ং ৬৭ ৬৮) ৷ এরপর ৰু

মু’মিনদের জন্যে গনীমতে র মাল হালাল করে দেয়৷ হল ৷ হযরত উমর হড়াদীছের শেষ পর্যন্ত
বর্ণনা করেন ৷

ইমাম আহমদ আবু মুআবিয়া আবদুল্লাহ সুত্রে অনুরুপ হাদীছ বর্ণনা করেছেন যাতে
অতিরিক্ত আছে উমর বললেন, ইয়৷ রাসুলাল্লাহ্! এরা আপনাকে মিথ্যাবাদী বলে আখ্যায়িত করে
দেশ থেকে বের করে দিয়েছে ৷ তাদেরকে আমার হাতে সোপর্দ করুন, আমি ওদের গর্দান
উড়িয়ে দেই ৷ আবদুল্লাহ ইবন রাওয়াহ৷ বললেন, ইয়৷ রাসুলুল্লাহ্ ৷ এদেরকে একটা প্রান্তরে রেখে



১ ইঙ্গিত তার নিজের দিকে ছিল ৷


পৃষ্ঠা ৫১৯ ঠিক করুন


চারিদিকে প্রচুর কাঠ বিছিয়ে আগুন ধরিয়ে দিন! এসব কথা শুনে কোন জবাব না দিয়ে
রাসুলুল্লাহ্ (সা) ঘরে প্রবেশ করেন ৷ উপস্থিত লোকদের মধ্যে একদল বলল, র!সুল!ল্লাহ্ আবু
বকরের মতই গ্রহণ করবেন ! আর একদল বলল, উমরের মত গ্রহণ করবেন ৷ অন্য একদল
বলল, আবদুল্লাহ্ ইবন রাওয়াহার মত গ্রহণ করবেন ৷ কিছুক্ষণ পর তিনি ঘর থেকে বেরিয়ে
লোকজনের সম্মুখে এসে বললেন৪ আল্লাহ কিছুসংখ্যক লোকের অন্তরকে নরম করেন এবং তা
তুলা থেকেও নরম হয়ে যায় আবার কিছুসং খ্যক লোকের অন্তরকে কঠিন বানান এবং তা
পাথরের চেয়েও শক্ত হয়ে যায় ৷ হে আবু বকর! তোমার দৃষ্টান্ত হযরত ৩ইবরাহীম (আ)-এর
মত ৷ তিনি বলেছিলেন ং




সু“তরাং যে আমার অনুসরণ করবে সেই আমার দলভুক্ত কিন্ত কেউ আমার অবাধ! হলে
তুমি তে ! ক্ষম!শীল, পরম দয়!লু” (১৪৪ ৩৬) ৷ হে আবু বকর! ণ্ত!ম!র দৃষ্টান্ত হযরত ৩ঈসা
(আ) ৷ তিনি বলেছিলেন :

ষ্ষ্ষ্ষ্ষ্ষ্ : ; শ্ ; ৷ ষ্

“তুমি যদি তাদেরকে শাস্তি দাও, তবে তার! তে! তােম! !রই বান্দা, আর যদি তাদেরকে ক্ষম!
কর, তবে তুমি তে! পর!ক্রমশালী, প্রজ্ঞাময় (৫৪ ১১৮) ৷ আর হে উমর! তোমার দৃষ্টান্ত
হযরত নুহ্ (আ)-এর মত ৷ তিনি বলেছিলেন০ ং
ষ্ ৮শ্’এ

“হে আমার প্রতিপালক ! পৃথিবীতে কাফিরদের মধ্য হতে কোন গৃহবাসীকে অব্যাহতি
দিও ন! (৭১ : ২৬) ৷ হে উমর! তোমার দৃষ্টান্ত হযরত মুসা (আ) এর মত ৷ তিনি
বলেছিলেন :

>) ৷
“হে আমাদের প্রতিপালক! তাদের সম্পদ বিনষ্ট কর তাদের হৃদয়ে মোহর করে দাও,
তার! তে! মর্মন্তুদ শাস্তি প্রত্যক্ষ ন! কর! পর্যন্ত বিশ্বাস করবে ন!” ৷ (১০ : ৮৮) ৷ তোমরা এখন
রিক্তহস্ত ৷ সুতরাং মুক্তিপণ গ্রহণ কিংবা হত্যা কর! ছাড়! গত্যন্তর নেই ৷ আবদুল্লাহ বললেন, ইয়!
র!সুলাল্লাহ্! সুহ!য়ল ইবন বায়যাকে এর থেকে বাদ রাখুন কেননা, আমি তাকে ইসলাম গ্রহণের
কথা আলোচনা করতে শুনেছি ৷ এ কথা শুনে রাসুলুল্লাহ্ (স!) নীরব থাকলেন ৷ আবদুল্লাহ্
বলেন, তখন আমি এতে! ভীত হয়ে পড়লাম যে, এমনটি আর কোন দিন হইনি ৷ মনে হচ্ছিল,
আকাশ থেকে আমার উপর বুঝি পাথর বর্ষিত হবে ! কিছুক্ষণ পর র!সুলুল্লাহ্ (স!) বললেন,
সুহ!য়ল ইবন বায়যা ব্যতীত ৷ তখন আমার ভয় কেটে গেল ! আল্লাহ এ সময় আয়াত নাযিল
করলেন :

শ্শ্শ্শ্শ্শ্শ্



Execution time: 0.14 render + 0.01 s transfer.