Login | Register

আল বিদায়া ওয়ান্নিহায়া - খন্ড ৩

পৃষ্ঠা ৪৫২ ঠিক করুন

ঐতিহাসিক বদর যুদ্ধ

শ্শ্শ্শ্শ্শ্

সে দিন ছিল মীমাংসারদিন যে দিন দু’দল পরস্পরের মুখোমুখি হন (৮ : ৪ ১) ৷
আল্লাহর বাণী ৷ৰু

’;,ঙ্’,ধুশ্; ট্রুব্রা;এ ভ্া৷ ৷ ৷,ব্লুহুএেব্রা৷ ষ্কৃ£;ওাধু ,;;,, :৷ ৷ র্বৃ,দ্বুব্লু;;; ,
“এবং বদরের যুদ্ধে যখন তোমরা হীনবল ছিলে আল্লাহ র্দুন্ভ্র৷ তোমাদেরকে সাহায্য

করেছিলেন ৷ সুতরাং তেড়ামরা আল্লাহ্কে ভয় কর যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর ৷, (৩ :
১ ২৩)

আল্লাহ তাআলা আরও বলেন :

“এটা এরুপ, যেমন তোমার প্রতিপালক তোমাকে ন্যাযভােবে তোমার গৃহ হতে বের
করেছিলেন, অথচ বিশ্বাসীদের এক দল এটা পসন্দ করেনি ৷ সত্য স্পষ্টভাবে প্রকাশিত হওয়ার
পরও তারা তোমার সাথে বিতর্কে লিপ্ত হয় ৷ মনে হচ্ছিল তারা যেন মৃত্যুর দিকে চালিত হচ্ছে
আর তারা যেন এটা প্রত্যক্ষ করছে ৷ স্মরণ কর, আল্লাহ তোমাদেরকে প্রতিশ্রুতি দেন যে,
দু’দলের একদল তোমাদের আয়ত্তাধীন হবে; অথচ তোমরা চাচ্ছিলে যে, নিরস্ত্র দলটি
তোমাদের আয়ত্তাধীন হোক আর আল্লাহ চাচ্ছিলেন যে, তিনি সত্যকে তীর বাণী দ্বারা প্রতিষ্ঠিত
করেন এবং কাফিরদেরকে নির্মুল করেন ৷ এটা এ জন্যে যে, তিনি সত্যকে সত্য ও অসত্যকে
অসত্য প্রতিপন্ন করেন, যদিও অপরাধীরা এটা পসন্দ করে না ৷ (৮ : ৫৮ ) ৷ এ ভাবে বদর
যুদ্ধের বর্ণনা সুরা আনফালে যে পর্যন্ত করা হয়েছে তার বিস্তারিত আলোচনা আমরা তাফসীর
গ্রন্থে যথাস্থানে করেছি ৷ এখানে প্রয়োজন অনুযায়ী তার পুনরাবৃত্তি করা হবে ৷

ইবন ইসহাক আবদুল্লাহ ইবন জাহড়াশের অভিযান সম্পর্কে আলোচনার পর লিখেন : এর
কিছু দিন পর রাসুলুল্লাহ্ (সা) জানতে পারলেন যে, আবু সুফিয়ান সাখর ইবন হার্ব
কুরায়শদের বিশাল এক কাফেলা নিয়ে সিরিয়া থেকে রওনা হয়েছে ৷ তার সাথে রয়েছে বিভিন্ন
প্রকার সম্পদ ও বাণিজ্য-সভার ৷ তিনি আরও জানলেন যে, এই কাফিলায় ত্রিশ অথবা চল্লিশ জন
লোক রয়েছে, যাদের মধ্যে মাখরামা ইবন নাওফিল এবং আমর ইবন আসও আছে ৷ মুসা ইবন
উক্বা ইমাম ষুহ্রী থেকে বর্ণনা করেন যে, এটা ছিল ইবন হাযরামীর হত্যাকাণ্ডের দুমাস পরের


পৃষ্ঠা ৪৫৩ ঠিক করুন


ঘটনা ৷ তিনি বলেন, এ কাফেলায় এক হাজার উট ছিল এবং কেবল মাত্র হুওয়ায়তিব ইবন
আবদিল উয্যা ছড়াে কুরায়শদের সকলের পণ্যদ্রব্য বহন করে আনছিল ৷ আর এ কারণেই
হুওয়ায়তিব বদর যুদ্ধে অংশ্যাহণ করেনি ৷

ইবন ইসহাক বলেন, বদর যুদ্ধের ঘটনা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবন
মুসলিম ইবন শিহড়াব, আসিম ইবন উমর ইবন কাতাদা, আবদুল্লাহ ইবন আবু বকর ও ইয়াযীদ
ইবন রুমড়ান এরা সবাই বর্ণনা করেছেন উরওয়া ইবন যুবায়র থেকে ৷ আর অন্যান্য আলিমগণ
বর্ণনা করেছেন ইবন আব্বাস থেকে ৷ এদের প্রত্যেকেই ঘটনার এক এক অংশ বর্ণনা করেছেন ৷
সবগুলো মিলিয়ে বদর যুদ্ধের পুর্ণাঙ্গ রুপ বিন্যস্ত করা হয়েছে ৷ ১

তাদের বর্ণনা এরুপ : রাসুলুল্লাহ্ (সা) যখন শুনতে পেলেন যে, আবু সৃফিয়ান সিরিয়া
থেকে রওনা হয়ে এদিকে আসছে, তখন তিনি মুসল মানদেরকে তার বিরুদ্ধে অভিযানে যাওয়ার
জন্যে আহ্বান জানালেন এবং বললেন, কুরায়শদের এ কাফেলায় তাদের বহু ধন-সম্পদ
রয়েছে ৷ তোমরা এগিয়ে যাও ৷ হয়তো আল্লাহ ঐ ধন-সম্পদ (?দ্রামাদেরকে দিয়ে দিবেন ৷
লোকজন রাসুলুল্লাহ্ (সা)-এর আহ্বানে সাড়া দিল ৷ তবে কিছু লোক দ্রুত হাযির হল আর কিছু
লোক দ্বিধাবােধ করছিল ৷ এর কারণ হচ্ছে, এ লোকগুলাে বুঝতে পারছিল না যে, রাসুলুল্লাহ্
(সা) কোন যুদ্ধের সম্মুখীন হচ্ছেন কিনা! আবু সুফিয়ানের কাছে জনগণের সম্পদের দায়িত্ব
থাকায় ঝুকি এড়ানোর জন্যে হিজায়ের নিকটবর্তী এসে যে কোন আরােহীর সঙ্গে দেখা হলেই
সে তার থেকে গোপন সংবাদ নিতে থাকে ৷ অবশেষে জনৈক আরােহী তাকে জানাল যে ,
মুহাম্মদ তার অনুসারীদেরকে তোমার ও তোমার কাফেলায় বিরুদ্ধে আক্রমণ করার জন্যে উদ্বুদ্ধ
করেছেন ৷ এ সংবাদ পেয়ে আবু সুফিয়ান সাবধানতা অবলম্বন করল এবং যমযম ইবন আমর
গিফারীকে তখনই পারিশ্রমিকের বিনিময়ে মক্কায় পাঠিয়ে দিল এবং বলে দিল যে, কুরায়শদের
কাছে গিয়ে বলবে, মুহাম্মদ তীর অনুসারীদের নিয়ে তোমাদের কাফেলার বিরুদ্ধে অভিযানে
বেরিয়েছেন, তাই তারা যেন তাদের সম্পদ রক্ষার্থে একদল সশস্ত্র লোক পাঠিয়ে দেয় ৷ যমযম
দ্রুত মক্কার উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে যায় ৷

ইবন ইসহাক বলেন : ইবন আব্বাস ও উরওয়া ইবন যুবায়র থেকে বর্ণিত, তারা উভয়ে
বলেছেন, যমযম মক্কায় পৌছার তিন দিন পুর্বে আতিকা বিনৃত আবদুল যুত্তালিব একটি ভয়াবহ
স্বপ্ন দেখেন ৷ এরপর তিনি র্তীর ভাই আব্বাস ইবন আবদুল মুত্তালিবকে ডেকে বললেন, ভাই ৷
আল্লাহ্র কসম, গত রাত্রে আমি এক ভয়ানক স্বপ্ন দেখেছি ৷ এতে আমার আশংকা হচ্ছে
আপনার সম্প্রদায়ের উপর হয়তো কোন অনিষ্ট ও বিপদ আসতে পারে ৷ সুতরাং আমি যা



১ বদর একটি কুয়োর নাম ৷ গিফার গোত্রের বদর নামক এক ব্যক্তি কুয়ােটি খনন করে ৷ তার নাম অনুসারে
ঐ কুপের নাম বদর রাখা হয় ৷ কারও মতে খননকারীর নাম বদর ইবন কুরায়শ ইবন ইয়াখলাদ ৷ কেউ
বলেন, জনৈক ব্যক্তির বদর অর্থাৎ পুর্ণ চন্দ্রাকৃতির একটি কুয়াে ছিল তাই একে বদর বলা হয় ৷ মদীনা
থেকে এর দুরত্ব চার দিনের পথ ৷ ইবন সাআদ বলেন, বদর ছিল জাহিলী যুগের মেলাসমুহের মধ্যে
অন্যতম ৷ সমগ্র আরবের লোকজন এখানে সমবেত হত ৷ বদর ও মদীনায় মাঝে দৃরতু আট বুবৃদ দুই
মাইল ৷ এক বুবৃদ প্রায় বার মাইল ৷


পৃষ্ঠা ৪৫৪ ঠিক করুন


বলবো, তা আপনি গোপন রাখবেন ৷ আব্বাস জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কিাপ্ন দেখেছ ? আতিকা
বললেন, আমিাপ্নে দেখলাম একজন লোক উটে চড়ে মক্কার সংলগ্ন সমতল ভুমিতে এসে
থামল ৷ তারপর সে উভৈচ্চ৪ারে চিৎকার দিয়ে ঘোষণা দিল, সাবধান ওহে বিশ্বাসঘাতকেরা ! তিন
দিনের মধ্যে ধ্বংসের জন্যে প্রস্তুত হয়ে যাও ৷ এরপর দেখলাম, জনতা তার পাশে সমবেত
হয়েছে ৷ লোকটি পরে মসজিদে হাবামে প্রবেশ করল, জনতাও তাকে অনুসরণ করল ৷ এরপর
উটনী তাংক নিয়ে কাবাঘরে গিয়ে উঠলো ৷ সেখানেও সে অনুরুপ ঘোষণা দিল, “সাবধান হে
বিশ্বাসঘাতকের দল (অর্থাৎ কুরায়শরা ) তিন দিনের মধ্যে তোমরা ধ্বংসের জন্যে প্রস্তুত হও ৷ ’
এরপর উটনী সেখান থেকে তাকে নিয়ে আবু কুবায়স পাহাড়ের শীর্ষে আরোহণ করলো ৷
সেখান থেকেও যে একই ঘোষণা দিল ৷ এরপর সে পাহাড়ের উপর ণ্;থাক একটি পাথর গড়িয়ে
দিল ৷ পাথরটি গড়িয়ে পাহাড়ের পাদদেশে এসেই ভেঙ্গে টুকরো টুকম্বব্লা হয়ে ছিটকে পড়লাে ৷
ফলে মক্কার এমন কোন বাড়ি-ঘর অবশিষ্ট থাকলো না, যেখানে এর কোন টুকরো পৌছায়নি ৷
তা শুনে আব্বাস বললেন, সত্যিই আল্লাহর কসম ! সত্যিই এটা এক ভয়ানকাপ্ন ৷ তবে তুমি এ
াপ্নের কথা গোপন রাখবে, কাউকে বলবে না ৷

এরপর আব্বাস সেখান থেকে বেরিয়ে যান ৷ পথে তার বন্ধু ওয়ালীদ ইবন উতবার সাথে
সাক্ষাত হয় ৷ আব্বাস তার নিকটাপ্নের বৃত্তান্ত খুলে বলেন এবং তা গোপন রাখার জন্যে
অনুরোধ জানান ৷ কিন্তু ওয়ালীদ তার পিতা উতবার কাছে তা বলে দেয় ৷ এ ভাবোপ্নের
কথাটি ব্যাপক ভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং কুরায়শদের ঘরে ঘরে এর আলোচনা চলতে থাকে ৷
আব্বাস বলেন, একদিন সকালে আমি বায়তৃল্লাহ্ তাওয়াফ করতে বের হলাম ৷ সেখানে গিয়ে
দেখলাম, আবু জাহ্ল কুরায়শদের কয়েকজন লোকের সাথে বসে আতিকারাপ্ন প্রসঙ্গে
আলাপ-আলোচনা করছে ৷ আবু জাহ্ল আমাকে দেখেই বললাে, হে আবুল ফযল! তাওয়াফ
শেষ করে আমাদের কাছে এসো ৷ আমি তাওয়াফ শেষে তাদের পাশে গিয়ে বসলড়াম ৷ আবু
জাহ্ল বললো , হে বনু আবদুল মুত্তালিব! তোমাদের মধ্যে এই মহিলা নবীর আবিভাব আবার
করে থেকে হল ? আমি বললড়াম , সে আবার কি ? আবু জাহ্ল বললাে, কেন, ঐ যে আতিকার
াপ্ন ! আমি বললাম , সে আবার কীাপ্ন দেখেছে ? আবু জাহ্ল বললো ,হে বনু আবদুল মুত্তালিব!
তোমরা কি তোমাদের পুরুষদের নবুওয়াতীতে সত্তুষ্ট থাকতে পারছো না যে, এখন তোমাদের
মহিলারাও নবুওয়াতী দাবী করছে ? আতিকা নাকিাপ্নের মাধ্যমে জেনে বলেছেন, তিন দিনের
মধ্যে তোমরা প্রন্তুত হও ৷ আমরা এখন তোমাদের জন্যে এই তিন দিন অপেক্ষা করবো ৷ এর
মধ্যে যদি তার কথা সত্য হয়, তা হলে বা হবার তাই হবে ৷ আর যদি এই তিন দিনের মধ্যে
কোন ঘটনা না ঘটে, তবে আমরা তোমাদের বিরুদ্ধে লিখিত ঘোষণা জারী করবো যে, গোটা
আরব জাহানে তােমরাই সবচেয়ে মিথ্যাবাদী গোষ্ঠী ৷ আব্বাস বলেন, আল্লাহর কসম, আমি
তাকে তেমন গুরুতর কিছুই বলিনি, শুধু তার বক্তব্যকে আীকার করলাম এবং বললাম, আদতে
আতিকা কোনাপ্নই দেখেনি ৷

এরপর আমরা সেখান থেকে পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলাম ৷ বিকেল বেলা বনু আবদুল
মুত্তালিবের মহিলারা আমার কাছে এসে বললো, এই জঘন্য পাপিষ্ঠকে তোমরাাধীন ভাবে


পৃষ্ঠা ৪৫৫ ঠিক করুন


ছেড়ে দিয়েছ ৷ সে তোমাদের পুরুষদের যা খুশী ত ই বলেছে ৷ এখন তোমাদের নারীদের
সম্পর্কেও বিভিন্ন প্রকার কটুক্তি করছে ৷ আর তুমি সব শুনে চুপ করে বসে রইছ ৷ এতে তোমার
আত্মমর্যাদায় মোটেও লাগছে না ৷ আব্বাস বললেন, আল্লাহর কসম, আমার প্রতিক্রিয়া অবশ্যই
আছে ৷ তবে আমার পক্ষ থেকে বড় ধরনের কিছু দেখ ইনি ৷ আল্লাহর কসম এবার আমি তার
কঠোর প্রতিবাদ করবো ৷ সে যদি এর পুনরাবৃত্তি করে৩ তবে আমি ৰুাবশ্যই তার সমুচিত জবাব
দেব ৷ আব্বাস বলেন, আতিকার স্বপ্ন দেখার তৃতীয় দিবসে আমি ৫ক্রাধে অধীর হয়ে সকাল
বেলা ঘর থেকে বের হলাম ৷ ভাবলাম, তাকে ধরা র একটা সুবর্ণ সুযোগ আমার হাতছাড়৷ হয়ে
গেছে ৷ আবু জা হলকে মসজিদের মধ্যে পেয়ে গেলাম ৷ আল্লাহর কসম, আমি তার দিকে অগ্রসর
হলাম এবং প্রন্তুতি নিলাম যে কোন কায়দায় সে যদি পুর্বের ন্যায় আচরণ করে, তবে তা

উপর আক্রমণ করবো ৷ আবু জাহ্ল ছিল হালকা-পাতলা দেহ বিশিষ্ট ৷ কিন্তু তার চেহারা ছিল
রুক্ষ, ভাষা ছিল রুঢ় এবং দৃষ্টিশক্তি ছিল তীক্ষ্ণ ৷ আব্বাস বলেন, হঠাৎ সে দ্রু৩ পায়ে মসজিদের
দরজার দিকে বেরিয়ে আসছে ৷ আমি মনে মনে ভাবলাম, ওর হলট৷ কী ? আল্লাহ৩ তার উপর
অভিশাপ বর্যণ করুন! যে কি আমার গালমন্দের ভয়ে সরে যেতে চা ৷চ্ছে ? কিন্তু সহসাই বুঝতে
পারলাম সে যমযম ইবন আমর গিফারীর চিৎকার শুনতে পেয়েছে, যা আমি শুনতে পাইনি ৷
গিফারী মক্কার উপকণ্ঠে বা৩ ৩নে ওয়াদীতে এসে উটের নাক কেটে হাওদ৷ উলটিয়ে এবংজ জামা
ছিড়ে ফেলে উভৈচ্চ৪স্বরে চিৎকার দিয়ে বলছিল :

“হে কুরায়শ জনগণ ৷ বিপদ ৷ বিপদ ! ৷ আবু সুফিয়ানসহ তোমাদের মালামাল লুট করার
জন্যে মুহাম্মদ ও তীর সঙ্গীরা আক্রমণে বেরিয়েছেন ৷ আমার মনে হয় তোমরা আর তা রক্ষা
করতে পারবে না ৷ সাহায্যের জন্যে আগাও সম্পদের জন্য আগাও ছুটে যাও ৷ আব্বাস বলেন,
এ ভয়াবহ পরিস্থিতির কারণে আমিও তার দিকে মনােযোগী হতে পারলাম না; আর সেও
আমার দিকে মনাে ৷যােগী হল না ৷ যা হোক, লোকজন অতি ৩দ্রুত যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়ে ফেললাে ৷
তারা বলাবলি করছিল যে, মুহাম্মদ ও তার সঙ্গীর৷ কি আমাদের কাফেলাকে ইবন হাযরামীর
কাফেলার মত মনে করছে ? কখনো না, আল্লাহ্র কসম, তারা এবার ভিন্ন রকম দেখবে ৷

মুসা ইবন উক্বা আতিকার স্বপ্নের বর্ণনা ইবন ইসহাকের ম৩ ৩ই উল্লেখ করেছেন ৷ তবে
তিনি বলেছেন, যমযম ইবন আমর যখন ঐ অবস্থায় এসে উপ ত হল তখন কুরায়শরা
আতিকার স্বপ্নের কথা স্মরণ করে ভয়ে ভীত হয়ে পড়ে এবং ঘর থেকে উচ্চ ও নিম্নভুমিতে
বেরিয়ে আসে ৷

ইবন ইসহাক বলেন, কুরায়শদের সকলেই এ যুদ্ধে অংশ্যাহণ করে ৷ হয় নিজে সরাসরি
গমন করে, না হয় অন্য কাউকে তার স্থলাভিষিক্ত করে পাঠায় ৷ নেতৃস্থানীয়দের মধ্যে আবু
লাহাব ইবন আবদুল মুত্তালিব ব্যতীত আর কেউ যুদ্ধে যাওয়া থেকে বিরত থাকেনি ৷ সে তার
পরিবর্তে আসী ইবন হিশাম ইবন মুগীরাকে পাঠায় ৷ আবু লাহাবের নিকট আসী চার হাজার
দিরহামের ঋণী ছিল ৷ দরিদ্র৩ার কারণে সে ঋণ পরিশোধ করতে পারছিল না ৷ ঐ পাওনা
দিরহামের বিনিময়ে আবু লাহাব তাকে নিজের স্থলাভিষিক্ত করে যুদ্ধে পাঠায় ৷


পৃষ্ঠা ৪৫৬ ঠিক করুন


ইবন ইসহাক বলেন, আমার নিকট ইবন আবু নাজীহ্ বর্ণনা করেছেন যে, উমাইয়া ইবন
খালট্রুফও যুদ্ধে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে ৷ সে ছিল অতিশয় বৃদ্ধ, মােটাসোট৷ ভারী দেহের
অধিকারী ৷ এ সষ্ বাদ শুনে উক্বা ইবন আবু মুআয়ত৩ তার কাছে আসে ৷ তখন উমাইয়া
মসজিদে হারামে নিজের লোকজনসহ বসা ছিল ৷ উকবার হাতে ছিল আগুন ও অঙ্গারভর্তি
একটা পাত্র ৷ সে পা ৷ত্রটি উমাইয়ার সম্মুখে রেখে দিয়ে বললাে, হে আবু আলী লও তুমি আগুন
পোহাও ৷ কেননা তুমি৫ তা একজন নারী ৷ উমাইয়া বললাে, আল্লাহ তোমাকে ও যা তুমি নিয়ে
এসেছ তাকে অমৎগল করুন ৷ রাবী বলেন, উম৷ ইয়া তখন প্রস্তুতি নিল ও অন্যদের সাথে যুদ্ধে
গমন করল ৷ ১

ইবন ইসহাক এ ঘটনা এ ভাবেই বর্ণনা করেছেন ৷ কিন্তু ইমাম বুথারী ঘটনাটির বর্ণনা অন্য
ভাবে দিয়েছেন ৷ তিনি বলেছেন, আমার কাছে আহমদ ইবন উছমান সাআদ ইবন মুআয
থেকে বর্ণনা করেছেন তিনি বলেন, তীর ও উমাইয়া ইবন খালা,ফর মধে গভীর বন্ধুতু ছিল
উমা ইয়৷ মদীনায় এলে স ৷আদ ইবন মুআযের অতিথি হত এবং সাআদ মক্কায় গেলে উমাইয়ার
বাড়িতে মেহমান হতে তন ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) মদীনায় হিজরত করলে একদা সাআদ ইবন মুআয
উমরা করার উদ্দেশ্যে মক্কায় যান ও উম ইয়ার বাড়িতে অবস্থান করেন ৷ সাআদ উমাইয়াকে
বললেন, আমার জন্যে একটা নিরিবিলি সময় বের কর , যে সময়ে আমি নির্বিঘ্নে বায়তুল্লাহ
তাওয়াফ করতে পারি ৷ সে মতে একদা দুপুর বেলা উমাইয়া সাআদকে সাথে নিয়ে বের হল ৷
তাদের সাথে আবু জাহ্লের সাক্ষাত হয় ৷ আবু জাহ্ল উমাইয়াকে জিজ্ঞেস করলো, হে আবু
সাফওয়া ন! তোমার সাথে এ ব্যক্তিটি কে ? সে উত্তরে বললো, এ হচ্ছে সাআদ ৷ তখন আবু
জাহ্ল সাআদকে লক্ষ্য করে বললো : মক্কায় তোমাকে যে নিরাপদে-নির্বিঘ্নে তাওয়াফ করতে
দেথ্ছি ৷ অথচ তোমরা ধর্মত্যাগীদের আশ্রয় দান করেছ এবং তাদেরকে সাহায্য ও সহযোগিতা
করার ঘোষণা দিয়েছ ? শুনে রেখো, আল্লাহর কসম, তুমি যদি এ সময় আবু সাফওয়ানের সাথে
না হতে, তবে কিছুতেই তুমিশু তামার পরিবারের কাছে অক্ষত ভাবে ফিরে যেতে পারতে না ৷
স আদ ততোধিক উচ্চকণ্ঠে বললেন, সাবধান তুাম যদি আমাকে এ কাজ থেকে বাধ৷ দাও
তবে আ ৷মি তোমাকে এমন এক বিষয়ে বাধা দোবা, যা তোমার জন্যে এর চা ৷ইতে গুরুতর হবে
আর তা হচ্ছে, মদীনায় উপর দিয়ে সিরিয়ার বাণিজ্য-পথ ৷ তখন উমাইয়া তাকে বললাে, হে
সাআদ! আবুল হাকামের সাথে এতে৷ উচ্চকষ্ঠে কথা বলো না ৷ কেননা, তিনি হলেন এই
তল্লাটের অধিবাসীদের নে৩ তা ৷ তখন সাআদ বললেন, উমইিয়া! তুমি চুপ থাক ৷ কেননা, আমি
রাসৃলুল্লাহ্ (না)-কে বলতে শুনেছি, তারাই তোমার হত্যাকারী ৷ উমাইয়া জিজ্ঞেস করলো,
কোথায় মক্কায় ? সাআদ বললেন, তা আমি জানি না ৷ এ কথা শুনে উমাইয়া অত্যন্ত
ভীত ৩-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়লে৷ ৷ এরপর বাড়ি ফিরে যেয়ে উমাইয়া তার ত্রীকে ডেকে বললো হে উম্মে
সাফ্ওয়ান৷ শুনেছ, সাআদ আমাকে কী বলেছে ?ত্০ তার শ্রী বললো সে৫ তামাকে কী বলেছে ?
উমাইয়া বললো, মুহাম্মদ নাকি তাদেরকে বলেছে যে, তারা আমাকে হত্যা করবে ৷ আমি



১ ওয়াকিদীর বর্ণনা মতে, উকব৷ ও আবু জাহ্ল দুজনেই উমাইয়ার কাছে যায় ৷ উকবার কাছে ছিল আগুন ও
আগরবাতি, আর আবু জাহ্লের হাতে ছিল সুরমাদানী ৷ উকবা বললো, আগর বাতির ঘ্রাণ লও ৷ কেননা
তুমি হলে নারী ৷ আবু জাহ্ল বললো, সুরম৷ লাগাও ৷ কেননা তুমি তো নারী ৷


পৃষ্ঠা ৪৫৭ ঠিক করুন


জিজ্ঞেস করলাম, মক্কায় ? সে বললাে, জানি না ৷ এরপর উমাইয়া বললাে, আল্লাহর কসম ,
আমি আর মক্কা ছেড়ে কোথাও যাবো না ৷ এরপর বদর যুদ্ধ সমাগত হলে আবু জাহ্ল
লোকজনকে যুদ্ধে যাওয়ার প্ররােচনা দিয়ে বললাে, তোমরা তোমাদের কাফেলাকে রক্ষা করার
জন্যে বেরিয়ে পড় ৷ কিন্তু উমাইয়া মক্কা থেকে বের হতে অনীহা প্রকাশ করলো ৷ তখন আবু
জাহ্ল এসে বললাে, হে আবু সাফওয়ান৷ লোকে যখন দেখবে, তুমি এ উপত্যকার অন্যতম
নেতা হয়েও যুদ্ধে না গিয়ে বাড়িতে বসে থাকছ, তখন তারাও তোমার সাথে বাড়িতে থেকে
যাবে ৷ আবু জাহ্ল তাকে নেয়ার জন্যে পীড়াপীড়ি করতে লাগলো ৷ অবশেষে উমাইয়৷ বললাে,
তুমি যখন ছাড়লেই না, তখন আল্লাহর কসম , আমি মক্কার মধ্যে সর্বাধিক উৎকৃষ্ট ও তেজী
একটি উট ক্রয় করবো ৷ ১

এরপর সে ত্রীকে বললাে, হে উম্মে সাফওয়ানৰু আমার যুদ্ধে যাওয়ার ব্যবস্থা কর ৷ শ্রী
বললাে, হে আবুসাফওয়ান তোমার ইয়াছবিবী৩ ইা এর কথা কি ভুলে গিয়েছ ? সে বললাে, না,
তুলি নাই ৷ তবে আমি৩ তাদের সাথে অল্প কিছু দুর পর্যন্ত যেতে ৩ঢাই মাত্র ৷ রওনা হয়ে যাওয়ার
পর যে স্থানেই সে অবতরণ করেছে সেখানেই সে (সম্মুখে অগ্রসর না হওয়ার জন্যে) উট বেধে
রেখেছে ৷ সারাট৷ পথেই সে এরুপ করতে থাকলাে ৷ অবশেষে আল্লাহর হুকুমে বদর রণাঙ্গনে সে
নিহত হয় ৷

বুখারী অন্যত্র এ ঘটনা আবু ইসহাকের বরাতে অনুরুপ বর্ণনা করেছেন ৷ ইমাম আহমদ
ইসরাঈল সুত্রে এ ঘটনা বর্ণনা করেছেন ৷ এই বর্ণনায় আছে যে, উমাইয়াকে ৷৩র ত্রী বলেছিল,
আল্লাহর কসম, মুহাম্মদ কখনও মিথ্যা কথা বলেন না ৷

ইবন ইসহাক বলেন, কুরায়শরা যখন যুদ্ধের প্রস্তুতি সমাপন করলো এবং রওনা হওয়ার
সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলো, তখন বনু বকর ইবন আবদে মানাত ইবন কিনানার সাথে তাদের
বিরোধের কথা মনে পড়লো এবং তারা আশং কা করলো যে আমরা রওনা দিলে৩ ৷র৷ পিছন
থেকে আমাদের উপর হামলা করতে ৩পারে ৷ কুরায়শ ও বনু বকরের মধ্যে সুদীর্ঘ যুদ্ধের মুলে যে
কারণ ৷ছিল তা হলো, কুরায়শ পক্ষের বনু আমির ইবন লুআই গোত্রের সদস্য হাফ্স ইবন
আখইয়াফের এক পুত্রের হত্যা ৷ তাকে হত্যা করেছিল বনু বকরের এক ব্যক্তি এবং হত্যা
করেছিল তাদের সর্দার আমির ইবন ইয়াষীদ ইবন আমির ইবন মাললুহ এর ইঙ্গিতে ৷ এরপর
নিহতের ভাই মিকরায ইবন হাফ্স এর প্ৰতিশোধ স্বরুপ ৷ আমিরকে হত্যা করে সে আমিরের
পেটের মধ্যে ৩রবারি ঢুকিয়ে দেয় ৷ এরপর ঐ রাত্রেই বাড়িতে ফিরে আসে এবং কা বাঘরের
দ্বুালাফের সাথে ৩রবারি ঝুলিয়ে রাখে ৷ এ কারণে দু’ পক্ষের মধ্যে অবস্থা র যে অবনতি ঘটে,
তেকুরায়শদের মনে ঐ সময় বনু বকরের প্রতি আশংকা জাগে ৷
ইবন ইসহাক বলেন, ইয়াযীদ ইবন রুমান আমার নিকট উরওয়া ইবন যুবায়র থেকে বর্ণনা
করেছেন যে, কুরায়শরা যুদ্ধে রওনা হওয়ার প্রাক্কালে বনুবকরের সাথে তাদের বিরোধের কথা
চিন্তা করে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের কথা ভাবতে থাকে ৷ ঠিক ঐ মুহুর্তে ইবলীস সুরাকা ইবন মালিক

১ ওয়াকিদী বলেছেন, উমাইয়া কুশায়র গোত্র থেকে তিনশ দিরহাম দিয়ে একটি উট ক্রয় করে ৷ বদর যুদ্ধে
মুসলমানরা এটা গনীমত স্বরুপ পায় এবং খুবায়ব ইবন আসাফের ভাগে তা পড়ে ৷



মােম্রা€ণাং০€০া৷া
৫৮ —

পৃষ্ঠা ৪৫৮ ঠিক করুন


ইবন জুশাম মুদলাজির আকৃতি ধারণ করে তাদের সামনে হাযির হয় ৷ সুরাকা ছিল বনু
কিনানার অন্যতম কেদ্রীয় নেতা ৷ সে কুরায়শদের বললো, বনু কিনানার লোকেরা যাতে
পশ্চাৎ দিক থেকে তোমাদের উপর হামলা না করে আমি তার দায়িতৃ গ্রহণ করছি ৷ এ প্রতিশ্রুতি
পেয়ে কুরায়শরা দ্রুত যুদ্ধে রওনা হয়ে গেল ৷ কুরআনে আল্লাহ এ ঘটনার প্ৰতি ইঙ্গিত করে
বলেছেন :
;এ্,াব্রাহ্র ৷;ৰুও;,হ্র; স্ব,

অর্থাৎ, তোমরা তাদের ন্যায় হয়ো না, যারা দম্ভভরে ও লোক ৷;ন্তেথাবার জন্যে নিজেদের
বাড়ি থেকে বের হয়েছিল এবং লোককে আল্লাহ্র পথ থেকে নিবৃত্ত করে তারা যা করে আল্লাহ্
তা পরিবেষ্টন করে রয়েছেন ৷ স্মরণ কর, শয়তান তাদের কার্যাবলী তাদের দৃষ্টিতে শোভন
করেছিল এবং বলেছিল আজ মানুষের মধ্যে কেউই তোমাদের উপর বিজয়ী হয়ে না ৷ আমি
তোমাদের পাশেই থাকবাে ৷ এরপর দৃদল যখন পরস্পরের সম্মুখীন হল , তখন সে সরে পড়লো
ও বললো, তোমাদের সাথে আমার কোন সম্পর্ক রইলো না, তোমরা যা দেখতে পাও না আমি
তা দেখি ৷ আমি আল্লাহকে ভয় করি ৷ আর আল্লাহ শাস্তিদড়ানে কঠোর ৷ (৮ : ৪ ৭-৪৮) ৷
অভিশপ্ত শয়তান কুরায়শদের ধৌকা দিয়ে যুদ্ধ অভিযানে রওনা করিয়ে দিল এবং সেও তাদের
সাথী হলো ৷ একে একে মনযিল অতিক্রম করে সম্মুখে অগ্রসর হতে লাগলো ৷ এই বাহিনীর
অনেকেই বলেছে, সুরাকার সাথে দলবল ও ঝাণ্ডা ছিল ৷ এ ভাবে শয়তান তাদেরকে রণাঙ্গন
পর্যন্ত পৌছিয়ে দিল ৷ পরে যখন সে যুদ্ধের তীব্রতা লক্ষ্য করলো এবং মুসলমানদের সাহড়ায্যার্থে
ফেরেশতাদের অবতরণ করতে দেখলো ও জিবরাঈলকে প্রত্যক্ষ করলো, তখন সে এই কথা
বলে পেছনে ধাবিত হলো যে, আমি যা দেখছি তোমরা তা দেখতে পাচ্ছ না ৷ আমি আল্লাহকে
ভয় করি ৷” এ ধরনের কথা আল্লাহ্ অনত্রেও বলেছেন ৷ যথা :

;ন্ও৷ ৰু,ৰুপু;,; দ্বুব্লুৰু৷ ম্রাদ্বু , হ্র ৷ প্ষ্৷ , হ্র ৷ (;,ঢ়দ্বুব্লুা৷ প্রুাদ্বু ১ ৷ ;, ৷ ৷, ভু ংন্ ;, হ্র

৷ ;) ন্এপু ৷ ঠুব্রাঠুশুা

“এদের তুলনা শয়তান যে মানুষকে বলে কুফরী কর’ ৷ এরপর যখন সে কুফরী করে

শয়তান তখন বলে তোমার সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই ৷ আমি জগতসমুহের প্রতিপালক
আল্লাহ্কে ভয় করি ৷” (৫৯ : ১৬) ৷

আল্লাহ্ আরও বলেন :
-€রপু;এ১ ১াব্র ড্রুা ৬এে ১ চুা৬এে ১১১১ ১১ত্র ১১ ত্রওন্
এবং বল, সত্য এসেছে এবং মিথ্যা বিলুপ্ত হয়েছে, মিথ্যা তো বিলুপ্ত হবারই (১ ৭ : ৮১) ৷
তাই অভিশপ্ত ইবলীস ঐ দিন মুসলমানদের জন্যে সাহায্যকারী ফেরেশতাদের দেখতে পেয়ে
পালিয়ে যায় ৷ সে হচ্ছে যুদ্ধক্ষেত্রে থেকে প্রথম পলায়নকারী ৷ অথচ সেই ছিল তাদের সাহস

দানকারী তাদের সহযাত্রী ৷ সে তাদেরকে প্রতিশ্রুতি দেয়, ওয়াদা দেয় ও উপকার করার কথা
বলে ৷ কিন্তু শয়তানের ওয়াদা প্রতারণা ব্যতীত আর কিছুই নয় ৷


পৃষ্ঠা ৪৫৯ ঠিক করুন


ইউনুস (ব) ইবন ইসহাক থেকে বর্ণনা করেন যে, কুরায়শরা ছোট-বড় মিলে মোট নয় শ’
পঞ্চাশজন যোদ্ধ৷ বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে ঘর থেকে বেরিয়ে আসে ৷ তাদের সাথে ছিল
দৃ’শ’ ঘোড়া১ এবং কয়েকজন গায়িকা ৷২ যারা দফ বাজিয়ে পান গাইত এবং মুসলমানদের
বিরুদ্ধে কুৎসামুলক কবিতা আবৃত্তি করতো ৷ এই অভিযানে যে সব কুরায়শ এক এক দিন করে
সকল সৈন্যের খাদ্য সরবরাহ করে, ইবন ইসহড়াক তাদের নাম উল্লেখ করেছেন ৷ উমাবী বলেন
মক্কা থেকে বের হওয়ার পর সর্বপ্রথম আবু জ হল (মিনার ৷ দশটি উট যবাহ্ করে ৷ এরপর
উসফ ন নামক স্থানে পৌছলে উমাইয়৷ ইবন খাল্ফ সৈন্যদের জন্যে নয়টি উট যবাহ্ করে ৷
কুদায়দে পৌছলে সুহায়ল ইবন অড়ামর তাদের জন্যে দশটি ডট যবাহ্ করে ৷ কুদায়দ থেকে

তারা পথ পরিবর্তন করে লোহিত সাগরের দিকে অগ্রসর হয় ৷ সেখানে তারা একদিন অবস্থান
করে ৷ এ সময় শায়বা ইবন রাবীআ নয়টি উট যবাহ্ করে সকলকে আখ্যায়িত করে ৷ এরপর

তারা জুহ্ফায় পৌছে ৷ সেখানে উ৩ তব৷ ইবন রাবীআ দশটি উট যবাহ্ করে ৷ এরপর তারা
আবওয়া পর্যন্ত পৌছে ৷ সেখানে হাজ্জ জ্জাজের দুই পুত্র নাবীহ্ যুনাববিহ্ দশটি উট যবাহ্ করে ৷
আব্বাস ইবন আবদুল মুত্তালিবও যোদ্ধাদের দশটি উট যবাহ করে তাদেরকে আখ্যায়িত
করেন ৷ তাছ৷ ৷ড়া হড়ারিছ ইবন নাওফিল দশটি উট যবাহ্ করে ৷ বদর কুয়োর সন্নিকটে আবুল
বুখতারী দশটি উট যবাহ্ করে ৷ এরপর থেকে তারা প্রতেকে নিজ নিজ খরচে পানাহার করে ৷
উমাবী বলেন, আমার নিকট আমার পিতা বর্ণনা করেন যে, আবু বকর হুযালী বলেছেন , বদর
যুদ্ধে মুশরিকদের কাছে ছিল ষাটটি ঘোড়া ও ছয়শ’ বর্ষ ৷ অপরদিকে রাসুলুল্লাহ্র সাথে ছিল
দুটি ঘোড়া ও ষাটটি বর্ম ৷

এতক্ষণ যাবত কুরায়শ বাহিনীর মক্কা ত্যাগ ও বদর যুদ্ধে গমন সম্পর্কে আলোচনা করা

হল ৷ অপরদিকে রাসুলুল্পাহ্ (সা) এর অভিযা ৷ন সম্পর্কে ইবন ইসহাক বলেন : রমাযান মাসের
কয়েক দিন অতিবহিত হওয়ার পর রাসুলুল্লাহ্ (সা)৩ তার সাহাবাগণকে সাথে নিয়ে অভিযানে
বের হন ৷ ইবন উম্মে মাকতুমকে তিনি লোকদের নামাযের ইমামতীর দায়িত্ব প্রদান করেন ৷
এরপর রাওহ৷ থেকে আবু লুবাবাকে মদীনায় শাসক নিযুক্ত করে ফেরত পাঠান ৷ মুসআব ইবন
উমায়রের হাতে যুদ্ধের পতাকা অর্পণ ৷করেন ৷ এ পতা কা ছিল সাদা রঙের ৷ রাসুলুল্লাহ্র সম্মুখে
ছিল দুটি কাল পতাকা ৷ এর একটি ছিল আলী ইবন আবু৩ তালিবের হাতে ৷ এ পতাকার নাম
ছিল উকাব (ঈগল) ৷ আর অন্যটি ছিল জনৈক আনসার সাহাবীর হাতে ৷ ইবন হিশাম বলেন,
আনসারদের পতাকা ছিল সাআদ ইবন মুআযের হাতে ৷ কিন্তু উমাবী বলেছেন, আনসারদের
পতাকা ছিল হুবাব ইবন ঘুনযিরের হাতে ৩৷ ইবন ইসহাক বলেন রাসুলুল্লাহ্ (সা) তার সেনা-
দলের পশ্চাৎ ভাগের দায়িতু বনু মাযিন ইবন নাজ্জারের কায়স ইবন আবু স৷ স আকে প্রদান
করেন ৷ উমাবী বলেন, মুসলিম বাহিনীতে দু টি মাত্র ঘোড়া ছিল ৷৩ তার একটির আরোহী ছিলেন
মুসআব ইবন উমায়র এবং অপরটিতে আরোহণ ৷করেছিলেন যুবায়র ইবন আওআম (বা) ৷
সেনাবাহিনীর দক্ষিণ বাহুর (মায়মানা) নেতৃত্বে ছিলেন সাআদ ইবন খায়ছামা এবং বাম বাহুর
(মায়সা রা) নেতৃত্বে ছিলেন মিকদাদ ইবন অ ৷সওয়াদ (বা ) ৷



১ ওয়াকিদ্দীর মতে একশ’ অশ্ব ৷

২ ওয়াকিদী বলেন, গায়িকারা হলো সারা আমর ইবন হাশিম ইবন মুত্তালিবের দাসী; উয্যা আসওয়াদ
ইবন মুত্তালিবের দামী; তৃতীয় জন উমাইয়৷ ইবন খালফের দাসী ৷


পৃষ্ঠা ৪৬০ ঠিক করুন


ইমাম আহমদ আবু ইসহাক সুত্রে আলী থেকে বর্ণনা করেন ৷ তিনি বলেন, বদর যুদ্ধে
মিকদাদ ব্যতীত আমাদের মধ্যে আর কোন অশ্বারেড়াহী ছিল না ৷ বায়হাকী ইবন ওয়াহাবের
সুত্রে ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত ৷ হযরত আলী তাকে বলেছেন বদর যুদ্ধে আমাদের
বহিনীতে মাত্র দুটি ঘোড়া ছিল ৷ এর একটি ছিল যুবায়রের এবং অপরটি ছিল মিকদাদ ইবন
আসওয়াদের ৷ উমাবী তায়মী থেকে বর্ণনা করেছেন যে, বদর যুদ্ধে রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর
বাহিনীতে দু’জন অশ্বারােহী ছিলেন ৷ একজন হলেন যুবায়র ইবন আওয়াম ৷ তিনি ছিলেন দক্ষিণ
বাহুতে ৷ আর অপরজন মিকদাদ ইবন আসওয়াদ ৷ তিনি ছিলেন রাম বাহুতে ৷

ইবন ইসহাক বলেন, মুসলিম বাহিনীতে সেদিন সত্তরটি উট ছিল, যাতে তারা পালাত্রুমে
আরোহণ করতেন ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা), আলী ও মারছাদ ইবন আবুল মারছাদ পালাক্রমে একটি
উটে আরোহণ করতেন ৷ হামযা, যায়দ ইবন হারিছা, আবু কাবশা ও আনাসা আর একটিতে
পালাক্রমে আরোহণ করতেন ৷ শেষোক্ত তিন জন ছিলেন রাসুলের মৃক্তদাস ৷ এ হচ্ছে ইবন
ইসহাকের বর্ণনা ৷ কিন্তু ইমাম আহমদ ইবন মাসউদ থেকে ভিহ্ ভাবে বর্ণনা করেন ৷ তিনি
বলেন বদর যুদ্ধে আমরা প্রতি তিনজনে একটি করে উটে আরোহণ করি ৷ আবু লুবাবা ও অ্যালী
ছিলেন, রাসুলের সহযাত্রী ৷ যখন রাসুলের ভাগের উট টানার পালা আসলো, তখন তারা উভয়ে
বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনার পালা আমাদেরকে দিন আমরা হেটে যাচ্ছি ৷ তখন
রাসুলুল্লাহ্ (সা) বললেন, তোমরা দু’জন আমার থেকে অধিক শক্তিশালী নও এবং সওয়াব ও
পুরস্কার লাভের অগ্রোহ তোমাদের চেয়ে আমার কম নয় ৷ ৷; ৷ ১াএ গ্রা ছেঃন্দ্বুা৷ @ ৷ ৷)

ইমাম নড়াসাঈ এ হাদীছ হাসান ইবন সালামা সুত্রে অনুরুপ বর্ণনা করেছেন ৷ লেখক
বলেন, সম্ভবত আবু লুবাবাকে রাওহড়া থেকে ফেরত পাঠান পর্যন্ত তিনি রাসুলের সহ-আরোহী
ছিলেন ৷ আবু লুবাবা চলে যাওয়ার পর তার সহ-আরোহী হন আলী এবং আবু লুবাবার পরিবর্তে
মারছাদ ৷ ইমাম আহমদ আইশা থেকে বর্ণনা করেন, বদর অভিযানে আজরাসে পৌছে
রাসুল (সা) উটের র্কাধের কিছু অংশ চিরে দিতে বলেন ৷ বুখারী ও মুসলিমের শর্ভে হাদীছটি
বর্ণিত ৷ নাসাঈ কাতাদা থেকে অনুরুপ বর্ণনা করেন ৷ হাফিয মিযযী সাঈদ ইবন বিশর ও
হিশাম আবু হুরায়রা থেকে অনুরুপ বর্ণনা করেন ৷ ইমাম বুখারী বলেন, ইয়াহ্ইয়া ইবন
বুকায়র আবদুল্লাহ ইবন বাজার থেকে বর্ণিত ৷ তিনি বলেন, আমি কাআব ইবন মালিককে
বলতে শুনেছি যে, রাসুলুল্লাহ্ (না) যে সব যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন, সেগুলোর মধ্যে তাবুক
অভিযান ব্যতীত অন কোন যুদ্ধ থেকে আমি পিছিয়ে থাকিনি ৷ তবে বদর যুদ্ধেও আমি
অংশগ্রহণ করিনি ৷ কিন্তু বদর যুদ্ধে যারা অংশগ্রহণ করেনি, তাদের কাউকেই আল্লাহ তিরস্কার
করেননি ৷ কারণ, প্রকৃত পক্ষে রাসুলুল্লাহ্ (সা) কুরায়শ কাফিলাকে ধরার উদ্দেশ্যেই কেবল বের
হয়েছিলেন ৷ কিন্তু আকস্মিকভাবে আল্লাহ্ মুসলমানদেরকে তাদের শত্রুর মুকাবিলায় এনে দেন ৷

ইবন ইসহাক বলেন, রাসুলুল্লাহ্ (সা) মদীনা থেকে মক্কার পথে উঠে মদীনায় বাইরের
গিরিপথ দিয়ে অগ্রসর হতে লাগলেন এবং পর্যায়ক্রমে আকীক , যুল-হুলায়ফা, উলাতৃল জায়শ,
তুরবান, মালাল, পামীসুল-হুমাম, সাখীরাতুল-ইয়ামামা, সায়ালা হয়ে ফাজ্বজুর রাওহাতে


পৃষ্ঠা ৪৬১ ঠিক করুন


পৌছেন ৷ সেখান থেকে তিনি শানুকার সমতল পথ ধরে চলতে লাগলেন ৷ তিনি যখন আরকুয
যাৰিয়া নামক স্থানে পৌছেন, তখন এক বেদুঈনের সাথে তার সাক্ষাত হয় ৷ মুসলিম সৈন্যরা
তার নিকট কুরায়শদের পৌজথবর জিজ্ঞেস করে ৷ কিন্তু তার থেকে তারা কােনই তথ্য জানতে
পারলাে না ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা)-কে সালাম করার জন্যে তারা বেদুঈনকে পরামর্শ দেয় ৷ সে অবাক
হয়ে জিজ্ঞেস করে , তোমাদের মাঝে কি আল্লাহর রাসুল (সা) উপস্থিত আছেন ? তারা বললেন :
হী৷ আছেন ৷ এরপর সে রাসুলুল্লাহ্ (সা )-কে সালাম করে বললাে, আপনি যদি রাসুল হয়ে
থাকেন, তা হলে বলুন দেখি, আমার এই উটনীটির গর্ভে কী আছে ? তখন সালামা ইবন সুলামা
ইবন ওয়াক্কা তাকে বললেন, রাসুলুল্লাহ্র নিকট এই কথা জিজ্ঞেস করো না ৷ আমার কাছে
এসো, আমি তোমাকে এ ব্যাপারে বলে দেবাে ৷ তুমি এই উটনীর সাথে সংগম করেছ এবং তার
ফলে এর গর্ভে এখন তোমার ঔরসের একটি উটের বাচ্চা আছে ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) সালামাকে
বললেন, চুপ থাক, এ লােকটিকে তুমি অশ্লীল কথা বলেছো ৷ এই বলে তিনি সালামা থেকে মুখ
ফিরিয়ে নিলেন ৷ এরপর রাসুলুল্লাহ্ (সা) রাওহার সাজাজ নামক কুপের কাছে গিয়ে অবতরণ
করেন ৷ এখানে কিছু সময় কাটাবার পর আবার যাত্রা শুরু করেন ৷ একটা মােড়ের নিকট পৌছে
মক্কার পথ বামে রেখে ডান দিকে নাযিয়ার উপর দিয়ে বদর অভিমুখে তারা চলতে থাকেন ৷
মক্কার নিকটবর্তী এসে রাহ্কান নামক একটি উপত্যকা তিনি আড়াআড়িভাবে অতিক্রম
করেন ৷ এই উপত্যকাটি নাযিয়া ও সাফরা গিরিপথের মাঝখানে অবস্থিত ৷ এরপর তিনি আরও
একটি সংকটময় গিরিপথ অতিক্রম করে সাফরায় পৌছলেন ৷ সেখান থেকে আবু সুফিয়ান সাখর
ইবন হারব ও অন্যদের সংবাদ সংগ্রহের জন্যে বাসৃবাসৃ ইবন আমর জুহানী (বনু সাইদার মিত্র)
ও আদী ইবন আবুয-যাগরা (বনু নাজ্জারের মিত্র) কে বদর এলাকায় পাঠান ৷ কিভু মুসা ইবন
উকবা বলেছেন, রাসুলুল্লাহ্ (সা) মদীনা থেকে যাত্রা করার পুর্বেই এ দু’জনকে পাঠিয়েছিলেন ৷
তারা ফিরে এসে জানালেন যে, কুবায়শরা তাদের বাণিজ্য কাফেলাকে রক্ষা করার জন্যে মক্কা
থেকে যাত্রা শুরু করেছে ৷ মুসা ইবন উকবা এবং ইবন ইসহাক উভয়ের বর্ণনা যদি সঠিক হয়
তবে ধরে নিতে হবে সে, রাসুলুল্লাহ্ (সা) তাদেরকে দু’বার প্রেরণ করেছিলেন ৷

ইবন ইসহাক বলেন, ঐ দু’জনকে পাঠিয়ে দিয়ে রাসুলুল্লাহ্ (সা) রওনা হন ৷ দু’টি পর্বতের
মাঝখানে অবস্থিত সড়াফ্রা নামক জনপদে উপনীত হয়ে তিনি ঐ দু’টি পাহাড়ের নাম জানতে
চান ৷ তাকে জানান হলো যে, একটির নাম মুসলিহ এবং অপরটির নাম মুখরী ৷ এরপর তিনি
পাহাড় দুটির অধিবাসীদের পরিচয় জানতে চান ৷ তাকে জানান হলো, এরা হচ্ছে গিফার
গোত্রের দু’টি শাখা বনু নার ও বনু হারাক ৷ এ নাম দু’টি শুনে রাসুলুল্লাহ্ (সা) বিরক্তি প্রকাশ
করেন এবং নাম দুটিকে অশুভ মনে করে তার মাঝখান দিয়ে অতিক্রম করা শুভ মনে করলেন
না ৷ তাই তিনি ঐ দু’টি পাহাড় ও সাফরা জনপদ বামে রেখে ডান দিকে যাফ্রান নামক
উপত্যকা আড়াআড়িভাবে পাড়ি দিয়ে যাত্রা বিরতি করেন ৷ এখানে পৌছে রাসুলুল্লাহ্ (সা)
ৎবাদ পেলেন যে, কুরায়শরা তাদের বাণিজ্য কাফেলা রক্ষড়ার্থে প্রস্তুতি নিয়ে বেরিয়ে এসেছে ৷
তিনি তার সাথিগণকে এ বিষয়ে অবহিত করেন এবং এখন কী করা উচিত সে সম্পর্কে তাদের
থেকে পরামর্শ আহ্বান করেন ৷ আবু বকর সিদ্দীক (রা) উঠে চমৎকার ভাবে নিজের মতামত





Execution time: 0.11 render + 0.01 s transfer.