Login | Register

আল বিদায়া ওয়ান্নিহায়া - খন্ড ৩

পৃষ্ঠা ৩৭৩ ঠিক করুন


রাসুলুল্লাহ্ (সা) মক্কায় তের বছর অবস্থান করেন ৷ ইংতাপুর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইবন
আব্বাস (রা) সুরমা ইবন আবু আনাস এর কবিতা লিখেছেন :

ব্লেএ এেএ-ট্ট
তিনি কুরায়শের মধ্যে তেরাে বছর অবস্থান করেন ৷ এ সময় তিনি উপদেশ দান করেন,
যদি কোন সহানুভুতিশীল সঙ্গী পাওয়া যায় ! আর ওয়াকিদী ইব্রাহীম ইবন ইসমাঈল সুত্রে ইবন

আব্বাস (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, সুরমার উপরোক্ত কবিতা তিনি প্রমাণ হিসাবে উপস্থাপন
করেন ৷

অনুরুপভাবে ইবন জারীর হারিছ সুত্রে ওয়াকিদী থেকে পনের বছরের কথা উল্লেখ
করেছেন ৷ এ উক্তি নিতাম্ভই গরীৰ্ ৷ আর এর চেয়েও বেশী গরীশ্ব হল ইবন জারীরের উক্তি ৷
রাওহ ইবন উবাদা সুত্রে কাতড়াদা থেকে বর্ণনা করে তিনি বলেন :

রাসুলুল্লাহ্ (সা) এর উপর মক্কায় কুরআন নাযিল হয় আট বছর এবং মদীনায় দশ বছর ৷ এ
শ্যেষাক্ত উক্তির প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন হাসান বসরী ৷ উক্তিটি এই যে, রাসুলুল্লাহ্ (সা)
মক্কায় দশ বছর অবস্থান করেছেন ৷ আনাস ইবন মালিক, হযরত আইশা, সাঈদ ইবন
ঘুসাইয়িব, আমর ইবন দীনার এমত সমর্থন করেন ৷ এ ব্যাপারে ইবন জারীর র্তাদের নিকট
থেকে রিওয়ায়াত উল্লেখ করেন ৷ এটা ইবন আব্বাস থেকেও একটা বর্ণনা ৷ ইমাম আহমদ ইবন
হাম্বল ইয়াহ্ইয়া ইবন সাঈদ সুত্রে ইবন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণনা করেন :

তেতাল্লিশ বছর বয়সে নবী করীম (না)-এর উপর ওহী নাযিল হয় এরপর তিনি মক্কায় দশ
বছর অবস্থান করেন ৷

ইতিপুর্বে আমরা ইমাম শা’বী সুত্রে বর্ণনা করেছি :

হযরত ইসরাফীল (আ) নবী করীম (না)-এর সঙ্গে তিন বছর ছিলেন ৷ তিনি রাসুলুল্লাহ্
(না)-এর নিকট বাণী নিয়ে আসতেন এবং আরো কিছু ৷ অন্য বর্ণনায় আছে :

তিনি ফেরেশতা ইসরাফীলের উপস্থিতি অনুভব করতেন, কিন্তু তাকে দেখতেন না ৷ এরপর
জিবরাঈল (আ) আগমন করেন ৷ ওয়াকিদী তার কোন কোন শড়ায়খ থেকে বর্ণনা করেন যে, উক্ত
শায়খ শাবীর এ উক্তি অস্বীকার করেন ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা ) মক্কায় দশ বছর অবস্থান করেন বলে
যারা বলেছেন, আর তের বছর অবস্থান করেন বলে যারা বলেছেন, ইবন জারীর এ দু’ উক্তির
মধ্যে সামঞ্জস্য বিধানের চেষ্টা করেন ৷ তিনি এ চেষ্টা করেন ইমাম শা’বীর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, যা
তিনি উল্লেখ করেছেন ৷ আসল ব্যাপার আল্লাহ্ই ভাল জানেন ৷

কুবায় অবস্থানের বিবরণ

নবী করীম (সা) সঙ্গীদের সহ মদীনায় প্রবেশ করে কইবনয় বনু আমর ইবন আওফ এর
মহল্লায় অবস্থান করেন ৷ ইতোপুর্বে সে কথা উল্লেখ করা হয়েছে এবং কথিত আছে যে, সেখানে
সর্বোচ্চ ২২ রাত্রি, মতান্তরে ১৮ রাত্রি, আবার কারো কারো মতে ১০ রাত্রির কিছু বেশী অবস্থান


পৃষ্ঠা ৩৭৪ ঠিক করুন


করেন ৷ মুসা ইবন উকবা তিন রাত্রের কথা উল্লেখ করেছেন ৷ তবে প্রসিদ্ধ উক্তি হচ্ছে, যা ইবন
ইসহাক উল্লেখ করেছেন ৷ আর তা হলো, নবী করীম (সা) কুবায় তাদের মধ্যে সোমবার থেকে
বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অবস্থান করেন ৷ এ সময়ের মধ্যে-যার পরিমাণ নিয়ে পুর্বোল্লিখিত
মতদ্বৈধত৷ রয়েছে, তিনি সেখানে মসজিদে কুবায় ভিত্তি স্থাপন করেন ৷ সুহায়লী দাবী করেন যে,
রাসুলুল্লাহ্ (সা) কুবায় আগমনের প্রথম দিলেই এ মসজিদের ভিত্তি স্থাপন করেছেন আর এর
সপক্ষে তিনি আল্লাহ্ তাআলার নিম্নোক্ত বাণী প্রমাণ হিসাবে উল্লেখ করেন :

প্রথম দিনেই যে মসজিদের ভিত্তি স্থাপিত হয়েছে তাক্ওয়ার উপর, অবশ্যই যে মসজিদ

আর (, এ , ৷ ;,ষ্ এর পুর্বে উহ্য ক্রিয়া স্বীকার করে দেয়ার তিনি প্রতিবাদ করেন ৷
মসজিদে কুবায় এক বিশাল মর্যাদাপুর্ণ মসজিদ, যে সম্পর্কে আয়াত নাযিল হয়েছে :

ব্রা১১
“প্রথম দিন থেকেই যে মসজিদের ভিত্তি স্থাপিত হয়েছে তাক্ওয়া তথা আল্লাহর ভরের
উপর, তোমার সালাতের জন্য তা-ই অধিকতর যোগ্য ও হকদার ৷ সেখানে এমন লোক আছে,
যারা পবিত্রতা অর্জন ভালবাসে ৷ আর পবিত্রতা অর্জনকারীকে আল্লাহ ভালবাসেন (৯০ : ১০৮) ৷
এ আঘাতের ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণে তাফসীর গ্রন্থে আমরা বিস্তারিত আলোচনা করেছি আর তা
মদীনার মসজিদ বলে সহীহ্ ঘুসলিমে যে হাদীছ উক্ত হয়েছে, সেখানে আমরা যে হাদীছের
জবাবও উল্লেখ করেছি ৷ আর ইমাম আহমদ হাসান ইবন মুহাম্মদ সুত্রে উওয়ায়ম ইবন সাইদা
থেকে বর্ণিত হাদীছও আমরা উল্লেখ করেছি ৷ যাতে বলা হয়েছে যে, রাসুলুল্লাহ্ (সা) তাদের
মধ্যে মসজিদে কুবায় উপস্থিত হয়ে বলেন :

<তামাদের মসজিদের কিসসা প্রসঙ্গে তোমাদের পবিত্রতা-পরিচ্ছনতড়ার জন্য আল্লাহ
তা আলা তোমাদের ভুয়সী প্রশং যা করেছেন ৷ তবে এটা কি, যদ্দারা তোমরা পবিত্রত৷ অর্জন
কর ? তারা বললেনং : ইয়৷ রাসুলাল্লাহ্৷ আল্লাহর কসম , আমরা কিছুই জানি না ৷ তবে আমাদের
কিছু ইয়াহুদী প্রতিবেশী ছিল, তারা পায়খানার পর মলদ্বার ধুয়ে ফেলভো ৷ তাদের মতো
আমরাও ধুয়ে নিত ৷ম ৷ ইবন খুযায়মা৩ তার সহীহ্ গ্রন্থে হাদীছটি উল্লেখ করেছেন এবং তার অন্য
কিছু প্রমাণও রয়েছে ৷ খুযায়মা ইবন ছাবিত ,মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন সালাম এবং ইবন
আব্বাস (রা) থেকেও হাদীছটি বর্ণিত ৷ আবু দাউদ তিরমিযীও ইবন মাজা ইউনুস ইবন হারিছ
সুত্রে আবু হুরায়রা থেকে এবং৩ তিনি নবী করীম (না) থেকে বর্ণনা করে বলেন :

উপরোক্ত আয়াত টি কুবাবাসীদের সম্পর্কে নাযিল হয় ৷ তিনি বলেন যে তারা পানি দ্বারা
পবিত্রত৷ অডনি করতে তাই তাদের সম্পর্কে আয়াত টি নাযিল হয়েছে ৷ এরপর তিরমিযী
বলেন : এ সুত্রে হাদীছটি গরীব ৷ আমি (গ্রন্থকা র) বলি , এ ইউনুস ইবন হারিছ যঈফ ৷ আল্লাহ্ই
ভাল জানেন ৷


পৃষ্ঠা ৩৭৫ ঠিক করুন


আর র্যারা বলেন যে, এই মসজিদ হল যে মসজিদ, যার ভিত্তি স্থাপিত হয়েছে তাক্ওয়ার
উপর ৷ তাদের মধ্যে আছে আবদুর রাযযাক উরওয়া ইবন যুবায়র থেকে যা বর্ণিত হয়েছে ৷
আলী ইবন আবু তালহা ইবন আব্বাস সুত্রে হাদীছটি বর্ণনা করেছেন ৷ এছাড়া শাবী, হাসান
বসরী, কাতাদা, সাঈদ ইবন জুবায়র, আতিয়া আল-আওফী এবং আবদুর রহমান ইবন যায়দ
ইবন আসলাম প্রমুখ সুত্রেও হাদীছটি বর্ণিত হয়েছে ৷ নবী করীম (সা) পরবভীকািলে মসজিদটি
দেখতে পেতেন এবং সেখানে নামায আদায় করতেন এবং প্রত্যেক শনিবার সেখানে যেতেন ৷
কখনো পায়ে হেটে , আবার কখনো সওয়ার হয়ে ৷ হাদীছ শরীফে আছে :

“বইিবৃনর মসজিদে সালাত আদায় করা উমরার সমতুল্য ৷ হাদীছ শরীফে আরো বর্ণিত
হয়েছে :




জিবরাঈল (আ) মসজিদে কইবনর কিবলার দিক নির্ণয়ের জন্য নবী (না)-কে ইঙ্গিত
করেন ৷ আর এটা ছিল ইসলামের ইতিহাসে মদীনায় নির্মিত প্রথম মসজিদ ৷ বরং ইসলামী
মিল্লাতে সাধারণ মানুষের জন্য নির্মিত প্রথম মসজিদ ছিল এটি ৷ আবু বকর (রা ) তার বাড়ীর
দরজায় যে মসজিদ নির্মাণ করান, সেখানে তিনি ইবাদত করতেন এবং নামায আদায় করতেন,
তা ছিল একান্তই তার নিজের, তা সাধারণের জন্য ছিল না ৷ আল্লাহ্ই ভাল জানেন ৷


রাসুলুল্লাহ্ (সা)-এর আগমনের সুসংবাদ পর্যায়ে হযরত সালমান ফারসীর ইসলামগ্রহণ
সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে ৷ তা এই যে, সালমান ফারসী যখন রাসুলের আগমন সম্পর্কে
শুনতে পেলেন মদীনায়, তখন তিনি রাসুলুল্লাহ্ (সা)এর নিকট গমনকালে তার সঙ্গে কিছু
জিনিস হাতে নিয়ে যান এবং তা রাসুলের সম্মুখে রাখলেন ৷ আর রাসুলুল্লাহ্ (না) তখন কুবড়ায়
অবস্থান করছিলেন ৷ হযরত সালমান ফারসী এটা সাদাকা বললে রাসুলুল্লাহ্ (সা ) হাত গুটিয়ে
নেন ৷ তিনি নিজে খেলেন না, কিন্তু তার নির্দেশে তার সাহাবীরা তা থেকে কিছু আহার
করলেন ৷ পুনরায় তিনি এলেন এবং তার সঙ্গে কিছু একটা জিনিস ছিল ৷ এবার তিনি বললেন,
এটা হাদিয়া ৷ তখন রাসুলুল্লাহ্ (সা) তা থেকে কিছু আহার করলেন এবং সাহাবীগণকে নির্দেশ
দিলে তারাও তা থেকে আহার করলেন ৷ দীর্ঘ হাদীছটি ইতিপুর্বে উল্লিখিত হয়েছে ৷

আবদুল্লাহ ইবন সালাম (রা)-এর ইসলামগ্রহণ
ইমাম আহমদ (র) মুহাম্মদ ইবন জাফর সুত্রে আবদুল্লাহ্ ইবন সালাম থেকে বর্ণনা করেন :
রাসুলুল্লাহ্ (সা) মদীনায় আগমন করলে লোকেরা দ্রুত তার দিকে ছুটে আসে ৷ যারা তার দিকে
ছুটে আসে, তাদের মধ্যে আমিও ছিলাম ৷ আমি তার চেহারা দেখেই চিনতে পারি যে, এটা
কোন মিথ্যাবাদীর চেহারা নয় ৷ আমি সর্বপ্রথম তাকে যে কথাটি বলতে শুনি , তা এই :



Execution time: 0.02 render + 0.00 s transfer.