Login | Register

আল বিদায়া ওয়ান্নিহায়া - খন্ড ৩

পৃষ্ঠা ২৭৬ ঠিক করুন


বললেন হীা, তা বটে ৷ তিনি বললেন, তবে একটু বসবেন কি ? আমি কিছু কথা বলতে চাই ৷
তারা বললেন, ছুৰু৷ , বসতে পারি ৷ র্তারা রাসুলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট বসলেন ৷ তিনি তাদেরকে
আল্লাহর দিকে দাওয়াত দিলেন এবং ইসলামগ্রহণের অনুরোধ জানালেন ৷ তিনি তাদেরকে
কুরআন তিলাওয়াত করে শুনালেন ৷ বর্ণনড়াকারী বলেন, তাদের ইসলামগ্রহণের পরিবেশ আল্লাহ
তাআলা এভাবে তৈরী করলেন যে, তাদের দেশে এক সাথে ইয়াহুদীরা বসবাস করত ৷
ইয়াহুদীরা আসমানী কিতাবধারী এবং জ্ঞান-সমৃদ্ধ লোক ছিল ৷ আর খাযরাজ গোত্রের লোকেরা
ছিল ঘুশব্রিক ও মৃর্তিপুজারী ৷ ইয়াহুদীদের সাথে প্রায়ই মুশরিকদেব যুদ্ধ-বিপ্রহ সংঘটিত হত ৷
দ্বন্দু-সংথ্যাতর সময় ইয়াহ্রদীরা এ বলে ওদেরকে ভয় দেখাত যে, অবিলম্বে একজন নবী প্রেরিত
হবেন ৷ আমরা তার অনুসরণ করব এবং তার সাথী হয়ে তােমাদ্যোৱক হত্যা ও ধ্বংস করব ৷
যেমন ধ্বংস হয়েছিল আদ ও ছামুদ সম্প্রদায় ৷ এ মাত্রায় রাসুলুল্লাহ্ (সা) যখন খাযরাজী
লোকদের সাথে আলাপ করলেন এবং তাদেরকে আল্লাহর দিকে আহ্বান জানালেন, তখন তারা
নিজেরা বলাবলি করলো, হে লোক সকল, তোমরা বুঝতেই পারছধ্ যে, ইনি সেই নবী-
ইয়াহ্রদীরা যার কথা বলে তােমড়াদেরকে ভয় দেখাত ৷ শুনে নাও, ওরা যেন তোমাদের আগে এই
নবীর ঘনিষ্ঠ হতে না পারে ৷ ফলে তারা রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর আহ্বানে সাড়া দিলেন, তার প্রস্তাব
গ্রহণ করলেন, তাকে সতবােদী রুপে মেনে নিলেন এবং ইসলামে দীক্ষিত হলেন ৷ তারা
বললেন, আমরা তো আমাদের কতক লোককে দেশে রেখে এসেছি ৷ আমাদের লোকজনের
মধ্যে পরস্পর যেরুপ শত্রুতা রয়েছে সচরাচর সেরুপ শত্রুতা অন্য সম্প্রদায়ের মধ্যে দেখা যায়
না ৷ আমরা আশা করছি যে, আপনার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা আমাদের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠা
করে দিবেন ৷ আমরা অবিলম্বে তাদের নিকট ফিরে বার এবং আমরা যে দীন গ্রহণ করলাম ওই
দীন গ্রহণের জন্যে আমরা তাদেরকে আহ্বান জানাবাে ৷ আল্লাহ তাআলা ওদেরকেও যদি
আপনার সাথে জোটবদ্ধ করে দেন, তবে আপনার চাইতে শক্তিশালী অন্য কেউ থাকবে না ৷
বস্তুত ঈমান আনয়ন করে এবং সত্য লাভ করে তারা নিজ দেশে ফিরে পেলেন

ইবন ইসহাক বলেন, আমি যতটুকু জানতে পেয়েছি, সে অনুযায়ী ওই দলে ছিলেন ছয় জন
লোক ৷ তারা সকলে খাযরাজ গোত্রের লোক ৷ তারা হলেন( ১ ) আবু উমামা আসআদ ইবন
যুরারাহ ইবন আদ্দাস ইবন উবায়দ ইবন ছালাবা ইবন গানাম ইবন মালিক ইবন নাজ্জার ৷ আবু
নৃআয়ম বলেন, কারো কারো মতে আবু উমামা হলেন খাযরাজ গোত্রের প্রথম ইসলাম প্রহণকারী
আনসাবী ব্যক্তি ৷ আর আওস গোত্রের প্রথম ইসলাম প্রহণকারী ব্যক্তি হচ্ছেন আবুল হায়ছাম
ইবন তায়হান ৷১ মতাম্ভরে আওস গোত্রের প্রথম ইসলাম গ্রহণকারী হলেন রাফি’ ইবন মালিক ও
মুআয ইবন আফরা (রা) ৷ আল্লাহ্ই ভাল জানেন ৷( ২) আওস ইবন হড়ারিছ ইবন রিফাআ ইবন
সাওয়াদ ইবন মালিক ইবন পানাম ইবন মালিক ইবন নাজ্জার ৷ ইনিও আফরার পুত্র ৷ দু’জনই
নাজ্জার গোত্রভুক্ত ৷ (৩) রাফি’ ইবন মালিক ইবন আজলান ইবন আমর ইবন যুরায়ক যুরাকী ৷
(৪ ) কুতরা ইবন আমির ইবন হাদীদা ইবন আমর ইবন গনোম ইবন সাওয়াদ ইবন পানাম ইবন
কাআব ইবন সালামা ইবন সাআদ ইবন আলী ইবন আসাদ ইবন সারিদা২ ইবন তাযীদ ইবন



১ মুল আরবী গ্রন্থে এখানে তাহ্য়ান মুদ্রিত রয়েছে ;
২ মুল কিভাবে রয়েছে সাওয়াহ ইবন যায়দ ৷ সেটি ভুল ৷ সীরাতে ইবন হিশামে আছে সারিদা ইবন ইয়াষীদ ৷


পৃষ্ঠা ২৭৭ ঠিক করুন


জাশাম ইবন খাযরাজ সুলামী সাওয়াদী ৷ (৫) উকবা ইবন আমির ইবন নাবী ইবন যায়দ ইবন
হারাম ইবন কাআব ইবন সালামা সুলামী আল হারামী ৷ (৬) জাবির ইবন আবদুল্লাহ ইবন
রিআব ইবন নু’মান ইবন সিনান ইবন উবায়দ ইবন আদী ইবন গানড়াম ইবন কাআব ইবন
সালামা সুলামী উবায়দী ৷ র্তাদের সকলের প্রতি আল্লাহ সন্তুষ্ট হোন ৷ ইমাম শাবী ও যুহরী প্রমুখ
এরুপ বলেছেন যে, ওই রাতে ইসলাম গ্রহণকারী ছয়জনই খাযরাজ গোত্রের লোক ছিলেন ৷

মুসা ইবন উকবা যুহরী ও উরওয়া ইবন যুবায়র সুত্রে উল্লেখ করেছেন যে রাসুলুল্লাহ্
(না)-এর সাথে প্রথম সাক্ষাতের সময় তারা ছিলেন ৮জন ৷ ( ১ ) মৃআয ইবন আফরা (২)
আসআদ ইবন যুরারা (৩ ) রাফি’ ইবন মালিক (৪) যাকওয়ান ইবন আবদ কায়স (৫ ) উবাদা
ইবন সামিত (৬) আবু আবদুর রহমান ইয়াযীদ ইবন ছালাবা ( ৭) অবু হায়ছাম ইবন তায়হান ৷
(৮) উওয়ায়ম ইবন সাইদা (রা) ৷ র্তারা ওই মজলিসে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন এবং পরের
বছর পুনরায় আগমনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ৷ এরপর তারা তাদের সম্প্রদায়ের নিকট ফিরে
গেলেন এবং ওদেরকে ইসলামের দিকে আহ্বান জানালেন ৷ মুআব ইবন আফরা ও রাফি ইবন
মালিককে তারা এ মর্মে রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর নিকট পাঠালেন যে, আমাদের নিকট একজন
শিক্ষক প্রেরণ করুন যিনি আমাদেরকে দীন শিক্ষা দিবেন ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) মুসআব ইবন
উমায়র (রা)-কে পাঠালেন ৷ তিনি আসআদ ইবন যুরারা (রা)-এর বাড়িতে গিয়ে উঠলেন ৷
অবশিষ্ট ঘটনা তাই, যা মুসা ইবন উকবা সুত্রে ইবন ইসহড়াক অবিলম্বে বর্ণনা করবেন ৷ আল্লাহ্ই
ভাল জানেন ৷

ইবন ইসহাক বলেন র্তারা মদীনায় নিজ সম্প্রদায়ের নিকট এলেন ৷ তাদের নিকট
রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর কথা আলোচনা করলেন এবং তাদেরকে ইসলামের দাওয়াত দিলেন ৷ ফলে
মদীনায় ব্যাপক ভাবে ইসলাম প্রচারিত হল ৷ কোন বাড়ি-ই রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর আলোচনা
থেকে খালি ছিল না ৷ পরবর্তী বছর হব্লুজ্জর মওসুমে ১২ জন আনসারী লোক রাসুলুল্লাহ্
(না)-এর নিকট উপস্থিত হন ৷ তারা হলেন (১) পুর্বোল্লিখিত আবু উমামা আসআদ ইবন
যুরারাহ, (২) পুর্বোক্ত আওফ ইবন হারিছ, (৩) তার ভাই মুআয, র্তারা দু’জনে আফরার পুত্র,
(৪ ) পুর্বোক্ত রাফি’ ইবন মালিক, (৫) যাকওয়ান ইবন আবদুল কায়স ইবন খালদা ইবন
মাখলাদ ইবন আমির ইবন যুরায়ক যুরাকী ৷ ইবন হিশাম বলেন, ইনি একই সাথে আনসারী
এবং মুহাজির , (৬) উবাদা ইবন সামিত ইবন কড়ায়স ইবন আসরাম ইবন ফিহ্র ইবন ছা’লাবা
ইবন পানাম ইবন আওফ ইবন আমর ইবন আওফ ইবন থায়বাজ, (৭) র্তাদের মিত্র আবু
আবদুর রহমান ইয়াযীদ ইবন ছা’লাবা ইবন খাযামা ইবন আসরাম আল বালাভী, (৮ ) আব্বাস
ইবন উবাদা ইবন নাযলা ইবন মালিক ইবন আজলান ইবন ইয়াযীদ ইবন গানাম ইবন সালিম
ইবন আওফ ইবন আমর ইবন আওফ ইবন খাযরাজ আজলানী ৷ (৯) উকবা ইবন আমির ইবন
নাবী পুর্বোল্লিখিত ৷ (১০) কুতবা ইবন আমির ইবন হাদীদা পুর্বোল্লিখিত ৷ এই দশজন ছিলেন
খাযরাজ ৫গাংত্রর ৷ আওস গোত্রের ছিলেন দুজন ৷ তারা হলেন ( ১ ) উওয়াইম ইবন সাইদা এবং



১ মুল কিভাবে রয়েছে সাওয়াহ ইবন যায়দ ৷ সেটি ভুল ৷ সীরাতে ইবন হিশামে আছে সারিদা ইবন ইয়াযীদ :


পৃষ্ঠা ২৭৮ ঠিক করুন


(২) আবুল হায়ছাম মালিক ইবন তায়হান ৷ ইবন হিশাম বলেন, তায়হান এবং তাখ্যিহান
দু’ভাবেই পাঠ করা যায় যেমন মায়তুন ও মাব্যিতুন

সুহায়লী বলেন, আবুল হায়ছাম ইবন তায়হানের নাম হল মালিক ইবন মালিক ইবন
আভীক ইবন আমর ইবন আব্দুল আলাম ইবন আমির ইবন যাউন ইবন জাশাম ইবন হারিছ
ইবন খাযরাজ ইবন আমর ইবন মালিক ইবন আওস ৷ তিনি বলেন কারো মতে তিনি ইরাশী
আবার কারো মতে তিনি বালাভী ৷ ইবন ইসহাক এবং ইবন হিশাম কেউই ওই ব্যক্তির বংশ
তালিকা উল্লেখ করেননি ৷ সুহায়লী বলেন, হায়ছাম শব্দের অর্থ ছোট্ট ঈগলছানা এবং এক
প্রকারের ঘাস ৷

মােদ্দাকথা, এই বারজন লোক ওই বছর হভ্রুজ্জর মওসুমে মক্কায় উপস্থিত হয়েছিলেন ৷ র্তারা
রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর সাথে সাক্ষাত করার জন্যে সিদ্ধান্ত (নন ৷ অনম্ভর আকাবা নামক স্থানে
র্তারা রাসুলুল্পাহ্ (সা )-এর সাথে সাক্ষাত করেন এবং তার হাতে বায়আত করেন ৷ এই বায়আত
ছিল মহিলাদের বায়আত গ্রহণ সম্পর্কে নাযিল হওয়া আয়াতের নিমমানুসারে ৷ এই বায়আত
“আকাবার প্রথম শপথ” নামে পরিচিত ৷

আবু নৃআয়ম বলেন, এ প্রসংগে রাসুলুল্লাহ্ (সা) সুরা ইব্রাহীম-এর এ আয়াত তাদের
সম্মুখে পাঠ করলেন :

“যখন ইব্রাহীম বলল, হে আমার প্ৰতিপালক৷ এ শহরকে শান্তিময় করে দিন এবং
আমাকে ও আমার সন্তান--সন্ততিদেরকে মুর্তিপুজা থেকে দুরে রাখুন ৷ সুরা ইব্রাহীম : ৩৫ ৷

ইবন ইসহাক বলেন, ইয়াযীদ ইবন আবু হাবীব উবাদা ইবন সামিত (রা) সুত্রে
বর্ণিত ৷ তিনি বলেন, আমি আকাবায়ে উলা বা আকাবার প্রথম শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলাম ৷
আমরা ছিলাম বারজন ৷ মহিলাদের অঙ্গীকার গ্রহণের জন্যে আল্লাহ্ তাআলা যে বিষয়গুলো
নির্ধারিত করে দিয়েছেন আমরা সেই বিষয়গুলোর অঙ্গীকার করেছি বায়আত করেছি ৷ এটি
ছিল যুদ্ধ ও জিহাদ ফরয হওয়ার পুর্বের ঘটনা ৷ আমরা বায়আত করেছি যে, আল্লাহ্র সাথে
কাউকে শরীক করব না, চুরি করব না, যেনা করব না, সন্তান হত্যা করব না, অপবাদ রটনা
করব না এবং সৎকর্মে রাসুলুল্লাহ্ (সা ) এর অবাধ্য হব না ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা ) বলেছেন, তোমরা
যদি অঙ্গীকার পালন কর , তবে জান্নাত পাবে ৷ আর যদি এর কােনটিতে সত্য গোপন কর, তবে
তোমাদের ফায়সালা আল্লাহ্র হাতে ৷ তিনি চাইলে শাস্তি দিবেন , চাইলে ক্ষমা করবেন ৷ ইমাম
বুখারী ও মুসলিম (র) এই হাদীছ এভাবে বর্ণনা করেছেন লায়ছ ইবন সাআদ সুত্রে ইয়াযীদ
ইবন আবু হাবীব থেকে ৷

ইবন ইসহাক বলেন ইবন শিহাব যুহরী উবদো ইবন সামিত সুত্রে বলেছেন, আকাবার
প্রথম শপথের রাতে আমরা রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর হাতে বায়আত করেছি যেৰু আমরা আল্লাহর


পৃষ্ঠা ২৭৯ ঠিক করুন


সাথে কাউকে শরীক করবো না,চুরি করবো না, যেনা করবো না সন্তান হত্যা করবো না
অপবাদ রটাবাে না এবং সৎকর্মে তার অবাধ্য হবো না ৷ তিনি বলেছেন, তোমরা যদি এগুলো
পরিপুর্ণভাবে পালন কর, তবে তোমাদের জন্যে রয়েছে জ ন্নাত ৷ আর এর কে নটি অমান্য
করলে যদি দুনিয়াতে তার শাস্তি ভোগ করে থাক, তবে তা হবে তার কাফ্ফারা স্বরুপ ৷ আর
যদি কিয়ামত দিবস পর্যন্ত তা গোপন রয়ে যায়, তবে তার ফায়সালা আল্লাহ্র হাতে, তিনি
চাইলে শান্তি দেবেন চাইলে ক্ষমা করবেন ৷ সহীহ্ বুখারী ও সহীহ্ মুসলিমসহ অন্যান্য হাদীছ
গ্রন্থে এহাদীছ যুহরী থেকে এরুপ বর্ণিত হয়েছে ৷

হাদীছে ৷৷ ৷ া; (মহিলাদের বায়আত প্রসঙ্গে) দ্বারা এ কথা বুঝানো হয়েছে
যে, আকড়াবার শপথের পরে হুদায়বিয়ার বছরে মহিলাদের বায়আত নেয়ার যে বিধান আল্লাহ
তা আলা রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর প্রতি নাযিল করেছেন আকাবার শপথ সে অনুযায়ী অনুষ্ঠিত
হয়েছিল ৷ ৰন্তুত আকাবার শপথের নিয়ম ও বিষয় অনুযায়ী পরে মহিলাদের বায়আতের নিয়ম
বিষয়ক বিধান নাযিল হয়েছে ৷ পুর্বে অনুষ্ঠিত বায়আতের বিষয় অনুযায়ী পরে কুরআনের আয়াত
নাযিল হওয়া আশ্চর্যের কিছু নয় ৷ কা ৷রণ, একাধিকবার হযরত ৩উমর (বা ) এর আগ্রহের সপক্ষে
কুরআন নাযিল হয়েছে ৷ হযরত উমর (রা) এর জীবনী গ্রন্থ এবং কুরআনের৩ তাফসীর গ্রন্থে
আমরা তা আলোচনা করেছি ৷ বন্তুত ৩আকাবার আলোচ্য বায়অড়াত ওহী পাইর মাত তলু (অপঠিত
ওহী) এর মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয়েছে ৷ আ ৷ল্লাহ্ই ভাল জানেন ৷

ইবন ইসহাক বলেন রাসুলুল্লাহ্ (সা) এর সাথে সাক্ষাত শেষে লোকজন যখন মদীনায় ফিরে
যায়, তখন তিনি তাদের সাথে মুসআব ইবন উমায়র ইবন হাশিম ইবন আবদ মানাফ ইবন

আবদুদ্দার ইবন কুস ই কে পাঠান ৷ ওদেরকে কুরআন পড়ানো, ইসলাম শিক্ষা দেয়৷ এবং
দীনের জ্ঞান শিক্ষা দেয়ার জন্যে তিনি তাকে নির্দেশ দেন ৷ বায়হাকী (র) ইবন ইসহাক থেকে
বর্ণনা করেছেন তিনি বলেছেন যে, আসিম ইবন উমর ইবন কাতাদ৷ ৷আমার নিকট বর্ণনা
করেছেন যে, মদীনাবাসিগণ একজন প্রশিক্ষক পাঠানোর জন্যে রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর নিকট চিঠি
দেয়ার পর তিনি মুসআব ইবন উমায়র (রা)-কে,পাঠান ৷ মুসা ইবন উকবাও সেরুপ বর্ণনা
করেছেন, যেমনটি ইতোপুর্বে আলোচিত হয়েছে ৷ অবশ্য তিনি দ্বিতীয় বার প্রেরণকে প্রথম বার
প্রেরণ বলে উল্লেখ করেছেন ৷ বায়হাকী বলেন, ইবন ইসহাকের সনদ পুর্ণাঙ্গ ৷ ইবন ইসহাক
বলেন, আবদুল্লাহ ইবন অড়াবুবকর (রা ) বলতে ন, আকাবার প্রথম শপথ কি, তা আ ৷মি জানি না ৷
এরপর ইবন ইসহাক বলেন, হ্যা, আমি শপথ করে বলতে পারি, আকাবার শপথ একাধিকবার
অনুষ্ঠিত হয়েছিল ৷ সকল বর্ণনাকারী বলেন, এরপর মুসআর ইবন উমায়র গিয়ে উঠেন আসআদ
ইবন যুরড়ারাহ-এর নিকট ৷ মদীনায় তিনি মুক্রী (প্রশিক্ষক) নামে পরিচিত ছিলেন ৷ ইবন
ইসহাক বলেন, আসিম ইবন উমর ইবন কাতাদ৷ আমাকে জানিয়েছেন যে, মুসআব ইবন
উমায়র নামাযে তাদের ইমামতি করতেন ৷ কারণ, আসে এবং খাযরড়াজ গোত্র চাইভাে না যে,
তাদের এক গোত্রের লোক অন্য গোত্রের ইমামতি করুক ৷ মহান আল্লাহ্ তাদের সকলের প্রতি
সন্তুষ্ট হোন ৷


পৃষ্ঠা ২৮০ ঠিক করুন


ইবন ইসহাক বলেন, মুহাম্মদ ইবন আবু উমামা আবদুর রহমান ইবন কাআব ইবন
মালিক ববুলন, আমার পিতার দৃষ্টিশক্তি হারানাের পর আমি তাকে নিয়ে জুমুআয় যেতাম ৷
জুমুআর জামাআবুত উপস্থিত হলে তিনি যখন আযান শুনতেন, তখন আবু উমামা আসআদ
ইবন যুরারার জবুন্য দু আ করতেন ৷ বহু সময় তার এভাবে কেটে ছে যে, জুমুআর আযান
শুনবুলই তিনি আবু উমামার জবুন্য দুআ ও ক্ষমা প্রার্থনা করতেন ৷ আমি মনে মনে বললাম এর
কারণট৷ কি আমি তাকে জিজ্ঞেস করতে পারি না ? একদিন আমি বললাম, আব্বাজান! আপনি
জুমুআর আযান শুনবুল আবু উমামার জবুন্য দু আ করেন, তার কারণট৷ কি? উত্তরে তিনি
বললেন, বৎস ৷ তিনি মদীনায় সর্বপ্রথম আমাদেরকে নিয়ে জুমৃআর নামায আদায় করেছেন ৷ বনু
বিয়াদাহ গোত্রের পাথুরে অঞ্চল হাযযুন নাবীত নামক পাহাড়ে তিনি আমাদেরকে নিয়ে জুমআ
আদায় করেছেন ৷ ওই স্থানটিবুক১ “বাকী আল-খাদামাত” বল হয় ৷ আমি জিজ্ঞেস করলাম,
তখন আপনারা কতজন ছিলেন ? তিনি বললেন : :জন ছিলাম ৷ ইমাম আবু দ উদ এবং ইবন
মাজাহ (র) মুহাম্মদ ইবন ইসহাক থেকে উক্ত হাদীছ বর্ণনা করেছেন ৷ ইমাম দারাকুতনী (র)
হযরত ইবন আব্বাস (রা) থেকে বনাি করেছেন যে , রাসুলুল্লাহ্ (সা) জুমুআ আদায়ের নির্দেশ
দিয়ে মুসআব ইবন উমায়রকে (রা) চিঠি লিখেছিলেন ৷ অবশ্য এই হাদীছটি একক ভাবে
বর্ণিত ৷ আল্পাহ্ই ভাল জানেন ৷

ইবন ইসহাক ববুলন উবায়দুল্লাহ্ ইবন মুগীরা ইবন মুআয়কীব ও আবদুল্লাহ ইবন আবু
বকর ইবন মুহাম্মদ ইবন আমর ইবন হাযম বলেছেন আসআদ ইবন যুরারা (রা) )মুসআব ইবন
উমায়র (রা)-বুক সাথে নিয়ে বনু আবদুল আশহাল এবং বনী যুফার গোত্রের উদ্দেশ্যে যাত্রা
করলেন ৷ সাআদ ইবন মৃআয (রা) ছিলেন আসআদ ইবন যুরারা (রা)-এর খালড়াত ভাই ৷ তারা
দু’জবুন বনু যুফার গোত্রের প্রাচীরঘের৷ এক বাগানের মধ্যে মারাক নামের কুবুয়ার নিকট গিয়ে
বললেন ৷ ইসলাম গ্রহণকারী লোকজন ওখানে গিয়ে তাদের নিকট জমায়েত হয়েছিলেন ৷
সাআদ ইবন যুআয এবং উসায়দ ইবন হুযায়র তখন তাদের সম্প্রদায় আবদুল আশহাল গোত্রের
নেতা ৷ছিবুলন দু জবুনই তখন মুশরিক ছিলেন ৷ তাদের আগমন স বাদ শুনে সাআদ উসায়দকে
বললেন, আমাদের এলাকায় আদমনকারী ওই লোক দু জবুনর নিকট যাও তো! তার৷ এসেছে
আমাদের দুর্বল লোকদেরকে বোকা বানানোর জন্যে ৷ তুমি তাদেরকে ধমক দিয়ে দিবে এবং
আমাদের এলাকায় আসতে ধারণ করে দেবুব ৷ আসআদ ইবন যুরারা আমার খালাত৩ ই না
হলে আমি নিজেই তা করতাম, তোমাকে বলতাম না ৷ সে তো আমার খা ৷লাত ভাই ৷ আমি তার
উপর মাতব্বরী করতে পারি না ৷ উসায়দ ইবন হুযায়রত তার বর্শ৷ ৷হাতে ৩তুবুল নিলেন এবং ওই
দুজনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করলেন ৷ত ৷তবুক বুদবুখ আসআদ ইবন যুরারা ঘুসআব (র) বুক বলবুলন
ইনি তার সম্প্রদায়ের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি ৷ তিনি আপনার নিকট এসেছেন, আল্লাহর সত ব্র পরিচয়
আপনি তার নিকট বর্ণনা করুন ৷ মুসআব (রা) বলবুলন তিনি বসলে আমি তার সাথে
কথা বলব ৷২ পালমন্দ করতে করতে উসায়দ ৩াপের নিকট র্দা৬াণেন এবং বল বুলন , আমাদের





১ সীরাবুত ইবন হিশাবুম আছে নাকী আল খাদামাত ৷
গালি-গালাজকারী ৷


পৃষ্ঠা ২৮১ ঠিক করুন


দুর্বল লোকদেরকে বোকা বানানোর জন্যেই কি তোমরা দু’জন এসেছ ? প্রাণে বাচতে চাইলে
তাড়াতাড়ি আমাদের এলাকা ছেড়ে যাও ৷ রর্ণনাকারী মুসা ইবন উকবা বলেন , এরপর আসআদ
ইবন যুরারাহকে বলল, আমাদের দুর্বল লোকদেরকে বোকা বানানোর জন্যে এবং বাতিলের
দিকে ডেকে নেয়ার জন্যে তুমি এই সমাজচ্যুত ৩পরদেশী লোকটিকে নিয়ে কেন এসেছো ?

জবাবে মুসআব (বা) বললেন, আপনি কি একটু বলবেন এবং আমার কথা শুনবেন ?
বিষয়টি আপনার পসন্দ হলে আপনি গ্রহণ করবেন, অনথােয় আপনি তা থেকে নিজেকে দুরে
রাখবেন ৷ উসায়দ বললেন ঠিক আছে তুমি ইনসাফের কথ বলেছে৷ ৷ এবার তিনি আপন
বর্শাটি মাটিতে গেড়ে দাড় করিয়ে তাদের দু’ জনের নিকট বসে পড়লেন ৷ এবার মুসআব (বা)
তার নিকট ইসলামের দাওয়াত পেশ করলেন এবং কুরআন প্ ন্যে করলেন ৷ তারা দু জনে
বললেন আল্লাহর কলম, ইসলাম সম্পর্কে তার নমনীয় মনে ৷ভাব ব ভ করার পুর্বেই আমরা তার
চোখে মুখে ইসলামের প্রতিচ্ছবি দেখতে পেলাম ৷ তিনি বললেন কত ই না সুন্দর, কত ই না
ভাল এটি ! এই দীনে প্রবেশ করার জন্যে কী করতে হয় ? ত ৰা বললেন, ইসলাম গ্রহণ করতে
হলে আপনি গোসল করবেন, পবিত্র হবেন, আপনার জামা-কাপড় পাক করবেন এবং তারপর
কালেমায়ে শাহাদত উচ্চারণ করবেন এবং নামায আদায় করবেন ৷ তাদের কথা মত উসায়দ
ইবন হুযায়র উঠে দাড়ালেন, গোসল করলেন তার পরনের জামা-কাপড় পাক করলেন,
কালেমা শাহাদত উচ্চারণ করলেন, তারপর দ,ট্রু রাকআত নামায আদায় করলেন ৷ তারপর তিনি
ওই দু’জনকে বললেন, আমার পেছনে একজন লোক আছে সে যদি আপনাদের অনুসরণ করে,
তবে তার সম্প্রদায়ের কেউই আপনাদের অনুসরণ করা ব্যতীত থাকবে না ৷ অবিলম্বে তাকে
আমি আপনাদের নিকট পাঠাচ্ছি ৷ তিনি হলেন সাআদ ইবন মুআয ৷ উসায়দ ইবন হুযায়র তার
বর্শা হাতে সাআদ ইবন মুআয ও নিজ সম্প্রদায়ের লোকজনের নিকট ফিরে গেলেন ৷ তারা
সবাই মজলিসে বসা ছিলেন ৷ তাকে আসতে দেখে সাআদ ইবন মুআয তার দিকে তাকিয়ে
বললেন, আল্লাহ্র কসম, উসায়দ যে চেহারা নিয়ে তোমাদের নিকট থেকে গিয়েছিল এখন অন্য
চেহারা নিয়ে ফিরে এসেছে ৷ মজলিসে উপস্থিত হওয়ার পর সাআদ ইবন মুআয হযরত উসায়দ
(রা)-কে লক্ষ্য করে বললেন, কী সংবাদ ? তিনি বললেন, আমি ওই দু’জন লোকের সাথে কথা
বলেছি ৷ আল্লাহর কসম, আমি তাদের মাধ্য দুষণীয় কিছু দেখিনি ৷ আমি ওদেরকে ওই কাজে
বারণ করেছি ৷ তারা বলল , ঠিক আছে আপনি যা ভাল মনে করেন, আমরা তাই করব ৷ তবে
আমি জানতে পেয়েছি যে, বনু হারিছ৷ গোত্রের লোকজন আসআদ ইবন যুরারাহকে হত্যা করার
জন্যে পথে নেমেছে ৷ আর তার কারণ হল তারা জানতে পেয়েছে যে, সে তোমার খালাত ভাই ৷
তাকে হত্যার মাধ্যমে তারা তোমাকে অপমানিত করতে চায় বনু হারিছ৷ গোত্র সম্পর্কে এই
সংবাদ শুনে রাগে-ক্ষোভে অগ্নিশর্ম৷ হয়ে সাআদ ইবন মুআয বেরিয়ে পড়লেন ৷ তার হাতে ছিল
বর্শা ৷ তিনি বললেন, আল্লাহর কসম, তুমি আমার কোন উপকার করতে পেরেছ বলে আমি মনে
করি না ৷ স আদ আসআদ ইবন যুরারাহ্ ও মুসআব ইবন উমায়র (রা) এর উদ্দেশ্যে রওনা
হলেন ৷ সেখানে পৌছে তাদেরকে শান্ত ও নিরুদ্বেগ দেখে তিনি বুঝতে ৩পারলেন যে, ওই
দু’ জনের কথা শোনার জন্যে উসায়দ (বা) এমন স বাদ দিয়েছেন ৷ পালমন্দ ও বকাঝকা
করতে করতে তিনি তাদের সম্মুখে দাড়ালেনঃ ৷ তারপর আসআদ ইবন যুরারাহ্ (রা)-কে লক্ষ্য

ঘ্নেম্রা৪গাে০০০া৷া
৩৬ —

পৃষ্ঠা ২৮২ ঠিক করুন


করে বললেন, আল্লাহর কসম হে আবু উমামাহ্! আল্লাহর কসম, আমার আর তোমার মাঝে যে
আত্মীয়ত৷ তা যদি না থাকত, তবে তুমি আমার থেকে যা আশা করছ তা করতে পারতে না ৷
আমরা যা ঘৃণা করি তা প্রচার করার জন্যে তুমি আমাদের এলাকায় এসেছ ? আসআদ ইবন
যুরারাহ্ (রা) মুসআব ইবন উমায়র (রা)-কে বললেন, আল্লাহর কসম, ইনি আপনার নিকট
এসেছেন, ইনি তার কওমের নেতা ৷ তার পেছনে তার পুরো সম্প্রদায় রয়েছে ৷ ইনি যদি
আপনার অনুসরণ করেন, তবে তার সম্প্রদায়ের মধ্যে এমন দু’জন ল্যেকও থাকবে না, যারা
আপনার বিরোধিতা করবে ৷ বরং সকলেই আপনার অনুসরণ করবে ৷

সাআদ ইবন মুআয়ের উদ্দেশ্যে মুসআব (রা) বললেন, আপনি একটু বসুন, আমার বক্তব্য
শুনুন, আপনার ভাল লাগলে গ্রহণ করবেন নতুবা আপনার অপসন্দের বিষয় আমরা আপনার
থেকে সরিয়ে রাখব ৷ সাআদ বললেন, আপনি ন্যায্য কথা বলেছেন ৷ এরপর মাটিতে বর্শাটি
পেড়ে দীড় করিয়ে তিনি বসে পড়েন ৷ হযরত মুসআব (বা) তার নিকট ইসলাম গ্রহণের প্রস্তাব
পেশ করেন এবং কুরআন পাঠ করে শুনান ৷ মুসা ইবন উক্বা উৱক্রক্ট্রাখ করেছেন যে, তার নিকট
সুরা যুখৃরুফ-এর প্রথম দিকের আয়াত পাঠ করা হয়েছিল ৷ তারা বলেন, ইসলাম গ্রহণে তার
নমনীয় মনোভাব ব্যক্ত করার পুর্বেই আমরা তার চেহারায় ইসলামের প্ৰতিচ্ছবি দেখতে পাই ৷
তারপর তিনি বললেন, আপনারা যখন ইসলাম গ্রহণ করেন এবং দীনে প্রবেশ করেন, তখন কী
করেন ? তারা দুজনে বললেন, তাহলে আপনাকে গোসল করতে হবে, পবিত্রতড়া অর্জন করতে
হবে, কাপড় দুটো পাক করে নিতে হবে এবং সত্য সাক্ষোর ঘোষণা দিতে হবে ৷ তারপর দু’
রাকআত নামায আদায় করতে হবে ৷ সাআদ উঠে দীড়ালেন ৷ গোসল করলেন ৷ জামা কাপড়
পাক করলেন, কালেমা শাহাদত উচ্চারণ করলেন এবং দু’রাকআত নামায আদায় করলেন ৷
তারপর বর্শা হাতে তার সম্প্রদায়ের লোকজনের নিকট ফিরে গেলেন ৷ উসায়দ ইবন হুযায়র
(বা) তার সাথে ছিলেন ৷ র্তাকে এগিয়ে আসতে দেখে তার সম্প্রদায়ের লোকজন বলল, সাআদ
যে চেহারা নিয়ে তোমাদের কাছ থেকে গিয়েছিলেন এখন ভিন্ন চেহারা নিয়ে ফিরে এসেছেন ৷
তাদের নিকট এসে সাআদ (রা) বললেন, হে বনু আবৃদ আশহাল গোত্র, তোমাদের মধ্যে
আমার অবস্থান ও গুরুতৃ কেমন বলে মনে কর ? তারা বলল, আপনি তো আমাদের নেতা,
সর্বাধিক বিচক্ষণ ও সর্বোত্তম পরিচালক ৷ তিনি বললেন, তোমরা যতক্ষণ আল্লাহর প্রতি এবং
তার রাসুলেব প্রতি ঈমান না আসবে, ততক্ষণ তোমাদের নারী-পুরুষ সকলের সাথে আমার
কথা বলা হারাম ৷ বর্ণনাকারী বলেন, এরপর সন্ধ্য৷ নাগাদ বনু আশহাল গোত্রের সকল পুরুষ ও
মহিলা ইসলাম গ্রহণ করে ৷ সাআদ (রা) ও মুসআব (রা) ফিরে আসেন আসআদ ইবন যুরারাহ্
(রা)-এর বাড়িতে ৷ তারা সেখানে অবস্থান করে লোকজনকে ইসলামের দিকে ডাকতে থাকেন ৷
শেষ পর্যন্ত হাতে গোনা কয়েকটি গোত্র ব্যতীত আনসড়ারদের সকল গােত্রই ইসলাম গ্রহণ করে ৷
যে সকল শাখা গোত্র ইসলাম গ্রহণ করেনি, সেগুলো হল বনু উমাইয়া ইবন যায়দ গোত্র,
থুতামাহ গোত্র, ওয়াইল গোত্র এবং ওয়াকিফ গোত্র ৷ এরা সকলে আওস গোত্রভুক্ত ৷ তারা
আওস ইবন হারিছার বংশধর ৷ তারা ইসলাম গ্রহণ করেনি ৷ কারণ, তাদের মধ্যে আবু কায়স
ইবন আসলাত নামে এক করি ছিল ৷ সে তাদেরকে ইসলাম গ্রহণ থেকে বিরত রেখেছিল ৷ তার
মুল নাম সায়ফী ৷ যুবায়র ইবন বাক্কার বলেন, তার নাম ছিল হারিছ ৷ কেউ বলেছেন তার নাম


পৃষ্ঠা ২৮৩ ঠিক করুন


ছিল উবায়দুল্লাহ্ ৷৩ তার পিতার নাম ছিল আসলাত আমির ইবন জাশাম ইবন ওয়াইল ইবন
যায়দ ইবন কা য়স ইবন আমির ইবন মুবৃরা ইবন মালিক ইবন আওস ৷ ঐতিহাসিক কালবীও
তার এই বংশপবিচয় বর্ণনা করেছেন ৷ সে ছিল ওই সব গোত্রর কবি ও নেতা ৷ ওরা তার কথা
শুনত ও তাকে মান্য করত ৷ সে তাদেরকে ইসলাম গ্রহণ থেকে বিরত রেখেছিল ৷ খন্দক যুদ্ধের
পর পর্যন্ত যে তাদেরকে ইসলাম থেকে বাধা দিয়ে রেখেছিল ৷ আমি বলি, ইবন ইসহাক
আলোচ্য আবু কা য়স ইবন আসলাণ্ডে র কতগুলো কবিতা উল্লেখ করেছেন ৷ সেগুলো “বা ( ন্ )
অন্ত্যমিল বিশিষ্ট ৷ উমা ইয়৷ ইবন সালত ছাকাফীব কবিতার সাথে সেগুলোর সাদৃশ্য রয়েছে ৷

ইবন ইসহাক বলেছেন, রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর দীনের দাওয়াত আরবে ছড়িয়ে পড়ল ৷ শহরে
শহরে তা পৌছে গেল ৷ তখন মদীনাতেও তার কথা আলোচিত হতে লাগল ৷ তবে আওস ও
খাযরাজ গোত্র রাসুলুল্লাহ্ (না) সম্পর্কে যত বেশী অবগত ছিল আরবের অন্য কোন গোত্র
ততটুকু ছিল৷ না ৷ ইয়াহুদী পণ্ডিতদের মুখে তারা রাসুলুল্লাহ্ (সা); এর বিবরণ শুনত ৩বলে এমনটি
হয়েছিল ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) এর আলোচনা যখন মদীনায় গিাহ পৌছল এবং কুরায়শদের সাথে
তার মত বিরোধের ঘটনা যখন মুখে মুখে উচ্চারিত হচ্ছিল, তথ্যা বানৃ ওয়াকিফ গোত্রের করি
আবু কায়স ইবন আসলাত নিম্নের কবিতাটি রচনা করেছিল ৷ আবু কায়সের পরিচয় বর্ণনা করে
সুহায়লী বলেন, যে হল আবু কা য়স সারম৷ ইবন আবু আনাস কায়স ইবন সারম৷ ইবন মালিক
ইবন আদী ইবন আমর ইবন গনোম ইবন আদী ইবন নাজ্জা র ৷ তিনি আরো বলেন হযরত উমর
(রা) এবং এই আবু কায়সকে উপলক্ষ করে ন্;ট্রু<:; র্গে৷ ৷ ,; ব্লুটু৷ ৷ ৰুচু;ৰু;৷ ৷ ই ড্রু৷ ণ্ব্লু৷ ;ান্ ৷
( ২ ১৮ ৭) আয়৷ ৷ত না ৷যিল হয়েছিল ৷

ইবন ইসহাক বলেন, যে কুরায়শ সম্প্রদায়কে ভালবাসত ৷ ওদের সাথে তার বৈবাহিক
সম্পর্ক ছিল ৷ আরনাব বিন্ত আসাদ ইবন আবদুল উয্য৷ ইবন কুসাই ছিল তার শ্রী ৷ নিজের
শ্ৰীকে নিয়ে সে বহু বছর মক্কায় বসবাস করেছে ৷ কুরায়শ্ারা রাসুলুল্লাহ্ (সা) এর বিরোধিতা
করছে এ সংবাদ পেয়ে সে হারাম শরীফের মর্যাদা বর্ণনা করে তাদেরকে সেখানে যুদ্ধ বিগ্রহ
সৃষ্টি থেকে ধারণ করে একটি ক সীদা রচনা করে ৷ ওই ক সীদায় সে কুরায়শদের সম্মান ও
বুদ্ধিমত্তা র কথা, তাদের উপর প্রেরিত আল্লাহর দেয়৷ ৷বিপদাপদের কথা, তাদেরকে হস্তী বাহিনী
থেকে রক্ষা করার কথা এবং মহান আল্লাহ্র কর্ম কৌশলের কথা উল্লেখ করে ৷৩ তদুপরি ওই
কাসীদ যে সে রাসুলুল্লাহ্ (সা) এর প্রতি অত্যাচার ৷ব-নির্যা তন থেকে বিরত থাকার জন্যে তাদেরকে
পরামর্শ দেয় ৷ সে বলেছেশু ং
হে সওয়ারী! তুমি যদি কখনাে তার নিকট পৌছতে পার, তবে লুওয়াই ইবন পালিবের
গোত্রকে আমার পক্ষ থেকে একটি চিঠি পৌছিয়ে দিও ৷
-এ্যাব্লু ; ৷ এঠু,ধ্র্দুয়ু; ;;র্চু;৷ ৷ প্লোা; ণ্ন্নু ঠুষ্ ৷ ; ;; ৷ , ংাট্রু ;;;; ৷ ট্রুার্দু;;)
হে সওয়৷ ৷রী তুমি এমন এক লোকের দুত হিসেরে৩ ৷দের নিকট গমন কর, যে ওদের থেকে
দুরে অবস্থান করছে ৷ ওদের পারস্পরিক হিংসা-বিদ্বেষ তাকে ৬ ত-সন্ত্রস্ত করে তুলেছে এবং
তাদের এই অবস্থার কারণে সে দুশ্চিম্ভাগ্রস্ত ও অসুস্থ ৷


পৃষ্ঠা ২৮৪ ঠিক করুন
পৃষ্ঠা ২৮৫ ঠিক করুন
যুদ্ধে লিপ্ত হলে তোমরা মিশৃক ও কপুরের পরিবর্তে বিশাল আকারের বালিন্তুপ পাবে ৷ ওই
বালি প্রবাহ যেন লবণের ঝর্ণাধারা ৷
সুতরাং তোমরা যুদ্ধ থেকে দুরে থাক ৷ যুদ্ধ যেন তোমাদের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করতে না
পারে ৷ তোমরা দুরে থাক এমন কুয়াে থেকে যার পানি দুযিত, যার পানি তিক্ত ৷

যুদ্ধ নিজেকে সুসজ্জিত ও অল ৎকৃত করে লোকজনের নিক ৷ শেষ পর্যন্ত রাত্রি যাপনকালে
তার৷ সেটিকে নিজের মায়ের ন্যায় দেখতে পড়ায় অর্থাৎ৷ হ রাম ও নিষিদ্ধ বলে দেখতে পায় ৷
ঈ ট্রুট্ছুন্ঠু
এই যুদ্ধ দৃর্বলদেরকে ভাজ৷ করে ছেড়ে দেয় না বরং পুড়িয়ে শুপ্াই করে দেয় আর মর্যড়াদাবান
ও শক্তিশালীদেরকে গলা ঢিপে হত্যা করে ৷

দাহিস যুদ্ধে কী ভয়ানক বিপর্যয় ঘটেছে তা কিব্ব তামাদের জানা নেই ?৩ ৷থেকে তোমরা
শিক্ষা গ্রহণ কর ৷ হাতির যুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞের কথা ৷টাও বিবেচনা কর ৷

৷ ৷১ §,

কত কত শরীফ ও সম্মানিত লোক এই যুদ্ধের বলি হয়েছে ! যারা ছিল সমাজের উচ্চস্তরের
নেতা , ৷যার৷ ছিল অতিথি-পরায়ণ ৷ যাদের দরজা থেকে যেহমান ঘুসাফির কখনো নিরাশ হয়ে
ফিরে যায়নি ৷
এই যুদ্ধের শিকার হয়ে দুনিয়া থেকে বিদায় নিতে হয়েছে এমন সব লোককে যাদের
ছাইয়ের দ্ভুপ অনেক বড় বড় ৷ যাদের কাজকর্ম সদা প্রশংসাযােগ্য ৷ যায়৷ চরিত্রবান ও প্রচুর
দানশীল ৷
যুদ্ধে বিনষ্ট হয়েছে বহু পানির কুয়ে৷ ৷ ছড়িয়ে ছিটিয়ে দেয়৷ হয়েছে ওই পানি লক্ষ্যহীন
ভাবে ৷ উত্তরা ও দক্ষিণী হাওয়া যেন ওই পানিকে উড়িয়ে নিয়ে ছিটিয়ে দিয়েছে ৷
ছু’ও১হ্র১;
যুদ্ধ সম্পর্কে যুদ্ধের অবস্থা সম্পর্কে প্রকৃত জ্ঞান লাভকারী একজন লোক তােমাদেরকে যুদ্ধ
সম্পর্কে অবগত করাচ্ছে ৷ বন্তুত অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞানই প্রকৃত জ্ঞান ৷




Execution time: 0.04 render + 0.01 s transfer.