Login | Register

আল বিদায়া ওয়ান্নিহায়া - খন্ড ৩

পৃষ্ঠা ৪০৯ ঠিক করুন


হবে বলে আশা করি ৷ ইমাম বুখাবী আবদুর রহমান ইবন আওফ থেকে হাদীছটি মুআল্লাকরুপে
বর্ণনা করেছেন, যা গরীব পর্যায়ের ৷ কারণ, কেবল আনাস সুত্রেই হাদীছটি বর্ণিত ৷ এটাও সম্ভব
যে, তিনি হাদীছটি আবদুর রহমান ইবন আওফ থেকে শুনেছেন ৷

ইমাম আহমদ ইয়ড়াসীদ সুত্রে আনাস (রা) থেকে বর্ণনা করে বলেন মুহাজিররা বললেন,
ইয়া রাসুলাল্লাহ্! আমরা যে সম্প্রদায়ের নিকট আগমন করেছি, তাদের মধ্যে স্বল্প সম্পদ নিয়ে
অধিক সহমর্মিতা জ্ঞাপন করতে এবং বেশী সম্পদ থেকে বেশী ব্যয় করতে (আনসারদের
চাইতে অধিকতর তৎপর অন্য কোন সম্প্রদায়কে) আমরা দেখিনি ৷ তারা তো আমাদেরকে
জীবিকা সম্পর্কে চিন্তামুক্ত করে দিয়েছে এবং উৎপাদনে আমাদেরকে অংশীদার করে নিয়েছে ৷
এমনকি শেষ পর্যন্ত আমাদের আশংকা আগে যে, তারা বুঝি সমস্ত ছওয়াবই নিয়ে যাবে ৷
রাসুলুল্লাহ্ (সা) বললেন, না, যতদিন তোমরা তাদের শুকরিয়া আদায় করবে এবং তাদের জন্য
আল্লাহর নিকট দুআ করতে থাকবে, ততদিন তা হবে না ৷ বৃখারী--মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী
হাদীছটি (মুহাদ্দিছদের পরিভাষায়) সৃলাসী হাদীছ ৷ সিহড়াহ্ সিত্তাহ্র সংকলকদের মধ্যে অন্য
কেউ এই সুত্রে হাদীছটি বর্ণনা করেননি ৷ বিশুদ্ধ হাদীছেব মধ্যে এটা অন্য রাবী থেকেও বর্ণিত
হয়েছে ৷ ইমাম বুখারী হাকাম ইবন নাফি সুত্রে আবু হুরায়রা (রা ) থেকে বর্ণনা করেন ৷ তিনি
বলেছেন, আনসাররা বললেন যে, (হে আল্লাহর রাসুল ৷) আমাদের এবং (ঘুহাজির) ভাইদের
মধ্যে খেজুর বাগান বণ্টন করে দিন ৷ রাসুল (সা) বললেন, না ৷ তখন আনসারগণ বললেন :
তবে তোমরা আমাদের জন্য যথেষ্ট পরিমাণ পরিশ্রম করবে আর আমরা তোমাদেরকে ফলনে
অংশীদার করে নেবাে? মুহাজিরগণ বললেন, ঠিক আছে, আমরা মেনে নিলাম ৷

ইমাম বুখারী এককভাবে হাদীছটি বর্ণনা করেছেন ৷ আবদুর রহমান ইবন যায়দ ইবন
আসলাম বলেন, আনসারগণকে রাসুলুল্লাহ্ (সা ) লক্ষ্য করে বলেন : তোমাদের মুহাজির
ভাইয়েরা তাদের ধন-সম্পদ ও সন্তানাদি রেখে তোমাদের কাছে এসেছে ৷ তখন আনসারগণ
বললেন : আমাদের সম্পদ আমাদের উভয় সম্প্রদায়ের মধ্যে বণ্টন করে দিন ৷ তখন রাসুলুল্লাহ্
(সা) বললেন : এ ছাড়া অন্য কোন পথ নেই? আনসারগণ বললেন : ইয়া রাসুলাল্লাহ্ ! তা কী
হতে পারে : তখন রাসুলুল্লাহ্ (সা) বললেন : তারা এমন এক সম্প্রদায়, যারা কায়িক শ্রম
করতে জানে না; তোমাদেরকে তাদের কাজ করে দিতে হবে এবং ফলন ভাগ করে শেষে ৷ র্তারা
বললেন, হ্যা, তাই হবে ৷ আনসারদের ফযীলত ও বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে যে সব হাদীছ বর্ণিত
হয়েছে : ৷ ’)

-এ আঘাতের ব্যাখ্যা সম্পর্কে আমরা সেসব আলোচনা করেছি ৷

অনুচ্ছেদঃ আবু উমামা আসআদ ইবন যুরারার ইনতিকাল

আসআদ ইবন যুরারা ইবন আদাস ইবন উবায়দ ইবন ছালাবা ইবন গানাম ইবন মালিক
ইবন নাজ্জার আকাবাব বায়আতের রাত্রে বনু নাজ্জার কাওমের ১২ জন নকীবের অন্যতম ৷
আকাবাব তিনটি বায়আতেই তিনি উপস্থিত ছিলেন ৷ আকাবাব দ্বিতীয় বায়আতের রজনীতে এক
উক্তি মতে তিনিই সর্বপ্রথম রাসুলুল্লাহ্ (সা )-এর হাতে বায়আত করেন, আর তখন তিনি ছিলেন


পৃষ্ঠা ৪১০ ঠিক করুন


একজন যুবক ৷ ইভােপুর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে, হাঘৃমুন নড়াবীত’ অঞ্চলে নাকীউল খাঘৃমাত’
নামক স্থানে তিনিই সর্বপ্রথম লোকদেরকে নিয়ে মদীনায় জুমুআর নামায আদায় করেন ৷

মুহাম্মদ ইবন ইসহাক বলেন : মসজিদে নববী নির্মাণকালের মাসগুলােতে আবু উমামা আসআদ

ইবন যুরারা গলায় বা বুকে ব্যথার কারণে ইনতিকাল করেন ৷ ১ ইবন জারীর তার ইতিহাস গ্রন্থে
উল্লেখ করেন, মুহাম্মদ ইবন আবদুল আলা সুত্রে আনাস (বা) থেকে বর্ণিত ৷ তিনি বলেন,

রাসুলুল্লাহ্ (সা) আসআদ ইবন যুরারাকে শাওকা’ ব্যাধিতে লোহা গরম করে দাগান ৷

ইবন ইসহাক আবদুল্লাহ্ ইবন আবু বকর সুত্রে আসআদ ইবন যুরারার উদ্ধৃতি দিয়ে
বলেন, রাসুলুল্পাহ্ (সা) বলেছেন : আবু উমামার মৃত্যু ছিল মদীনায় ইয়ড়াহ্দী এবং আরবের
মুনাফিকদের দৃষ্টিতে অলক্ষুণে মৃত্যু ৷ ইয়াহ্রদী এবং মুনাফিকরা বলতাে (মহাম্মদ সা) নবী হলে
তার সাথী মারা যেতাে না ৷ অথচ আমার নিজেকে এবং আমার কোন সাহাবীকে আল্লাহ্র
পাকড়াও থেকে রক্ষা করার কোন ক্ষমতা আমার নেই ৷ এ বর্ণনার দাবী এই যে, নবী (সা)
মদীনায় আগমনের পর আসআদ ইবন যুরারা সর্বপ্রথম মৃত্যুবরণ করেন ৷ (উসৃদৃল ) পাবাহ গ্রন্থে
আবুল হাসান ইবন আহীর ধারণা করেছেন যে, নবী (না)-এর মদীনায় আগমনের সপ্তম মাস
শাওয়ালে তিনি ইনতিকাল করেন ৷ আর মুহাম্মদ ইবন ইসহাক অড়াসিম ইবন উমর ইবন
কাতাদার উদ্ধৃতি দিয়ে উল্লেখ করেন যে, আসআদ ইবন যুরারার পর বনু নাজ্জারের জন্য
একজন নকীব নির্ধারণের নিমিত্ত তারা রাসুল (না)-এর নিকট আবেদন জানালে রাসুলুল্লাহ্ (সা)
তাদেরকে বলেন : তোমরা হলে আমার মাতৃকৃলের বংশধর ৷ তোমাদের প্রয়োজন আমি দেখবাে
এবং আমি তোমাদের নকীব ৷ তিনি একজনকে বাদ দিয়ে অন্য জনকে বিশেষভাবে নির্দিষ্ট করা
নাপসন্দ করেন ৷ বনু নাজ্জার অন্যদের উপর এ কারণেই শ্রেষ্ঠতু দাবী করতো যে, স্বয়ং
রাসুলুল্লাহ্ (সা) তাদের নকীব ৷ ইবন আহীর বলেন, আসআদ ইবন যুরারা বনু সাইদার নকীব
ছিলেন বলে আবু নুআয়ম এবং ইবন মান্দাহ যে উক্তি করেছেন, এই বর্ণনা দ্বারা তা রদ হয়ে
যায় ৷ আসলে তিনি নকীব ছিলেন বনু নাজ্জারের ৷ তাই ইবন আহীর যা বলেছেন, ঠিকই
বলেছেন ৷ আর ইবন জারীর তাবারী তার ইতিহাস গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, নবী করীম
(সা)এর মদীনায় আগমনের পর মুসলমানদের মধ্যে সর্বপ্রথম ইনতিকাল করেন তার গৃহের
মালিক কুলছুম ইবন হিদম ৷ রাসুলের মদীনায় আগমনের অল্পকাল পরই ইনি ইনতিকাল
করেন ৷ এরপর আসআদ ইবন যুরারার মৃত্যু হয় ৷ রাসুলের আগমনের বছর গলা ব্যথা বা বুকে
ব্যথার কারণে মসজিদে নববীর নির্মাণকালে তার মৃত্যু হয় ৷ আমার মতে, কুলছুম ইবন হিদম

ইবন ইম্রাউল কায়স ইবন হারিছ ইবন যায়দ ইবন উবায়দ ইবন যায়দ ইবন মালিক ইবন
আওফ ইবন আমর ইবন আওফ ইবন মালিক ইবন আওস আল-আনসারী আলআওসী ছিলেন
বনু আমর ইবন আওফের অন্তর্ভুক্ত ৷ তিনি ছিলেন অতিশয় বৃদ্ধ এবং রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর
মদীনায় আগমনের পুর্বেই তিনি ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) মদীনায় আগমন
করে করার অবস্থানকালে রাত্রিবেলা তার বাড়ীতেই অবস্থান করেন ৷ দিনের বেলা সাহাবীদের



১ ওয়াকিদী বলেন, হিজরতের নবম মাসের গোড়ার দিকে শাওয়াল মাসে আসআদ ইবন যুরারা ইনতিকাল
করেন ৷ আর এ ঘটনা বদর যুদ্ধের পুর্বের ৷


পৃষ্ঠা ৪১১ ঠিক করুন


সঙ্গে কথাবার্তা বলতেন সাআদ ইবন রাবী-এর গৃহে ৷ সেখান থেকে বনু নাজ্জারের পল্লীতে
যাওয়ার কথা ইতােপুর্বে উল্লেখ করা হয়েছে ৷ ইবন আহীর বলেন, কথিত আছে যে, রাসুলের
মদীনা আগমনের পর মুসলমানদের মধ্যে সর্বপ্রথম যিনি ইনতিকাল করেন, তিনি ছিলেন কুলছুম
ইবন হিদম ৷ এরপর মৃত্যু হয় আসআদ ইবন যুরারার ৷ ঐতিহাসিক তাবারীও একথা উল্লেখ
করেছেন ৷

অনুচ্ছেদ
হিজরী সনের শাওয়াল মাসে আবদুল্লাহ ইবন যুবায়র (রা)-এর জন্ম প্রসঙ্গে

হিজরতের পর মুহড়াজিরদের মধ্যে জন্মগ্রহণকারী প্রথম সন্তান ছিলেন হযরত আবদুল্লাহ্
ইবন যুবায়র, যেমন আনসারদের মধ্যে জন্মগ্রহণকারী প্রথম সন্তান ছিলেন নুমান ইবন বাশীর ৷
কেউ কেউ ধারণা করেন যে, আবদুল্লাহ্ ইবন যুবায়র হিজরতের ২০ মাস পরে জন্মগ্রহণ
করেন ৷ এটা আবুল আসওয়াদের উক্তি ৷ ঐতিহাসিক ওয়াকিদী মুহাম্মদ ইবন ইয়াহ্ইয়া সুত্রে
তার পিতা এবং পিতামহের উদ্ধৃতি দিয়ে এটি বর্ণনা করেন ৷ একদল ঐতিহাসিক ধারণা করেন
যে, নুমান ইবন বাশীর আবদুল্লাহ ইবন যুবায়র-এর ৬ মাস পুর্বে হিজরতের ১৪ মাসের মাথায়
জন্মগ্রহণ করেছেন ৷ বিশুদ্ধ মত ভাই, যা আমরা ইতোপুর্বে উল্লেখ করেছি ৷

ইমাম বুখারী (র) যাকারিয়ড়া ইবন ইয়াহ্ইয়া সুত্রে আসমা (রা) থেকে বর্ণনা করেন ৷ তিনি
বলেন, আবদৃল্লাহ্ ইবন যুবায়রকে গর্ভে নিয়ে আমি হিজরতের উদ্দেশ্যে বের হই এবং মদীনায়
এসে কুবায় অবস্থান করি এবং এখানেই সন্তানের জন্ম হলে তাকে রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর নিকট
নিয়ে এলে তিনি নবজাত শিশুকে কোলে তুলে নেন এবং খেজুর নিয়ে আসতে বলেন ৷ খেজুর
নিয়ে এসে তিনি তা চিবিয়ে সন্তানের মুখে তুলে দেন ৷ তাই সর্বপ্রথম যে বন্তুটি শিশুর পেটে
যায় তা ছিল রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর পাবিত্র মুখের লালা ৷ এরপর খেজুর চিবিয়ে শিশুর মুখে দেন
এবং এ সময় তিনি শিশুর জন্য বরকতের দুআ করেন ৷ তিনি ছিলেন হিজরতের পর প্রথম
মুসলিম সন্তান ৷

খালিদ ইবন মাখলাদ আসমা থেকে বর্ণনা করেন যে, আসমা (রা) হিজরতকালে অন্তঃসত্ত্বা
ছিলেন ৷ কুতড়ায়বা সুত্রে আইশা (রা) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেছেন, মদীনায় মুসলিম
সমাজে যে শিশু সন্তানটি সর্বপ্রথম জন্মগ্রহণ করে, সে ছিল আবদুল্লাহ্ ইবন যুবায়র ৷ শিশুটিকে
নবী (না)-এর নিকট আনা হলে নবী (সা) খেজুর নিয়ে তা চিবিয়ে শিশুর মুখে তুলে দেন ৷ তাই
প্রথম যে বন্তুটি শিশুর পেটে যায়, তা জ্জি নবী (না)-এর পবিত্র মুখের লালা ৷ এটা ওয়াকিদীর
মতকে খণ্ডন করে ৷ কারণ, তিনি উল্লেখ করেন যে, নবী (সা) আবদুল্লাহ্ ইবন আরীকত-এর
সঙ্গে যায়দ ইবন হারিছা এবং আবু রাফিকে মক্কা প্রেরণ করেন, যাতে তারা রাসুলুল্লাহ্ (সা)
এবং আবু বকর (রা)-এর পরিবার-পরিজনকে নিয়ে আসেন ৷ রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর হিজরতের
পর তারা তাদেরকে নিঃয় আসেন এবং আসমা তখন অন্তঃসত্ত্ব৷ ছিলেন ৷ আসমার সন্তান প্রসব
তখন আসন্ন ছিল ৷ তিনি সন্তান প্রসব করলে নবজাতকের জন্যে উৎফুল্ল হয়ে মুসলমানগণ এক
বিরাট তাক্বীর ধ্বনি তোলেন ৷ কারণ, ইয়াহুদীদের পক্ষ হতে মুসলমানদের নিকট এ খবর



Execution time: 0.02 render + 0.00 s transfer.